Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Mitali Chakraborty

Fantasy


1  

Mitali Chakraborty

Fantasy


সন্তুষ্টির ছাপ:-

সন্তুষ্টির ছাপ:-

5 mins 367 5 mins 367

দত্ত বাড়িতে ইদানিং খুব হই হুল্লোড়। হবে নাই বা কেনো? শহরের একজন গণ্যমান্য ব্যবসায়ী দত্ত বাবু, ওনার একমাত্র নাতনি টিয়ার বিয়ে বলে কথা। টিয়া নিজেও ভীষণ খুশি এই বিয়ে নিয়ে, টিয়ার হবু বর শতদ্রু টিয়ার মতই সম্পন্ন এবং স্বচ্ছল পরিবারের পুত্র এবং টিয়ার পূর্ব পরিচিত। এতদিন ছিল পারিবারিক ভাবে তাদের সম্পর্কটিতে মোহর লাগানোর অপেক্ষা, এখন সেই অপেক্ষারও অবসান। রাজকুমারীর ন্যায় নির্মল আনন্দ ভেসে বেড়াচ্ছে টিয়া, নিজের মনের মানুষটির সাথেই যে সাত পাকে বাঁধা পড়তে চলেছে সে। 


ওইদিকে শতদ্রুর উৎসাহও কম নয় নিজের বিয়ে নিয়ে। অনেক জল্পনা পরিকল্পনা মাথায় ঘুরছে তার, সেগুলোর কেবল বাস্তবায়নের অপেক্ষা। যদিও শতদ্রুর পরিকল্পনা গুলো সম্বন্ধে টিয়াও অবগত অল্পবিস্তর। শতদ্রু এবং টিয়ার বিয়েটা হচ্ছে শহরের কোলাহল থেকে দূরে শহরতলীর দিকে। দু বাড়ির সকলের মতামতের সমন্বয়েই শহর ছাড়িয়ে দূরের শহরতলীতে শুভ কাজটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, এবং বলাই বাহুল্য যে প্রস্তাবটি এসেছিল শতদ্রু ও টিয়ার তরফ থেকেই। এবং হবু বর-বধূর মিলিত প্রচেষ্টায় দু বাড়ির সকলেই পরবর্তীতে শহুরে আবহাওয়া ছেড়ে অন্যত্র বিয়ের আয়োজন করতে রাজি হয় যান।


মাঘ মাসের ৬ তারিখে হাড় হিম করা শীতে রাত ন'ঘটিকায় টিয়ার বিয়ের লগ্ন স্থির হয়। এভাবেই চলতে থাকে বিয়ের প্রস্তুতি। টিয়ার পরিবার এবং শতদ্রুর পরিবার বিয়ের দিন সকালেই শহরতলী স্থিত 'উৎসব ম্যারেজ হলে' চলে আসেন। অনুষ্ঠান বাড়িটির বিশাল বিস্তৃত পরিধির উত্তর দিকের ঘর গুলোতে টিয়ার পরিবার এবং দক্ষিণী ভিটের ঘর গুলো তে শতাদ্রুর পরিবার অস্থায়ী আস্তানা গড়ে আর বাকি অংশে করা হয় বিবাহ বাসরের আয়োজন। শহর ছাড়িয়ে শহরতলীর এই বিবাহ বাসরে নিমন্ত্রিত শুধু দুই পরিবারের মুষ্টিমেয় আত্মীয়স্বজন সহ টিয়া এবং শতদ্রুর খুবই ঘনিষ্ট হাতে গোনা দু চারজন বন্ধু বান্ধবী। বিয়ের আগের দিনও টিয়াদের বাড়িতে ছিল বিয়ে নিয়ে হৈ হুল্লোর এবং অনেক লোকের সমাগম, কিন্তু আজ বিয়ের দিনে শহরতলীর এই অনুষ্ঠান বাড়িতে আছেন শুধু কতিপয় লোকজন। আচার-নিষ্ঠা মেনে হবু বর-বধূর গায়েহলুদ পর্ব সমাধান হতেই দুই পরিবারের নিমন্ত্রিত পরিজনেরা যে যার মতো নিজেদের মধ্যে গল্প-আড্ডা নিয়ে মশগুল হয়ে পড়েন। সকলের আলোচনার বিষয় ঘুরে ফিরে সেই একই যে দু বাড়িই আর্থিক দিক দিয়ে এত স্বচ্ছল তাহলে বাপু এই হাতে গোনা কজনকে নিয়ে, শহরের বিলাসী বাতাবরণ ছেড়ে শহরতলীতে কেনো বিয়ের আয়োজন করা! কি উদ্দ্যেশ্য?


সন্ধ্যা তখন ৭.৩০ টা প্রায়, নববধূর সাজে টিয়া। টিয়াকে সাজিয়েছেন টিয়ার আদরের ঠাম, মা আর কাকিমা মিলে। পালঙ্কে বিরাজমান নববধূ টিয়াকে দেখে আত্মীয় পরিজন সকলেই অবাক। এ কি সাজ নববধূর? কোন এক পুরনো দিনের রংচটা লাল বেনারসি নববধূর অঙ্গে। একটা সাধারণ মানের শোলার মুকুট, নেই কোনো অত্যাধিক সাজ সজ্জা। তার চেয়েও বেশি অবাক করার মতন হলো এত বড় সম্পন্ন পরিবারের কন্যা টিয়া আর গায়ে কিনা কোনো সোনার গহনা নেই! সারা অঙ্গে সুশোভিত হচ্ছে শুধু গাদা ফুলের গয়না আর মিটি মিটি হাসছে। সকলেই হতবাক তাকে দেখে। শুধু একে অপরের মুখ চাওয়া চাওয়ি করছেন তেনারা যে এ কেমন সাজ বধূর! ওইদিকে বরপক্ষের লোকজন তৈরী হচ্ছেন আর সঙ্গে শতদ্রুও।


একটা সাদামাটা ধুতি পাঞ্জাবি দেহে গলিয়ে শতাদ্রু তৈরী। বরপক্ষ মুষ্টিমেয় বরযাত্রী আর বর সহ অনুষ্ঠান বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে যাবেন লক্ষ্মী নায়ারণ মন্দির এবং সেখান থেকে ঠাকুরের আশীর্বাদ নিয়ে আবার বিবাহ বাসরে প্রত্যাবর্তন করবেন। সেই অনুযায়ী বরপক্ষের সকলেই নিয়ম বিধি মেনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে হৈহৈ করতে করতে ফিরে আসছে বিবাহ বাসরে। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি তে মুখরিত তখন গোটা পরিবেশ। টিয়ার মা ঠাম্মা কাকিরা গাইছেন মধুর বিয়ের গীত। খুব ছিমছাম ব্যবস্থাপনা বৈবাহিক অনুষ্ঠানের, না আছে ঝা চকচকে আলোর রোশনাই, না আছে আতশবাজি, না আছে প্রচুর লোক সমাগম, না আছে দাম্ভিকতা, না আছে অবাঞ্ছিত বিলাসিতার ছোঁয়া। ছাদনাতলায় শতদ্রু দাঁড়িয়ে সঙ্গে শুভানুধ্যায়ীরা। খানিক বাদেই আগমন বধূ বেশে টিয়ার। নিষ্পলক তাকিয়ে আছে শতদ্রু টিয়ার দিকে। শুভদৃষ্টি সম্পন্ন হয়ে মালাবদল পূর্ব শুরু হবে এবার, তখুনি বেশ কিছু গরীব দুঃস্থ লোকেদের প্রবেশ বিবাহ বাসরে।


নির্নিমেষ চোখে চেয়ে আছে তারা শতদ্রু এবং টিয়ার দিকে। ওইদিকে বরপক্ষ ও কন্যাপক্ষের অতিথি বর্গের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে কলরব। কেউ বলছেন এইসব নোংরা হতচ্ছাড়া লোক গুলো এখানে কেনো? কেউ আবার বলছেন ছি ছি এই নরকের কীট গুলো সুযোগ পেয়ে কেমন গুষ্টি শুদ্ধ বিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। কেউ বলছেন বাবা গো এ কি! এসব ভিখিরি গুলো এখানে কেনো এসছে? কেউ বলছেন চাল-চুলোহীন এই লোক গুলোর গা থেকে কি উদ্ভট গন্ধ বেরোচ্ছে, এই আপদ গুলোকে ঢুকতে কে দিল এখানে? ইতিমধ্যে বিয়ের বাসর রূপ নিয়ে নিয়ে নিয়েছে যুদ্ধ বিবাদের। কিন্তু সকল কে কিয়ৎক্ষণ শান্ত থাকার অনুনয় করে শতদ্রুই বলা শুরু করলো যে এইসব অভাগাদের আমি আর টিয়া ডেকেছি, এরা আমাদেরই নিমন্ত্রিত অতিথি।


আপনদের সকলের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ আমার কথাটা একটি বার শুনুন। কোলাহল একটু থামলে পর শতদ্রু বলতে শুরু করলো," আপনারা আশ্চর্য হচ্ছেন জানি।কিন্তু আপনাদের থেকেও আমি বেশি আশ্চর্য হই যখন দেখি কোনো অনুষ্ঠানের সমাপ্তির পর এক গরীব অসহায় দুঃখিনী মা ডাস্টবিন থেকে খাবার কুড়োচ্ছে। যখন দেখি আমরা অনুষ্ঠানে উল্লাসে মত্ত থাকি কিন্তু এই দুর্ভাগা দের কপালে কোনো আনন্দ উল্লাস থাকে না। যখন দেখি জলের মতো দেদার টাকা পয়সা খরচ করে স্যুটে বুটে সজ্জিত হয়ে আমরা আড়ম্বর করি কিন্তু এই দুঃস্থ লোকেদের কাছে কিচ্ছুটি থাকে না...."।


আমন্ত্রিত সকলে তখন চুপ, শতদ্রু আবার বলতে শুরু করে, " টিয়া কে অগণিত অসংখ্য বার ধন্যবাদ কারণ আমার একটাই অনুরোধ ছিল টিয়ার কাছে যে আমরা নিজের বিয়েতে কোনো রকম আড়ম্বর করবো না। আমাদের বিয়েটা হবে একদম সাধারণ ভাবে খুব অল্প সংখ্যক কতিপয় শুভানুধ্যায়ী দের নিয়ে, আর আমি আশ্চর্যচকিত রয়ে গেছিলাম যখন টিয়া এভাবে বিয়ে করাতে সায় দেয় এবং আমার কাছে প্রস্তাব রাখে যে আমাদের বিয়েতে যেনো নিমন্ত্রিত হয় গরীব দুঃখী লোকেরা নাকি হোমরা চোমরা ব্যক্তি বিশেষরা। আমি অভিভূত হয়ে পরি সেদিন টিয়ার গোপন ইচ্ছাটি যেনে কারণ আমার মনের গহনেও ছিল এই সুপ্ত ইচ্ছাটি আর সেভাবেই আমরা প্রস্তুতি নিতে থাকি আজকের দিনটির জন্য....."।


টিয়া মুগ্ধ নয়নে চেয়ে আছে শতদ্রুর দিকে, নিজ ইচ্ছাতেই টিয়া এত বছর পুরনো তার মায়ের নিজের বিয়ের বেনারসি টি পড়েছে আজ। কোনো হিরে জহুরত নেই, শুধু ফুলের গয়নায় সেজেছে সে, নিজের বিয়ের দিনে এত্ত সাদামাটা সাজ আর শতদ্রুর বিন্দুমাত্র আপত্তি ছিল না টিয়ার এহেন সাজে। শতদ্রুর ন্যায় টিয়াও বিলাসিতা, দাম্ভিকতা এবং আড়ম্বরতাকে দূরে রেখে বেছে নিয়েছে সাদামাটা ভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবার অভিনব পন্থাটিকে । টিয়ার ঠাকুরদা দত্ত বাবু এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরেন শতদ্রু আর টিয়া কে। প্রাণভরে আশীর্বাদ দিয়ে সেই দুখীয়ারি আমন্ত্রিত দের কাছে প্রার্থনা করেন খাবারের বৈঠকের দিকে প্রস্থান করার জন্য। বিয়ের মণ্ডপে ওইদিকে ধ্বনিত হচ্ছে মন্ত্রোচ্চারণ আর এইদিকে গরীব দুঃস্থ মানুষেরা সম্মানের সাথে আহার গ্রহণ করে প্রাণভরে আশীর্বাদ দিচ্ছে নবদম্পতি কে। শতদ্রু আর টিয়ার মুখে তখন সন্তুষ্টির ছাপ কারণ ওই দুঃস্থ নিষ্পাপ মানুষদের মুখের অকৃত্রিম হাসি যে অনেক দামি এই নবযুগলের কাছে।


Rate this content
Log in

More bengali story from Mitali Chakraborty

Similar bengali story from Fantasy