অজানা পথে ( পর্ব - ৬)
অজানা পথে ( পর্ব - ৬)
ময়না খুব সংকোচ নিয়ে বলল
"আমার বাবু কিছু লাগবে না।কাপড় কেচে নিকড়ে গা হাত মুছে নেব। একটু সাবানটা নেব বাবু পাবো!"
"হ্যাঁ অক্লেশে! নিজের বাড়ির মত যা খুশী নাও,দেখ বাথরুম সাবান বডি লোশন তেল সব আছে।"
ময়নার ভাদ্র মাসের গরমের দিনে ঘেমে শরীর অন্তর্বাস ভিজে সপসপে।বাথরুমে কাপড় ছেড়ে প্রথমেই পরিস্কার করে অনেকক্ষন থুপিয়ে থুপিয়ে কেচে শাড়ি শায়া ব্রাউজ ব্রা নিকড়ে বাথরুমের স্টিল আলনায় রাখল।নগ্ন শরীরে থাকতে সে অভ্যস্ত, বাথরুমে আয়নার সামনে নিজের নগ্ন শরীর দেখতে দেখতে কেমন যেন আতঙ্কিত হচ্ছিল এ কার ছবি! পরক্ষণেই নিজের পরিচিত ছবি।খুব ভয় হচ্ছিল এ বাড়িতে ভুত নেই তো!যাই হোক সে এতদিন মানুষ ভুত নয় শয়তান পিচাশের সাথে ঘর করেছে ,সন্ধ্যার সময় কী ভাবে সে নিজেকে ঐ নরক থেকে উদ্ধার করে পালিয়ে এসেছে ভাবতে আতঙ্কিত হচ্ছিল। কেউ টের পায় নি তো। আমি আবার ধরা পড়লে এ বাবুর যদি বিপদ হয়! সব খুলে বললে বাবু হয়ত তাড়িয়ে দেবে। হাউ হাউ করে খানিক কাঁদল। তারপর নিজের উপর একটু ভরসা বিশ্বাস রেখে ময়না নিজের ক্লান্ত বিধ্বস্ত
শরীর পরিস্কার করে সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে।পড়নের ভিজে কাচা শাড়িতে গা হাত মাথা যতটা সম্ভব মুছল।ভিজে শাড়িটা গায়ে জড়িয়ে কোন মত পরে,হাতে করে কাচা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা
সায়া ব্রাউজ ব্রা সব নিয়ে,প্রায় আধ ঘণ্টার উপর সময় নিয়ে বাথরুম থেকে, ভিজে কাপড় শরীরে জড়িয়ে লাজুক মুখে মাথা হেঁট করে বের হল।ময়নার খুব সমীহ হচ্ছিল বলল,
"বাবু আপনার অনেক রাত হল ঘুম নষ্ট হল।"
"সে ঠিক আছে ,আমার যা কাজ এসবে আমার কোন অসুবিধা হয় না"
"বাবু কী যেন পরতে বললেন আমাকে !"
"দেখো ঘরের খাটের সাইড করে সব রাখা আছে।"
খুব সমীহ করে ঘরে ঢুকে ময়না দেখল খাটের উপর বিনয়ের শিশু পুত্র ঘুমিয়ে আছে। ময়নার মনে হল এই বেশেই শিশুটিকে তুলে খুব আদর করি।বিনয় বাবু কী ভাববেন তাই সংযত হয়ে ভিজে কাপড় ঘরের একপাশে ছেড়ে বিনয়ের নতুন পাট ভাঙ্গা লুঙ্গি পড়ল,গায়ের পাঞ্জাবীটা বেশ বড় ঢিলেঢালা।কেমন যেন তার অস্বস্তি লাগছিল। পাতলা সচ্ছ পাঞ্জাবী, অন্তর্বাস হীন শুধুমাত্র এমন পাঞ্জাবীতে ময়নার যৌবনে উন্মত্ত শরীর ঠিকঠাক লজ্জা দুর হয় না। শরীরের কারুকাজ ফুটে উঠেছিল।
লজ্জা তার নেই অজানা পুরুষদের সামনে কতই তাকে সম্পূর্ণ নগ্ন ভাবে সারা রাত কাটাতে হয়েছে।কত সব বিকৃত মানসিকতার মানুষ, যারা কেউ কেউ তাকে এইভাবে নগ্ন শরীরে সারারাত তার সঙ্গ দিতে বাধ্য করে।সকালে বেলায় আলো ফুটলে তবে তার পোষাক পরার অনুমতি মেলে।ময়নার বয়স কম আর তার রূপ যৌবন পুরুষকে মাতাল করে মত।কিন্তু বিনয় বাবু যে অন্য ধরনের মানুষ তাই ময়নার এই লজ্জা সমীহ।
ঘর থেকে লাজুক মুখে বের হয়ে ভিজে কাপড় কোথায় মিলতে দেবে শুকনোর জন্য জিজ্ঞেস করতে বিনয় বলল,
"ঐ ঘরেই দেখো দড়ি টাঙ্গানো আছে মেলে দাও ফ্যানের হাওয়ায় রাতের মধ্যেই মনেহয় শুকনোর হয় যাবে।"
রাত তখন এগারটা।সংযমী বিনয়ের এইভাবে সেদিন হোটেল ঘরে রীতিমত ভাড়া দিয়ে পাঁচ শত টাকা খরচ করে বেশ্যা ময়নার ভরা যৌবনে সেদিন এমন এলোমেলো পোষাকে দেখেনি।সে পোষাক খুলতে নিষেধ করেছিল। আজ ময়নার শরীরের বিশেষত না মানা বক্ষদেশ উন্নত স্তনের পাঞ্জাবীর ফাঁক দিয়ে বেশ খানিকটা অনাবৃত দেখা যাচ্ছিল।
একটু শরীর যেন বিনয়ের উত্তেজিত হচ্ছিল । সচ্ছ পাঞ্জাবী ভেদ করে ময়নার শরীরের বাকী গঠন স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।
বিনয় সংযত হয়ে বলল
" শোবার ঘরে ভিজে শাড়ি পোষাক শুকনো করতে দিয়ে এসো। তোমার জন্য আজ আমার আর কিছু তেমন রাতের খাবার নেই।মুড়ি কলা দৈ মিষ্টি দেখো রেখেছি, খেয়ে নিয়ে কোন রকম পেটে একটু দিয়ে রাতে শোবে। "
ময়না শাড়ি ব্রাউজ শায়া ঘরের দড়িতে শুকনোর জন্য মেলে লাজুক মুখে ঘর থেকে বের হল।
বিনয় একটু দরদী মনে বলল,
" এত রাতে আবার মাথাটাও ভিজালে ! এই অবেলায় শুকোবে! ভিজে মাথায় শুলে শরীর খারাপ করবে যে!"
ময়না লাজুক হেসে বলল,
" বাবু নরক থেকে আজ স্বর্গে এলাম। সারা শরীর অপবিত্র ছিল।স্নান করে তবে একটু পবিত্র হলাম।মাথাটাই যদি বাদ থাকে তবে আর কী শুদ্ধ হব কী করে বাবু !"
"কিন্তু এতে তোমার শরীর খারাপ হতে পারে।"
আমার হবে না বাবু এ পাথরের শরীর সব সহ্য হবে, কত তীব্র শীতের রাতে ,সারারাত ধরে ঘরে কত সব বাবুদের ইচ্ছায় নগ্ন থাকতে হয়েছে।" বলে দুঃখে চোখের জল মুছছিল। ।
ক্রমশ


