পূজা চক্রবর্তী

Drama Romance Fantasy

3  

পূজা চক্রবর্তী

Drama Romance Fantasy

কোয়েলের কোকিল কণ্ঠ

কোয়েলের কোকিল কণ্ঠ

5 mins
170



আজ কোয়েলের জন্ম দিন,কোয়েলের জীবনের সেরা উপহার আজ তার বাবা তার হাতে তুলে দিলো। কোয়েলের ইচ্ছে ছিলো তার ২১ তম জন্ম দিনে সে যেনো দেবাশীষ এর সঙ্গে এক সঙ্গে কেক কাটতে পারে।আজ তার সেই ইচ্ছে টাই পূরণ হলো।

গত তিন বছর থেকে দেবাশীষ ও কোয়েল একে অপরকে খুব ভালোবাসে।দুজন দুজন কে প্রায় চোখে হারায়। কোয়েল এর বাবা কোয়েল এর বান্ধবী প্রিয়ঙ্কার কাছ থেকে সব টাই জানতে পারে।যদি ও প্রিয়ঙ্কা কিছু বলতে চায়নি তবু ও বাধ্য হয় বলতে।প্রিয়ঙ্কা কান্না করছিলো আর মনে মনে ভাবছে

_কে জানে ভগবান আজ কি লিখেছে কোয়েল এর কপালে?আজ ওর ২১ তম জন্ম দিন আর আজ আমার জন্য না জানি ওকে কত কষ্ট পেতে হবে।

কিন্তু জন্ম দিনের উৎসবে গিয়ে প্রিয়ঙ্কা একদম অবাক হয়, সকলেরই মুখে হাসি, সকলেই খুব অনন্দিত।

_কি রে প্রিয়ঙ্কা আজ তোর আসতে এত দেরি কেনো হলো রে?

_আসলে

প্রিয়ঙ্কা কিছু বলতে চাইলে তাকে কিছু বলতে দেয়নি কোয়েলের দাদা।

জন্ম দিনের উৎসব শুরু হলো সকলেই উপস্থিত হলো ,দেবাশীষ কে আসতে বলতে পারেনি বলে মন খারাপ ছিলো কোয়েল এর কিন্তু সেখানে দেবাশীষ কে দেখে অবাক হলো ,কোয়েল ও প্রিয়ঙ্কা।

কোয়েল এর বাবা একজন ব্যবসায়ী ,তার টাকা পয়সার কোনো অভাব ছিলো না। খুব রাগী মানুষ ছিলেন তিনি, গ্রামের সকলেই থাকে ভয় পেতেন।

জন্ম দিনের উপহার দেবার পালা শুরু হলো। একে একে সবাই উপহার দিচ্ছে। কোয়েল অবাক হয়ে দেবাশীষ এর দিকে তাকিয়ে ভাবছে_

_ও কে তো আমি আসতে বলি নি, তবে ও এইসময় আমার জন্মদিনের উৎসবে কিভাবে এলো?

এত লোক, আত্মীয় স্বজনের ভিড়ে দেবাশীষ এর সামনে গিয়ে ওর সাথে কথা বলার সাহস পাচ্ছে না কোয়েল।

হটাৎ কোয়েলের বাবার কণ্ঠ_ দেবাশীষ তুমি কিছু উপহার দেবে না?

_দেবাশীষ বললো__আপনি অনুমতি দিলে তবে তো দেবো।

আচ্ছা বাবা আমি অনুমতি দিলাম।

দেবাশীষ আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছে কোয়েল এর সামনে, কোয়েলের হাত পা কাপছে ,কোয়েল ভাবছে আজ বুঝি সব শেষ হয়ে যাবে।

কোয়েল এর সামনে গিয়ে দেবাশীষ কোয়েল এর হাত টা ধরে , কোয়েল কে একটি আংটি পরিয়ে বলে,

_আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি কোয়েল,আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই,তুমি কি আমাকে বিয়ে করতে রাজি?

_কোয়েলের গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।সে একপলক তার বাবার দিকে তাকিয়ে আছে।দেখছে তার বাবা চুপ চাপ,পাশে দাদাও দাড়িয়ে আছে, কারোর চোখে মুখে কোনো রাগের ছাপ নেই।

কোয়েল দৌড়ে গিয়ে তার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করছে।

কোয়েলের বাবা বললো_ মা আজকের দিনে কেউ কান্না করে না।আজ তো তোর জীবনের খুব খুশির দিন।

কোয়েল তার বাবা কথা,দেবাশীষ এর উপহার দেওয়া এইসবের মানে কিছুই বুঝতে পারেনা।

_এই বার তো আমার তোকে উপহার দিতে হবে।তুই কি চাইস বল আমায়।আজ আমি কথা দিলাম তুই যা চাইবি আমি তোকে তাই দিবো।

কোয়েল দেবাশীষের দিকে একবার তাকিয়ে দেখলো সে হাসছে।

_বাবা ,আমার কিচ্ছু চাই না।

_কিন্তু মা , আজ তো সবাই তোকে উপহার দিলো আমি যদি না দেই তবে সেটা ভালো দেখায় না।

_তুই চোখ বন্ধ কর।

কোয়েল চোখ বন্ধ করলো।তার বাবা দেবাশীষের হাত ধরে তাকে কোয়েলের সামনে এনে কোয়েল আর দেবাশীষের হাত এক করে দিয়ে বললো,

_আমি আজ তোদের চার হাত এক করলাম।

কোয়েলের চোখ বন্ধ ছিলো ,সে বুঝতে পারে না এটা কার হাত। সে ভাবলো সব শেষ ,কোয়েলের চোখে জল চলে এলো।

_কি রে মা, চোখের খুলে দেখ ,আমি কাকে তোর জীবনের হাসি কান্নার দায়িত্ত্ব দিলাম।

কোয়েল চোখ খোলার সাহস পাচ্ছে না।

প্রিয়ঙ্কা ,অবাক হয়ে এগিয়ে এসে বলে,

_চোখ খোল কোয়েল , আজ তোর জীবনের খুবই আনন্দের দিন।

কোয়েল চোখ খুলে দেখলো দেবাশীষের হাত তার হাতের উপর।

কোয়েল কিছু বলতে গেলে,তার বাবা তাকে কিছু বলতে দিলো না।

প্রিয়ঙ্কা আর কৌতূহল চেপে রাখতে না পেরে দেবাশীষ কে জিজ্ঞাসা করলো_তোমাকে আজ এই উৎসবে আসতে কে বলেছে?

_কাকু, মানে কোয়েল এর বাবা,আজ আমার বাড়ি গিয়ে ,আমাকে বললো, কোয়েলের সঙ্গে আমার বিয়ে দিতে চান।আমি সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম, আমার মা আছে বাবা নেই,আজ বাবার ভালোবাসা পেলাম।

প্রিয়ঙ্কা কে চোখ মেরে কোয়েল এর বাবা বললো

_ কি রে কেমন জব্দ করলাম বল?তুই কি ভেবেছিলি তুই শুধু একাই ওর কষ্ট বুঝিস ? না রে না, আমি ওর বাবা আমি বুঝি যে আমার কোয়েলের সপ্ন পূরণ করেছে তাকে আমি কি করে ফিরিয়ে দেই বল।

সকলে আজ আনন্দে বিভোর।

আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে কোয়েল স্কুল, কলেজ এর আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করতো। কোয়েলের কন্ঠে এক অপূর্ব জাদু ছিলো। আবৃত্তির সূত্রেই কোয়েল ও দেবাশীষের পরিচয়। দেবাশীষ কোয়েলের কলেজের দুই বছরের সিনিয়র।

কোয়েল ছোটো বেলা থেকেই গান,আবৃত্তি করতে ভালো বাসে। তবে তার বাবার ইচ্ছে ছিলো কোয়েল বড়ো হয়ে ডক্টর হবে। কিন্তু কোয়েলের একদম ভালো লাগতো না ,কোয়েল শুধু চায় মন প্রাণ দিয়ে গান ও আবৃত্তি করতে।

আগামী পরশু বিশ্বের সবচেয়ে সব থেকে সুন্দর কণ্ঠের অধিকারী ব্যাক্তি কে পুরস্কৃত করা হবে। সেই উপলক্ষে দেশ বিদেশ থেকে মানুষ আসছে তাদের গ্রামে। এই বছর প্রতিযোগিতা টি তাদের গ্রামেই হবে।

দেবাশীষের বাড়ি পাশের গ্রামে। দেবাশীষ পড়াশুনার পাশাপাশি একটি ছোটো কম্পিউটার দোকান চালায়।

 

কোয়েল দেবাশীষ কে জানায়, তার এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করতে খুব ইচ্ছে করছে।কিন্তু তার বাবা মনে হয় রাজি হবে না।তাই তার ভালো লাগছে না। বাবার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রয়িগোগিতায় অংশ করে বাবাকে সে কষ্ট দিতে চায় না।কিন্তু এইভাবে নিজের সপ্ন গুলো বিসর্জন দিয়ে কোয়েল একটুও ভালো নেই।

দেবাশীষ সবটা বুঝতে পেরে কোয়েল কে এই প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করার জন্য রাজি করায় এবং তার নাম দিয়ে দিলো ।

আজ অনুষ্ঠানে প্রায় একশো জন প্রতিযোগী আবৃত্তি ও আশি জন প্রতিযোগী গান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে ।

কোয়েল এর নাম ঘোষণা হলো।কোয়েল আবৃত্তি ও গান করলো।

দর্শক আসনে বসে কোয়েল এর বাবা কোয়েল এর গান ও আবৃত্তি শুনে মুগ্ধ হয়ে ভাবছে_আজ আমার জন্য এত দিন কোয়েলের কোকিল কণ্ঠ প্রতিভা লুকিয়ে ছিলো ,আজ টা প্রকাশ হলো, কিন্তু কে কোয়েল কে তার সপ্ন পূরণে সাহায্য করলো। যে দায়িত্ব আমার ছিলো কে সেই দায়িত্ব পালন করলো? কাল থেকে কোয়েল বাড়ির বাইরে বের হয় নি তবে কেউ তাকে সাহার্য্য করেছে নিশ্চিত, কে তার নাম দিলো এই প্রতিোগিতায়.?

অনুষ্ঠান শেষ প্রতিযোগিতার ফলা ফল প্রকাশ হলো,

এইবছর কোকিল কণ্ঠ উপাধি পাচ্ছে কোয়েল সরকার।

কোয়েলের আনন্দের সীমা নেই, আজ দেবাশীষ তাকে সাহস না দিলে এই দিন সে দেখতেই পেতো না।

টেলিভিশন থেকে শুরু করে নিউজ পেপার কোয়েল এর ছবি ও শিরোনাম এ লেখা কোকিল কণ্ঠ উপাধি প্রাপক।

কোয়েল তার বাবাকে বললো_বাবা আমি জানি তুমি রাগ করেছো। তোমার ইচ্ছে ছিলো আমি ডক্টর হই কিন্তু বাবা আমার যে ডক্টরী পড়তে একদম ইচ্ছে করে না। আমি জানি তুমি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে না,আমি দুঃখিত বাবা আমি তোমার অনুমতি নিতে পারিনি। 

_ না রে মা, আজ আমি খুব খুশি, আজ আমার কোয়েল কত বড় হয়ে গেছে।

তারপর কোয়েল এর বাবা প্রিয়ঙ্কার কাছ থেকে সব টা জেনে আজ তার জন্ম দিনের উপহার হিসেবে দেবাশীষ কে তার হাতে তুলে দিলো।

কোয়েলের কোকিল কণ্ঠ সকল কে মুগ্ধ করলো।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Drama