পূজা চক্রবর্তী

Action Crime Others

3  

পূজা চক্রবর্তী

Action Crime Others

প্রতারক প্রেমিক

প্রতারক প্রেমিক

6 mins
176



সেই ছোটো বেলা থেকেই অগ্নি দিশা কে ভালোবাসতো,তবে প্রথমে দিশা অগ্নি কে পাত্তা দিত না,,ধীরে ধীরে অগ্নির প্রতি দিশা দুর্বল হয়ে যায়,অবশেষে একদিন ( দিনটা ছিল এপ্রিল ফুলের ঠিক আগের দিন) দিশা অগ্নি কে বললো কাল তোকে একটা কথা বলবো,কিন্তু অগ্নির ভীষণ জেদ,আজই বলতে হবে,,অবশেষে দিশা তার মনের কথা টা বলেই দিলো, তখন তখন থেকেই শুরু হয় তাদের প্রেম কাহিনি, তাদের সম্পর্ক টা ছিল পাঁচ বছর,তবে পাঁচ বছরে ব্রেক আপ হতে ছিলো মোটামুটি ৫০০ বার,,,অগ্নি কে বিশ্বাস করে বার বার ঠকে যায় দিশা,কিন্তু বারবার তাকে ক্ষমা করে দেয়,একই হয়ত বলে ভালোবাসার মানুষের প্রতি অন্ধ বিশ্বাস,একদিন দিশা অগ্নির মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখলো,,সোনামনি নামে কোনো একজনের কাছে অগ্নি এসএমএস করেছে"I love you" অগ্নি তখন না না অজুহাত দিতে থাকে ,সে বলে তার এক বন্ধু এই এসএমএস করেছে ,সে করেনি,,দিশা অগ্নির সব কথা বিশ্বাস করে, সম্পক টা যখন পাঁচ বছর ছয় মাস পূর্ণ হলো,তখন দিশার বয়স ২১ বছর, স্বাভাবিক ভাবেই তার বাড়িতে তার বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি হলো,অগ্নি কে দিশা সব টা জানালো,অগ্নি বললো তুমি বিয়ে করে নাও,এই বলে ফোন টা কেটে দিলো,তারপর দিশা এসএমএস করা শুরু করলো কিন্তু কোনো উত্তর আসলো না,,,হটাৎ এসএমএস _" তোর মত চরিত্র হীন , ফালতু ,কালনাগিনী, তোর মুখ দেখলে আমার দিনটাই খারাপ যায়,আমি কোনোদিন ও তোকে বিয়ে করবো না"

দিশার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো এইদিকে তার গর্ভে অগ্নির সন্তান,বাড়ি থেকে তার বিয়ে তাও ঠিক হয়ে গেলো,,সে কেউ কে কিছু জানতে পারলো না কারণ সে টো বিশ্বাস করে ঠকে গেছে,কেউ কে কিছু বললেই সবাই তাকেই কলঙ্কিনী বলবে,,তাই সে চুপ চাপ বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো,একটি বিশাল নদীর সামনে এসে থেমে গেলো,,,সেই নদীর জলে জাপ দিলো,এই দিকে বাড়ি থেকে তার খোজ শুরু করে দিলো,থানা পুলিশ করা হলো,অবশেষে রাস্তার পাশের সিসিটিভি ফুটেজ এ দেখা গেলো দিশার নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্য,সবাই জানলো দিশা মারা গেছে,এমনকি অগ্নি ও জানতে পারলো কিন্তু তাতে তার কি,সে ভাবলো" বাচা গেলো অপদ বিদায় হলো"


কিন্তু বিধির কি নিদারুণ পরিহাস, নদীর জলের স্রোতে ভাসতে ভাসতে দিশা পৌঁছে গেলো দূর দেশে,সেখানে মল্লিকা নামে একজন মেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, জ্ঞান ফেরার পর মল্লিকা কে সব টা জানায় সে,তারপর মল্লিকার পরিবারে সে মল্লিকার ছোটো বোনের মত আদর যত্ন পায়,তার একটি মেয়ে হয়,তার নাম প্রীয়ালি ,মল্লিকা দিশার নাম টা বদলে অনামিকা নাম রাখে,দিশা এখন অনামিকা,

পাঁচবছর পর

মল্লিকা তার কর্ম সূত্রে বাইরে থাকতো সেখানে অগ্নির সাথে তার আলাপ হয়,যেহেতু মল্লিকা খুব ধনী পরিবারের সন্তান তাই তাকে বিবাহ প্রস্তাব দেয় অগ্নি, মল্লিকা তাতে রাজি হয়,এবং তাদের বিবাহ হয়

বিবাহ শেষে মল্লিকা তার স্বামী অগ্নি কে নিয়ে বাড়ি পৌঁছতেই অনামিকার ও প্রিয়ালী ছুটে এসে জড়িয়ে ধরেঅনামিকা কে দেখে অবাক হয় অগ্নি,মল্লিকার কাছে অনামিকার পরিচয় জানতে চায়, মল্লিকা কিছু বলার আগেই অনামিকা বলে আমি দিদির কাকাত্ব বোন,অগ্নি অবাক হয় এবং ভাবতে থাকে একি কি করে সম্ভব হুবহু দিশা,কিন্তু প্রয়ালি কে? অগ্নি জানত না তার সন্তানের ব্যাপারে,এই দিকে অগ্নি কে দেখার পর ভীষন ভয় পায় অনামিকা, সে কি করবে? কাকে বলবে? বললেই কি মল্লিকা বিশ্বাস করবে?অনামিকা বহু বার মল্লিকা কে বলতে চায় যে এই সেই অগ্নি কিন্তু বলতে পারেনা,,,,,


সেদিন রাতে মল্লিকার এক বান্ধবী খুব অসুস্থ হয়ে পরে তাই মল্লিকা তাকে দেখা শুনা করার জন্য তার বাড়ি যায়,বাইরে প্রচন্ড ঝড়,মল্লিকার মা,বাবা, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,প্রিয়ালি কে ঘুম পাড়িয়ে অনামিকা ঘরের দরজা টা বন্ধ করতে যাবে,এমন সময় অগ্নি ঘরে ঢুকে দরজা দিয়ে দেয়,অনামিকা বুঝতে পারে অগ্নি কি চাইছে,সে পিছিয়ে আসে এবং হাতের কাছে একটি ছুরি পায় সেই ছুরি দিয়ে অগ্নি কে খুন করার ভয় দেখিয়ে বলে_প্রতারক অগ্নি,ভালো চাও তবে চলে চাও_তুমি তার মানে সত্যি সত্যি দিশা_হ্যাঁ আমি দিশা আমি বেঁচে আছি শুধু তোমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য_আমার কি ভুল ছিল?তোমার চরিত্রের দোষ,,প্রিয়ালির বাবা কে?_নিজের রক্ত কে চিনতে পারছ না?অগ্নি এখন সব টা বুঝতে পারে, ভয় এ সেই ঘর থেকে পালিয়ে আসে।অগ্নি ভাবতে লাগলো দিশা বেঁচে থাকলে মল্লিকা কে সব বলে দিবে,তাই দিশা কে সরিরে দিতে হবে,এই ভেবে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করলো।পরের দিন মল্লিকা কে অগ্নি জানালো তার পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান এর কথা,মল্লিকা এক কথায় রাজি হয়ে যায়,কিন্তু অনামিকা বুঝতে পারে এটা অগ্নি কোনো প্ল্যান,তাই সে প্রথমে যেতে রাজি হচ্ছিল না,কিন্তু মল্লিকার কাতর অনুরোধে সে রাজি হলো।ঠিক দুই দিন পর বাড়ির প্রত্যেক এ মিলে পাহাড়ের উদেশ্য এ রওনা হলো,দিশা সিদ্ধান্ত নিল সে মল্লিকা কে সব বলে দিবে কিন্তু তার আগেই অগ্নির ভাড়া করা গুন্ডা অনামিকা কে পাহাড় থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিলো,এই দৃশ্য প্রিয়া নিজের চোখে দেখেছে,কিন্তু প্রিয়া তখন মাত্র পাঁচ বছরের তাই তার কথা কে এত টা গুরুত্ব দেওয়া হলো না,অগ্নির প্ল্যান মাফিক অনামিকার হাতে একটি কাগজ পাওয়া যায়,তাতে স্পষ্ট লেখা আছে যে অনামিকা আত্মহত্যা করেছে,মল্লিকা কিছুই বুঝতে পারে না, সেও মেনে নিল এটা আত্মহত্যা,




