Sayandipa সায়নদীপা

Drama


5.0  

Sayandipa সায়নদীপা

Drama


চুর্নির ওপারে

চুর্নির ওপারে

15 mins 2.5K 15 mins 2.5K

আমার মতে বাংলা সাহিত্যেরও অনুপ্রেরণামূলক উপন্যাস গুলির মধ্যে অন্যতম আদর্শ হিন্দু হোটেল এর মুখ্য চরিত্র হাজারি ঠাকুর এবং অবশ্যই ঔপন্যাসিক শ্রদ্ধেয় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরণে আমার এই ক্ষুদ্র শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের সুযোগটা হাতছাড়া করতে ইচ্ছে করলো না তাই এই ধৃষ্টতা।

★★★

...........................................................................................

“হাজারি দেখিল সে নিজের অজ্ঞাতসারে চূর্ণী নদীর ধারে চলিয়াছে- তাহার সেই প্রিয় গাছতলাটিতে গিয়া বসিবে- বসিয়া ভাবিবে। ভাবিবার অনেক কিছু আছে।

কিন্তু প্রায় দুঘন্টা নদীর ধারে বসিয়া থাকিয়াও ভাবনার কোনো মীমাংসা হইল না।” ক্রমে সন্ধ্যা নামিতেছে, পাড়া গাঁ হইলে এতক্ষনে প্রতিটা ঘর হইতে শঙ্খ ধ্বনি উঠিয়া আকাশ বাতাস ভরিয়া তুলিত কিন্তু এখানে তা হইবার জো নাই। এ হইল শহর তাহার উপরে রেল বাজার, এইখানে সকাল হইতে শুধু শুনা যায় ব্যস্ত মানুষের পদচালনার শব্দ, তাহাদের কথাবার্তা, তাহাদের কোলাহল। কতশত মানুষ নিত্যদিন কত রকমের ধান্দা লইয়া উপস্থিত হয় এই রানাঘাট শহরে। হাজারি যখন প্রথম প্রথম রানাঘাটে আসিয়াছিল এই সকল দেখিয়া সে যারপরনাই বিস্মিত হইত, তখন সন্ধ্যাবেলা শঙ্খধ্বনি না শুনিতে পাইয়া বুকটা কেমন যেন আনচান করিয়া উঠিত। তারপর সময়ের সহিত ধীরে ধীরে শহরের সকল হালচাল তাহার রপ্ত হইয়া গিয়াছে, বরং এখন কয়দিন গ্রামের বাড়িতে টানা থাকিলে তাহার হাঁফ ধরিয়া যায়, সেইখানে বসিয়া রেলের গাড়ির ঘন্টা শুনিবার জন্য তাহার কর্ণ যুগল ব্যাকুল হইয়া উঠে। কিন্তু আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। বহুদিন বাদে আজ সেই তুলসীতলা হইতে উঠা শঙ্খ ধ্বনি শুনিবার জন্য তাহার হৃদয় ব্যাকুল হইয়া উঠিতেছে। প্রিয় চূর্ণী নদীর স্নিগ্ধতাও আজ তাহার হৃদয়কে স্পর্শ করিতে ব্যর্থ। হাজারি চাহিয়া দেখিল আঁধার নামিয়া চুর্নীর শান্ত নীল জলরাশিকে ধূসর করিয়া তুলিয়াছে। আশেপাশের জনকোলাহলও এখন অনেকটাই স্তিমিত হইয়া আসিয়াছে।

হাজারি ভালো মানুষ, সে জীবনে কাউকে কখনো দোষ দিতে শিখে নাই, এমনকি আর পাঁচটা মানুষের মত নিজের দুর্ভাগ্যের জন্য কখনো ঈশ্বরের নিকট হইতে জবাবদিহি পাইবার বৃথা চেষ্টাও করে নাই। কিন্তু আজ আর হাজারি পারিল না। দুই হাত উপরের দিকে তুলিয়া অদৃশ্য সর্বশক্তিমানের উদ্দেশ্যে সে প্রশ্ন করিল, “হে ঈশ্বর আমি তো কোনোদিনও কারুর ক্ষতি করিনি তবে কেন করলে আমার সাথে এমন? কেন এমন শাস্তি দিলে আমাকে?”

দুইটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মধ্য দিয়া ঈশ্বর হাজারিকে দেখিলেন এবং নীরবে মুচকি হাসিলেন, অন্তত হাজারির তো তাই মনে হইল। কিন্তু ঈশ্বর কোনো উত্তর দিলেন না। একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়িয়া আবার চূর্ণী নদীর পানে চাহিল হাজারি; এ চূর্ণী নদী যেন তাহার অচেনা। তাহার মনে হইল ইহা যেন কোনো নদী নয়, এক সুবিশাল কৃষ্ণকায় দানো যে কিনা দুই বাহু প্রশস্ত করিয়া হাজারীকে আহ্বান জানাইতেছে।

হাজারির মনে একের পর এক ঘটনা ভাসিয়া উঠিতে লাগিল। ছয়দিন পূর্বের গরমের সেই রাত, ইস্টিশনের প্ল্যাটফর্মে ঘুম, ভোরবেলায় হোটেলের চুরি আবিষ্কার, পুলিশের তাহাকে আর মতি চাকরকে ধরিয়া লইয়া গিয়া নানান রকম জিজ্ঞাসাবাদ, পাঁচদিনের উত্তম মধ্যম প্রহার… এইসব কিছুই একের পর এক মানস চক্ষে ভাসিয়া উঠিতেছে। বেচু চক্কত্তির হোটেল হইতে বিতাড়িত হইয়া হাজারি এখন কোথা যায়! কি করে! আজ সাত বছর ধরিয়া হাজারি যে কত্তা মশাইয়ের হোটেলে মাত্র সাত টাকার বিনিময়ে এমন চমৎকার সব রান্না করিয়া খরিদ্দারদের সন্তুষ্ট করিয়া আসিয়াছে, যে খরিদ্দার একবার হাজারির রান্না খাইয়া গিয়াছে সে আর দ্বিতীয়বারের জন্য অন্য হোটেলে যায় নাই; হাজারি যে যদু বাঁড়ুজ্জ্যের দশ টাকা মাহিনার চাকুরী, দৈনিক খোরাকি সহ বছরে তিনখানা কাপড় এবং ক্ষুর নাপিতের খরচার লোভ সম্বরণ করিয়াও রহিয়া গিয়াছিল কত্তা মশাইয়ের হোটেলে সে সকলের কোনো মূল্যই রহিল না! শুধু রতন ঠাকুর কেন হাজারিরও দৃঢ় বিশ্বাস এ চুরি পদ্ম দিদিরই কাজ। হাজারির ইচ্ছা হইল একবার হোটেলে ফিরিয়া যায়, পদ্ম দিদির চোখে চোখ রাখিয়া প্রশ্ন করে, “আমি তো কোনোদিনও তোমার কোনো ক্ষতি করিনি তবে আমার সাথে কেন করলে এমন?”

কিন্তু নিজের ইচ্ছা সম্বরণ করিল হাজারি, কারণ সে জানে গিয়া কোনো লাভ নাই বরং এ প্রশ্ন করিলে এত অপমানের পর আরও অপমান প্রাপ্য হইবে তাহার, হয়তো বা যে দুটি টাকা দয়া করিয়া পদ্মদিদি তাহাকে দিয়াছিল সেই দুটিও কাড়িয়া লইবে। আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলিল হাজারি। গেল বার যখন সে লুচি বাঁধিয়া লইয়া বাড়ি গিয়াছিল তখন তাহার ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েগুলার মুখে হাসি ধরে নাই। তাহারা এইসব ভালো মন্দ কদাচিৎ খাইতে পায়, কিন্তু এখন তো উহাদের এইবার না খাইয়া মরিতে হইবে! বংশীর ভাগিনার সহিত টেঁপির বিবাহ দিবার যে স্বপ্ন হাজারি দেখিয়াছিল তাহা কি কোনোদিনও পূরণ হইবে না? আহ টেঁপি আগে খাইয়া পরিয়া বাঁচিয়া থাকুক তাহার পরে উহার বিবাহের চিন্তা! হাজারির নিজের হোটেল তৈরির স্বপ্ন… সেও কি কোনোদিনও পূরণ হইবে না! কোনোদিনও কি তার মানসচক্ষে অহরহ ভাসিয়া উঠা এই লিখা সে চোখে দেখতে পাইবে না?

“আদর্শ হিন্দু হোটেল

হাজারি চক্রবর্তী”

গামছার খুঁটে হাত দিয়া নিজের শেষ সম্বল আড়াইটি টাকাকে একবার অনুভব করিল হাজারি। এই আড়াই টাকা লইয়া সে কি করিবে? কেমনে শুরু হইবে তাহার নতুন জীবন? মুহূর্তে হাজারির বুকের ভিতরের সব কলকব্জা যেন ছিন্ন ভিন্ন হইয়া যাইতে লাগিল। কিভাবে ফিরিয়া যাইবে সে তাহার গ্রামে? কিভাবেই বা গিয়া দাঁড়াইবে টেঁপির মায়ের সম্মুখে! কিভাবে তাকাইবে নিজের ছোট ছোটো ক্ষুধার্ত সন্তান গুলির চোখে! আর গ্রামের লোক যদি ইতিমধ্যে জানিতে পারিয়া গিয়া থাকে যে হাজারি হাজতবাস করিয়া আসিয়াছে তাহারা কি উহাদের গ্রাম হইতে তাড়াইয়া দিবে না? বেচু চক্কত্তির হোটেলে প্রায়ই হাজারির আপন গ্রামের কিছু লোক খাইতে আসে ফি হপ্তা, তাই হাজারির হাজতবাসের খবর গ্রামে পৌঁছান বিচিত্র কিছু নহে। অন্যদিকে কুসুম, হাজারির ধর্ম মেয়ে, সেও কি আর কোনোদিনও তাহাকে বাবা বলিয়া ডাকিবে! আদর যত্ন করিবে আগের মতন! গেরস্থের বউ সে, পাঁচ রাত হাজতবাস করিয়া আসা লোককে সেও কি আর বিশ্বাস করিবে!

না… না… না… হাজারির জীবনে আর কিছুই রহিল না। সব শেষ হইয়া গেল এক রাত্রিরেই। বাঁচিবার আশ্রয় আর কিচ্ছু পড়িয়া রহিল না। হাজারি তাকাইয়া দেখিল যে চূর্ণী নদী একদিন তাহাকে হাজারো স্বপ্ন দেখাইয়াছিল আজ সেই চূর্ণী নদীই তাহার সব স্বপ্ন ভাঙিয়া দিয়া দু হাত মিলিয়া তাহাকে ডাকিতেছে। হাজারির মধ্যিকার প্রতিরোধের সব শক্তি যেন ফুরাইয়া যাইতেছে ক্রমশ, এ ডাক উপেক্ষা করার সাধ্যি তাহার নাই…

★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★

- হাজারি বাবা শুনতে পাচ্চিস? হাজারি…

-উঁ! আমি কোথায়? আপনি কে মা?

- আমায় চিনতে পারলি নে বাছা?

- বড় অন্ধকার যে মা এখানে, তাই ঠিক ঠাহর হয়না। আপনি কে?

- আমি যে তোর মা রে বাবা।

- মা! কিন্তু আপনি আমার মা কি করে হবেন! আমার মা কি করে আসবেন এখানে!

- আমি তো আসিনি বাবা। তুই তো এলি এখেনে, চূর্ণী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লি যে…

- হাঁ হাঁ মনে পড়ছে সব, তার মানে আমি…!

- হাঁ বাবা।

- মা… মাগো…

হাজারি শিশুর মতো জড়াইয়া ধরিল তাহার মাকে, তারপর হাউহাউ করিয়া ক্রন্দন করিতে শুরু করিল। মা তাহার মাথায় হাত বুলাইয়া কহিলেন,

“আহা বাছা আমার অমন করে কাঁদতে নাই, চুপ কর বাছা আমার।”

- কার সাথে কথা কইছ গো হাজারির মা?

কোথাও থেকে একটা পুরুষ কন্ঠ ভাসিয়া আসিল, অন্ধকারে হাজারি ঠিক করিয়া দিকটা ঠাহর করিতে পারিল না।

- কে ও? দেখি।

আরে এতো…

- হ্যাঁ গো হ্যাঁ। আমাদের হাজারি এয়েচে।

নে বাছা তোর বাবাকে প্রণাম কর গে।

- বাবা!

নিজের পিতাকে অন্ধকারে অনুমান করিয়া হাজারি চার বছরের শিশুর ন্যায় সেই দিক পানে ছুটিয়া যাইল। বালক বয়েসেই পিতাকে হারাইয়াছিল সে, তাই এতদিন পর তাঁহাকে পুনরায় দেখিয়া নিজের আবেগ সম্বরণ করিতে পারিল না।

- হাজারি কেমনে এল এখানে?

- বাছা আমার বড় কষ্টে চূর্ণী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল গো।

- কি? কি বললে! চূর্ণী নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল!

না...ছোঁবে না... ছোঁবে না আমায়। এ হতে পারে না।

- কেন বাবা?

- আমার সন্তান হয়ে আত্মহননের পথ বেছে নিলে! নাহ এ আমার হাজারি হতে পারে না।

- এ কি বলছেন বাবা! আমি সত্যই হাজারি। নিত্যদিন বাঁচার জন্য লড়াই করিতে করিতে ক্লান্ত হইয়া গিয়াছিলাম তাই…

- না না। আমার হাজারি তুমি হতে পারোনা। আমার হাজারিকে আমি এ শিক্ষা দিই না।

- এমন কতা কইবেন না আপনি। বাছা আমার কত যন্তনা নিয়ে এয়েছে এখেনে। আপনি ওকে অমন করে দূরে ঠেলে দেবেন না, দোহাই আপনাকে।

- না হাজারির মা, এ আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারব না।

- এখানে এত গোলমাল কিসের?

