STORYMIRROR

পূর্নব্রত ভট্টাচার্য্য

Abstract Tragedy Others

3  

পূর্নব্রত ভট্টাচার্য্য

Abstract Tragedy Others

কাঞ্জিভরম

কাঞ্জিভরম

4 mins
209


সুবল তার বউ আর তাদের ছেলে কে নিয়ে ছিল , সুবলের সংসার । সুবলের বউয়ের নাম হল রুপা। সে খুব ভালো ধীর স্থির সংসারি মহিলা । সুবল একটি কারখানায় কাজ করে এবং তাদের এক মাত্র ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। সুবলের কম বেতন হওয়া সত্বেও ঠিক সংসার চালিয়ে নিতো রুপা । কোনো দিনও রুপা সুবলের থেকে কিছুই আবদার করেনি । সুবল ভালোবাসে যা দিয়েছে তাই নিয়ে ও খুশি হয়েছে । তাই সুবল ও রূপাকে খুব ভালো বাসতো । সামনে আসছে দুর্গা পূজা আসছে । এর মধ্যে তাদের এক বিয়ে বাড়ি এলো , পাশের বাড়ির রানুর বিয়ে । রুপার অনেক দিনের সখ সে একটি লাল কাঞ্জিভরম কিনবে। রুপা অনেক বার সুবলকে বলতে গিয়েও বলতে পারেনি । পাসের বাড়ির রানুর বিয়েতে

রুপাদের নিমন্ত্রণ ছিল তাদের সবার । বিয়ে বাড়িতে গিয়ে রুপা দখলো যে রানুর পিসি একটা খুব সুন্দর শাড়ি পরে এসেছে লাল রঙের । রানুর খুব পছন্দ হলো শাড়ি টা । রুপা রানুর পিসি কে জিজ্ঞেস করলো । এই শাড়িটার নাম কি পিসি । উত্তরে রানুর পিসি বলে কাঞ্জিভরম । রুপা চুপ করে যায় । এই তাহলে তার সেই স্বপ্নের শাড়ি কাঞ্জিভরম । তারপর থেকে রুপার মনে কাঞ্জিভরম শাড়ির সখ টা আবার জেগে ওঠে । সুবল একটা পুরনো ফোন রূপাকে কিনে দিয়েছিলো। রুপা মাধ্যমিক পাস করলেও , কিন্ত

ফোন সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না । সে কার কাছে শুনেছিল অনলাইনে শাড়ি কেনা যায় শাড়ি দেখা যায় , কিন্তু সে তো কি ভাবে দেখবে খুলতেই জানে না ।

তার ফোন টা নিয়ে তার ছেলে কি সব গেম

টেম খেলে। রুপা ভাবে তার ছেলে নিশ্চই জানবে যে কিভাবে শাড়ী দেখা যায় মোবাইলে । সে মনে মনে করলো রাজু আসুক স্কুল থেকে তাকে বলবো সে জানে কিনা। রুপার ছেলের নাম হল রাজু । সময় মত রাজু মা মা করে ডাকতে ডাকতে বাড়িতে ঢুকল। রুপা বললো হাত পা ভালো করে ধুয়ে আয় বাবা আমি তোর ভাত বারছি।

রাজু ভাত খেতে লাগলো। রাজু ও মায়ের মত ভালো মন্দ সব বোঝো কোনো বায়না করে না। রুপা ছেলের পাশে বসে মাথায় হাত বুলাচ্ছে। উঠাৎ শাড়ির

কথাটা মনে পরলো , রুপা ছেলে কে বললো , হ্যারে বাবু অনলাইনে নাকি ফোনে শাড়ি

দেখা যায় । রাজু বললো যায় তো দেখা অনেক অ্যাপ আছে গো মা ডাউন লোড করতে হবে ,। খেয়ে আমি তোমাকে ডাউনলোড করে দেবো । রুপা বললো তুই পারবি । রাজু বলে পারবো মা আমি ফোনের সব জানি ।


ছেলের নামানো অ্যাপ দেখতে লাগলো রুপা । হরেক

রকম শাড়ির ভীড়ে হঠাৎ চোখে পরলো সেই লাল

রঙের কান্জীবরন । তার তখন খুব আনন্দ

হচ্ছিল । সে ভাবলো আজ সুবোল আসলে

শাড়ির কথা টা বলবো। তাই সে অপেক্ষা করেছিল যে

কখন তার স্বামী আসবে । এই নিয়ে ও ভাবছে তখনি ঘরের বাইরে সাইকেলের বেল বাজলো।

তাড়াতাড়ি করে দর খুললো রুপা । কিন্তু এ কি

স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে সে অবাক হলো। দেখে যে সুবল এসেই গোমড়া মুখে বারান্দায় বসে পড়ল ।

রুপা বললো কি গো তোমার মুখ টা অমন দেখাচ্ছে কেন । কি হয়েছে তোমার । সুবল বলে কারখানায় লক আউট হয়ে গেছে । কবে খুলবে ঠিক নেই , পুজোর আর ১৭ দিন বাকি। তোমাদের কিছুই কিনে দিতে পারলাম না এখনও । মালিক বোনাস দেবে না বলে অশান্তি শ্রমিকদের মধ্যে । আমার মনে হচ্ছে শয়তান মালিক টা কে খুন করে ফেলি। এই বলে সুবল রুপার কোলে মাথা রেখে মনে হয় চোখের জল কে আড়াল করলো । রুপা সুবলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে , এ সব কথা মাথায় এনো না। যাও চান

করে এসো আমি ভাত বাড়ছি । রান্না ঘরে

গিয়ে সে ভাবতে লাগলো কি করে সংসার চলবে , রাজু পড়াশোনা কি করে চলবে। তখন তার একবার ও শাড়ির কথা মনে পরলো না। স্বামী যখন খেয়ে শুলো , স্বামীর পাশে সে এসে বসলো। আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলো । হঠাৎ শাড়ির কথা মনে পরলো

তখন সে আস্তে আস্তে স্বামীর পাশ থেকে

উঠে তার ছেলে রাজুকে ডাকলো।

রাজু তাড়াতাড়ি করে এসে বললো কি হয়েছে মা । রুপা বললো শাড়ির অ্যাপ টা বন্ধ করে করে দে।

রাজু বললো কেন মা বন্ধ করে দিলে তুমি শাড়ি

গুলো দেখবে কি করে । রুপা ছেলে কে

ধমক দিয়ে বললো বেশি বকিস না যা বলছি

সেটাই করো। রাজু বললো ঠিক আছে বন্ধ

করে দিচ্ছি , বলে সে বন্ধ করে দিলো।

আর বললো নাও বন্ধ করে দিয়েছি

তার জন্য এত আমাকে বকছো কেন মা।

তখন রুপা ছেলে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদদে লাগলো।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract