Buy Books worth Rs 500/- & Get 1 Book Free! Click Here!
Buy Books worth Rs 500/- & Get 1 Book Free! Click Here!

নন্দা মুখার্জী

Abstract


0  

নন্দা মুখার্জী

Abstract


পথে হোল দেরি

পথে হোল দেরি

2 mins 495 2 mins 495

পথে হোল দেরি


     নন্দা মুখার্জী রায় চৌধুরী


      ক'দিন ধরেই অতসীর মনটা তোলপাড় করছে।বারবার মনেহচ্ছে এ বুঝি সেই রবীন।যাকে ছাড়া কয়েক যুগ আগেও বেঁচে থাকাটা অর্থহীন মনেহত।অথচ সেই মানুষটাকেই একদিন সে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলো পরিস্থিতির চাপে পড়ে।সেদিন অবশ্য এই ছাড়া কোন উপায়ও ছিলোনা।অর্থ সমস্যা পরিবারে কোনদিনও ছিলোনা।ছিলো বাহুবলের অভাব।বাবা ছিলেন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মচারী।তখনও বাবা চাকরী  করছেন।অতসী এবং তার দাদাও ভালো মাইনের চাকুরীরত।দাদা বিয়ের পরেই বাইরে সেই যে চলে গেলো আর কোন যোগাযোগই রাখলোনা।পরিস্থিতি আজ এমন দাঁড়িয়েছে দাদা বেঁচে আছে কিনা তাপসী তাও জানে না।


    দাদা চলে যাওয়ার দু'বছরের মধ্যে বাবার কিডনীর সমস্যা ধরা পরে।লাষ্ট স্টেজ।তড়িঘড়ি মা একটা কিডনী দান করেন।রবীন তখন বাইরে অফিসের কাজে।অতসী তাকে এই ব্যপারে কিছুই জানায়না।কারন তাকে সেই সময় এই কথাগুলো বললে সে অফিসের কাজ ফেলে আসতে পারবেনা বরং টেনশান করবে।দাদাকে সেই সময় ফোনে বাবার শারীরিক অবস্থার কথা জানালে সে জানায় টাকার দরকার হলে সে পাঠাতে পারবে কিন্তু অফিসের কাজ ফেলে দেশে ফিরতে পারবেনা।অতসী তারপর আর কখনোই দাদার সাথে যোগাযোগ করেনি।


      রবীন দেশে ফিরে অতসীর সাথে দেখা করে সব জানতে পেরে অতসীর উপর বড্ড অভিমান করে।বাবা,মায়ের জন্য সর্বক্ষনের এক আয়ার ব্যবস্থা করে অফিস যাওয়া শুরু করে অতসী।কিন্তু অফিসে যেয়ে কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারেনা।সবসময় মা বাবার জন্য একটা দুশ্চিন্তা তার থেকেই যায়।কাজে ভুলভাল করতে শুরু করে।এরই মাঝে হঠাৎ করে একদিন বাবার শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় আয়ার ফোন পেয়ে পড়িমরি অফিস থেকে বাড়িতে চলে এসে বাবাকে নিয়ে নার্সিংহোম যেতে হয়।সেদিনই মায়ের ব্লাডপ্রেসার মারত্মকভাবে বেড়ে যায়।রবীন এসে তার পাশে দাঁড়ায়।বিধস্ত অতসী চাকরী ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।রবীনের নিষেধ সে কানে নেয়না।বিনা অপরাধে সে রবীনের সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকে।রবীনকে সে সত্যিই খুব ভালাবাসতো।কিন্তু তার এই পরিস্থিতিতে সে তার বাবা-মাকে ছেড়ে কোনদিনও রবীনকে বিয়ে করে তাদের ছেড়ে যেতে পারবেনা বুঝতে পেরেই সে রবীনের সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে।আর রবীন সবসময়ই তার এই ব্যবহারের কারন বুঝতে পেরে সবকিছু হেসেই উড়িয়ে দেয়।শেষে একদিন সরাসরি অতসী রবীনকে বলে যে তার পক্ষে রবীনকে বিয়ে করা কিছুতেই সম্ভব নয়।রবীন তাকে জানায় প্রয়োজনে সে সারাজীবন তার জন্য অপেক্ষা করবে কিন্তু দেখা সাক্ষাৎটা বন্ধ যেন না করে অতসী। কিন্তু অতসী অনড়।সে কোন সম্পর্কই রাখতে চায়না তার সাথে।অতসী মনেমনে ভাবে তার জন্য কেন সারাটা জীবন রবীন নষ্ট করবে।সে নাছোড়বান্দা হয়ে রবীনকে ফিরিয়ে দেয়।


     অতসী চাকরী ছেড়ে দিয়ে বাবা-মায়ের সেবায় নিজেকে সর্বক্ষণ ব্যস্ত রাখে।মনটা মাঝে মাঝে হু হু করে উঠলেও নিজের বুকে নিজেই পাথর চাপা দেয়।কেটে গেছে বহু বছর।প্রথমে মা পরে বাবাও অতসীকে ছেড়ে চলে যান।তখন তার বয়স আটচল্লিশ বৎসর।ঘরে বসে বসে অতসীর আর সময় কাটেনা।সে একটা এন.জি.ও.গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়।


    এখন এই চুয়ান্ন বছর বয়সে এসে তার বারবার মনেহচ্ছে ফেলে আসা অতীত আবার তার সামনে আসতে চলেছে।যে এন.জি.ও.সংস্থার সাথে সে যুক্ত পনেরই আগষ্টের দিন প্রতিবার বেশ কিছু গন্যমান্য ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হন মূলত তাদের ডোনেশনের ভিত্তিতেই সংস্থাটি চলে।এবার একজন নূতন অতিথি যুক্ত হয়েছেন রবীন মুখার্জী।একই নামের তো অনেক মানুষই পৃথিবীতে থাকে।কিন্তু অতসীর যে ওই নামটার প্রতিই দুর্বলতা।তার মন বলছে এ


 তার সেই রবীন।এতদিন পরে দেখা হলে রবীনের সুখি দাম্পত্য জীবনে কোন ঝড় উঠবে নাতো।পরক্ষণেই ভাবছে ছি ছি সে এ কি ভাবছে একজন পরপুরুষ সম্পর্কে।


    পনেরই আগষ্টের সকালে অতসী যেন নিজের অজান্তেই একটু বেশি সাজলো।সাদা-কালোতে একটা জামদানী শাড়ি তার সাথে ম্যাচিং ব্লাউজ।হালকা করে একটা হাত খোঁপা করে একটা সাদা গোলাপ।আহামরি সুন্দরী কোনদিনও অতসী নয়।কিন্তু একটা আলগা শ্রী আছে।সাজলে তাকে খুব সুন্দরই লাগে।


     অতসীর অনুমান ভুল নয়।এ রবীন মুখার্জী তার সেই ভালোবাসার মানুষটিই।আজও যাকে সে ভুলতে পারেনি। দু'জন দু'জনকে দেখলো।কিন্তু কথা হলনা।কিছুক্ষন স্থির দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকলো।দু' জনেই হয়তো তখন ফিরে গেছিলো কয়েক যুগ আগে।অনুষ্টান শেষে যে যার বাড়ির পথে।অব্যক্ত কথাগুলি বলার জন্য দু'জনেই মুখিয়ে ছিলো কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতি তাদের সে সুযোগ দিলোনা।


     রাত তখন আটটা হবে।অতসী এককাপ চা করে নিয়ে বারান্দায় বসে।ফেলে আসা দিনগুলি আবার তোলপাড় করছে তার মনের আঙ্গিনায়।হঠাৎ একটা গাড়ির শব্দ।তাকিয়ে দেখে রবীন ঢুকছে গেট দিয়ে।দ্রুত ঘরে ঢুকে চাবি এনে বারান্দার গ্রীল খুলে বলে,


---এসো।কেমন আছো তুমি?


---আমি ভালো আছি।তুমি?


---আমিও ভালো আছি।বেশ কেটে যাচ্ছে এন.জি.ও. সংস্থার সাথে দিনগুলি।এভাবেই বাকি জীবনটাও কেটে যাবে।তোমার বাড়ির সবাই কেমন আছে?


---আমার বাড়িতে আমি একা।আর তো কেউ নেই।বাবা মা দু' জনেই গত হয়েছেন।


---বিয়ে করনি ?


---আনুষ্ঠানিক বিয়ে আমার হয়নি।যাকে বিয়ে করবো ভেবেছিলাম সে আমায় ফিরিয়ে দিয়েছে।তার কর্তব্যের কাছে আমার ভালাবাসা হেরে গেছে।পরিনামে আমার তার প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালাবাসা দুই ই বেড়েছে।আজও তার জন্যই অপেক্ষা করে আছি যদি এবার সে আমার ডাকে সারা দেয়।


     হঠাৎ করেই অতসী উঠে দাঁড়িয়ে বলে,


---একটু বোস।আমি দু'কাপ কফি করে নিয়ে আসি।অনেক কথা বলার আছে।শোনারও আছে অনেককিছু।সারারাত বসে আজ দু'জনে দু'জনার কথা শুনবো।


   রবীন উঠে যেয়ে অতসীর হাতদুটো ধরে বলে, "এখন তোমার একটাই কর্তব্য আমার সাথে থাকা।"


   অতসী মুচকি হেসে বলে,"হু কফিটা করে নিয়ে এক্ষুণি আসছি।"


#নন্দা


Rate this content
Log in

More bengali story from নন্দা মুখার্জী

Similar bengali story from Abstract