STORYMIRROR

Nikhil Mitra Thakur

Abstract Classics Others

3  

Nikhil Mitra Thakur

Abstract Classics Others

পুকুরে স্নান

পুকুরে স্নান

1 min
136

ছোটবেলায় আমাদের গ্রামে কারো ঘরে কোন ওয়াশরুম ছিল না। প্রাত:কাজ থেকে স্নান করতে ছেলে-মেয়ে, বুড়ো-বুড়ি সকলকে পুকুরে যেতে হতো। ছেলেদের ও মেয়েদের আলাদা আলাদা পুকুর চিহ্নিত করা ছিল।মেয়েরা ছেলেদের পুকুরে যেতে পারলেও ছেলেরা মেয়েদের পুকুরে কোনভাবেই যেতে পারত না। আইনই কোন বাধ্যতা ছিল না। তবে সামাজিক অনুশাসন সকলেই মেনে চলতো।

বর্ষাকালে পুকুর ঘাটে স্নান করতে যাওয়া মোটেই সুখকর ছিল না। পুকুর ঘাটে যাওয়ার রাস্তায় রীতিমতো কাদা হয়ে থাকতো। স্নান করে ফিরে আসার সময় সেই কাদা মেখে বাড়ি আসতাম। বাড়িতে এসে পা ধুয়ে তবে স্নান করার হ্যাপা মিটতো।

আমাদের কুল দেবতা হলেন চৈতন্য মহাপ্রভু। আমাদের পরিবারে চৈতন্য মহাপ্রভুর বড় মন্দির আছে। বৃষ্টি হলে মন্দিরের ছাদ থেকে পাইপ বেয়ে জোরে ঝর্ণার মতো জল পরতো। তাই যেদিন মুষল ধারায় বৃষ্টি হতো সেদিন বাড়ি থেকে তেল মেখে আমরা মন্দিরের ছাদের জল পাইপের নিচে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরতাম। ব্যাস স্নান শেষ।

এতো গেল বর্ষাকালের অবস্থা। শীত কালে পুকুর ঘাটে এতো হাওয়া বইতো যে পুকুরে গিয়ে একবার ডুব দেওয়া আর বাঘের মুখ থেকে ফিরে আসা সমান ছিল। তাই শীতকালে ছুটে গিয়ে পুকুরে ডুব দিয়ে পাড়ে উঠে রোদে দাঁড়িয়ে গা মোছা ছিল সকলের দস্তুর। কিন্তু,ঘাট তো একটাই আর এতোগুলো ছেলে। তার উপর বয়স্করা ছেড়ে দিতে হতো। তাই বাটি করে সরষের তেল নিয়ে যেতাম সকলেই,তারপর ঘাটে ফাঁকা তাড়াতাড়ি জামাকাপড় খুলে তেল মেখে দে ঝাঁপ। কেননা আমরা জানতাম একবার ঝাঁপ দিলেই শীত হাওয়া।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract