অগ্নিকন্যা দৌলতউন্নেসা
অগ্নিকন্যা দৌলতউন্নেসা
অধুনা বাংলাদেশের বগুড়া জেলার সোনাতলা গ্রামে ১৯১৮ সালে দৌলতউন্নেসা খাতুন জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং মাতা ছিলেন নুরুন্নেসা খাতুন।
১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল ডা: হাফিজুর রহমান সাহেবের সাথে। বিয়ের পর তিনি চলে আসেন শশুরবাড়ি গাইবান্ধা। সেইসময় মুসলমান সম্প্রদায়ের মেয়েদের শিক্ষার আলোতে আনা নিষেধ ছিল। কিন্তু দৌলত উন্নিসার বাবা মা এবং স্বামী তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি শশুর বাড়িতে বসে পড়াশোনা করতে থাকেন।
১৯৩০ সালে লবন আইন অমান্য অভিযানে যোগদানের মাধ্যমে দৌলতউন্নেসা দেবী সরাসরি স্বাধীনতা আন্দোলনে পা রাখেন। এরপর ১৯৩২ সালে তিনি আইন অমান্য আন্দোলনে যোগ দেন। এই সময়ে মাত্র ১৪ বৎসর বয়সে তিনি গাইবান্ধা মহিলা সমিতি গঠন করেন। তাকে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার তিনি স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যান। গ্রামে গ্রামে সভা সমিতি করে মহিলাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর জ্বালামুখী বক্তৃতার টানে সাত আটটা গ্রামের মেয়েরা, বিশেষত মুসলমান মেয়েরা পর্দা সরিয়ে ছুটে আসতে থাকে তাঁর সভায় যোগ দিতে। ব্রিটিশ সরকার এতে প্রমাদ গোনে। ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে পুলিশ তাঁদের বসতবাড়ি ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেয়। একসময় তার পরিবারকে গাইবান্ধা থেকে বহিস্কার করে রাস্তায় এনে দাঁড় করায়।
তবু তিনি আন্দোলন সরে আসেন নি। আন্দোলন কে আরো জোরদার করতে গ্রামে গ্রামে সভার পর সভা করে মহিলাদের উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। ফুলছড়ি গ্রামের একটি সভা থেকে পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে । শাস্তি ছিল এমনই কঠোর যে রাজশাহী, প্রেসিডেন্সি, বহরমপুর জেলে পাল্টে পাল্টে তাকে রাখা হয়েছিল।
মুক্তি পাওয়ার পরেও তার মনের মধ্যে আগুন জ্বলতে থাকে। তিনি গোপনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলতে থাকেন। ১৯৪৩ সালে একটি অনাথ আশ্রম স্থাপন করেন এবং সেবামূলক কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন।
দৌলতউন্নেসা দেবী ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। তিনি বঙ্গশ্রী, দেশ, বিচিত্রা প্রভৃতি পত্রিকায় লিখতেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, শিশুসাহিত্যে তাঁর বিশেষ দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর প্রথম উপন্যাস ছিল “পরশপাথর”।
দৌলতউন্নেসা দেবী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের হয়ে মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালে গাইবান্ধা তে পরলোক গমন করেন।
