STORYMIRROR

Nikhil Mitra Thakur

Abstract Thriller Others

3  

Nikhil Mitra Thakur

Abstract Thriller Others

গফুর মিয়ার জীবনাবসান

গফুর মিয়ার জীবনাবসান

3 mins
192

বাঁশের আগল ভেঙে ঘরের ভিতরে ঢুকে সব তছনছ করে কিছু একটার খোঁজ করেছে ওরা। সারারাত ধরে ঘরের মেঝের এখান ওখান মাটি খুঁড়েছে, দেওয়ালে যেখানে সন্দেহ হয়েছে সেখানে খুঁড়ে দেখছে। মাটির হাঁড়ি গুলো সব ভেঙেছে,কাপড়ের পুঁটুলি গুলো খুলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়েছে। 

-সকাল বেলায় পুলিশ এসে দেখে ঘরের মেঝে লন্ডভন্ড হয়ে আছে। গফুর মিয়ার রক্তাক্ত নিথর দেহ ঘরের এক কোণে পড়ে আছে। 

-ঘরের ভিতরে তিন চার রকম মাপের পায়ের ছাপ থেকে পুলিশ অনুমান করছে যে ওরা তিন-চার জনের একটা দল ছিল এবং দলে একজন মহিলা ছিল। 

-কিন্তু, কিসের খোঁজে ওরা গফুর মিয়ার মতো একটা দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের ঘরে সারারাত ধরে এতো খোড়াখুড়ি,লন্ডভন্ড করেছে। 

-আর কেনই বা গফুর মিয়ার বাড়ির লোক কেউ টের পেল না।তারা কোনভাবে চিৎকার চেঁচামেচি করলো না।

- এসব প্রশ্ন পুলিশ কে ভাবিয়ে তুলেছে।

- গফুর মিয়া গ্রামের এক প্রান্তে একটা পুকুরের পাড়ে বাঁশের তৈরি খাঁচা ও খড়ের ছাউনি দেওয়া একটা কুঁড়ে ঘরে থাকে।

- পাশেই মাটি দিয়ে তৈরি বাড়িতে থাকে গফুর মিয়ার ছেলে-বৌ ও নাতি নাতনী। 

-- বছর পাঁচেক হলো গফুর মিয়ার স্ত্রী মারা গেছে। তারপর থেকে ছেলের সাথে প্রায়ই নানা বিষয়ে ঝগড়া হয়।

- তাই ছেলেকে নিজের তৈরি ঘর ছেড়ে দিয়ে গফুর মিয়া পাশের জায়গাতে এই কুঁড়ে ঘরে বাস করে।

-- এই পুকুরটির চারদিকের পাড়ে মাটির বাড়িতে থাকে গ্রামের যতো দিনমজুর। এই পরিবার গুলি কোন না কোন ভাবে আত্মীয় সম্পর্কে পরস্পর জড়িত। 

-- ওদের মধ্যে একমাত্র গফুর মিয়ার পুকুরের ধারে এক চিলতে একটা জমি আছে।

--গফুর মিয়া ওই জমি চাষ করার সাথে সাথে অন্যের জমিতে দিনমজুর খাটে। তাই গফুর মিয়ার কিছু জমানো টাকা আছে। এইজন্য গফুর মিয়াকে ওদের গোষ্ঠীর লোকেরা বেশ সম্মান করে।

-- ইদানিং ঝাড়ি নামের এক মহিলা কে গফুর মিয়া বিয়ে করবে বলে জেদ ধরে। এই নিয়ে ছেলের সাথে বিবাদ চরমে ওঠে। 

-- গফুর মিয়া বিয়ে করলে বাচ্চা হবে এবং সেক্ষেত্রে ওই ছেলেই গফুর মিয়ার জমিটুকু পাবে। তাই গফুর মিয়ার ছেলে ও বৌ উঠেপড়ে লাগে যেমন করে হোক এই বিয়ে বন্ধ করতে হবে।

-- তাই বস্তির সকলের অনুমান ছেলে ও বৌ মিলে গফুর মিয়া কে খুন করেছে।

-- মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য ও প্রাথমিক ধারণার ভিত্তিতে পুলিশ সেদিন গফুর মিয়ার ছেলেকে গ্রেফতার করে। 

-- পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে যে,গফুর মিয়া তার এক চিলতে জমিতে চার-পাঁচ ধরে পোস্ত চাষ করে ও সাথে সাথে পোস্ত গাছের আঠা বের করে বিক্রি করতে শুরু করেছিল।

-- পোস্ত চাষ করতে শুরু করার পর থেকে ঝারি নামের ওই মেয়েটি এসে এখানে হাজির হয় এবং পুকুরের অপর পাড়ে একটি ঘরে ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। 

-- পুলিশ আরো জানতে পারে গফুর মিয়া তার জমানো টাকা ব্যাঙ্কে না রেখে ঘরেই রাখতো। প্রায় চার পাঁচ লাখ টাকা গফুর মিয়া ওই ঘরের একটা হাড়িতে ভরে রেখেছিল।

--ইদানিং গফুর মিয়ার কাছে যারা পোস্ত গাছের আঠা কিনতো তাদের সাথে দর দাম নিয়ে একটা মনমালিন্য হয়। 

-- গফুর মিয়া ওদের আঠা বিক্রি না করে জমিয়ে রাখতে শুরু করে। 

-- আঠার গন্ধে সাপ আসে বলে ওই জমানো আঠা ঘরে না রেখে গফুর মিয়া সবার অলক্ষ্যে কুঁড়ের সামনে একটা গাছের নিচে পুঁতে রাখে।

-- অন্য চক্রের লোকেরা খবর পেয়ে গফুর মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে এবং বেশি দাম দিয়ে আঠা কিনতে চায়। 

-- আর এই নিয়ে তাদের সাথে গফুর মিয়ার বিরোধ চরমে ওঠে।

-- গফুর মিয়া আঠা বিক্রি বন্ধ করে জমিয়ে রাখতে শুরু করে। প্রায় চার পাঁচ কিলো আঠা জমিয়ে রাখে। এই আঠার মূল্য প্রায় দশ-বারো লাখ টাকার সমান।

-- পুলিশ এসে ওই পাড়াতে ঝারি নামের মেয়েটির খোঁজ করতে থাকে। 

-- যে রাতে গফুর মিয়া খুন হয় সেই রাত থেকে ঝারি কে আর কেউ ওই বস্তিতে দেখতে পায়নি।

-- ঝারি নামের মেয়েটি সম্ভবত ওই মাদক বিক্রির কোন গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত আছে। 

-- জমানো আঠা বিক্রির ব্যাপারে গফুর মিয়ার সাথে অন্য দলের কথাবার্তা হয়ে গেছে সেই খবর পেয়েই গফুর মিয়ার ঘরে ওরা ওই আঠা চুরি করতে ঢোকে এবং আঠা না পেয়ে ওরা এখান-ওখান খোড়াখুড়ি করে। 

-- গলার আওয়াজে ওদের মধ্যে কাউকে গফুর মিয়া চিনতে পেরে যায়। তাই ওরা গফুর মিয়া কে খুন করে দেয়।

-- ঝারি কে বিয়ে করার লোভে গফুর মিয়ার জীবন ঝরাপাতার মতো এই পৃথিবী থেকে খসে পড়লো।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract