Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Protima Mondol

Action Classics Inspirational


3.9  

Protima Mondol

Action Classics Inspirational


আনন্দ ময়ী আশ্রম

আনন্দ ময়ী আশ্রম

8 mins 23.5K 8 mins 23.5K


আজ আনন্দময়ী আশ্রমে খুব ব্যস্ততা । আজ যে আশ্রমের প্রতিষ্ঠা দিবস। তাই একটু অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিছু গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যাদের ডোনেশানের টাকাই এই আশ্রম চলে। সেই মহানুভব ব্যাক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশেপাশে গ্রামের মানুষদের ও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশ্রমের কচিকাঁচাদের দিয়ে ছোট্টো অনুষ্ঠান করা হবে। তারাই আজ গান গাইবে, নৃত্য পরিবেশন করবে, কবিতা আবৃত্তি করবে। তাদের হাতে আঁকা ছবিগুলো প্রদর্শনী করা হবে।

আশ্রমের মহিলারও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে। তারা একটা নাটক পরিবেশন করবে। সেই নাটক রচনা ও পরিচালনা করেছে সীমন্তনী। এই নাটকের বিষয় বস্তু তার নিজের জীবনের কাহিনী। এই রকম জীবন কাহিনী হয়তো আরো কত মেয়ের জীবনে আছে। সমাজে কত মেয়েই কত ভাবে লাঞ্ছিত অপমানিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সীমন্তনী হঠাৎ উদাস হয়ে যায়। অনেক দিন আগের কিছু ঘটনা মনে পড়ে যাওয়া । চোখের কোনে জল চিকচিক করে ওঠে। দুফোঁটা চোখের জল ও গড়িয়ে পরে।

উষ্ণ গরম জলের ফোঁটা, দুই গাল বেয়ে নেমে এসে মাটিতে গড়ায়। ওরনাটা দিয়ে মুখটা ভালো করে ঢেকে নেয় সে। অচেনা কেউ হঠাৎ সীমন্তনীর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলে ভয় পেয়ে যাবে। বীভৎস ভাবে তার মুখটা পুরে গেছে। সীমন্তনী যখন নিজের মুখ নিজে দেখে আয়নাতে, তখন নিজেই ভয় পেয়ে যায়। এক সময় তার মুখটা খুব সুন্দর ছিল। মনে মনে তার নিজের ও একটা চাপা অহঙ্কার ছিল। দিনের মধ্যে কতবার আয়নাতে নিজের মুখটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখত। সে খুব বেশি সাজগোজ করত না অবশ্য। হাল্কা একটু লিপস্টিক, একটু চোখে কাজল ও কপালে ছোট্ট একটা টিপ পরলেই তাকে খুব সুন্দর লাগত দেখতে। অনেকেই তার রুপের প্রসংশা করত। গরীব ঘরে রূপবতী মেয়ে হওয়াও একটা অভিশাপ। অনেক সময় তাদের জীবনে নেমে আসে খুব দুঃখজনক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

অনেক বছর আগের ঘটে যাওয়া একটা দুর্ঘটনা সীমন্তনীর জীবনের মোর ঘুরিয়ে দেয়। তার জীবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়ে যায়। তার জীবনের দেখা সেই সময়ের স্বপ্নগুলো পরিবর্তন হয়ে নতুন স্বপ্ন তৈরী হয়।

স্টেশনে দাঁড়িয়ে সীমন্তনী বার বার ঘড়ি দেখছে। আজ টিউশনির থেকে ফিরতে দেরি হয়েগেছে। আজ টিচারডে তাই সব স্টুডেন্টরা মিলে , টিচার বিমলেন্দু স্যারের জন্য একটু সেলিব্রেট করতে গিয়ে দেড়ি হয়ে গেছে। কেক কাটা, ছোট্ট একটা অনুষ্ঠান ও খাওয়া দাওয়া করতে গিয়ে। তার বাড়ি থেকে বিমলেন্দু স্যারের বাড়ি যেতে মাঝে দুটো মাত্র স্টেশন। কিন্তু এই লাইনের ট্রেন দুঘন্টা পরপর।

এখন প্লাটফর্মে এসে দেখছে সীমন্তনী যে ট্রেনে যায়। সেই ট্রেনটা বেড়িয়ে গেছে। পরের ট্রেনটা অনেক দেড়িতে। ষ্টেশনটা প্রায় ফাঁকা ফাঁকা হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকজন লোক ঘোড়াঘুড়ি করছে।

সীমন্তনীর দুই চোখে অনেক স্বপ্ন। তার বড় দুই দিদিদের বিয়ে হয়ে গেছে অনেক কম বয়সে।

তারা মাধ্যমিক পরীক্ষা টাও দিতে পারেনি 

তার আগেই বিয়ে হয়ে গেছে।

অভাবের সংসার তাদের। বাবা একটা কারখানাতে অল্প মাইনের চাকরি করে। মা বাড়িতে সেলাই মেশিনের সাহায্যে ব্লাউজ, সায়া, কখনো পাঞ্জাবী বানানোর কাজ করে। সময় সুযোগ পেলেই সীমন্তনী ও মাকে সাহায্য করে।


 সীমন্তনী চাই অনেক পড়াশোনা করে বড়ো হবে। ভালো চাকরি করে মা-বাবার দুঃখ ঘোচাবে। খুব মন দিয়ে পড়াশোনা করে সে। বড়াবরই ভালো রেজাল্ট করে সীমন্তনী, শত দারিদ্রতার মধ্যেও। নিজে টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালায়। যদি এক্সট্রা কিছু বাঁচে মা এর হাতে তুলে দেয় । তাতে মায়ের সংসার চালাতে একটু সুবিধা হয়। দেখতে সীমন্তনী বেশ সুন্দরী, লম্বা ফর্সা, দীর্ঘ কেশী। বেশ সুলক্ষণ যুক্ত মেয়ে।

দিদি জামাইবাবুরা ও তার মা-বাবা চাই । সীমন্তনী বিয়ে করে সংসার করুক। তাদের বক্তব্য গরীব ঘরের মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করে কাজ নেই। সেই তো একদিন সংসার করতেই হবে, একটু আগে থেকেই সংসার করা ভালো। এখন কম বয়স আছে, এরপর বেশি বয়স হলে আর কেউ পছন্দো করতে চাইবে় না।

গরীব ঘরের মেয়ে বেশি শিক্ষিত হলে সে যেখানে সেখানে মানিয়ে ও নিতে পারবে না। আর তাদের এত সামর্থ ও নেই। যে অনেক বড় ঘরে বিয়ে দেবে। আর যদি ও বড় ঘরে বিয়ে হয়। গরীব ঘরের মেয়ে হওয়ার জন্য শশুর বাড়িতে খোঁটা শুনতে হবে। সেই জন্য এখন কম বয়সেই তার বিয়ে করে নেওয়া উচিৎ। এই সমস্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেই তার পরিবার তাকে বোঝায়।

কিন্তু সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে পড়াশোনা কমপ্লিট করে একটা চাকরি করবেই । দুচোখের পাতায় কতো স্বপ্ন, কতো আশা ভরসা নিয়ে বয়ে বেড়ায় ।


ইদানিং কিছু দিন যাবৎ পাড়ার রক বাজ মস্তান টাইপের ছেলে লাল্টু , দেখতে কেমন তাল পাতার সেপাই এর মতো, একটু খুরিয়ে চলে, বাঁ গালে একটা মস্ত ক্ষত চিহ্ন। কোথাও হয়তো বেদম মার খেয়ে, ঐ ক্ষত চিহ্ন হয়েছে।

 চলার পথের রাস্তায় সবসময়ই দাঁড়িয়ে থাকে । খুব পিছনে লাগছে তার। নানা ভাবে নানা রকম কুপ্রস্তাব দিয়ে চলেছে। বটতলার চালা ঘরের ক্লাবটাই সব সময় কেরাম খেলা, তাস খেলা করে টাকা বাজি রেখে।

 আরো কতো ধরনের জুয়া খেলা চলে সীমন্তনী তা জানতেও চাই না। তবে পাড়ায় বখাটে ছেলেগুলো জন্য পাড়ার সবাই বিরক্ত। তাদের কাছেই জানতে পারে। কি কি যে দুঃসকর্ম করে বেরায় তারা কে জানে। সীমন্তনী যেখানে যায় সেখানে গিয়েই লাল্টু ও তার দলবল বিরক্ত করে।


অনেক বারন করেও লাভ হচ্ছে না। সীমন্তনী অনেক বার বুঝিয়েছে । তার পিছন পিছন না ঘুড়তে, সে শুধু পড়াশোনা করতে চায়। তার বাইরে সে কিছু বুঝতেই চাই না। 

সীমন্তনীর মা তো লাল্টুর কথা শুনে খুব ভয় পেয়ে যায়। ওরা যে রকম ছেলে। একদমই সুবিধার নয়। ওদের যা ইচ্ছা করতে পারে। তুলে নিয়ে যাওয়া ও অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়।

 সীমন্তনী'র মা তার দিদি জামাইবাবুদের বলে তাকে বিয়ে দেবার জন্য ছেলে দেখা শুরু করে দিয়েছে।

সীমন্তনী সোজা না করে দিয়েছে । কিন্তু তবুও বার বার পাত্র পক্ষকে নিয়ে হাজির হচ্ছে। তারা সবাই নাছোরবান্দা সীমন্তনী'র বিয়ে দিয়েই ছাড়বে।


সীমন্তনী ভাবে বিয়ে হয়ে গেলে তো তার স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে যাবে। নিজের পায়ে দাঁড়ানো হবে না। একজন ছেলের মতো করে মা বাবার দায়িত্ব নিতে পারবে না।


চিন্তার জাল ছিরে গেলো ট্রেন আসার আওয়াজে। চিন্তায় এতোটাই মগ্ন ছিল যে ট্রেন আসার খবর টাও শুনতে পায়নি।

এতোক্ষন সে ষ্টেশনের সেডের তলায় বসে ছিল।

এবার সেড থেকে বেরিয়ে এসে লেডিস কম্পার্টমেন্টের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল । তখনই হঠাৎ একটা আগুন জ্বল তার মুখের দিকে ছুটে এসে মুখে লাগল।

সীমন্তনী চিৎকার করে আর্তনাদ করে ওঠে। দুই হাতের করোতল দিয়ে মুখ ঢেকে বসে পরে।

আসেপাশে যে কইজন, লোক ছিল । ছুটে এলো তার কাছে। কেউ কেউ বলে উঠল," হায় রে কেউ মেয়েটির মুখে অ্যাসিড ছুঁড়ে পালিয়েছে !"

কেউ কেউ বলল," এখন মেয়েটির কি হবে !"

"আ ! হা ! রে ! মেয়েটার মুখটাই নষ্ট করে দিল।"

সীমন্তনীর দুচোখে আঁধার নেমে এলো। পৃথিবীটা দুলে উঠলো। ওর পৃথিবীটাই যেন অন্ধকার হয়ে গেল। সীমান্তনী এই কষ্টকর অবস্থার মধ্যে ও মনে মনে ভাবল, তার জীবনটা বোধ হয় এখানেই শেষ হয়ে গেল।

সীমন্তনী আর যন্ত্রানা সহ্য করতে না পেরে। আত্মচিৎকার করে ষ্টেশনের মধ্যেই শুয়ে পড়ল। সেই সময় ট্রেন প্লাটফর্মে এসে দাঁড়ালে। ট্রেন থেকে নেমে আসে দীর্ঘ দেহি সুরূপা মাঝ বয়সী এক ভদ্রমহিলা। তিনি সীমন্তনী'র কাছে এসে দাঁড়ায়। সীমন্তনী'কে দেখে বুঝতে পারল কি ঘটেছে। এই রকম কত ঘটনা তিনি আগেও বহুবার দেখেছে। তিনি তাড়াতাড়ি সীমন্তনীকে নিয়ে কাছাকাছি একটা হসপিটালে নিয়ে যায়।

ডাক্তারবাবু সীমন্তনীকে দেখে ভর্তি করে নেন। সঙ্গের ভদ্রমহিলাটি সীমন্তনীর মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, "ভেঙ্গে পড়োনা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এখন মনবল হাড়িয়ে ফেললে কোনোদিন ও শক্ত হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে না। জীবনের লড়াইটা তখন এমনি এমনিই হেঁড়ে যাবে। মনে জোড় রাখো। আমি আবার আসব তোমাকে দেখতে। তোমার বাড়ির অ্যড্রেস বা ফোন নম্বর থাকলে বল। তোমার বাড়িতে খবর দিয়ে দেব আমি।"


তিনি সীমন্তনীর মা-বাবাকে খবর দিয়ে দেয়। সীমন্তনী'র পরিবারের সদস্যরা আসে অসুস্থ মেয়েকে হসপিটালে দেখতে। হসপিটাল থেকে থানাতে জানানো হয় । একটি অ্যাসিডে আক্রান্ত মেয়ে ভর্তি হয়েছে। পুলিশ অফিসার আসে তদন্ত করতে, তিনি তার রুটিন মাফিক পুলিশী জেরা করে, ভিক্টিমের বয়ান নিয়ে চলে যায়।

সীমন্তনীর মা বাবা দিদিরা এসে সীমন্তনীকেই দোষারোপ করতে থাকে। সে যদি তার অন্য দিদিদের মতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করে নিতো। আজ এমন দিন দেখতে হতো না। এখন আর কোন দিন ও কি তার বিয়ে হবে। পোড়া মুখের মেয়েকে কে বিয়ে করবে।


মা- বাবা- দিদিদের এমন মন্তব্যের জন্য চোখ ফেটে জল এসে গেলো সীমন্তনীর। আজ যেখানে তার আন্তরিকতা, মহানুভবতার দরকার সেখানে তাকেই কথা শোনানো হচ্ছে।

সীমন্তনীর বাঁচার ইচ্ছা ও নষ্ট হয়ে যায়। যে মা বাবার দায়িত্ব নেবার জন্য, পড়াশোনা করে চাকরি করতে চায়, আজীবন মা বাবার পাশে থাকতে চাই, তারাই আজ তার পাশ থেকে সরে যাচ্ছে।

সীমন্তনীর বাড়ির সবাই চলে গেলে, সীমন্তনী আস্তে আস্তে বেড ছেড়ে উঠে মুখ ঢেকে বেড়িয়ে পরে হসপিটাল থেকে। কাছের একটা রেল লাইনের ধারে এসে থামে। কিছুক্ষণ পরে একটা ট্রেন আসতে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাই । তখনই পিছন থেকে একটা হাত হ্যাঁচকা টান দিয়ে সীমন্তনীকে সড়িয়ে নিয়ে আসে রেল লাইন থেকে।

সীমন্তনী পিছন ফিরে দেখে আগের দিন সেই ভদ্রমহিলা। যিনি তাকে প্লাটফর্ম থেকে তুলে হসপিটালে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিল। তিনিই দাঁড়িয়ে আছেন।

ভদ্রমহিলা বলল," আমি আসতে যদি একটু দেরী করে ফেলতাম । তা হলে কি হতো বলোতো। কেনো এমন বোকামি করতে চায়ছিলে। তোমাকে দেখে আমার মনে হয়েছিল। তোমার মধ্যে আগুন আছে, জেদ আছে। ভেঙ্গে না পরার , হেঁড়ে না যাওয়ার দৃরতা আছে। কিন্তু তুমি আমাকে ভুল প্রমাণ করে দিলে।

হাড় মেনে নেয় যারা দুর্বল, তোমার মা- বাবা -দিদিরা দুর্বল তাইতো বাস্তব পরিস্থিতিকে মেনে নিতে পারেনি। তোমাকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। ভয় পেয়ে মুখ লুকিয়ে রাখলে চলবেনা। বরং যে তোমার মুখটা নষ্ট করেছে তাকে খুঁজে বের করে শাস্তি দিতে হবে।"

সেদিনের পর থেকে আজ পাঁচ বছর হয়ে গেছে সীমন্তনী আনন্দময়ী মায়ের আশ্রয়ে আছে। তার আশ্রমে আছে। সেদিন আনন্দময়ী মা তাকে এখানে এনে বলেছিল, "তুমি তো মরেই যাচ্ছিলে, তাই এখানে তোমার নতুন জন্ম হলো। আজ থেকে তোমার নতুন পরিচয় হল। তুমি সেই নতুন পরিচয় কাজে লাগিয়ে। তোমার মতো কতো অসহায় মেয়ে আছে তাদের পাশে দাঁড়াবে।"

 সমাজ সেবী আনন্দময়ী মায়ের সহায়তায় সীমন্তনী ও এক বড় সমাজ সেবী হয়ে যায়। সেও এখন কতো অসহায় মানুষের ছোট মা। জীবনটা তাদের জন্যই উৎসর্গ করেছে। জীবনের নতুন মানে খুঁজে নিয়েছে।

ছোট ছোট অসহায় বাচ্চাদের তুলে এনে সুশিক্ষিত করার চেষ্টা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড় করিয়ে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে চলেছে।

যে সমস্ত মেয়েরা তাদের নিজেদের সংসারে, সমাজে নির্যাতনের শিকার হয়েছে, তারা আনন্দময়ী আশ্রমে ঠাঁই পায়। তাদের হাতের কাজ শিখিয়ে, তাদের উপার্জনের ব্যবস্থা করা হয়। নিজেদের মনো বল বাড়িয়ে নিজেদের ইনকামে, মাথা উঁচু করে বাঁচতে সাহায্য করে। আজ সীমন্তনী খুব খুশি। যে তার মতোই অনেক অসহায় মানুষের বাঁচার পথ দেখাতে পেরেছে। বেঁচে থাকার সংস্থান করতে পেরেছে।

একটা ছোট্ট মেয়ে হাতে একটা গোলাপ ফুল নিয়ে সীমন্তনীর দিকে এগিয়ে এসে বলল,"ছোট মা, এই গোলাপটা তোমার জন্য। বলেই সীমন্তনীর কপালে একটা চুমু একে দিয়ে, আদুরে গলায় মা ! মা ! করতে করতে গলা জড়িয়ে ধরে।"

সীমন্তনী ভাবে সে তার গর্ভে সন্তান ধারণ না করেও। আজ সে কতো সন্তানদের মা। এটাই তার পরম পাওয়া। মা সারদা, মাদার তেরেসার মতো সেও এক জন মা। সেটাই সীমন্তনীর শান্তনা, অহংকার। মা হতে গেলে শুধু গর্ভে ধারণ করতে হয় না। সঠিক পরিচর্যা পালন করতে শিখতে হয়। যত্ন দিয়ে ভালবাসা দিয়ে, বাচ্চা মানুষ করেও প্রকৃত মা হওয়া যায়।


Rate this content
Log in

More bengali story from Protima Mondol

Similar bengali story from Action