কোথা হইতে একটা গুরু গম্ভীর কন্ঠস্বর ভাসিয়া আসিল। পরিষ্কার দেখিতে না পাইলেও হাজারি অনুমান করিতে পারিল গলার স্বরটা শুনিবা মাত্রই তাহার মাতা পিতা যেন ব্যস্ত হইয়া উঠিলেন।

- এই যে খুড়ো মশাই আমার হাজারি এয়েচে যে।

- কি! কি বললে বৌমা? হাজারি মানে তোমার ছেলে এসেছে এখানে! কেমন করে?

- না না খুড়ো মশাই এ আমার ছেলে না। এ আমার ছেলে হতে পারেনা।

- এ কথা কেন বলছ চক্কত্তি! বৌমা তো বলছে…

- যে আত্মহননের মতো গর্হিত কাজ করতে পারে সে আমার সন্তান হতে পারেনা খুড়ো মশাই।

- কি বললে? আত্মহনন!

- খুড়ো মশাই আপনি একটু বোঝান না আপনার ছেলেকে, বাছা আমার কতো না জানি কষ্ট পেয়ে এয়েচে এইখানে আর তাকে কিনা আপনার ছেলে অমন করে দূরে ঠেলে দিচ্ছেন।

বাছা রে, কষ্ট পাসনি বাবা আমার। আয় এখেনে।

- না না বৌমা, চক্কত্তির কোনো দোষ দেখছিনা আমি। তোমার ছেলে এ করেছে টা কি! একথা তো কানে শোনাও পাপ।

- এমন করে বলবেন নে খুড়ো মশাই, আপনারা দূরে ঠেলে দিলে বাছা আমার যাবে কোথায়!

- হুম।

হাজারি।

- আজ্ঞে?

-আমাকে চেনো তুমি?

- আজ্ঞে না, ঠিক ঠাক ঠাহর হচ্চে না, আসলে বড় অন্ধকার তো।

- চিন্তা করিসনি বাবা, কদিন থাকলে আস্তে আস্তে সব দেখতে পাবি। আর ইনি হলেন গিয়ে চাটুজ্জ্যে খুড়ো। রাধামোহনকে তো চিনিস, তাঁর দাদামশাই। পেন্নাম কর।

- থাক থাক, প্রণাম টনাম করতে হবে না।

আহ… বললাম না থাক। তুমি এমন গর্হিত কাজ করার পর তোমার থেকে প্রনাম নিতে আর ইচ্ছে করছে না আমার।

- খুড়ো মশাই আপনিও!

- বৌমা তুমি এ ছেলেকে প্রশ্রয় দিচ্ছ!

- দাদামশাই আমি ইচ্ছা করে কিছুই করিনি। পরিস্থিতির চাপে…

- পরিস্থিতির দোহাই দিও না হাজারি।

- থামো চক্কত্তি, ওকে বলতে দাও।

আচ্ছা নাও হাজারি বলো এবার কি এমন ঘটেছিল যার জন্য তোমাকে আত্মহননের পথ বেছে নিতে হলো? শুনি আমরা সকলে।

তাহার পিতা হইতে ক্রমাগত বিরূপ মন্তব্য শুনিতে শুনিতে হাজারি যথেষ্ট মুষড়িয়া পড়িয়াছিল, চাটুজ্জ্যে দাদামশাইয়ের এই সহানুভূতিশীল শব্দগুলি শুনিয়া হাজারি নতুন করে মনে বল পাইল। তাহার দৃঢ় ধারণা হইল সব কিছু শুনিবার পর উহারা আর তাহার উপর রাগ করিয়া থাকিতে পারিবেন নাই কারণ সে বাস্তবিক পরিস্থিতির শিকার হইয়া এমন সিদ্ধান্ত লইতে বাধ্য হইয়াছে, তাহার সামনে ইহা ব্যতীত আর কোনো পথ সে সময় উন্মুক্ত থাকে নাই। সুতরাং নতুন উদ্যম লইয়া হাজারি তাহার পরিস্থিতি আনুপূর্বিক বর্ণনা দিতে আরম্ভ করিল, কাজের সন্ধানে রানাঘাট আসার কাল হইতে চুরির দায়ে হাজতবাস সহ আজ দ্বি প্রহরে বেচু চক্কত্তির হোটেলে গিয়া তাহার যে অভিজ্ঞতা হইয়াছে সব কিছুই বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা করিল। সে সাথে ইহাও জানাইতে ভুলিল না যে কিভাবে বেচু চক্কত্তি তাহাকে দুই মাসের বকেয়া মাহিনা না দিয়াই চাকুরী হইতে বরখাস্ত করিয়াছেন। হাজারি আশা করিয়াছিল এই জীবনের নিদারুন দুঃখ কষ্টের কথা শুনিয়া তাহার পিতা এবং দাদামশাই তাহার উপর সদয় হইবেন, কিন্তু ফল হইল উল্টো। হাজারির বর্ণনা শেষ হইবার পরেও তাঁহাদের কাহাকেও কোনো মন্তব্য করিতে দেখা যাইল না, বরং হাজারির মা নীরবে ক্রন্দন শুরু করিলেন। এই দেখিয়া হাজারির হৃদয় ব্যথিত হইয়া উঠিল। সত্যই পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বিচিত্র জাতি বোধহয় এই জননী জাতি, মরিবার পরেও সন্তানের প্রতি যাহাদের স্নেহে একটুও খামতি দেখা যায় নাই।

- মা গো তুমি কাঁদছ!

- বাছাকে আমার কত নাই কষ্ট সহ্য কত্তে হয়েচে জীবনে…

- সন্তানের দুঃখে মায়ের চোখে জল আসে এটাই প্রকৃতির নিয়ম হাজারি।

এতক্ষনে দাদামশাইয়ের গলা পাইয়া হাজারির হৃদয় কম্পিত হইল,

- আপনি আমায় মাফ করেছেন দাদামশাই?

- হাজারি, সত্যই তোমাকে জীবনে অনেক দুঃখ কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে কিন্তু হাজারি তোমার এই দুঃখের ভাগীদার কি কেউ নাই?

দাদামশাইয়ের প্রশ্নের চমকাইয়া উঠিল হাজারি, মুহূর্তের মধ্যে তাহার চোখের সামনে ভাসিয়া উঠিল টেঁপির মায়ের মুখ। বিবাহের কাল হইতে সে হাজারির পাশাপাশি দারিদ্রের সহিত লড়াই করিয়া আসিতেছে নীরবে, শত অভাবের মধ্যিখানে থাকিয়াও নিজের তিন সন্তানসহ হাজারির সেবা যত্নের কোনো ত্রুটি রাখে নাই। কোনোদিনও কোনো অভিযোগ করে নাই। সত্যই টেঁপির মা হাজারির যোগ্য সহধর্মিণী।

“তাহলে হাজারি তোমার স্ত্রী তোমার দুঃখের ভাগীদার নয় কি?”

হাজারি পুনরায় চমকাইয়া উঠিল; দাদামশাই তাহার মনের কথা টের পাইলেন কিভাবে!

-আজ্ঞে।

- ভেবে দেখো হাজারি কার ভরসায় তোমার অমন লক্ষীমন্ত বউকে সন্তান সহ ফেলে রেখে এখানে পালিয়ে এলে?

এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারিল না হাজারি। দাদামশাই বোধহয় আগে থাকতেই জানতেন যে হাজারি তাঁহার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিবে না, তাই কিছুক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া তিনিই পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলেন,

-গল্প শুনতে ভালোবাসো হাজারি?

-আজ্ঞে!

এমন ধারার প্রশ্নে হাজারি যারপরনাই অবাক হইল।

-বলছি গল্প শুনতে ভালোবাসো? তাহলে একখান গল্প শোনাবো তোমায়।

- আজ্ঞে!

- আহ এতো আজ্ঞে আজ্ঞে করোনাতো হাজারি। দাদামশাই নাতিকে গল্প শোনাবেন এতে এতো অবাক হবার কি আছে! বলো শুনবে?

- আজ্ঞে।

- হুম, তাহলে বলি শোনো। তোমাদের গ্রামেরই গল্প।

- আমাদের গ্রামের!

- হুম তোমাদের গ্রামের। কৌতূহল হচ্ছে?

- আজ্ঞে।

- ভালো। শোনো তবে। সে অনেক কাল আগের কথা। তোমাদের গ্রামে থাকতেন এক ব্রাহ্মন, নাম হরিনারায়ণ চাটুজ্জ্যে। লোকের বাড়ি বাড়ি পুজোআচ্ছা করে কোনোক্রমে তাঁর দিন কাটতো।

- আচ্ছা।

- আহ মাঝে শব্দ কোরোনা হাজারি, আমি এটা পছন্দ করিনা।

- আচ্ছা দাদামশাই, ভুল হয়ে গেছে। মাফ করবেন।

- ঠিক আছে ঠিক আছে, শোনো তারপর। হরিনারায়ন চাটুজ্জ্যের ছিল তিন ছেলে এক আর এক মেয়ে। বড় ছেলেটি শিশু অবস্থাতেই মারা যায়, তারপর গ্রামে একবছর মড়ক লাগতে কোলের ছেলেটি আর মেয়েটিও মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে মারা যায়। খুব নরম মনের মানুষ ছিলেন হরিনারায়ন চাটুজ্জ্যে, তিন তিনটে সন্তানের মৃত্যুশোক মেনে নিতে না পেরে তিনিও ইহলোক ত্যাগ করেন অল্পদিনের মধ্যে।

- সেকি!

- হুম, শুধু তাই নয় ওনার স্ত্রীও পরপর এই শোক সহ্য করতে না পেরে প্রায় উন্মাদ হয়ে যান। এবার ভেবে দেখো তো বাবা ওনার একমাত্র জীবিত ছেলেটির তখন কি অবস্থা?

