Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Arka Nag

Classics


4.6  

Arka Nag

Classics


তৃতীয় রিপু

তৃতীয় রিপু

40 mins 465 40 mins 465

তৃতীয় রিপু

(১)

এপ্রিল মাসের এক সকাল। জলখাবার খেতে খেতে আমি আর অনমিত্র একসাথে বসে গল্প করছি। আধখানা ডিমসেদ্ধ মুখের ভিতর পুরে দিয়ে অনমিত্র বলল,"ডিমের মধ্যে কতরকম প্রোটিন আছে জানিস?"

হেসে বললাম,"না ভাই, জানা নেই। আমি তো তোর মতো ইস্কুল টিচার নই।"

-"তাহলে তোর ডিম খাওয়ার কোনো অধিকার নেই।"এই বলে আমার প্লেটের ডিমটা ও নিজে খেয়ে নিল।

"এইটা কিন্তু ঠিক করলি না তুই।এত বড় হয়ে গেলি তাও লোভ সম্বরণ করতে শিখলিনা তুই।"বলে আরো কিছু বলতে যাচ্ছিলাম তখনই অনমিত্রর মোবাইল বেজে উঠল।

"হ্যাঁ বলুন ইনস্পেক্টর রায়,কেমন আছেন?...ওই চলছে... আমাকে?... সে‌ কি .. আমাদের পাড়াতেই!!!...দত্তবাড়ি, তারাশঙ্কর দত্ত?... হ্যাঁ হ্যাঁ চিনি চিনি।.... পরিচারিকা... আচ্ছা আমি আসছি।"

-"চলো প্রতাপ,খুন হয়েছে দত্তবাড়িতে।"

-"বলো কি!!দত্তবাবু খুন হয়েছেন!!"

-"দত্তবাবু খুন হননি।খুন হয়েছে‌ ওই বাড়ির পরিচারিকা। বাকিটা গিয়ে ‌জানা যাবে।"

এইখানে পাঠকদের আমাদের পরিচয় দিয়ে রাখা প্রয়োজন। আমার নাম প্রতাপ সেন। আমি একটি বই ছাপানোর প্রেসের মালিক।তার সাথে একজন লেখক ও।আর আমার বন্ধু অনমিত্র সামন্ত হল একজন হাই স্কুল টিচার। কিন্তু এই কলকাতা শহরের লোক তাকে চেনে একজন দুর্ধর্ষ গোয়েন্দা হিসেবে। হ্যাঁ,ও একজন শখের গোয়েন্দা। ওকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি। ছোটো থেকেই লক্ষ্য করেছি অদ্ভুত রিসনিং অ‍্যাবিলিটি রয়েছে ওর মধ্যে।আর রয়েছে অগাধ জ্ঞান-সেটা পড়াশোনার বিষয়ে হোক বা খেলাধূলা বা রাজনীতি বা মাইথোলজি বা ফিলোজফি। তবে ওর সবচেয়ে ইন্টারেস্টের সাবজেক্ট হল গিয়ে সাইকোলজি।ও বলে‌ ভালো গোয়েন্দা হতে হলে নাকি হিউম্যান সাইকোলজিতে দখল থাকা অত্যাবশ্যক। এছাড়াও নাটক, আবৃত্তি, ছবি আঁকাতেও সে সমানভাবে পারদর্শী। সত্যি কথা বলতে আমি ওর মধ্যে কোনো অক্ষমতা খুঁজে পাইনি কখনো। শুধু গানটা ও ভালো গাইতে পারে না এই যা। অথচ এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী আমার এই বন্ধুটিকে অহংকার স্পর্শ করতে পারেনি লেশমাত্র। বাইরে থেকে দেখে ওকে এতই সাধারণ মনে হয় যে, বোঝাই যায় না ওর মধ্যে একটি অসাধারণ সত্ত্বা বিরাজমান। ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট হয়তো কোনোদিন সে ছিল না, তবে আমি বাজি ধরে বলতে পারি বুদ্ধিতে ওর সমকক্ষ ক্লাসে কেউ ছিল না।

যাই হোক, আমি আর অনমিত্র একই সাথে বালিগঞ্জে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকি। আমরা দুজনেই বিয়ে করিনি। ইদানিং কয়েকটা জটিল রহস্যের সমাধান করে অনমিত্রর বেশ খ্যাতি হয়েছে। পুলিশ মহলেও তার নামডাক কম হয়নি। কিন্তু ও বলে,"গোয়েন্দাগিরিটা শুধু আমার নেশা, পেশা নয়।"

(২)

দত্তবাড়িতে যখন পৌছালাম তখন বেলা এগারোটা। ফটকের গায়ে লেখা-গোধূলি,সন ১৩৮৫ ।তার মানে বাড়ির বয়স প্রায় চল্লিশ বছর।মেইন‌ গেট দিয়ে ঢুকে প্রায় ত্রিশ গজ লম্বা বাঁধানো একটি রাস্তা। রাস্তার দুপাশে বেশ সুন্দর বাগান। রাস্তা যেখানে শেষ হচ্ছে সেইখানে একটি সুন্দর দোতলা বাড়ি। সম্প্রতি বাড়ি রং করানো হয়েছে। বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখা হল ইনস্পেক্টর রায়ের সাথে।ইনি অনমিত্রর থেকে প্রায় বছর দশেকের বড়ো। যদিও অনমিত্রকে তিনি ছোটো ভাইয়ের মতোই স্নেহ করেন। ওকে দেখে রায় হেসে বললেন,"আরে, অনেকদিন পর দেখা। এই ত্রিশ বছর বয়সেই কিন্তু খুব নাম করে ফেলেছিস তুই।"উত্তরে একটু মৃদু হাসল অনমিত্র।

-"ব‍্যাপার কি বলুন তো?"

-"কাল বিকেলে এই বাড়ির পরিচারিকা ঊর্মিলা খুন হয়েছে‌।আর তার সাথে এই বাড়ির কর্তা তারাশঙ্কর দত্তর ট্রাঙ্ক থেকে একটা সোনার গণেশ মূর্তি চুরি হয়েছে।বডি আমি পোস্টমর্টেমে পাঠিয়েছি।আজ বিকেলের মধ্যে রিপোর্ট চলে আসবে।"

-"ব‍্যাপারটা একটু খুলে বলুন দয়া করে।যা জানতে পেরেছেন সব বলুন।"

-"হ‍্যাঁ বলছি,চল্ ওই চেয়ারে গিয়ে বসা যাক।"

আমরা তিনজন বাড়ির বারান্দায় তিনটে চেয়ার দখল করে বসলাম।

-"তারাশঙ্কর বাবুর ট্রাঙ্কে একটা মহামূল্যবান গণেশ মূর্তি ছিল। এখনকার দিনে তার দাম প্রায় ৫০ লাখ টাকা। ওই ট্রাঙ্কটিকে তারাশঙ্কর বাবু কখনো চোখের আড়াল হতে দিতেন না। মানুষটা এমনিতেই খুব সন্দেহপ্রবণ। কাউকে ঘরে ঢুকতে দেন না তিনি। নিজের ছেলে মেয়েদের ও‌ যখন তখন ওর ঘরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।উনার ধারণা ‌বাড়ির সবাই ওর ওই গণেশ মূর্তিটা চুরি করতে চায়।তার কথা থেকেই বোঝা যায় বাড়ির কাউকে তিনি বিশ্বাস করেন না।প্রায় রোজই ঘুমোনোর আগে দেখে নিতেন‌ তার মূর্তি ঠিকঠাক আছে কিনা। ছেলে-মেয়েদের প্রতিও যে তার খুব টান আছে এ কথাও বলা যায় না।যাই হোক এ বাড়ির নীচের তলায় থাকে তার দুই ছেলে এবং তাদের পরিবার। বড়ো ছেলে সমরবাবুর একটি মেয়ে,নাম সহেলী। মেয়েটি আর তার স্বামী রণজিৎ বোস এই দুদিন হল এখানে এসে রয়েছে। সমরবাবুর স্ত্রী মারা গিয়েছেন।আর ছোট ছেলে অমরবাবুর এক ছেলে আর এক মেয়ে।বিশ্বজিৎ আর অনন্যা।এই বিশ্বজিৎ ছেলেটি একদম ই বখাটে, বাজে ছেলে।ওর কথায় পরে আসছি, আগে ঘটনাটা পুরো বলে নিই। অনন্যা মেয়েটি একদমই দাদার বিপরীত। পড়াশোনা নিয়ে থাকে, বেশ মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে। কেমিস্ট্রি অনার্স, থার্ড ইয়ার।ওর দাদা ওর থেকে ২ বছরের বড়ো,অথচ এখনও গ্ৰ‍্যাজুয়েট হতে পারেনি। অমরবাবুর স্ত্রী নীলিমা দেবীর প্রশ্রয় পেয়েই বিশ্বজিৎ আরো বিগড়ে গিয়েছে। সমরবাবু এবং অমরবাবু দুজনেই ব্যাঙ্কে কাজ করেন,সমরবাবু আছেন ব্যাংক অফ বরোদায় আর অমরবাবু স্টেট ব্যাংক এ।আর বাড়িতে থাকত‌ ওই ঊর্মিলা নামের পরিচারিকা টি।ও তারাশঙ্কর বাবুর দেখাশোনা করত। এছাড়াও তাকে ওষুধ খাওয়ানো,ঘর পরিষ্কার করা এসব কাজ তো ছিলই। এমনিতে তারাশঙ্কর বাবুর বাতের ব্যাথার জন্য তিনি বেশি চলাফেরা করতে পারেন না,সবসময় নিজের ঘরেই থাকতেন।কাল উনি খবর পান যে তার অনেকদিনের পুরনো বন্ধু মিলন চক্রবর্তী হঠাৎ মারা গিয়েছেন।তাই বিকেলে‌ ঘন্টাখানেকের ‌জন্য তিনি চক্রবর্তী দের বাড়ি গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন...

কথা শেষ করতে পারলেন‌‌ না ইনস্পেক্টর রায়। আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন দুই ভদ্রলোক। দুজনেরই বয়স আন্দাজ ৫০-৫২।এনারা যে তারাশঙ্কর বাবুর ছেলে তা আর বলে দিতে হয় না। এদের মধ্যে একজন বলে উঠলেন,"আমাদের এভাবে ঘরের ভেতর আটকে রাখার কোনো মানে হয় না।"গলার স্বরে বিরক্তির ভাবটা স্পষ্ট ফুটে উঠল।

-"কি করবেন বলুন,অন্তত আজকের দিনটা তো‌ আপনাদের ‌ঘরেই থাকতে হবে তদন্তের স্বার্থে।"বললেন ইনস্পেক্টর রায়।একরাশ বিরক্তি মুখে ‌নিয়ে দুই ভদ্রলোক আবার চলে ‌গেলেন ভেতরে।

-"এনারা বোধহয় সমর‌ আর‌ অমরবাবু?"প্রশ্ন করল অনমিত্র।

-"হ্যাঁ। যিনি কথা বললেন তিনি ‌অমর দত্ত। ওরা আরো কিছু বলত, তবে আপনাকে দেখে আর কিছু বলল না।"

-"আচ্ছা, এনাদের মা মানে তারাশঙ্কর বাবুর স্ত্রীর কথা কিছু বললেন‌ না তো।"আমি জিজ্ঞেস করলাম।

-"উনি মারা ‌গিয়ছেন দশ বছর আগে।"

-"আচ্ছা,মিলন চক্রবর্তী মানে কি এই পাড়ারই মিলন চক্রবর্তী যিনি চ্যাটারড অ‍্যাকাউন্টেন্ট ছিলেন?"অনমিত্র জিজ্ঞেস করল।

-"হ্যাঁ, তিনি ই।"

-"ভদ্রলোককে আমি চিনতাম। খুব ভালো লোক ছিলেন। তিনি মারা গেছেন সত্যি জানতাম না।কবে মারা গেছেন তিনি?"

-"বোধহয় কালকেই।"

-"কাল এতকিছু হয়ে গেছে জানতেই পারিনি। যাই হোক, আপনি এই কেসটার কথা বলুন। তারপর ‌কি হল?"

-"তারাশঙ্করবাবু নিজের ‌ঘরে গিয়ে দেখলেন ঘরে ঊর্মিলার দেহ পড়ে রয়েছে আর তার লোহার ট্রাঙ্কটা নেই। প্রথমে ভাবলেন যে ঊর্মিলা বোধহয় অজ্ঞান হয়ে রয়েছে। কিন্তু কাছে গিয়ে বুঝলেন দেহে প্রাণ নেই। অথচ দেহে কোনো ক্ষতচিহ্ন নেই, ঘরের কোথাও কোনো রক্তের দাগ পর্যন্ত নেই। তারপর দেখতে পেলেন যে তার ট্রাঙ্কটা রয়েছে তারই খাটের তলায়।তারপর তার সন্দেহ হওয়াতে তিনি ট্রাঙ্ক খোলেন আর দেখেন তার গণেশ মূর্তি উধাও।"

-"তারপর?"

-"তারপর তিনি পুলিশে খবর দেন। আমরা লাশ পোস্টমর্টেম করতে পাঠিয়েছি আর সেই রিপোর্ট না এলে বোঝা যাবে না মৃত্যুর আসল কারণ। আমি বাড়ির সবাইকে আলাদা করে জেরা করেছি। তবে কারোরই অ‍্যালিবাই ভাঙ্গতে পারিনি। তারাশঙ্কর বাবু‌ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ঠিক বিকেল সাড়ে চারটের সময়,ফেরেন পৌনে ছ়টায়। সমরবাবু আর অমরবাবু তার একটু পরে ওই ছটা নাগাদ বাড়ি ঢোকেন প্রায় একইসাথে। বিশ্বজিৎ কলেজ থেকে বাড়ি ফেরে সোয়া ছ়টায়। বাড়ির সবাই সেটা কনফার্ম করেছে।"

-"বাড়ির সবাই যে ঠিক বলছেন তা হয়তো নাও হতে পারে। বিশেষ করে সময়ের ব্যাপারটা।আর বাড়িতে সেই সময় যারা ছিলেন তাদের কি অ‍্যালিবাই আছে?"

-" ওই মাঝের সময়টুকু নীলিমা দেবী ছাদে পায়চারি করছিলেন, অনন্যা আর সহেলী তাদের ঘরে ছিল, রণজিৎ বাবু বাগানে পায়চারি করছিলেন।আর রাধুঁনি রান্নাঘরে ছিল।তবে হ‍্যাঁ,এসবের কোনো প্রমাণ নেই। আপাতত আমাদের এটা ধরে চলতে হবে যে,এরা সব সত্যি কথা ‌বলছেন।"

-"আচ্ছা এই ঊর্মিলার ওপর বাড়ির কারো কি কোনোরকম বিদ্বেষ ছিল? না মানে, ঊর্মিলাকে খুন করার পেছনে তো কোনো একটা মোটিভ থাকবে।নইলে কেউ শুধু শুধু বাড়ির পরিচারিকাকে খুন করতে যাবে কেন?"

-"বাড়ির লোকের কথা থেকেই বোঝা যায় যে, ঊর্মিলা কে বাড়ির কেউই খুব একটা পছন্দ করত না।তার কারণ কিছুটা হলেও সে তারাশঙ্কর বাবুর বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছিল। যেটা বাড়ির আর কেউ পারেনি। ঊর্মিলার তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে যেতেও কোনো বাধা ছিল না। তাই মনে মনে হিংসে তো ছিলই বাড়ির লোকদের।আর তাই তো একমাত্র তারাশঙ্কর বাবু ছাড়া বাড়ির বাকি সবাইকেই সন্দেহ করা চলে। তাদের যে কেউ এ কাজ করতে পারে। আমি বাড়ির সকলের কল রেকর্ড ও চেক করে দেখেছি। কিন্তু সন্দেহজনক কোথাও কিছু পাইনি। আমার মনে হচ্ছে,চোর যখন গণেশ মূর্তি চুরি করছিল, ঠিক তখন ঊর্মিলা ওই ঘরে ঢোকে।তখন ঊর্মিলা কে খুন করা ছাড়া

চোরের আর কোনো উপায় থাকে না।বিশেষত সেই চোর যদি বাড়ির ই কেউ হয়ে থাকে আর ঊর্মিলা তাকে চিনে থাকে।"

-"কিন্তু তারাশঙ্কর বাবুর অনুপস্থিতিতে তো কারো তার ঘরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না। তাহলে সেই সময় ঊর্মিলা ওই ঘরে গিয়েছিল‌ কেন?"

-"তাহলে হয়তো ঊর্মিলা এই চুরির সাথে যুক্ত ছিল। হয়তো কেউ ঊর্মিলা কে চুরি করতে দেখে,তারপর তাকে খুন করে মূর্তি নিয়ে পালায়।"

-"ঊর্মিলার মৃত্যু ঠিক কিভাবে হয়েছে সেটা না জানা অবধি কিছুই বোঝা যাবে না। আচ্ছা মৃতদেহে কোনো সূঁচ বা ওই ধরণের কিছু ফোটাবার দাগ ছিল কি?"

-"না,সেরকম কিছু চোখে তো পড়েনি।"

-"আচ্ছা ওই ট্রাঙ্কে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যাইনি?"

-"ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে কিছু। সেগুলোর সাথে বাড়ির সকলের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে ম্যাচ করতে দিয়েছি। রাঁধুনির ও বাদ দিইনি। রিপোর্ট এখনও আসেনি।"

-"ট্রাঙ্কটা কি লক করা থাকত না?"

-"থাকত। চাবি সবসময় তারাশঙ্কর নিজের কাছে রাখতেন। এমনকি কালকেও তিনি চাবি সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন। তবে যদি ঊর্মিলা সত্যি চুরি করে থাকে তো তার পক্ষে ডুপ্লিকেট চাবি বানানো কিছুই অসম্ভব নয়।সে তো সবসময় তারাশঙ্কর বাবুর আশেপাশেই থাকত। কোনো একসময় হয়তো সুযোগ বুঝে চাবি নিয়ে সাবানে..."

-"আচ্ছা এই গণেশ মূর্তির কথা বাড়িতে কে কে জানত?"

-"সবাই।"

-"ঊর্মিলার বয়স কত ছিল?"

-"ওই ২৩-২৪।"

অনমিত্র খানিকক্ষণ চুপ করে মাটির দিকে তাকিয়ে কিছু ভাবল। তারপর বলল,"সবাই নিশ্চয়ই তাদের ঘরেই রয়েছে? আমি কি সবার সাথে একবার দেখা করতে পারি?"

-"নিশ্চয়ই।ওই জন্যই তো তোকে ডেকেছি রে।দেখ, আমরা তো চেষ্টা করছিই, তার সাথে তুই ও একটু ভাব কেসটা নিয়ে।তারপর যেহেতু তোর পাড়ার কেস,তাই কমিশনার সাহেব ও চান যে তুই পাশে‌ থাক।"

অনমিত্র বিনয়ের সুরে বলল,"আমরা এই পাড়ায় এসেছি এই ৬ মাস হল। এনাদের নাম শুনে থাকলেও পরিচয় নেই। পুলিশ ই এই কেসের সমাধান করবে সন্দেহ নেই, তবু আমিও মাথা‌ খাটাব‌ আর পুলিশকে সাহায্য করব কথা দিচ্ছি।চলুন, তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে যাওয়া যাক প্রথমে।

(৩)

দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে রায় বললেন,"আমরা সব ঘর সার্চ করা শুরু করেছি।দেখা যাক, কিছু পাওয়া যায় কি না।"

তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে ঢুকতেই প্রথমে যে জিনিসটার দিকে চোখ গেল, সেটা হল তার লোহার ট্রাঙ্ক। ভদ্রলোকের খাটের ঠিক পাশে‌ রাখা রয়েছে সেটা।লক্ষ্য করলাম ঘরটি বেশ বড়ো।আর সিলিং ও বেশ উঁচু। ভদ্রলোকের কথা ইনস্পেক্টরের মুখে যেটুকু শুনেছিলাম তাতে তাকে খিটখিটে মেজাজের বলে মনে করছিলাম। কিন্তু আমার সেই ধারণা ভুল ছিল।ভদ্রলোক তার খাটে বসে ছিলেন। ইনস্পেক্টর আমাদের পরিচয় করাতে তিনি হাত জোড় করে নমস্কার করে আমাদের ভেতরে আসতে বললেন।তার বয়স আন্দাজ ৮৫ কি ৮৬ হবে। কিন্তু ভদ্রলোকের চেহারা এই বয়সেও যে বেশ মজবুত, সেটা দেখলেই বোঝা যায়। যৌবনে তিনি যে বেশ সুপুরুষ ছিলেন সেটা অনুমান করাও শক্ত নয়। তবে সম্প্রতি বাড়িতে এইরকম ঘটনা ঘটে যাওয়ায় ভদ্রলোকের মুখখানি মলিন দেখাচ্ছে। আমরা তার ঘরে প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদের বসতে বললেন। ঘরে একটি সোফা ছিল। আমি আর ইনস্পেক্টর রায় সেখানে বসলাম, অনমিত্র বসল খাটে তারাশঙ্কর বাবুর পাশে। অনমিত্রকে উদ্দেশ্য করে তারাশঙ্কর দত্ত বললেন,"আপনার ব‍্যাপারে আমি খবরের কাগজে পড়েছি।আপনি যে এই পাড়াতেই থাকেন সেটাও শুনেছি। কিন্তু আলাপ হয়ে ওঠেনি কখনো আপনার সাথে। আমি তো বিশেষ ঘরের বাইরে বেরোই না কাল বেরিয়েছিলাম।আর দেখুন কি হয়ে গেল।এখন দেখুন আপনারা কিছু করতে পারেন কিনা।"বলে একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

"আমি আপনার থেকে বয়সে অনেক ছোটো। তাই দয়া করে আমাকে 'আপনি' বলে সম্বোধন করবেন না।আর আমি কথা দিচ্ছি যে, আপনার গণেশ মূর্তি খুঁজে বের করতে আমরা চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখব না।"বলল অনমিত্র।

-"মানুষ কতটা ‌নীচ হতে পারে যে একটা মূর্তির জন্য কাউকে খুন করতেও দ্বিধা করে না।"

-"আপনার কি মনে হয় বাড়ির ই কেউ এ কাজ করেছে?"

-"আমি নিশ্চিত যে এই কাজ বাড়ির লোকই করেছে।"

-"কাকে সন্দেহ করেন আপনি?"

-"নাম বলতে চাই না আমি। তোমরাই খুঁজে বের করো।"

-"আপনার এই ঘরে ঊর্মিলা ছাড়া কি আর কেউ আসত?"

-"হ্যাঁ আসত। অনন্যা আসত। আমার নাতনী। কিন্তু ও একাজ করতে পারে‌না।ও খুবই ভালো মেয়ে।আর খুব বুদ্ধিমতী। তুমি যে এই পাড়াতে ভাড়া এসেছ সেটা আমার নাতনীই আমাকে বলেছে। ওকে ছাড়া আর কাউকে আমি আমার ঘরে আসতে দিতাম না। বিশেষ করে ওই বখাটে বিশ্বজিৎ কে। কুলাঙ্গার ছেলে।এই বয়সেই মদ, গাঁজা, সিগারেট, জুয়া কিছু বাদ রাখেনি। ছিঃ!!"

-"আর আপনার ছেলেরা? ওদের ও কি আসতে দিতেন না আপনার ঘরে?"

--"না,দিতাম না। ওরা সবাই তৃতীয় রিপুর বশে আছে। ওদের জন্য আমার কোনো মায়া নেই। ওরা সবাই অপেক্ষা করে আছে আমার মৃত্যুর জন্য,যাতে আমার সমস্ত কিছু আত্মসাৎ করতে পারে। ওদের সবার লোভ ছিল ওই মূর্তিটার ওপর‌। সেটা আমি জানতাম।তাই সবসময় ট্যাঙ্কের চাবি নিজের কাছে রাখতাম। বাথরুমে গেলে হয় আমি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিতাম,নইলে ঊর্মিলা কে ঘরে পাহারা দিতে বলতাম।"

এতক্ষণে লক্ষ্য করলাম ঘরের সাথে একটা অ‍্যাটাচড বাথরুম‌‌ও আছে। অনমিত্র বলল,"তার মানে ঊর্মিলার ওপর আপনার বিশ্বাস ছিল?"

-"হ্যাঁ ছিল। কিন্তু বোধহয় আমি মানুষ চিনতে ভুল করেছি।"

-"আচ্ছা,ওই গণেশ মূর্তির সাইজ কিরকম ছিল?"

-"ছোটো। হাতের তালুর সমান। মূর্তিটা শুধু দামী তা নয়, যবে থেকে ওই মূর্তি আমাদের বংশে এসেছে, তবে থেকে দত্তবংশের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে। ওটা আমার বাবা আমাকে দিয়েছিল।বাবার মুখেই শুনেছি যে ‌ওই মূর্তি আসার আগে আমাদের সংসারের হাল খুব খারাপ ছিল।ওই মূর্তিটা পয়মন্ত। তাই আমি চাইনি,ওটা অন‍্য করোর হাতে পড়ুক। আমি জানতাম, ওই মূর্তিটা ওরা পেলে বিক্রি করে দেবে। কিন্তু শেষমেশ বাঁচাতে পারলাম না ওটাকে।"

-"ঊর্মিলা কি এই বাড়িতেই থাকত?"

-"হ্যাঁ।"

-"কতদিন ধরে সে আছে?"

-"প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল।"

-"ঊর্মিলা ওই মূর্তির কথা জানত?"

-"আমি তো তাকে কখনো বলিনি।অন‍্য কেও বলে থাকলে আমি জানিনা।"

অনমিত্র উঠে পড়ে বলল,"আমি কি আপনার ঘরটা একবার ভালো করে দেখতে পারি?"

-"হ‍্যাঁ,দেখো।"

অনমিত্র তখন ঘরের সব জিনিস ভালো করে পরীক্ষা করতে লাগল। ঘরে আসবাব বলতে খাট আর সোফা ছাড়া রয়েছে একটা আলমারি, একটা রাইটিং টেবিল আর দুটো চেয়ার। অনমিত্র প্রথমে ট্রাঙ্কটার দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু ঠিক তখনই ঘরে এসে ঢুকলো পুলিশের এক কনস্টেবল। অফিসার রায়কে উদ্দেশ্য করে সে বলল,"বিশ্বজিৎ এর ঘর থেকে এই চাবিটা পাওয়া গেছে। বিছানার তোষকের নীচে ছিল।"

-"দেখোতো,এটা দিয়ে ট্রাঙ্কটা খোলে‌ কি না।"নির্দেশ দিলেন রায়।

কনস্টেবলের কাছ থেকে চাবি নিয়ে সেই নির্দেশ পালন করল অনমিত্র। দেখা গেল, সেই চাবি ঘোরাতেই ট্রাঙ্কের তালা খুলে গেল। ট্রাঙ্কের ডালা খুলে দেখা গেল সেখানে কিছু কাগজপত্র আর খাতা ছাড়া আর কিছু নেই।

"এই ডুপ্লিকেট চাবির ব্যাপারে আপনি কি কিছু জানেন?"তারাশঙ্কর বাবুকে প্রশ্ন করলেন ইনস্পেক্টর রায়।

"না, আমার কাছে একটাই চাবি আছে।"বলে চাবিটা দেখালেন তিনি।

দুটো চাবি ভালো করে দেখে রায় বললেন,"এই চাবির‌ ই ডুপ্লিকেট বানানো হয়েছে।এখন আর কোনো সন্দেহ নেই যে ঊর্মিলা চুরির সাথে যুক্ত ছিল, কারণ সে ছাড়া আর কারোর পক্ষে ডুপ্লিকেট চাবি বানানো ‌সম্ভব নয়।কিন্তু তাহলে বিশ্বজিৎ ই...চলুন তাকেই জিজ্ঞেস করা যাক।"

তারাশঙ্কর বাবুকে নমস্কার করে আমরা তার ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।এইখানে দত্তবাড়ির নকশা সম্বন্ধে কিছুটা বর্ণনা দিয়ে রাখি। একতলায় মোট তিনটে বেডরুম আর রান্নাঘর। ঠিক তার ওপরেই দোতলার ঘরগুলো।এই ঘরগুলোর ঠিক মধ্যেখানে রয়েছে সিঁড়ি। দোতলায় সিঁড়ির ডান পাশে যে দুটি ঘর রয়েছে তার একটিতে তো আমরা এতক্ষণ ছিলাম,আর একটি ঘর তালাবন্ধ।তালাবন্ধ ঘরটির দিকে দেখিয়ে অনমিত্র জিজ্ঞেস করল,"ওই ঘরটাতে কি আছে?"

-"ওটা স্টোররুম। আমরা দেখেছি। কয়েকটা ভাঙ্গা আসবাবপত্র আর বাক্স ছাড়া কিছুই নেই। তুই দেখবি?"

-"না থাক।আর এইটা?"বলে সিঁড়ির ডানপাশের প্রথম ঘরটার দিকে দেখাল।

-"ওইটা অনন্যার ঘর।"

-"আর বিশ্বজিৎ এর ঘর কোনটা?"

-"ওপরের ছাদে একটা ঘর রয়েছে।ও ওখানেই থাকে।"

-"বেশ, আপনি ওপরে গিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করুন চাবির ব্যাপারে। আমি আর প্রতাপ ততক্ষণে অনন্যার সাথে কথা বলে আসি।"

(৪)

তারাশঙ্কর বাবুর মতো না হলেও অনন্যার ঘরকে বড়োই বলা চলে। আমরা দুজনে দুটো চেয়ারে ‌বসলাম।

-"তোমার দাদুর গণেশ মূর্তির কথা তুমি জানতে নিশ্চয়ই?"

-"হ‍্যাঁ জানতাম।"উত্তর দিল অনন্যা।

-"তুমি সেই মূর্তির কথা বাড়ির বাইরের কাউকে বলেছিলে?"

-"না, কাউকে বলিনি।"

-"এইমাত্র ওই ট্রাঙ্কের একটা ডুপ্লিকেট চাবি তোমার দাদার ঘর থেকে পাওয়া গেছে। তোমার কি মনে হয় তোমার দাদা ই একাজ করেছে?"

অনন্যা খানিকক্ষণ চুপ করে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর বলল,"চুরির ব‍্যাপারে আমি জানি না, কিন্তু আমি জোর দিয়ে বলতে পারি ‌দাদা কাউকে খুন করতে পারে না।"

-"কিন্তু চুরি করতে পারে,তাই তো?"

-"কিন্তু দাদা তো সেই সময় বাড়িতে ছিল না।"

-"সে ব্যাপারে তুমি নিশ্চিত?"

-"হ‍্যাঁ, দাদা বাড়ি এল দাদু ফেরার পরে।"

-"কতক্ষণ পরে?"

-"প্রায় পনেরো মিনিট।আর তা ছাড়া আমি ছাদে গিয়েছিলাম ওই সাড়ে পাঁচটা নাগাদ।তখন দেখলাম দাদা ওর ঘরে নেই।"

-"এই গোটা পরিবারে‌ তারাশঙ্কর বাবু শুধু তোমাকেই ভালোবাসেন। পরিবারের বাকি সদস্যরা কি তাই জন্য তোমাকে হিংসে করে?"

-"করে। বিশেষ করে সহেলীদি‌। তাছাড়া মা আমার দাদুর ঘরে যাওয়া পছন্দ করে না। আমি লুকিয়ে লুকিয়ে যাই।"

-"রণজিৎ বাবুর সাথে তোমার দাদুর কিরকম সম্পর্ক ?"

-"উনি দাদুর ঘরে বিশেষ আসেন না।আর তিনি তো এখানে থাকেন না।"

-"উনি মানুষ হিসেবে কেমন?"

-"আমি ওর ব‍্যাপারে বিশেষ কিছু জানিনা। তবে তাকে দেখে ভালোমানুষ ই মনে হয়।"

-"অর্থাৎ তিনি একাজ করেননি?"

-"তার গণেশ মূর্তির ওপর লোভ থাকা উচিৎ নয়।তার তো টাকার অভাব নেই। কিন্তু জানিনা কার মনে কি আছে। দয়া করে বাড়ির লোকের সম্বন্ধে আপনি আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না।"

-"বেশ। এটা বলো যে,কাল তোমার দাদু যখন বাড়ি ছিলেন না,তখন তুমি দাদুর ঘর থেকে কোনো শব্দ শুনতে পাওনি? তোমার ঘর আর

তোমার দাদুর ঘর তো পাশাপাশি।"

খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে অনন্যা বলল,"হ‍্যাঁ পেয়েছিলাম। আমি হেডফোনে গান শুনছিলাম। হঠাৎ একটা ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পেলাম মনে হল।আর তার খানিকক্ষণ পরেই একটা খসখসে আওয়াজ পেলাম। কোনো ধাতব জিনিস মাটিতে ঘষার শব্দ। ভাবলাম ঊর্মিলা বোধহয় দাদুর ঘর পরিষ্কার করছে। তারপর মনে হল কেউ সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল।"

-"তখন ক'টা বাজে?"

-"ওই দাদু বেরোনোর মোটামুটি আধঘন্টা পরে।ওই সোয়া পাঁচটা হবে।"

-"তারাশঙ্কর বাবু তখন ঘরে ছিলেন না।তাও উনার ঘরে এরকম শব্দ শুনতে পেয়ে তোমার সন্দেহ হয়নি?"

-"না,কারণ রোজ বিকেলেই ঊর্মিলা ঘর পরিষ্কার করত দাদুর।কালকেও আমি সেটাই মনে করেছিলাম।"

-"এই ব্যাপারটা তুমি পুলিশকে জানিয়েছ?"

-"হ্যাঁ।"

-"তারাশঙ্কর বাবু ঠিক কখন ফেরেন?"

-"ওই পৌনে ছ়টা নাগাদ।"

-"ঊর্মিলাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি কি তোমাকে খবর দেন?"

-"না, তিনি বারান্দায় এসে চিৎকার শুরু করেন। আমি আর মা তখন ছাদে ছিলাম। আমরা চিৎকার শুনে নীচে নেমে আসি। দাদুর ঘরে গিয়ে দেখি ঊর্মিলা অসাড় হয়ে পড়ে আছে।তার মধ্যেই বাবা আর জ‍্যেঠু ফিরে আসে। ওরাই তারপর পুলিশে খবর দেয়।"

-"যখন তোমরা ওই ঘরে গেলে তখন ঊর্মিলার পাশে কি কোনো চাবি পড়ে থাকতে দেখেছিলে?"

-"কই না তো।"

-"তোমার দাদার ঘর কি সবসময় খোলা থাকে?"

-"হ‍্যাঁ। দাদা কখনো ঘর লক করে বাইরে যায় না।"

অনমিত্র উঠে পড়ল। আমরা বেরিয়ে যাচ্ছিলাম। দরজার মুখে এসে অনমিত্র বলল,"একটা শেষ প্রশ্ন অনন্যা। সোয়া পাঁচটার সময় রণজিৎ বাবু কোথায় ছিলেন তুমি বলতে পারবে?"

-"না।"

-"অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।আসি।"

‌ (৫)

বিশ্বজিৎ ছেলে যেমন ই হোক তার ঘরখানি কিন্তু আমার খুব ভালো লাগল। আমরা যারা সামান্য লেখালেখি করি, তাদের জন্য এই ধরণের ঘর একদম আদর্শ। চিলেকোঠা‌ বলতে যা বোঝায়, বিশ্বজিৎ এর ঘর কিন্তু সেরকম নয় ঠিক। ছাদের ওপর বেশ সুন্দর একখানি ঘর। পুলিশ তখন বিশ্বজিৎ এর ঘর দ্বিতীয়বার খানা তল্লাশি করছে। ওকে দেখিয়ে ইনস্পেক্টর রায় বললেন,"খুব চালাক ভাবে ও নিজেকে,বুঝলি অনমিত্র।"

-"আর কিছু পেলেন?"জিজ্ঞেস করল অনমিত্র।

-"এখনও অবধি না।"

এইসময় লক্ষ্য করলাম ঘরের দেওয়ালে কয়েকটি ছবি টাঙ্গানো রয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বজিৎ একজন খুব ভালো স্পোর্টসম‍্যান।

অনমিত্র সেই ছবিগুলো দেখতে দেখতেই বলল,"তুমি তো খুব ভালো একজন অ‍্যাথলিট।"

বিশ্বজিৎ কোনো উত্তর দিল না। অনমিত্র ওর পাশে গিয়ে বসল। লক্ষ্য করলাম বিশ্বজিৎ এর চুল উস্কোখুস্কো, চেহারা শুকনো। বোধহয় সারা রাত ঘুমোয়নি। ফর্সা মুখখানি কেমন যেন ফ‍্যাকাসে দেখাচ্ছে। সে যে খেলাধুলা করে সেটা তার চেহারা দেখলেই বোঝা যায়। অনমিত্র বলল,"পুলিশকে নিশ্চয়ই তুমি সব বলেছ, শুধু একটা কথা বলো যে ওই মূর্তির কথা কি বাড়ির বাইরের কেউ জানে?"

-"আমি কিছু জানি না।"প্রচণ্ড বিরক্তির সাথে জবাব দিল বিশ্বজিৎ।

-"কে এই কাজ করেছে তা জানো?"

-"না।"

ইনস্পেক্টর রায় বললেন,"সব জানে এই ছেলেটা।থানায় নিয়ে গিয়ে দু ঘা দিলেই সব কথা বেরিয়ে আসবে।"

আমি বিশ্বজিৎ কে দেখছিলাম একদৃষ্টে। কি অসম্ভব জেদী ছেলে! দেখলাম ওর চোখ দিয়ে যেন আগুন বেরোচ্ছে।

অনমিত্র আমাকে আর ইনস্পেক্টরকে নিয়ে ওর ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ছাদটা একবার ঘুরে এসে অনমিত্র প্রশ্ন করল রায়কে,"চাবির ব্যাপারে বিশ্বজিৎ কি বলছে?"

-"ওই সবাই যা বলে।ও নাকি জানেই না চাবি কি করে ওর তোষকের তলায় এল।"

অনমিত্র কি একটা ভাবল। তারপর বলল,"চলুন বাকিদের সাথে কথা বলা যাক। নিচে চলুন।"

আমরা সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে এলাম।

(৬)

"আপনি তো সেই সময় ছাদে ছিলেন। আপনি কি কাউকে বাড়িতে ঢুকতে বা কাউকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখেছিলেন?"নীলিমা দেবীকে প্রশ্ন করল অনমিত্র।

-"না।"

-"তারাশঙ্কর বাবুর ট্রাঙ্কের একটা ডুপ্লিকেট চাবি বিশ্বজিৎ এর ঘর থেকে পাওয়া গেছে। আপনি জানেন?"

-"বিশ্বজিৎ কিছু করেনি,ও তো সেই সময়..."কিছু একটা বলতে গিয়ে থেমে গেলেন তিনি।

-"সেই সময় কি?"

-"সেই সময়.... সেই সময়... কলেজে ছিল।"ভদ্রমহিলার চোখে একটা শঙ্কার ছাপ ফুটে উঠল যেটা আমাদের দৃষ্টি এড়াল না।

-"আর ঊর্মিলাকে কে মেরেছে আপনি জানেন?"

-"না। তবে যেই মেরে থাকুক, আমার ছেলে মারেনি।"

আমরা নীলিমা দেবীর ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।

-"ভদ্রমহিলা যে কিছু লুকোচ্ছেন তাতে সন্দেহ নেই।"অনমিত্র বলল।

-"আচ্ছা, অমরবাবু কে ঘরে দেখলাম না কেন? তিনি কোথায় গেলেন?"আমি প্রশ্ন করলাম।

-"তিনি বোধহয় তার দাদার ঘরে আছেন।চলো তাদের সাথে দেখা করা যাক।"

ইনস্পেক্টর রায় এইসময় আমাদের সাথে ছিলেন না।তার একটা ফোন আসায় তিনি থানায় চলে যান। কিন্তু পুলিশ তখনো ঘরে ছিল।আর সাব ইন্সপেক্টর মজুমদার তখন প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন।

সমরবাবু আর অমরবাবু আমাদেরকে একরকম এড়িয়েই গেলেন।বোধহয় আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া তারা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করলেন। দু-একটি কথার মধ্যে দিয়ে তারা যেটা বললেন সেটা হল এই যে তারা সেইসময় বাড়ির বাইরে ছিলেন, তাই কে একাজ করেছে সেটা তাদের জানা নেই।

এরপর আমরা গেলাম সহেলীর ঘরে।সহেলী আমাদের থেকে বোধহয় সামান্য ছোটো। যদিও মেয়েদের বয়স আন্দাজ করা কঠিন, তবু মনে হয় তার বয়স ছাব্বিশ-সাতাশের বেশি হবে না।

-"বাড়িতে যে খুন আর চুরি হয়েছে, সেই ব্যাপারে আপনি কি আমাদের কিছু বলতে পারেন?"অনমিত্র প্রশ্ন করল।

-"আপনি তো পুলিশ নন।"

-"না,তা নই। কিন্তু পুলিশকে এই কেসে আমি সামান্য সাহায্য করছি মাত্র। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন,এই রহস্যের সমাধান হোক।"হেসে বলল অনমিত্র।

-"রহস্যের কিছুই নেই। আমি কি আর জানিনা এ কার কাজ।"

-"কার কাজ?"

