Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Rima Goswami

Abstract Tragedy Others


3  

Rima Goswami

Abstract Tragedy Others


আত্মকেন্দ্রিক

আত্মকেন্দ্রিক

4 mins 213 4 mins 213


আচ্ছা বলুন তো আত্মকেন্দ্রিক হওয়াটা কি অপরাধ ? না মানে জানতে চাইছি এই যে আমি নিজের কিছু ধারণার গন্ডির মধ্যে বাস করতে ভালোবাসি , সেটা কি দোষের ? আমি নিজের মতো থাকতে ভালোবাসি , নিজের মতো সাজতে ভালোবাসি সেটা দোষের ? কেন জানিনা বরাবরই যে কোন সমালোচনার মুখরোচক বিষয় আমি হয়ে দাঁড়িয়েছি । কেন ? আমি কেন সমাজের কিছু টিপিক্যাল মানুষের মাথা ব্যাথার কারণ ?দুঃখিত এবং ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে ভাবে আপনার দিকে এত গুলো প্রশ্ন ছুড়ে দেবার জন্য । আমি তো আপনার কাছে নিজের পরিচয়ই দিইনি এতক্ষণ আর মিছিমিছি নানান কথায় আপনাকে বিরক্ত করে যাচ্ছি অনবরত । আমি আত্মজা বন্দোপাধ্যায় , পেশায় এক লেখিকা । বর্তমানে ম্যারিটাল স্ট্যাটাস সো কলড বিধবা । সন্তান আছে একটি এমিলি , সে হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে । ওর বাবাই বেঁচে থাকতে এ ব্যবস্থা করে গেছে আর এমিলির মাথায় ঢুকিয়ে দিয়ে গেছে যে মায়ের কাছে থাকলে সেও পাগল হয়ে যাবে । তাই আজ বাবা না থাকলেও তার আদরের কন্যাটি আপাতত হোস্টেলেই আছে আর মনে হয় ভবিষ্যতেও থাকবে । আমি নাকি ওকে ফোন করিনা বা কোন সারপ্রাইজ ভিজিট করিনা কারণ আমি নাকি স্বার্থপর ! এছাড়াও নানা ধরনের অভিযোগ আছে মেয়ের আমাকে ঘিরে । স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হত না কারণ ওনার বিরক্তিকর লাগত আমার অতিরিক্ত হিসেবী স্বভাব , আমি নাকি ঘর কুনো। যখন আমাদের বিয়ে হয় তখন শাশুড়ি মা বেঁচে ছিলেন । উনি বলতেন আমি নাকি গায়েপড়া স্বভাবের । মোট কথা সারাজীবন সেইসব মানুষগুলোর অভিযোগের শিকার হয়েছি আমি যাদের ঘিরেই ছিলো আমার দৈনন্দিন জীবন । শাশুড়ি মাকে আমি ভালোবেসে মামনি বলে ডাকতাম প্রথম দিকে , পরে অবশ্য সম্পর্ক নামহীন হয়ে যায় । ব্যাপারটা একটু খুলেই বলি তাহলে । আমি শৈশব থেকেই মাতৃহীন তাই মায়ের কোলের গন্ধ পাওয়ার একটা সুপ্ত বাসনা ছিলো কোথাও । সেই বাসনা থেকে রাজনারায়ন বন্দোপাধ্যায় এর সঙ্গে যখন আমার বিয়ে হলো ওর মাকে আমার কেমন যেন নিজের মা বলে মনে হতে লাগলো । আমি ওনাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইলাম । তবে উনি আমার এই মামণি মামনি করা বা ওনার অতিরিক্ত খেয়াল রাখা এগুলোকে গায়েপড়া স্বভাব বলেই মনে করতেন । ওনার মধুমহ , উচ্চরক্তচাপ , থাইরয়েড ছিলো তাই খাওয়া দাওয়ার একটা রেস্ট্রিকসন দরকার ছিল যেটা উনি মেনে চলতেন না । আমি একটা ডায়েট চার্ট বানালাম ওনার জন্য , তারপর সেটা ওনার জন্য কার্যকর করলাম এছাড়াও মর্নিং ওয়ার্ক করানোর জন্য ওনাকে আমি চাপ দিতাম । প্রথম প্রথম এগুলো মনে অনিচ্ছা নিয়ে উনি মেনে নিলেও পরবর্তী সময়ে উনি আমার এই কেয়ারিং পদক্ষেপ গুলোকে কিপ্টেমি , বদমাইশি এসবের তকমা দিয়েছিলেন । কেন উনি সকাল থেকে হাঁটতে যাবেন বা বাগানে জল দেবেন ? কেন উনি করলার জুস খাবেন ? মাংস খাওয়া কেন বন্ধ হবে ওনার ? আমি ইচ্ছা করে ওনাকে অসুস্থ প্রমান করতে চাই সেটা ওনার বদ্ধমূল ধারণা হয়ে গেল । আমার স্বামী রাজ ও আশ্চর্যজনক ভাবে মায়ের কথা গুলো বিশ্বাস করত ! আবার ওনাকে কখনো বলতাম , ' মামনি আমার চুলটা একটু বেঁধে দাও না ? আমাকে একটু ভাত মেখে খাইয়ে দেবে ? 'উনি ভীষণ বিরক্ত হতেন , ভাবতেন মেয়েটা বড্ড বেশি গায়ে পড়া । আমার কথা উড়িয়ে অনিয়মের খাওয়া দাওয়া করে উনি একদিন হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন ও আমাকে ছেড়ে আমার মা আবার চলে যায় , যেমনটা আগে ছোট বেলায় গেছিলো । মেয়ে জন্মের পর থেকে রাজ অন্য ঘরে নিজের রাতের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিল । দরকার মত রাতের বেলা ডেকে নিয়ে যেত । আমার গা ঘিন ঘিন করত , কেমন যেন নিজেকে বউ না বেশ্যা মনে হত । রাজ আমার শরীরের দখল নিত তবে প্রতিপক্ষের চাহিদা বা ইচ্ছার কথা জানতে চাইত না আমি জোর করলে ও আমাকে গায়ে পড়া বলত । মেয়ের জন্মের পর ওকে আমি একটু খোলামেলা ভাবে বড় করতে চেয়েছিলাম । আমি চেয়েছি আমার সোনামণি এমি ছেলে মেয়ের পার্থক্য ভুলে এগিয়ে যাক জীবনে । ও ক্যারাটে শিখুক , দরকারে বিরোধ করতে শিখুক , ও স্পষ্টবাদী হোক। রাজ বললো আমি ওকে মুখরা তৈরি করতে চাইছি যেটা কিনা ওদের পরিবারে বেমানান । মেয়েটাও আমাকে প্রতি নিয়ত ভুল বুঝেছে আসলে ওকে বুঝিয়েছে রাজ । আমার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে এমিকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয়া হয় । এমি খেতে বসে বড্ড বেশি খাবার নষ্ট করত , নানান অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুড দাবি করত আর আমি প্রতিবাদ করায় ও আমাকে কিপটে আখ্যা দিল সহজেই । এমিকে সারাদিন টিভি , ফোন এসব না করে বলতাম বাড়ির এককোনে বানানো আমার বাগানের একটু পরিচর্চা করতে বা আমার বানানো ওই সাধের লাইব্রেরিতে একটু বই নিয়ে বসতে । এমির আমাকে অসামাজিক আর পাগল মনে হত । যাই হোক আমি অনেক হেনস্থা হয়েছি এই আত্মকেন্দ্রিক হবার কারণে । নানা আমাকে কেউ মারধর করেনি , হেনস্থা শুধুমাত্র শারীরিকভাবে না মানসিক ভাবেও করা যায় । তবুও আমি আমার মত , নিজেকে বদলাবার একটু ইচ্ছা আমার নেই । আমি সকালে উঠে যোগ ব্যায়াম করি , শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শুনি , মাস্টার মশাইয়ের কাছে মধুবনি পেন্টিং শিখি , পরিমাপ মত খাওয়াদাওয়া করি । আর অনেক বই পড়ি , অনেক ফুল ফোটাই আমার বাগানে । আমি মিশুকে , আমি সচেতন বলুক লোকে আমায় গায়েপড়া বা কিপটে এসব তাতে আমার কিছু যায় আসে না । আমি এক লেখিকা , আমার আঙ্গুল থেকে কলমের আঁচড়ে ঝড়ে পড়ে উপন্যাসের আঁকিবুকি । বেশ ভালো আছি । এবার বলুন তো দেখি আপনার আমাকে কি মনে হয় ? ভালো থাকবেন ।



Rate this content
Log in

More bengali story from Rima Goswami

Similar bengali story from Abstract