পূজা চক্রবর্তী

Comedy Drama Romance

4.0  

পূজা চক্রবর্তী

Comedy Drama Romance

ঘর জামাই

ঘর জামাই

49 mins
414


" ঘর জামাই "

____________


মন্ত্রীর একমাত্র কন্যা শুক্লা ,আগামীকাল তার জন্মদিন , জন্মদিনের জন্য শপিংমলে যাওয়ার পথে রাস্তায় প্রচন্ড ভিড় থাকায় গাড়িটি একটি বৃদ্ধ মহিলা কে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে এমন সময় ভোলা যার সম্পূর্ণ নাম ভোলানাথ বিশ্বাস ,মন্ত্রী কন্যা শুক্লার গাড়ি আটক করে।


(ওহ্ , প্রথমেই ভোলার পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি আপনাদের সঙ্গে। এই ভোলা একজন গরীব পরিবারের ছেলে , অনেক পরিশ্রম ও লড়াই করে ইংরেজি ভাষায় এম, এ পর্যন্ত পড়াশুনা করে , অনেক চাকরির চেষ্টা করে কিন্তু আজও চাকরি না পাওয়াতে পরিবারের হাল ধরতে একটি গ্যারেজে কাজ করছে বর্তমানে। ভোলা আমাদের এই গল্পের মূল চরিত্র ও গল্পের নায়ক।)


ভোলা - আপনি কি ভেবেছেন একজন মানুষকে অ্যাকসিডেন্ট করে চলে যাবেন আর সাধারণ মানুষ আপনাকে কিছু বলবে না?  


শুক্লা - কি বলতে চাইছো তুমি? তুমি কি জানো আমি কে? 


ভোলা - ম্যাডাম , আপনি কে সেটা আমি জানিনা আর জানতে চাইও না , আমি শুধু চাই এই মুহূর্তে আপনি যে বৃদ্ধ মহিলাকে অ্যাকসিডেন্ট করেছেন , উনাকে আপনি আপনর গাড়ি করে ডক্টরের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাবেন।


শুক্লা - এই নাও পঞ্চাশ হাজার টাকা আর এক্ষুনি গাড়ির সামনে থেকে সরে যাও ( এই বলে ভোলাকে ধাক্কা দিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা মুখের উপর ছুড়ে দিয়ে গাড়ি নিয়ে চলে গেলো শুক্লা)।


তারপর ভোলা বৃদ্ধ মহিলা কে নিয়ে ডক্টরের কাছে গিয়ে চিক্তিসা করিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসে।

শপিং মল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শুক্লার গাড়ি নষ্ট হয় আর সেই গাড়ি ঠিক করার জন্য একটি গ্যারেজে দিয়ে পাশে দাড়িয়ে থাকে শুক্লা।


শুক্লা - একি , তুমি কি করছো? আমার দামী গাড়িটা কে নষ্ট করছো ,এত বড়ো সাহস? ( এই বলে ভোকার গালে ঠাস করে থাপ্পর মারে)।


ভোলা- এই নিন আপনার পঞ্চাশ হাজার টাকা। মনে রাখবেন ম্যাডাম , আমরা গরীব হতে পারি কিন্তু কারোর দয়ায় চলি না , তখন তো পঞ্চাশ হাজর টাকা দিয়েছিলেন , গুনে দেখেন সব ঠিক আছে কিনা?( এই বলে শুক্লার হাতে টাকাটা গুজে দিয়ে , শুক্লাকে একটা থাপ্পর মারে)।


শুক্লা - তোমার এত বড়ো সাহস তুমি আমার গায়ে হাত তুললে ( এই বলে ভোলাকে আবার থাপ্পর দিতে যায় কিন্তু ভোলা সেই হাত ধরে নিয়ে এক ঝটকা দিয়ে হাতটা নিচে নামিয়ে বললো)।


ভোলা - ম্যাডাম, এই থাপ্পরটা আমাকে বিনা কারণে থাপ্পর দেওয়ার জন্য। আমি আপনার গাড়ি নষ্ট করছিলাম না ঠিক করছিলাম, এই গ্যারেজে এই সময় আমি একাই কাজ করি বাকিরা সব টিফিন খেতে ব্যাস্ত।


শুক্লা - তোমাকে আমি দেখে নিবো, আমার গায়ে হাত দেওয়ার পরিণতি তোমাকে ভোগ করতেই হবে। ( এই বলে গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময়)

ভোলা - ম্যাডাম , গাড়ি ঠিক করার টাকাটা ?

শুক্লা - টাকা, ম্যাই ফুট।


এই বলে টাকা না দিয়েই চলে গেলো শুক্লা । একটু পর গ্যারেজের মালিক ভোলাকে ডেকে পাঠালো।


গ্যারেজের মালিক - তুমি জানো তুমি কি করেছ?


ভোলা - আমি তো কিছু করিনি।


 গ্যারেজের মালিক - যদি কিছু না করে থাকো তবে কি এমনি এমনি মন্ত্রীর একমাত্র কন্যা আপনাকে ফোন করে তোমাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিতে বললো?


ভোলা - উনি তো আমাকে থাপ্পর,,,


গ্যারেজের মালিক - কি উনি তো আমাকে থাপ্পর থাপ্পর করছো? তোমার এত বড়ো সাহস তুমি মন্ত্রীর একমাত্র মেয়েকে থাপ্পর মারলে?এক্ষুনি বেরিয়ে যাও , তোমাকে আর আমরা কাজে রাখতে পারবো না।


ভোলা - স্যার , দয়া করুন আমাকে তাড়িয়ে দিবেন না। আমার এই কাজটা না থাকলে বাড়িতে মা, বাবা , ভাই বোন সবাই না খেতে পেয়ে মরে যাবে! ( কান্না করতে করতে বলল)।


গ্যারেজের মালিক - দেখো ভোলা তোমাকে আমি অনেক দিন থেকে চিনি , কিন্তু তোমাকে কাজে রাখলে আমার আর কাজটাই থাকবে না, তুমি এক কাজ করো মন্ত্রীর মেয়ের কাছে ক্ষমা চাও,দেখো যদি ক্ষমা করে তো আমি কাজটা আবার ফিরিয়ে দিতে পারি।


ভোলা কিছু না বলে চুপ চাপ বেরিয়ে গেলো। বাড়ি ফিরে এসে ।


রূপা ( ভোলার বোন) - দাদা, তুই এসেছিস ? দাদা আমাকে তিন হাজার টাকা দিবি? কালকে আমার পরীক্ষার ফ্রম জমা দিতে হবে আর সঙ্গে তিন হাজার টাকা।


ভোলার মা - এই ভোলা, কারেন্টের বিলটা দিয়ে আসিস তো, আর বাড়ি ভাড়ার টাকাটাও দিয়ে আসিস , বাড়ি ওয়ালা বড্ড বিরক্ত করছে বলছে দুই দিনের মধ্যে টাকা না দিলে বেরিয়ে যেতে হবে বাড়ি থেকে।


ভোলার বাবা - কাকে কি বলছো? এই মাত্র বাজার থেকে শুনে এলাম , তোমার এই গুণধর ছেলে মন্ত্রীর মেয়েকে থাপ্পর মেরেছে , তাই গ্যারেজের মালিক ওকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দিয়েছে। এই বার মনে হচ্ছে আমাদের পথে বসে ভিক্ষা করতে হবে। ( রাগে গজ গজ করে বলে।এই বলতে বলতে আবার বেরিয়ে যাচ্ছে ।)


ভোলার মা - এত রাত্রে তুমি আবার কোথায় যাচ্ছ? ( ভোলার বাবাকে উদ্দেশ্য করে বলে)।


ভোলার বাবা - এই বুড়ো বয়সে কি আর করার ক্ষমতা আছে?ভিক্ষা করতে যাচ্ছি। ( বলে বেরিয়ে গেলেন)।


ভোলার মা - এই রূপা ,ভোলা খেতে আয়,


ভোলা - আমার খিদে নেই ( ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিলো)।



মাঝ রাত্রে ভোলা দরজা খুলে দেখে তার বোন দরজার বাইরে ঘুমিয়ে পড়েছে।


ভোলা - এই রূপা,তুই বাইরে গুমাচ্ছিস কেনো?


রূপা - দাদা , তোর কাছে কি তিন হাজার টাকা নেই? আমার কি আর পরীক্ষা দেওয়া হবেনা দাদা? ( কান্না করতে করতে দাদাকে জড়িয়ে ধরে বলে রূপা)।


ভোলা - তুই ,পরীক্ষা দিবি, চিন্তা করিস না। যা ঘরে গিয়ে ঘুমা ।



রূপা - সত্যি বলছিস দাদা?

ভোলা - হুম ,সত্যি সত্যি সত্যি তিন সত্যি।


ভোলা আবার ঘরে ডুকে দরজা দিয়ে চোখের জল লুকিয়ে ভাবতে থাকে 


ভোলা - কি করবো আমি? বিনা দোষে ক্ষমা চাইবো? ক্ষমা না চাইলে আমার পরিবার যে ভেসে যাবে! ( মনে মনে ভাবতে থাকে)।


পরের দিন সকালে গ্যারেজের মালিক ফোন করে ভোলাকে 


গ্যারেজে মালিক - ভোলা , তোর ভাগ্য ভালো, মন্ত্রী কন্যা তোকে তার জন্মদিনের পার্টিতে নিম্মন্তন্ন করেছে রে। তুই বরং আজ পার্টিতে গিয়ে ক্ষমাটা চেয়েই নে।


ভোলা - আচ্ছা ( ফোন কেটে দিলো)।


বিকেল বেলা মন্ত্রী কন্যা গাড়ি পাঠালো ভোলা আর ভোলার পরিবারকে জন্মদিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য ।


ভোলার বাবা - বাহ, মন্ত্রীর কন্যা শুক্লা সত্যি অনেক দয়ালু।


হয় আজ তুই ওর কাছে ক্ষমা চেয়ে তোর গ্যারেজের কাজটা ফিরিয়ে দিতে বলবি আর না হলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবি। এই বয়সে আমি আর তোকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে পারবো না।



ভোলা - আচ্ছা ,আমি ক্ষমা চাইবো শুধু তোমাদের জন্য।



জন্মদিনের অনুষ্ঠান অনেক অতিথি এসেছে।

  

ভোলা যখন শুক্লাকে থাপ্পর মারে তখন একটি ছেলে ভিডিও করে ভাইরাল করে দিয়েছিল তাই ভোলাকে জন্ম দিনের পার্টিতে দেখে সবাই চিনতে পারে। সবাই অবাক দৃষ্টিতেতে তাকিয়ে থাকে।



শুক্লা - আর এ এসো এসো ,তোমার অপেক্ষায় এই তো ছিলাম। 


ভোলা - আসলে......

শুক্লা - কিছু বলবে বুঝি?


ভোলা - আমি আমার কাজের জন্য ক্ষমা চাইছি। আপনি আমার গ্যারেজের কাজটা ফিরিয়ে দিন প্লিজ। 


শুক্লা - আরে আরে , গ্যারেজের কাজ কেনো করবে তুমি? তোমাকে আমি একটা ভালো কাজ দিবো আজ থেকে।


ভোলা - কি কাজ?


শুক্লা - লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান আমি আজ তোমাদের সবার সামনে এই ছেলেটি কে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।


ভোলা - ক্ষমা করবেন আমি আমার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য আপনার কাছে ক্ষমা চাইলাম আমার কাজটা ফিরে পাওয়ার জন্য আর আপনি কি করছেন এই সব?( রেগে গিয়ে বললো)।


শুক্লা - তোমর এত বরো সাহস তুমি আমার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করো? যদি তুমি আজ সবার সামনে আমাকে প্রত্যাখ্যান করো তবে তুমি আর কোনো দিন কোনো কাজ করতে পারবে না ।

( কানে কানে হুমকি দিলো)।


ভোলার বাবা - তোমার ছেলে কি করছে কি? এত ভালো একটা প্রস্তাব কেউ ফিরিয়ে দেয় নাকি? তোমার ছেলেকে বোঝাও। ( ভোলার মাকে বললো)।


ভোলার মা - ভোলা , রাজি হয়ে যা বাবা , আমাদের কথা ভেবে রাজি হয়ে যা।


ভোলা - নিরবে দাঁড়িয়ে থাকে।


শুক্লা - এই নাও সিদুর পরিয়ে দাও( সিদুরের কৌটা খুলে ভোলার সামনে বাড়িয়ে দিলো)।


ভোলা একবার তার মা ,বাবা ও বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে সিঁদুরটা পড়িয়ে দিলো শুক্লার সিথিতে।


শুক্লা - লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান , আমরা বর্তমানে স্বামী স্ত্রী আশা করি আপনাদের মনে কোনো প্রশ্ন নেই। স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একটু মান অভিমান হতেই পারে। তাই ওই ভিডিও টা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করলেই খুশি হবো।


 শুক্লা - আপনারা প্রত্যেকে খাওয়া দাওয়া করে যাবেন কিন্তু ( ভোলার পরিবার কে বললো)।


ভোলার মা - বৌমা ,আমরা যাবো মানে? তুমি যাবে না?


শুক্লা - আমি , আপনাদের ওই কুরে ঘরে? কখনোই না। 


ভোলার মা - তাহলে ?

শুক্লা - আপনাদের ছেলে আমাদের বাড়িতে ঘর জামাই হিসেবে থাকবে। (ভোলার দিকে তাকিয়ে)।



ভোলা - কখনোই না ( রেগে বেরিয়ে যেতে থাকে)।


ভোলার মা - তোকে আমার দিব্যি , বৌমা যা বলছে তাই হবে, তুই ওদের বাড়িতেই থাকবি।

আমরা আসছি।


রূপা - দাদা , আমরা স্কুলের পরীক্ষার টাকাটা?


শুক্লা - এই নাও পঁচিশ হাজার আছে। আশা করি একমাসের খরচ চলে যাবে। এই ভাবে মাসে মাসে আমি টাকা পাঠিয়ে দিবো।( এই বলে টাকাটা রূপার হাতে দিলো)।


জন্মদিনের দিন মন্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না । পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরে সব শুনে বাড়ির সকল কে ডেকে পাঠান।


মন্ত্রী ( দেবাশীষ বাবু)- এইসব কি শুক্লা? মন্ত্রীর মেয়ে হয়ে শেষে কি না রাস্তার ছেলেকে বিয়ে করলে?


শুক্লা - বিয়ে ? হা হা হা , কে বলেছে আমি বিয়ে করেছি? আমি তো আমার অপমানের প্রতিশোধ নিয়েছি। ( ভোলার দিকে বড়ো চোখ করে তাকিয়ে বললো)।


প্রতিমা দেবী (মন্ত্রীর স্ত্রী) - তাই বলে বিয়ে? বিয়ে নিয়ে ছেলে খেলা করছিস? ছি ছি ছি।


মন্ত্রী - এই ছেলে এদিকে এসো , তোমার পড়াশুনা কত দূর?


ভোলা - ইংরেজি ভাষায় এম. এ পাস করেছি।


প্রতিমা - বাহ , বেশ ভালো তো, ছেলে তো শিক্ষিত একটা ভালো কাজে লাগিয়ে দিলেই তো ও আমাদের শুক্লার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে। তুমি কি বলো? ( মন্ত্রীকে বললো)।


শুক্লা - মা, তুমি থামো তো, এই ছেলে আমার পায়ের নখেরও যোগ্য না। ( এই বলে চলে গেলো)।



একমাস পর



বাড়ির খাবার টেবিলে বসে যখন সবাই খাচ্ছে তখন।


প্রতিমা দেবী ( মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুর স্ত্রী) - আগামীকাল তো জামাইষষ্ঠী ,জামাইষষ্ঠীতে কি কি আয়োজন করবে বললে না তো?


দেবাশীষ বাবু ( মন্ত্রী) - জামাইষষ্ঠী ? হা হা হা হাসালে প্রতিমা ।


প্রতিমা দেবী - এতে হাসানোর কি আছে? আমাদের মেয়ের বিয়ের পর এই প্রথম জামাইষষ্ঠী।


শুক্লা ( মন্ত্রী কন্যা)- কিসের জামাই মা? বলো ঘরজামাই। আর কিসের জামাইষষ্ঠী , কে মানে ওকে জামাই বলে? না আমি মানি আর না বাবা মানে।


প্রতিমা দেবী - অভিজিৎ , অভিজিৎ ,( অভিজিৎ বাড়ির কাজের লোক)।


শুক্লা - কেনো মা? অভিজিৎ কে ডাকছো কেনো? বাজার করতে পাঠাবে বুঝি?


প্রতিমা দেবী - সবই যখন জানিস তখন জিজ্ঞাসা করছিস কেনো?( একটু রেগে গিয়ে বললেন)।



বাড়ির কলিং বেল বাজলো



শুক্লা - যাও মা যাও, দরজা খুলে দেখো তোমার বাজার চলে এসেছে।( মুচকি মুচকি হাসতে হাসতে বললো)।


প্রতিমা দেবী দরজা খুলে


প্রতিমা দেবী - একি ভোলা তুমি? তুমি কেনো বাজারে গেলে ? তুমি এই বাড়ির জামাই ভোলা ,তুমি এইভাবে বাজারের ব্যাগ কাধে নিয়ে আসতে গেলে কেনো?


ভোলা ( শুক্লার স্বামী / মন্ত্রীর জামাই) - কি যে বলেন মা , জামাই তো কি হলো? আমি তো আপনার ছেলের মতোই, ছেলে কি বাজার করতে পারে না?।


প্রতিমা দেবী - তোমাকে কে বাজারে পাঠালো? শুক্লা ?


শুক্লা - হ্যাঁ, মা আমি বাজারে পাঠিয়েছি , কেনো কোনো সমস্যা আছে? আমার স্বামী আমি ওকে যখন ইচ্ছে যেখানে ইচ্ছে পাঠাতে পারি।


প্রতিমা দেবী - তুমি , বসে বসে এইসব দেখবে শুক্লাকে কিচ্ছু বলবে না?( মন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বললো)।


মন্ত্রী - আমি কি বলবো বলো তো? এটা ওদের ব্যাপার ওদের উপর ছেড়ে দাও।


শুক্লা - কি হলো ভোলা? তুমি দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমাদের কথা গিলবে নাকি বাজারের ব্যাগ গুলো রান্না ঘরে রেখে ঘরটা গুছিয়ে আসবে।


ভোলা - যাচ্ছি , মেমসাহেব।

 ( এই বলে মাথা নিচু করে বাজারের ব্যাগ নিয়ে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে)


শুক্লা - বাজার করে বাকি যে টাকাটা বেশি আছে সেটা কি তোমার মায়ের আঁচলে দিয়ে এসেছো নাকি?

ভোলা - ম্যাডাম , আপনি আমাকে অপমান করছেন করুন কিন্তু আপনি মনে হয় ভুলে গেছেন বাকি টাকাটা আপনি আপনার বন্ধুকে দিতে বলেছিলেন। আর আমি সেটাই করেছি। আর এই নিন , বাজারে কোনটা কত টাকা দিয়ে কিনেছি তার লিস্ট। ( এই বলে লিস্টটা শুক্লার হাতে দিয়ে চলে যায়)।





পরের দিন সকালে প্রতিমা দেবী অনেক রান্না করে ভোলা কে ডেকে খেতে দিবেন এমন সময় 


শুক্লা - মা , এই নাও তোমার জামাই ( শুক্লার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি ছেলেকে দেখিয়ে বললো শুক্লা)।


প্রতিমা দেবী - ভোলা ,তুমি খাওয়া শুরু করো।


ভোলা - মা, আপনি উনাকেও একই সঙ্গে ভাত দিন , আমরা দুজনে না হয় একসঙ্গে খাবো।

( পাশে দাড়িয়ে থাকা ছেলেটিকে দেখিয়ে বললো)।


অভিরুপ ( শুক্লার প্রেমিক)- কি? আমি এই কাজের লোকের সঙ্গে মাটিতে বসে খাবো?


শুক্লা - একদম না , মা ,তুমি আমাদের খাবারটা আমার রুমে পাঠিয়ে দাও। 

( এই বলে অভিরুপের হাত ধরে শুক্লা রুমে চলে গেলো)।


প্রতিমা দেবী - তুমি খাওয়া শুরু করো ভোলা।


ভোলা - এই নিন মা ,সামান্য উপহার

 ( একটি শাড়ি প্রতিমা দেবীর হাতে দিয়ে প্রণাম করে বললো।)।


প্রতিমা দেবী - এই শাড়ি তুমি কোথায় পেলে?

ভোলা - চিন্তা করবেন না, আমি চুরি ডাকাতি করিনি , আগামীকাল সারা রাত পাশের কারখানায় কাজ করেছিলাম , ওই যা সামান্য টাকা পেয়েছি সেটা দিয়েই এই শাড়িটা এনেছি। দাম খুবই কম।


প্রতিমা - ভোলা, তুমি বড্ড ভালো ছেলে বাবা, শুক্লা যে কেনো তোমায় বুঝলো না ।( চোখে জল চলে আসে প্রতিমা দেবীর)।






শুক্লা - ও মা , তুমি বলেছিলে আজ জামাইষষ্ঠী , তোমার জামাইকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াবে ,তাই তো আমি অভিরূপকে নিয়ে এলাম, আর তুমি ঐ রাস্তার ছেলে টাকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করছো? (পাশের ঘর থেকে শুক্লা চিৎকার করে বলে)


প্রতিমা দেবী - এই নাও বাবা , ভালো করে খাও (শুক্লা ও অভিরূপের খাবার নিয়ে তাদেরকে খাবার দিয়ে বললো)।


অভীরুপ - বাহ ,বেশ , আপনি তো বেশ ভালো রান্না করেন।( প্রতিমা দেবীকে বললো)।


প্রতিমা দেবী - ভালো আর কোথায় হলো? এই যা পারি তাই রান্না করি। 


শুক্লা - ভোলা , ঐ ভোলা এইদিকে এসো 

( শুক্লা ও অভিরুপের খাওয়া শেষ হওয়ার পর)


প্রতিমা দেবী - আবার ওকে ডাকছিস কেনো?

( শুক্লাকে বললো)।


শুক্লা - কেনো মা? আমরা যে খেলাম , এই গুলো কে পরিষ্কার করবে? তুমি করবে নাকি? তুমি মন্ত্রীর স্ত্রী তোমাকে এই গুলো কাজ করা মানায় না।


প্রতিমা দেবী - ভোলা এই বাড়ির জামাই , এই কাজ গুলো ওকেও তো মানায় না। এই সব কাজের জন্য তো কাজের লোক আছেই।


অভীরূপ - কি বলছেন কাকিমা? আর দুই দিন পর তো আমি এই বাড়ির জামাই হবো। আর ওই কাজের লোক সারাজীবন আমাদের গোলাম হয়েই থাকবে।


( এই বলে শুক্লা ও অভীরুপ হাসতে থাকে। প্রতিমা দেবী বিরক্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।)


ভোলা - আমাকে ডেকেছেন?

শুক্লা - হ্যাঁ, এই জায়গাটা এক্ষুনি পরিষ্কার করে দাও ভালো করে।


ভোলা - আচ্ছা ( সব পরিষ্কার করে দিলো)।







কিছু দিন পর_



ভোলা তার মা বাবার সাথে দেখা করতে যায়


রূপা - মা, দাদা এসেছে।


ভোলা - কেমন আছিস বোন আমার? তোর কথা খুব মনে পরে রে।


রূপা - আমি ভালো আছি দাদা, তুই কেমন আছিস ? তোকে ছাড়া আমার ভালো লাগে না রে দাদা। 


ভোলা - ভালো আছি রে , তোর পড়াশুনা ঠিক মতো চলছে তো?


রূপা - হ্যাঁ , ভালোই চলছে।


ভোলার মা - ছেলেটা কে কি দরজায় দার করিয়ে রাখবি নাকি ভিতরে আস্তে দিবি?


রূপা - আয় , দাদা ভিতরে আয়।


ভোলা ঘরে ঢুকে মাকে প্রণাম করলো।


ভোলা - মা , বাবা কোথায়? আমি এত দিন আসলাম আর বাবাকে দেখতে পারছি না যে?


রূপা - দাদা, বাবার হার্ট এর অসুখটা বেড়েছে। বাবার শরীরটা বেশি ভালো রে । তাই ঘরে শুয়ে আছে।


(ভোলা ছুটে তার বাবার কাছে গেলো)


ভোলা - বাবা , তুমি কি ওষুধ ঠিক করে খাচ্ছো না? ওষুধ ঠিক করে খেলে তো আর এত অসুস্থ হওয়ার কথা না!


( ভোলার প্রশ্নের কেউ কোনো উত্তর দিলো না)।


ভোলা - কি ব্যাপার বলো তো?ওই বাড়ি থেকে কি টাকা আসছে না তোমাদের কাছে?


ভোলার মা - না ,রে টাকা তো আসছেই কিন্তু তোর বাবা সেই টাকায় চিকিৎসা করতে রাজি না। তুই তো জানিস তোর বাবা তোর মতোই। কারোর দয়ায় বাঁচতে চায় না।


ভোলা - তাহলে আমি কেনো এত অপমান নিয়ে ওই বাড়িতে পরে আছি? আমি তো তোমাদের জন্যই ওই বাড়িতে আছি। বাবা যদি ঐ টাকায় চিকিতসা না করে তবে আমিও আর ওই বাড়িতে থাকবো না। আমি আজই চলে আসবো। ( এই বলে বেরিয়ে যায়) 


ভোলার মা - আমার কথাটা শুনে যা। শুক্লা তোর বউ সারাজীবন ওর পাশে থাকা তোর কর্তব্য । 



(ভোলা কোনো উত্তর না দিয়ে বেরিয়ে যায়।)






ভোলা - আর না, অনেক হলো এইবার আমার মুক্তির প্রয়োজন। বিয়ে কিসের বিয়ে? শুধু তো সিঁদুর দান আর তো কিছুই না। তাহলে আমার কিসের কর্তব্য? বড়ো লোকদের টাকার গোলাম হয়ে থাকার থেকে মরে যাওয়া ভালো।

( এসব ভাবতে ভাবতে রাস্তা দিয়ে যেতে থাকে হটাৎ সে দেখলো অভিরপ মানে শুক্লার প্রেমিক রাস্তায় অন্য একটি মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় , এই দৃশ্য দেখে ভোলা তাড়াতাড়ি মোবাইল বের করে ভিডিও করে রাখলো তারপর সামনে এগিয়ে গেলো, ভোলাকে দেখে ওভিরুপ একটু ঘাবরে গেলো, সে তাড়াতাড়ি ঐ মেয়েটি কে একটি দোকানের আড়ালে লুকিয়ে নিজে ভোলার সামনে এলো)


অভিরুপ - আরে ভোলা যে? কোথায় যাচ্ছো এত রাত্রে? অভিসারে নাকি?


ভোলা - আজ্ঞে না , বাড়ি থেকে ফিরছিলাম, তুমি এত রাত্রে কি করছো এইখানে?


অভিরূপ - আমি এই তো বাজারে এসেছিলাম।


ভোলা - তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে পারি?


অভি রূপ - হ্যাঁ , একদম বলো কি বলবে?


ভোলা - তুমি কি সত্যি শুক্লাকে ভালোবাসো? যদি ওকে সত্যি ভালোবাসো তবে তুমি রাস্তায় অন্য কোনো মেয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় থাকতে পারতে কি?


অভীরপ - (রেগে গিয়ে) কি বলতে চাইছো কি? অন্য মেয়ে মানে ? 


ভোলা - এই যে ভিডিও টা দেখছো ( ভিডিও টি দেখিয়ে) এই এই ভিডিও টা শুক্লাকে দেখাবো ভাবছি।


অভিরূপ - বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোমাকে মাটির নিচে পুঁতে রেখে দিবো। এক্ষুনি ভিডিও টা ডিলেট কর, আর যদি এই ভিডিও টা শুক্লাকে দেখাতে চাও তবে দেখাতে পারো তারপর কি হবে সেটা নিজের চোখেই দেখতে পারবে।( এই বলে চলে গেলো অভিরূপ)।



মন্ত্রীর বাড়ি ফিরে এসে ভোলা সবাইকে ভিডিও টা দেখালো।


শুক্লা - আমি জানতাম তুমি এক্ষুনি এই রকম একটা ভিডিও দেখাবে ।


প্রতিমা দেবী - যেনে থাকলে এই রকম একটা বাজে ছেলের সাথে কেনো সম্পর্ক রেখেছিস?


শুক্লা - বাজে ছেলে? কাকে বাজে ছেলে বলছো মা? তোমরা কি জানো ভোলা আজ কোথায় গিয়েছিল?


প্রতিমা দেবী - হ্যাঁ ,আমি জানি, ওর বাড়িতে গিয়েছিল।


শুক্লা - বাহ , ভোলা তো আজ কাল বেশ মিথ্যে কথা বলতে শিখে গেছে দেখছি।


ভোলা - আপনি কি বলতে চাইছেন ম্যাডাম?


শুক্লা - আমার সামনে নাটক করে লাভ নেই ভোলা ,কারণ একটি আগে আমাকে অভিরূপ ফোন করে সব বলেছে। ওই বাজারের মোড়ের কম্পিউটারের দোকানে গিয়েছিলে আর সেখানেই একটা লোককে টাকা দিয়ে এই ভিডিও টা বানিয়ে দিতে বলেছো।


ভোলা - আপনি যাকে বিশ্বাস করছেন সে আপনাকে ঠকাচ্ছে।


( শুক্লা ঠাস করে ভোলার গালে একটা থাপ্পর মারে।)


শুক্লা - আমি সুখে থাকি এটা তুমি চাও না? তাই এত বড়ো মিথ্যে নাটক করলে। ছি ছি


ভোলা - আজ ,আপনি এবং আপনারা সবাই আমাকে ভুল বুঝলেন , আশা করি একদিন আপনাদের ভুল ঠিক ভাঙবে।

আমি আসছি


প্রতিমা দেবী - কোথায় যাচ্ছো?


ভোলা - এই অপমানের অন্ন আমার পেটে আর যাবে না মা, আমি এই বাড়ি থেকে চলে যাচ্ছি , শুক্লাকে মুক্তি দিয়ে চলে যাচ্ছি।( ভোলা চলে যেতে থাকে)।


প্রতিমা দেবী - ওকে আটকা শুক্লা , এভাবে যেতে দিস না।


শুক্লা - যেতে দাও মা যেতে দাও , দেখবে কাল সকালেই আবার ওকে এই বাড়িতেই ফিরতে হবে।


(মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু সব দাড়িয়ে দাড়িয়ে দেখলেন কিচ্ছু বললেন না , উনি শুক্লার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে চায় না । তাই কিছুই বলে না।)


(ভোলা বেরিয়ে গেলো, রাত্রি তখন ১ টা বেজে ৩০ মিনিট)।

( ভোলার বাড়ির কলিং বেল বাজলো।)


ভোলার মা - আসছি, আসছি , এত রাত্রে আবার কে এলো?( ঘুম ঘুম চোখে দরজা খুললো)।


ভোলার মা - একি ভোলা? তুই এত রাত্রে?

ভোলা - মা , আমি চলে এসেছি , আর ফিরবো না ওই বাড়িতে।


ভোলার মা - কা টা কিন্তু তুই ঠিক করিসনি। শুক্লা তোর বউ , ওর দায়িত্বও তোর, ওর ভুলগুলো শুধরে দেওয়ার দায়িত্বও তোর।


( ভোলা কোনো উত্তর না দিয়ে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা দিয়ে শুয়ে পরে)



পরের দিন সকালে _


ভোলার বাবা - যা করেছিস তা ঠিক কি না ভুল আমি জানি না, তবে আজ তোকে একটা কাজ করতে হবে।


ভোলা - কি কাজ বাবা?


ভোলার বাবা - মাসে মাসে ওরা যে টাকা পাঠিয়েছে আমি সেখান থেকে এক টাকাও খরচ করিনি, তুই বরং এক্ষুনি গিয়ে ওদের সব টাকা ফিরিয়ে দিয়ে আয়।


ভোলা - কিন্তু বাবা , তোমরা তবে এত দিন কিভাবে সংসার খরচ চালিয়ে গেলে?


ভোলার বাবা - আর বলিস না , তোর মার নামে একটা ব্যাংক একাউন্ট করেছিলাম বহু বছর আগে , সেই একাউন্ট এই কিছু টাকা ছিলো , তোর বোনের বিয়ের জন্য জমিয়ে রেখেছিলাম, সেই টাকাই খরচ করেছি।


ভোলা - আমাকে ক্ষমা করো বাবা ( বাবাকে জড়িয়ে ধরে বললো)।

ভোলার বাবা - পাগল ছেলে, তুই কেনো ক্ষমা চাইছিস?


ভোলা - বাবা , আমাকে টাকা গুলো দাও , আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।


ভোলার মা - এই নে ( একটা টাকার অং নিয়ে এসে ভোলার হাতে দিয়ে বললো)।


( ভোলা তখনি টাকার ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যায়।)



(মন্ত্রীর বাড়িতে সবাই তখন খাবার টেবিলে খাবার খেতে ব্যাস্ত। এমন সময় কলিং বেল বাজলো)।


মন্ত্রী - প্রতিমা , দেখো তো কে এলো ? এত সকাল সকাল তো কারোর আসার কথা না।


( প্রতিমা দেবী দরজা খুলে দেখলো ভোলা এসেছে)।


প্রতিমা দেবী - আরে ভোলা যে, এসো এসো ভিতরে এসো।


( ভোলা ভিতরে আসে)।


শুক্লা - কি বলেছিলাম মা? বলেছিলাম না কাল সকাল হতে না হতেই ওকে এই বাড়িতেই ফিরতে হবে। মিললো তো আমার কথা ?( ভোলার দিকে তাচ্ছিল্যের চোখে তাকিয়ে)।


ভোলা - হ্যাঁ, ম্যাডাম আমাকে যে আসতেই হতো।


শুক্লা - আরে আমি জানি জানি রাস্তার ছেলেরা এই রকমই হয়।


ভোলা - ( টাকার ব্যাগটা শুক্লার সামনে টেবিলে রেখে বললো) এই নিন গুনে দেখুন , এত দিন আমার বাড়িতে যা টাকা পাঠিয়েছিলেন , পুরো টাকাটাই আছে।


প্রতিমা দেবী - তাহলে এত দিন তোমার পরিবার কি ভাবে চলেছে?


ভোলা - নুন আনতে পান্তা ফুরায় , সেই একই ভাবে চলে গেছে , আসছি আমি। ভালো থাকবেন।


শুক্লা - যাও ,যাও ,


ভোলা - যাওয়ার আগে একটা কথা বলে যাচ্ছি , আমি আপনার স্বামী কিন্তু আজ পর্যন্ত আমি কোনো দিন স্বামীর অধিকার চাইনি আর চাইবোও না। কিন্তু যদি আপনি এই ছোট ছোট ড্রেস না পরে শাড়ি পড়তেন আর কপালে এক ফোঁটা সিঁদুর পড়তেন বিশ্বাস করুন তাহলে আপনাকে খুব সুন্দর লাগতো। ( এই বলে শুক্লার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেলো)।



(শুক্লা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে )


শুক্লা - ছেলেটা কি সত্যি ভালো? এত গুলো টাকা ফেরত দিয়ে দিলো? (মনে মনে ভাবছে )



কিছুদিন পর _



অভিরুপ - শুক্লা আমার তোমার সঙ্গে খুব দরকারি কিছু কথা ছিলো। আজ সন্ধ্যে বেলা একবার দেখা করবে?( ফোন করে বললো)


শুক্লা - অবশ্যই , বলো কোথায় দেখা করবে?


অভিরূপ - ফুলবাগান পার্কে ঠিক সন্ধ্যে সাতটা।


শুক্লা - ঠিক আছে।( ফোন রেখে দিলো)।


 শুক্লা মানসিক ভাবে খুবই অসস্তি অনুভব করছে, ভোলা যতদিন ছিলো ততদিন শুক্লার কোনো অসুবিধে হয়নি। না চাইতেই তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সব হাতের কাছেই রেখে দিতো ভোলা। আজ ভোলা নেই , শুক্লার ভীষণ অসুবিধে হচ্ছে। কাজের লোক গুলো একটাও ঠিক করে কাজ করছে না, সব ফাঁকিবাজ।


সন্ধ্যে বেলা -


অভিরূপ -কি ব্যাপার কি ? আসতে এত লেট কেনো করলে তুমি?


শুক্লা - লেট কোথায় হলো? , এই তো মাত্র পাঁচ মিনিট লেট। তাতেই তোমার অসুবিধে হচ্ছে? কই আগে যখন আর ও দেরি করে আসতাম তখন তো কিছুই বলতে না।


অভিরুপ - আচ্ছা , sorry


শুক্লা - এইবার বলো তো কি দরকারি কথা?


অভিরুপ - শুক্লা আমি কিভাবে বলবো বুঝতে পারছি না। আমার খারাপ লাগছে কিন্তু বলতে তো হবেই।


শুক্লা - এত হেয়ালি না করে সোজাসুজি কথাটা বলো।


অভিরুপ - আসলে আমার এই মুহূর্তে ২ লাখ টাকা দরকার। খুব দরকার , তুমি যদি একটু দিতে, বিশ্বাস করো আমি এই মাসেই ফেরত দিয়ে দিবো। তাছাড়া আমার যা আছে সব তো তোমারই আর তোমার যা আছে সব আমারই। 


শুক্লা - আচ্ছা, আমি দেখছি কি করা যায়।


অভিরুপ - থ্যাঙ্ক ইউ, সো মাচ, আচ্ছা আমি আজ আসছি আমার একটু কাজ আছে। 

( এই বলে চলে যায়)।


 

 ( বাড়ি ফিরে এসে শুক্লা অন্যমনস্ক হয়ে আছে)


প্রতিমা দেবী - কি রে শুক্লা, খেতে আয়। 

( ভাত খেতে ডাকলেন)।


শুক্লা - না ,মা, আজ আমার খিদে নেই খাবো না।


প্রতিমা দেবী - আজ কি হলো শুক্লার ? কোনো দিন তো ও না খেয়ে থাকেনি। আজ বলছে খিদে নেই? থাক একটু একা থাকুক , কাল সকালে কথা বলে দেখবো ।এমনিতেও তো আমাকে আর কিছু বলে না।( মনে মনে ভাবতে লাগলেন)।



শুক্লা - অভি এর আগেও নানা কারণ দেখিয়ে আমার কাছ থেকে অনেক টাকা নিয়েছে , ফেরত দিবে বলে কিন্তু ফেরত দেয়না। আজ আবার দুই লাখ টাকা চাইলো ?


অন্যদিকে ভোলা সে টাকা পেয়েও ফেরত দিয়ে গেলো?(ঘরে পায়চারি করতে করতে ভাবছে)


কিছুক্ষন পর


শুক্লা - না না , আমি এইসব কি ভাবছি? অভিরূপ আমাকে ভালোবাসে আমিও ওকে ভালোবাসি। তাহলে আমি কেনো এইসব ভাবছি?

 ( নিজের মনের সঙ্গে নিজেই কথা বলছে)।


দুই দিন পর





অভিরূপ - শুক্লা টাকাটা কি দিতে পারবে?

( ফোন করে বলে)


শুক্লা - হ্যাঁ , আজ বিকেলে তুমি আমাদের বাড়ি আসো আমি দিয়ে দিবো।


অভিরূপ - আচ্ছা , ঠিক আছে । রাখছি( ফোন রেখে দিলো)।


শুক্লা - আজকাল ,অভি কেমন যেনো বদলে গেছে , দরকার ছাড়া ফোন করে না, আমি ফোন করলে না না রকম ব্যাস্ততার অজুহাত দেখায়।

( মনে মনে ভাবছে)।


বিকেল বেলা 


(অভিরুপ আসে , শুক্লা দুই লাখ টাকা দিলো। )


অভিরুপ্ - শুক্লা একটা অনুরোধ রাখবে?


শুক্লা - এইভাবে কেনো বলছো? কোনো দিন তুমি কিছু বলেছো আর আমি তোমার কথা রাখিনি এমন হয়েছে কি ?


অভিরুপ - না না, আসলে আমি চাই , এই টাকা দেওয়ার ব্যাপারে প্লিজ তুমি কেউকে বলো না আমার তো একটা মান সন্মান আছে। তোমার মা বাবা যদি জানে তুমি আমাকে টাকা দিয়েছো তাহলে তাদের কাছে আমার সন্মানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলো?


শুক্লা - আচ্ছা , বেশ আমি কেউকে কিছু বলবো না তবে আমার একটা শর্ত আছে।


অভিরুপ - কি শর্ত?

 শুক্লা - এই মুহূর্তে আমাকে নিয়ে ঘুরতে যেতে হবে। রাজি?

অভিরুপ - এই ,ব্যাপার এক্ষুনি চলো, তবে কোথায় যাবে বলো?

শুক্লা - বাজরে যাবো , ফুসকা খাবো। খুব মজা হবে।

অভিরুপ - আচ্ছা , বেশ চলো। 


 দুইজন বেরিয়ে যায়। শুক্লা বাজারের রাস্তায় অভিরুপের হাত ধরে ঘুরতে ঘুরতে একটি ফুসকার দোকানে যায় ফুসকা খায়। এমন সময় কিছু লোক বলা বলি করছিলো পাশে একটি নতুন দোকান উঠেছে , খুব ভালো চপ পাওয়া যায়। শুক্লা চপ ভীষণ ভালোবাসে সে আলুর চপ হোক বা ফুলকপির। শুক্লা সেই দোকানে যায় অভিরূপকে নিয়ে কিন্তু সেখানে গিয়ে সে চমকে যায় । সে দেখে রূপা মানে ভোলার বোন বই পড়তে পড়তে সবজি কাটছে, আর ভোলার বাবা উনুনে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো চেষ্টা করছে , ভোলার মা , থালা বাসন পরিষ্কার করছে। আর ভোলা চপ তৈরি করছে।


ভোলার মা - একি বৌমা , তুমি ? এসো বসো । কি খাবে বলো? ঘুগনি নাকি ফুলকপির চপ? অবশ্য আমার ছেলে আমাকে বলেছে তুমি ফুলকপির চপ ভীষণ ভালোবাসো , দাড়াও আমি এক্ষুনি দিচ্ছি। ( শুক্লাকে দেখে জিজ্ঞাসা করে?


ভোলা - মা, এক প্লেট কেনো নিচ্ছো , উনারা দুই জন দুই প্লেট দাও ( এই বলে নিজের কাজে মনোযোগ দিলো)।

 

শুক্লা - এই নিন , খাবারের বিল। (পাঁচশো টাকার নোট ভোলার মায়ের সামনে দিয়ে বললো)।


ভোলার মা - বৌমা , আমরা গরীব হতে পারি, তবে নিজের ছেলের বউকে এক প্লেট চপ খাইয়ে তার কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নেবো এতটা নিচু আমরা নই।


অভিরুপ্ - কিসের বৌমা বৌমা করছেন আপনি? আর কিছুদিন পর আমার সাথে শুক্লার বিয়ে। এটা মনে হয় আপনি জানেন না।

( ভোলার মাকে বললো)


 ভোলার মা - বৌমা , কপালে এক ফোঁটা সিঁদুর কিনে পড়ার টাকা টাও কি নেই তোমার ?

( অভিরূপের কথায় কান না দিয়ে , নিজের সিথি থেকে এক ফোঁটা সীদুর শুক্লার মাথায় পরিয়ে দিলো ভোলার মা)


শুক্লা - এটা কি করলেন আপনি? 


অভিরূপ - শুক্লা এক্ষুনি চলো 

( শুক্লার হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে চলে গেলো।)।


ভোলার মা - ভোলা, তুই কিছু বলবি না?


ভোলা - আমার কি অধিকার আছে? আমি কিই বা বলতে পারি? আর উনি কি শুনবেন আমার কথা? এর থেকে নীরব থাকাই ভালো।



পরের দিন সকালে অভিরুপ তার দলবল নিয়ে এসে ভালোর দোকান ভেঙে দিয়ে যায়। আর ভোলার বাবাকে শাসিয়ে বলে যায় , এই শহর ছেড়ে চলে যেতে। অন্যদিকে ভোলা চাইনি কোনো ঝামেলা হোক তাই ভোলা তার পরিবার কে নিয়ে এই শহর ছেড়ে অন্য শহরে চলে যায়। সেখানে গিয়ে সে একটি হোটেল তৈরি করে। ধীরে ধীরে তার হোটেলের নাম চারি দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই হোটেলের খাবার এতই সুস্বাদু হয় যে দেশ বিদেশ থেকে খাবার তৈরি অর্ডার আসতে শুরু করে । এইভাবে ধীরে ধীরে এক বছর এর মধ্যে ভোলার হোটেলের নাম দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ভোলা বর্তমানে একজন বিসনেস ম্যান। সেই দিনের সেই মন্ত্রীর বাড়ির ঘরজামাই ভোলা আর বতমানের বিসনেস ম্যান মিস্টার ভোলা বিশ্বাস , দুজনের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। ভোলা বর্তমানে যে শহরে আছে সেই শহরটি শুক্লার শহর থেকে অনেক দূরে।



একবছর পর


শুক্লা আজ তার বান্ধবী রিয়ার বাড়ি যাচ্ছে। রিয়াকে সারপ্রাইজ দিতে কিন্তু সেখানে গিয়ে সে নিজেই চমকে গেলো । শুক্লা দেখতে পেলো অভিরূপ তার বান্ধবী রিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় একই বিছানায়। শুক্লা দুই চোখ বন্ধ করে নিজের গায়ে চিমটি কেটে দেখে সপ্ন না সত্যি । শুক্লা নিজের চোখের জল লুকিয়ে অভিরূপ কে ফোন করলো।


অভিরূপ - তোমাকে বলেছিলাম না , আমি অফিসে যাচ্ছি , জরুরি মিটিং আছে। তুমি কেনো এই সময় আমাকে বিরক্ত করছো? ( এই বলে ফোন কেটে দিলো।)


(শুক্লা বাড়ি ফিরে এসে অঝোরে কান্না করতে থাকে।)


প্রতিমা দেবী - কি রে , কান্না করছিস কেনো? কি হলো তোর?


শুক্লা - মা , আমার সব শেষ হয়ে গেছে মা।

( এই বলে সব কিছু তার মাকে বলল)।


প্রতিমা দেবী - ভোলা যখন ওই ভিডিও টা দেখিয়েছিল তখনি আমার সন্দেহ হয় কিন্তু তুই তো কারোর কথা শুনবি না। ছেলেটা সত্যি কথা বলেও এত অপমানিত হলো।


শুক্লা - মা , আমি আজই যাবো ভোলার কাছে। আমি ভুল করেছি , আমি ক্ষমা চাইবো।


প্রতিমা দেবী - আচ্ছা , ঠিক আছে তুই বরং তাই কর।



( পরের দিন সকাল বেলা শুক্লা ভোলার বাড়ি যায় সেখানে গিয়ে জানতে পারে এক বছর আগেই ভোলা তার পরিবার নিয়ে চলে গেছে। বাড়ি ফেরার সময় ভোলার সেই চপের দোকানের সামনে একজন কে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারলো এক বছর আগে কেউ একজন ওই দোকান ভেঙে দিয়ে তাদের শাসিয়ে যায় তারপর থেকে আর তাদের দেখা যায়নি। (শুক্লা বিষন্ন মন বাড়ি ফিরলো)


প্রতিমা দেবী - কি রে , কি হলো? ভোলার সাথে দেখা হলো?


শুক্লা - না মা, ভোলা চলে গেছে।

প্রতিমা দেবী - চলে গেছে মানে? কোথায় গেছে?

শুক্লা - আমি কিচ্ছু জানি না মা


( কান্না করতে করতে ছুটে ঘরে চলে গেলো)।


প্রতিমা দেবী - সবই আমাদের কপাল! ( মাথায় হাত দিয়ে বিলাপ করতে থাকে)।



(দুই দিন পর অভিরূপ শুক্লাকে ফোন করে।)


অভিরূপ - কি ব্যাপার ম্যাডাম? দুই দিন থেকে আমাকে ফোন এসএমএস কিছুই করছেন না। নতুন কেউ এসেছে নাকি আপনার জীবনে?


শুক্লা - নতুন কেনো আসতে যাবে। তুমি মনে হয় ভুলে গেছো আমি বিবাহিত।


অভিরূপ - হা হা হা, বাহ এত রাগ করেছো? রাগ করে সেই পাগলা ভোলাকে নিজের স্বামী বলছো?


শুক্লা - পাগলা ভোলা কাকে বলছো? আমার তো মনে হয় তোমার মত পাগলা কুকুরের থেকে পাগলা ভোলা অনেক বেটার।( ফোন কেটে দিলো)।


( অভিরূপ বার বার ফোন করতে থাকে শুক্লাকে কিন্তু শুক্লা কিছু তেই ফোন রিসিভ করে না। তাই অভিরূপ শুক্লা দের বাড়ি চলে আসে।)


( বাড়ির সদর দরজা খোলা থাকায় বাড়ির ভিতরে ডুকে যায়।)


অভিরূপ - শুক্লা , শুক্লা , কোথায় তুমি?


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - কি ব্যাপার কি? এটা একটা ভদ্র লোকের বাড়ি। এই ভরদুপুর বেলা কিসের এত চিৎকার চেচামেচি?( রেগে গিয়ে বললো)।


প্রতিমা দেবী - তুমি এক্ষুনি বের হয়ে যাও।

( অভিরূপকে বললো)।


অভি রূপ - বের হয়ে যাবো মানে? আমি শুক্লার সাথে দেখা করতে এসেছি, দেখা না করে তো যাবো না।


প্রতিমা দেবী - শুক্লা তোমার সাথে দেখা করতে চায় না, তুমি চলে যাও।

অভিরূপ - কিন্তু কেনো দেখা করতে চায় না?


প্রতিমা দেবী - কারণ রিয়া দের বাড়িতে শুক্লা তোমার আসল রূপটা দেখেছে তাই।


অভিরূপ - আসল রূপ মানে? আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না ( মনে মনে সব বুঝতে পারে কিন্তু না বুঝার নাটক করে)।


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - কি ব্যাপার প্রতিমা? আসল রূপ মানে ? আমাকে তো কিচ্ছু বলো নি।


প্রতিমা দেবী - সারাদিন তো , রাজ্যের সব কাজ নিয়েই পড়ে থাকো। কোনো খোজ খবর রাখো আমাদের? ( এই বলে সব ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিলো।)


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - এত বড়ো প্রতারণা? আমার একমাত্র চোখের মনির চোখে জল ফেলিস তুই 

( এই বলে একটা থাপ্পর মেরে টানতে টানতে বাড়ির বাইরে বের করে দিতে থাকেন এমন সময় শুক্লা সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে বললো)।


শুক্লা - আগামী কালের মধ্যে আমার সব টাকা ফেরত চাই। যদি না পাই তাহলে কিন্তু খুব খারাপ হবে।


অভিরূপ - এত বড়ো অপমান। এই অপমানের শোধ আমি এক সপ্তাহের মধ্যেই নিবো। তোমাদের সকলকে পথে বসিয়ে ভিক্ষে করাবো আমি।( এই বলে বেরিয়ে যায়)।




কিছুদিন পর 

 


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুর বাড়িতে ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ড হয়। বাড়িতে থাকা সমস্ত দরকারি কাগজপত্র , টাকা পয়সা এমনকি সম্পত্তির দলিল সমস্ত কিছু পুরে ছারখার হয়ে যায়। ভাগ্য ক্রমে সেদিন বাড়িতে কেউ না থাকায় তাদের কারোর প্রাণ হানি হয়নি। মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু এবং তার পরিবার বুঝতে পারে এটা অভিরুপের কাজ। মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু কোর্টে গেলেন কিন্তু প্রমাণ না থাকায় উকিল বাবু কেস নিতে রাজি নন। অন্য দিকে টাকার অভাবে আজ তাদের মাথার উপর ছাদ টুকুও নেই। আজ সত্যি পথে বসলেন মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু এবং তার পরিবার। শুক্লা আজ বুঝতে পারছে যে রাস্তার ছেলে বলে যাকে সে অপমান করতো তার এই পাপের ফল আজ শুক্লা ভোগ করছে।মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু এবং শুক্লা ও তার মা পথের ধারে বসে আছে এমন সময় একটি গাড়ি থেকে অভিরুপ নেমে আসলো।



অভিরূপ - এই যে মিস মন্ত্রী কন্যা , কি বলেছিলাম আমি, আজ পথে বসে ভিক্ষে করতে হচ্ছে তো?


শুক্লা - সময় সবার আসে অভি , সময় আমারও আসবে , এমনকি তোমারও একদিন সময় আসবে যেদিন তুমি এই পথে বসে ভিক্ষে করবে।


অভিরূপ - বাহ , বসে বসে দিবা স্বপ্ন দেখছো? দেখো দেখো , তাছাড়া তো আর কিছু করার নেই তোমাদের।


শুক্লা - বাবা , চলো ঐ গাছের নিচে গিয়ে একটু বসি , তোমার শরীর টাও তো আজ কাল ভালো যাচ্ছে না।( বাবাকে বললো শুক্লা)।


প্রতিমা দেবী - হ্যাঁ , চলো , দাড়িয়ে দাড়িয়ে পাগলের প্রলাপ শুনে লাভ নেই।( এই বলে আস্তে আস্তে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো।)।



অন্য দিকে বহুদিন পর ভোলার মায়ের বড্ড ইচ্ছে তাদের আগের জায়গায় ফিরে আসবে।ভোলা তার মায়ের ইচ্ছে পূরণ করতে তাদের আগের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলো। বাড়ি ফিরে এসে বাড়ির ওয়ালার কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নিয়ে সেখানে থাকতে শুরু করলো ভোলা ও তার পরিবার। ভোলার পরিবার বাড়িতে থাকলেও ভোলাকে নিজের কাজে অন্য অন্য শহরে যাওয়া আসা করতে হয়।।



এইদিকে মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুর পুরনো দিনের বন্ধু সুবল বাবু , মন্ত্রীর এই দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়িয়েছে , বর্তমানে মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু তার স্ত্রী কন্যাকে নিয়ে সুবল বাবুর বাড়িতে আশ্রিত । সুবল বাবু কিন্তু মোটেও পরোপকারী মানুষ নন। উনি বিভিন্ন বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত। সুবলবাবু খুব চতুর মানুষ। প্রথমে শুক্লা বা তার পরিবার কেউ কিছু বুঝতে পারেনি কিন্তু কিছু দিন পর মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুর মনে সন্দেহ জাগে। গোপনে দেবাশীষ সমস্ত খোজ খবর নিয়ে জানতে পারেন সুবল বাবু বেইআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত । সুবল বাবু বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর দেবাশীষ বাবু তার পিছনে যায় এবং সমস্ত প্রমাণ দেবাশীষ বাবুর মোবাইলে রেকর্ড করেন।

বাড়ি ফেরার সময় হটাৎ পেছন থেকে একটি গাড়ি দেবাশীষ বাবুর সামনে এসে দাড়ালো।



মন্ত্রী দেবাশীষ - সুবল তুই?


সুবল বাবু - তুই কি ভেবেছিলি আমার খাবি আমার পরবি আর আমার পিছনে ছুরি মারবি আর আমি কিছুই বুঝতে পারবো না।?


মন্ত্রী - দেখ সুবল , তুই যেটা করছিস সেটা অন্যায়।


সুবল বাবু - ন্যায় অন্যায় আমাকে বুঝাতে আসিস না। তোর মোবাইলে যা রেকর্ড করেছিস সেটা এক্ষুনি আমার হাতে দে। আর কি কি প্রমাণ আছে তোর কাছে বল?


 মন্ত্রী - দেখ সুবল ,আমি তোকে কথা দিচ্ছি , আমি তোর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পুলিশের হাতে বা অন্য কেউ কে দিবো না। তুই শুধু শুধরে যা, এই সব বেআইনি কাজ বাদ দে, যেদিন তুই শুধরে যাবি সেদিন আমি নিজে সমস্ত প্রমাণ ডিলেট করে দিবো।


সুবল বাবু - চুপ কর তুই , ফালতু প্যাচাল পারিস না। প্রমাণ গুলো আমার হাতে ভালোয় ভালোয় তুলে দে,


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - আমার প্রাণ থাকতে আমি এই প্রমাণ তোর হাতে দিতে পারবো না।


সুবল বাবু - আচ্ছা , তাহলে তোর প্রাণ টাই দে,

এই কে আছিস? (গাড়ি থেকে নেমে আসে ছয় জন গুন্ডা ওদের প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র)।


(এমন সময় এই পথেই গাড়ি করে যাচ্ছিলো ভোলা। রাস্তার মাঝখানে মারামারি দেখে গাড়ি থেকে নেমে আসে ভোলা। গুন্ডা দের সঙ্গে মারামারি করে উদ্ধার করে মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুকে। গুন্ডা সহ সুবল বাবু পালিয়ে যায়।)

 


মাথায় আঘাত পাপ্ত রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে ভোলাকে চিনতে পারেনি মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু। 


ভোলা - বাবা, আপনি ? ওরা কারা ছিলো? কেনো আপনার উপর আক্রমণ করেছে ওরা?


মন্ত্রী - বাবা! ভোলা তুমি ভোলা?


ভোলা - হ্যাঁ , আমি ভোলা , আপনি আমায় চিনতে পারছেন না?


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - চিনেছি বাবা , চিনেছি , আগে তো তোমাকে কখনো এত দামী পোশাকে এত স্মাট ভাবে দেখিনি তাই চিনতে একটু অসুবিধে হচ্ছিলো।


ভোলা - আচ্ছা , আপনি আমার গাড়িতে আসুন

 ( এই বলে মন্ত্রী কে ধরে ধরে গাড়িতে বসিয়ে তার মাথার প্রাথমিক চিকিৎসা করে ভোলা)।


মন্ত্রী - ভোলা , তুমি এত দিন কোথায় ছিলে? 


ভোলা - সে সব কথা পরে বলছি তার আগে আপনি বলুন ওরা কারা ছিলো? কেনো আপনাকে আক্রমণ করলো?


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - ভোলা , অনেক কিছু ঘটে গেছে যা তুমি জানো না। শুক্লা মা তোমার সাথে অন্যায় করেছিলো আর আজ ভগবান আমাদের সেই অন্যায় এর শাস্তি দিচ্ছে।


ভোলা - বাবা , এইসব বলে আমাকে লজ্জিত করবেন না। আপনি সমস্ত কিছু খুলে বলুন।


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - অভিরূপ ভালো ছেলে ছিলো না বাবা, তুমি ঠিক এই বলেছিলে। শুক্লা মা যখন অভিরূপের আসল রূপ বুঝতে পরলো তখন অভিরূপ কে প্রত্যাখ্যান করলো কিন্তু অভিরূপ প্রতিশোধ নিতে আমাদের বাড়ি আগুনে ভস্মীভূত করে দিলো। বাড়ির সমস্ত কাগজ পত্র , দলিল টাকা পয়সা সব পুরে ছাই হয়ে যায়। এক প্রকার বাধ্য হয়ে আমাকে মন্ত্রীপদ ত্যাগ করতে হলো। টাকা না থাকায় উকিল অভিরূপের বিরুদ্ধে কেস লড়তে রাজি হলেন না। যখন পথে বসে ভিক্ষে করতে হচ্ছে এমন সময় আমার পুরোনো দিনের বন্ধু সুবল আমার পাশে এসে দাড়ালো , ও আমাকে আর আমার বউ এবং শুক্লাকে ওর বাড়িতে রেখেছে। সন্মানের সঙ্গেই আছি সেখানে কিন্তু আমি হটাৎ খোজ নিয়ে জানতে পারি সুবল বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত। আর তার প্রমাণ আমার কাছে আছে। সুবল কোনো ভাবে সেটা বুঝতে পারে আর তাই আমাকে মারতে লোক পাঠায় । ওরা আমার কাছ থেকে প্রমাণ কেড়ে নিতে চায এসে ছিলো।



ভোলা - ওহ্ , আচ্ছা ( দীর্ঘ শ্বাস ফেলে বললো)। মা আর শুক্লা কি ওদের বাড়িতে ?


মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু - হ্যাঁ, ভোলা , তুমি আজ আমাকে বাঁচিয়েছো তুমি আমার বউ আর শুক্লাকে বাঁচাও ভোলা। না জানি সুবল ওদের উপর কি প্রতিশোধ নিবে।


ভোলা - আপনি চিন্তা করবেন না। আপনি এই মুহূর্তে আমার সঙ্গে আমাদের বাড়ি চলুন। ( মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুকে নিয়ে ভোলা তার নিজের বাড়ি যায়)।


ভোলার মা - একি? মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু ? একি অবস্থা ? ভোলা তুই উনাকে কোথায় পেলি?


ভোলা - মা , আমি সব বলছি তার আগে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে উনি আমাদের বাড়িতে আছেন এই কথাটা আমাদের বাড়ির মানুষ বাদে কেউ যেনো জানতে না পারে।


ভোলার মা - আচ্ছা, ঠিক আছে। তুই উনাকে ভিতরে নিয়ে আয়।



মন্ত্রী - আমাকে ক্ষমা করবেন আপনারা।

 ( হাত জোড় করে ভোলার মা বাবার কাছে ক্ষমা চাইলো।)।


ভোলার বাবা - ক্ষমা চাইছেন কেনো? বেয়াই মসাই। আমরা হলাম প্রাণের সখা , বুজলেন?


( মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু ভোলার বাবাকে আলিঙ্গন করলেন)।


দেবাশীষ বাবু - ভোলা , এই নাও সুবলের বিরুদ্ধে প্রমাণ। আমি তোমার হাতে তুলে দিলাম। আমার বিশ্বাস তুমি এই প্রমাণের সঠিক ব্যবহার করবে।

 ( মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু তার মোবাইল এবং কিছু কাগজ পত্র ভোলার হাতে তুলে দিয়ে বললো)।


ভোলা - আমি আপনার বিশ্বাস রাখার চেষ্টা করবো।




অন্যদিকে সন্ধ্যে নেমে এলো বাবা বাড়ি না ফেরায় অস্থির হয়ে সুবল বাবুর বাড়ির সদর দরজার সামনে পায়চারি করছে শুক্লা। বাবাকে বারবার ফোন করে যাচ্ছে কিন্তু ফোন সুইস অফ বলছে। সারা রাত পেরিয়ে গেলো শুক্লা আর তার মা সদর দরজা খোলা রেখে দেবাশীষ বাবুর অপেক্ষা করতে করতে সেখানেই ঘুমিয়ে পড়েন।


পরের দিন সকালে _


সুবল বাবু বাড়ি পৌঁছে দেখে শুক্লা আর তার মা দরজার সামনে দাড়িয়ে আছে।



সুবল বাবু - শুক্লা তোমার বাবা কোথায়?

শুক্লা - জানি না সুবল কাকু , তুমি কিছু একটা করো। বাবাকে খুঁজে এনে দাও ।


সুবল বাবু - কি ব্যাপার বল তো? 


শুক্লা - বাবা সেই কাল সকালে বেরিয়েছিল কিন্তু বাড়ি ফিরে আসে নি।( কান্না করতে থাকে)


সুবল বাবু - ফোন করেছিস? 


শুক্লা - সেই গতকাল থেকে বাবাকে ফোন করছি কিন্তু ফোন সুইস অফ বলছে।


সুবল বাবু - ব্যাপারটা কি হলো ? কে বাঁচিয়ে ছিলো ? ছেলেটা কে ছিলো? কোথায় নিয়ে গেলো দেবাশীষকে? দেবাশীষ একবার তার এক মাত্র কন্যা শুক্লা আর স্ত্রীকে না নিয়ে কোথায় যেতে পারে? ( মনে মনে ভাবতে লাগলো)।



শুক্লা - সুবল কাকু , কিছু বলছো না যে?


সুবলবাবু - আচ্ছা আমি দেখছি কি করা যায়। তুই চিন্তা করিস না মা।

( এই বলে সুবল তার নিজের ঘরে চলে যায়।)


কিছু ক্ষণ পর সুবলবাবুর মোবাইলে ফোন আসে।

ফোন রিসিভ করে ।


সুবল বাবু - বোকা ছেলে, তোর কথায় আজ আমার এই অবস্থা, দেবাশীষ আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ নিয়ে মনে হয় পুলিশের কাছে পৌঁছে গেছে। অভিরূপ তুই যে আমার ছেলে , সে কথা তো দেবাশীষ বা ওর বাড়ির কেউ জানে না। কিন্তু এই মুহুর্তে আমি কি করবো।?


অভি রূপ - কেনো চিন্তা করছো বাবা? ওই দেবাশীষ বাবুর নয়ন মনি শুক্লা তো তোমার হাতে। ওকে ব্যাবহার করো কাজ হয়ে যাবে ।


সুবলবাবু - তুই আয় আমাদের বাড়ি। আজ সামনা সামনি একটা হেস্ত নেস্ত করবো।



অভিরূপ - আরে বাবা , না না , এই ভাবে হবে না । তুমি আর দুটো দিন অপেক্ষা করো।


(এই বলে ফোন রেখে দিলো)।


বেশ কিছুদিন কেটে গেলো।


(শুক্লা তার মাকে নিয়ে ডক্টরের কাছে যাবে আজ।)


শুক্লা - সুবল কাকু , মা খুব অসুস্থ , মাকে ডক্টর দেখতে নিয়ে যেতে হবে যদি কিছু টাকা ধার দিতে?


সুবল - এই নে ( পকেট থেকে পাঁচ হাজার টাকা বের করে দিলো)।


শুক্লা - বাবার কোনো খোজ পেলে কাকু?

( টাকাটা সুবল বাবুর হাত থেকে নিতে নিতে বললো)।


সুবল বাবু- না রে, তুই চিন্তা করিস না, আমি তো খোজ চালিয়ে যাচ্ছি।




 ( এই দিকে ভোলা জানতে পারে আজ শুক্লা তার মাকে নিয়ে বি টি রোড এ ডক্টর হিমাংশু রায়ের কাছে আসবে)


ভোলা - বাবা, আপনাকে আজ যেতে হবে।

( দেবাশীষ বাবুকে বললেন।)


দেবাশীষ বাবু - যেতে হবে মানে? কোথায় যাবো ভোলা?


ভোলা - বি টি রোড এর কাছে।

দেবাশীষ বাবু - কিন্তু কেনো?


ভোলা - আজ শুক্লা তার মাকে নিয়ে আসবে সেখানে। আপনি আজ সেখানে যাবেন। কেউ যদি জানতে চায় এত দিন কোথায় ছিলেন? বলবেন কিছু মনে নেই। মাথায় আঘাতের কারণে সব ভুলে গেছেন। ( কানে কানে কিছু বলে , প্ল্যান করে)।



দেবাশীষ বাবু - আচ্ছা , বেশ ।


(তারপর ভোলা বেরিয়ে পড়ে দেবাশীষবাবুকে নিয়ে , ডক্টর দেখিয়ে ফেরার পথে গাড়িতে উঠতে যাবে এমন সময় শুক্লা লক্ষ্য করলো তার বাবা রাস্তার ওই পাশে দাড়িয়ে আছে। শুক্লা ছুটে গেলো তার বাবার কাছে বাবাকে নিয়ে সুবলবাবুর বাড়ি ফিরে আসে শুক্লা। এই দিকে শুক্লার সঙ্গে তার বাবাকে দেখে চমকে উঠে সুবল বাবু)।


সুবল বাবু - শুক্লা মা , তোমার বাবাকে কোথায় পেলে? 


শুক্লা - কাকু , একটু অপেক্ষা করো সব বলছি।


সুবল বাবু - এই দেবাশীষ কোথায় ছিলি এত দিন? তোর মোবাইল কোথায়? তুই জানিস কত বার ফোন করেছি আমরা ।


শুক্লা - কাকু , মাকে নিয়ে ফেরার সময় দেখলাম রাস্তার এক পাশে বাবা দাড়িয়ে আছে। মাথায় ব্যান্ডেজ । বাবাকে কিছু জিজ্ঞাসা করিনি । একটু বসো আমি দেখছি ।


সুবল বাবু - ব্যাপারটা কি? দেবাশীষ সব জেনেও শুক্লাকে কিচ্ছু বললো না কেনো? দেবাশীষ এর প্ল্যান কি? ( মনে মনে ভাবছে)।


শুক্লা - বাবা, বলো তো কোথায় ছিলে তুমি? তোমার চিন্তায় চিন্তায় মা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 


দেবাশীষ বাবু - আমার কিছু মনে নেই রে মা, আমি হটাৎ লক্ষ্য করলাম আমি হাপাতালে , আমার হাতে মোবাইলটাও নেই। কত তারিখ , কয়টা বাজে আমার কিছু খেয়াল নেই। তারপর যখন হাসপাতাল থেকে ছুটি দিলো তখন তোদের কাছে আসার জন্যই রাস্তার এক পাশে দাড়িয়ে ছিলাম , কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা না থাকায় কোনো গাড়ি আমাকে নিয়ে আসলো না রে মা।


সুবল বাবু - এই , পাগল বলছে টা কি? নাটক করছে নাকি সত্যি কিছু মনে নেই?( মনে মনে ভাবছে)।


শুক্লা - যাক ,বাবা সেই সব কথা বাদ দাও, বিশ্রাম করো।



সুবল বাবু- আচ্ছা ,দেবাশীষ তোর কি সত্যি কিছু মনে নেই? 


দেবাশীষ বাবু - না রে , ওই যে সেদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলাম তারপর আর কিচ্ছু মনে নেই।


সুবল বাবু - আচ্ছা , মনে করার চেষ্টা করিস না। মাথায় যন্ত্রণা হবে।


প্রতিমা দেবী - ঘরে চলো বিশ্রাম নিবে।( দেবাশীষ বাবুকে নিয়ে ঘরে গেলেন)।




( মিনিট দশ এক পর সুবল বাবুর ফোন বাজতে শুরু করলো)


সুবল বাবু - খেলাতো উল্টো দিকে ঘুরে গেছে অভিরূপ।


অভি রূপ - কেনো বাবা , আবার কি হলো?


সুবল বাবু - আরে ওই দেবাশীষ কোথা থেকে ফিরে এসেছে আবার।


অভি রূপ - ওই ব্যাটা কি সবাইকে সব বলে দিয়েছে?


সুবল বাবু - আরে না না, বলবে কি ? বলছে তো নিজেরই নাকি কিছু মনে নেই।


অভি রূপ - মনে নেই মানে? ব্যাটা নাটক করছে না তো? 

সুবল বাবু - সেটাই তো বুঝতে পারছি না।


অভিরূপ - আচ্ছা, আমি আসছি আজকে। ওদের জন্য সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।


সুবল বাবু - না, না আজকে একদম আসিস না, আমি আগে দেবাশীষ এর কানে তোর আর শুক্লার বিয়ের কথাটা তুলি তারপর আসিস।


অভিরূপ - বিয়ে? তুমি কি পাগল হয়ে গেছো বাবা? আমি ওকে বিক্রি করতে চাই, বিয়ে করতে না।


সুবল বাবু - বোকা ছেলে , বিক্রি করবো বললেই কি বিক্রি করা যায়? আগে বিয়ে কর, তারপর হানিমুনে গিয়ে বিক্রি করে চলে আসবি , তারপর এমন নাটক করবি কেউ কিছু বুঝতে পারবে না। 


অভিরূপ - প্ল্যানটা তোমার মন্দ নয় কিন্তু ওই ব্যাটা দেবাশীষ শুক্লার সাথে আমার বিয়ে দিতে রাজি হলে তো?


সুবল বাবু - হবে হবে, দেবাশীষকে রাজি করানো আমার দায়িত্ব , তোর এইসব নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই, তুই শুধু শুক্লার সামনে ভালোবাসার নাটক করে যাবি।


অভিরূপ - আচ্ছা , আমি রাখছি ,বায় বায়।



পরের দিন সকাল বেলা 


সুবল বাবু দেবাশীষ বাবু ও শুক্লাকে বসার ঘরে ডেকে পাঠালেন। 


সুবল বাবু - দেবাশীষ ভালো আছিস তো?


দেবাশীষ বাবু - হ্যাঁ , আগের থেকে অনেকটা ভালোই আছি।


সুবল বাবু - শুক্লার মায়ের শরীরটা বেশি ভালো না তাই আর শুক্লার মাকে এই আলোচনায় আসতে বলিনি।


দেবাশীষ বাবু - সে ঠিক আছে ,কিন্তু কি ব্যাপারে আলোচনা সেটা তো বল।


সুবল বাবু - দেখ দেবাশীষ ,তুই আর আমি সেই ছোট বেলার বন্ধু , আমি চাই আমরা বন্ধু থেকে আত্মীয় হতে। 


দেবাশীষ বাবু - কি বলছিস সুবল? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। একটু ভেঙে বলবি?


সুবল বাবু - দেখ দেবাশীষ , তুই তো জানিস আমার এক ছেলে আছে। আমি চাই আমার ছেলের সঙ্গে শুক্লার বিয়ে দিতে।


শুক্লা - অসম্ভব। ( এত ক্ষণ চুপ চাপ দাড়িয়ে ছিলো শুক্লা কিন্তু আর চুপ থাকতে পারলো না)


দেবাশীষ বাবু - দেখ সুবল , এটা ছেলে মেয়েদের ব্যাপার আর শুক্লা যখন বলছে অসম্ভব তখন আমি আর কি বলি বল?


সুবল বাবু - কেনো মা? কেনো অসম্ভব?

আমি তোমার কাছে হাত জোড় করছি ,তুমি না বলো না। আমি তো এত দিন বিনা স্বার্থে তোমাদের পাশে ছিলাম আজও আছি ,আমি না থাকলে আজ কিন্তু তোমরা রাস্তায় থাকতে। আমি যদি তোমাদের কে সাহার্য্য করার বিনিময়ে কিছু চাই তবে তুমি এইভাবে আমাকে ফিরিয়ে দিবে?


দেবাশীষ বাবু - কি প্ল্যান করছে সুবল? আর কে ওর ছেলে ? এত দিন তো দেখিনি।

( মনে মনে ভাবছে)।


সুবল বাবু - কি রে দেবাশীষ ? কিছু বল, তোর শুক্লা মাকে বোঝা।


দেবাশীষ বাবু - সুবল তোকে একটা কথা জানানো হয়নি রে। শুক্লা মা বিবাহিত।


সুবল বাবু - হোয়াট? বিবাহিত মানে? সিঁথির সিঁদুর নেই, কেনো তবে? স্বামী কি মরে গেছে? 


( শুক্লা চুপচাপ দাড়িয়ে চোখের জল ফেলছে,)।


সুবল বাবু- কি হলো? শুক্লা মা তোমার স্বামী কে ? কার সাথে বিয়ে হলো ? কবে হলো?।


( শুক্লা কিছু না বলে দৌড়ে ছুটে ঘরে চলে গেলো)।


দেবাশীষ বাবু - কিছুটা সময় দে সুবল , আমি দেখছি কি করা যায় ( এই বলে ঘরে চলে গেলো)।



শুক্লা ছুটতে ছুটতে ঘরে গিয়ে অঝোরে কান্না শুরু করে। 


প্রতিমা দেবী - কি রে কান্না করছিস কেনো? কি হলো তোর?


দেবাশীষ বাবু - কি আর হবে? সুবল ওর ছেলের সাথে শুক্লার বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে।


প্রতিমা দেবী - সুবল বাবুর ছেলে? আগে তো কোনো দিন দেখিনি।


দেবাশীষ বাবু - সে , আমিও দেখিনি।


প্রতিমা দেবী - প্রস্তাবের উত্তরে তুমি কি বললে?


দেবাশীষবাবু - কি করা যাবে বলো? ভোলার তো কোনো খোজ নেই , শুক্লাকে তো আর বিয়ে না দিয়ে বসিয়ে রাখতে পারি না। বয়সটা তো দিন দিন বাড়ছে। আর সুবল না থাকলে তো আজ আমরা পথে ভিক্ষে করতাম। ওকে না বলি কি করে বলো তো? কে জানে ভোলা মনে হয় বিয়ে করে সংসার করছে। এই বার শুক্লার একটা সুখের সংসার দেখে যেতে চাই।


শুক্লা - না বাবা না , আমার বিশ্বাস ভোলা কেউকে বিয়ে করতে পারে না। কারণও আমাকে ওর স্ত্রী ভাবে। ওদের পরিবার অন্য রকম বাবা। ওরা ভোলার বিয়ে অন্য কোথাও কিছুতেই দিবে না।


প্রতিমা দেবী - এইসব বলার সময়টা চলে গেছে। যখন বুঝার দরকার ছিল তখন বুঝতে পারিস নি, সময় যখন চলে গেছে তখন এইসব ভেবে কি লাভ?


শুক্লা - মা ,তুমিও? এই সব বলছো?


দেবাশীষ বাবু - আমি সুবলকে জানিয়ে দিচ্ছি আমরা এই প্রস্তাবে রাজি আছি। তুমি শুক্লাকে বোঝাও।( প্রতিমা দেবীকে বললো)।



শুক্লা তার মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগলো।


শুক্লা - ভোলা , তুমি কোথায়? কবে আসবে? আমার কথা কি তোমার একটুও মনে পড়ে না? নাকি তুমি সত্যি অন্যকেউকে বিয়ে করেছো?

( মনে মনে ভাবতে থাকে)।


অন্যদিকে সুবল বাবু অভি রূপকে ফোন করে।


অভি রূপ - কি ব্যাপার বাবা, এই সময় ফোন করলে কেনো,? তুমি তো জানো এইসময় আমি একটু ব্যাস্ত থাকি।


সুবল বাবু - চুপ কর হতভাগা, শুক্লার যে আগে একটা বিয়ে করে বসে আছে তুই জানিস এই সব?


অভিরূপ - আরে বাবা , ওটা বিয়ে না, ওটা একটা প্রতিশোধ ছিলো, আর ছেলেটা বেপাত্তা , কিন্তু তুমি কেনো এইসব নিয়ে ভাবছো?


সুবল বাবু - ভাবছি কি আর সাধে? আমি তো তোর সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম কিন্তু দেবাশীষ আর শুক্লা দুজনেই কেমন চুপচাপ , আমাকে বললো আগে একটা বিয়ে করেছে, এইসব শুনে কি মাথার ঠিক থাকে? তুই সব জানিস যখন আমাকে কেনো বললি না কেনো?


অভিরূপ - এসব ফালতু বিষয় , কি আর বলবো? আমি ফোন রাখছি। পরে কথা হবে।


দুই দিন পর



সুবল বাবু - দেবাশীষ কিছু বলবি?

দেবাশীষ - হ্যাঁ রে, অনেক ভেবে দেখলাম, আমরা রাজি আছি, তুই তোর ছেলেকে আসতে বল।


সুবল বাবু - সত্যি রাজি আছিস? আর শুক্লা মা সে রাজি তো?


দেবাশীষ - হ্যাঁ,রাজি ।


সুবল বাবু - তাহলে আজ থেকে আমরা আত্মীয় হলাম।


(সুবলবাবু দেবাশীষ বাবুকে জড়িয়ে ধরে)।

(শুক্লা তখন পাশ দিয়ে যাচ্ছিল , সুবল বাবু শুক্লাকে ডাক দিলেন)।


সুবলবাবু - শুক্লা মা , এই দিকে আসো।

শুক্লা - হ্যাঁ , কাকু বলো।


সুবল বাবু - কাকু , কাকু কি করছো? বাবা বলো বাবা, আজ থেকে আমি তোমার বাবা।


শুক্লা - আচ্ছা,


সুবলবাবু - আমি খুব খুশি হলাম মা, আচ্ছা , আমার জন্য এককাপ চা করে নিয়ে আসো তো।


শুক্লা - আচ্ছা , এক্ষুনি আসছি।( রান্না ঘরে গেলো)।


কিছুক্ষন পর শুক্লা চা করে নিয়ে আসে।


সুবলবাবু - বাহ , চা টা বেশ সুস্বাদু ।


( মন্ত্রীর একমাত্র কন্যা হওয়ায় শুক্লা কোনো দিন রান্না ঘরে যায়নি। কিন্তু যেইদিন তাদের সব শেষ হয়ে গেলো , যেদিন থেকে সুবলবাবুর বাড়িতে আশ্রিত সে দিন থেকে মায়ের কাছে রান্না থেকে শুরু করে ঘরের সমস্ত কাজ শুক্লা শিখে নিয়েছে।)


দেবাশীষ বাবু - তোর ছেলে কবে আসবে? কি নাম ওর? কোথায় থাকে?

সুবল বাবু - তুই বড্ড বেশি প্রশ্ন করিস, আমি ওর সাথে কথা বলেছি , আগামী কাল সকালেই আসছে। আমি একটু ঘরে গেলাম।





পরের দিন সকাল বেলা_


সকাল সকাল বাড়ির কলিং বেল বাজলো, সুবল বাবু তখন ঘুমোচ্ছিলেন। শুক্লা গিয়ে দরজা খুলে দেখলো অভিরূপকে।


শুক্লা - তুমি? আমার পিছু নিতে নিতে এই বাড়িতেও চলে এলে? এক্ষুনি বেরিয়ে যাও।সঙ্গে আবার ব্যাগ পত্র নিয়ে এসেছো দেখছি।( রেগে গিয়ে বললো)।


অভিরূপ - কি করবো বলো ডার্লিং তোমাকে ছাড়া কি আমি থাকতে পারি?

( অভি রূপের কথায় বিরক্ত হয়ে শুক্লা দরজাটা বন্ধ করতে যাবে এমন সময় অভিরূপ জোড় করে ভিতরে চলে আসে)।


শুক্লা - তুমি যাবে নাকি আমি সুবলকাকুকে ডাকবো?

অভি রূপ - সে তোমার যাকে ডাকার ডাকতে পারো।

শুক্লা - সুবলকাকু , একটু নিচে আসবে?


সুবল বাবু - হ্যাঁ আসছি, এই সকাল সকাল আবার কিসের চেচামেচি?( ঘুম ঘুম চোখে বললেন)।


অভিরূপ - শুধু তোমার সুবলকাকুকে ডাকলে তোমার মা বাবা কে ডাকবে না?


শুক্লা - এই , তুমি কি চাও? কেনো এসেছো? বেরিয়ে যাও এক্ষুনি।

অভিরূপ - আমি শুধু তোমাকে চাই , তোমার জন্যই এসেছি। 

( শুক্লা অভিরূপকে থাপ্পর মারতে যায় কিন্তু শুক্লার হাত সুবল বাবু আটকে দেয়)।


সুবলবাবু - কি ব্যাপার শুক্লা? তুমি কোন সাহসে ওর গায়ে হাত তুলো?( রেগে গিয়ে বললো)।


দেবাশীষবাবু - কি হলো ,এত চেচামেচি কিসের?

( বলতে বলতে এগিয়ে এসে অভিরূপকে দেখে চমকে উঠে)।


সুবল বাবু - সেটা তোর আদরের শুক্লাকে জিজ্ঞাসা কর , আমার ছেলেটা বাড়িতে আসতে না আসতেই ওর গায়ে হাত তুলতে যায়।কোন সাহসে?


শুক্লা - আপনার ছেলে? এই পাগলা কুকুরটা আপনার ছেলে?


সুবলবাবু - এত বড়ো সাহস তোমার আমার ছেলে কে পাগলা কুকুর বলো? ( এই বলে শুক্লাকে একটা থাপ্পর মারলো।)


দেবাশীষ বাবু - এটা কি করলি তুই? আমার শুক্লাকে আমি আজ পর্যন্ত কোনো দিন মারি নি আজ কি না তুই আমার শুক্লা কে থাপ্পর দিলি?


অভিরূপ - বাবা , এটা কিন্তু ঠিক হলো না। তুমি আমার হবু বউ এর গায়ে হাত তুলতে পারো না। 


দেবাশীষ বাবু - তুমি চুপ করো। যদি তুমি পাগলা কুকুরের মতো ব্যবহার না করতে তবে শুক্লা তোমাকে পাগলা কুকুর বলতো না।


সুবল বাবু - দেবাশীষ , থাম তুই, আমার ছেলেকে এইভাবে অপমান করতে পারিস না।


( দেবাশীষবাবু মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলেন। শুক্লা ছুটতে ছুটতে ঘরে গিয়ে কান্না করতে করতে তার মাকে সব বললো)।


শুক্লা - মা , আমার মনে হচ্ছে সুবল কাকু ভালো মানুষ নন, উনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ঠিকই কিন্তু তার পিছনে উনার কোনো উদ্দেশ্য আছে।


প্রতিমা দেবী - হ্যাঁ , সে ঠিক , আমারও তাই মনে হচ্ছে।



কিছুক্ষন পর 

_________

সুবল বাবু সকলকে ডেকে ঘোষণা করে দিলেন আগামী কালই শুক্লা আর অভিরূপের এনগেজমেন্ট।



শুক্লা - মা, আমি অভিরূপকে বিয়ে করতে পারবো না মা,।

প্রতিমা দেবী - কি করবো বল? এই দিকে সুবলবাবু তোর বাবাকে ডেকে বলেছেন যদি আমরা উনার সিদ্ধান্তে রাজি না থাকি তবে এই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে। এই অবস্থায় কি করবো বল? তোর বয়স বাড়ছে , এই বয়সে তোকে নিয়ে আমরা কোথায় যাবো বল?তুই রাজি হয়ে যা। ভগবান যা করেন , মঙ্গলের জন্যই করেন।


শুক্লা - মঙ্গল , কিসের মঙ্গল মা? কার মঙ্গল?


(প্রতিমা দেবী শুক্লার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে নীরবে দাড়িয়ে আছেন। শুক্লা এক প্রকার বাধ্য হয় এনগেজমেন্ট এ রাজি হতে)।



সুবলবাবু - অভিরূপ , এনগেজমেন্ট এর সব খাবারের ব্যাবস্থা এই বার "মনভোলা" হোটেল থেকে অর্ডার করবো , কি বলিস তুই?


অভিরূপ - সে তোমার যা ইচ্ছে করতে পারো, আমার কোনো সমস্যা নেই।


( সুবল বাবু কোনো একজনকে ফোন করে )


সুবল বাবু - ফাইনাল করে দিলাম , সকাল সকাল চলে আসবে হোটেলের কিছু লোক বাড়িতেই সব রান্না করবে বললো।


অভিরূপ - আচ্ছা, সে ঠিক আছে।


(পরের দিন সকাল সকাল ভোলা , তার মা আর বোনকে নিয়ে ছদ্মবেশে সুবল বাবুর বাড়িতে রান্নার লোক হিসেবে আসে।)


( শুক্লাকে দামী দামী গয়না , শাড়ি দিয়ে সাজানো হয়)।

ভোলার রান্না শেষ , সবাইকে খাবার পরিবেশন করছে। 

দেবাশীষ বাবু ও তার স্ত্রীর চুপচাপ পুতুলের মত নীরবে বসে আছেন।)


সুবল বাবু - হাই, লেডিস অ্যান্ড জেন্টল ম্যান, আজ আমার ছেলে অভিরূপ তার জীবন সঙ্গী হিসেবে শুক্লাকে বেছে নিয়েছে। আপনারা তাদের আশির্বাদ করুন। 

এই মুহূর্তে প্রথমে শুক্লা আমার ছেলের হাতে আংটি পরাবে এবং তারপর অভিরূপ শুক্লাকে আংটি পরাবে।


(সুবল বাবুর ঘোষণা শুনে সকলে হাততালি দিলো)।


(শুক্লা অভিরূপকে আংটি পড়াতে যাবে এমন সময় শুক্লার পায়ের কাছে কেউ কিছু একটা ডিল দিলো, শুক্লা দেখলো একটি আংটি তাতে খোদাই করে লেখা আছে " শুক্লা + ভোলা")।


শুক্লা - ভোলা, আমি জানি ভোলা তুমি আমার আসে পাশেই আছো। একবার সামনে এসো ভোলা।( চিৎকার করে বললো)।


অভিরূপ - তোমার , মাথাটা কি গেছে? কি হচ্ছে এইসব? বাড়ি ভর্তি অতিথিদের সামনে তুমি কি নাটক শুরু করেছ?( কানে কানে বললো)।


শুক্লা - আমার মাথা ঠিক আছে অভিরূপ। আমি জানি ভোলা আমার পাশেই আছে।


অভিরূপ - ভোলা, মানে সেই রাস্তার ছেলেটা? তোমার কি মনে হয় সে আজ কোটিপতি হয়ে গেছে? আর এ রাস্তার ছেলে চিরকাল রাস্তার ছেলেই থাকবে। ও যদি তোমার আসে পাশে থেকে থাকেও তবু ও কি তোমায় আমার থেকে বেশি সুখ দিতে পারবে?


প্রতিমা দেবী - শুক্লা , ওই দিকে দেখ মা,

( শুক্লা পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো ভোলা খাবার সার্ভ করছে)।


শুক্লা - ভোলা? ( ছুটে গিয়ে ভোলার সামনে দাড়ালো)।



দীপক ( ছদ্মবেশি ভোলা) - আজ্ঞে ম্যাডাম আমাকে কিছু বলছেন?


শুক্লা - আমাকে ক্ষমা করে দিও ভোলা, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি ভোলা। 


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা) - আজ্ঞে আমার নাম ভোলা না মেম সাহেব , আমার নাম দীপক।


শুক্লা - তুমি আমার সাথে মজা করছো? আমাকে ক্ষমা করবে না?


দীপক - আজ্ঞে মেম সাহেব আপনি যে কি বলেছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। তবে হ্যাঁ আমি " মনভোলা " হোটেল এর লোক। সুবল বাবুর অর্ডারে রান্না করতে এসেছি।


শুক্লা - তুমি সত্যি ভোলা নও?


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- আজ্ঞে না ,মেম সাহেব আমি ভোলা নই।


( অভিরূপ শুক্লাকে হাত ধরে টানতে টানতে নিয়ে এসে জোড় করে এনগেজমেন্ট করে।)


অভিরূপ - লেডিস অ্যান্ড জেন্টল ম্যান , প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড , আপনারা জানেন ভালো বাসার কোনো বয়স হয় না কিন্তু আজ আপনারা জানবেন ভালোবাসায় কোনো সমস্যাই সমস্যা মনে হয় না।ভালোবাসায় কোনো বাঁধা বাঁধা নয়।

আসলে শুক্লা প্রকৃত পক্ষে একজন মানসিক রোগী। যেদিন থেকে ওদের বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায় সেদিন থেকেই ও মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।তবে আমি তো ওকে ভালোবাসি তাই ওকে ছেড়ে যেতে পারি নি।


( অভিরূপের কথা শুনে সকলে হাততালি দিলো। শুক্লা কিছু বলতে চাইলো কিন্তু কিছু বলতে পরলো না।)



এক সপ্তাহ পর শুক্লা আর অভিরূপের আনুষ্ঠানিক বিয়ে। তাই দীপক আর তার রান্নার লোক মানে ভোলা ও তার মা এবং বোন সুবলবাবুর বাড়িতেই আছে। বিয়ে শেষ হলে তার পর যাবে এমনটাই বলেছেন সুবল বাবু।


পরের দিন সকাল বেলা সুবল বাবু দেবাশীষ বাবুকে ডাকলেন সঙ্গে শুক্লা ও তার মাও আসলো।


সুবল বাবু - শুক্লা , গতকাল তুমি যেটা করলে সেটা ক্ষমার যোগ্য নয়। আমার কিন্তু মনে হচ্ছে সত্যি তোমাকে মানসিক রোগের ডাক্তার দেখানো উচিত।


শুক্লা - কাকু আমাকে না , আপনার ছেলেকে মানসিক রোগের ডাক্তার দেখান।


দেবাশীষ বাবু - শুক্লা , কি হচ্ছে কি এইসব ? দুই দিন পর তোমাদের বিয়ে , ঝামেলা করছো কেনো?


( শুক্লা কোনো উত্তর না দিয়ে চলে যায়।)



জানালার ধারে দাড়িয়ে শুক্লা কান্না করতে থাকে। তখন প্রায় মাঝ রাত্রি।


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- একি মেম সাহেব, আপনি কান্না করছেন কেনো? আপনার চোখে জল কেনো?


শুক্লা - ও কিছু না , চোখে পোকা পড়েছে, তাই জল পড়ছে।


দীপক ( ছদ্মবেশি ভোলা)- আমার চোখ হলো জহুরীর চোখ ম্যাডাম , আমার চোখে ফাঁকি দিবেন? 

আমি জানি আপনার কষ্ট হচ্ছে , আপনি কান্না করছেন।


শুক্লা - আমার ভালো লাগছে না দীপক , তুমি যাও তো ।


দীপক ( ছদ্মবেশি ভোলা ) - মেম সাহেব , একটা কথা জিজ্ঞাসা করি? যদি কিছু মনে না করেন?


শুক্লা - বলো, আর মনে করা, আমার মনের খোজ কে নিবে বলো, আমি মনে করলেই কি আর না করলেই বা কি?


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- ভোলা আপনার কি হয় ম্যাডাম?

শুক্লা - আমার স্বামী


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- স্বামী? তাহলে আপনার সিথিতে সিঁদুর নেই কেনো? আপনি আবার বিয়ে করছেন কেনো?


শুক্লা - কে বলেছে আমার সিথীতে সিঁদুর নেই? এই দেখ ( এই বলে কিছুটা চুল খুলে দেখালো , সে গোপনে সিঁদুর পরে)।


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা) - বাহ, আজকাল আমার মঙ্গল কামনায় আপনি সিথীতে সিঁদুর পড়েন। ( মনে মনে ভাবলো)।


শুক্লা - চুপ করে আছো যে?


দীপক( ছদ্মবেশি ভোলা)- আচ্ছা , বলছি ম্যাডাম আপনার স্বামী থাকে কোথায়?


শুক্লা - জানি না , সে আমার উপর অভিমান করে হারিয়ে গেছে।


দীপক ( ছদ্মবেশি ভোলা)- আপনি এক কাজ করুন, আপনি আপনার স্বামীর একটা ফটো দিন আমাকে , আমি কথা দিচ্ছি ওই অভিরূপ দাদাবাবুর সঙ্গে আপনার বিয়ে হওয়ার আগে আমি আপনার স্বামীকে আপনার সামনে ঠিক নিয়ে আসবো।


শুক্লা - তুমি পারবে? 


দীপক ( ছদ্মবেশি ভোলা) - হ্যাঁ , হ্যাঁ , আলবাদ পারবো তবে বিনিময়ে আমার কিন্তু বক্সিস চাই।


শুক্লা - পাবে বক্সিশ , কি চাও বলো?

দীপক( ছদ্মবেশি ভোলা)- সে যখন কাজ হবে তখনি চাইবো , আমি আসি মেম সাহেব।


শুক্লা - তোমার কি কোন কষ্ট আছে? মানে এত রাত্রে তুমি কেনো ঘুমাও নি ?


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- মেম সাহেব , আপনার মত আমারও মনের মানুষ হারিয়ে গেছে। তাই আমার চোখেও ঘুম নেই। আপনি যান ঘুমোন গিয়ে , চিন্তা করবেন না, এই দীপক কথা দিয়ে ঠিক কথা রাখে।


(এই বলে চলে যায় ছদ্মবেশি ভোলা)।


 তিন দিন পর


 মাঝ রাত্রে দেবাশীষ বাবুর ঘরে যায় ভোলা , দেবাশীষ বাবু স্ত্রী তখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।


দেবাশীষ বাবু - একি, ভোলা এত রাত্রে তুমি ? কেউ দেখে ফেললে সর্বনাশ হবে যে।


ভোলা - কেউ দেখবে না , আপনি চিন্তা করবেন না। সবাই ঘুমোচ্ছেন ।আমি এই ফাইলটা আপনার কাছে রাখতে এলাম ।


দেবাশীষ বাবু - কিসের ফাইল? কি আছে এতে?


ভোলা - এতে অভিরূপ যে সেদিন লোক দিয়ে আপনার বাড়িতে আগুন লাগিয়ে ছিলো তার প্রমাণ এবং একাধিক মেয়েদের সাথে অভিরুপের সম্পর্ক এবং প্রতারণা করার প্রমাণ আছে।


দেবাশীষ বাবু- বাহ , ভোলা বাহ, সাবাশ, কিন্তু এত প্রমাণ তুমি পেলে কিভাবে?


ভোলা - বলবো , সব বলবো কিন্তু এই মুহূর্তে আপনি এটা সাবধানে রাখুন, শুক্লা বা মায়ের চোখে যেনো না পরে এমন জায়গায় রাখুন। 


দেবাশীষ বাবু - তুমি চিন্তা করো না ভোলা, আমি সাবধানে রাখবো। তুমি এবার এসো , কেউ দেখে ফেললে আমাদের সব প্ল্যান ভেস্তে যাবে।


(ভোলার চলে গেলো, যাওয়ার সময় সুবল বাবুর রুমের সামনে কারোর গলা শুনতে পেলো ভোলা। ভোলা এগিয়ে গিয়ে দেখলো সুবলবাবু ও অভিরূপ কিছু নিয়ে কথা কাটাকাটি করছেন। ভোলা তার ফোনটা বের করে সমস্ত কথা রেকর্ড করলো)।


সুবল বাবু - দেবাশীষের বাড়িতে আগুন লাগাতে আমি তোকে সাহার্য্য করেছি। আর তুই বলছিস শুক্লাকে বিক্রি করে আমাকে এক টাকাও দিবি না, আরে ওদের যে এত দিন আমাদের বাড়িতে রাখলাম খাওয়লাম পড়ালাম তার খরচটাও তো আমিই দিয়েছি। 


অভি রূপ - তাতে কি হয়েছে? শুক্লাকে বিক্রি করে যা পাবো , সেটা আমি একাই ভোগ করবো। দরকার পড়লে তুমি শুক্লার মা বাবা কে মেরে ওদের কিডনি , অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে তোমার টাকার শোধ তুলে নাও, আমি এলাম।

( এই বলে অভি রূপ চলে গেলো),।


ভোলা - বেশ ভালোই হলো, ওদের নিজেদের কুকর্মের কথা ওরা নিজেরাই স্বীকার করেছে। এই রেকর্ড এই ওদের শাস্তির জন্য যথেষ্ট প্রমাণ। 







তিন দিন পর 


আজ সন্ধ্যা লগ্নে শুক্লার সাথে অভিরূপের বিয়ে। তাই অভিরূপ এসেছে শুক্লার রুমে শুক্লার সঙ্গে একান্তে কথা বলতে ।


শুক্লা - তুমি কেনো এসেছো?


অভি রূপ - আমি আসবো না তো কে আসবে? তুমি বোধ হয় ভুলে যাচ্ছো আজ আমাদের বিয়ে।


শুক্লা - আমি কিছু ভুলিনি অভিরূপ আজ থেকে ঠিক দুই বছর আগে আজকের দিনে আমার সাথে ভোলার বিয়ে হয়ে গেছে, তুমি মনে হয় ভুলে গেছো? তাই না?


অভিরূপ - ভোলা ,ভোলা আর ভোলা? কে এই ভোলা? কোথায় সে? গিয়ে দেখো সে নতুন করে সংসার করছে ।


শুক্লা - তুমি কেনো এসেছো এই রুমে ? কি চাও তুমি?


অভিরূপ - উফফ, আবার সেই এক প্রশ্ন, কতো বার বলবো তোমাকে চাই, তোমার জন্যই এসেছি। 


( শুক্লা বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে যেতে থাকে কিন্তু অভিরূপ শুক্লার হাত ধরে নিজের কাছে টানতে চেষ্টা করে , এমন সময় দীপক মানে ছদ্মবেশি ভোলা এসে উপস্থিত হয়)।


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা) - অভিরূপ দাদাবাবু,


অভি রূপ - কি চাই তোমার? দেখতে পারছো না স্বামী স্ত্রী রোমান্স করেছে , এই ভাবে কারোর রুমে হুট করে ঢুকে পড়তে নেই জানো না?


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- আজ্ঞে দাদাবাবু বাইরে থানা থেকে লোক এসেছে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চায় , তাই আপনাকে ডাকতে এলাম।


অভি রূপ - থানা থেকে ? এই সময় আবার কে আসলো ? আচ্ছা যাচ্ছি ( এই বলে বেরিয়ে গেলো, গিয়ে দেখতে পেলো সুবলবাবু অভিরূপ এর বিয়ে উপলক্ষে থানার অফিসার দের নিমন্তন্য করেছেন তারাই এসেছেন)।



শুক্লা - দীপক 


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- কিছু বলবেন মেম সাহেব?

শুক্লা - তুমি যে বলেছিলে ……


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- আমার মনে আছে মেম সাহেব, আমি আমার কথা ঠিক রাখবো।


শুক্লা - কখন? এই তো বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে এলো কখন আসবে ভোলা? তুমি কি ওর কোনো খোজ পেয়েছো?


দীপক (ছদ্মবেশি ভোলা)- মেম সাহেব , সব কিছু আপনি আপনার বিয়ের মন্ডপেই জানতে পারবেন। আমি আসলাম। 


ভোলা চলে গেলো, এই দিকে পার্লার থেকে লোক এসে শুক্লাকে সাজিয়ে দিয়ে গেলো। সন্ধ্যে নেমে আসলো বিয়ের মণ্ডপে বিয়ে শুরু হয়ে গেছে এক্ষুনি ডাক পড়বে শুক্লা কে মণ্ডপে নিয়ে যাওয়ার। 



প্রতিমা দেবী - এই ভাবে চোখের জল ফেলিস না মা, শুভ দিনে চোখের জল ফেলতে নেই।


শুক্লা - কিসের শুভ দিন মা? আজ তো আমার জীবনের সব থেকে অশুভ দিন।


দেবাশীষ বাবু - অশুভ না রে মা, আজ সত্যি শুভ দিন।


শুক্লা - বাবা তুমি ও মায়ের মত বোকা বোকা কথা বলছো?


দেবাশীষ বাবু - বোকা বোকা কথা না রে মা, একটু অপেক্ষা কর, ওই যে ডাক চলে এসেছে , মণ্ডপে চল সব বুঝতে পারবি।


শুক্লা - কি হবে মণ্ডপে? দীপক আর বাবার কথায় কিছু একটা গন্ডগোল আছে। ( মনে মনে ভাবছে)।



শুক্লাকে মণ্ডপে নিয়ে আসা হলো। শুভ দৃষ্টি হবে। অভিরূপের পিছনে দাড়িয়ে দীপক তার ছদ্মবেশ খুলছে , নকল তিল, নকল মাথার চুল, নকল দাড়ি খুলছে। সবাই অবাক হয়ে দেখছে। পান পাতা সরিয়ে শুক্লা প্রথমে ভোলার মুখটাই দেখলো। 


শুক্লা - ভোলা,

অভিরূপ - আবার নাটক শুরু করলে তুমি?


শুক্লা - নাটক না , পিছন ফিরে দেখো একবার অভিরূপ , আমি বলেছিলাম ভোলা ঠিক আসবে।

 দীপক আমায় কথা দিয়েছিল ও ভোলাকে নিয়ে ঠিক আসবে। কিন্তু দীপক কোথায় গেলো?


ভোলা - আজ্ঞে মেমে সাহেব , আমি এই ভোলা আর এই আমি এই দীপক ( ছদ্মবেশ দেখিয়ে বললো)।


শুক্লা - কোথায় ছিলে এত দিন ভোলা? আমাকে ক্ষমা করে দিও। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। ( ছুটে গিয়ে জড়িয়ে ধরে বললো)।


অভি রূপ - শুক্লা তুমি তাহলে এই রাস্তার ছেলেটাকে বিয়ে করবে?


ভোলা - হ্যাঁ , মেম সাহেব ভালো করে ভাবুন , আমি কিন্তু রাস্তার ছেলেই আছি। কোটি পতি হয়ে যাইনি কিন্তু।


শুক্লা - তুমি , যেমন আছে আমি তেমনই তোমাকে বিয়ে করব। কিন্তু এই অভিরূপকে আমি কিছুতেই বিয়ে করতে পারবো না।


সুবল বাবু - এই দেবাশীষ , দাড়িয়ে দাড়িয়ে কি দেখছিস? শুক্লা আমার ছেলেকে অপমান করছে আর তোরা দেখছিস? ওকে কিছু বলবি না?


দেবাশীষ বাবু - সুবল , বলার মতো তো অনেক কিছুই আছে ভাবছি এই বারবলবো। তবে শুক্লাকে না। তুই যে পুলিশ অফিসারদের বিয়ে উপলক্ষ্যে আমন্ত্রণ করেছিস তাদের ।


সুবল বাবু - মানে? তুই আবার ওদের কি বলবি?


দেবাশীষ বাবু - বলবো এই যে কিছু দিন আগে আমি নিররুদেশ হয়ে যাই। কেনো ? 


সুবল বাবু - তার মানে তোর সব মনে আছে?

( ভয়ে কম্পিত কণ্ঠে বললেন)।





দেবাশীষ বাবু - হ্যাঁ , মনে তো থাকবেই , দেবাশীষ তুই আমার বন্ধু হয়ে আমাকে প্রাণে মারতে একবার ভাবলিনা?? সেদিন ভোলা আমাকে বাঁচিয়ে ছিলো, তুই মনে হয় খেঁয়াল করিসনি।


শুক্লা - বাবা , কি বলছো তুমি? সুবল কাকু তোমাকে প্রাণে মারতে গিয়েছিল কিন্তু কেনো?


দেবাশীষ বাবু - হ্যাঁ রে মা , সুবল বেআইনি অনেক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলো , আমি সেদিন সব প্রমাণ আমার হাতে পেয়েছিলাম তাই আমার কাছ থেকে সব প্রমাণ কেড়ে নিতে গিয়ে আমাকে প্রাণে মারতে চায়। গুন্ডাদের দল যখন আমাকে ঘিরে ধরে তখনি ভোলা আমাকে এসে বাঁচিয়ে নিলো, আমাকে ওদের বাড়ি নিয়ে চিকিৎসা করলো। ওদের সেবা যত্নে আমি সুস্থ হয়ে যাই।


সুবলবাবু - এই সব মিথ্যে কথা সবার সামনে বলে কি লাভ ? তোর কাছে কোনো প্রমাণ আছে আমার বিরুদ্ধে?


ভোলা - শুধু আপনার বিরুদ্ধে না, আপনার ছেলের বিরুদ্ধেও প্রমাণ আছে আমার কাছে।


অভি রূপ - মানে? আমি কি করেছি?


ভোলা - একাধিক প্রেম ও প্রতারণা , নারী পাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। এবং লোক দিয়ে মন্ত্রী দেবাশীষ বাবুর বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ এবং তার প্রমাণ 

 ( সেখানে উপস্থিত পুলিশ অফিসারের হাতে তুলে দিলো)।


অভিরূপ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু পুলিশ তাকে ধরে নিলো। 


সুবলবাবু - আমি তো কিচ্ছু করিনি। আমার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ থাকতেই পারে না।


ভোলা - সে , তো ঠিক কথা , তাহলে এটা কি?

( এই বলে অভিরূপ ও সুবলবাবুর মধ্যে যা কথা হয়ে ছিল তার রেকর্ডটা সকলের সামনে প্রকাশ করলো, এবং সুবল বাবুর বিরুদ্ধে দেবাশীষ বাবুর কাছে যা প্রমাণ ছিলো সব পুলিশের হাতে তুলে দিলো)।



সুবল বাবু - একবার প্রাণে বেঁচে গেছিস বলে কি ভেবেছিস বার বার বেঁচে যাবি?

( এই বলে পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে শুক্লার মাথায় রাখে)।


দেবাশীষ বাবু - ছেড়ে দে বলছি সুবল , শুক্লাকে ছেড়ে দে।


সুবল বাবু - ছেড়ে দিবো , আমার ছেলেকে ছেড়ে দিতে বল , আমিও ছেড়ে দিবো।


অভিরূপ - সাবাশ বাবা , সাবাশ , এই না হলে আমার বাবা,? 


দেবাশীষ বাবু - অফিসার ছেড়ে দিন অভিরূপকে আমি অভিযোগ তুলে নিচ্ছি।


সুবল বাবু - পথে এসো বাবা,


অভিরূপ - গুলিটা চালিয়ে দাও বাবা , কিসের অপেক্ষা করছো? চালাও গুলি।


দেবাশীষ বাবু - না , সুবল একদম না , তুই যা চাইবি তাই হবে। শুক্লা কে ছেড়ে দে সুবল।

সুবল বাবু - তুই কি ভেবেছিস আমাদের বাপ ছেলেকে জেলে পাঠিয়ে নিজে সুখে সংসার করবি,আমি থাকতে সেটা কখনো পারবি না।


সুবল বাবু - আমি , হাত জোড় করছি সুবল , আমার শুক্লাকে ছেড়ে দে।



পুলিশ অফিসার অভিরূপকে ছেড়ে দিলো, কিন্তু সুবল বাবু শুক্লাকে ছাড়লেন না। ভোলা বুঝতে পরলো তাকেই কিছু একটা করতে হবে। ভোলা শুক্লাকে ইশারা করে বললো সুবল বাবুর হাতে কামর দিয়ে পিস্তলটা ছিনিয়ে নিতে। শুক্লাও তাই করলো।


সুবল বাবু - কি সাংঘাতিক কামর দিলো? এই আমার পিস্তল ,,,,পিস্তল,,,,( এই বলে চিৎকার করতে থাকে)।


শুক্লা - আপনার পিস্তল আমার হাতে, অফিসার আপনি ওদের নিয়ে যান।


( পুলিশ অফিসার সুবলবাবু ও অভিরূপকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে গেলো)।


শুক্লা - বাবা , এত কিছু ঘটে গেছে তুমি আমাদের কিছু বলোনি কেনো?


প্রতিমা দেবী - কি হলো কি? কেউ আমাকে কিছু বলছে না কেনো? ( কন্যার মাকে বিয়ে দেখতে নেই তাই উনি এত ক্ষণ মণ্ডপে ছিলেন না কিছুই জানতেন না। ছুটে এসে জিজ্ঞাসা করলেন)।


ভোলা - মা , ( প্রণাম করলো)।


প্রতিমা দেবী- ভোলা? কোথায় ছিলে বাবা? 


শুক্লা - ভোলা কোথায় ছিলে তুমি? তোমায় কত খুঁজে ছি আমি। তুমি জানো?


ভোলা - এই দিকে দেখো তো , ওদের চিনতে পারো কি না? ( ছদ্ম বেশে দাড়িয়ে থাকা ভোলার মা ও বোনকে দেখিয়ে বললো)।

শুক্লা - চেনা চেনা লাগছে কিন্তু

রূপা ( ভোলার বোন) - বৌদি আমাদের চিনতে পারবে না রে দাদা।

শুক্লা - চিনেছি মা ( ভোলার মাকে প্রণাম করলো) আর রূপা ( রূপাকে জড়িয়ে ধরলো)।


ভোলার মা - একি বৌমা? তোমার মুখটা এমন শুকিয়ে গেছে কেনো?

শুক্লা - মা , আমি আপনাদের এত অপমান করেছি তারপরও আপনারা সবাই মিলে আমাকে বাঁচাতে এলেন।

 

ভোলার মা - এই দেখো পাগলী মেয়ে, ওই সব পুরনো দিনের কথা কেউ মনে রাখে? 

প্রতিমা দেবী - এই লগ্নে তাহলে ভোলার আর শুক্লার আনুষ্ঠানিক বিয়েটা হয়ে যাক।

ভোলার মা - একদম , তাহলে শুরু হোক।

দেবাশীষ বাবু - বেআই মশাই তো আসলেন না?

ভোলার বাবা - এই তো আমি এসে গেছি। 


রূপা - জানো বৌদি , আজ থেকে তুমি "মন ভোলা হোটেল" এর মালকিন।

শুক্লা - মানে?বুঝতে পারলাম না।

রূপা - মানে হলো এই এত দিন আমরা সবাই বাইরে ছিলাম , সেখানে ধীরে ধীরে দাদা "মনভোলা"হোটেল তৈরি করে, ।

শুক্লা - সত্যি ভোলা?

ভোলা - আজ্ঞে হুম , মেম সাহেব।

শুক্লা - আজও তুমি আমাকে মেম সাহেব বলে ডাকবে? ( অভিমানে বললো)।


ভোলা - তাহলে কি বলে ডাকা যায়?

শুক্লা - জানি না।

ভোলা - ডার্লিং ( শুক্লা ভীষণ লজ্জা পায়)।


দেবাশীষ বাবু - সত্যি খাটি সোনা চিনতে আমরা বড্ড বেশি দেরি করে ফেললাম ( প্রতিমা দেবীকে বললেন)।

প্রতিমা দেবী - হুম, তবে আজ তো খাটি সোনা আমাদের কাছেই আছে। 


ভোলা ও শুক্লার বিয়ে সম্পূর্ণ হলো। কিছুদিন পর মন্ত্রী দেবাশীষ বাবু আবার তার মন্ত্রীর পদ ফিরে পেলেন। ভোলা একটি নতুন বাড়ি তৈরি করেছে সকলে মিলে সেখানে এক সঙ্গে হাসিখুশিতে করে সংসার করছে।

শুক্লা আজ শিব চতুর্দশী ব্রত রেখেছে, শুক্লা বর্তমানে গৃহকর্মে নিপুনা সুলক্ষণা পুত্র বধূ।


Rate this content
Log in