তারপর কেটে গেলো আঠারোটি বছর । প্রিয়ালি বয়স এখন ২৩ বছর, মা হারা মেয়ে কে আদর ভালোবাসা দিয়ে বড় করে তুলে মল্লিকা,মল্লিকা কে প্রীয়ালি মনি মা বলেই ডাকে,কিন্তু বর্তমানে প্রিয়ালী তার দিদা দাদু অর্থাৎ মল্লিকার মা বাবার সাথে তাদের বাড়িতে থাকি,বৃদ্ধ দিদা দাদুর সেবা করে,অন্যদিকে মল্লিকা খুব সুখেই সংসার করতে থাকে,তার একটি ছেলে হয় ,তার নাম রাখা হলো জয়,জয়ের বয়স্ বর্তমানে ১৪ বছর,

আজ জয় আর মল্লিকা তার নিজের বাড়িতে আসবে,,সকলেই খুব আনন্দিত , প্রীয়ালী তাদের জন্য নিজের হাতে রান্না করে রাখে,সন্ধে নেমে এলো খুব বৃষ্টি পড়ছে,প্রিয়ালীর তার মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে,আগে যে ঘরে সে আর তার মা থাকতো,সেই ঘরে তার মায়ের মৃত্যুর পর আর কেউ যায়নি,আজ প্রিয়ালির খুব ইচ্ছে হলো সেই ঘরে যেতে,প্রিয়ালি তার মায়ের ঘরে যায় এবং মায়ের পুরনো জিনিস পত্র দেখে পুরনো স্মৃতি আক্রে ধরে জড়িয়ে কান্না করতে থাকে,হটাৎ তার চোখ গেলো সেই টিনের বক্স এ,বক্স টি খুলতেই চমকে উটলো,_একি মা এর সাথে মেসো , তাও আবার অন্তরঙ্গ ফটো!বিস্ময়ে হতাশায় বক্স টি তে আবার হাত দিলো,এইবার তার সামনে এলো একটি কাগজ যা তার মা মৃত্যুর আগের দিন মল্লিকার জন্য লিখেছিল, কাগজ টি পড়ার পর প্রীয়ালির কাছে সব জলের মত পরিস্কার,তার মেসো তার নিজের বাবা,তার মায়ের খুনি,ঘরের দরজা দিয়ে দিলো,মল্লিকা এলো অথচ প্রিয়া তার সাথে দেখা করতে আসেনি এটা এই প্রথম বার,মল্লিকা নিজে প্রিয়ালীর ঘরে যায় সেখানে তাকে দেখতে পেলো না,তার পর সেই তার মায়ের ঘরে যায় সেখানে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ।_প্রিয়া মা,তুই কি এই ঘরে,মা আমি আসছি তুই আমার সাথে কথা ও বললি না?_তুমি চলে যাও মনি মা,প্রিয়ার গলা শুনে মল্লিকা বুঝতে পারলো কিছু একটা হয়েছে,তাই আর বিরক্ত না করে ঘরে গিয়ে গুমিয়ে পরলো,ভোর হলো প্রিয়া ঘর থেকে বেরিয়ে এলো,_কি হয়েছে মা,প্রিয়া আমাকে বল,তোর চোখ মুখ শুকিয়ে গেছে কেনো?_মনি মা তুমি আমার সাথে আমার মায়ের ঘরে চলো,তোমার সাথে আমার কথা আছে।





_মেসো মানে তোমার স্বামী, জয়ের বাবা ই আমার বাবা_এই সব কি বলছিস প্রিয়া,তুই তো আমারই সন্তান তবে তো তোর মেসো তোর বাবা ই হবে_না মনি মা,মেসো আমার নিজের রক্তের সম্পর্কের বাবা, আর আমার মায়ের খুনি।_তুই মজা করছিস?তোর এত বরো সাহস তুই আমার সাথে এই সব মজা করছিস_মনি মা আমি তোমার পায়ে পরি ,একটি বার আমাকে বিশ্বাস করো,আমাকে ভুল ভেবো না,আমার কাছে প্রমাণ আছে_কি প্রমাণ

প্রিয়া তার মায়ের আর মেসো অন্তরঙ্গ ফটো ,এবং তার মায়ের লেখা সেই চিরকুট টা মনি মায়ের হাতে দিলো_একি?আমি কিছু বিশ্বাস করতে পারছি না,,,কিন্তু বিশ্বাস না করার তো কোনো উপায় নেই,

মল্লিকা ভীষণ ভেঙে পরলো,প্রিয়া তাকে সান্তনা দিয়ে বললো

_তুমি তো একজন মহান মা, নিজে কে তো তুমি সমাজ কল্যাণ এর জন্য উৎসর্গ করেছ,তুমি পারবে না আমার মায়ের খুনি কে শাস্তি দিতে,?

_পারবো প্রিয়া,কিন্তু তার আগে আমাদের প্রমাণ জোগাড় করতে হবে,তুই আমার সঙ্গে অগ্নির বাড়ি চল।

_এত তাড়াতাড়ি চলে এলে যে_তোমাকে ছাড়া ভালো লাগে না তাই

অগ্নি খুব খুশি হয়ে বলে _তোমার হাতের এক কাপ মিষ্টি চা খেতে খুব ইচ্ছা করছে_একটু দাড়াও আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি

এই বলে মল্লিকা রান্না ঘরে গিয়ে চা এ সামান্য ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিলো,

_এই নাও তোমার চা

চা খাওয়া হতে না হতেই অগ্নি গুমিয়ে পরে,মল্লিকা আর প্রিয়া তাকে হসপিটাল নিয়ে গিয়ে ডি এন এ টেষ্ট করলো।রিপোর্ট পজেটিভ,তাই মল্লিকার মনে অবিশ্বাসের কোনো জায়গা নেই,

অগ্নি কিছু বুঝতেই পারে না,

তার পরের দিন প্রিয়া একটি অডিও রেকর্ডার নিয়ে অগ্নির ঘরে যায়

_বাবা_কি রে প্রিয়া আমাকে বাব ডাকছিস কেনো?,তোর তো বাবার ঠিক নেই,_আমি এই প্রথম ও এই শেষ তোমাকে বাবা ডাকছি কারণ আমি জানি তুমি আমার মায়ের খুনি_কিন্তু কি করে জানলি আর জানলেই বা কি প্রমাণ তো করতে পারবি না।_আমি প্রমাণ দিবো অগ্নি_একি মল্লিকা তুমি?তুমি এইসব কি বলছো?_ইন্সপেক্টর রাজ দয়া করে একে এক্ষুনি অ্যারেস্ট করুন_ কি প্রমাণ আছে ?আমাকে অ্যারেস্ট করাতে পারো না তুমি মল্লিকা,আমি তোমার স্বামী।_স্বামী না,প্রতারক প্রেমিক,দিশা কে খুন করেছ তুমি

অগ্নি কে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাওয়া হয়,দিশা কে খুন করা এবং প্রেমে প্রতারণা করার জন্য ,আদালত তাকে যাবৎ জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিলো

মল্লিকা তার বাবা মা আর জয় ও প্রিয়া কে নিয়ে খুব ভালো আছে,ইন্সপেক্টর রাজ (প্রিয়ালি এর মনের মানুষ) এর সঙ্গে প্রিয়ার বিয়ে দিয়ে মল্লিকা নিজের দায়িত্ব সম্পূর্ণ করলো।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Action