Sayandipa সায়নদীপা

Fantasy


1  

Sayandipa সায়নদীপা

Fantasy


এপিঠ ওপিঠ

এপিঠ ওপিঠ

2 mins 616 2 mins 616

মেয়েকে নিয়ে যখন ট্রেন থেকে নামলো পলাশ তখন ঘড়ির কাঁটা ছ'টা ছুঁই ছুঁই। ট্রেনটা লেট করলো বলে দেরি হলো এতটা, তাড়াতাড়ি না পৌঁছাতে পারলে ডাক্তারবাবু হয়তো চেম্বারের জন্য বেরিয়ে যাবেন। মেয়েকে কোলে তুলে দ্রুত পা চালাতে লাগলো পলাশ। বাবার এতো ব্যস্ততা দেখে আধো আধো গলায় মিষ্টি প্রশ্ন করলো, "আমলা কোথায় দাত্তি বাবা?"

"গেলেই দেখতে পাবে।"


  ডাক্তারবাবুর বাড়িতে পৌঁছে দরজায় কড়া নড়তেই বেরিয়ে এলেন এক মহিলা। বিগলিত কণ্ঠে পলাশ জানতে চাইলো, "ডাক্তারবাবু আছেন?"

"নাহ।" আশ্চর্য রকমের রুক্ষ স্বরে জবাবটা এলো ওপ্রান্ত থেকে।

একটা ঢোঁক গিলে পলাশ বলল, "কখন ফিরবেন?"

"ফিরবেন না।" 

চমকে উঠল পলাশ, "মানে?"

"আর কোনোদিনও ফিরবেনা উনি।"

"কি বলছেন কি আপনি?" উত্তেজিত হয়ে উঠলো পলাশ।

"খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় ডেলিভারির জন্য একটা রুগ্ন মেয়েকে এনেছিল ওরা… বাঁচলোনা। শ্বশুরবাড়ির লোক বললো সব নাকি ওনার গাফিলতি… তারপর উত্তেজিত লোকগুলো ওনাকে…" কেটে কেটে কথা গুলো বললেন মহিলা।


চমকে উঠলো পলাশ। মনে পড়ে গেল বছর পাঁচেক আগের একটা দৃশ্য। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নাকি অনেক পুষ্টিকর খাবার দিতে হয় বউকে, কিন্তু দিন মজুর পলাশ পারেনি সেইসব খাবার জোগাড় করতে। অপুষ্টিতে ভোগা অসীমাকে সঙ্কটজনক অবস্থায় গ্রামের স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে যখন ফিরিয়ে দিল তখন পলাশ কোনোক্রমে গাড়ি ভাড়া করে তাকে শহরে এনে ভর্তি করেছিল হাসপাতালে। ডাক্তারবাবুর হাতে পায়ে ধরে মিনতি করেছিল তার বৌটাকে বাঁচাতে। ডাক্তারবাবু বলেছিলেন তিনি চেষ্টা করবেন। এরপর তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমে পলাশ শুধু তার অসীমাকেই ফিরে পায়নি, সুস্থ ভাবে পেয়েছিল তার মিষ্টিকেও। ডাক্তারবাবু সেদিন না থাকলে কি হত এই ভেবে আজও শিউরে ওঠে স্বামী স্ত্রী দুজনেই। মিষ্টির কাল পাঁচ বছরের জন্মদিন, তাই পলাশ ভেবেছিল মেয়েকে ডাক্তারবাবুর কাছে এনে আশীর্বাদ নিয়ে যাবে, কিন্তু তার বদলে…!


                 ★★★★★


"দাদা তুমি যদি সেদিন উত্তেজিত হয়ে অমন কান্ডটা না ঘটাতে তাহলে আজ আমাদের এভাবে জেলে পচতে হতনা।"

"জানি রে হতভাগা। এই ডাক্তারটার কোনো দোষ ছিলনা।"

"সবই যদি জানতে তাহলে সেদিন ওরকম মাথা গরম করলে কেন?"

"কি করব বল… যখন শুনলাম বৌমা আর নাই, চোখের সামনে তখন আমার মেয়েটার মুখ ভেসে এলো। পুরো পয়সা জোগাড় করতে পারিনি বলে ডাক্তারবাবুদের অবহেলায় কিভাবে আমার ফুলের মত মেয়েটা কষ্ট পেতে পেতে…"

কথাটা আর শেষ করতে পারল না রঘু দাশ, দু'হাঁটুর ভাঁজে মুখ গুঁজে ডুকরে কেঁদে উঠলো সে। হারানো মেয়ের জন্য কষ্টে নাকি নিজের অসহিষ্ণুতার মাশুল গুনতে গুনতে দাদার চোখে জল এলো ঠিক বুঝতে পারলনা যাদু। তাই মানুষটার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল শুধু।


Rate this content
Log in