Maheshwar Maji

Fantasy


0  

Maheshwar Maji

Fantasy


পথের আলাপ

পথের আলাপ

3 mins 425 3 mins 425

প্রিয় লেখকের একটা বই আনতেই বইমেলা যাওয়া।প্রিবুকিং করেছিলাম।টেকনিক্যালি কোন ত্রুটির কারণে আসেনি।

বিগত একমাস ধরে কত যে উত্তেজনা বুকের মধ্যে চেপে রেখেছিলাম,সে কেবল আমিই জানি। বিভিন্ন সাহিত্য গ্রুপে বইটার নানা জনের রিভিউ পড়ে,পড়ে সেই মাত্রাটা আসমান ছুঁয়ে ফেলেছিল।

প্রথম সংস্করণের প্রায় সবকটা কপি শেষের মুখে।হয়তো দু,দশটা থাকলে থাকতে পারে।কিন্তু সেগু‌লো নানা জায়গায় বইমেলার স্টলে ঘুরছে।

দ্বিতীয় সংস্করণের কাজ দ্রুত গতিতে চললেও,কোলকাতা বইমেলা ছাড়া পাওয়া যাবে না।

ততদিনে আমি বাংলার ত্রিসীমানা ছেড়ে পাড়ি দেব।তারমানে আবার সেই প্রিবুকিং করে হাপিত্যেষভাবে বসে থাকা।

হবে না।

বইটা আমার এখনই চাই।সেইমতো চিরুনিতল্লাসি শুরু করে দিলাম।পাবলিশারের কান ঝালাপালা হয়ে যাওয়ার জোগাড়।

এমন সময় খবর পেলাম,অবশিষ্ট তিন কপি পড়ে আছে।

বাঁকুড়া বইমেলায় পাঠানো হয়েছে।সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিতে হবে।

আর আমায় কে পায়!

এর বন্ধুকে খোঁচা মারলাম।বাইকের টাঙ্কি লোড করে দেব।আমাকে চাপিয়ে বাঁকুড়া টাউন নিয়ে যেতে হবে।কাজ আছে।

আমার বলার ধরণ দেখে,ও কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে চাইল।তারপর বলে‌ উঠল,কেন রে?হাসপাতালে কেউ ভর্তি আছে নাকি?

আমি সোজাভাবে বললাম,বই কিনতে।

সাথে,সাথেই ওর বাদামী দাঁতগুলো ঈঁদুর ছানাদের মতো বেরিয়ে এলো,বলিস কিরে!বই আনতে গিয়ে এত টাকার তেল পোড়াবি?বলি কতগুলো বই শুনি?ওভার লোড আমি নিতে পারবো না।একে তো তুই এক গাড়ি জায়গা খাবি।তারউপর বই এর ওজন!

---আরে না না।মাত্র একটা বই আনবো।

কথাটা শুনে বন্ধুটি আবার এক চোট হেসে নিল।তারপর বলে উঠল,সেইজন্যই তোর বউ তোকে পাগল বলে।তোর বউ শুনলে,কী ধূপ জ্বেলে তোর আরতি করবে জানিস?

----ভাট বকিস নাতো।যাবি কিনা বল?

---তুই বললে যাব‌ না,এ হতে পারে?তবে একটা শর্ত।আসার সময় হোটেলে মাল‌ খাওয়াতে হবে।কদিন তাড়ি খেয়ে জিভে মরচে পড়ে গেছে মাইরি।

শর্তে রাজি হতেই বেরিয়ে পড়লাম।

অর্ধেক রাস্তায় চাকা পাংচার।

আশেপাশে তিন কিলোমিটারে কোন গ্যারেজ নেই।মেন রোড ছেড়ে গাঁয়ের রাস্তা ধরেছিলাম।যাতে একটু তাড়াতাড়ি পৌছাতে পারি।

এখন দুজনেরই মাথায় হাত।

ওর ভাবনা,গাড়ি ঠেলা নিয়ে,আর মরছি বইটার কথা ভেবে।


মাত্র তিন কপি।শেষ হতে বেশি সময় লাগবে না।অনেকেই খোঁজ করে ফিরে গেছে।আমার জন্য বাড়তি অল্প অপেক্ষা হয়তো করবেন।আসছি না দেখে অন্য কাউকে দিয়ে দেবেন।

একবার ফোন করে বিপত্তির কথাটা জানানো উচিত।তাতে হয়তো বইটা হাতছাড়া হবে না।

মোবাইলটা বের করলাম।দেখি নেটওয়ার্ক নেই।

এ রাস্তায় বাসও চলে না যে ধরে নেবো।

যদি বা অন্য কোন বাহন পাওয়া যায়,এভাবে ওকে একা ছেড়ে যেতে পারবো না

আস্ত মেরে ফেলবে।


এমন সময় দেখি একজন বৌদি সাইকেলের বেল বাজিয়ে এদিকেই আসছেন।

আমরা কিছু বলার‌ আগেই উনি‌ আমাদের অবস্থা দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন।

সাইকেলটা স্ট্যান্ড করে চিন্তিত মুখে বলে উঠলেন,এতো আচ্ছা কেলো কান্ড!আপনাদের শরীর তো ঘামে পেঁচিয়ে গেছে।এখনো আড়াই কিমি পথ।ততক্ষণে তো আপনাদের দশা মরা মাছের মতো হয়ে যাবে।

বৌদির চুকচুক শব্দ শুনে দুজনই অল্প অক্সিজেন পেলাম।

বৌদি ততক্ষণে বুকের ভেতর থেকে মোবাইলটা বের করে হাতে ধরেছেন।

ঠোঁটে বাঁকা হাসি।

বন্ধুটি হা হয়ে তখনো বৌদির বুকের দিকে তাকিয়ে।অন্তর্বাসের ফিতেটা উঁকি মারছে।

বৌদি কানের কাছে মোবাইল ধরে বলে উঠলেন,আরে সুলতানদা।একবার হরিপুরে এসো তো।কালভার্টের কাছে।দুজন ভদ্রছেলে ফেঁসে আছে।বাইক পামচার।সেরে দিয়ে যাও।

আমি তৎক্ষণাত বলে উঠলাম,আমার ফোনে তো টাওয়ার ছিল না।

বৌদি অল্প হেসে একইরকম কায়দায় পুনরায় মোবাইলটা বুকের‌ মধ্যে ভরে রাখল।

তারপর তেরছা নজরে বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলেন,জিও বস।

বন্ধুটি কথাটা শুনে ঘাবড়ে গেল।

বৌদি হা হা করে‌ হেসে উঠলেন,আমি তো ফোনের কথা বলছি।তুমি কেন চমকে উঠলে?

অবশ্য নাম্বারটা চাইলে রাখতে পারো।চায় নাকি?

বন্ধুটি সাথে,সাথেই নাম্বারটা সেভ করে নিলো।এরকম সুযোগ ও কখনোই হাতছাড়া করে না।

এরপর বৌদিটি ঠোঁট কামড়ে আমাদের উদ্দেশ্যে ফিক করে‌ হেসে বলে

উঠলেন,তুলতুলে,নরম,নরম মাংস যদি কারো দরকার পড়ে।নাম্বারটা তাদেরও দিয়ে দেবেন।যত বড়ই অনুষ্ঠান হোক‌ না কেন,আজ পর্যন্ত কোথাও কুকুরের মাংস পাঠায়নি।এটা ফুলমণির গ্যারেন্টি।জীবনে দুটো জিনিসই আমি কেটেছি।এক পাঁঠা।খাসি করার জন্য।আর দুই খাসি।মানুষকে খাওয়ানোর‌ জন্য।

কথাটা শেষ করে‌ বৌদিটি সাইকেল ধরলেন।

বন্ধুর গলায় একটা ঢোক পড়ল বোঝা যাচ্ছে।

বৌদির শাড়ির রঙ মিলিয়ে যেতেই,বন্ধুটি বলে উঠল,কি ডেঞ্জারাস মহিলা মাইরি!খাসি করে ছাড়তো রে!বড় জোর বেঁচে গেছি।


Rate this content
Log in