পূজা চক্রবর্তী

Classics

4  

পূজা চক্রবর্তী

Classics

জীবন যুদ্ধ

জীবন যুদ্ধ

44 mins
661


জীবন যুদ্ধ 


পর্ব - ১


রুপম - বাবা আমি তোমার কাছে অনুরোধ করছি দয়া করে আমার বই খাতা এইভাবে আগুনে পুড়িয়ে দিও না।( কান্না করতে করতে হাত জোড় করে বললো)


গোপালবাবু ( রুপমের বাবা) - চুপ কর তুই, সারাদিন বই এর মধ্যে মুখ বুঝে বসে থাকলে চলবে? নিজের তো এক টাকা উপার্জন করার ক্ষমতা নেই। আগামী সাত দিনের মধ্যে উপার্জন করতে শিখবি না হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি।

 ( রাগে গর্জন করে কথা গুলো বলে বেরিয়ে গেলেন।)


রূপালী দেবী (রুপমের মা) - চোখের জল ফেলিস না বাবা, ওঠ,আমার কাছে এসে বোস।


রুপম_মা,তুমি তো জানো আমি পড়াশুনা করে একজন বড়ো ডাক্তার হতে চাই।( মায়ের কাছে এসে মায়ের হাত ধরে বললো)।


রুপমের মা - জানি বাবা, আমি সব জানি,টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে না পেরে যেদিন তোর ছোটো বোনটা আমাদের ছেড়ে চলে গেলো সেদিন তো তুই তোর বোনের চিতায় আগুন দিয়ে বলেছিলি "আমি একদিন বড় ডাক্তার হবো। আর কারোর বোনকে এইভাবে টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় চলে যেতে দিবো না"।(কান্না করতে করতে বললেন)।


রুপম - তাহলে মা, বাবা কেনো বুঝে না? কেনো আমায় বকাবকি করে?( প্রশ্ন করলো তার মাকে)।


রুপমের মা - বাবা রে, আমাদের বয়স হয়েছে, তোর বাবা সারাদিন মানুষের জমিতে কাজ করে দিন শেষে যা টাকা নিয়ে আসে তাতে আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। তাই আর কি তোর বাবার মাথাটা ঠিক নেই।( সান্তনা দিয়ে বললো)


রুপম_ আচ্ছা মা, আমি যদি টাকা রোজগার করি?তাহলে তো তোমাদের আর চোখের জল ফেলতে হবে না।


রুপমের মা_ বোকা ছেলে আমার, তুই সবে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিবি। তোর বয়স সবে ষোলো। আর তাছাড়া তোকে কে কাজ দিবে বল?


রুপম_ সে সব আমি কিছু জানি না। কিন্তু আজ আমি প্রতিজ্ঞা করলাম যদি আমি টাকা উপার্জন করতে না পারি তবে আমি আর বাড়ি ফিরে আসবো না।( মায়ের পা ছুয়ে প্রতিজ্ঞা করে,কান্না করতে করতে বেরিয়ে গেলো)।


রুপমের মা_ এই ধরনের কথা বলে না বাবা। কোথায় যাইস খেয়ে যা বাবা।( কান্না করতে করতে পিছন ডাকলো তার মা)।


একঘন্টা পর


রুপম -। অনেকটা পথ তো চলে এলাম। বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম কিন্তু আমি কি করবো এখন?(গাছের নিচে বসে মনে মনে ভাবছে)


পাঁচ মিনিট পর


রুপম - ওই যে দূরে কে একজন আসছে ,উনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে।( দূরের রাস্তার দিকে তাকিয়ে ভাবছে)


প্রিয়া দেবী( রুপমের স্কুলের শিক্ষিকা) - তুমি আজ স্কুলে যাবে না? 


রুপম - ম্যাডাম আমাকে একটা কাজ খুঁজে দিবেন প্লিজ?( হাত জোড় করে বললো)।


প্রিয়া দেবী - মানে কি হয়েছে তোমার? তুমি কান্না করছো কেনো?( অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন)।


রুপম - ম্যাডাম আমার বাবা আমাকে বলেছে টাকা উপার্জন করতে, আর যদি আমি আমি টাকা উপার্জন করতে না পারি তবে আমার পড়াশুনাটা আর হবে না । প্লিজ ম্যাডাম একটা কাজ দিন না আমায়। আপনি তো এত বড়ো লোক,একটা কাজ দিতে পারবেন না আমায়?(হাত জোড় করে বললো)।


প্রিয়া দেবী - রুপম খুব ভালো ছাত্র এবার ওর মাধ্যমিক পরীক্ষা ।আমি বরং ওকে একটি কাজ দিতেই পারি(মনে মনে ভাবলেন)।


রুপম - কি হলো ম্যাডাম ? কি ভাবছেন?


প্রিয়া দেবী - না রুপম আমি ভাবছি তুমি কি ঘর পরিষ্কার , বাসন মাজা, আর বাজার করার কাজ করতে পারবে?


রুপম - খুব পারবো ম্যাডাম।( আনন্দের সঙ্গে বললো)।


প্রিয়া দেবী - আচ্ছা রুপম আজ তাহলে আসি,আগামী কাল থেকে তুমি আমার বাড়িতেই কাজ করবে। মাস শেষে আমি তোমাকে তিন শত টাকা দেবো, আর হে, যত দিন কাজ করবে তত দিন কিন্তু তোমাকে আমার বাড়িতে থেকেই কাজ করতে হবে। কি তুমি রাজি তো?


রুপম - আচ্ছা ম্যাডাম আমি রাজি ,আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।(এই বলে প্রণাম করলো)।


 চলে গেলেন প্রিয়া দেবী।রুপম আজ আর স্কুলে যেতে পারলো না।সেই গাছের নিচে বসেই আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলো।



রুপমের মা - কত করে বলেছি তোমাকে , ছেলেটাকে এইভাবে বলো না। মেয়েটাকে তো হারিয়েছি। এই একমাত্র ছেলেই তো আমাদের সব।


রুপমের বাবা - তুমি কি ভাবো ? আমি সাধে বকাবকি করি ? আরে আমারও কান্না পায়,আমি তো আর তোমার মতো কান্না করতে পারি না।আমরা পুরুষ মানুষ আমাদের কান্না পেলেও কান্না করতে নেই। রুপমকে তো শিখতে হবে এইসব। সারাদিন মায়ের আঁচলে মুখ লুকিয়ে বসে থাকলে চলবে না। বুঝলে?(ধমক দিয়ে বললেন)।


রুপমের মা - কোথায় গেলি বাবা,ফিরে আয়।

(এইদিকে সন্ধ্যা নেমে এলো রুপম বাড়ি ফিরেনি তাই তার মা চিন্তায় মেঝেতে বসে বিলাপ করতে থাকে)।


একটু পড়ে


রুপম – মা,


রুপমের মা - কোথায় চলে গেছিলি বাবা? আমার বুঝি চিন্তা হয় না।


রুপমের বাবা - কই তুমি তো বলেছিলে ছেলে নাকি বলে গেছে টাকা উপার্জন করতে না পারলে বাড়ি আসবে না।সেই তো খালি হাতে বাড়ি এলো।( রাগে বললেন)।


রুপমের মা - আ,তুমি থামবে,ছেলের মুখটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে, সারাদিন কিছু খায়নি রুপম।


রুপম - মা,থামো না,আজ বাবাকেই বলতে দাও।( মাকে থামিয়ে দিলো)।


রুপমের বাবা - তোমার ছেলে কে জিজ্ঞাসা করো কি সিদ্ধান্ত নিলো সে?( রুপমের মায়ের দিকে তাকিয়ে ইশারা করলো)।


রুপম - বাবা, আমি আমদের স্কুলের ম্যাডাম, প্রিয়া ম্যাডাম এর বাড়িতে কাজের লোকের কাজ করবো। আর যত দিন কাজ করবো তত দিন আমাকে উনাদের বাড়িতেই থাকতে হবে।তাই তোমাদের থেকে বিদায় নিতে এলাম।( মাথা নিচু করে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে।)


রুপমের মা - খোকা তোকে না দেখে আমি কিভাবে থাকবো বাবা,(রুপম কে বুকে জড়িয়ে আদর করতে করতে বললেন।)


রুপম - আমি আসবো মা, মাঝে মাঝে আসবো আমি।(এই বলে মা,বাবাকে প্রণাম করে )।



রুপমের বাবা - রুপম ,আমাকে ভুল বুঝিস না বাবা,আমি এতটা পাষাণ না বাবা,আমি আর তোর মা,প্রতিদিন বিকেল বেলা তোকে দেখতে যাবো। নিজের যত্ন করিস বাবা, খাওয়া দাওয়া করিস সঠিক সময়ে, আর হে, ভালো করে পড়াশুনা করিস।(রুপমের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন)।



পরের দিন সকালে রুপম তার কিছু দরকারি বই পত্র আর জমা কাপড় একটা পোটলা বেঁধে বাবা মাকে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়লো।


রুপম- ম্যাডাম আসবো?


প্রিয়া দেবী - রুপম এসো, এসো।


অরুণ বাবু ( প্রিয়া দেবীর স্বামী) - প্রিয়া, কে এই ছেলেটি? নোংরা জমা কাপড়


প্রিয়া দেবী - আ,অরুণ থামোনা তুমি তোমাকে সব পরে বলবো।(অরুণ বাবু কে থামিয়ে দিলো)।


দিশা দাস ( ম্যাডাম এর বাড়ির কাজের লোক) - ম্যাডাম তাহলে এই ছেলেটিকে ওর ঘর দেখিয়ে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়ে আসি?


প্রিয়া দেবী - হ্যাঁ,যা।


রুপমকে তার ঘর ও কাজ বুঝিয়ে দেওয়া হলো।


অরুণ বাবু - রুপম ,এই রুপম কোথায় গেলি,এক কাপ কফি নিয়ে আয় তাড়াতাড়ি।

( রুপমকে আদেশ করলো)।


রুপম - হ্যা,স্যার, এক্ষুনি আসছি।

 

( রুপম স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলো,দৌড়ে গিয়ে স্যার এর জন্য কফি নিয়ে এলো)


অরুণ বাবু - দে( অরুণ বাবু খবরের কাগজ পড়তে পড়তে বললেন)।


রুপম - এই নিন স্যার।( অরুণ বাবুর অমনোযোগী থাকায় কফিটা অরুণ বাবুর হাত ফসকে মাটিতে পরে কাপটা ভেঙে যায়)।


অরুণ বাবু - বদমাস ছেলে, প্রথম দিন কাজে এসেই সব ধ্বংস করতে শুরু করেছিস?( এই বলে ঠাস ,ঠাস করে চর মারলো রুপম গালে)।


রুপম - স্যার আমি কি করলাম? আপনি তো নিজেই অমনোযোগী হয়ে


অরুণ বাবু - কি এত বড়ো সাহস তোর?তুই আমার দোষ খুঁজছিস?( এই বলে আবার রুপমের পিঠে ঠাস ঠাস মারলো)।


প্রিয়া দেবী - কি হলো কি? এত চেঁচামেচি কিসের?(স্কুলের যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলেন তাই আসতে দেরি হলো)।


অরুণ বাবু - প্রিয়া, তুমি আজই ওকে কাজ থেকে তাড়িয়ে দাও,।


রুপম - আমি কিছু করিনি ম্যাডাম,( হাত জোড় করে বললো)।




পর্ব- ২



প্রিয়া দেবী -তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? এইভাবে ঝামেলা করছো কেনো? এত কম টাকায় কাজের লোক কোথায় পাবে বলো তো? (ম্যাডাম তার স্বামীকে ডেকে কানে কানে বললেন)।



প্রিয়া দেবী_ রুপম, এরপর থেকে তুই একটু সাবধানে কাজ করিস ( রুপমের দিকে তাকিয়ে বললেন)।


রুপম - ম্যাডাম,আমি স্কুলে যাবো আপনার সাথে,আমি তৈরি হয়ে এসেছি।


প্রিয়া দেবী - রুপম ,তোর পরীক্ষার আর মাত্র তিন মাস বাকি আছে।এই সময় তোকে আর স্কুলে যেতে হবে না, আমি হেড মাস্টার এর সঙ্গে কথা বলেছি।তুই বাড়িতেই থাকবি কাজ করবি আর কাজের অবসর সময়ে পড়াশুনা করবি,ঠিক আছে?


রুপম - আচ্ছা ( মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলো)।




সন্ধ্যে বেলা



দরজায় কলিং বেল বাজলো।


অরুণ বাবু - রুপম দেখ তো কে এসেছে?( রুপম কে ডেকে আদেশ করলো)।


রুপম তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুললো।


 রুপম এর মা - বাবা আমার কেমন আছিস?(রুপম কে জড়িয়ে ধরে বললো)।


অরুণ বাবু - প্রিয়া, তাড়াতাড়ি নিচে এসো।( ম্যাডাম কে ডাকলেন)।


প্রিয়া দেবী - আসছি আসছি( বলতে বলতে সিড়ি দিয়ে নিচে এলেন)।

 

অরুণ বাবু - এরা কারা ? বাড়িটা কি মাছের বাজার ? যখন খুশি যে চলে আসছে।বাড়িতে কত দামী দামী জিনিসপত্র আছে কখন কে চুরি করে চলে যাবে।বুঝতে পারবে না।( রুপমের মা,বাবার প্রতি ইশারা করলেন)।


প্রিয়া দেবী - আপনারা আর কখনো এই বাড়িতে আসবেন না,আপনাদের ছেলে মাসে একদিন আপনাদের কাছে যাবে। বেরিয়ে যান ( রুপমের মা বাবার দিকে তাকিয়ে বললেন)।


রুপম - ম্যাডাম.......


অরুনবাবু - রুপম, তুই থামতো,কি ম্যাডাম ম্যাডাম করছিস? যদি টাকা রোজগারের ইচ্ছে থাকে তবে কাজ কর। না হলে মা,বাবার সাথে বেরিয়ে যা।(রুপম কে ধমক দিয়ে বললেন)।


রুপমের বাবা - ক্ষমা করবেন,আমরা বুঝতে পারিনি যে আমরা আসলে আপনাদের অসুবিধে হবে। আমরা এক্ষুনি চলে যাচ্ছি।( হাত জোড় করে বললেন)।


রুপমের মা _আসছি বাবা,ভালো থাকিস।     ( চোখের জল মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেলেন)।


রুপম তার মা বাবার দিকে তাকিয়ে আছে,তার দু চোখে জল ছল ছল করছে।


অরুণ বাবু - কি রে দাড়িয়ে থাকবি নাকি কাজে যাবি? ( রুপমের দিকে তাকিয়ে বড়ো বড়ো চোখ করে বললেন)।


এই ভাবেই অপমান আর অবহেলায় কেটে গেলো তিন মাস।আজ রুপমের মাধ্যমিক পরীক্ষা।


অরুনবাবু - এই নে তোর অ্যাডমিট ক্যার্ড, আর শোন রুপম, তোর ম্যাডাম তো বাড়িতে নেই । আজ তো তোর পরীক্ষা ,এই তিন মাসের বেতন তো তোর কাছে নয় শত টাকা আছে। ঐ টাকা দিয়ে গাড়িতে যাইস।( রুপমকে বললেন)।


রুপম - আচ্ছা( অ্যাডমিট কার্ডটা নিয়ে ,অরুণ বাবুকে প্রণাম করে বললেন)।


অরুণ বাবু -থাক থাক আর প্রণাম করতে হবে না।


রুপম - আজ মা,বাবা কে একটি বার প্রণাম করে তার পর পরীক্ষা দিতে যাবো। আমি একটু আগে বের হতে পারি?( অরুণবাবুকে অনুরোধ করলো)।


অরুণ বাবু - আচ্ছা বেশ, যা।



রুপম বেরিয়ে গেলো।


রুপমের বাবা _ আজ তো রুপমের পরীক্ষা। শুনেছি পরীক্ষা নাকি হবে সেই শহরের স্কুলে। আমাদের গ্রামের স্কুলে হলে ,আমি স্কুলের সামনে দাড়িয়ে থাকলে ছেলেটা কে একবার চোখের দেখা দেখতে পেতাম।( রুপমের মাকে বললেন)।


রুপম - তার আর প্রয়োজন নেই বাবা,আমি নিজেই এসে গেছি।


রুপমের মা - বাছা আমার এসেছিস? কিন্তু তোর পরীক্ষা দিতে যেতে দেরি হয়ে যাবে তো?

 ( রুপমকে জড়িয়ে ধরে বললো)।


রুপম - না মা, দেরি হবে না,আজ আমার পরীক্ষা আর তোমাদের প্রণাম না করে তোমাদের আশির্বাদ না নিয়ে আমি কি করে পরীক্ষা দিতে যাই বলো?( মা ,বাবা , কে প্রণাম করতে করতে বলে)।


রুপমের বাবা - তোকে আশির্বাদ তো আমরা সব সময় করি রে, তার জন্য প্রণাম করার দরকার নেই রে।( রুপমের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন)।


রুপম - বাবা এই নাও এটা রাখো।( বাবার দিকে পাঁচশত টাকা দিয়ে বললো)।


রুপমের বাবা - একি রে টাকা দিচ্ছিস কেনো? আমার উপর রাগ করে আছিস বুঝি? আমি আমার জন্য উপার্জন করতে বলিনি রে।আমি তো তোর স্বপ্ন পূরণ করার জন্যই তোকে উপার্জন করতে বলেছি।এই টাকাটা তোর কাছেই থাক।


রুপম - আমি জানি বাবা, কিন্তু আমি চাই আমার প্রথম রোজগারের টাকা তোমাকে দিতে। এই তিন মাসের বেতন নয়শত টাকা।এই পাঁচ শত তুমি রাখো ,বাকি তিন শত তো আছেই আমার কাছে।


রুপমের বাবা - আচ্ছা বেশ ( টাকাটা নিয়ে বললেন)।


রুপম - আচ্ছা, মা আমি তাহলে আসি?( মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো)।


রুপমের মা - সে কি রে চলে যাবি? একটু জল বাতাসা মুখে দিয়ে যা।( রুপমের দিকে তাকিয়ে)।


রুপম- না, গো, আজ হবে না। পরীক্ষায় যেতে দেরি হয়ে যাবে।


রুপম বেরিয়ে গেলো। পরীক্ষার হলে পৌঁছলো সে।


প্রীতম( রুপমের প্রিয় বন্ধু)- ঐ রুপম,বন্ধু আমার কেমন আছিস? কত দিন পর দেখা হলো তোর সাথে।( রুপম কে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করে বললো)।


রুপম -ভালো আছি বন্ধু তুমি কেমন আছো?

প্রীতম -ভালো আছি।


উচ্চ স্বরে হাসির শব্দ ভেসে এলো।


প্রীতম - কি রে তোরা হাসছিস কেনো?( পাশে দাড়িয়ে থাকা তাদের ক্লাসের বন্ধু দিকে তাকিয়ে বললো)।


দেবাশীষ ( পাশে দাড়িয়ে থাকা একজন বন্ধু)- সত্যি প্রীতম তুই হাসতেও পারিস বটে। তুই আমাদের স্কুলের হেড মাষ্টারের ছেলে। আর তুই যাকে বন্ধু বলে জড়িয়ে ধরলি,সে হলো আমাদের স্কুলের ম্যাডামের বাড়ির কাজের লোক।( বলতে বলতে আবার সবাই রুপমের প্রতি অট্টহাসিতে মেতে উঠেছে।)


প্রীতম - থামতো তোরা। বন্ধুত্ব ধনী গরীব দেখে হয় না,বন্ধুত্ব হয় মনের টানে। ( পাশে দাড়িয়ে অট্টহাসিতে মেতে উঠা বন্ধুত্বের ধমক দিয়ে বললো।)


রুপম - প্রীতম,( চল পরীক্ষার বেল বেজে গেলো)।

পরীক্ষা শুরু হলো।

এক সপ্তাহ পর পরীক্ষা শেষ হলো।



তিন মাস পর


আজ রুপমের রেজাল্ট প্রকাশ হবে।


প্রিয়া দেবী - রুপম,আজ তোর রেজাল্ট,আমার বিশ্বাস তোর রেজাল্ট খুব ভালো হবে। কিন্তু আমাদের এই বাড়ি ছেড়ে লন্ডনে চলে যেতে হবে,তাই আগামীকাল থেকে তোকে নিজের ব্যাবস্থা খুঁজে নিতে হবে।( রুপম এর দিকে তাকিয়ে বললো)।


রূপম - ম্যাডাম ,আপনার কাছে আমার ঋণের শেষ নেই,আপনি না থাকলে আজ আমার অস্তিত্ব হয়ত থাকতো না। ধন্যবাদ ম্যাডাম,,আমি আগামীকাল সকালে চলে যাবো।(এই বলে ম্যাডাম ও ম্যাডামের স্বামীকে প্রণাম করলো রুপম)।



স্কুলের রেজাল্ট জানার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে ক্লাস রুমে বসে।


প্রীতম - রুপম,আমার বিশ্বাস তুই প্রথম হবি।


রূপম - না বন্ধু,তুই প্রথম হবি।


স্কুলের হেড মাস্টার রেজাল্ট নিয়ে ক্লাসে এলেন।


হেড মাস্টার - তোমাদের মধ্যে একজনের রেজাল্ট এত খারাপ হবে, এটা আমি আশা করিনি।( ছাত্র ছাত্রী দের দিকে তাকিয়ে বললেন)।


দেবাশীষ - আমি নিশ্চিত স্যার তোর কথাই বলছে।( রুপম এর কানের কাছে গিয়ে হাসতে হাসতে ফিস ফিস করে বললো)।


হেড মাস্টার - দেবাশীষ এত খুশি কেনো আজ?কি মনে হচ্ছে তোর রেজাল্ট কেমন হবে?      ( দেবাশীষ এর দিকে তাকিয়ে)।


দেবাশীষ - আমি তো জানি স্যার,আপনার ছেলে প্রীতম প্রথম হবে আর আমি দ্বিতীয় হবো,তাই এত খুশি স্যার।( মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে বললো)।


হেড মাস্টার - আচ্ছা,আর রুপমের রেজাল্ট কেমন হয়েছে বলে মনে হয় তোদের?


দেবাশীষ - স্যার, একটু আগে আপনি যার কথা বললেন,আমার মনে হয় সে রুপম।( রুপমের দিকে তাকিয়ে বললো)।




হেড মাস্টার - চুপ ( ধমক দিয়ে)।


তোমরা কি জানো ,তোমরা যে ছেলেটাকে ম্যাডামের বাড়ির কাজের লোক বলে অপমান করো সেই ছেলেটাই আজ প্রথম স্থানে আছে।


প্রীতম - আমি কি বলেছিলাম বন্ধু,আমার কথা সত্যি হলো তো?(রুপমের কানে কানে বললো)।


হেড মাস্টার_ প্রথম স্থানে আছে রুপম বিশ্বাস। ২য় স্থানে আছে, প্রীতম সরকার। তৃতীয় স্থানে আছে কোয়েল বিশ্বাস।


দেবাশীষ - স্যার আর আমি( মাথা নিচু করে বললো)।


হেড মাস্টার - এই নে তোর রেজাল্ট দেখ।



দেবাশীষ রেজাল্টটা স্যার এর হাত থেকে নিয়ে, রেজাল্টটা দেখে বুঝতে পারে,স্যার একটু আগে যার কথা বলেছে সেটা সে নিজেই,তাই লজ্জায় মাথা নিচু করে বেরিয়ে যায়।


হেড মাস্টার - রুপম এইদিকে আসো।(রুপমের দিকে তাকিয়ে হাতে ইশারা করে বললো)।


রুপম এগিয়ে গিয়ে স্যার কে প্রণাম করলো।



হেড মাস্টার - ভালো থেকো,ভালো করে পড়াশুনা করো।(রুপমের এর হাত রেজাল্ট দিয়ে স্যার রুপম কে বললেন)।


রুপম রেজাল্ট নিয়ে ম্যাডাম এর বাড়ি গিয়ে দেখতে পেলো,তার জমা কাপড়ের পুঁটলিটা গেটের বাইরে ফেলে রাখা, বাড়ির গেটে তালা দিয়ে ম্যাডাম,এবং উনার স্বামী লন্ডন চলে গেছেন।জামাকাপড়ের ভাজে সে দেখতে পেলো,কিছু টাকা,গুনে দেখলো এটা তার তিন মাসের বেতন।


রূপম ছুটতে ছুটতে তার নিজের বাড়ির কাছে এলো।



রুপম - কাকু কি ব্যাপার আমার বাড়ির চার পাশে তোমরা সবাই দাড়িয়ে ভিড় করে আছো কেনো?


বীরেন কাকু(রুপমের প্রতিবেশী) - যা,বাবা, সামনে যা, আসলি যখন তখন এত দেরি করে আসলি কেনো?(চোখের জল মুছতে মুছতে বললেন)।


রুপম কিছু বুঝতে পারে না।সামনের দিকে এগিয়ে যায়,গিয়ে সে দেখতে পেলো_ তার বাবা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। আর তার মা পাশে বসে বিলাপ করছে।


রুপম - কি হলো মা,বাবার কি হয়েছে?( তার চোখে জল ছল ছল করছে।)




পর্ব - ৩

________


রুপমের মা - তোর বাবা তোর রেজাল্ট এর খবর শুনে তোর কাছে যাওয়ার জন্য ছুটে বেরিয়ে যায়,ঠিক তখন একটি গাড়ি এসে তোর বাবা কে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়।( কান্না করতে করতে এই বলে জ্ঞান হারালো।)


রুপম - বাবা,মাকে ডক্টরের কাছে নিয়ে যেতে হবে,তোমরা কেউ সাহার্য্য করো।( প্রতিবেশী দের দিকে তাকিয়ে হাত জোর করে বললো।)


অনুকূল কাকু (প্রতিবেশী ) - আমাদের কি কাজ নেই নাকি,আমরা কিভাবে ডক্টরের কাছে নিয়ে যাবো? আমাদের শরীরে এত শক্তি নেই যে আমরা তোর বাবা কে কোলে করে নিয়ে যাবো,বুঝলি? টাকা দে টাকা, গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে যাচ্ছি।( রুপম এর দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ করে বললো)।


রুপম - তোমরা কি মানুষ?তোমাদের কি একটু ও দয়া মায়া নেই? 


অনুকূল কাকু - এত বড়ো সাহস তুই আমাকে অপমান করিস?আচ্ছা, দেখাচ্ছি তোর মজা,(রুপমের দিকে তাকিয়ে বললো)।


এই চলো সবাই,দাড়িয়ে দাড়িয়ে সময় নষ্ট না করে কাজে লেগে পরো,একটা কথা মনে রেখো,যদি কেউ এই ছেলেকে সাহায্য করো তবে তবে তোমাদের কাজ থেকে বের করে দিবো,তোমরা না খেতে পেয়ে মরবে।(প্রতিবেশী দের দিকে তাকিয়ে বলে,চলে গেলো)।


সুভাষ কাকু( রুপমের প্রতিবেশী) - তুই আমাদের ক্ষমা করিস,তুই তো জানিস অনুকূল আমাদের গ্রামের জমিদার, উনি কাজ না দিলে আমরা সত্যি সত্যি না খেতে পেয়ে মরবো,তাই আমরা তোকে সাহায্য করতে পারবো না রে,তবে আমার বাড়িতে একটা ভাঙ্গা ঠেলা গাড়ি আছে তুই তোর বাবা কে নিয়ে যা,ঠেলা গাড়ি করে ( এই বলে চোখের জল ফেলতে ফেলতে সবাইকে নিয়ে চলে গেলেন)।


রুপম - মা,চোখ মেলে দেখো মা, ও মা,(চোখে জলের ঝাপটা দিয়ে দিতে বললো)।


রুপমের মা - রুপম,তোর বাবাকে বাঁচা রুপম,

( জ্ঞান ফিরে এলে ,রুপম কে জড়িয়ে ধরে বললো)।



রুপম ও তার মা দুজনে মিলে প্রতিবেশী সুভাষ কাকুর ঠেলা গাড়িতে তার বাবাকে তুলে ডক্টরের কাছে নিয়ে গেলো ।


নার্স - এই,থাম থাম,কি করিস কি হাসপাতালে এই ঠেলা গাড়ি নিয়ে কেউ আসে নাকি?


( রুপমের দিকে তাকিয়ে বললো)।


রুপমের মা - নার্স দিদি , দয়া করো আমার স্বামীকে একটা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে গেছে! পা থেকে অঝোরে রক্ত পড়ছে।উনার চিকিৎসা শুরু করার ব্যাবস্থা করো।(নার্স এর দিকে তাকিয়ে বললো)।


নার্স - অ্যাকসিডেন্ট তারমানে পুলিশ কেস?পুলিশ কে খবর দিতে হবে।


রুপম - ম্যাডাম,আমার বাবার চিকিৎসা শুরু করুন,আমি নিজে গিয়ে পুলিশকে খবর দিয়ে আসছি।(নার্স এর দিকে তাকিয়ে বললো।)


নার্স - আচ্ছা ,বেশ আমি ডক্টরকে বলে চিকিৎসা শুরু করছি কিন্তু টাকা ছাড়া কিচ্ছু হবে না ।তোদের দেখে তো ভিক্ষুক মনে হচ্ছে,তো টাকা দিতে পারবি তো?( রুপমের দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ করে বললো।)


রুপম_পারবো ম্যাডাম।


নার্স রুপমের বাবাকে নিয়ে গেলো,রুপমের মা, হাসপাতালে বসে রুপমের বাবার ছবি বুকে জড়িয়ে কান্না করছে।


রুপম পুলিশ স্টেশন যাওয়ার জন্য বেরিয়ে গেলো,রাস্তা দিয়ে দিয়ে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছে সে এমন সময় একটা লোকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে যায়,লোকটির ব্যাগ থেকে কত গুলো সোনার বিস্কুট মাটিতে পড়ে যায়,রুপম বুঝতে পারে এই লোকটি নিশ্চিত কোনো অপরাধী, লোকটি পালিয়ে যেতে চেষ্টা করে,কিন্তু রুপম লোকটি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে,।


অপরাধী লোকটি - এই ছেলে,আমাকে যেতে দে বলছি,তোকে পাঁচটা সোনার বিস্কুট দিবো,তাতে তোর জীবন ভালো ভাবে কেটে যাবে।


রুপম -আমি অন্যায় করি না, আর অন্যায় কে সমর্থনও করি না।( এই বলতে বলতে চোর চোর বলে চিৎকার করে)।

পুলিশ লোকটিকে ধরার জন্য দৌড়ে যাচ্ছিলো,তাই রুপমের চিৎকার শুনে সেখানে যায়। এবং লোকটি কি বন্দী করে।


অপরাধী লোকটি - এই ছেলে,কাজটা কিন্তু ভালো করলি না,একবার শুধু জেল থেকে বের হই,দেখ তোর কি করি।(রুপমের দিকে তাকিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে গেলো।)


 ইন্সপেক্টর সৌরভ - বাহ,তুমি কি সাহসের কাজ করেছো,তোমার নাম কি?


রুপম_রুপম বিশ্বাস।


স্যার আমার আপনার সাহার্য্য দরকার,আমার বাবাকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিয়ে অ্যাকসিডেন্ট করে পালিয়ে যায়।বাবা খুব অসুস্থ, ডক্টরের কাছে নিয়ে গেলাম,কিন্তু নার্স বলছে পুলিশ কেস তাই আপনারা যদি একবার যেতেন আমার সঙ্গে।( ইন্সপেক্টর এর দিকে তাকিয়ে হাত জোর করে বলে)।


রাজকুমার (একজন কর্মরত পুলিশ কর্মী।) - দেখেছেন স্যার,একটা লোককে আমাদের হাতে তুলে দিয়ে নিজেকে ভগবান ভাবছে।(বিদ্রুপ করে বললো) আপনি এর কথায় একদম কান দেবেন না।


ইন্সপেক্টর সৌরভ- থামতো তুই,( রাজকুমার কে বললেন)।


রুপম - স্যার


ইন্সপেক্টর সৌরভ -তোমাকে কিছু বলতে হবে না,তুমি যাও গিয়ে বলো আমি আসছি।(রুপমের দিকে তাকিয়ে বললো)।


রুপম_ধন্যবাদ স্যার,



রুপম হাসপাতালে ফিরে এসে দেখলো তার বাবাকে বাইরে ফেলে রাখা হয়েছে।


রুপম - আমার বাবার চিকিৎসা কেনো শুরু হয়নি?

(নার্সকে জিজ্ঞাসা করলো)।


নার্স - তোমার বাবার পা খুব আঘাত প্রাপ্ত একটা অপারেশন করে পা কেটে নতুন নকল পা লাগিয়ে দিতে হবে,তার জন্য দরকার পাঁচ লক্ষ টাকা। 


রুপম - কি বলছেন আপনি?( বিস্ময়ে হতবাক)

নার্স - তোমাকে যে বলেছিলাম পুলিশকে খবর দিতে।


রুপম - হুম, বলেছি,উনি বললেন আসছেন।



নার্স - মিথ্যে বলার জায়গা পাও না?এত ক্ষণ বাইরে ঘুরে এসে মিথ্যে বলছো?তোমার বাবাকে নিয়ে বেরিয়ে যাও এক্ষুনি।(ধমক দিয়ে বললেন)।


রুপম - আমার বাবার চিকিৎসা শুরু করুন,আমি যে ভাবেই হোক টাকাটা জোগাড় করে এনে দিবো।(হাত জোড় করে কান্না করতে করতে বললো)




পর্ব - ৪

__________


নার্স- কিভাবে টাকা যোগাড় করবি শুনি? চুরি করে নাকি ডাকাতি?(এই বলে হাসতে থাকেন)।


রুপম - আপনি তো নার্স আপনার দায়িত্ব কেবল রোগীর সেবা করা, রোগীর পরিবার কিভাবে টাকা জোগাড় করবে সেটা আপনাকে ভাবতে কে বলেছে?


নার্স - যত বড়ো মুখ না, তত বড়ো কথা, যা বের হয়ে যা এক্ষুনি (এই বলে রুপমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো,এমন সময় এলো ইন্সপেক্টর সৌরভ রুপমকে হাত ধরে টেনে তুললো)।


ইন্সপেক্টর সৌরভ- কি হচ্ছে এইসব?(নার্স এর দিকে তাকিয়ে,)।


নার্স - তেমন কিছু না স্যার, আসলে এই ছেলেটির বাবা অসুস্থ উনার অপারেশন করতে হবে ,অনেক টাকা লাগবে, কিন্তু এরা তো ভিক্ষুক ওদের কাছে কিচ্ছু নেই,শুধু শুধু ঝামেলা করছিল তাই


ইন্সপেক্টর সৌরভ - ওদের পাশে আমি আছি,ওদের টাকা আমি জমা করছি আপনি চিকিৎসা শুরু করার ব্যাবস্থা করুন।


নার্স - আচ্ছা( মাথা নিচু করে বলে চলে গেলো)।


রুপম - স্যার এই মুহূর্তে বাবাকে সুস্থ করার জন্য আপনার টাকাটা দরকার তবে যে দিন আমি বড়ো হবো সেদিন আপনার সব ঋণ আমি শোধ করে দেওয়ার চেষ্টা করবো।


 রুপমের মা - স্যার,আমাদের সব শেষ, আপনি আমাদের আশার আলো দেখলেন। আপনার ঋণ আমরা কিভাবে শোধ করবো?


ইন্সপেক্টর সৌরভ - আপাতত রুপমের বাবা সুস্থ হলে,আপনি রুপম আর ওর বাবা কে নিয়ে আমাদের বাড়ি যাবেন।তাহলেই ঋণ শোধ ।( এই বলে হাসতে শুরু করলো)।


 রুপমের মা - কিন্তু স্যার


ইন্সপেক্টর সৌরভ - স্যার না, শুধু সৌরভ বলে ডাকবেন আমায়, জানেন মাসী মা, আমার একটা মেয়ে আছে, মাকে ছাড়া বড্ড দুঃখী আমার মেয়েটা, আপনি না হয় ওকে একটু মায়ের ভালোবাসা দেবেন। তাহলেই আমার চিন্তা শেষ।


নার্স - অপারেশন ভালো ভাবে হলো, এই মুহূর্তে উনি সুস্থ আছেন। তবে উনার পা কেটে নকল পা লাগানো হলো, তাই উনার একমাস বিশ্রাম দরকার। আর টাকাটা?

(ইন্সপেক্টর সৌরভের দিকে তাকিয়ে বলল)।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - জমা করে দিয়েছি।

উনাকে কবে ছুটি দেওয়া হবে?


নার্স - তিন দিন পরে।




তিন দিন পর


রুপম _বাবা, তুমি কেমন আছো?তোমার পায়ে ব্যাথা করছে না তো?

রুপম এর বাবা - ভালো আছি রে,একদম ব্যাথা নেই।(রুপমের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন)।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - বাহ,শুধু ছেলেকে আদর করলে হবে,আমি কি দোষ করলাম মশাই?

( রুপম এর বাবা কে বললেন)।


রুপমের বাবা - উনি কে ? ( রুপমের মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন)।


রুপমের মা - আজ উনার জন্য তুমি সুস্থ আছো, উনি অপারেশন এর সব টাকা দিয়েছেন।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - অনেক হলো আমার প্রশংসা, এবার চলুন আমাদের বাড়ি।

 ( এই বলে রুপম ও রুপমের বাবা মাকে নিয়ে চললো তাদের বাড়ি)।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - দিয়া, দিয়া মা, দেখ কাদের নিয়ে এসেছি,


দিয়া (ইন্সপেক্টর সৌরভের এক মাত্রই কন্যা)- আসছি (বলতে বলতে সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে এলো)।


ইন্সপেক্টর সৌরভ দিয়ার সঙ্গে রুপম ও তার মা বাবার পরিচয় করিয়ে দিলো।


দিয়া - আচ্ছা,রুপম তুমি কোন ক্লাসে পরো?

রূপম -মাধ্যমিক দিয়েছি।(রুপমের চোখে জল)।

দিয়া - আমি ও তো মাধ্যমিক দিয়েছি।

আগামীকাল বাবার সঙ্গে নতুন স্কুলে যাবো সাইন্স নিয়ে পড়াশুনা করে আমি ডক্টর হবো।


রুপম - আমারও তো একই স্বপ্ন ছিলো দিয়া,

কিন্তু কি করে বলি সে কথা,তোমার বাবা আমার বাবাকে সুস্থ করার জন্য এত টাকা দিলো,আমি কোন মুখে উনাকে বলবো আমি পড়াশুনা করতে চাই,আমার কাছে একটা টাকাও নেই।

( মনে মনে ভাবছে)।


রূপম কিছু বলছে না,অন্যমনস্ক হয়ে বসে আছে।


দিয়া - কি হলো রুপম? তোমার কি ইচ্ছে বলবে না আমায়?


রুপম - না,বলবো না,কেনো বলবো?তুমি কে আমার?


(এই বলে কান্না করতে করতে চলে গেলো রুপম)।


দিয়া - দাড়াও রুপম(দিয়া পিছু ডাকছে রুপম কে)।



কিছুক্ষণ পর


রুপম তার মায়ের কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে।

রুপম এর মা - কি রে কান্না করছিস কেনো?


রুপম - মা ,বোনকে দেওয়া কথা , মনে হয় রাখতে পারলাম না!


দিয়া - বাহ রুপম তোমার বোন আছে? কই তাকে নিয়ে এলে না কেনো? সে কোথায়? আমাকে নিয়ে যাবে তার কাছে?


(দিয়া বাইরে দিয়ে যাচ্ছিলো রুপমের কথা শুনে ঘরে এসে বললো)।


রুপম কান্না করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।


দিয়া - আচ্ছা কাকিমা আমি কি এমন ভুল করেছি? আমাকে কেউ ভালোবাসে না আমার মাও আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।আমার কোনো ভাই, বা বোন নেই। আপনি রুপমকে কত আদর করেন কিন্তু আমাকে তো আদর করার মত কেউ নেই,বাবা সারাদিন কাজে ব্যাস্ত থাকে বাড়িতে আমি একাই থাকি।(বলতে বলতে দিয়া কান্না করে দিলো)।


রুপমের মা - এ কি মা, তুমি কান্না করছো কেনো? এসো আমার কোলে মাথা রেখে একটু শুয়ে পরো,আমি তোমাকে আদর করছি।


দিয়া - রুপম কেনো আমার সাথে কথা বলে না? কিছু জিজ্ঞাসা করলেই ফেলফেল করে কান্না করে চলে যায় কেনো?(রুপমের মায়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে রুপমের মায়ের আদর খেতে খেতে বললো)।


রুপমের মা - রুপমের একটা বোন ছিল,কিন্তু চিকিৎসার অভাবে ওকে আমরা বাঁচাতে পারিনি, সেদিন রুপম বোনের চিতার সামনে দাড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিল, ও ডক্টর হবে বিনা টাকায় সকলকে চিকিৎসা করবে। কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। কিন্তু আমরা যে গরীব মা, ওর মনে হয় আর পড়াশুনা হবে না ,তাই ওর মন খারাপ।


দিয়া - এই ব্যাপার ,আগে বলবে তো,আচ্ছা আমি আসছি,(এই বলে চলে গেলো)।




ইন্সপেক্টর সৌরভ - কি রে আজ হটাৎ আমার কাছে? কি লাগবে?

দিয়া - যা চাইবো দেবে তো?


ইন্সপেক্টর সৌরভ - বলেই দেখ।


দিয়া - কাল আমার সঙ্গে রুপম কেউ নতুন স্কুলে ভর্তি করে দিবে? তোমার তো অনেক টাকা বাবা, প্লিজ প্লিজ, টাকার অভাবে রুপমের পড়াশুনা বন্ধ হয়ে গেলে কিন্তু আমিও পড়াশুনা বন্ধ করে দিবো।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - আচ্ছা বেশ,তুই আমার কাছে আজ পর্যন্ত যা চেয়েছিস তাই পেয়েছিস আজও তাই পাবি।


দিয়া - থ্যাংক ইউ বাবা।(বাবা কে জড়িয়ে ধরে)।



সকাল হলো



ইন্সপেক্টর সৌরভ - রুপম, রুপম, এই নে এই শার্টটা পরে রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি নিচে আয়।


রুপম - কিন্তু,


ইন্সপেক্টর সৌরভ - কিসের কিন্তু, তাড়াতাড়ি আয়।


একটু পরে ইন্সপেক্টর সৌরভ দিয়া ও রুপমকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন।


রুপম - স্যার,আপনি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন?


ইন্সপেক্টর সৌরভ - অপেক্ষা করো বুঝতে পারবে।


রুপম - এই দিয়া, তুমি তো কিছু বলো (দিয়ার কানে কানে বললো)।


দিয়া - কেনো বলবো? তুমি আমার কে?

কালকে তো তুমিও আমার সাথে কথা বলোনি তাই আজ আমিও বলবো না।


ইন্সপেক্টর সৌরভ দিয়া ও রুপম কে নিয়ে পৌঁছে গেলো একটি স্কুলে সেখানে রুপম ও দিয়াকে ভর্তি করে দিয়ে বাড়ি ফিরে এলো।


রুপম - স্যার একটা অনুরোধ ছিলো?

ইন্সপেক্টর সৌরভ - হ্যাঁ ,বলো রুপম ,কি অনুরোধ?


রুপম - স্যার আমি আপনার দয়ায় আর কত দিন বাঁচবো? আমি কিছু কাজ করতে চাই, আর আমার মা,বাবাই বা কত দিন আপনার দয়ায় থাকবে?



ইন্সপেক্টর সৌরভ- তুমি কি বলতে চাইছো রুপম?


রূপম - আমি বলতে চাইছি আমরা এই ভাবে বসে বসে খেতে পারবো না ।আপনি আমাদের কোনো একটা কাজ দিন, আর তা নাহলে আমরা চলে যাবো!


দিয়া - বাবা,তুমি ওদের একটা কাজ দাও না বাবা,ওরা খুব ভালো,বাবা রুপমের মা আমাকে খুব আদর করে,গান গেয়ে ঘুম পারায়, ওরা চলে গেলে আমিও চলে যাবো ওদের সাথে !( বলতে বলতে কান্না করে দিলো)।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - আচ্ছা ,রুপম,তোমার মা,বাড়ির সমস্ত কাজ ,যেমন রান্না, ঘর পরিষ্কার করা, জামা কাপড় কাঁচা,এই সব করবে। আর তোমার বাবা , এক মাস রেস্ট করবেন। তার পর থেকে বাজার করা থেকে শুরু করে আমার ফুলের বাগান এর দেখাশুনা করবে।


রুপম - স্যার,আমি?


ইন্সপেক্টর সৌরভ - তোমার কাজ অনেক,তোমাকে দুই দিনের মধ্যে গাড়ি চালানো শিখতে হবে,তুমি হবে আমার দিয়ার গাড়ির ড্রাইভার,সব সময় ওকে রক্ষা করবে। আর আমার একটা গ্যারেজ আছে সেখানে কাজ করবে।



রুপম - ধন্যবাদ স্যার,


ইন্সপেক্টর সৌরভ - তোমাদের কত টাকা বেতন লাগবে?


রুপমের বাবা - এইসব কি বলছেন? আপনি আমাদের জন্য এত কিছু করলেন।আমরা না হয় আপনার কাজ করে আপনার ঋণ শোধ করার চেষ্টা করবো।



রুপম দুই দিন এর মধ্যে গাড়ি চালানো শিখে গেলো,সমস্ত কাজ সে নিজে করতে শুরু করলো গ্যারেজ এর কাজ থেকে শুরু করে পড়াশুনা সব কিছুই মন দিয়ে করতে লাগলো।এইভাবেই কেটে গেলো দুই বছর।


পর্ব - ৫

________



দিয়া - এই রুপম, কোথায় তুমি? আজ আমাদের উচ্চমাধ্যমিক রেজাল্ট ,তাড়াতাড়ি এসো স্কুলে যেতে হবে।


রুপম তার মা বাবাকে প্রণাম করে বেরিয়ে এলো।ওরা স্কুলে পৌঁছে গেলো। রেজাল্ট বের হলো।রুপম রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় হলো তবে দিয়া রাজ্যের মধ্যে কোনো স্থান অধিকার করতে পারেনি। তবে স্কুলে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে সে । বাড়ি ফিরে এলো দুজনেই। রেজাল্ট এর খবর পাওয়া সাথে সাথেই টেলিভিশন থেকে সংবাদ মাধ্যম ইন্সপেক্টর সৌরভ এর বাড়ি চলে এসেছে। রুপম এর কাছে ইন্টারভিউ নিচ্ছেন।


রুপম - যদি আজ ,স্যার না থাকতেন তবে আমার এই সাফল্য তো দূরের কথা ,আমার পড়াশুনা করারই হতো না। (সংবাদ মাধ্যমের কাছে বললো)।


কিছুক্ষণ পর



ইন্সপেক্টর সৌরভ - দিয়া তুমি আমার সঙ্গে আমার ঘরে এসো ( দিয়ার দিকে তাকিয়ে বড়ো বড়ো চোখ করে বললো)।


দিয়া তার বাবার ঘরে গেলো।


দিয়া - কি হলো বাবা? আমায় নিয়ে আসলে কেনো? নিচে কত সুন্দর রুপম এর ইন্টারভিউ হচ্ছে,।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - চুপ করো, তোমার লজ্জা করে না?(ধমক দিয়ে বললো)।


দিয়া - বাবা?


ইন্সপেক্টর সৌরভ - স্কুলে কেনক যাও? সাতটা শিক্ষক তোমাকে বাড়িতে এসে পড়িয়েছেন। তবু তুমি এই রেজাল্ট করলে? ছি ছি,লজ্জায় আমার মাথা নিচু হয়ে যাচ্ছে। ( দিয়া কান্না করতে করতে চলে যায় নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়)।


রুপমের মা - রুপম দিয়া কে দেখলাম,কান্না করতে করতে ঘরে দরজা বন্ধ করে দিলো,আমি কত ডাকলাম তবু দরজা খুললো না।


রুপম - কি বলছো কি? তাড়াতাড়ি চলো , আর তুমি স্যারকে খবর দাও।



সবাই দিয়ার ঘরের সামনে এসে ডাকাডাকি করছে,দিয়া কোনো উত্তর দিচ্ছে না।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - দরজা খোলো দিয়া , না হলে আমি দরজা ভেঙে ফেলবো।


দিয়া কোনো উত্তর দিলো না।


দরজা খুলে দেখা গেলো দিয়া সুইসাইড করেছে। হাত কেটে অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে আছে ।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - দিয়া, মা একি করলি মা?(দিয়ার পাশে বসে কপালে হাত দিয়ে বিলাপ করতে থাকে)।


রুপম - স্যার,এটা বিলাপ করার সময় না,দিয়া কে নিয়ে এক্ষুনি ডক্টরের কাছে নিয়ে চলুন।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - ঠিক বলেছো ,এক্ষুনি চলো।(এই বলে দিয়া কে নিয়ে বেরিয়ে গেলো)।



ডক্টর দিয়ার হাতের চিকিৎসা করে । দিয়া সুস্থ হয়ে উঠে তিন ঘণ্টা পর দিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে।


দিয়া- দিয়া আমাকে কেনো সুস্থ করে তুললে?আমি তো মরে যেতেই চেয়েছিলাম।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - চুপ কর মা,এইভাবে বলে না,আনি তোকে কথা দিচ্ছি আর তোকে বকা বকি করবো না।


দিয়া - রুপম কোথায় বাবা?

ইন্সপেক্টর সৌরভ - বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।


দিয়া - ওকে নিয়ে এসো বাবা।


ইন্সপেক্টর সৌরভ - রুপম ,এইদিকে এসো।


রুপম - আমাকে ডাকছেন স্যার?


ইন্সপেক্টর সৌরভ - আমাকে ক্ষমা করো রুপম, আমি আমার মেয়ের ভালো রেজাল্ট আশা করেছিলাম, কিন্তু তুমি ওর থেকে ভালো রেজাল্ট করবে এটা আশা করিনি, তাই আজ আমার দিয়ার এই অবস্থা।( এই বলে চোখের জল মুছতে মুছতে বেরিয়ে যায়।)


রুপম - এটা তুমি কি করলে দিয়া?

দিয়া - sorry রুপম !


রুপম - এই রকম কাজ আর কখনো করবে না।বুঝলে?

দিয়া - হুম


দিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে এসেছে। দিয়া ও রুপম একই মেডিক্যাল কলেজে অ্যাডমিশন হয়েছে। 



কলজের একটি সুন্দরী মেয়ে দিয়ার ছোট বেলার বান্ধবী ,তার নাম অনামিকা।


অনামিকা - দিয়া, কেমন আছিস?

দিয়া - আমি তো ভালোই আছি,তুই কেমন আছিস?


অনামিকা - বিন্দাস আছি।


দিয়া - হুম রে অনেক দিন পর তোর সাথে দেখা হলো।


অনামিকা - তোর পাশের ছেলেটাকে রে তোর বয় ফ্রেন্ড নাকি?


দিয়া - ধুর কি যে বলিস( একটু লজ্জা পেয়ে রুপম মুখের দিকে তাকিয়ে বললো)।


অনুভব ( পাশে দাড়িয়ে থাকা মেডিক্যাল কলেজের একজন ছাত্র) - কি যে বলিস তুই অনামিকা,এই ছেলে হবে কি না আমাদের দিয়ার প্রেমিক? আর এ ও তো দিয়ার গাড়ির ড্রাইভার রে, আর ওদের বাড়ির কাজের লোক। ( এই বলে হাসতে লাগলো)।


রুপম - দিয়া , আমি ক্লাসে যাচ্ছি ( রূপম ক্লাসে চলে গেলো)।


অনামিকা - কি রে অনুভব যা বলছে তা কি সত্যি?শেষে কি না তুই তোর বাড়ির কাজের লোকের সাথে বন্ধুত্ব করছিস।


দিয়া - কাজের লোকের যদি বন্ধু হওয়ার যোগ্যতা থাকে তবে তাকে বন্ধু বলাটা অন্যায় কিসের?


আমি আসছি রে।



দুই দিন পর 


 অনামিকা দিয়া কে ফোন করে বলে -

 অনামিকা - দিয়া , রুপমের ফোন নম্বরটা একটু দিবি?

দিয়া - কেনো রে?


অনামিকা - গরমের ছুটিতে তো কলেজ বন্ধ আর আমি ওর কাছে ক্ষমা চাইতে চাই রে।


দিয়া - আচ্ছা দিচ্ছি। এসএমএস করে।



কিছুক্ষন পরে


 দিয়া - রুপম ,অনামিকা তোমার নম্বর টা চাইলো ,তাই দিলাম। এতে তোমার কোনো সমস্যা নেই তো?

রুপম - না, না আমার কোনো সমস্যা নেই।



মাঝরাতে রুপম যখন বসে বসে পড়াশুনা করছিলো,হটাৎ ফোন বেজে উঠলো।


রুপম - কে বলছেন?

অনামিকা - আমি অনামিকা।

রুপম - ও হ্যাঁ,বলো কি বলবে?

অনামিকা - sorry 

রুপম - কেনো বলতো?


অনামিকা - সেদিন আমি তোমাকে চিনতে পারিনি, আমি ভেবেছিলাম তুমি সত্যি সামান্য একটা কাজের লোক,আমি জানতাম না তোমার এত প্রতিভা আছে।


রুপম - তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার দরকার নেই ।


অনামিকা - তাহলে আজ থেকে আমরা বন্ধু?আজ থেকে আমি রোজ তোমাকে ফোন করবো।তুমি কিন্তু কিছু মনে করতে পারবে না।


রুপম - আচ্ছা,( একটু ইতস্তত হয়েই বললো)।


রোজ রোজ অনামিকা, রুপম কে ফোন করে কথা বলে। অনামিকা কে রুপমের ভালো লাগতে শুরু করে। একমাস পর যখন কলেজ খুললো তখন একদিন ----


রুপম - গোলাপ ফুল দিয়ে অনামিকা কে বললো - I love you,

Will you marry me?


অনামিকা ফুলটা হতে নিয়ে নিজের পায়ের নিচে ফেলে ফুলটা কে দলিয়ে দিয়ে বললো


অনামিকা - বাহ ,বাহ, তোমার শখ কত? আমাকে বিয়ে করবে? ? বলি নিজেই তো দিয়ার বাড়ির কাজের লোক, আমাকে কি ওর বাড়ির কাজের লোক বানাতে চাও নাকি? ( এই বলে রুপমের গালে একটা থাপ্পর মারে)।


পাশে দাড়িয়ে থাকা ছেলে গুলো রুপমকে নিয়ে হাসাহাসি করছে। দিয়া আড়ালে দাড়িয়ে সবটা লক্ষ্য করলো কিন্তু কিছু বললো না।


বাড়ি ফিরে আসার পর


দিয়া - রুপম আগামী মাসে আমাদের ফাইনাল এক্সাম তোমার নোটস গুলো আমাকে একটু দিবে?


রুপম - হুম,( অন্যমনস্ক)।

দিয়া - আচ্ছা দাও তবে।


রুপম - কি দিবো?

দিয়া - রুপম তোমার কি হয়েছে? আমি তোমার কাছে নোট চাইলাম।


রুপম - ও আচ্ছা ,দিচ্ছি।

দিয়া - রুপম ,তোমার কিচ্ছু হয়েছে কি?


রুপম - না তো( রুপম জানতো ,দিয়া এইসব কথা শুনে কষ্ট পাবে। মেনে নিতে পারবে না,তাই আর কিচ্ছু বললো না।)


দিয়া - আমি জানি রূপম, তোমার কষ্ট হচ্ছে , কিন্তু কি করবো বলো? আমার তো কিছু করার নেই, তুমি তো এমন একজনকে ভালোবাসো , সে তোমাকেই সন্মান করতেই জানে না ( মনে মনে ভাবলো)।


অনামিকা দিয়াকে ফোন করে


দিয়া - হুম, বল


অনামিকা - ওই,আমার মা বাবা, সবাই বাইরে ঘুরতে যাচ্ছে ,আমাদের বাড়িটা একদম ফাঁকা, আমি চাইছিলাম তোদের বাড়ি গিয়ে যদি কিছুদিন থাকতাম,আসলে সামনে তো এক্সাম,দুই জন একসঙ্গে থাকলে পড়াশুনাটাও ভালো হতো। আর আমার আবার একা থাকতে ভয় করে। তাই বলছিলাম।


দিয়া - আচ্ছা, চলে আয়।


অনামিকা - আচ্ছা,আমি বিকেলেই আসছি।


দিয়া- হুম।আয়।




   



পর্ব - ৬

____________


বাড়ির কলিং বেল বেজে উঠলো_



রুপম - আসছি আসছি ( বলতে বলতে দরজা খুললো)।


অনামিকা - আমি তোমাকে ভালোবাসি রুপম,আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই।তাই তো চলে এলাম তোমার কাছে।( দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই রুপমকে জড়িয়ে ধরে) ।


রুপম এক ঝটকে অনামিকাকে মেঝেতে ফেলে দিয়ে বললো_


রুপম - আমি দুঃখিত, আমি এই বাড়ির কাজের লোক , আর তোমাকে বিয়ে করে এই বাড়ির কাজের লোকের সংখ্যা বাড়াতে চাই না। যদি তোমার কাজের দরকার থাকে তাহলে দিয়াকে বলতে পারো, ও নিশ্চয়ই একটা কাজ তোমাকে দিবে।( এই বলে চলে যায়।)


অনামিকা - এই অপমানের শোধ আমি,আজ রাত্রেই তুলবো(মনে মনে বললো)।


দিয়া - তুই এসে পরেছিস? আয় আয়( সিড়ি দিয়ে নামতে নামতে বললো)।


অনামিকা - হুম , এসে পড়েছি।

দিয়া - আয় ,আমার রুমেই তুই থাকবি,আমার সাথে।


অনামিকা - আচ্ছা বেশ,



রাত্রি অনেক হলো দিয়া ঘুমিয়ে পড়েছে। অনামিকা দিয়ার জমা ছিড়ে বাথরুমে গিয়ে রুপমকে ফোন করে বললো_


অনামিকা - দিয়ার শরীর খুব অসুস্থ রুপম ,তুমি তাড়াতাড়ি এসো প্লিজ ,দরজাটা খোলা আছে, আর হ্যাঁ দিয়ার বাবাকে এক্ষুনি কিচ্ছু বলোনা,উনি তো চিন্তা করবেন ,উনার শরীরটা তেমন ভালো না, তুমি তাড়াতাড়ি এসো। ( এই বলে ফোন কেটে দিলো)।


রুপম তাড়াতাড়ি দিয়ার রুমে আসলো,রুম অন্ধকার ,রুপম টর্চ লাইট বা ফোন কোনোটাই সঙ্গে নিয়ে আসেনি, রুপম কোনো ভাবে অন্ধকারে হাটতে গিয়ে বিছানায় দিয়ার উপর পরে যায়। আর ঠিক সেই সময় অনামিকা দিয়ার বাবাকে নিয়ে এসে লাইট জ্বালিয়ে বলে _


অনামিকা - দেখুন, কাকু দেখুন ,দূধ কলা দিয়ে কাকে লালন পালন করছেন? দেখুন, ভাগ্যিস আজ আমি সবটা দেখে নিয়েছি, আমার তো মনে হয় ,রুপম রোজ রাতেই দিয়ার সাথে অসভ্যতা করে। ছি ছি!


ইন্সপেক্টর সৌরভ -(দিয়ার বাবা ) রুপমকে টেনে তুলে , চাবুক দিয়ে মেরে যাচ্ছে।


রুপম - স্যার আমার কথাটা শুনুন ।

দিয়ার বাবা - আর কি শুনবো ,যা সর্বনাশ করার তো করেই দিয়েছিস।


চিৎকার চেচামেচিতে দিয়ার ঘুম ভেঙে গেলো


দিয়া - বাবা, কি কি হচ্ছে এইসব? তুমি রুপমকে মারছো কেনো?


দিয়ার বাবা - আজ আমি ওকে মেরেই ফেলবো।


অনামিকা - না না কাকু, আপনি তো পুলিশ ওকে পুলিশে ই দিন।


দিয়া - এই অনামিকা কি হয়েছে কি করেছে রুপম?

অনামিকা - কোন মুখে বলি বল , তুই একবার নিজেকে আয়নায় দেখ সব বুঝবি।


দিয়া আয়নার সামনে গিয়ে নিজেকে দেখে ।দেখে তার জামার প্রতিটা পার্ট ছেড়া। 

এত ক্ষণে রুপমের মা,বাবাও এসে হাজির হলো,সবটা দেখে শুনে রুপমের বাবা বললো -


_ ছি ছি, এই দিন দেখবো বলে তোকে বড় করেছি? যার দয়ায় দু মুঠো ভাত খেতে পারিস তার সাথে এত বড়ো অন্যায়।.?


রুপমের মা - তুই , নিষ্পাপ দিয়ার জীবনটা শেষ করে দিলি?


রুপম - কেউ তো আমার কথাটা শোনো??


রুপমের বাবা - আর কিছু শুনতে চাই না, ইন্সপেক্টর সাহেব আপনি ওকে জেলে দিন।ওকে শাস্তি দিন, আর আমাদেরও শাস্তি দিন।


দিয়া কিচ্ছু বুঝতে পারছে না ,কি হচ্ছে এইসব, রুপম কখনো এমন কাজ করতে পারে না। 


দিয়া বললো - না বাবা, রুপমের মা ,বাবা ,এই বাড়িতেই থাকবে ,উনারা আমাকে যথেষ্ট ভালো বাসে। আর আমি জানি না আমার সাথে কি হয়েছে? কিন্তু তবু যদি তুমি রুপমকে শাস্তি দিতে চাও তবে আমার বদনাম হবে। তুমি ওকে জেলে দিতে পারো না বাবা।


রুপম - দিয়া,আমার কথাটা একবার ( জল ভরা চোখে কিছু বলতে যায় কিন্তু অনামিকা ওকে কিচ্ছু বলতে দিলো না)।


অনামিকা - কোন মুখে কথা বলো তুমি? (রুপমের দিকে তাকিয়ে বলল)।


দিয়ার বাবা - এক্ষুনি বেরিয়ে যাও তুমি,তোমার মুখ আমি আর দেখতে চাই না।


দিয়া - আমি যে রুপমকে ভালোবাসি ,কিন্তু কি করে বলবো ( মনে মনে ভাবছে)।


রুপম - দিয়া , 


দিয়া - একমিনিট দাড়াও রুপম (দিয়া রুপমের ঘরে গিয়ে রুপমের বই পত্র একটি ব্যাগ এ নিয়ে এসে রুপমের সামনে রাখলো)।


অনামিকা - এই সব কি দিয়া?

দিয়া - সামনে , পরীক্ষা , আমি জানি না রুপম কি করেছে? তবে আমার বিশ্বাস রুপম নির্দোষ, তাই আমি ওর খাতা বই, প্যাকেট করে দিয়েছি ও পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করুক এটাই আমি চাই।( দিয়া কান্না করতে করতে রুমে চলে গেলো)।


অন্য দিকে রুপমকে টানতে টানতে বের করে দিলো দিয়ার বাবা।





পর্ব - ৭

__________



রুপম দিশে হারা হয়ে পথে পথে ঘুরছে ,হটাৎ সে দেখতে পেলো একটি নদীর পাশে একটি ফাঁকা বাড়ি,বাড়ির ভিতরে গিয়ে দেখলো একজন ৯০ বছরের বৃদ্ধা বসে বসে কান্না করছে।


রুপম - দিদা, তুমি কান্না করছো কেনো?


বৃদ্ধা- কে তুমি, আমার কাছে কেনো এসেছো? এই ঘন জঙ্গলের নদীর তীরে কেউ তো আসে না।


রুপম - দিদা, আমার কিচ্ছু নেই, কেউ নেই , সবাই আমাকে ভুল বুঝে তাড়িয়ে দিয়েছে। পথে পথে ঘুরছিলাম, বড্ড খিদে পেয়েছে ,ভাবলাম যদি জঙ্গলে কোনো ফল পাওয়া যায়, তাই এলাম, এসে দেখি তোমার ঘর।


রুপম - মানে?


বৃদ্ধা - তোমার মত আমার এক নাতি ছিলো, ওকে নিয়েই আমি থাকতাম, একদিন জমিদারের লোক এসে ওকে টানতে টানতে নিয়ে গেলো, আর সে ফিরলো না।পরের দিন সকালে ওর মৃত শরীরটা আমার বাড়ির সামনে পড়ে রইলো।( বৃদ্ধা কান্না করতে শুরু করলো)।


রুপম - দিদা, তুমি কান্না করো না। ধরে নাও না আমি তোমার নাতি, আমারও তো কেউ নেই, তোমার বাড়িতে কিছু দিন থাকতে দিবে আমায়?


বৃদ্ধা - সে থাকতে দিতে পারি ,কিন্তু খাবে কি? আমার তো ঐ নৌকা টা ছাড়া আর কিচ্ছু নেই।

( নদীর তীরে নৌকা দেখিয়ে বললো)। আর এই বয়সে নৌকা বইতেও পারি না।


রুপম - দিদা তোমাকে কিচ্ছু চিন্তা করতে হবে না। আমি তো আছি, আমি তোমার নৌকা চালাবো,আমাকে একটু শিখিয়ে দিও।


বৃদ্ধা - বেশ ,বেশ , আচ্ছা, তুমি বসো তো।আমি তোমার জন্য একটু জল বাতাসা নিয়ে আসি।(বৃদ্ধা জল বাতাসা আনতে চলে গেলো।)


রুপম ঘরের কোণে মেঝেতে বসলো, হটাৎ বাতাস এলো, রুপমের চোখে পরলো একটি ফটো, ফটো দেখে রুপম চমকে উঠলো, কারণ ওর জন্যই আজ রুপমের এই অবস্থা, ফটোটা ছিলো, অনামিকার।


বৃদ্ধা - এই নাও , বাছা , মুখে কিছু দাও।( মুড়ি ও জল দিয়ে বললো)।


রুপম - দিদা, হওয়ায় এই ফটোটি উড়ে এলো আমার কাছে । তুমি কি ওকে চিনো?( ফটোটি দেখিয়ে বললো)।


বৃদ্ধা - (কিচ্ছুক্ষণ চুপ থেকে) একটু অপেক্ষা কর আমি তোকে আরও কিছু ছবি দেখাই। ( বৃদ্ধা একটি পুরনো ট্রাংক থেকে কিছু ছবি নিয়ে এলো)।


রুপম - একি,অনামিকা ? ওর পাশে ওটা কার ছবি?( মনে মনে ভাবলো)।


বৃদ্ধা - এই হলো আমার নাতি, আর পাশে যাকে দেখছিস সে হলো জমিদারের নাতনি। আমার নাতির সাথে ঐ জমিদার নাতনি অনামিকার ভাব ,ভালোবাসা ছিলো, এই টুকুই জানতাম আমি।


রুপম - তারপর কি হলো দিদা? 

বৃদ্ধা - সে তো আমি জানি না রে, যেদিন আমার নাতিটা চলে গেলো সেদিন থেকে অনামিকাকে আর দেখা যায়নি,আমাদের গ্রামে।


রুপম - দিদা, আমার মনে হচ্ছে অনামিকা তোমার নাতি কে খুন করেছে।


বৃদ্ধা - কি বলিস এই সব? তুই চিনিস নাকি অনামিকাকে?

রুপম - (মাথা নিচু করে বললো) চিনি আর ওর জন্য আমি সব হারালাম।


বৃদ্ধা - তাহলে কি করা যায় বল তো?


রুপম - দিদা , পুলিশ কেস করলে অনেক টাকা লাগবে, উকিলকে টাকা না দিলে উকিল কিছুতেই কেস লড়বে না। এক কাজ করি কিছু দিন অপেক্ষা করি। সামনে আমার পরীক্ষা আমি পরীক্ষাটা দেই তারপর যদি চাকরিটা হয়ে যায় তাহলে আমি তোমার নাতির হত্যা যে করেছে তাকে শাস্তি দিবই।


বৃদ্ধা - ওহ, তুই পড়াশুনা করিস?


রুপম - হ্যাঁ ,ডাক্তারি পড়ছি, এটাই শেষ বছরের শেষ পরীক্ষা।


বৃদ্ধা - আশির্বাদ করি খুব ভালো করে পরীক্ষা দে।


তারপর বৃদ্ধা রুপমের হাতে ধরে নৌকা চালানো শেখায়, রুপম নৌকা পারাবারে কাজ করে কিছু টাকা পায়। আর বৃদ্ধা মাছ ধরার জাল বানাতো,রুপমও মাঝে মাঝে বৃদ্ধার সঙ্গে সেই কাজ করতো, এই ভাবে জাল বিক্রি করে, আর নৌকার মাঝি হিসেবে কাজ করে যা টাকা পেতো তাতে দুই জনের দুবেলা খাওয়াটা চালিয়ে নিত। আজ রুপমের পরীক্ষা, কিন্তু রুপমের কাছে গাড়ি ভাড়া নেই।

রুপম হেঁটে যাওয়ার জন্য আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিলো এমন সময় 


বৃদ্ধা - কি রে তোর পরীক্ষা তো সেই দুপুরে এক্ষুনি কই যাইস?


রুপম - দিদা, আমার কাছে তো গাড়ি ভাড়া নেই, হেঁটে যেতে হবে তাই।


বৃদ্ধা - একটু অপেক্ষা কর দেখি , এই ছেড়া জামা পড়ে কেউ যায় পরীক্ষা দিতে? 

( এই বলে বৃদ্ধা এক নতুন জামা বের করে দিলো রুপমকে)।


 রুপম - তুমি এই জামা কোথায় পেলে?


বৃদ্ধা - আমার নাতির জন্ম দিনে ওকে চমকে দেওয়ার জন্য কিনে ছিলাম,তারপর তো আমার নাতিই আমাকে চমকে দিয়ে চলে গেলো!।( কান্না করে বললো)


রুপম - দিদা, তুমি আবার কান্না করছো, ? দাও আমি এক্ষুনি তোমার নাতি সেজে আসছি,

( জামাটা নিয়ে ঘরে গিয়ে ,নতুন জামা পরে আসলো।)


বৃদ্ধা - বাহ ,বেশ লাগছে তো, নজর না লাগে।

রুপম - দিদা, আজ আমার খুব মন খারাপ, পরীক্ষার হলে আজ আমার দিয়ার সাথে দেখা হবে, আমি ওর চোখের দিকে তাকাতে পারবো না।


বৃদ্ধা - তুই তো অন্যায় করিস নি।তাহলে তুই কেনো ভয় পাবি?

 আর হ্যাঁ , ঐ অনামিকাকে কিচ্ছু বলে ওর সাথে ঝামেল্যা করিস না।


রুপম - আচ্ছা, তাহলে আসি?

বৃদ্ধা - এইনে, তোর গাড়ি ভাড়া, আর এই নে ঘড়ি,রাস্তায় বের হলে সময়ের হিসেবটা তো রাখতে হবে। এটা আমার নাতির ঘড়ি। যদিও পুরনো কিন্তু সময়টা ঠিক চলে।


রুপম - দিদা,তুমি আমার জন্য এত ভাবো?


বৃদ্ধা - তুই না আমার নাতি,তোর জন্য না ভাবলে আর কার জন্যই বা ভাববো বল?


রুপম -( বৃদ্ধা কে প্রণাম করে) আচ্ছা দিদা, তাহলে আসি,


বৃদ্ধা - সাবধানে যাইস।



রুপম বেরিয়ে পড়লো পরীক্ষার উদ্দেশ্যে,কিন্তু তার মনে দিয়ার প্রতি বিশ্বাস ভালোবাসা আজ দ্বিগুণ ,তৃগুন বেড়ে গেছে,কারণ সবাই যখন তাকে অবিশ্বাস করে তখন দিয়া তাকে বিশ্বাস করে তার বই পত্র সঙ্গে দিয়ে দিয়ে ছিলো,তাই আজ সে পরীক্ষা দিতে পারছে।


পরীক্ষার হলে পৌছে রুপম দেখলো -


দিয়া মন খারাপ করে বসে আছে, দিয়া কে দেখে সবাই হাসছে আর কিছু কিছু বান্ধবীরা বলছে

 " বাড়ির কাজের লোকের কাছে ধর্ষিতা হয়েও পরীক্ষা দিতে আসছে।_"



রুপম গাছের নিচে লুকিয়ে দেখছে ,

অনামিকা সবাইকে এই সব বলছে আর হাসছে।


রুপম আর কিছু না বলে পরীক্ষার হলে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসলো। অনামিকা রুপমকে লক্ষ্য করেনি, অনামিকা ভেবেছে রুপম পরীক্ষা দিতে আসেনি।


দিয়া রুপমকে দেখেছে, তাই পরীক্ষার গেটের সামনে রুপমের জন্য অপেক্ষা করছিলো, 


দিয়া - রুপম,

রুপম - বলো,

দিয়া রুপমের হাত ধরে টেনে গাছের আড়ালে নিয়ে বললো।


দিয়া - আজ তো বলো, সেদিন কি কি ঘটেছিলো? কেনো তুমি আমার ঘরে গিয়েছিলে?


রুপম - আমি কিচ্ছু করিনি দিয়া, আমাকে আর একটা মাস সময় দাও আমি সব প্রমাণ করে দিবো।


দিয়া - আচ্ছা , বেশ তুমি কোথায় ছিলে এত দিন?


রুপম - নিরুদ্দেশে , মা বাবা কেমন আছে দিয়া?


দিয়া - ভালোই আছে।


রুপম - দিয়া, অনামিকার থেকে সাবধানে থেকো, আমি আসলাম , এক মাস পর জেলা আদালতে দেখা হবে।


দিয়া - মানে?

রুপম কিছু না বলে চলে গেলো।


দিয়া - এই সব অনামিকার কাজ , আমি আজ থেকে অনামিকার সাথেই থাকবো।( মনে মনে ভাবলো)।


অনামিকা - কিরে দিয়া, গাছের নিচে দাড়িয়ে কি রুপমের অপেক্ষা করছিস? সত্যি তুই পারিসও বটে।


দিয়া - না রে ,আমি তোর অপেক্ষা করছিলাম, চল আমাদের বাড়ি কিচ্ছু দিন থাকবি।


অনামিকা - বেশ চল,


অনামিকাকে নিয়ে দিয়া তাদের বাড়ি গেলো, অনামিকার ফোন থেকে শুরু করে অনামিকার যাতায়াত সব কিছুর প্রতি লক্ষ্য করে দিয়া।



দিয়া - অনামিকা তোকে একটা কথা বলার ছিল রে,


অনামিকা - কি বলবি বল না,


দিয়া - আমি দেখেছি রুপম পরীক্ষা দিয়েছে।


অনামিকা - কি বলছিস এইসব, তোর মাথাটা মনে হয় নষ্ট হয়ে গেছে।


দিয়া - তোর বিশ্বাস না হলে , অনুভবকে ফোন করে জিজ্ঞাসা কর, আমার মনে হয় ওদের এক রুমেই পরীক্ষা পড়েছে।


অনামিকা - আচ্ছা দেখছি ( এই বলে অনুভবকে ফোন করে)।


অনুভব - বল, অনামিকা কেমন আছিস?

অনামিকা - আর রে আমি তো ভালই আছি রে, কিন্তু দিয়ার মাথা নষ্ট হয়ে গেছে রে।


অনুভব - কেনো রে?


অনামিকা - আর এ ও বলছে ও নাকি রুপমকে পরীক্ষা দিতে দেখেছে।


অনুভব - ওর মাথা নষ্ট হয়নি ,আমি নিজেও দেখেছি ,রুপম খুব ভালো পরীক্ষা দিয়েছে।


অনামিকা - কি বলছিস? আচ্ছা রাখছি।


দিয়া - কি বলেছিলাম না?


অনামিকা - রুপম বেচেঁ আছে? কিন্তু কি করে? কোথায় আছে? কি খাচ্ছে?


দিয়া - ভগবান ওর পাশে আছে।


অনামিকা - হ্যাঁ, ঠিক বলছিস, আচ্ছা শোন আমি আজ একটু আমার বাড়ি যাবো।


দিয়া - আচ্ছা বেশ।



রুপম চলে যাওয়ার পর ,রুপমের রুমে তালা লাগিয়ে রেখেছিলো রুপমের মা, এত দিন সেই ঘরে কেউ যায়নি, আজ দিয়ার বড্ড ইচ্ছে করছে সেই ঘরে যেতে।


দিয়ার কাছে সব ঘরেরই ডুপ্লিকেট চাবি আছে, তাই সে রাতের অন্ধকারে রুপমের ঘরে যায়

ঘরের সমস্ত কিচ্ছু এলো মেলো, বিছানার এক কোণে মোবাইলটা পড়ে আছে। দিয়া ভালো করে পরিষ্কার করে মোবাইল টা চার্জ করে দেখে মোবাইলের লক নেই, তাই সে কল লিস্টে গিয়ে দেখে সেই রাত্রে অনামিকার ফোন এসেছিল রুপমের মোবাইলে , দিয়া কল রেকর্ডিং টা শুনতে গিয়ে চমকে গেলো। 


দিয়া - অনামিকা? আমি কি এমন ক্ষতি করেছিলাম তোর? এইসব কেনো করলি?( মনে মনে ভাবতে থাকে)।



কিছুক্ষণ পর কান্নার আওয়াজ শুনে রুপমের মা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখে দিয়া রুপমের ঘরে বসে কান্না করছে।


রুপমের মা - দিয়া, 


দিয়া - রুপম নির্দোষ ,আমি প্রমাণ পেয়ে গেছি।


রুপমের মা - কি প্রমাণ?


দিয়া - রুপমের ফোনের কল রেকর্ডিং , এর থেকে আমি নিশ্চিত এই সব অনামিকার কাজ।


রুপমের মা - আমার ছেলেটা কে ফিরিয়ে নিয়ে আয় মা,কোথায় আছে কেমন আছে কে জানে?

( বলতে বলতে আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছতে লাগলো)।


দিয়া - তুমি চিন্তা করো না, দেখো সব ঠিক হয়ে যাবে।



তারপর কেটে গেলো এক মাস ,আজ রুপমের রেজাল্ট



বৃদ্ধা - কি রে , আজ এত চিন্তিত কেনো দেখাচ্ছে তোকে?


রুপম - দিদা, আজ আমার পরীক্ষার ফল প্রকাশ হবে , কিন্তু আমার তো মোবাইল নেই কিভাবে দেখবো রেজাল্ট , সেটাই ভাবছিলাম।


বৃদ্ধা - আচ্ছা, শোন নদীর ওই পারে যে একটা বাড়ি দেখছিস ওই বাড়িতে আমি কাজ করতে যাচ্ছি, শুনেছি ওই বাড়িতে নাকি মোবাইল, কম্পিউটার সব আছে। আমি না হয় আজ ওদের বলবো তোর রেজাল্টটা একটু দেখে দিতে। 



রুপম - না ,দিদা থাক , বিকেল বেলা তো কলেজে যেতেই হবে রেজাল্ট আনতে। তখনি না হয় দেখে নিবো।


বৃদ্ধা - আচ্ছা, সে তুই যা ভালো বুঝিস তাই কর, আমি এলাম রে।


রুপম - আচ্ছা, 



এক ঘন্টা পর


রুপম বসে বসে মাছ ধরার জন্য জাল তৈরি করছিলো, এমন সময় বৃদ্ধা দিদা ছুটে এসে হাফাতে ফাহাতে বললো


বৃদ্ধা - নাতি, আমার নাতি কই গেলি তুই?


রুপম - কি হয়েছে দিদা? তুমি এত দৌড়ে আসলে কেনো? এই বয়সে কি কেউ এত ছুটোছুটি করে?


বৃদ্ধা - আর আমি তো আনন্দে দৌড়াচ্ছি রে,

রুপম - কিসের আনন্দ?


বৃদ্ধা - ওই যে ওই বাড়িতে কাজ করছিলাম, হটাৎ দেখলাম টিভি তে তোর ছবি , আর বলছে তুই নাকি প্রথম হয়েছিস। 


রুপম - কি বলছো? সত্যি? তুমি আমার সাথে মজা করছো নাতো?


বৃদ্ধা - তুই ,এক্ষুনি বেরিয়ে যা তোর কলেজে রেজাল্ট নিয়ে আয় তাহলেই তো বুঝবি।


রুপম - আর রেজাল্ট ! আনতে গেলেই তো সংবাদ মাধ্যমের লোকেরা আমায় ঘিরে ধরবে।


বৃদ্ধা - বেশ ,ভালোই হবে।


রুপম - দিদা, তুমিও চলো আমার সাথে।

বৃদ্ধা - আমি কোথায় যাবো,?

রুপম - তৈরি হও না আগে।


বৃদ্ধা তৈরি হয়ে আসলো,রুপম বৃদ্ধা দিদাকে নিয়ে দিয়াদের বাড়ির সামনে আসে।


রুপম - তুমি এই বাড়িতে গিয়ে কান্না করে বলবে তোমার কোনো থাকার জায়গা নেই,কেউ নেই তাই তুমি ওদের কাছে আশ্রয় চাইবে।


বৃদ্ধা - থাকার জায়গা নেই মানে? আমাদের ওই ঘরটা তো আছেই। আর আমি যাবো তুই যাবি না?


রুপম - না দিদা,আমি এই মুহূর্তে যেতে পারবো না।


বৃদ্ধা - তাহলে আমিও যাবো না।


রুপম - দিদা, এই বাড়িতে অনামিকা আছে।


 তোমাকে এই বাড়িতে তাই যেতে বলছি,আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম,তোমার নাতির খুনিকে আমি শাস্তি দিবো। তাই বলছি তুমি এই বাড়ি গেলে অনামিকা ভয় পাবে। আর এই সুযোগে আমাকে প্রমাণ জোগাড় করতে হবে।





পর্ব - ৮

___________


বৃদ্ধা - আমি যাবো না , আমাকে ছেড়ে দে।


রুপম - আচ্ছা ,বেশ তাহলে চলো আমার সঙ্গে আমার বন্ধু প্রীতমের বাড়ি।


দিদা - ঠিক আছে চল,


প্রীতমের বাড়ির কলিং বেল বাজলো।


প্রীতম - রুপম , কতো দিন পর দেখা হলো, খবরটা দেখেছো তো? তুমি এই প্রথম হয়েছো।


রুপম - দেখেছি বন্ধু।


প্রীতম - এসো এসো ভিতরে এসো, আচ্ছা ,উনি কে?( বৃদ্ধার দিকে তাকিয়ে)।


রুপম - আমার দিদা


প্রীতম - ধুস, আমি তো জানি তোমার কোনো দিদা নেই।


রুপম - রক্তের সম্পর্কের না হলেও উনি আমার দিদা, আজ উনার জন্য আমি বেঁচে আছি, দু বেলা দু মুঠো ভাত মুখে দিতে পারছি।


প্রীতম - আমাকে ক্ষমা করো বন্ধু।


রুপম - বন্ধু ,তুমি ছাড়া আর তো কেউ নেই , যার কাছে আমি সাহার্য্য চাইতে পারি।


প্রীতম - কি ব্যাপার বলো তো।


রুপম - আমাকে দশ হাজার টাকা ধার দিবে?


প্রীতম - হ্যাঁ , সে তো দিতেই পারি। তবে বাবাকে বলতে হবে, আর জানি বাবা তোমার কথা বললে এক কথায় রাজি হয়ে যাবে।


রুপম - ধন্যবাদ প্রীতম, আর আমার দিদাকে মাত্র দুই দিনের জন্য তোমার বাড়িতে তোমার দিদার মতো আদরে রাখতে পারবে।?


প্রীতম - তুমি যে কি বলো না, দুই দিন কেনো , যদি বলো তো সারাজীবন দিদাকে আমি রেখে দিবো।


এই বলে হাসতে লাগলো।



প্রীতম - আচ্ছা দিদা, তুমি একটু বসো আমি আসছি,



কিছুক্ষন পর - 

প্রীতম - এই নাও রুপম ১০ হাজার টাকা।


রুপম - ধন্যবাদ বন্ধু ( প্রীতম কে জড়িয়ে ধরে বলল)।


প্রীতম - বন্ধু তুমি চিন্তা করো না ,দিদা আমার কাছে ভালোই থাকবে।


রুপম - দিদা, আমি আসছি, কলেজে যাবো রেজাল্ট আনতে। তুমি চিন্তা করো না, প্রীতম খুব ভালো।


বৃদ্ধা - যা, সাবধানে যাইস।



রুপম বেরিয়ে গেলো, কলেজে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ মাধ্যম চলে আসে রুপমের কাছে, কিন্তু রুপম তাদের কোনো কথার উত্তর না দিয়ে রেজাল্ট নিয়ে শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রণাম করে বেরিয়ে আসে।




অন্যদিকে অনামিকা পরীক্ষায় পাস নম্বরও তুলতে পারেনি কিন্তু দিয়া তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।


দিয়ার বাবা - আমি জানি না,রুপম কিভাবে এত ভালো রেজাল্ট করলো। তবে ও যে অন্যায় করেছে তার জন্য তো ওকে ক্ষমা করা যায় না।


দিয়া - রুপম কোনো অন্যায় করে নি বাবা, 

অনামিকা - তুই , আজও ওকে সাপোর্ট করছিস?। ( দিয়া কে বললো)


অনামিকা - শোন দিয়া, আমি বলছি , তুই আজই থানায় যা, গিয়ে রুপমের নামে ধর্ষনের অভিযোগে কর ,তাহলে ও আর ডাক্তারিতে জয়েন করতেই পারবে না, আমি তো শুনলাম কাল সকালেই নাকি ও কাজ শুরু করবে।


দিয়া - কি বললি? কার নামে অভিযোগ করবো? রুপমের? কেনো অভিযোগ করবো? ওর চাকরি কেড়ে নেওয়ার জন্য? আর এ তুই কি মানুষ? ছি ছি।


এমন সময় দিয়ার বাবার ফোন বেজে উঠলো, ফোন এ কথা বলার পর।


দিয়া - কি হলো বাবা? তোমার মুখটা এমন শুকিয়ে গেলো কেন? কার ফোন এসেছিল?


দিয়ার বাবা - ইন্সপেক্টর রজত ফোন করেছিলো।


অনামিকা - তো উনি কি এমন বললেন যে আপনার মুখটা শুকিয়ে গেলো ?


দিয়ার বাবা - কথাটা শুনলে তোমার মুখটা আমার থেকে বেশি শুকিয়ে যাবে অনামিকা।


দিয়া - বাবা , বলো না কি বললো রজত কাকু?


দিয়ার বাবা - আজ থেকে তিন বছর আগে একটি ছেলেকে প্রেমের ফাঁদে ফাঁসিয়ে খুন করার অভিযোগে পুলিশ অনামিকাকে অ্যারেস্ট করতে আসছে।


অনামিকা কথাটা শুনে মাথা ঘুরে পরে যায় মেঝেতে।


দিয়া - অনামিকা এইসব কি সত্যি?


অনামিকা - বিশ্বাস কর,আমি কিচ্ছু বুঝতেই পারছি না।




পুলিশ এলো টানতে টানতে অনামিকাকে নিয়ে গেলো থানায় ,আগামীকাল অনামিকাকে জেলা আদালতে নিয়ে যাওয়া হবে।


পরের দিন অনামিকা কে জেলা আদালতে নিয়ে আসা হয়। দিয়া , দিয়ার বাবা , অনামিকার বাবা, সকলেই উপস্থিত আছেন। 


বিচারক - নিজের সপক্ষে কিছু বলতেন চান অনামিকা.?


অনামিকা - স্যার, আমি কিছুই জানি না।

কে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করছেন?


বৃদ্ধা - আমি ( এতক্ষণ আঁচলে মুখ ঢেকে বসে ছিলেন)।


অনামিকা - দিদা? 


 বিচারক - আপনার যা বলার আছে কাঠগোড়ায় এসে বলুন।( বৃদ্ধা কে বললেন)।


বৃদ্ধা - আমার নাতির সাথে এই অনামিকার প্রেম ছিলো, অনামিকা আমাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করতো কিন্তু কোনো দিন আমার নাতি ওদের বাড়ি যায়নি, একদিন অনামিকা ফোন করে যেতে বলে কিন্তু আমার নাতি যেতে রাজি হয়নি, আমার নাতি আমাকে বলেছিল অনামিকার বাবা বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত , তাই আমার নাতিকে ওরা এই কাজে যুক্ত করতে চায়। আমার নাতি এইসব চায়নি, তাই সে অনামিকার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়নি। তারপর একদিন জমিদার বাড়ির লোক মানে অনামিকার বাবার লোক জন আমার নাতিকে টানতে টানতে নিয়ে যায়। পরের দিন আমার নাতির মৃত শরীরটা আমার বাড়ির সামনে পড়ে থাকতে দেখি।


অনামিকা - ভুল, এই মহিলাকে তো আমি চিনি এই না।


অ্যাডভোকেট নেপাল - ( ছদ্মবেশী রুপম ) - এই তো একটু আগে এই মহিলা কে দেখে দিদা বলে ডাক দিলেন।


অনামিকা - একজন বৃদ্ধ মহিলাকে দিদা বলে ডাকবো না তো কি মাসী বলে ডাকবো?


অ্যাডভোকেট নেপাল - আচ্ছা , বেশ দেখুন তো এই ফটো গুলো চিনতে পারছেন কি না? ( বৃদ্ধা দিদার নাতির সাথে অনামিকার ছবি দেখিয়ে)।


অনামিকা - এই সব ভুল ফটো 

( অনামিকার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো)।


অ্যাডভোকেট নেপাল - এই বার আমি অনামিকার বাবা কে কাঠ গোড়ায় আসার অনুরোধ করবো।


বিচারক - অনামিকার বাবা কাঠ গোড়ায় হাজির হোক।



অনামিকার বাবা কাঠ গোড়ায় হাজির হলেন।


অ্যাডভোকেট নেপাল - আচ্ছা, আপনার এক মাত্র কন্যা অনামিকা খুন করেছে এটা আপনি জানতেন কি?


অনামিকার বাবা - না, এটা ভুল,


 অ্যাডভোকেট নেপাল - তাহলে কি খুনটা আপনি করেছেন?


অনামিকা - হ্যাঁ ,হ্যাঁ, খুন আমার বাবাই করেছে আমি কিচ্ছু করিনি।( মুখ ফস্কে বলে ফেলে)।


অনামিকার বাবা - এ তুই কি করলি , আমি তোকে বাঁচাতে এসেছিলাম আর তুই আমাকে ফাঁসিয়ে দিলি?


অ্যাডভোকেট নেপাল - তাহলে বলুন সেদিন কি কি ঘটে ছিলো।?


অনামিকা - সেদিন আমার বাবার বেআইনি জিনিসপত্র পাচার করার সময় অভি মানে ওই বৃদ্ধার নাতি সব দেখে নিয়ে ছিলো।

আমার বাবা আমাকে বলেছিল অভিকে আমাদের বাড়ি আসতে কিন্তু অভি কিছুতেই রাজি হয়নি।


তাই আমার বাবা লোক পাঠিয়ে ওকে ডেকে এনে বলে আমাদের সাথে কাজ করতে তাহলে আমার সাথে ওর বিয়ে দিবে আর ও হবে আমাদের বংসপরম্পরায় জমিদার। কিন্তু অভি কিছুতেই রাজি হয়না। অভি বলে ও সব কথা পুলিশকে বলে দিবে তখন বাবা ওকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মাথায় , তারপর সব শেষ, আমি শুধু সাক্ষী ছিলাম আমি কিচ্ছু করিনি।আমাকে শাস্তি দিবেন না , দয়া করে।



বিচারক - সব কিছু বিচার বিবেচনা করে, এই রায় দিচ্ছে যে অভিযুক্ত অনামিকার বাবাকে পনেরো বছরের জেল হেফাজতের নির্দেশ । এবং অনামিকা যিনি সমস্ত কিছু জানা সত্বেও একজন অপরাধীকে আড়াল করেছেন এই অপরাধে তাকে আগামী ২ বছরের জেল হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিচ্ছে এই আদালত।




পর্ব - ৯

__________

-


বৃদ্ধা - আমি আজ খুব খুশি আমার নাতির আত্মা আজ শান্তি পেলো রে।


রুপম - দিদা , আজ শুধু তুমি একা না আমিও খুব খুশি।


বৃদ্ধা - হ্যাঁ রে , তোর উপর যে বদনাম দিয়ে ছিলো অনামিকা ,তুই সেই ব্যাপারে কিছু বললি না কেনো ?


রুপম - দিদা, সেই ব্যাপারে তো দিয়া বা দিয়ার বাবা কোনো পুলিশ কেস করেনি। ওদের পরিবারের সন্মান রক্ষা করার কথা ভেবেই হোক বা আমার সন্মান রক্ষার কথা ভেবেই হোক, ওরা যখন ব্যাপারটা কে চেপে রেখেছে তাই আমারও উচিত ব্যাপারটা চেপে রাখা।


বৃদ্ধা - তোর ,মা বাবার কাছে যাবি না?

রুপম - কি করে যাবো বলো, আমি তো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে পারিনি।


বৃদ্ধা - তাহলে কি করবি ভাবছিস?


রুপম - ভাবছিলাম , দুই বছর চুপ চাপ থাকি। মা বাবাকে দিয়া খুব যত্নেই রেখেছে ,সে আমি জানি।


বৃদ্ধা - আচ্ছা, বেশ।



দুই বছর পর


রুপম কলকাতা শহরের নাম করা ডক্টর।দিদাকে নিয়ে কলকাতা শহরেই একটি ফ্ল্যাটে থাকে সে। কিন্তু তবুও সে বিনা পয়সায় সমস্ত রোগীর চিকিৎসা করে। আজ হটাৎ একজন বৃদ্ধ লোক এলেন 


বৃদ্ধ লোক - ডাক্তার বাবু আমার পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা , রাত্রে ঘুমোতে পারি না ব্যাথার যন্ত্রণায় ।


রুপম - স্যার, আপনার পায়ের একটা এক্স রে করতে হবে।


বৃদ্ধ লোক - স্যার? আপনি আমায় স্যার বলছেন? আমার গায়ের পোশাক দেখে তো কেউ আমাকে স্যার বলে না। সবাই আজকাল আমায় ভিখারী বলে।( বলতে বলতে চোখের জল গড়িয়ে পরছে)।


রুপম - স্যার, আপনি আমায় চিনতে না পারলেও আমি আপনাকে ঠিক চিনেছি, আমি রুপম, মার্ধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার সময় আপনাদের বাড়িতে কাজ করতাম যে আমি সেই রুপম। প্রিয়া ম্যাডামের ছাত্র আমি।


বৃদ্ধ লোক - আমাকে ক্ষমা করো রুপম, কত অন্যায় করেছি আমি তোমার সাথে। কত অপমান করেছি , বিনা কারণে গায়ে হাত তুলেছি, অতিরিক্ত কাজ করিয়ে কম পারিশ্রমিক দিয়েছি ( হাত জোড় করে বললো)।


রুপম - কি যে বলেন স্যার, আপনি সেই সব কথা মনে রেখেছেন, আমি তো কবেই ভুলে গেছি। এই এক্স রে টা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে কালকে সকালে আসবেন ।


বৃদ্ধ লোক - আচ্ছা ,বেশ।


রূপম - একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?


বৃদ্ধ লোক - হ্যাঁ বলো।


রুপম - ম্যাডাম কেমন আছেন?


বৃদ্ধ লোক - প্রিয়া আর নেই রুপম, গত বছর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে। 


রুপম - বিনা চিকিৎসায়?


বৃদ্ধ লোক - হ্যাঁ,আমাদের এক ছেলে আছে বিদেশে, আমরা সেখানেই গিয়েছিলাম ,কিন্তু সেই ছেলে আমাদের সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে করে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে।( এই বলে চোখের জল মুছতে মুছতে বেরিয়ে যায়)।



কিছুক্ষন পর রুপম তার নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিল হটাৎ একটি মেয়ে গাড়িতে লিফট চাইলো।গাড়িটি থামতেই রুপম লক্ষ্য করলো অনামিকাকে, অনামিকা লিফট চাইলো।


অনামিকা - রুপম , কেমন আছো?


রুপম - বেশ ,ভালোই,

অনামিকা - সত্যি রুপম আমার খুব খারাপ লাগছে, সেদিন আমি তোমাকে ভুল বুঝেছিলাম, আমাকে ক্ষমা করে দিও।


রুপম - আমি পুরনো কোনো কথা মনে রাখিনি ।

অনামিকা - তাহলে আজ চলো একবার দিয়া দের বাড়ি।


রুপম - কেনো?

অনামিকা - আমি তো কালকে লন্ডন চলে যাবো 

রুপম - লন্ডন কেনো?


অনামিকা - আমি তো ওখানেই চাকরি করি ,দুই বছর সেখানেই ছিলাম। আজ ফিরলাম দেশে।


রুপম - দুই বছর তুমি যে লন্ডনে ছিলে আবার সেই লন্ডনে যাওয়ার ইচ্ছে করছে নাকি? তুমি কি ভাবছো এত দিন তুমি কোন লন্ডনে ছিলে আমি জানি না।( মনে মনে হেসে হেসে ভাবছে)।


অনামিকা - কি ভাবছো রুপম?কিচ্ছু বললে না যে?


রূপম - ঠিক আছে আজ বিকালে যাচ্ছি তবে দিয়া দের বাড়ি।


অনামিকা - থ্যাংকস,


রুপম - তোমার গন্তব্য চলে এসেছে।


অনামিকা গাড়ি থেকে নেমে যায়।



বাড়ি ফিরে


রুপম - জানো দিদা, আজ অনামিকা আমার গাড়িতে লিফট চাইলো।


বৃদ্ধা - মেয়েটা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে গেছে?


রুপম - হ্যাঁ, দিদা, দুই বছর তো শেষ হয়েই গেলো।


বৃদ্ধা - জানি না ,এরপর কার সর্বনাশ করবে ঐ অনামিকা।


রুপম - আজ বিকেলে আমাকে দিয়াদের বাড়ি যেতে বলেছে। আমি ভাবছি যাবো একবার।


বৃদ্ধা - সে যা, কিন্তু সাবধানে।


রুপম - না দিদা ভাবছি যাবো না, আমার মনে হয় আগামীকাল আমার চেম্বারে আসবে অনামিকা। 


বৃদ্ধা - আচ্ছা বেশ ,তুই যা ভালো বুঝিস কর।



আগামীকাল রুপমের চেম্বারে



অনামিকা - আসতে পারি?


রুপম - হ্যাঁ,এসো তোমার অপেক্ষায় এই তো ছিলাম।


অনামিকা - সত্যি?

রুপম - মিথ্যে বলার অভ্যাসটা যে আমার নেই সেটা তো তোমার থেকে ভালো কেউ জানে না।


অনামিকা - গত কাল আসলে না যে?

রুপম - তুমি মনে হয়, ভুলে গেছো ওই বাড়িতে আমার মা,বাবা আছে।


অনামিকা - না, না ভুলবো কেনো, এই তো এই দুই বছর রোজ উনাদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছি।


রুপম - ওহ ,তাই?


অনামিকা - বসতে পারি?

রুপম - হুম


অনামিকা - জানো রুপম ,সেদিনের সেই ঘটনার পর থেকে দিয়া কেমন যেনো ব্যাবহার করছে তোমার মা, বাবার সাথে, একদম কাজের লোকের মত।


রুপম - ওহ, আচ্ছা, এত বড়ো অপমান আমার বাবা মাকে, আজ ওর একদিন কি আমার একদিন।


তুমি একটা কাজ করতে পারবে?


অনামিকা -কি কাজ?


রুপম - আজ বিকেলে পার্কে আসবে দিয়াকে নিয়ে। ওর ডানা আজ আমি কেটে দিবো।


অনামিকা - যাক বাবা ,আমার প্ল্যান সাকসেস ফুল (মনে মনে ভাবলো)।


অনামিকা - আচ্ছা বেশ, আমি আসবো দিয়াকে নিয়ে।


যাচ্ছি তবে?

রুপম - হুম।




পর্ব - ১০

__________


বিকেল বেলা


দিয়া - আমাকে পার্কে ডেকে পাঠানোর কারণ কি অনামিকা?


অনামিকা - দেখ, আমি জানি তুই আমার উপর রাগ করে আছিস কিন্তু বিশ্বাস কর, বাবা যখন অভিকে খুন করেছিলো তখন আমি ভীষন নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম, আর তুই বল কোনো সন্তান কি চায় তার বাবা জেলে থাকুক? আমি কি করে বলতাম বল?



দিয়া - দেখ আমি ভালো করে জানি, তুই এইসব বলার জন্য আমাকে পার্কে আসতে বলিসনি।


অনামিকা - হুম, তোর সাথে একজনের দেখা করিয়ে দিবো তাই আসতে বলেছি।


দিয়া -কার?আমার কারোর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছে নেই।


অনামিকা - ঐদিকে দেখ ( রুপমের দিকে দেখিয়ে)


দিয়া - রুপম ( ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরতে চেয়ে দূরে সরে আসে )।


রুপম - হ্যাঁ,আমি এই নাও ( দুই লক্ষ্য টাকার চেক দিয়ে)।


দিয়া - এটা কি?


রুপম - এই খামে দুই লক্ষ্য টাকা আছে, যা তোমরা এত দিন আমার বাবা মাকে দেখছো তার পারিশ্রমিক। আর একটা ঠিকানা আছে সেখানে আগামীকাল সকালে আমার মা, বাবা কে পাঠিয়ে দিবে।


দিয়া - ওহ ( এক পা এক পা এক পা করে পিছিয়ে যেতে থাকে)।


অনামিকা - কোথায় যাচ্ছিস দিয়া, চেকটা নে।

( এই বলে রুপমের হাত থেকে চেকটা নিয়ে দিয়ার হাতে দিলো)।


দিয়া - আমি আসছি তোরা কথা বল ( দিয়ার কণ্ঠ ভার হয় যায়, সে ভাবতেই পারেনি রুপম তাকে এই ভাবে অপমান করতে পারে)।


অনামিকা - রুপম একটা কথা বলবো?

রুপম - একটা কেনো হাজারটা কথা বলো ।


অনামিকা - আসলে সেই কলেজে তুমি আমাকে ভালবাসার কথা বলেছিলে কিন্তু আমি তোমাকে অপমান করেছিলাম ,আমি তার জন্য ক্ষমা চাইছি।

আমি তোমাকে ভালোবাসি রুপম, তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?


রুপম - তুমি আমাকে না , আজ আমি ডাক্তার বলে আমার টাকা আছে বলে আমাকে ভালোবাসার কথা বলছো।কিন্তু আমি তো তোমাকে সেই দিনই চিনে গিয়েছিলাম, ( মনে মনে ভাবছে)।


অনামিকা - কি হলো রুপম ?

রুপম - হ্যাঁ, অবশ্যই ,

অনামিকা - I love you রুপম


রুপম - love you too ( দিয়ার দিকে তাকিয়ে)।


দিয়ার চোখে জল গড়িয়ে পরছে , কিন্তু দিয়া হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে।


দিয়া - তাহলে বিয়েটা কবে করছো রুপম?

রুপম - আগামীকাল ই রেজিস্ট্রি করবো ভাবছি। তোমাকে কিন্তু অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।


দিয়া - হ্যাঁ, অবশ্যই, তোমার বিয়ে আর আমি থাকবো না, তাই কি কখনো হয়?


অনামিকা - আচ্ছা আজ তাহলে আমরা আসি। কালকে তো দেখা হচ্ছেই।

রুপম - হুম, দিয়াদের বাড়িতেই আমাদের রেজিস্ট্রিটা হবে।


দিয়া - আমাদের বাড়ি?

রুপম - হুম, আমি আসছি ।




রাস্তায় দিয়া ও অনামিকা বাড়ি ফেরার সময়


 অনামিকা - দিয়া, একটা কথা বলি, আমার কাছে তো একদম টাকা নেই রে , রুপম তো বললো কালকেই রেজিস্ট্রি করবে অনেক অতিথিও তো আসবে।আমাকে তো অনেক শপিং করতে হবে। বলছি কি রুপম যে চেকটা দিলো সেটা আমাকে দিবে? আমি পরে তোকে দিয়ে দিবো।


দিয়া - এই নে,(চেকটি দিয়ে) আমার ঐ টাকার দরকার নেই রে।


অনামিকা - থ্যাংকস দিয়া,



পরের দিন বিকেল বেলা, রেজিস্ট্রি অফিসের লোক সহ সকলেই উপস্থিত । প্রত্যেকে রুপমের আসার অপেক্ষায়। রুপম এলো , তার মা,বাবাকে প্রণাম করলো, তার মা মাথায় হাত রেখে আশির্বাদ করলেও তার বাবা অন্য দিকে তাকিয়ে মুখ ফিরিয়ে ছিলো।


অনামিকা - তাহলে তুমি আগে রেজিস্ট্রি পেপারে সিগনেচার করো ( এই বলে রুপমের হাতে রেজিস্ট্রি পেপার তুলে দিলো।)


রুপমের মা - আমি বেঁচে থাকতে এই অন্যায় তোকে করতে দিবো না, বিয়ে যদি করতেই হয় তাহলে দিয়াকে বিয়ে করবি। আমার মাথার দিব্যি রইলো।( রেজিস্ট্রি পেপার টেনে নিয়ে বললো)।


অনামিকা - কেনো, কাকিমা আমাকে কি আপনার পছন্দ না?


রুপমের মা - ব্যাপারটা পছন্দ বা অপছন্দের না, তুমি তো জানো রুপম দিয়ার সাথে কি অন্যায় করেছে, সেদিন তো ,তুমি এই সবাইকে রুপমের আসল রূপ দেখিয়েছিলে, তাহলে আজ সেই খারাপ ছেলেটা কে কেনো বিয়ে করতে চাও? 


অনামিকা - না, কাকিমা, রুপম কোনো অন্যায় করেনি দিয়ার সাথে।


রুপমের মা - তাহলে দিয়ার ঘরে মাঝ রাত্রে কেনো গিয়েছিল রুপম, আর দিয়ার পোশাক কিভাবে ছিড়ে ছিলো?


অনামিকা - ওইসব তো আমি এই করেছিলাম 

( মুখ ফস্কে বলে ফেলে)।


রুপম - কি বললে?


অনামিকা - না আমি বলতে চাইলাম আমি কি করে জানবো?


রুপম - হুম, কিন্তু এই মুহুর্তে যে আমার কিছু করার নেই অনামিকা, আমি যদি এই মুহুর্তে নির্দোষ প্রমাণিত না হই, তাহলে তো আমাকে আমার মায়ের কথা মতো দিয়াকেই বিয়ে করতে হবে।


দিয়া - দরকার নেই রুপম , আমি জানি তুমি নির্দোষ , আর আমি চাই তুমি যাকে ভালোবাসো তাকেই বিয়ে করো।


রুপম - আমিও সেটাই চাই।


অনামিকা - তাহলে দেরি কেনো? সিগনেচারটা করো।


রুপম - আমি তো দিয়ার সাথে অন্যায় করেছি তাই আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে আমি দিয়া কেই বিয়ে করবো।


অনামিকা - কিসের অন্যায়? সেদিন আমি তোমাকে ফোন করে বলেছিলাম দিয়া অসুস্থ , আর দিয়ার জামা আমি ছিড়ে ছিলাম, তুমি তো শুধু অন্ধকারে হাটতে গিয়ে পড়ে গিয়েছিলে দিয়ার উপর।( মুখ ফস্কে বলে ফেলে)।


দিয়া - আমি তো এই অপেক্ষা তেই ছিলাম ।আমি তো জানতাম এই সব তোর কাজ, তার প্রমাণও আছে , রুপমের মোবাইলের কল রেকর্ড।



রুপম - ছি, অনামিকা ছি , কি ক্ষতি করেছিলাম আমি?( অনামিকাকে থাপ্পর মারে রুপম)।


অনামিকা - কাজটা কিন্তু ঠিক করলে না রুপম। 


বৃদ্ধা - একদম ঠিক কাজ করেছে রুপম ।


অনামিকা - এই বুড়ি তুই কোথা থেকে আসলি?


বৃদ্ধা - আমার নাতি অ্যাডভোকেট নেপাল মানে ডক্টর রুপম আমাকে নিয়ে এসেছে।


অনামিকা - তাহলে আমাকে জেলে তুমি পাঠিয়েছিলে রুপম? 


রুপম - হুম , আমি এই পাঠিয়েছিলাম, যখন তোমার জন্য সবাই আমাকে অবিশ্বাস করেছিলো তখন এই দিদাই আমাকে সাহস দিয়েছে। এই দিদার জন্যই আজ আমি ডক্টর হতে পেরেছি।



দিয়ার বাবা - বেরিয়ে যা তুই ( একটা থপ্পর দিয়ে টানতে টানতে অনামিকাকে বের করে দিলো)।


রুপমের মা - এত দিন আমাদের খোঁজ নিলি না কেনো রূপম?


রুপম - মা, নিয়েছি তো খোজ, রোজ সকালে আমাদের গ্রামের ছেলে পল্টু সেজে যে ফোন করতো তোমাদের সে তো আমিই ছিলাম। 


রুপমের বাবা - আমাদের ক্ষমা করিস , আমরা তোকে ভুল বুঝেছিলাম।


দিয়ার বাবা - রুপম , আমার দিয়া মা , তোমাকে খুব ভালো বাসে ,এই কথা সে আমাকে নিজে মুখে জানিয়েছে। আমি চাই তুমি ওকে বিয়ে করো।


দিয়া - না, বাবা যে এত দিন আমার কোনো খোঁজ খবর রাখেনি এত দিন তাকে আমি বিয়ে করবো না। 

( অভিমানে বললো)।


রুপম - কে বলেছে আমি খোজ রাখিনি? রোজ সন্ধ্যেবেলা যে রং নম্বর থেকে তোমার মোবাইল এ এসএমএস আসতো I love you সেটা আমি এই ছিলাম দিয়া। । 


রুপমের বাবা - তাহলে চার হাত এক হোক।


দিয়ার বাবার - একদম , হোক হোক।


রুপম - I love you diya ( দিয়ার কানে কানে বললো)

দিয়া - love you too রুপম


সকলে মিলে দিয়া ও রুপমকে আশির্বাদ করে। ওদের রেজিস্ট্রি বিয়ে দিলো।


সমাপ্ত


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Classics