Sharmistha Mukherjee

Horror Action Thriller

4.2  

Sharmistha Mukherjee

Horror Action Thriller

আরশির আতঙ্ক 🧟‍♀️ পর্ব ৩

আরশির আতঙ্ক 🧟‍♀️ পর্ব ৩

8 mins
345



অন্যদিকে জিৎ আর উজান গিয়ে সোফার উপর আধশোয়া হয়ে বসে পড়ে । রান্নাঘরে গিয়ে তিনজন মিলে কফি আর স্যান্ডউইচ তৈরী করে নিয়ে খাবার টেবিলে বসে । সবাই মিলে রাতের ঘটনা আলোচনা করতে করতে কফি আর স্যান্ডউইচ খেতে থাকে । খেতে খেতে আরশি বললো, " আমি তো কিছুতেই বুঝতে পারছি না এইসব কি হচ্ছে ! কেনো হচ্ছে ? " জিৎ বললো , " আচ্ছা প্রতিবেশীদের কিছু জানিয়েছো এই ব্যাপারে ? অথবা এই ফ্ল্যাটটার যিনি ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ওনাকে জানিয়েছো ? " তারা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো , " আমি দিদিকে সেই কবে থেকে বলছি, মিঃ রবার্টকে সব জানাও । " তারার কথা শেষ হতেই রান্নাঘর থেকে বাসনপত্র ঝনঝন করে পড়ার শব্দে সবাই মিলে দৌড়ে রান্নাঘরে গিয়ে দ্যাখে সারা ঘরে বাসনপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে । তারা হঠাৎ বলে উঠলো, " দাদা বাবু , দিদি ঐ দ্যাখো দেওয়ালে । " তারার আঙুলের নির্দেশ অনুযায়ী সবাই দেওয়ালের দিকে তাকিয়ে হতভম্ব হয়ে যায় । সারা দেওয়াল জুড়ে ইংলিশে রীতিমতো হুমকি দেওয়া । সেখানে লেখা আছে - " Robert ! Robert ! I want revenge . I will kill everyone . I will not leave anyone . They killed me . I want revenge. I want Robert . I want all of them . I will killed everyone . " লেখাগুলো পড়ে সবাই একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে ভয়ে কাঁপতে থাকে । তারা কিছু বুঝতে না পেরে একে একে সবাইকে জিজ্ঞাসা করতে থাকে কি লেখা আছে ইংরেজিতে । সবাই চুপ করে থাকে , তখন মোনা বুঝিয়ে বলে , " রবার্ট ! রবার্ট ! আমি প্রতিশোধ নিতে চাই । আমি সবাইকে মেরে ফেলবো । কাউকে ছাড়বো না । ওরা আমাকে মেরেছে , আমি প্রতিশোধ নেবো । আমি রবার্টকে চাই । আমি ওদের সবাইকে চাই । সবাইকে মেরে ফেলবো । " তারা সব কথা প্রায় মুখ হাঁ করে শুনলো , তারপর বললো, " হ্যাঁ জানো তো সবাই যখন কালকে সন্ধ্যায় দিদির জন্মদিনের পার্টিতে হৈচৈ করছিলে , তখন একবার আমি আর দিদি রান্নাঘরে গিয়েছিলাম খাবার আনতে । তখনও এইসব লেখা ছিল দেওয়ালে । দিদি আর আমি তোমাদের কাউকে কিছু বলিনি । আমরা ভাবলাম তোমরা সবাই খুব ভয় পেয়ে যাবে তাই কিছু না জানানোই ভালো । " এই বলে চুপ করে রইলো । সবাই তারা আর আরশির উপর রাগারাগি করা শুরু করলো , বিশেষ করে জিৎ । জিৎ বললো , " তোমরা এতোদিন ধরে এতো কিছু সহ্য করলে অথচ কাউকে কিছু জানালে না ! আমিতো অবাক হয়ে যাচ্ছি এই ভেবে কালকে সন্ধ্যায় পার্টি চলাকালীন সব দেখেও মুখ বুজে থাকলে কেন ? যদি কিছু ঘটে যেতো ? " আরশি যেন এইসব কথা শুনতেই পেলো না , জিৎ এর কথার মাঝখানে হঠাৎ বলে উঠলো , " আচ্ছা I want Robert কেনো লিখেছে ? তার মানে রবার্ট নিশ্চয়ই কিছু জানে ? এখনি আমি রবার্টকে ফোন করবো " বলে যেই মোবাইলটা হাতে নিলো, ওমনি সাথে সাথে জিৎ এক ছোঁ মেরে মোবাইলটা আরশির হাত থেকে কেড়ে নিলো । আরশি রেগে গিয়ে চীৎকার করে বললো, " আরে কি হোলো ? তুমি মোবাইলটা ছিনিয়ে নিলে কেনো ? এটা ঠিক না , give me my mobile " . আরশিকে রেগে যেতে দেখে জিৎ বললো , " আরে এতো রেগে যাওয়ার কি আছে ? আমি চাই না তুমি রবার্টকে ফোন করে কিছু জানাও । এখন কিছু জানানোর দরকার নেই । " জিৎ - এর কথা শুনে আরশি, মোনা আর উজান অবাক হয়ে যায় । আরশি বলে , " জানানোর দরকার নেই মানে ? দেখলে না দেওয়ালে লেখা ছিল " I want Robert " । মোনা বললো , " ঠিক তো জিৎ , আমিও না জানানোর কারণ বুঝতে পারছি না । " সেই সময় হঠাৎ তারা বলে উঠলো, " না এখনি সব জানালে উনি সাবধান হয়ে যাবে । তারপর ওনাকে এখানে আনা খুব মুশকিল হবে । তার চেয়ে বরং কি হয়েছিল আর রবার্ট বাবুই বা কি করেছেন সেটা জানতে হবে । " জিৎ সাথে সাথে উল্লাসে চীৎকার করে উঠলো, " সাব্বাশ ! একদম ঠিক বলেছিস তারা । তোর কি বুদ্ধিরে ! " তারা নিজের তারিফ শুনে প্রথমে হকচকিয়ে গেল , পরক্ষণেই খিলখিল করে হেসে উঠলো । এবার সবাই বুঝতে পারলো জিৎ কেনো রবার্টকে এখনি কিছু জানাতে বারণ করলো । সবাই বসে কথা বলছে এমন সময় আরশি হঠাৎ চীৎকার করে উঠলো , 

" আরে ! আরে ! ওকে ধরো , ওকে ধরো , ও পড়ে যাবে ওপর থেকে । " সবাই বোকার মতো অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আরশির দিকে , ঠিক তখনই আরশি একটা প্রচন্ড আর্তনাদ করে মুখটা দুহাত দিয়ে ঢেকে ভয়ে কাঁপতে লাগলো । কি যে হোলো কেউ কিছুই বুঝতে পারলো না । মোনা আর তারা দুজনে মিলে অনেক বুঝিয়ে আরশিকে শান্ত করতে সক্ষম হয় । তারা বলে, " দিদি কি হয়েছে বলোতো ? তুমি এরকম করে চীৎকার করলে কেনো ? আর কি সব বলছিলে , ওকে ধরো , ও পড়ে যাবে । " আরশি তখনও ভয় কাটিয়ে উঠতে পারে নি , একটু সময় নিয়ে তারপর বললো , " আমরা সবাই কথা বলছিলাম , হঠাৎ দেখি ব্যালকনিতে রেলিংয়ের উপর একটা মেয়ে শুয়ে আছে , আমি তোমাদের ওকে বাঁচানোর জন্য বলতে বলতে সে নীচে পড়ে যায় । আর আমি ভয়ে চিৎকার করে উঠি । " আরশির কথা শুনে সবাই খুব ভয় পেয়ে যায় । যাইহোক সকলেই একটু স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করে । তারা বলে , " আমি যাই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করি । " মোনাও বললো ,

 " চল তারা , তোর সাথে আমিও যাই । আরশি তোর একটু বিশ্রাম দরকার । তুই শুয়ে থাক , আমি আর তারা সব সামলে নেবো । Don't Worry Dear " এই বলে মোনা তারাকে নিয়ে রান্নাঘরে চলে যায় । আরশিও সোফার উপর জিৎ - এর কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে । কি হচ্ছে এসব ভাবতে ভাবতে আরশি একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে । জিৎ উজানের সাথে কথা বলতে বলতে হঠাৎ কোলে মাথা রেখে শোয়া আরশির দিকে তাকিয়ে দ্যাখে, তন্দ্রার ঘোরে আরশি বিড়বিড় করে কি যেন বলছে আর ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে । জিৎ অবাক হয়ে উজানকে ঈশারা করে ডেকে দেখায় , তারপর কান পেতে শোনার চেষ্টা করে আরশি বিড়বিড় করে কি বলছে । নাঃ কিছুই বোঝা গেল না । উজান আস্তে আস্তে আরশিকে ডাকে , " আরশি , আরশি , আরশি এই আরশি ওঠো । কি বলছো বলতো ? আরশি , আরশি কি বলছো বিড়বিড় করে ? " এই বলে জোরে একটু ঝাঁকিয়ে দিতেই চীৎকার করে লাফিয়ে উঠে বসে পড়ে আরশি । তারপর হকচকিয়ে চারিদিকে চোখ ঘুরিয়েই জিৎকে জাপটে ধরে । জিৎ বুঝতে পারে আরশি খুব ভয় পেয়ে আছে , তাই দুহাত দিয়ে আরশিকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে জিজ্ঞাসা করে , " আরশি কি হয়েছে সোনা ? এতো ভয় পাচ্ছো কেন ? আমাকে বলো কি হয়েছে । তুমি কি কোনো স্বপ্ন দেখেছো ? Please আমাকে বলো সোনা । " জিৎ - এর কথাগুলো শুনে আরশি আরও জোরে জিৎকে চেপে ধরে । উজান বলে , " এই আরশি, বলো কিছু , কি হয়েছে ? " কিন্তু আরশি ভয়ে কাঁপতে থাকে, মুখে কিছুই বলে না । উজান তাড়াতাড়ি তারা আর মোনাকে আওয়াজ 

দেয় । উজানের উৎকন্ঠিত ডাক শুনে তারা আর মোনা দুজনেই রান্নাঘর থেকে ছুটে 

আসে । তারা আরশিকে দেখেই বুকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করে , " ও দিদি কি হয়েছে তোমার ? কি হয়েছে আমাকে বলো । এতো ভয় পাচ্ছো কেন ? " তারার কথায় আরশি তারাকে জড়িয়ে ধরে বলে , " তারা আমি দেখলাম খুব সুন্দর দেখতে একটি মেয়ে , সাদা গাউন পরা । মনে হোলো মাস পাঁচেকের গর্ভবতী । কয়েকটি ছেলে মিলে ঐ, ঐ ব্যালকনি থেকে মেয়েটিকে নীচে ফেলে 

দিলো । রক্তে ভেসে যাচ্ছে শরীর । আমি দূর থেকে দেখলাম কিন্তু বাঁচাতে পারলাম না । " এই বলে চীৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে তারাকে আরও জোরে জাপটে ধরে আরশি । তারা শক্ত করে আরশিকে জরিয়ে ধরে বললো ,

 " ঐ মেয়েটা কে দিদি ? তুমি কি তাকে

 চেনো ? " আরশি মুখে কোনো উত্তর না দিয়ে শুধু দুপাশে মাথা দুলিয়ে " না " করলো । যাইহোক কোনোরকমে পরিস্থিতি একটু সামলে নিয়ে জিৎ আর মোনা পাশের ফ্ল্যাটে মিঃ এবং মিসেস করের দরজায় গিয়ে কয়েকবার টোকা দিতেই মিসেস কর দরজা খোলেন । 

জিৎ আর মোনাকে দেখে মিসেস কর বলেন , " কাকে চাই ? কে আপনারা ? " জিৎ বলে , 

" নমস্কার ! আমি তৃষানজিৎ , আপনার 

প্রতিবেশী আরশির হবু স্বামী । আর উনি হলেন মোনালি , আরশির প্রিয় বান্ধবী । আসলে আপনার সাথে কিছু কথা ছিল । " 

মিসেস কর , " আসুন, আসুন, ভিতরে আসুন " এই বলে ঘরে বসতে বলেন । তারপর বলেন, " হ্যাঁ বলুন , কি বলবেন ? " জিৎ আর মোনা দুজন দুজনের দিকে তাকায় তারপর জিনিস বলে , " আচ্ছা মিসেস কর , ঐ ফ্ল্যাটে আগে কারা থাকতেন ? মানে, আরশির ঠিক আগে কারা থাকতেন তাই জানতে চাইছি । " মিসেস কর একটু অবাক হওয়ার ভঙ্গিতে জিজ্ঞাসা করেন , " কেন বলুনতো ? Any problem ? I knew something would happen ! আমি সেদিন ওদের বলতে চেয়েও কিছু বলতে পারি নি । " মোনা সাথে সাথে বলে উঠলো , " কি বলতে পারেন নি মিসেস কর ? দয়া করে আমাদের বলুন । আমরা সত্যিই খুব সমস্যায় আছি । "

মিসেস কর বলতে শুরু করলেন , " আজ থেকে বছর পনেরো আগে ঐ ফ্ল্যাটে আন্দ্রেয়ানা মারিনো নামে একটি মেয়ে থাকতো । মাঝে মাঝে একটি ছেলেও এসে থাকতো ওর সাথে । আমরা এই ফ্ল্যাটে আসার তিন বছর পর আনা ঐ ফ্ল্যাটে 

আসে । আমাদের সাথে ভালো মিশে গিয়েছিল মেয়েটি । হিন্দি - বাংলা - ইংরেজি সব ভাষা একেবারে মিশিয়ে ফেলতো কথা বলার সময় । স্বভাব - ব্যবহার এতো ভালো ছিল যে আমাদের কোনোদিন আনাকে পর বলে মনে হয় নি । যেহেতু এই পাড়ায় মোট বারোটি বাঙালী পরিবার আছে তাই আনাও অনেক বাংলা কথা বলতে শিখেছিল । আমাদের কাছ থেকে বাঙালী রান্নাও শিখেছিল অনেক । বাংলা গান শুনতো আর এমনকি রবীন্দ্রসঙ্গীত " ভালোবাসি ভালোবাসি " গানটাতো রীতিমতো গাইতেও পারতো । আমার স্বামী একদিন গানটির ইংরেজি অনুবাদ করে শোনাতেই , নিয়মিত গানটি শুনতে শুনতে আর গাইতে গাইতে শিখে গিয়েছিল । ওর বয়ফ্রেন্ড অবশ্য আমাদের সাথে মেশা খুব একটা পছন্দ করতো না , মাঝে মধ্যে মারধোর করতো । 


🧟‍♀️🧟‍♀️🧟‍♀️🧟‍♀️ To Be Continued


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror