Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

আমি আমার মতো

আমি আমার মতো

2 mins 365 2 mins 365


জীবনের মাঝে দাঁড়িয়ে দেখি কখনো, কখনো, জীবন বয়ে চলেছে। কেমন যেন নদীর মত। কি উচ্ছল তার ধারা। সে চলেছে নিজের গতিতে। 

বাবা মা এর একমাত্র কন্যা সন্তান আমি, আর ছিল এক দাদা। তার সাথে ছিল যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা। আমার দাদা ছিল খুব সুন্দর। আমি কেমন হাঁআআআ করে চেয়ে থাকতুম। সে আমার মাথার ঝুঁটিটা খুলেই দিত দৌড়, দৌড় দৌড়। আজো সে দৌড়ে চলেছে। দাদার স্কুলে টিফিনে দুটো মিষ্টি দিত। ঘরে এসেই বলত, " ও লুপুন, লুপুন তোর জন্য।" আমি হ্যাংলা মত সেই মিষ্টি খেতাম। দুজনেই ছিলাম দুজনের সঙ্গী। ওর কাছেই হাতেখড়ি আমার। জীবনের পথ চলার শিক্ষা ও শুভেচ্ছা শিখিয়েছে। আগলে রেখেছে আমাকে দু হাত দিয়ে।  

 ভালোবাসার কোনো অভাব ছিল না। এক আকাশ ভরা ভালবাসা। মাসি ছিল, মামা ছিল, পিসি ছিল।এখনো আছে তারা। মামাবাড়ির মজা ছিল, সবজান্তা ঠাকুমা ছিল, আর ছিল দিদা, যে সব দোষ আড়াল করে, ভালোবাসায় ভরিয়ে দিত। সে এখনো শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আজো আমাকে বড় ভালোবাসে। আর ছিল দাদু, যে খালি অংক আর পি কে দে সরকার নিয়ে তাড়া করত আমাদের। তবে যেদিন দাদুর তাড়া করা শেষ হল যেদিন, বড্ড কেঁদেছিলাম। পাশের বাড়ি ছিল বাবার কাকাদের। তাদের স্নেহ ভালবাসার ছিটেফোঁটা পেয়েছি। নির্ঘাত আপনাদের হিংসে হচ্ছে!আপনারা ভাবছেন আশা, দুঃখ নেই। ছিল, সে ছিল। এত সুখের মাঝে দুঃখ ছিল। কিন্তু আমি পক্ষিরাজ ঘোড়ায় চড়ে সব বাধা, দুঃখের সাগর পার করেছি। সেইখানেতে ছিল ব্যাঙ্গমা ও ব্যাঙ্গমী, তারা আমার কানে দিয়েছিল দুঃখকে জয় করার মন্ত্র। 

বড় হতে হতে কখন যেন পুরোনো দিন হারিয়ে ফেললাম। ভালোবাসার জালে আটকে পড়ে, বিয়ে হল, সংসার হল । আর এল এক রাজপুত্তুর। আমার সাত রাজার ধন এক মাণিক। তাকে ঘিরে আমার নতুন খেলাঘরের খেলনা বাটি নিয়ে খেলতে লাগলাম। ভুলে গেলাম নিজের ভালোলাগা, মন্দলাগা। 

হঠাৎ একদিন এই ফেসবুকে একটা গল্প লিখলাম, তাতে অনেক লাইক। ' নেশা লাগিল রে, নেশা লাগিল রে।' শুরু হল লেখা। আবারো নতুন করে শিখলাম বাঁচতে, হাসতে, আর কাঁদতে।

আমার দাদা এখন মস্ত বড় বায়োকেমিস্ট্রির বিজ্ঞানী, বড় বড় জায়গায় সে লেখে। প্রথম কলম তার দেওয়া, তখন আমি নবম শ্রেণী, সেই উৎসাহ দিয়েছিল। বিয়ের পর সেদিন আবার যখন পা রাখলুম এই জগতে, তখন, আমার বর বাবাজীবন আমাকে ঠেলা দেন লেখার জন্য। কি দুষ্টু বলুনতো!! 

জীবন পথের পথিক আমি, সুখ দুঃখ থাকবেই। পাওয়া না পাওয়া, জেতা হারা সব নিয়ে এগিয়ে চলেছি, আর চলব। এর নাম জীবন, তাই না? 

 


Rate this content
Log in

More bengali story from Priyanka Chatterjee

Similar bengali story from Fantasy