-"বললে তো আবার আমিই খারাপ হয়ে যাব।ওই আদরের নাতনীকে জেরা করুন,সব জানতে পারবেন।"

-"অনন্যা খুন করতে পারে কি?"

-"ও সব করতে পারে। দাদুকে যে মেয়ে হাত করতে পারে, সে সব পারে।ওর মুখ দেখে ওকে ভালোমানুষ ভাবতে যাবেন না যেন।"

-"বুঝেছি।আয় প্রতাপ।"

দত্তবাড়িতে আসার পর থেকেই একটি লোককে আমরা এঘর থেকে সেঘর ঘুরে বেড়াতে দেখছিলাম। সেই লোকটিকে দেখতে পেলাম এবার রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসতে। তিনি আর কেউ নন, তিনি সহেলীর হাজবেন্ড রণজিৎ বাবু।

অনমিত্র নিজের পরিচয় দিতেই তিনি বললেন,"আরে আপনার নাম আমি শুনেছি। বেহালার জোড়া খুনের কেসটা তো আপনি না থাকলে কোনোদিন সলভ ই হত‌ না।আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনি এই ব্যাপারটার ও একটা সমাধান করতে পারবেন।চলুন একটু নিরিবিলিতে গিয়ে কথা বলি।"ভদ্রলোকের কথায় অনমিত্রর প্রতি একটা শ্রদ্ধার ভাব ফুটে উঠল।

আকাশ মেঘলা ছিল,রোদের তাপ ছিল না। তাই আমরা তিনজন বাড়ির সামনের বারান্দায় এসে দাঁড়ালাম।

রণজিৎ বাবু গলার স্বর একটু নামিয়ে বললেন,"এ বাড়ির সবাই জানে এসব কে করেছে, কিন্তু বলবে না। আমি আপনাকে বলছি অনমিত্রবাবু,একাজ বিশ্বজিৎ ছাড়া আর কারো হতেই পারে না।"

-"কিন্তু সে তো সেইসময় কলেজে ছিল।"

-"আর আপনারা সে কথা বিশ্বাস করেন!এসব আগে থেকেই প্ল‍্যান করা ছিল।"

-"কিরকম?"

রণজিৎ বাবু গলার স্বর আরো নামিয়ে নিয়ে বললেন,"ওই ঊর্মিলা আর বিশ্বজিৎ এর মধ্যে একটা সম্পর্ক ছিল। তাদেরকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় আমি নিজে দেখেছি।এখন ভেবে দেখুন, দুজনে মিলে ট্রাঙ্ক থেকে মূর্তি চুরি করার প্ল‍্যান করেই থাকতে পারে। সম্ভাবনাটা কি খুব অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়?"

এই নতুন তথ্য পেয়ে আমরা প্রথমটা একটু অবাক ই হয়েছিলাম। অনমিত্র বলল,"না, অবিশ্বাস্য মনে হয় না। কিন্তু আপনি তো সেইসময় এই বাড়ির সামনের বাগানে ছিলেন। বাড়ির সামনে দিয়ে যদি সে বেরিয়ে যেত, তবে আপনি তো তাকে দেখতে পেতেন। তাই নয় কি?"

-"আরে আমি একটানা তো ছিলাম না এখানে। মাঝে মাঝে নিজের ঘরে যাচ্ছিলাম। সেই ফাঁকেই হয়তো কখনো..."

-"বেশ। কিন্তু বিশ্বজিৎ ঊর্মিলাকে খুন করল কেন?"

-"এ তো খুব সোজা। ঊর্মিলাকে যাতে ভাগ না দিতে হয়, তাই তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিল আর কি।"

-"কি উপায়ে খুন করেছে বলতে পারেন?"

-"উঁহু, না।"

-"ঊর্মিলা ঠিক কখন মারা গিয়েছে জানেন?"

-"সোয়া পাঁচটা।"কথাটা বলেই ভদ্রলোক তাড়াতাড়ি বললেন,"মানে আমার আন্দাজ। আচ্ছা, আমি না ঘরে যাই।"বলে তাড়াতাড়ি ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।

অনমিত্র হেসে বলল,"আগ বাড়িয়ে কত কথা বলে গেলেন রণজিৎ বাবু।"

-"ভদ্রলোক এরকম হুঠ করে চলে গেলেন কেন?"আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

-"একটু বেশিই বলে ফেলেছেন সেটা হঠাৎ খেয়াল হতেই সরে পড়লেন।

ঠিক এইসময় সাব-ইনস্পেক্টর মজুমদার ফিরে এলেন।

-"প্রতিবেশীরা কিছু বলতে পারল?"মজুমদারকে প্রশ্ন করল অনমিত্র।

"না, কেউ কিচ্ছু জানে না। তারাশঙ্কর বাবুর ছেলেরা প্রতিবেশীদের সাথে খুব একটা মেশেন না।"

-"এখন তাহলে কি করবেন?"

-"একজন কনস্টেবলকে এখানে রেখে আমরা থানায় ফিরব।"

-"আমরাও বাড়ি ফিরব এবার। কিন্তু তার আগে ওই পেছনের বাগানটা একবার দেখে আসি।"

বাড়ির পেছনের দিকে জমি খুব সামান্যই। অনমিত্র চারদিক ঘুরে দেখতে লাগল। বাড়ির দেওয়াল থেকে সামান্য দূরে কিছু ছোটো ছোটো ফুলগাছ ছিল। তারমধ্যে একটা অপরাজিতা গাছ সামান্য কাত হয়েছিল একপাশে। অনমিত্র সামনে ঝুঁকে পড়ে ওই গাছটাকে দেখতে লাগল। তারপর উঠে দাঁড়িয়ে পেছন দিকে বাড়িটাকে দেখতে লাগল খুব মন দিয়ে।

-"কি দেখছিস?"প্রশ্ন করলাম ওকে।

তারাশঙ্কর বাবুর ঘরের ঘুলঘুলির দিকে দেখিয়ে অনমিত্র বলল,"ওই দেখ। পুরোনো বাড়ি হওয়ায় দত্তবাড়ির প্রত্যেকটা ঘরের একটা বিশেষত্ব‌ আছে। সেটা হল ঘরের ঘুলঘুলি গুলো আকারে অনেক বড়ো আর লম্বা।আর তার মাঝখানটা ফাঁকা।"

-"কিন্তু ওই ঘুলঘুলি দিয়ে তো আর মানুষ গলে ঘরের মধ্যে যেতে পারবেনা।"হেসে বললাম আমি।

-"আমি কি তাই বললাম? ঘুলঘুলি দিয়ে যে চোর পালায়নি সেটা আমিও বুঝতে পারছি।"

-"তাহলে চোর‌ বা খুনি কিভাবে পালাল?"

-"সেটা জানা গেলে তো কেস এতক্ষণে সল্ভ হয়ে যেত রে।আর একটা জিনিস খেয়াল করে। প্রত্যেকটা ঘরের সিলিং এর লেভেলে যে রুফবিট গুলো রয়েছে সেগুলো বেশ চওড়া। অর্থাৎ অনায়াসে কেউ ওই রুফবিটের ওপর দাঁড়াতে পারে।"

-"কিন্তু ওটা তো অনেকটাই উঁচু।"

-"তাতে কি হয়েছে?ওই দেখ ওই পাইপটা,ওই সানসেডটা। ওগুলোর সাহায্যে যে কেউ ওই রুফবিটে পৌঁছে যাবে। ব্যাপারটা কঠিন। কিন্তু অসম্ভব নয়।বিশেষ করে কেউ যদি ভালো স্পোর্টসম‍্যান হয়, তবে তার জন্য তো নয়ই।"

-"স্পোর্টসম‍্যান... মানে... বিশ্বজিৎ!! কিন্তু ও ওই রুফবিটের ওপর দাঁড়িয়ে করবে টা কি?"

থুতনিতে হাত বোলাতে বোলাতে ও বলল,"বাদ দে,চল ওই বাউন্ডারি ওয়ালটা দেখি।"

দেখলাম,ওই দেওয়ালের পাঁচিল টপকানো বিশেষ একটা কঠিন ব্যাপার নয়। স্কুলে পড়ার সময় এইরকম পাঁচিল অনেক টপকেছি। অনমিত্র দেওয়ালের গায়ে কি যেন দেখল।বলল,"এখানে ফুটপ্রিন্ট খোঁজা বৃথা।চল,যা দেখার তা দেখা হয়ে গেছে।"

ঘড়িতে দেখলাম, পৌনে একটা। মজুমদারকে দেখতে পেয়ে অনমিত্র জিজ্ঞেস করল,"আচ্ছা, ঊর্মিলার বাড়িতে আর কে কে আছে তা খোঁজ নিয়েছেন?"

-"কেউ নেই আপাতত।এক দিদি ছিল যার বিয়ে হয়ে গেছে। সে এখন পাটনায় থাকে।"

-"আচ্ছা। আমরা এখন বাড়ি যাই। আপনি ইনস্পেক্টর রায়কে একটু বলে দেবেন যে, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে যেন আমাকে কল করেন একবার।আর ওই চাবিটা কোথায়?"

-"ওটা ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য স‍্যার নিয়ে গেছেন।"

-"আচ্ছা।"

(৭)

দুপুরে খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলাম,"কাকে সন্দেহ করছিস?"

-"সবাইকেই সন্দেহ করা চলে। চুরির মোটিভ তো সবারই রয়েছে।"

-"আর খুন?"

-"ওটা হিট অব দি মোমেন্ট হতে পারে। আবার চুরি এবং খুন দুটো সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনাও হতে পারে।"

-"বলিস কি!!আমার তো মনে হয় এসব বিশ্বজিৎ এর ই কাজ।"

-"হতেই পারে।"

-"আচ্ছা,তুই কি অনন্যাকে ও সন্দেহ করছিস?"

-"তাকে সন্দেহ না করার কি কোনো বিশেষ কারণ আছে? ভেবে দেখ,ওর পক্ষে চুরি করা সবচেয়ে সোজা।"

-"তা ঠিক, তবে কি সে.."

-"এখনও অবশ্য সেরকম মনে করার কোনো কারণ ঘটেনি।"

-"একজনকে জেরা করতে তুই কিন্তু ভুলে গেছিস।আমার ও অবশ্য খেয়াল ছিল না..."

-"রাঁধুনি তো?"

-"হ্যাঁ।"

-"ওর কথা মনে আছে। বাড়িতে সবার সামনে ওকে প্রশ্ন করে কোনো লাভ হত না।"

খাওয়া শেষ করে অনমিত্র‌ সোজা নিজের ঘরে চলে গেল। আমি ও খবরের কাগজ ওল্টাতে লাগলাম। ঠিক বিকেল পাঁচটার সময় অনমিত্র নিজের ঘর‌ থেকে বেরিয়ে এসে বলল,"ইনস্পেক্টর রায় ফোন করেছিলেন। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এসে গেছে। মাথার পেছনে কোনো এক ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করার ফলে ব্রেন হ‍্যামারেজ হয়,যার কারণে মৃত্যু হয়েছে। শরীরে আর কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।"

-"কিন্তু বাড়িতে ওই ধরণের কোনো ভারী কিছু পাওয়া যায়নি তো।"বললাম আমি।

-"সেটাই তো ভাবাচ্ছে আমাকে। এমনকি রান্নাঘরে শিল-নোড়া পর্যন্ত নেই। সেটা থাকলেও বা একটা কথা ছিল। ও,আর একটা কথা, ডুপ্লিকেট চাবিতে ঊর্মিলা আর বিশ্বজিৎ এর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেছে।"

-"তাহলে তো আর কোনো সন্দেহই নেই যে ‌বিশ্বজিৎ ই দোষী।"

-"উপস্থিত সব প্রমাণ তো তাই বলছে।রায় জানালেন যে,ওয়ারেন্ট ইস্যু করতে পাঠানো হয়েছে। কালকেই হয়তো ওকে অ‍্যারেস্ট করা হবে। কিন্তু সে কথা পরে হবে,এখন চল তাড়াতাড়ি দত্তবাড়ি। কয়েকটা জিনিস জানার আছে।চল্,চল্।

তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে যাওয়ার জন্য দোতলায় উঠতে উঠতে ল‍্যাণ্ডিং এ একটা জায়গায় থেমে গেল অনমিত্র। দেখলাম ও তাকিয়ে রয়েছে সেখানে রাখা একটা স্টিলের ফোল্ডিং মইয়ের দিকে। ঠিক তখনই ছাদ থেকে নামছিলেন নীলিমা দেবী। ভদ্রমহিলা সকালে আমাদের সাথে বেশ মেজাজের সাথেই কথা বলছিলেন।এখন দেখলাম তার ভাব পুরোটাই বদলে গেছে। তিনি অনমিত্রর কাছে এসে অনুনয়ের সুরে বললেন,"আপনি আমার ছেলেকে বাঁচান।ও নির্দোষ।"

-"আপনার ছেলে যদি নির্দোষ হয়, তাহলে তার কিছু হবে না। কিন্তু তার জন্য তাকে সত্যি‌ কথা বলতে হবে, যেটা সে বলছে না। আপনি ওর মা। আপনি বোঝান ওকে।"বলল অনমিত্র।

ভদ্রমহিলা এবার কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন। আমি তাকে স্বান্তনাসূচক কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু অনমিত্র আমাকে বাধা দিল।

-"এই মইটা বাড়িতে কোন কাজে ব্যবহার করা হয় নীলিমা দেবী?"

-"ওটা বাগানে গাছ থেকে ফল ফুল পাড়ার জন্য কেনা হয়েছে। তবে মাঝে মাঝে ঊর্মিলা ঘরের সিলিং পরিষ্কার করত।"থেমে থেমে বললেন ভদ্রমহিলা।

-"আপনি এখন ঘরে যান নীলিমা দেবী। আমি আবার বলছি, বিশ্বজিৎ যদি সত্যি নিরপরাধ হয়, তবে আমি তার কিছু হতে দেব না।"

নীলিমা দেবী বোধহয় সামান্য আশ্বস্ত হলেন এই কথায়।একতলায় নিজের ঘরের দিকে পা বাড়ালেন তিনি।

(৮)

তারাশঙ্কর বাবু ঘরে বসে বই পড়ছিলেন। আমরা তার ঘরে ঢুকতেই তিনি বললেন,"এসো এসো,বোসো।"বলে সোফার দিকে দেখালেন।

-"না না,এখন আর আপনাকে বিরক্ত করব না। শুধু দুটো প্রশ্ন করতে চাই আপনাকে, যদি আপনি অনুমতি দেন।"

-"নিশ্চয়ই।"

-"মিলনবাবুর মৃত্যু সংবাদ আপনি ঠিক কখন আর কিভাবে পান?"

-"সকাল ১০ টায়।ওর ছেলে আমাদের বাড়ি এসেছিল।ওই আমাকে জানাল যে মিলন আর নেই।"

-"তখন না গিয়ে বিকেলে আপনি আপনার বন্ধুকে দেখতে গেলেন কেন?"

-"কারণ বিকেলে ওর দেহ দাহ করতে নিয়ে যাবে সেটা ওর ছেলে আমাকে বলেছিল। আমি আর মিলন খুব ভালো বন্ধু ছিলাম।তাই ওর শেষ যাত্রার সময় আমি থাকতে চেয়েছিলাম। তাই বিকেলেই যাওয়া স্থির করি।"

মিলন চক্রবর্তীর মৃত্যুর সাথে ঊর্মিলার মৃত্যুর কি সম্পর্ক তা বুঝতে পারলাম না। লক্ষ্য করলাম,কথা বলতে বলতে অনমিত্র বার বার ঘরের সিলিং আর ঘুলঘুলির দিকে তাকাচ্ছে।

-"শেষ প্রশ্ন আপনাকে। ঊর্মিলার হাইট কত ছিল?"

-"সে বেশ লম্বা ছিল।প্রায় পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি কি সাত ইঞ্চি হবে।"

-"ঠিক আছে।আর কিছু জানার নেই আমার। আমরা আসি।"বলে নমস্কার জানিয়ে আমরা বেরিয়ে এলাম।

এরপর আমরা সোজা চলে গেলাম ছাদ এর ঘরে।দু হাতের ওপর মুখ রেখে বসেছিল বিশ্বজিৎ। দরজায় দুবার টোকা দিতেই সে আমাদের দিকে তাকাল‌।

"কেন এসেছেন আপনারা?"বলে ঘৃণার চোখে আমাদের দিকে তাকাল।

-"তোমাকে সাহায্য করতে।"

-"আমার আপনার সাহায্য চাই না।আর শুনুন আমাকে ফাঁসালে আপনাদের কাউকে আমি ছেড়ে দেব না।"

এই হুমকিতে কর্ণপাত না করে অনমিত্র প্রশ্ন করল,"কাল কখন কলেজ গিয়েছিলে?"

-"বারোটা।"

-"আচ্ছা ‌রণজিৎ বাবু কেমন লোক?"

-"ও একটা শয়তান। আমি খারাপ ছেলে। কিন্তু নিজেকে ভালো প্রমাণ করার চেষ্টা করিনা। কিন্তু ওই শালা রণজিৎ লোকের সামনে ভালো সেজে বেড়ায়, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা ......

-"কিন্তু তুমি পরশু ওই রুফবিটে উঠেছিলে কেন?"

দেখলাম বিশ্বজিৎ এর মুখ নিমেষে ফ‍্যাকাসে হয়ে গেল।বলল,"আমি কিছু জানিনা, আপনারা বেরিয়ে যান আমার ঘর থেকে।"

-"যদি তুমি বুঝতে যে আমরা তোমার শত্রু নই,বন্ধু...চল‍্ প্রতাপ‌।"

একতলার বারান্দায় এসে অনমিত্র বলল,"আমি আরেকবার বাড়ির পেছনের বাগানে ঘুরে আসি। তুই এখানেই থাক।"

পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ফিরে এল ও।ঘড়ি দেখে বলল,"ছ'টা দশ। সাড়ে ছটায় রান্নার মেয়েটি বেরোবে। রাস্তায় তাকে ধরব।

দত্তদের বাড়ি থেকে বেরোতে যাচ্ছি, তখনই পেছন থেকে একটা ডাক শুনতে পেলাম।

-"অনমিত্রবাবু।"রণজিৎ বাবু এগিয়ে এলেন।

-"বলুন রণজিৎ বাবু।"

-"কিছু জানা গেল?"

-"যা জানা গেছে তাতে বলতে হয় বিশ্বজিৎ ই অপরাধী।"

-"আমি তো বলেই ছিলাম আপনাকে।অল্প বয়সে বখে যাওয়া ছেলে। আমি একবার ওকে সদুপদেশ দিতে গিয়েছিলাম, তাতে ও আমাকে কত কথা শুনিয়ে দিয়েছিল। সেই থেকে আর কিছু বলিনা। মানুষকে ভালো বলতে নেই বুঝলৈন‌‌ কি না।"

-"আপনি কবে এসেছেন?"

-"পরশু এসছিলাম। কালকে চলে যাব। আমি ব্যবসাদার লোক মশাই।আমার এখানে পড়ে থাকলে চলবে? নেহাত অনেকদিন পর একটু কাজ হাল্কা হয়েছিল।আর তাছাড়া সহেলীও অনেক করে অনুরোধ করছিল তাই এসেছি আর কি।"

-"আপনার কিসের ব্যবসা?"

-"ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট।"

-"আপনার বাড়ি কোথায় সেটাই জানা হয়নি।"

-"আমার বাড়ি সোনারপুর।"

-"ব্যবসা কি ওখানেই?"

-"হ্যাঁ।"

-"আমরা বরং এখন আসি।পরে আবার দেখা হবে।"

-"আমরা তো কাল চলে যাচ্ছি।এরকম ঘটনা ঘটে যাওয়ায় সহেলীও আর থাকতে চাইছে না। তবে আপনার সাথে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগল।আশা করি আপনি খুনীকে ধরতে পারবেন।"বলে করমর্দন করলেন আমাদের সাথে।

(৯)

তারাশঙ্কর বাবুর বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটা মোড় ঘুরেই একটা চায়ের দোকান ছিল। আমরা সেখানে দাঁড়িয়ে চা খেতে লাগলাম আর অপেক্ষা করতে লাগলাম দত্তবাড়ির রাঁধুনির। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। মিনিট তিন চার যেতে না যেতেই দেখতে পেলাম ওকে।

"আরে শোনো শোনো...এই যে এদিকে"ডাক দিল অনমিত্র।

ভয়ে ভয়ে এগিয়ে এল সে আমাদের দিকে।

-"কি নাম তোমার?"

-"জয়া।"

-"দেখো আমরা পুলিশের ‌লোক নই। কয়েকটা প্রশ্ন করব তোমাকে?"

ভয়ে ভয়ে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলল জয়া।

-"আচ্ছা জয়া, তুমি কি কাল বিকেলে কাউকে দোতলায় ‌যেতে দেখেছিলে?"

-"না, আমি তো রান্নাঘরে সবজি কাটছিলাম রাতের খাবার বানানোর জন্য।"

-"কখন রান্না করতে আসো তুমি?"

-"দিনে দু'বার আসি। একবার সকাল ন'টায় আর একবার বিকেল চারটেয়।"

-"ওই মূর্তিটার কথা তুমি জানতে?"

-"না।"

-"ঊর্মিলা আর বিশ্বজিৎ এর মধ্যে সম্পর্ক ছিল, একথা সত্যি?"

কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে সে বলল,"হ্যাঁ, ঊর্মিলা বিশ্বজিৎ কে ভালোবাসত।"

-"আর বিশ্বজিৎ?"

-"বলতে পারব না।"

-"আর রণজিৎ বাবু কেমন লোক সেটা বলতে পারবে?"

-"ও একদম ভালো লোক নয়।

আমাকে ও খুব বিরক্ত‌ করে জানেন। আমার গায়ে হাত দিতে চেষ্টা করে।ওর নজর ভালো নয় বাবু।"

-"ও কি ঊর্মিলাকেও বিরক্ত করত?"

-"হ্যাঁ,যখনই উনি আসেন।"

-"উনি কি মাঝে মাঝেই আসেন?"

-"তিন-চার মাস অন্তর অন্তর। উনি আসলেই আমার ভয় করে।"

-"ঊর্মিলা ওই মূর্তির ব্যাপারে তোমাকে কখনো কিছু বলেছিল?"

-"না।"

-"ঠিক আছে, তুমি এসো।"

-"দেখলি তো কতকিছু জানা গেল।"বলল অনমিত্র।

বাড়ি যেতে যেতে আমি বললাম,"কিছু বুঝতে পারলি?"

-"অন্ধকার অনেকটাই কেটেছে, হাল্কা আলোর রেখা দেখতে পাচ্ছি। এখন এটুকুই বলতে পারি যে,এই ঘটনায় ওই ঘুলঘুলি টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।সমস্ত রহস্য ওখানেই লুকিয়ে আছে।"

-"মানে?"

-"মানে পরে হবে। আগে ইনস্পেক্টর রায়কে একটা ফোন করা যাক।"বলে পকেট থেকে মোবাইল বের করল।ফোন করে অনমিত্র দুটো প্রশ্ন করল।আর তার উত্তরে জানা গেল,সমরবাবু আর অমরবাবু সত্যি সেসময় অফিসে ছিলেন, রণজিৎ বাবুর ইমপোর্ট-এক্সপোর্টের ব্যবসা ও বেশ ভালো চলে।আমি বললাম যে তাহলে রণজিৎ বাবুর লোভ থাকা উচিৎ নয় ওই গণেশ মূর্তির ওপর। উত্তরে অনমিত্র বলল,"যাদের প্রচুর আছে,তাদের চাহিদার কখনো শেষ হয় না।"

(১০)

সন্ধ্যাবেলা ওকে দেখলাম দত্তবাড়ির নকশাটা কাগজে এঁকে খুব মন দিয়ে দেখছে।বলল,"তারাশঙ্কর বাবুর ঘরের ঠিক নীচে সমরবাবুর ঘর। তিনি সেইসময় ঘরে ছিলেন না। যদি থাকতেন তো ওপরের ঘরের আওয়াজ তার কানে আসত। যাই হোক, একটা ব‍্যাপারে খটকা লাগছে আমার।"

-"কোন ব্যাপারে?"

-"ট্রাঙ্ক থেকে মূর্তি চুরি করে চোর ট্রাঙ্কটাকে খাটের নিচে ঢুকিয়ে দিল কেন? ওটা তো ছিল দেওয়ালের দিকে জানলার নীচে।"

-"এটা সত্যি খুব মজার ব্যাপার।"

-"মজার নয় রে প্রতাপ।এর পিছনে কোনো এক অভিসন্ধি নিশ্চয়ই আছে। আরো একটা ব্যাপার খেয়াল করার মতো। সেটা হল, যদি খুব তাড়াতাড়ি ট্রাঙ্কটাকে সরিয়ে পালাতে হয়, তবে তাকে শারীরিকভাবে বেশ সমর্থ হতে হবে।আমি ট্রাঙ্কটাকে টেনে দেখেছি, ওটা বেশ ভারী। মনে আছে, অনন্যা বলেছিল, যে ওই ঘর থেকে একটা metallic জিনিস ঘষার শব্দ শুনেছিল। সেটা হল এই ট্রাঙ্কটাকে সরাবার শব্দ।"

-"ট্রাঙ্কে কারো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি?"

-"ঊর্মিলা আর তারাশঙ্কর বাবু ছাড়া আর কারোর পাওয়া যায়নি।"

রাতে খাওয়ার সময় ওকে সেই প্রশ্নটা করলাম, যেটা আমার সকাল থেকে মাথায় ঘুরছিল,"আচ্ছা ওই তারাশঙ্কর বাবু তখন বললেন যে তার ছেলেরা তৃতীয় রিপুর বশে আছে।এই তৃতীয় রিপু‌ টা কি?"

-"মানুষের ছ'টি 'রিপু' মানে শত্রু আছে। সেগুলো হল কাম,ক্রোধ, লোভ,মোহ,মদ আর মাৎসর্য।এই শত্রু গুলোই হল মানুষের বিনাশের কারণ। একসাথে এদের ষড়রিপু বলে। তাহলে এবার হিসেব করে বল, তৃতীয় রিপু কোনটা।"

-"ও তাহলে উনি বললেন যে ওঁর ছেলেরা লোভের বশে‌ রয়েছে।"

-"একদম ঠিক। এবার আমি তোকে একটা প্রশ্ন করছি।বল তো দত্তবাড়ির ছেলেদের মধ্যে কারা‌ রুমাল সাথে রাখে?"

আমি ভাবতে লাগলাম,"ছেলেদের মধ্যে.. ছেলে... সমরবাবু.. হ্যাঁ সমরবাবুকে দেখলাম রুমাল দিয়ে মাঝে মাঝেই মুখ মুছছিলেন।"

-"আর?"

-"আর কাউকে তো দেখিনি।"

-"রণজিৎ বাবু ও রুমাল সাথে নিয়ে ঘোরেন।তুই খেয়াল করিসনি ওর ট্রাউজারের পকেটে রুমাল ছিল। বাকিরাও অবশ্য রাখতে পারে সাথে। কিন্তু...।"বলে চুপ করে গেল।

-"রুমাল দিয়ে কি হবে?"

-"কিছু না।"

দুজনেরই খাওয়া হয়ে গেছিল। আমরা উঠে পড়লাম। খানিকক্ষণ আর কোনো কথা হল না আমাদের মধ্যে।

‍রাতে ঘুমোনোর আগে ভাবছিলাম কে অপরাধী হতে পারে।চোর আর খুনী কি একই লোক নাকি আলাদা?কে হতে পারে? ....বিশ্বজিৎ?... সমরবাবু?.. অনন্যা?... রণজিৎ বাবু?...সহেলী?... মাথা ভোঁ ভোঁ করতে লাগল।আমি জিজ্ঞেস করলাম,"আচ্ছা অনমিত্র, তুই কি জয়াকে ও সন্দেহ করিস?"

-"না। আগে করছিলাম,এখন আর করছি না।"

-"আমার তো কিছুই মাথায় ঢুকছে না।"

এইসময় অনমিত্র আমাকে খুব বোকা বোকা একটা প্রশ্ন করে বসল।

-"নয় আর ছয় যোগ করলে কত হয়?"

আমি খুব হেসে বললাম,"কালকে আমার সাথে যাবি। নার্সারি স্কুলে ভর্তি করে দেব। ওখানেই জানতে পারবি নয় আর ছয় কত হয়।"

-"মনে হচ্ছে কেসটা সল্ভ হয়ে গেল বুঝলি। ব্যাপারটা বোধহয় আমি ধরতে পারছি।"

-"বলিস কি!বল তাহলে কি বুঝতে পারলি?"

-"এখন না।কাল সব জানতে পারবি।এখন ঘুমো।গুড নাইট।"

(১১)

পরদিন ছিল রবিবার। অনমিত্রর ঠেলা খেয়ে উঠে পড়লাম। ঘড়িতে দেখি সাড়ে আটটা। অনমিত্র বলল,"সকাল সকাল চক্রবর্তী দের ওখান থেকে ঘুরে এলাম। তুই রেডি হয়ে নে তাড়াতাড়ি। দশটায় দত্তবাড়ি যেতে হবে। সবাইকে থাকতে বলে দিয়েছি। ইনস্পেক্টর রায় ও থাকবেন।আজকেই ক্লাইম‍্যাক্স।"

আমি জানতাম,এখন জিজ্ঞেস করলে ও কিছুই বলবে না। আমরা জলখাবার খেয়ে রেডি হয়ে দশটা বাজার তিন মিনিট আগেই পৌঁছে গেলাম। আমরা পৌঁছানোর দশ মিনিটের মধ্যে ইনস্পেক্টর রায় ও দুজন কনস্টেবল নিয়ে চলে এলেন। উনি বললেন,"ওয়ারেন্ট নিয়ে এসেছি। আসামীকে নিয়েই যাব আজকে।"

অনমিত্র সামান্য হেসে বলল,"চলুন।"

নাটকের শেষ অঙ্কের জন্য তারাশঙ্কর বাবুর ঘরেই মঞ্চ সাজানো হয়েছিল। দত্তবাড়ির প্রত্যেকেই এমনকি জয়া ও ঘরে উপস্থিত ছিল। রণজিৎ বাবু প্রচাণ্ড অসন্তুষ্ট হয়েছেন সেটা বোঝা গেল তার কথায়,"আমার তো এতক্ষণে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিছু মাল আসবে দোকানে। কিন্তু আপনাদের জন্য যেতে পারলাম না। অফিসার কাউকে তো ঘর থেকে বেরোতেই মানা করে দিয়েছেন।"

অনমিত্র বলল,"বেশিক্ষণ কাউকে আটকে রাখা হবে না। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সবাই ফ্রি হয়ে যাবেন।আর অপরাধী কে সেটা শুনে যাবেন না?"

-"বেশ, কিন্তু তাড়াতাড়ি করুন।"বলে অন‍্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বসলেন।

অনমিত্র শুরু করল,"আপনাদেরকে বিব্রত করার জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু আমার মনে হয়, প্রকৃত ঘটনাটা কি সেটা আপনাদের সবার জানা উচিৎ। তাইজন্য আপনাদের সবাইকে এখানে থাকতে বলা।দেখুন,এই কেসটা বাইরে থেকে যতই জটিল মনে হোক না কেন, ব্যাপারটা কিন্তু আদৌ জটিল নয়। বরং উল্টোটা, ব্যাপারটা জলের মতো সোজা। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ভাবে সেটাকে কঠিন বানানো হয়েছে।আর সেটাই আমি এখন আপনাদের বলব।"

একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে অনমিত্র আবার বলতে শুরু করল,"তারাশঙ্কর বাবু সবসময় নিজের ঘরেই থাকতেন। বাতের ব্যথার জন্য তিনি ঘর থেকে বেরোতেন না। এমনকি তিনি প্রায় রোজই রাতে শোবার আগে ট্রাঙ্ক খুলে দেখতেন যে তার মূর্তি ঠিক আছে কিনা।ওই মূর্তিটিকে তিনি পয়মন্ত মনে করতেন বলেই তিনি চাননি যে সেটা অন‍্য কারোর হাতে চলে যাক। এখানে বলে রাখি যেটা আমি বলব সেটা সম্পূর্ণ আমার অনুমান। কিন্তু আমার দৃঢ় বিশ্বাস এছাড়া আর কিছু ঘটতে পারে না।যাই হোক, তারাশঙ্কর বাবুর এত সতর্কতার মধ্যে তার ট্রাঙ্ক খুলে মূর্তি চুরি করা ছিল একরকম অসম্ভব ব্যাপার। সুযোগের অপেক্ষায় চোর অনেকদিন ধরেই ছিল,আর সেই সুযোগ ই অপ্রত্যাশিত ভাবে চলে আসে পরশুদিন। তারাশঙ্কর বাবু জানতে পারেন যে তার কাছের বন্ধু মারা গেছেন। তাই তিনি স্থির করেন, বিকেলে বন্ধুকে শেষ বারের মতো দেখতে যাবেন।আর এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করছিল এই বাড়িরই দুজন লোক।তারা দুজনে মিলে একটা খুব চমৎকার প্ল‍্যান বানায়।এই দুজনের মধ্যে একজন ছিল ঊর্মিলা।আর একজন কে ছিল আপনি বলতে পারেন রণজিৎ বাবু?"

-"আমি কি করে বলব?"বললেন রণজিৎ বোস।

-"তুমি কি কিছু বলবে? নাকি আমিই বলব?"প্রশ্নটা করা হল বিশ্বজিৎ কে।

বিশ্বজিৎ চুপ করে মাথা নীচু করে বসে রইল।

-"বেশ আমিই বলি তবে।সেই আরেকজন ছিল বিশ্বজিৎ। বিশ্বজিৎ আর ঊর্মিলা একে অপরকে ভালোবাসত।আর সেটা সত্যিকারের ভালোবাসাই ছিল। বিশ্বজিৎ ই ওই মহামূল্যবান মূর্তির কথা ঊর্মিলাকে জানায়। ঊর্মিলার পক্ষে ওই ট্রাঙ্কের চাবি চুরি করা কোনো কঠিন ব্যাপার ছিল না। তারাশঙ্কর বাবু ওই চাবি তার বালিশের তলায় রাখতেন আর ঊর্মিলা ওই ঘরে তো যাতায়াত করতই। আমার বিশ্বাস কোনো এক সময়ে ঊর্মিলা তারাশঙ্কর বাবুর চোখকে ফাঁকি দিয়ে চাবি নিয়ে সাবানে তার ছাপ নেয়।তারপর সেই ছাপ নিয়ে বিশ্বজিৎ ঊর্মিলাকে ডুপ্লিকেট চাবি বানিয়ে এনে দেয়। সেই চাবিটা হয়তো বিশ্বজিৎ নিজের কাছেই রেখেছিল। ঘটনার দিন যখন ও জানতে পারল যে, বিকেলে তারাশঙ্কর বাবু ঘরে থাকবেন না,তখন চাবিটা ঊর্মিলার হাতে দিয়ে দেয় কোনো এক সময়ে। ওরা জানত যে, চুরি করার পর মূর্তিটা বাড়িতে রাখলে তারা ধরা পড়ে যাবে।বলা তো যায় না, হয়তো বাইরে থেকে এসেই তারাশঙ্কর বাবু ট্রাঙ্ক খুলে দেখবেন আর পুলিশে খবর দেবেন।তখন ঊর্মিলা কে বা ওর ঘর সার্চ করলেই সেটা বেরিয়ে পড়বে।আর তারাশঙ্কর বাবুর প্রথম সন্দেহ পড়বে ওঁর নাতির ওপর কারণ তিনি নাতিকে ভালো চোখে দেখেন না। কাজেই বিশ্বজিৎ ও নিজের কাছে মূর্তি রাখতে পারবে না। তাই ও ঠিক করে সেইসময় ও বাড়ির বাইরে থাকবে আর সেটাই হবে ওর অ‍্যালিবাই।"

-"কিন্তু তাহলে চুরিটা হল কিভাবে?"অনমিত্রকে থামিয়ে প্রশ্ন করলেন সমরবাবু।

-"সেটা বুঝতে হলে ভালো করে ওই ঘুলঘুলিটা লক্ষ্য করুন। ঊর্মিলা মাঝে মাঝেই ঘরের সিলিং পরিষ্কার করত সিঁড়িতে রাখা মইয়ের সাহায্যে।একদম ওই ঘুলঘুলিগুলোর নীচে রয়েছে একটা রুফবিট। বিশ্বজিৎ আর ঊর্মিলার প্ল‍্যান ছিল এই যে, ঊর্মিলা মূর্তি চুরি করে ওই মই বেয়ে উপরে উঠে ঘুলঘুলির মধ্যে দিয়ে সেটা ফেলে দেবে আর পেছনের পাঁচিল টপকে এসে জলের পাইপ আর সানসেড বেয়ে ওই রুফবিটে উঠে সেই মূর্তিটাকে লুপে নেবে বিশ্বজিৎ।তারপর সেটা নিয়ে নেমে আবার পেছনের পাঁচিল টপকে বাড়ির বাইরে কোথাও রেখে আসবে।ফলে বিশ্বজিৎ এর ঘর সার্চ করলেও কিচ্ছু

পাওয়া যাবে না। পাঁচিল টপকানো বা সানসেড বেয়ে ওঠা বিশ্বজিৎ এর পক্ষে কঠিন কিছু নয়।এই ঘরের হাইট প্রায় ১২ ফুট।আর ঊর্মিলার প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট।সব ফোল্ড গুলো খুললে মইটাও প্রায় ন'ফুট লম্বা হয়।দুয়ে-দুয়ে চার খুব সহজেই হয়ে যায় না কি?"

এতক্ষণ চুপ করে বসেছিল বিশ্বজিৎ। এবার মুখ খুলল সে।"আপনি যেটা বললেন সেটা প্রমাণ করতে পারবেন?"

-"নিশ্চয়ই পারব। পেছনের দেওয়ালে তোমার জুতোর ছাপ রয়েছে।আর তাছাড়া ও তোমাদের বাড়ির পেছনের গলি নির্জন হলেও গলি দিয়ে বেরিয়েই যে মুদির দোকানটা রয়েছে তার মালিক সেদিন তোমাকে ওখান থেকে বেরোতে দেখেছে ঠিক বিকেল সোয়া পাঁচটায়। তুমি বোধহয় খেয়াল করোনি যে ওপর থেকে লাফিয়ে নামার সময় তোমার পা নীচে থাকা একটা অপরাজিতা গাছের ওপর পড়ে।যার কারণে সেটা এখনও একদিকে কাত হয়ে রয়েছে। ওই গাছটাকে না দেখলে অবশ্য আমার সন্দেহ হত না।এতসব প্রমাণের দরকার হত না যদি সমরবাবু ঘরে থাকতেন,কারণ তার ঘরের জানলার নীচেই রয়েছে ওই অপরাজিতা গাছ। তিনি নিশ্চয়ই সেক্ষেত্রে তোমাকে ওপর থেকে লাফিয়ে নামতে দেখতে পেতেন। তুমি সেইসময় কলেজে ছিলে না। কলেজে কেউ কারো খোঁজ রাখে না। তোমাকে চুপি চুপি বাড়িতে আসতে দেখে ফেলেছিলেন নীলিমা দেবী। কি তাই তো?"

নীলিমা দেবী একবার অনমিত্রর দিকে তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিলেন।

-"সে না ‌হয় বুঝলাম, কিন্তু ঊর্মিলাকে কে খুন করল?"প্রশ্ন এল‌ তারাশঙ্কর বাবুর কাছ থেকে।

-"ওকে কেউ খুন করেনি।ওর মৃত্যু নিছক একটা দুর্ঘটনা।"

-"দুর্ঘটনা!!!"বাড়ির প্রায় সবাই একসাথে বলে উঠল। আমি আর ইনস্পেক্টর রায় ও প্রচণ্ড অবাক হলাম। সকলেরই দৃষ্টি তখন অনমিত্রর দিকে।

-"আজ্ঞে হ্যাঁ।একজন অত্যন্ত নীচ এবং নোংরা মানসিকতার লোক ঊর্মিলার মৃত্যুকে খুনের আকার‌ দিয়েছ। কি ঠিক বলছি তো রণজিৎ বাবু?"

রণজিৎ বাবু গম্ভীর গলায় বললেন,"মানে?"

-"মানেটা আপনি খুব ভালো করেই জানেন। বাকিটা আপনি নিজের মুখে স্বীকার করবেন কি?"অনমিত্র কঠিন দৃষ্টিতে তাকাল রণজিৎ বাবুর দিকে। তিনি চোখ মেলাতে পারলেন না ওর সাথে।

-"আপনি কি বলতে চাইছেন বলুন তো?"

-"আমি বলতে চাইছি যে আপনি ইচ্ছা করে বিশ্বজিৎ কে ফাঁসানোর জন্য ঊর্মিলার মৃত্যুকে খুনের রূপ দিয়েছেন। ঊর্মিলার মৃত্যু কিভাবে হয়েছিল বলুন সবাইকে।"কড়া ধমকের সুরে কথাটা বলল অনমিত্র।

এদিকে রণজিৎ বাবুর মুখ দেখলাম নিমেষে কালো হয়ে গেছে।ওর দিকে তাকিয়ে অনমিত্র বলল,"বলবেন না তো? ঠিক আছে আমি বলছি।ওই মই বেয়ে যে ঊর্মিলা ওপরে উঠেছিল সেটা তো আপনাদের আমি বলেছি।নামার সময় অসাবধানতাবশত ঊর্মিলার পা সরে যায়। সম্ভবত মইয়ের একদম ওপরের ধাপ থেকে পেছনদিক করে পড়ে যায় সে,আর তার ফলে মাথার পেছনে আঘাত লাগে তার।ওই ট্রাঙ্কের সাথে সজোরে ধাক্কা লাগে তার মাথার।ব্রেন হ‍্যামারেজ, তৎক্ষণাৎ মৃত্যু।এই মৃত্যুকে বিধাতার পরিহাস ছাড়া আর কিছুই বলা যাবে না। অনেক ঘটনা ঘটেছে যেখানে ত্রিশ ফুট ওপর থেকে পড়েও মৃত্যু হয়নি, আবার এখানে দেখুন ন'ফুট ওপর থেকে পড়ে.... পুলিশ যে ভারী অস্ত্র খুঁজছিল,সেটা হল তারাশঙ্কর বাবুর ওই ট্রাঙ্ক।"

-"হতেই পারে না। গাঁজাখুরি গল্প বলা বন্ধ করুন"চেঁচিয়ে উঠলেন রণজিৎ বোস।

-"এখনও তো আপনার কির্তীর কথা বলিনি রণজিৎ বাবু।সবাই জানুক আপনি কতটা জঘন্য কাজ করেছেন।"

-"আপনি তখন থেকে আমার হাজবেন্ডকে অপমান করছেন। কি করেছে ও?"প্রশ্ন করল সহেলী।

-"রণজিৎ বাবুর স্বভাবই হল বাড়ির কাজের মেয়ে, রান্নার মেয়েদের ‌নানাভাবে বিরক্ত করা। ঊর্মিলার ওপর ও তার খারাপ নজর ছিল। এইজন্য বিশ্বজিৎ একদিন ওকে খুব করে কথা শোনায়। রণজিৎ বাবুর মনে সেই থেকে বিশ্বজিৎ এর ওপর রাগ জন্ম নেয়।সেইদিন..."

-"এসব কি উল্টোপাল্টা বকছেন আপনি.."গর্জে উঠলেন রণজিৎ বাবু।

-"আপনি চুপ করুন।" পাল্টা ধমক দিলেন ইনস্পেক্টর রায়।

"তুই বলতে থাক অনমিত্র।"

অনমিত্র আবার বলতে লাগল,"সেদিন তার স্বভাবের বশেই ঊর্মিলাকে ফলো করে তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে পৌঁছান রণজিৎ বাবু। আড়াল থেকে সমস্ত ব‍্যাপারটা দেখেন তিনি।তারপর ঊর্মিলা ওইভাবে হঠাৎ মারা যাওয়াতে তার মাথায় একটা প্ল‍্যান আসে। উনি চুপচাপ ঘরে‌ আসেন, ট্রাঙ্কটাকে খাটের তলায় ঢুকিয়ে দেন, ডুপ্লিকেট চাবিটা নেন,মইটা সিঁড়িতে রেখে আসেন।তারপর কোনো এক সময় বিশ্বজিৎ এর ঘরে গিয়ে ওই চাবিটা তার তোষকের নীচে রেখে আসে যাতে পুলিশ সার্চ করলে খুব সহজেই সেটা পাওয়া যায়। ব্যাপারটা তিনি এমনভাবে সাজান‌ যাতে দেখে মনে হয় উর্মিলাকে কেও খুন করে মূর্তি চুরি করে পালিয়েছে।তারপর তিনি আমাদের আগ বাড়িয়ে বিশ্বজিৎ এর দোষ সম্বন্ধে বলতে থাকেন যাতে প্রথম সন্দেহ তার ওপরই যায়। বিশ্বজিৎ কে ফাঁসালে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ হত।-"হতেই পারে না। গাঁজাখুরি গল্প বলা বন্ধ করুন"চেঁচিয়ে উঠলেন রণজিৎ বোস।

-"এখনও তো আপনার কির্তীর কথা বলিনি রণজিৎ বাবু।সবাই জানুক আপনি কতটা জঘন্য কাজ করেছেন।"

-"আপনি তখন থেকে আমার হাজবেন্ডকে অপমান করছেন। কি করেছে ও?"প্রশ্ন করল সহেলী।

-"রণজিৎ বাবুর স্বভাবই হল বাড়ির কাজের মেয়ে, রান্নার মেয়েদের ‌নানাভাবে বিরক্ত করা। ঊর্মিলার ওপর ও তার খারাপ নজর ছিল। এইজন্য বিশ্বজিৎ একদিন ওকে খুব করে কথা শোনায়। রণজিৎ বাবুর মনে সেই থেকে বিশ্বজিৎ এর ওপর রাগ জন্ম নেয়।সেইদিন..."

-"এসব কি উল্টোপাল্টা বকছেন আপনি.."গর্জে উঠলেন রণজিৎ বাবু।

-"আপনি চুপ করুন।" পাল্টা ধমক দিলেন ইনস্পেক্টর রায়।

"তুই বলতে থাক অনমিত্র।"

অনমিত্র আবার বলতে লাগল,"সেদিন তার স্বভাবের বশেই ঊর্মিলাকে ফলো করে তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে পৌঁছান রণজিৎ বাবু। আড়াল থেকে সমস্ত ব‍্যাপারটা দেখেন তিনি।তারপর ঊর্মিলা ওইভাবে হঠাৎ মারা যাওয়াতে তার মাথায় একটা প্ল‍্যান আসে। উনি চুপচাপ ঘরে‌ আসেন, ট্রাঙ্কটাকে খাটের তলায় ঢুকিয়ে দেন, ডুপ্লিকেট চাবিটা নেন,মইটা সিঁড়িতে রেখে আসেন।তারপর কোনো এক সময় বিশ্বজিৎ এর ঘরে গিয়ে ওই চাবিটা তার তোষকের নীচে রেখে আসে যাতে পুলিশ সার্চ করলে খুব সহজেই সেটা পাওয়া যায়। ব্যাপারটা তিনি এমনভাবে সাজান‌ যাতে দেখে মনে হয় উর্মিলাকে কেও খুন করে মূর্তি চুরি করে পালিয়েছে।তারপর তিনি আমাদের আগ বাড়িয়ে বিশ্বজিৎ এর দোষ সম্বন্ধে বলতে থাকেন যাতে প্রথম সন্দেহ তার ওপরই যায়। বিশ্বজিৎ কে ফাঁসালে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ হত।-"হতেই পারে না। গাঁজাখুরি গল্প বলা বন্ধ করুন"চেঁচিয়ে উঠলেন রণজিৎ বোস।

-"এখনও তো আপনার কির্তীর কথা বলিনি রণজিৎ বাবু।সবাই জানুক আপনি কতটা জঘন্য কাজ করেছেন।"

-"আপনি তখন থেকে আমার হাজবেন্ডকে অপমান করছেন। কি করেছে ও?"প্রশ্ন করল সহেলী।

-"রণজিৎ বাবুর স্বভাবই হল বাড়ির কাজের মেয়ে, রান্নার মেয়েদের ‌নানাভাবে বিরক্ত করা। ঊর্মিলার ওপর ও তার খারাপ নজর ছিল। এইজন্য বিশ্বজিৎ একদিন ওকে খুব করে কথা শোনায়। রণজিৎ বাবুর মনে সেই থেকে বিশ্বজিৎ এর ওপর রাগ জন্ম নেয়।সেইদিন..."

-"এসব কি উল্টোপাল্টা বকছেন আপনি.."গর্জে উঠলেন রণজিৎ বাবু।

-"আপনি চুপ করুন।" পাল্টা ধমক দিলেন ইনস্পেক্টর রায়।

"তুই বলতে থাক অনমিত্র।"

অনমিত্র আবার বলতে লাগল,"সেদিন তার স্বভাবের বশেই ঊর্মিলাকে ফলো করে তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে পৌঁছান রণজিৎ বাবু। আড়াল থেকে সমস্ত ব‍্যাপারটা দেখেন তিনি।তারপর ঊর্মিলা ওইভাবে হঠাৎ মারা যাওয়াতে তার মাথায় একটা প্ল‍্যান আসে। উনি চুপচাপ ঘরে‌ আসেন, ট্রাঙ্কটাকে খাটের তলায় ঢুকিয়ে দেন, ডুপ্লিকেট চাবিটা নেন,মইটা সিঁড়িতে রেখে আসেন।তারপর কোনো এক সময় বিশ্বজিৎ এর ঘরে গিয়ে ওই চাবিটা তার তোষকের নীচে রেখে আসে যাতে পুলিশ সার্চ করলে খুব সহজেই সেটা পাওয়া যায়। ব্যাপারটা তিনি এমনভাবে সাজান‌ যাতে দেখে মনে হয় উর্মিলাকে কেও খুন করে মূর্তি চুরি করে পালিয়েছে।তারপর তিনি আমাদের আগ বাড়িয়ে বিশ্বজিৎ এর দোষ সম্বন্ধে বলতে থাকেন যাতে প্রথম সন্দেহ তার ওপরই যায়। বিশ্বজিৎ কে ফাঁসালে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ হত।-"হতেই পারে না। গাঁজাখুরি গল্প বলা বন্ধ করুন"চেঁচিয়ে উঠলেন রণজিৎ বোস।

-"এখনও তো আপনার কির্তীর কথা বলিনি রণজিৎ বাবু।সবাই জানুক আপনি কতটা জঘন্য কাজ করেছেন।"

-"আপনি তখন থেকে আমার হাজবেন্ডকে অপমান করছেন। কি করেছে ও?"প্রশ্ন করল সহেলী।

-"রণজিৎ বাবুর স্বভাবই হল বাড়ির কাজের মেয়ে, রান্নার মেয়েদের ‌নানাভাবে বিরক্ত করা। ঊর্মিলার ওপর ও তার খারাপ নজর ছিল। এইজন্য বিশ্বজিৎ একদিন ওকে খুব করে কথা শোনায়। রণজিৎ বাবুর মনে সেই থেকে বিশ্বজিৎ এর ওপর রাগ জন্ম নেয়।সেইদিন..."

-"এসব কি উল্টোপাল্টা বকছেন আপনি.."গর্জে উঠলেন রণজিৎ বাবু।

-"আপনি চুপ করুন।" পাল্টা ধমক দিলেন ইনস্পেক্টর রায়।

"তুই বলতে থাক অনমিত্র।"

অনমিত্র আবার বলতে লাগল,"সেদিন তার স্বভাবের বশেই ঊর্মিলাকে ফলো করে তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে পৌঁছান রণজিৎ বাবু। আড়াল থেকে সমস্ত ব‍্যাপারটা দেখেন তিনি।তারপর ঊর্মিলা ওইভাবে হঠাৎ মারা যাওয়াতে তার মাথায় একটা প্ল‍্যান আসে। উনি চুপচাপ ঘরে‌ আসেন, ট্রাঙ্কটাকে খাটের তলায় ঢুকিয়ে দেন, ডুপ্লিকেট চাবিটা নেন,মইটা সিঁড়িতে রেখে আসেন।তারপর কোনো এক সময় বিশ্বজিৎ এর ঘরে গিয়ে ওই চাবিটা তার তোষকের নীচে রেখে আসে যাতে পুলিশ সার্চ করলে খুব সহজেই সেটা পাওয়া যায়। ব্যাপারটা তিনি এমনভাবে সাজান‌ যাতে দেখে মনে হয় উর্মিলাকে কেও খুন করে মূর্তি চুরি করে পালিয়েছে।তারপর তিনি আমাদের আগ বাড়িয়ে বিশ্বজিৎ এর দোষ সম্বন্ধে বলতে থাকেন যাতে প্রথম সন্দেহ তার ওপরই যায়। বিশ্বজিৎ কে ফাঁসালে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ হত।-"হতেই পারে না। গাঁজাখুরি গল্প বলা বন্ধ করুন"চেঁচিয়ে উঠলেন রণজিৎ বোস।

-"এখনও তো আপনার কির্তীর কথা বলিনি রণজিৎ বাবু।সবাই জানুক আপনি কতটা জঘন্য কাজ করেছেন।"

-"আপনি তখন থেকে আমার হাজবেন্ডকে অপমান করছেন। কি করেছে ও?"প্রশ্ন করল সহেলী।

-"রণজিৎ বাবুর স্বভাবই হল বাড়ির কাজের মেয়ে, রান্নার মেয়েদের ‌নানাভাবে বিরক্ত করা। ঊর্মিলার ওপর ও তার খারাপ নজর ছিল। এইজন্য বিশ্বজিৎ একদিন ওকে খুব করে কথা শোনায়। রণজিৎ বাবুর মনে সেই থেকে বিশ্বজিৎ এর ওপর রাগ জন্ম নেয়।সেইদিন..."

-"এসব কি উল্টোপাল্টা বকছেন আপনি.."গর্জে উঠলেন রণজিৎ বাবু।

-"আপনি চুপ করুন।" পাল্টা ধমক দিলেন ইনস্পেক্টর রায়।

"তুই বলতে থাক অনমিত্র।"

অনমিত্র আবার বলতে লাগল,"সেদিন তার স্বভাবের বশেই ঊর্মিলাকে ফলো করে তারাশঙ্কর বাবুর ঘরে পৌঁছান রণজিৎ বাবু। আড়াল থেকে সমস্ত ব‍্যাপারটা দেখেন তিনি।তারপর ঊর্মিলা ওইভাবে হঠাৎ মারা যাওয়াতে তার মাথায় একটা প্ল‍্যান আসে। উনি চুপচাপ ঘরে‌ আসেন, ট্রাঙ্কটাকে খাটের তলায় ঢুকিয়ে দেন, ডুপ্লিকেট চাবিটা নেন,মইটা সিঁড়িতে রেখে আসেন।তারপর কোনো এক সময় বিশ্বজিৎ এর ঘরে গিয়ে ওই চাবিটা তার তোষকের নীচে রেখে আসে যাতে পুলিশ সার্চ করলে খুব সহজেই সেটা পাওয়া যায়। ব্যাপারটা তিনি এমনভাবে সাজান‌ যাতে দেখে মনে হয় উর্মিলাকে কেও খুন করে মূর্তি চুরি করে পালিয়েছে।তারপর তিনি আমাদের আগ বাড়িয়ে বিশ্বজিৎ এর দোষ সম্বন্ধে বলতে থাকেন যাতে প্রথম সন্দেহ তার ওপরই যায়। বিশ্বজিৎ কে ফাঁসালে তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ হত।কিন্তু রণজিৎ বাবুর একটা বড় ভুল হয়ে যায়।ট্রাঙ্ক খাটের নীচে সরাবার সময় আওয়াজ করে ফেলেন তিনি যেটা পাশের ঘর থেকে অনন্যা শুনে ফেলে। এইখানেই আমার সন্দেহ হয়। বুঝতে পারি যে, ট্রাঙ্ক আর মইকে সরাবার একটাই উদ্দেশ্য হতে পারে। সেটা হল দুর্ঘটনাকে খুনের রূপ দেওয়া। আপনারা যখন প্রথমবার ঊর্মিলার মৃতদেহ দেখেন,তখন তার আশেপাশে কোনো চাবি পড়ে ছিল না।অথচ চাবি তো থাকা উচিৎ। আবার বিশ্বজিৎ ও তখন ঘরে ফেরেনি।অবশ‍্য এটাও মনে হয়েছিল যে, ঊর্মিলা হয়তো চাবি ওই ঘুলঘুলি দিয়ে ফেলে দিয়েছিল আর সেটা বিশ্বজিৎ নিয়ে নেয়। কিন্তু এত বড় ঘটনার পর বিশ্বজিৎ এর মতো চালাক ছেলে সেটাকে নিজের তোষকের তলায় লুকিয়ে রাখবে এটাও বিশ্বাসযোগ্য হয়না। সমরবাবু আর অমরবাবু সেই সময় বাড়ির বাইরেই ছিলেন। তখন আর বুঝতে বাকি রইল না যে বিশ্বজিৎ ছাড়া আরও কেও এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে। রণজিৎ বাবু খুব ভালো করেই জানতেন বিশ্বজিৎ এর ঘর সার্চ করা হবে আর তখন চাবিটা পাওয়া গেলেই সব দোষ চাপবে বিশ্বজিৎ এর ওপর।এই পর্যন্ত বলে অনমিত্র সামান্য থামল। রণজিৎ বাবু আবার বলে উঠলেন,"মিথ্যে,মিথ্যে,সব মিথ্যে।"

(১২)

ইন্সপেক্টর রায় বিশ্বজিৎ এর সামনে এগিয়ে এসে বললেন,"মূর্তিটা কোথায় রেখেছে?"

"ওকে জিজ্ঞেস করে কোনো লাভ নেই অফিসার। মূর্তি ওরা চুরি করতে পারেনি।কারণ ট্রাঙ্কে সেইসময় মূর্তি ছিলই না। সেটা আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।"মৃদু হেসে বলল অনমিত্র।

ঘরে তখন পিনড্রপ সাইলেন্স।সবার মুখে বিস্ময়ের ভাব ফুটে উঠল। বিশ্বজিৎ কেও এতটা অবাক হতে আমি আগে দেখিনি।রায় বললেন,"তাহলে মূর্তিটা কোথায়?"

-"সেটা আমি আপনাকে পরে জানিয়ে দেব।"অনমিত্র উঠে পড়ল। তারাশঙ্কর বাবুর কাছে গিয়ে বলল,"আমার মনে হয়, যদি তৃতীয় রিপুকে দমন করতে হয়, তবে এই মূর্তিরহস্য রহস্যই থেকে যাওয়া উচিৎ। কি ঠিক বলিনি?"

উত্তরে তারাশঙ্কর বাবু বললেন,"আমিও আর জানতে চাইনা ওটা কোথায়। বাকিদেরও জানার কোনো দরকার নেই।"

এবার বিশ্বজিৎ যেটা বলল তাতে ঘরের সবাই অল্পবিস্তর অবাক হল,"আমার ভুল হয়ে গেছে। আমি লোভে পড়ে গেছিলাম। আমাকে ক্ষমা করো দাদু। আমি এমন কাজ আর করব না।"

অনমিত্র ওর কাঁধে হাত রেখে বলল,"তোমার সামনে একটা সুন্দর জীবন পড়ে রয়েছে।Our choices define our lives.ভালো আর খারাপ দুটো রাস্তাই আমাদের সামনে খোলা থাকে বিশ্বজিৎ। কিন্তু এটা আমাদের ওপর নির্ভর করে যে আমরা কোন রাস্তাটা নেব। আমি একজন শিক্ষক, তোমাকে অপরাধী প্রমাণ করা আমার উদ্দেশ্য নয়, তোমাকে সঠিক রাস্তা দেখানো আমার কর্তব্য। আমি আশা করি, আজকের পর থেকে আমি নতুন এক বিশ্বজিৎ কে দেখতে পাব।"

এবার কিন্তু বিশ্বজিৎ এর দৃষ্টিতে ক্রোধের আগুন ছিল না, বরং যেটা ছিল সেটা হল কৃতজ্ঞতা।

"আপনি কিছু বলবেন না?"রণজিৎ বাবুর কাছে এসে বলল অনমিত্র।"আপনি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছেন। বিশ্বজিৎ এর চেয়ে আপনার অপরাধ কোনো অংশে কম নয়। আপনি ফ্যাক্ট মিসলিড করেছেন। তারজন্য আইন আপনাকে কি শাস্তি দেবে আমি জানি না।দেখুন সম্মান জিনিসটা কেউ কাউকে নিজে থেকে করে না, সেটা আদায় করতে হয়। আপনি যে কাজ করেছেন তাতে আপনি আপনার সম্মানটুকু হারালেন। তবে আপনি যদি আপনার ভুল বুঝতে পারেন, তবে আবার সবাই আপনাকে সম্মান করবে। আমি আশা রাখি যে, তারাশঙ্কর বাবু আপনাকে আর বিশ্বজিৎ কে নিশ্চয়ই ক্ষমা করবেন।"

-"তাহলে আমার ছেলেকে অ‍্যারেস্ট করা হবে না তো?"প্রশ্ন করলেন নীলিমা দেবী।

-"না। তবে অপরাধ করার চেষ্টা বা অপরাধকে লুকোনো দুটোই অপরাধ করার সমান।এই দায় থেকে আপনি বা বিশ্বজিৎ কেউই বাদ যাবেন না। তবে আপনার ছেলে এইমাত্র কথা দিয়েছে যে সে নিজেকে সংশোধন করবে। ভুল তো মানুষ মাত্রই হয়। আপনারা ধরে নিন বিশ্বজিৎ আর রণজিৎ সেরকমই একটা ভুল করে ফেলেছে।চলুন ইনস্পেক্টর রায়, এখানকার কাজ তো শেষ।আপনারা সবাই ভালো থাকবেন। আমরা তাহলে আসি তারাশঙ্কর বাবু।"বলে নমস্কার করে আমাদেরকে সাথে নিয়ে বেরিয়ে এল অনমিত্র।

বাইরে বেরিয়ে এসে ইনস্পেক্টর রায় বললেন,"তোর জবাব নেই অনমিত্র। চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই কেস সল্ভ করে দিলি তুই।নইলে তো আমরা এখনও অজ্ঞাত খুনীকে খুঁজে বেড়াতাম। কিন্তু মূর্তিটা কোথায় আছে সেটা তো এবার বল?"

-"মূর্তি এখন যেখানে আছে, তার চেয়ে ভালো জায়গা আর কিছু হতেই পারে না।"

-"মানে?" আমি জিজ্ঞাসা করলাম।

-"আজ সকালে আমি চক্রবর্তীদের ঘর গেছিলাম। সেখানে গিয়ে জানতে পারি, তারাশঙ্কর বাবু ওদের ঘরে মাত্র কুড়ি মিনিট মতো ছিলেন।আর খুব আস্তে হাঁটলেও ওদের বাড়ি থেকে দত্তদের বাড়ি আসতে দশ মিনিট লাগে। তাহলে প্রশ্ন হল বাকি সময়টুকু তিনি কোথায় ছিলেন।এই প্রশ্নের উত্তর পেলাম মিলনবাবুর ছেলের কাছ থেকে। জানতে পারলাম তিনি পাশের বিষ্ণুমন্দির যাবেন বলে ওদের ওখান থেকে বেরোন। মন্দিরে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি সত্যি তিনি মন্দিরে এসেছিলেন।আর আপনারা তো জানেনই যে,সব পুজোর আগে গণেশ পুজো করতে হয়।"

-"তার মানে উনি মূর্তিটা ওই মন্দিরে দান করেছেন?"

-"হ্যাঁ। বোধহয় উনি সন্দেহ করেছিলেন যে, মূর্তিটা বাড়িতে সুরক্ষিত নয়।অন্তত, তার কথা থেকে তো তাই আন্দাজ করা যায়।"

-"কিন্তু ওঁর সাধের মূর্তিটা উনি শেষে দান করে দিলেন?"রায় অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।

-"হয়তো তার মনে হয়েছিল যে,বিক্রি হয়ে যাওয়ার থেকে মূর্তিটা মন্দিরে স্থাপন করাটাই উচিৎ।"

পুলিশ অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিল। আমি আর অনমিত্র বাড়ির পথ ধরলাম।ফিরে আসার পথে আমি জিজ্ঞাসা করলাম ওকে,"আচ্ছা ওই ডুপ্লিকেট চাবিতে রণজিৎ বাবুর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া গেল না কেন?"

-"ওই যে কাল তোকে জিজ্ঞেস করলাম যে কে কে রুমাল সাথে রাখে। এবার নিজে ভেবে বল দেখি।"

-"ও হ্যাঁ, ঠিক ঠিক। বুঝতে পেরেছি।"

-"দত্তবাড়ির সবাই ষড়রিপুর কোনো না কোনো রিপুর বশে ছিল। কিন্তু এদের মধ্যে তৃতীয় রিপুই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আর তার জন্যই এতসব কাণ্ড।ওই জন্যই তো বলে, লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।"

-"কিন্তু তুই নিজেই তো তৃতীয় রিপু থেকে মুক্ত নোস।"বললাম আমি।

-"আমি!!!কিরকম?"

-"ওই যে,কাল আমার ডিমসেদ্ধটা খেয়ে নিলি তুই।"

-"তুই তো বলতে পারলিনা ডিমে কতরকম প্রোটিন আছে?"হেসে বলল অনমিত্র।

-"তুই ই বল।"

-"প্রধানত দু'রকম।অ‍্যালবুমিন আর গ্লোবিউলিন। তাছাড়া ও আরো আছে। আজকে তোকে চিকেন খাইয়ে দিচ্ছি চল। এবার খুশি তো?"

আমি অনমিত্রর পিঠে একটা চাপড় মেরে বললাম,"খুব হয়েছে,চল এবার।"


Rate this content
Log in

More bengali story from Arka Nag

Similar bengali story from Classics