কাঞ্জিভরম
কাঞ্জিভরম
সুবল তার বউ আর তাদের ছেলে কে নিয়ে ছিল , সুবলের সংসার । সুবলের বউয়ের নাম হল রুপা। সে খুব ভালো ধীর স্থির সংসারি মহিলা । সুবল একটি কারখানায় কাজ করে এবং তাদের এক মাত্র ছেলে ক্লাস নাইনে পড়ে। সুবলের কম বেতন হওয়া সত্বেও ঠিক সংসার চালিয়ে নিতো রুপা । কোনো দিনও রুপা সুবলের থেকে কিছুই আবদার করেনি । সুবল ভালোবাসে যা দিয়েছে তাই নিয়ে ও খুশি হয়েছে । তাই সুবল ও রূপাকে খুব ভালো বাসতো । সামনে আসছে দুর্গা পূজা আসছে । এর মধ্যে তাদের এক বিয়ে বাড়ি এলো , পাশের বাড়ির রানুর বিয়ে । রুপার অনেক দিনের সখ সে একটি লাল কাঞ্জিভরম কিনবে। রুপা অনেক বার সুবলকে বলতে গিয়েও বলতে পারেনি । পাসের বাড়ির রানুর বিয়েতে
রুপাদের নিমন্ত্রণ ছিল তাদের সবার । বিয়ে বাড়িতে গিয়ে রুপা দখলো যে রানুর পিসি একটা খুব সুন্দর শাড়ি পরে এসেছে লাল রঙের । রানুর খুব পছন্দ হলো শাড়ি টা । রুপা রানুর পিসি কে জিজ্ঞেস করলো । এই শাড়িটার নাম কি পিসি । উত্তরে রানুর পিসি বলে কাঞ্জিভরম । রুপা চুপ করে যায় । এই তাহলে তার সেই স্বপ্নের শাড়ি কাঞ্জিভরম । তারপর থেকে রুপার মনে কাঞ্জিভরম শাড়ির সখ টা আবার জেগে ওঠে । সুবল একটা পুরনো ফোন রূপাকে কিনে দিয়েছিলো। রুপা মাধ্যমিক পাস করলেও , কিন্ত
ফোন সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না । সে কার কাছে শুনেছিল অনলাইনে শাড়ি কেনা যায় শাড়ি দেখা যায় , কিন্তু সে তো কি ভাবে দেখবে খুলতেই জানে না ।
তার ফোন টা নিয়ে তার ছেলে কি সব গেম
টেম খেলে। রুপা ভাবে তার ছেলে নিশ্চই জানবে যে কিভাবে শাড়ী দেখা যায় মোবাইলে । সে মনে মনে করলো রাজু আসুক স্কুল থেকে তাকে বলবো সে জানে কিনা। রুপার ছেলের নাম হল রাজু । সময় মত রাজু মা মা করে ডাকতে ডাকতে বাড়িতে ঢুকল। রুপা বললো হাত পা ভালো করে ধুয়ে আয় বাবা আমি তোর ভাত বারছি।
রাজু ভাত খেতে লাগলো। রাজু ও মায়ের মত ভালো মন্দ সব বোঝো কোনো বায়না করে না। রুপা ছেলের পাশে বসে মাথায় হাত বুলাচ্ছে। উঠাৎ শাড়ির
কথাটা মনে পরলো , রুপা ছেলে কে বললো , হ্যারে বাবু অনলাইনে নাকি ফোনে শাড়ি
দেখা যায় । রাজু বললো যায় তো দেখা অনেক অ্যাপ আছে গো মা ডাউন লোড করতে হবে ,। খেয়ে আমি তোমাকে ডাউনলোড করে দেবো । রুপা বললো তুই পারবি । রাজু বলে পারবো মা আমি ফোনের সব জানি ।
ছেলের নামানো অ্যাপ দেখতে লাগলো রুপা । হরেক
রকম শাড়ির ভীড়ে হঠাৎ চোখে পরলো সেই লাল
রঙের কান্জীবরন । তার তখন খুব আনন্দ
হচ্ছিল । সে ভাবলো আজ সুবোল আসলে
শাড়ির কথা টা বলবো। তাই সে অপেক্ষা করেছিল যে
কখন তার স্বামী আসবে । এই নিয়ে ও ভাবছে তখনি ঘরের বাইরে সাইকেলের বেল বাজলো।
তাড়াতাড়ি করে দর খুললো রুপা । কিন্তু এ কি
স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে সে অবাক হলো। দেখে যে সুবল এসেই গোমড়া মুখে বারান্দায় বসে পড়ল ।
রুপা বললো কি গো তোমার মুখ টা অমন দেখাচ্ছে কেন । কি হয়েছে তোমার । সুবল বলে কারখানায় লক আউট হয়ে গেছে । কবে খুলবে ঠিক নেই , পুজোর আর ১৭ দিন বাকি। তোমাদের কিছুই কিনে দিতে পারলাম না এখনও । মালিক বোনাস দেবে না বলে অশান্তি শ্রমিকদের মধ্যে । আমার মনে হচ্ছে শয়তান মালিক টা কে খুন করে ফেলি। এই বলে সুবল রুপার কোলে মাথা রেখে মনে হয় চোখের জল কে আড়াল করলো । রুপা সুবলের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে , এ সব কথা মাথায় এনো না। যাও চান
করে এসো আমি ভাত বাড়ছি । রান্না ঘরে
গিয়ে সে ভাবতে লাগলো কি করে সংসার চলবে , রাজু পড়াশোনা কি করে চলবে। তখন তার একবার ও শাড়ির কথা মনে পরলো না। স্বামী যখন খেয়ে শুলো , স্বামীর পাশে সে এসে বসলো। আকাশ পাতাল ভাবতে লাগলো । হঠাৎ শাড়ির কথা মনে পরলো
তখন সে আস্তে আস্তে স্বামীর পাশ থেকে
উঠে তার ছেলে রাজুকে ডাকলো।
রাজু তাড়াতাড়ি করে এসে বললো কি হয়েছে মা । রুপা বললো শাড়ির অ্যাপ টা বন্ধ করে করে দে।
রাজু বললো কেন মা বন্ধ করে দিলে তুমি শাড়ি
গুলো দেখবে কি করে । রুপা ছেলে কে
ধমক দিয়ে বললো বেশি বকিস না যা বলছি
সেটাই করো। রাজু বললো ঠিক আছে বন্ধ
করে দিচ্ছি , বলে সে বন্ধ করে দিলো।
আর বললো নাও বন্ধ করে দিয়েছি
তার জন্য এত আমাকে বকছো কেন মা।
তখন রুপা ছেলে জড়িয়ে ধরে হাউহাউ করে কাঁদদে লাগলো।
