Aritra Das

Action Classics Fantasy


2  

Aritra Das

Action Classics Fantasy


লেগ্যাসি অফ্ রাম- খণ্ডচিত্র৪

লেগ্যাসি অফ্ রাম- খণ্ডচিত্র৪

3 mins 230 3 mins 230

[খণ্ডচিত্র৩:মণিকাঞ্চনযোগ]


(মানবসভ্যতার সমসাময়িক, আনুমানিক খৃীষ্টপূর্ব ১০০০ অব্দের কাছাকাছি কোন এক গ্রীষ্মের দুপুর)


প্রখর গ্রীষ্মের কোন এক ঝাঁঝালো দুপুরে ‘সূর্য’ রাজ্যের রাজধানী বিক্রমশীলার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত রাজপ্রাসাদের দিকে অত্যন্ত দ্রুতপদে এগোতে দেখা গেল এক আগুন্তুককে। ইনি মনে হয় নগরে নতুন, কারণ যাত্রাপথে মাঝে মধ্যেই থেমে তিনি রাজপ্রাসাদের দিকনির্দেশ জেনে নিয়ে আবার এগোচ্ছেন গন্তব্যের দিকে। আগুন্তুক ব্রাহ্মণ, মধ্যবয়ষ্ক; দীর্ঘ, ঋজু, লম্বা দেহ, চওড়া কাঁধ, বলিষ্ঠ হাত ও পদযুগল এবং চলবার দৃঢ় ও ক্ষিপ্র ভঙ্গী দেখে বোঝা যায় যে মধ্যবয়ষ্ক হলেও তিনি যথেষ্ট শারীরিক শক্তির অধিকারী। যদিও বর্তমানে তাঁকে মনে হয় একটু অবিন্যস্ত; কোন কারণে তিনি একইসঙ্গে শংকিত ও ক্রোধাণ্বিত। ব্যস্ত রাজপথের কোনদিকেই মনোযোগ নেই তাঁর; দুধারের সাজানো দোকানপাট, বিক্রেতাদের উচ্চস্বরে সম্ভার ঘোষণা, রাস্তাঘাটের শোরগোল, ব্যস্ত মালবাহকদের ছুটোছুটি, সামরিক বা বেসামরিক পদস্থ ব্যক্তিদের যাতায়াত- কোনকিছুতেই কোন ভ্রুক্ষেপ নেই তাঁর! তিনি শুধু একমনে এগিয়ে চলেছেন তাঁর নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে, একমনে কিছু একটা চিন্তা করতে করতে।


প্রশস্ত রাস্তাটি কিছুদূর এগিয়েই একটা বাঁক নিয়েছে। এই বাঁক নিয়ে সোজা সামনের দিকে বেশ খানিকটা পথ অতিক্রম করলেই বাজারের সীমা ছাড়িয়ে অপেক্ষাকৃত চওড়া ও ফাঁকা এক প্রান্তেই রাজপ্রাসাদ। বাঁকের মুখটাতে এসে থমকে দাঁড়ালেন আগুন্তুক। একটি পণ্যবাহী শকট বাঁকের ঠিক মুখটাতেই এসে আটকে গিয়েছে; পণ্যে ঠাসা শকটটির পিছনের চাকা রাস্তার খন্দে পড়ে গিয়ে আর এগোতে পারছে না; সামনের দুজন লোক মিলে দড়ি দিয়ে টেনেও ওঠাতে পারছে না শকটের চাকাটিকে। এই অবস্থায় যা হয়! মেলা লোক শকটটিকে ঘিরে ধরে দাঁড়িয়ে আছে বিশৃঙ্খলভাবে, বিভিন্ন পরামর্শ কানে ভেসে আসছে শকটচালকের উদ্দেশ্যে, সকলেই নিজস্ব সুচিন্তিত মতামত প্রদান করছেন শকটচালকের অবশ্য কর্তব্য কি হওয়া উচিৎ; কিন্তু যেটা করলে কাজের কাজ হত তা কেউ করতে উৎসাহী নন, অর্থাৎ, সকলে মিলে শকটটিকে তোলবার চেষ্টা করা! পরিণাম- গোটা রাস্তাটি জুড়ে ক্রমাণ্বয়ে বেড়ে চলা যানজট ও বিশৃঙ্খল ভীড়!


আগুন্তুক পিছনে দাঁড়িয়ে খানিক্ষণ দেখলেন সবকিছু; তারপর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীমায় বেপরোয়া ঔদ্ধত্যে দুহাতে ভিড় ঠেলে এগিয়ে এলেন শকটটির দিকে। পরীক্ষা করে বুঝলেন যে শকটটির চাকা গড়ানোর কোন সম্ভাবনাই আর নেই- অত্যধিক পণ্যের চাপে আর আচমকা গর্তে পড়ে পিছনের চাকাখানিই গেছে ভেঙে! এখন টেনে হিঁচড়ে শকটটিকে রাস্তার একপার্শ্বে ফেলে রেখে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। চাকা না বদলালে শকটটি কোথাও যাবে না। শকটচালকের এদিকে অবশ্য তখন মনোযোগ নেই- সে তখন দাঁতমুখ খিঁচিয়ে চেঁচামেচিতে ব্যস্ত ভিড়ের সামনে দাঁড়ানো এক যুবকের উদ্দেশ্যে-


-“…কড়ি থাকলে কি আর ভাড়ার লোক দিয়ে শকট টানাতাম? ষণ্ড কিনতাম, বুঝলে হে ছোকরা! আকাশ থেকে খসে পড়ে না ষণ্ড…!”


এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে একটি মারমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছিল আরেকটু হলে; শকটচালকও তেতে ছিল, আর তার কটু কথায় ক্ষেপে উঠল দাঁড়ি-গোঁফওয়ালা ‘ছোকরা’-ও; লড়াই একটা লাগতে চলেছিল দুজনের মধ্যে, এমনসময় একটি গম্ভীর গলা ভেসে এল জনতার মধ্য থেকে-


-“থাম!”


উপস্থিত জনতার সকলেরই দৃষ্টি ঘুরে গেল বক্তার দিকে। আগন্তুক একহাত শূণ্যে তুলে তখনো দাঁড়িয়েছিলেন। এবারে তিনি বললেন-


-“শকটটি পুরো বসে গিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একে সারিয়ে তোলা কঠিন। একে চাগিয়ে গর্ত থেকে তুলে রাস্তার একদিকে সরিয়ে রাখতে হবে, তারপর এর চাকা পুনর্বহাল করতে হবে। একে-”


-“বাঃ! অতীব সুন্দর সমাধান! কিন্তু সমস্যা একটাই, এর জন্যে একটি সুস্বাস্থ্যবান, শক্তিশালী ষণ্ডের প্রয়োজন। এ ব্যাটা গাড়োয়ান আগেই হাত তুলে দিয়েছে কোন ষণ্ড ভাড়া করতে পারবে না বলে, এই নিয়েই বিবাদ! তা, আপনার কাছে কোন বিকল্প সমাধান আছে কি, বামুনমশাই?”


তির্যকভাবে করা প্রশ্নটির প্রত্যুত্তরে মুখে আর কোন কথা বললেন না অনামী আগন্তুকটি; নীচু হয়ে বাগিয়ে ধরলেন শকটটির দুটি প্রান্ত; তার পরক্ষণেই এক সাংঘাতিক হেঁচকা টানে ভূমি থেকে তুলে ফেললেন চাকাসমেত শকটটির পশ্চাৎভাগ! এরপর একদিকের অক্ষত চাকাটির সাহায্যে দুদিকের ভারসাম্য বজায় রেখে একক দক্ষতায় শকটটিকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে আলতো করে রাস্তার একপাশে রেখে দিলেন তিনি। হাত ঝেড়ে নিয়ে অতঃপর তিনি আবার এগিয়ে চললেন তাঁর গন্তব্যের দিকে, কারোর দিকে দ্বিতীয়বার দৃকপাত পর্যন্ত না করে! সসম্ভ্রমে সরে গিয়ে তাঁকে চলে যেতে দিল জনতা; যদি একবার আগন্তুক পিছনে তাকিয়ে দেখতেন, তাহলে দেখতে পেতেন প্রত্যেকের মুখ ঝুলে গিয়েছে, ঠিকরে বেরিয়ে এসেছে চোখ, একরাশ বিস্ময় মাখানো চোখ নিয়ে হাঁ করে তারা তাকিয়ে রয়েছে অপসৃয়মান আগুন্তুকের দিকে!


রাজপ্রাসাদের সামনে মূল প্রবেশদ্বারের কাছে এসে দ্বিতীয়বার অবশ্য গতিরুদ্ধ হল আগন্তুক ব্রাহ্মণটির- দুইজন প্রহরী গতিরূদ্ধ করেছেন তাঁর। মূল প্রবেশদ্বার দিয়ে ঢুকতে যেতেই দুপাশ থেকে এগিয়ে এল দুজন প্রহরী, খোলা ভল্ল হাতে। দুইজনের মধ্যে অপেক্ষাকৃত অভিজ্ঞতর প্রহরীর গলা দিয়ে ধেয়ে এল এক কর্কশ কন্ঠস্বর-


-“কি চাই?”...


Part of the story 'The Legacy of Ram- Prologue'

ARITRA DAS



Rate this content
Log in

More bengali story from Aritra Das

Similar bengali story from Action