হাজারি কোনো উত্তর করিল না, এর উত্তর কি হইবে তাহা সে ভাবিয়া পাইলো না কিছুতেই। দাদামশাইও হাজারির উত্তরের প্রত্যাশা না করিয়াই আবার গল্প শুরু করিলেন,

“সেই ছেলেটি বুঝলো এই গ্রামাঞ্চলে পুরোহিতগিরি করে সংসার চালানো ঠিক সুবিধাজনক নয়, তাই অনেক ভেবে সে সিদ্ধান্ত নিল মুদি দোকান খোলার। মাথার উপর অভিভাবক কেউ নাই অতএব সব সিদ্ধান্ত নিজেকেই নিতে হলো। কিন্তু জানোই তো বাবা গ্রামের মানুষকে, সাত্ত্বিক ব্রাহ্মনের ছেলে হয়ে মুদি দোকান খোলার সিদ্ধান্তটা গ্রামের লোক ঠিক মেনে নিতে পারলো না। কেউ কেউ বাধা দিতে এলেও সে ছেলে শুনলো না। প্রথম প্রথম ব্যবসা একদম ভালো চলতো না, গ্রামের লোক তার কাছে কিনতেই আসতো না। কিন্তু তারপর পরিস্থিতি আমূল পাল্টে গেল যখন গ্রামের আরেক মুদি নিধু ব্যাপারী শহরে চলে গেল। এবার ওই ছেলেটির দোকানে আসা ছাড়া লোকের আর উপায় রইল না আর ছেলেটিও লাভের মুখ দেখতে পেল। আস্তে আস্তে তার অবস্থার উন্নতি হতে থাকলো। ইতিমধ্যেই সে বিবাহ করেছে, এক ছেলের বাবা হয়েছে।”

- বাহ্ বাহ্, তারপর?

গল্প বলিতে বলিতে বৃদ্ধ যেন অন্য কোন জগতে চলিয়া গিয়েছিলেন তাই গল্পের মধ্যিখানে হাজারি কথা বলিতেও চটিলেন না এইবার।

- তারপর? হুম তারপর এলো এক দারুণ সময়।

- কেন?

- একদিন দোকান ছেড়ে লোকটি ঘরের মধ্যে মুড়ি খেতে গিয়েছিল, দোকানের সামনে তার ছেলেটি আপন মনে খেলছিল তাই দোকানের ঝাঁপ বন্ধ করার কথা সে ভাবেনি, ভেবেছিল শীঘ্রই খেয়ে চলে আসবে। এদিকে ঘরের মধ্যে যখন সে মুড়ি খাচ্ছে তখন হঠাৎ বাইরে থেকে চেঁচামেচি শুনতে পাওয়া গেল। লোকটি তড়িঘড়ি বাইরে এসে দেখল দোকানের সামনে অনেক গুলি ছেলেপুলে জমায়েত হয়েছে আর গ্রামের জমিদারের ছেলেও সেখানে উপস্থিত কিন্তু তার মাথা ফেটে গলগল করে রক্ত পড়ছে। ছেলেদের মধ্যে অনেক বাকবিতন্ডা চলছে, সবাই লোকটির বালক পুত্রটিকেই এই ঘটনার জন্য দোষারোপ করছে।

- সেকি!

- হুম। কিন্তু তার পুত্র বলছে অন্য কথা। সে বলছে দোকানে যখন কেউ ছিল না জমিদারের পুত্র ও তার সঙ্গীসাথীরা আসে দোকান থেকে নাড়ু চুরি করে খেতে, তারা বোধহয় লোকটির ছেলেটিকে খেয়াল করেনি। এরপর সেই ছেলেটি বাধা দিতে গেলে জমিদার পুত্র ও তার দলবলের সঙ্গে তার বিরোধ বাধে, এমন সময় জমিদারের ছেলের একবন্ধু একটা মোটা লাঠি তুলে লোকটির ছেলেটিকে মারতে যায় কিন্তু অসাবধানে সেই লাঠির বাড়ি গিয়ে পড়ে জমিদারের ছেলের মাথায়। সত্যিকারের সেদিন কি ঘটেছিল তা জানা যায়নি বা বলা ভালো জানার চেষ্টাও কেউ করেনি। কিন্তু চিরকালই তো চলে আসছে জোর যার মুলুক তার। গ্রামের লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো এতো পাপ কোথায় যাবে, তিন পুরুষের জীবিকা ছেড়ে সে মুদি দোকান খুলেছিল তাই এই বয়সেই ছেলে ডাকাত হয়েছে। তাছাড়া জমিদারের ছেলে চুরি করে নাড়ু খেতে যাবে এমন কথাও লোকে বিশ্বাস করতে চায়নি।

- তারপর?

- তারপর আর কি জমিদারের লোকেরা এসে মুদি খানা আর লোকটির ঘরে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দিল এবং সম্পূর্ণ কপর্দকশূন্য অবস্থায় তাকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করলো।

- গ্রাম ছেড়ে কোথায় গেল সে?

- প্রায় এক কাপড়ে গ্রাম ছেড়ে এসে স্ত্রী পুত্রকে নিয়ে শহরের এক গাছের তলায় আশ্রয় নিলো সে। লোকটি সারাদিন ধরে কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াতো চারিদিকে, তারপর চেয়ে চিন্তে কিছু খাবার এনে ছেলের মুখে তুলে দিত দিনের শেষে। নিজে আর স্ত্রী প্রায় প্রত্যেকদিনই আধপেটা খেয়ে বা কোনো কোনো দিন না খেয়েই দিন কাটাতে লাগলো। প্রায় দুই মাস যাবৎ এমন অবস্থা চলার পর একদিন ভাগ্যক্রমে এক বড় আড়তদারের কাছে এক সামান্য মাহিনের চাকুরী জুটল। আড়তদার ছিলেন শক্ত ধাতের মানুষ, মাহিনের বাইরে এক পয়সা কখনো বকশিশ দিতেন না বা ধারও দিতেন না কখনো। কিন্তু তাও আগের তুলনায় লোকটির অবস্থা অনেক উন্নত হল। যাইহোক তবু শত অভাব সত্ত্বেও লোকটি কোনোদিনও নিজের সততাকে বিসর্জন দেয়নি, এমনকি নিজের কাজকেও কোনোদিন অবহেলাও করেনি। নিষ্ঠার সাথে নিজের কর্তব্য করে গেছে।

- তারপর?

- তারপর আরও শুনতে চাও?

- হ্যাঁ দাদামশাই বড়ো কৌতূহল হচ্চে।

- তাহলে বলছি। ওই আড়তদার ছিলেন নিঃসন্তান। দীর্ঘ কয়েকবছর ওই লোকটির সততা দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি প্রথমে লোকটিকে তাঁর ব্যবসার অংশীদার করে নেন।

- তাই নাকি?

- হুম। শুধু তাই নয় ওই আড়তদার মারা যাওয়ার আগে নিজের ব্যবসার অংশটিও লোকটিকে দানপত্র করে দিয়ে যান। এরপর পুরো ব্যবসা লোকটি একা হাতে সামলে প্রভুত ধনসম্পদের অধিকারী হয়। আচমকা ধনী হয়েও লোকটি তার সততা কখনো বিসর্জন দেয়নি, তাই বোধহয় ভগবানও তাকে দিয়ে গেছেন দু হাত ভরে। যে গ্রাম থেকে একদিন বিতাড়িত হয়েছিল সেই গ্রামেই ফিরে গিয়ে নিজের পুরানো ভিটেতে তার স্বর্গীয় বাবার নামে এক বিশাল বাড়ি তৈরি করে, যদিও তার মাও অনেকদিন আগেই দেহ রেখেছিলেন তাও সে তার মায়ের ইচ্ছার মর্যাদা রাখতে জমি কিনে একটা বিশাল আমবাগান তৈরি করে। শুধু এসব করাই নয় নিজের ছেলেকেও সেই সাথে মানুষের মতো মানুষ করতে সক্ষম হয়।

- আহা দাদামশাই মন ভরে গেল এ গল্প শুনে। আপনি তো বলেছিলেন আমাদের গ্রামের কারুর কথা বলছেন, সে কে দাদামশাই? জানতে বড় কৌতূহল হচ্চে।

- যদি বলি এতক্ষন যার কথা বললাম সে আমিই।

- আপনি?

- গ্রামে খুড়োমশাইয়ের সব কিছু তো নিজের চোখেই দেখেছ হাজারি। এবার বলোতো জীবনে সুখ শান্তি কি এতোই সহজে পাওয়া যায়? লড়াই করতে হয় তার জন্য।

- হ্যাঁ হাজারি তোমার বাবা ঠিকই বলেছেন। শুনলে তো কিভাবে মৃত্যুর আগে ওই জায়গায় পৌঁছেছিলাম আমি। লড়াই আমাকেও করতে হয়েছিল হাজারি। তোমার মতো অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন আমাকেও হতে হয়েছিল, কিন্তু আমি কোনোদিনও হার মানিনি আর নিজের সততাকে বিসর্জন দিয়ে দিইনি। বাবা হাজারি তুমি সৎ, নিষ্ঠাবান, এখনো যথেষ্ট শক্ত সামর্থ্য ছিলে তবে কেন বাবা এমন কাজটি করলে? জীবনে অনেক উন্নতি করতে পারতে তুমি, শুধু প্রয়োজন ছিল লড়াই চালিয়ে যাওয়ার, মানসিকতাকে আরও দৃঢ় করার। শুধু শুধু তুমি…

-তোমার স্ত্রী সন্তানদের এবার কি হবে ভেবে দেখেছ হাজারি? তারা তো না খেতে পেয়ে মরবে… তুমি শুধু নিজেই মরনি, তাদেরও যমের হাতে তুলে দিয়ে এসেছ...

- হাজারি তুই কাঁদছিস বাছা…!

- দাদামশাই, বাবা, মা… আমি বুঝেছি...আমি বুঝতে পেরেছি কি মস্ত ভুলটাই না আমি করেছি। নিজের ওপর বড্ড রাগ হচ্ছে আমার।

- এখন আর এসব বলে কি হবে?

- বাবা গো… আর কি কোনো উপায় নেই সব ঠিক করার? মুহূর্তের দুর্বলতায় যে ভুল আমি করে ফেলেছি সেই ভুল শুধরে নেওয়ার কোনো উপায় কি নেই? আমি ফিরে যেতে চাই… আমি আবার ফিরে যেতে চাই আমার পরিবারের কাছে… মস্ত বড় ভুল করে ফেলেছি আমি… আমি ফিরে যেতে চাই…. সব ভুল শুধরে নিতে চাই...

হাজারি চিৎকার করিয়া কাঁদিয়া উঠিলো, তাহার চিৎকারে চারিদিক কাঁপিয়া উঠিল। অন্ধকার ভেদ করিয়া কোথাও গিয়া যেন প্রতিধ্বনি হতে লাগিল তাহার আর্তনাদ….

★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★★

- চোখ খুলচে… চোখ খুলচে…

- ও ঠাকুর বলি শুনতে পাচ্চ?

- কি গো কথা কয় না যে…

- কি করে জলে পড়ল এমন তাগড়াই লোকটা?

- কে জানে খেয়াল করিনি তো।

- আমি তো জলে ঝুপ করে আওয়াজ শুনে ছুটে গিয়ে দেখলুম এই কান্ড।

হাজারি চোখ মেলিয়া দেখিল কতগুলি অপরিচিত মুখ তাহার উপর ঝুঁকিয়া পড়িতেছে; নাহ সকলে অপরিচিত নহে, কিছু পরিচিত মুখও রহিয়াছে। সকলের মনে উদ্বিগ্নতা, সেই সাথে চোখে হাজারো প্রশ্ন। হাজারি ইহাদের দেখিয়া যারপরনাই অবাক হইল, আশেপাশে তাকিয়া দেখিল চুর্নীর তীরে সে শুইয়া আছে, অনুভব করিতে পারিল তাহার পরনের কাপড় ভিজিয়া চুপসাইয়া গিয়াছে।

“কি ঠাকুর মাথা ঘুরিয়ে পড়ে গিয়েছিলে নাকি?”

প্রশ্নকর্তাকে হাজারি চেনে, লোকটিও রেলবাজারের একটি হোটেলে কাজ করে। হাজারি জানে এই সকল লোক যদি একবার জানিতে পারে যে সে আত্মহননের চেষ্টা করিয়াছিল তাহলে ইহাদের সমস্ত সহানুভূতি নিমেষে উধাও হইয়া যাইবে। হাজারি তাই বুদ্ধি করিয়া জবাব দিল, “হাঁ ওই মাথাটা ঘুরিয়ে গিয়েছিল আর কি। কখন জলে পড়ে গেলাম টেরই পাইনা।

আস্তে আস্তে লোকের ভীড় পাতলা হইয়া যাইতেছে, হাজারি একলা বসিয়া রহিয়াছে তাহার প্রিয় গাছতলাটিতে। সে এখনও ঠিক বুঝিয়া উঠিতে পরিতেছে না যে সে তো মরিয়া গিয়েছিল তবে পুনরায় এখানে ফিরিল কেমনে! তবে যাই হোক সে আবার বাঁচিয়া ফিরিয়াছে ইহাই ঢের। হাজারি আবার তাকাইল চূর্ণী নদীর পানে, আজ থেকে এ নদী তাহার কাছে আর শুধু চূর্ণী নয়, এ হইল বৈতরণী যাহার ওপারে একবার যাইলে ফিরিয়া আসিবার সুযোগ কেহ পায়না; কিন্তু হাজারি পাইয়াছে। তাই সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিল এ সুযোগ সে কিছুতেই নষ্ট হইতে দিবে না, সে আগাইয়া যাইবে, সে লড়াই করিবে, সফল করিবে নিজের স্বপ্ন, আর কোনোরূপ বাধাই তাকে পিছু হটাইতে পারিবে না কোনোদিনও।

...........................................................................................


Rate this content
Log in

More bengali story from Sayandipa সায়নদীপা

Similar bengali story from Drama