STORYMIRROR

Krishna Banerjee

Horror

4  

Krishna Banerjee

Horror

তাহাদের কথা

তাহাদের কথা

4 mins
359

                        তাহাদের কথা

                  কলমে - কৃষ্ণ ব‍্যানার্জী

                          ( পর্ব -৪ )

                       এতো কিছু পাবার পরেও আনেক প্রশ্নই আমার মাথার মধ‍্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল কারণ আজপর্যন্ত এমন একটি লোক কেউ আমি দেখিনি সে আমাদের পরম আত্মীয় হোক বা অপর কেউ তবে এই ভদ্রলোক কে যে এতটা উপজাতক হয়ে ঐ ভদ্রলোক আমাকে অগ্রিম এতগুলো টাকা দিলেন ঐ ভদ্রলোক আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথাকি সত্যিই জানেন? হাজার প্রশ্ন মাথার মধ‍্যে ঘুরপাক খেলেও উত্তর একটাও মিললো না। অবশেষে মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিলাম ভদ্রলোক আমাকে ধার হিসাবে টাকাটা দিয়েছেন আমি কাজ করে ধিরে ধিরে শোধ দিয়ে দিলেই চুকে যাবে আমি এটাকে একটা দৈবিক আশির্বাদ ভেবেই মনকে শান্তনা দিয়ে একটু ঘুমাবার চেষ্টা করতে থাকলাম, তবে ঘুম আস্তে অনেকটা সময় লেগে গেল যতই মনকে শান্ত করবার চেষ্টা করেচলেছিলাম তবুও কোথায় যেন একটা কিন্তু আমাকে বিরক্ত করে চলেছিল একটা কথাই বার বার আমায় খোঁচা মারছিল যে মানুষটার সাথে আমার কোন জন্মের কোন সম্পর্কই নেই অথচ সেই মানুষটা আমার সম্বন্ধে এত কিছু জানতে পারলো কি করে সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম তা আমি নিজেও জানি না।

                                   আজ সকালে আমার ঘুমটা যেন একটু তাড়াতাড়িই ভাঙলো। পেটের মধ‍্যে কথাগুলো গজগজ করছিল মাকে না বলা পর্যন্ত কিছুতেই শান্তি হচ্ছিলোনা আমার। আমার ঘরথেকে বেড়িয়েই মায়ের মুখমুখি মা পুজার কাজে ব‍্যাস্ত ছিলেন আমি তাকে বাঁধাদিয়ে বললাম ওমা তোমার আর বাবার সাথে আমার খুব আর্জেন্ট কথা আছে এখুনি আলোচনা করতে হবে। মা বলে বাবাতো মাঠে গিয়েছেন আমি পুজো দিতে দিতে বাবা চলে আসবে তুই ততক্ষণে ফ্রেস হয়ে নে তার পর চা খেতে খেতে না হয় কথা বলবো। আমার মনটা একটু খারাপ হলেও আবার ভাবলাম বাবা ছাড়া আলোচনা করে খুব একটা লাভ নেই কারণ মাযে সবটাই আবেক দিয়ে ভাববে, পরামর্শ যদি দিতে পারে সেটা হলো বাবা। আমি মাকে বললাম ঠিক আছে আমি ব্রাস করতে করতে মাঠের দিকে যাচ্ছি বাবার সাথে ফিরে কথা বলবো। এই বলে ব্রাসে পেস্ট নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম। 

                              মাঠের কাছে পৌঁছাতেই মনটা হু হু করে উঠলো। বাবা চাষের জমিতে পোকা মারা বিষ ছড়াচ্ছেন, শীতের সময় নানান ধরনের সবজি মাঠে। একপাশে সারাবদ্ধ ভাবে বেগুন গাছ, বেগুন গাছে পোকাটা বেশি ধরে তাই বাবা মাঝেমধ‍্যেই স্প্রে করে যান খেতে। মনটা হুহু করবার কারণ দিন তিনেক পর এই চেনা মাটির গন্ধ ছেড়ে চলে যেতে হবে এক অচেনা স্থানে। হয়তো অনেকেই যেতে হয় কর্মের জন‍্য জন্মস্থান ত‍্যিগ করে দেশে বিদেশে যদিও আমায় বিদেশে যেতে হবেনা তবুয়ো জন্মস্থান থেকে অনেকটাই দূরে চাইলেই ছুটে আসার কোন পথ নেই। আপনডন বন্ধু - বান্ধব সব কিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে। হয়তো মানুষের জীবনে এমনটাই হয়। 

                                  বাবাযে কখন আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা আমি বুঝতেই পারিনি, বাবা আওয়াজ দিলেন কিরে বাবু হঠাৎ সকাল সকাল খেতে এলিযে। একটা ঘোরের মধ‍্যে ছিলাম বাবার আওয়াজ কানেযেতেই সেখানথে বেড়িয়ে এসে বললাম না মানে এমনি আপনার আর মায়ের সাথে কিছু কথা রয়েছে। বাবা বললেন বেশতো বল না। আমি বললাম না ওটা আপনাদের দুজনার সামনেই বলবো। বাবা আর আমি বহু বছর পারে খেতের এক ধারে গিয়ে বসলাম, বাবা জিঙ্গাসা করলেন কিরে মন খারাপ করছে বুঝি? কয়েক মুহুর্ত চুপ থেকে বললাম তা একটু করছেতো বটে তবে একটা প্রশ্ন খুব ভাবাচ্ছে আমায়……..আচ্ছা বাবা বলুনতো বিনা স্বার্থে কেউ কি কিছু দেয়? বাবা বলেন তা দেয়না বটে কিন্তু হঠাৎ তুই এমন প্রশ্ন করলি কেন? বাবা আমার একটা কনফিউশন আছে……. বাবা আবার বলে কি কনফিউশন আমায় বল? আমি বললাম বলবো বাবা আগে বাড়িতে চলো এখানে আমার তোমাদের দুই জনার মতামত নিতে হবে। এর পর আমি আর বাবা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলাম।

   পথে চলতে চলতে টুকটাক কথা বার্তা বাবার সাথে হলো বটে তবে ইচ্ছে করেই আলোচনার বিষয় বস্তুতে আলোকপাত করলাম না। পথে দেখা হয়ে গেলআমাদের গ্রামের প্রাইমারি বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে, কি গোপাল কবে জয়েন্ট করছো? বুঝতে পারলাম এর আগে ওনার সাথে মায়ের দেখা হয়ে গিয়েছে আমি নম্রতার সাথে জানালাম এইতো স‍্যার আগামী ১ তারিখ। বাবা সন্মানার্থে বললেন এক কাপ চা হবে নাকি। সামনেই মুর্শেদ চাচার চায়ের দোকান, প্রথমে একটু না না করলেও তারপর সন্মতি জানালেন। বাবা  আর মাস্টার মহায় চা খেলেন আমি পাশের চাপ কলে মুখটা ধুয়ে ফেললাম চা পান শেষ করে মাস্টার মহাশয় হাতের ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে বাবাকে বললেন যা অনেকটা দেরি হয়ে গেল পৌনে নটা বাজে আমাকে আবার তৌরি হয়ে বিদ‍্যালয়ে যেতে হবে, আমার উদ্দেশ্যে বললেন খুব ভালো হয়েছেরে বাবা মন দিয়ে কাজটা করিস এক চান্সে সরকারি চাকরি পাওয়া কপালের বেপার পারলে এর মধ‍্যে একবার বিদ‍্যালয়ে এসে সকলের সাথে দেখা করে যাস, এখন আমি চলি কেমন, আমি ওনার পদরেনু মাথায় নিলাম বাবা হাত জোর করে প্রনাম জানালেন তারপর আমরা আবার বাড়ির পথে রওনা হলাম।

                                        চলবে……………..

                                     


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror