Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Sudeshna Mondal

Children Drama


3  

Sudeshna Mondal

Children Drama


ফুটবল চোর

ফুটবল চোর

6 mins 2.4K 6 mins 2.4K

আজকে আবহাওয়াটা বেশ সুন্দর৷ অনেকদিন পর আজকে সবার সাথে দেখা হবে৷ এখন স্কুল ছুটি আছে৷ পড়ার চাপ নেই৷ সবাই মিলে জমিয়ে ফুটবল খেলা যাবে৷এইসব ভাবতে ভাবতে অভি মাঠে আসছিল৷

-ওই রাজু কী করছিস ভাই৷ আমি ফুটবল এনেছি৷ খেলবি নাকি৷

-আমরা এই দুজন খেললে মজা হবে না৷ আর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি রহিদ, অমল, বিল্টু এসে যাবে তারপর খেলব৷

-হুম ঠিক আছে৷ ততক্ষণ আমরা ওই বেঞ্চিটাতে বসি৷ বিমল, অমল, বিল্টু মাঠে এসে দেখে অভি আর রাজু ওদের আগেই পৌঁছে গেছে৷ এরপর সবাই মিলে ফুটবল নিয়ে খেলতে শুরু করল৷ বেশ কিছুক্ষণ খেলার পর হঠাৎ পিটারের আগমন ঘটে৷

-অনেক খেলেছিস তোরা৷ এবার আমরা খেলব৷ তোরা মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের খেলা দেখবি আর হাততালি দিবি৷ স্যান্ডি ওদের বলটা নিয়ে নে তো৷

-কেন আমাদের বল কেন৷ খেলতে হলে নিজেদের বল নিয়ে খেল৷

-ওই অমল বেশি বকবি না৷ পিটার যখন বলেছে তখন তোদের বল নিয়েই খেলব৷ বুঝেছিস...

-হ্যাঁ, এক..ক..দম ঠি..ই..ক ব..লে..ছিস ভাই৷

-ওই তুই আগে ঠিক করে কথা বলতে শেখ তারপর ফুটবল খেলব৷

-রাজু ওসব কথা এখন ছাড়৷ দেখ পিটার অনেকক্ষণ ধরে তোর বাজে বকবক শুনছি৷ তুই চুপচাপ আমাদের বল ফেরত দিয়ে দে আমরা চলে যাচ্ছি৷

-আমরা আগে এসেছি অভি৷ এটা তুই ভাল করে জানিস৷ সব জেনেও তুই চলে যাওয়ার কথা বলছিস কেন৷

-ওই লিলিপুট৷ তোরা ফুটবল খেলতে পারিস আগে সেটা বলত৷ পিটার যখন একবার বলেছে আমরা খেলব তো আমরাই খেলব৷ চল ভাগ এখান থেকে৷ -আমরা লিলিপুট হলে তোরা হলি গিনিপিগ৷

-দেখলি পিটার ওরা আমাদের গিনিপিগ বলে অপমান করল৷ তুই ওদেরকে বল ফেরত দিবি না৷ -উফ..ফ..ফ৷

তোরা থাম এবার৷ তখধ থেকে নার্সারীর বাচ্চার মতো ঝগড়া করছিস৷ এখন কী করে এই অপমানের বদলা নেওয়া যায় সেটা ভাব৷ -বদলা নেওয়ার কথা আসছে কোথা থেকে৷ স্যান্ডি রাজুকে লিলিপুট বলেছে রাজু ওকে গিনিপিগ বলেছে৷ ব্যস বিষয়টা এখানেই শেষ৷ আমাদের বল দে আমরা বাড়ি যাই৷

-বাড়ি তো আমরাও যাব৷ এখানে থেকে পিকনিক করার প্ল্যান নেই৷ কিন্তু তার আগে রাজুকে ক্ষমা চাইতে হবে নাহলে আমাদের সাথে ফুটবল ম্যাচ খেলতে হবে৷ ম্যাচে যে দল হারবে তারা অন্য দলের কাছে ক্ষমা চাইবে আর পটলাদার দোকানের গরম গরম কচুরি আর জিলিপি খাওয়াবে৷ যে দল জিতবে প্রাইজ হিসাবে ফুটবলটা তাদের হবে৷ পিটারের কথা শুনে রাজুর খুব রাগ হলেও তখনকার মতো রাগটাকে নিজের মধ্যে চেপে রেখে অভিকে বলল-আমাদের সন্মানের ব্যাপার ভাই৷ ওদের সাথে ম্যাচ না খেললে সবাইকে বলে বেড়াবে যে আমরা ওদেরকে ভয় পাই৷

-খেলব না কখন বললাম৷ কিন্তু ওদের শর্তগুলো কেমন যেন৷ কচুরি খাওয়ার জন্য ম্যাচ খেলতে চায়৷ নিজেদের মধ্যে কথা শেষ হলে ওরা জানায় যে ওরা ম্যাচ খেলতে রাজি৷

-তাহলে সামনের রবিবার বিকেলবেলায় এই মাঠে খেলা হবে জানিয়ে পিটার ওর বন্ধুদের নিয়ে চলে যায়৷ একসপ্তাহ ধরে দুদলের সবাই খুব প্রস্তুতি নিতে থাকে৷ পিটার ওর মামাকে ডেকে এনেছে ওদের খেলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য৷এদিকে রাজুরাও কম যায় না৷ অভির এক পিসতুতো দাদা খুব ভাল ফুটবল খেলে৷ ওরা অভির দাদাকে ডেকে এনেছে৷ দু দলই জেতার জন্য একদম কোমর বেধে প্রস্তুতি নিচ্ছে৷ পাড়ার নগেন খুড়ো তো বিশ মাস্টারকে জিজ্ঞেস করেই ফেলল- কী ব্যাপার বলো তো মাস্টার৷ পাড়ার ছেলেপিলেগুলো সব গেল কই৷ আগের মতো বিকেল হলেই মাঠে এসে হইচই নেই৷ আগে তো মাঠে এলে দুদণ্ড বসতে দিত না৷ চিৎকার চেঁচামেচি করে অস্থির করে তুলত৷ এখন সব একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছে৷

-ভালই তো হয়েছে খুড়োমশাই৷ আপনার মতো আরও যাদের অসুবিধা হত তারা এখন শান্তিতে থাকতে পারছে, বসতে পারছে৷

-না গো না, শান্তি আর কোথায়৷ এখন তো মনে হয় আগেই শান্তি ছিল৷ ছেলেপিলে থাকলে আমরাও দুটো বকাঝকা করে কথা তো বলতে পারতুম৷ এখন তো এসে শুধু বসেই থাকি৷

-এটা আপনি একদম খাঁটি কথা বলেছেন৷ আমি তো শুনছিলাম কী সব ফুটবল ম্যাচ হবে তাই সবাই এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে৷

-তাই নাকি৷ বাহ বেশ ভাল৷ তা কবে হবে আর কাদের মধ্যে হবে শুনি৷

-পটলা বলছিল আমাদের স্কুলের ছাত্র মানে অভি, রাজু, বিমল, অমল আর বল্টু এরা একটা দল৷ আর ওই বসন্ত বসাকের ছেলে পিটার আর ওর বন্ধুরা একটা দল৷ সামনে রবিবারই তো নাকি খেলা৷ দেখতে দেখতে রবিবার এসে গেছে৷ আজ বিকেলেই খেলা সকাল থেকেই পাড়ার সবাই খুব ব্যস্ত৷ আজ নাকি গোটা পাড়াই খেলা দেখতে ওই বড়ো মাঠে যাবে৷ আমি আর অভি বসে কথা বলছিলাম এমন সময় পিটারের বন্ধু রোহান এসে বলল- তোরা কী কেউ পিটারকে দেখেছিস সকাল থেকে ওকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷

-সে কী রে৷ কই আমরা তো ওকে দেখিনি৷ ভাল করে সব জায়গায় খুঁজেছিস?

-হ্যাঁ রে খুঁজেছিল কিন্তু কোথাও পাচ্ছি না৷ রামুকাকা বলল ও নাকি সকালবেলা ফুটবল নিয়ে বেরিয়েছিল কিন্তু তারপর ওকে আর দেখেনি৷ হঠাৎ স্যান্ডি দৌড়াতে দৌড়াতে এসে বলে পিটাক পাওয়া গেছে৷ ওদের সাথে আমরাও গেলুম পিটারের বাড়ি কী হয়েছিল জানার জন্য৷ দেখলাম পিটারের পায়ে অনেক জায়গায় কেটে গেছে৷ হাতেও লেগেছে৷ আমরা জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছিল, ও কোথায় ছিল৷ ও আমাদের কিছু বলল না৷ এমন সময় পিটারের মামা বলে উঠল- নবাবপুত্তুর এতক্ষণ ধরে বিড়ালের সাথে ফুটবল খেলছিলেন৷ কথাটার মানে আমরা কেউই বুঝলাম না৷ কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই রেহান জিজ্ঞেস করল- রামুকাকা যে বলল তুই ফুটবল নিয়ে বেরিয়েছিলিস কিন্তু বলটা তো কোথাও দেখছি না৷ এই কথাটা তো আমাদের মাথায় একবারও আসেনি৷ এরকম একটা প্রশ্ন পিটার মনে হয় এখন আশা করেনি৷ তাই কিছুটা রেগেই উওর দিল- চুরি হয়ে গেছে৷ আর চোরের সাথে মারামারি করতে গিয়ে আমার এই অবস্থা হয়েছে৷ আর কিছু প্রশ্ন বাকী আছে? বন্ধুকে নিয়ে চিন্তা নেই অন্যের বল নিয়ে তোর দেখছি অনেক চিন্তা৷

-আহা সেটা কখন বললাম৷ আচ্ছা বাবা, আর কিছু জিজ্ঞেস করব না৷ তুই বিশ্রাম কর আমি বাড়ি যাই৷ আমরাও চলে এলাম৷ কিন্তু একটা কথা কিছুতেই মাথায় ঢুকছিল না যে ফুটবল কখনো চুরি হয়? চোর একটা ফুটবল নেওয়ার জন্য মারামারিও করতে পারে৷ বুঝলি অভি ব্যাপারটা অতোটা সোজা নয় যতটা মনে হচ্ছে৷ আসল ব্যাপারটা জানতে হবে৷ কালকে স্কুলে গিয়ে সবাই মিলে আলোচনা করব৷ পরেরদিন স্কুলে গিয়ে সবার সাথে কথা বলে কিছুই সিদ্ধান্তে আসা গেল না৷ তবে একটা কথা কিছুতেই ভুলতে পারছিলাম না৷ রাজু জিজ্ঞেস করল কী কথা৷

-ওই যে তখন পিটারের মামা বলল ও নাকি বিড়ালের সাথে ফুটবল খেলছিল সেটা৷

-আরে ছাড় তো, ওর মামা হয়তো এমনিই বলেছে৷

স্কুল ছুটির পর আমরা সবাই একসাথে বাড়ি ফিরি৷ তখনও জানতাম না আমরা যেটা জানতে চাইছি সেটা এত তাড়াতাড়ি জানতে পারব৷ প্রতিদিনের মতো রাস্তা দিয়ে হেঁঁটে যাচ্ছিলাম৷ রাজুর মনটা একটু খারাপ৷ ফুটবলটা ওর খুব প্রিয় ছিল কারণ ওটা ওর দিদুন ওকে জন্মদিনে উপহার দিয়েছিল৷ হঠাৎ দূর থেকে দেখতে পেলাম ল্যাম্প পোস্টের নীচে আমাদের পাড়ার নগেন খুড়োমশাইের পোষা বেড়ালটা গোল মতো কিছু একটা নিয়ে খেলছে৷ কাছে এসে বুঝতে পারলাম ওটা একটা বল৷ রাজু বলল- ওটা শুধু বল নয় ওটা আমার ফুটবল৷ তোরা সবাই ভাল করে দেখা অমল বলল- তুই কী করে বুঝলি ওটা তোর বল৷

-দাঁড়া আমি দেখাচ্ছি৷ তারপর একটা লাঠি দিয়ে বিড়ালটাকে তাড়িয়ে দিয়ে বলটা তুলে দেখাল এক জায়গায় ছোট করে ওর নাম লেখা আছে৷ এমন সময় নগেন খুড়োমশাই এসে জিজ্ঞেস করলেন আমরা কেন ওনার বিড়ালকে বিরক্ত করেছি৷ আমরা জিজ্ঞেস করলাম যে এই ফুটবলটা ওনার কিনা৷ উনি বললেন- না, এটা তো ওই রবিবারদিন মাঠ থেকে পেয়েছি৷ আমাদের কাছে সব ব্যাপারটা এতক্ষণে পরিস্কার হল৷ আমরা সন্ধ্যাবেলা সবাই মিলে পিটারের বাড়ি গেলাম৷ ওখানে দেখলাম পিটারের বন্ধুরাও আছে৷ আমাদের দেখে পিটার জিজ্ঞেস করল- কী ব্যাপার তোরা এখন৷

-তুই কেমন আছিস দেখতে এলাম৷

পিটারের মা সবার জন্য খাবার নিয়ে এলেন৷ পিটারের মামা ছিলেন৷ সবাই মিলে বেশ জমিয়ে খাওয়াদাওয়া করলাম৷ পিটারের মামা জিজ্ঞেস করল ফুটবল ম্যাচ তো আর খেলা হল না একদিন না হয় পিকনিক করা হোক৷ সবাই একসাথে মামার কথায় সায় দেয়৷

-ম্যাও..ও..ও ম্যাও...

-হঠাৎ করে বিড়ালের আওয়াজে সবাই চমকে গেছে একমাত্র পিটারের কোনো হেলদোল নেই৷ পিটারের মামা জিজ্ঞেস করল এটা আবার কোথা থেকে এল৷ আমরা বললাম- ধরে এনেছি মামা৷ এই তো সেই ফুটবল চোর৷ তাই না পিটার৷ সত্যি ঘটনা আমরা জেনে গেছি বুঝতে পেরে লজ্জায় পিটার ওখান থেকে চলে যায়৷ আর রোহান বলে ওঠে-বিড়াল আজকাল মাছ ছেড়ে দিয়ে ফুটবল চুরি করছে৷ আজব ব্যাপার তাই না বলেই হেসে ওঠে৷ ওর কথা শুনে ঘরের মধ্যে সবাই একসাথে হেসে উঠল৷

(সমাপ্ত)


Rate this content
Log in

More bengali story from Sudeshna Mondal

Similar bengali story from Children