Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Aritra Das

Action Classics Fantasy


3  

Aritra Das

Action Classics Fantasy


উপসংহার - অধ্যায় ১

উপসংহার - অধ্যায় ১

5 mins 936 5 mins 936

[এই অধ্যায়টি 'দ্যা লেজেণ্ড অফ্ রাম্' সমগ্রের সর্বশেষ পর্ব, 'দ্যা রিভিলিশন'-এর উপসংহার। যা দিয়ে গল্পটির সূচনা হয়েছিল, সেই আখ্যানের শেষ পর্ব এটি। আপনাদের মন্তব্য ও মতামত একান্ত প্রার্থনীয়


-অরিত্র দাস


...মণিবাটী’আশ্রমে বাল্মীকির কক্ষের ভিতরকার সকলের তখন প্রায় মূহ্যমান অবস্থা!


মহর্ষি বাল্মীকি স্বয়ং তখন বাকস্তব্ধ! মাটির ওপরে পাতা একটি আসনের ওপর সিধা হয়ে তখন নিষ্পলক দৃষ্টিতে স্থির হয়ে বসে তিনি; দৃষ্টি তীক্ষ্ণ ও একাগ্রভাবে সামনের দিকে নিবদ্ধ। একপাশে নিজের চিবুকে হাত বোলাতে বোলাতে একমনে কিছু একটা ভেবে চলেছেন ধর্মক্ষেম। অষ্টবসু মাথা নীচু করে স্থানুবৎ প্রস্তরমূর্তির ন্যায় চুপচাপ বসে। শুভামঙ্গল মাঝে একবার পর্যায়ক্রমে সবার দিকে তাকিয়ে কারোর দিক থেকে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে শেষে ছাদের দিকে দুচোখ তুলে নির্নিমেষ নয়নে কি ভেবে চলেছেন তিনিই জানেন। মহর্ষি মার্কণ্ডেয় একটি মেজের ওপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে সবার দিকে একবার করে তাকিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝবার চেষ্টা করছেন। গোটা ঘরের ভিতর তখন সূচীভেদ্য নীরবতা।


শুভামঙ্গল আড়চোখে একবার তাকিয়ে দেখলেন মহর্ষি মার্কণ্ডেয়র দিকে। উনি ঐ দাঁড়ানো অবস্থাতেই বাঁ হাত তুলে মাঝে মধ্যেই চিবুকের কাছে সদ্য হওয়া ক্ষতস্থানে আঙুল বোলাচ্ছেন। অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটিয়েছেন মহর্ষি মার্কণ্ডেয়- তারই ফসল চিবুকের কাছে ঐ তৈরি হওয়া ক্ষতচিহ্ন!


গতকালই সকালবেলা আচমন করতে গিয়ে ঘটনাটি ঘটে। আগেরদিনই, অর্থাৎ পরশুদিন তিনি বলেছিলেন যে গল্পের প্রায় শেষ মোড়ে চলে আসা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই তা সাঙ্গ হবে। যাইহোক, গতকাল বুক জলে অবগাহণ করতে করতে হঠাৎ কোথা থেকে যেন যাদুমন্ত্রে বের করলেন একটি ছোট ছুরি! তারপরই একেবারে রক্তারক্তি কাণ্ড! বাঁহাতে চিবুকের নীচের দিকটা ধরে ডানহাতে ছুরি চালিয়ে প্রথমে লম্বালম্বিভাবে চিরে ফেললেন চিবুকের নীচের দিকের কিছুটা অঞ্চল। এরপর, ছুরির ডগার আলতো চাপে যেন চিবুকের ভিতর দিক থেকে বেরিয়ে এল কৃষ্ণকালো ভ্রমরের মত কি একটা জিনিষ! মজার বিষয়, তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলেন মহর্ষি বাল্মীকি, তিনি মহর্ষি মার্কণ্ডেয়র হাতে ছুরি দেখেই অন্যরকম কোন ঈঙ্গিত বুঝে দ্রুত জল কেটে এগিয়ে আসছিলেন তাঁর দিকে; কিন্তু তার আগেই মহর্ষি কাণ্ডটা বাঁধিয়ে বসেন! বাকিদের আস্তে কিছুটা দেরি হয়। তারপর সবাই অকুস্থলে এসে উপস্থিত হলে তিনি বাঁহাত প্রসারিত করেন সামনের দিকে; দেখা যায় যে জিনিষটি একটি নিশ্চল কালো পোকার মত কিছু। সবার দিকে পর্যায়ক্রমে একবার ভালো করে দেখে নিয়ে এরপর তিনি ছুরি আর পোকা- দুটিকেই ফেলে দেন স্রোতস্বিণীর জলে। তারপর তিনি বলে ওঠেন-


-“সত্যকাহিনীই যখন বলব, তখন তার মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির নজরদারি থাকা উচিৎ নয়।”


কথাটির মানে কি তা অবশ্য কেউই বুঝে উঠতে পারেন নি। তবে ভীড়ের মধ্যে ঘটলেও শুভামঙ্গলের দৃষ্টি এড়ায় নি, কথাটা শুনে মহর্ষি বাল্মীকি কঠিন চোখে একবার ওপরের দিকে তাকিয়েই পলকে চোখ নামিয়ে নেন। ‘তৃতীয় ব্যক্তি’বলতে মহর্ষি এখানে কাকে বোঝাতে চাইলেন? আর ঐ অদ্ভুৎ কালো পোকার মত বস্তুটিই বা কি? সেটা আবার মহর্ষি মার্কণ্ডেয়র চিবুকের মধ্যে ঢুকলই বা কেমন করে? অতিলৌকিকদের কর্মকাণ্ড সত্যিই বোঝা ভার!


আড়চোখে মহর্ষি মার্কণ্ডেয়র দিকে তাকিয়ে এই কথাগুলিই চিন্তা করছিলেন শুভামঙ্গল। বিষয়ের গভীরতা বোঝবার পক্ষে অবশ্য বয়সটা তাঁর প্রতিকূল। বেশিক্ষণ কোন বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা তাঁর স্বভাবচটুলতার পরিপন্থী, আর বাস্তবেও দেখা গেল তাই! আশ্রমের পাশেই যে ছাতিম গাছ তাতে অনেকক্ষণ ধরে একটি বাবুই পাখি মুখে একটুকরো খড়কুটো নিয়ে ঘুরঘুর করছিল; বোধ হয় বাসা বাঁধবার তালেই। সেদিকে এবার দৃষ্টি ঘুরে গেল শুভামঙ্গলের।


-“তাহলে উপাখ্যান শুনে আপনাদের কি মনে হল? এবারে আমি আপনাদের অভিমত শুনতে আগ্রহী। আপনারা আপনাদের মতামত প্রকাশ করুন।”

মহর্ষি মার্কণ্ডেয়র কথা শুনে সম্বিৎ ফিরে পেলেন মহর্ষি বাল্মীকি; সজাগ হয়ে গেলেন সেখানে উপস্থিত সকলেই।


-“অসাধারণ উপাখ্যান, মহর্ষি মার্কণ্ডেয়!”- অবশেষে বলে উঠলেন মহর্ষি বাল্মীকি- “মানুষের কল্পনা ভিন্ন এমন ঘটনা বাস্তবে ঘটবে কি না সে বিষয়ে আমি যথেষ্ট সন্দিহান! সত্যি বলতে কি আমি বাক্য রহিত হয়ে গিয়েছি এই উপাখ্যান শুনে। আচ্ছা মহর্ষি, এমনটাই, মানে যেমনটা আপনি বললেন ঠিক এমনটাই কি বাস্তবে ঘটেছিল?”


-“’কালাতীত’ও বিষ্ণুদেবের নামে শপথ করে বলছি মহর্ষি বাল্মীকি, এ উপাখ্যান রন্ধ্রে রন্ধ্রে সত্য। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল সেদিন এই পৃথিবীর বুকে, দেবতাদের সৃষ্ট জাতিগুলির মধ্যে!”


-“আনুমাণিক কত বছর আগে ঘটেছিল এই ঘটনাটি?”


-“একথা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয় মহর্ষি বাল্মীকি। কালের পরিমাপ দুটি পৃথক সভ্যতার ক্ষেত্রে দুইরকম। সেই যুগে কালের পরিমাপ একরকম ছিল, সময়ের মানদণ্ডও অন্যরকম ছিল। দুটি পৃথক যুগের পৃথক মানদণ্ডে তুল্যমূল্য বিচার করবার মত পাণ্ডিত্য আমার নেই। তবে একটা আনুমানিক ভিত্তিতে বলি- প্রথমতঃ গন্ধর্ব সভ্যতার শেষের দিকে বিশ্ব উষ্ণায়ণ সাংঘাতিকভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে; পৃথিবী শীতল জলবায়ু থেকে উষ্ণ জলবায়ুর যুগে প্রবেশ করতে থাকে। দ্বিতীয়তঃ হনুমন্তের জন্ম মানবপ্রগতির পথে এক বিরাট লম্ফন হিসেবে পরিগণিত হয়। মানবদের ওপর করা দেবতাদের বিভিন্ন সময়ের গবেষণা পরিপূর্ণতা পায় হনুমন্তের মধ্য দিয়ে! অশিক্ষিত, অর্ধসভ্য একটি বাঁদর প্রজাতি থেকে পরবর্তী বুদ্ধিমান প্রজাতির মানবে উন্নীতকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সোপান ছিল হনুমন্ত। অন্যান্য যে মানুষেরা আসে হনুমন্তের পরবর্ত্তী পর্যায়ে, তাঁদের দ্রুত বিবর্তনই সৃষ্টি করে আজকের মানবগোষ্ঠী। পুরোনরা ধূলো হয়ে পড়ে থাকে পৃথিবীর বুকে। এই নতুন মানবগোষ্ঠী বিবর্তনের পথ ধরে এগিয়ে যায় উন্নতির দিকে। তবে দুঃখের বিষয়, আমাদের এই পথচলা সম্পূর্ণ একলা! নিঃসঙ্গতাই মানবজাতির ভবিতব্য, বিধান।”


-“আর গন্ধর্বরা? তাদের কি হল? ‘অস্ত্রালয়’ধ্বংসের কারণেই কি তাদের মৃত্যু হল? নাকি ‘অলকা’ধ্বংসের কারণে তারা মরল? অসুররা ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই করাতেই কি দেবতারা ‘অলকা’ধ্বংস করে দিল? আর -”


-“ধীরে শুভামঙ্গল, ধীরে! তুমি যেরকম ব্যগ্র হচ্ছ তাতে মনে হচ্ছে যেন কোন কালজয়ী উপাখ্যান নয়, কোন একটি পথনাটিকার চিত্রনাট্য লিখতে বসেছ তুমি! তোমার কি মনে হয় সবকিছুরই এককথায় উত্তর দেওয়া সম্ভব? আস্তে আস্তে, একটা একটা করে প্রশ্ন কর।”


-“মহর্ষি, আমার কিছু প্রশ্ন ছিল।”


-“ব্যক্ত কর, অষ্টবসু।”


-“রাবণের মৃত্যুর পর গবেষক রবরবা যে পুস্তক ও মানচিত্রগুলি বীরভদ্রকে দিয়েছিলেন, তা কি তিনি হস্তান্তর করেছিলেন মহাদেব শুলিনকে?”


-“আমি উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছিলাম এই তথ্যটি মূল কাহিনীর কথনের সময়। মহাদেব শুলিন বিদায় নেওয়ার সময় বীরভদ্র তাঁকে সমস্ত কিছু হস্তান্তর করেন। অবশ্যই এই সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সমেত যা তিনি জেনেছিলেন রবরবার কাছ থেকে।"


-“কি ছিল এই পুস্তকে? মানে, বাদবাকি দ্রব্যগুলি সম্পর্কে আপনি একটি প্রচ্ছন্ন ধারণা দিয়েছেন আগেই, কিন্তু মূল পুস্তকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনি কোন পরিচ্ছন্ন ঈঙ্গিত দেননি। আপনি শুধু উল্লেখ করেছেন এই পুস্তক গবেষক রবরবার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ; কিন্তু সঠিক কি বিবরণ সম্বলিত পুস্তক এটি তা কিন্তু আপনি… মানে… এড়িয়ে গিয়েছেন মহর্ষি। এই পুস্তকের মত জিনিষটি যাতে কোন অক্ষর বা লিপি ছিল না এবং যার কোন পাতা ছিল না, সেটি আসলে কি, মহর্ষি?”...





[এই অধ্যায়টি 'দ্যা লেজেণ্ড অফ্ রাম্' সমগ্রের সর্বশেষ পর্ব, 'দ্যা রিভিলিশন'-এর উপসংহার। যা দিয়ে গল্পটির সূচনা হয়েছিল, সেই আখ্যানের শেষ পর্ব এটি। আপনাদের মন্তব্য ও মতামত একান্ত প্রার্থনীয়]


-অরিত্র দাস


Rate this content
Log in

More bengali story from Aritra Das

Similar bengali story from Action