Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sudeshna Mondal

Children Stories Drama


3  

Sudeshna Mondal

Children Stories Drama


শুভ রথযাত্রা

শুভ রথযাত্রা

7 mins 148 7 mins 148

(১)

-হ‍্যালো...কাকীমা, কৌশিক আছে ? আমি সূর্যাভ বলছিলাম।

-এই লকডাউনে বাড়িতে থাকবে না তো কোথায় যাবে শুনি?" একটু অপেক্ষা কর। ওকে ফোনটা দিচ্ছি।

কৌশিকের মায়ের কথা শুনে সূর্যাভ বলে,

"-বাবা রে...। মা তো নয়, সাক্ষাৎ লেডি হিটলার যেন।"

এরমধ্যে কৌশিক ফোন ধরে বলে-হ‍্যাঁ বল ভাই, ফোন করেছিস কেন?

-বলছিলাম, অনেকদিন ঘুড়ি ওড়াই না। আজকে বিকেলে ঘুড়ি ওড়াবি? আজকে কোনো অনলাইন ক্লাসও নেই তাই ভাবলাম তোকে বলি।

-আইডিয়াটা দারুন। একবার মাকে জিজ্ঞেস করে নিয়ে তোকে জানাচ্ছি।

-ওরে বাবা রে। তোর মা তো শুনেই না বলে দেবে মনে হয়।

-কেন রে? হঠাৎ তোর এরকম মনে হল কেন? তুই কি মাকে আগেই বলেছিস নাকি?

-না না, আমি কেন বলতে যাব। আমার মনে হল তোর মা খুব রাগী তাই বললাম।

-না রে। আমার মা মোটেও অত রাগী নয় যতটা তুই ভাবছিস। অন্তত লেডি হিটলার তো নয়।

কৌশিকের কথা শুনে সূর্যাভ বুঝতে পারে যে কৌশিক ওর বলা কথাটা শুনেছে। তাই ও সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠে-সরি রে। আমি ওই ভাবে বলতে চাই নি। কিন্তু উনি যেভাবে কথা বললেন তাতে আমি একটু ঘাবড়ে গেছিলাম।

-তুই তো সবে আমার বন্ধু হয়েছিস তাই তুই ঠিক চিনে উঠতে পারিসনি। আর তুই তো শুধু বাবার কাছে পড়তেই আসিস। এমনি কোনো সময় তো আসিস নি কখনো তাই তোর ওরকম মনে হচ্ছে। আমার বাকি বন্ধুরা, সবাই আমার মাকে খুব ভালো করে চেনে। আমার মা অতটা রাগী নয় যতটা তুই ভাবছিস।

হঠাৎ পিছন থেকে কৌশিকের মায়ের গলা শোনা গেল,

"-বাবু,তোর হলো কথা বলা? এবার ফোনটা রেখে পড়তে বস।"

তাই কৌশিক মাকে বলল,

"-হ‍্যাঁ মা রাখছি।"

ওদিকে সূর্যাভও সবটা শুনতে পেয়ে বলল,

"-ঠিক আছে, আমি এখন ফোনটা।রাখছি। তুই ঘুড়ি ওড়ালে আমাকে ফোন করে জানাস।"

কৌশিককে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই ও ফোনটা কেটে দিল।

কৌশিকও ফোন রেখে দিয়ে পড়তে বসল।

কৌশিক আর সূর্যাভর প্রথম পরিচয় হয় ওদের ইংরেজি টিউশনে। তবে ওদের বন্ধুত্ব হয় যবে থেকে সূর্য ওর(কৌশিক) বাবার কাছে অঙ্ক শিখতে আসছে। কৌশিকের বাবা, অশোক রায়। উনি অবশ্য সবার কাছে "অঙ্কস‍্যার" বলেই পরিচিত। ছোট বড়ো সবাই ওনাকে ওই নামেই ডাকে। অনেক জটিল অঙ্কও উনি এত সহজ করে বোঝান যে যারা অঙ্ককে ভয় পায় তারাও এই বিষয়টাকে ভালোবাসে ফেলে।

***

(২)

-কী ব‍্যাপার সূর্য, কার সাথে কথা বলছিলিস?

-আমার একটা নতুন বন্ধুর কথা তোমাকে বলে ছিলাম, মনে আছে মণি?

-হ‍্যাঁ,কি যেন নাম,কৌশিক। তাই তো?

-হ‍্যাঁ। আমি ওর সাথেই কথা বলছিলাম। আজকে তো আমাদের অনলাইন ক্লাস নেই তাই ভাবছিলাম ঘুড়ি ওড়াব। সেই জন্য ওকে ফোন করে ছিলাম।

-আচ্ছা, তা বেশ তো। বিকেলবেলায় ছাদে গিয়ে ঘুড়ি ওড়াস। এখন তো আর বাইরে বেরোনো যাবে না।

-আচ্ছা মণি, মা-রা কী খুব রাগী হয়? আমার মাও কী রাগী ছিল?

এতদিন বাদে এরকম একটা প্রশ্ন শুনে নীলিমা অবাক হয়ে গেল। ওর বৌদি, ঋদ্ধিমা মারা যাওয়ার পর সূর্যাভকে উনি একাই মানুষ করেছেন। সেই জন্য উনি আজ পযর্ন্ত বিয়েও করেননি। ওর দাদা, নীলাভ তো সারাক্ষণ নিজেকে ব‍্যবসার কাজে ব‍্যস্ত রাখেন। তাহলে আজ কী এমন হলো যে সূর্য এরকম প্রশ্ন করল।

কিছুক্ষণ পর নীলিমা বললেন,

-মা-রা সবসময় ভালোই হয়। বাচ্চারা যখন ভুল করে তখন মা-রা বকে, আবার ভালোও বাসে। মা-রা সবসময় বাচ্চাদের ভালো চায়। তুই হঠাৎ এরকম প্রশ্ন করছিস?

-এমনি করলাম। আচ্ছা মণি, আজকে বাপি কখন আসবে?

তোর বাপি ঠিক চলে আসবে। আমি তোর জন্য সুজির হালুয়া করেছি। তোর তো খুব প্রিয় খাবার। তুই একটু অপেক্ষা কর, আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি।

***

(৩)

-জানো তো মা, সূর্যাভ বলে তুমি নাকি খুব রাগী। ও তো জানেই না তুমি কতো ভালো। কতো ভালো ভালো খাবার বানিয়ে আমাকে দাও। ও মা, আজকে জলখাবারে কী বানিয়েছ?

-তোর পছন্দের সাদা আলুর চচ্চড়ি আর ফুলকো ফুলকো লুচি। তোর বাবাকে বলেছি বাজার থেকে জিলিপি আনতে। বাবা এলে একসাথে খেতে দেব ততক্ষণ তুই অঙ্কগুলো করে ফেল।

-ঠিক আছে মা।

(কিছুক্ষণ পরে)

"-বাবু, বইপত্র তুলে রাখ। আমি খেতে দেব। তোর বাবা এসে গেছে।"

এই বলে, ওর মা প্লেটে করে গরম গরম ফুলকো লুচি আর বাটিতে সাদা আলুর চচ্চড়ি নিয়ে আসেন। কৌশিক তো সময় নষ্ট না করে চটপট খেতে আরম্ভ করে দিল।

ওর মা হঠাৎ ওর বাবাকে জিজ্ঞেস করল,

-তোমাকে বাজার থেকে যেটা আনতে বলেছিলাম ওটা এনেছ?

-হ‍্যাঁ গো এনেছি।

কৌশিক জানত না ওর জন্য আরও কী কী চমক অপেক্ষা করছে।

ওর হঠাৎ মনে পড়ল বিকেলে ঘুড়ি ওড়ানোর ব‍্যাপারটা। তাই মাকে একবার জিজ্ঞেস করল।

ওর মা সেটা শুনে বলল-আজ ঘুড়ি ওড়াবি কীরে, তুই ভুলে গেছিস আজকে কী?

-আজকে কোনো বিশেষ দিন কিনা সেটা ওর মনে পড়ছে না। অনেক ভাবনা চিন্তা করেও মনে না পড়ায় ও মাকে জিজ্ঞেস করল আজকে কী?

-আজকে রথ। তুই ভুলে গেছিস?

-তাই তো ওর তো একদমই মনে নেই। প্রতি বছর এই দিনটায় কত মজা হয়। সকাল থেকে ওরা বন্ধুরা মিলে রথ সাজায়। মা কতরকমের ফল কেটে প্রসাদ দেয়। বিকেল বেলায় ওরা সবাই রথটা নিয়ে হইহই করতে করতে সারা পাড়া ঘোরে। সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসে। মা কতরকমের পাপড় ভেজে দেয়। ওরা সব বন্ধুরা মিলে গল্প করতে করতে সেইসব খায়। কিন্তু এবছর এসব কিছুই হবে না। এটা ভাবতেই ওর মন খারাপ হয়ে গেল।

সেটা দেখে ওর বাবা বলল-এই বছর রথ নিয়ে বাইরে বেরোনোর দরকার নেই। বাড়িতেই রথ সাজিয়ে নিয়ে পূজো দেবে। আমি চার-পাঁচ রকমের ফল এনেছি। রঙিন কাগজও নিয়ে এসেছি।

-আমি গাছ থেকে টগর, জবা, গোলাপ ফুল তুলে রেখেছি সেগুলো দিয়ে তুই সাজাস। তোর বাবা বাজার থেকে পাপড়ও কিনে এনেছে। সন্ধ্যায় গরম গরম ভেজে দেব তুই খাবি।

-ঠিক আছে, মা। আমি তাহলে তাড়াতাড়ি খেয়ে নিয়ে রথটা সাজাতে শুরু করি।

রথ সাজাতে সাজাতে কৌশিক ভাবল সূর্যাভ মনে হয় ভুলে গেছে আজকে রথ নাহলে সকালে যখন ফোন করল তখন একবার বলত। ওকে একটা ফোন করি।

***

(৪)

-হ‍্যালো, কে বলছ?

-আমি কৌশিক, সূর্যাভর বন্ধু।

-কৌশিক, মানে তুমি অশোকবাবুর ছেলে তো ?

-হ‍্যাঁ।

-আচ্ছা ধরো,আমি ডেকে দিচ্ছি।

কিছুক্ষণ পর সূর্যাভর গলা শোনা গেল,

-হ‍্যাঁ বল।

-আরে তুই কী ভুলে গেছিস আজ তো রথ। আজকে আমি ঘুড়ি ওড়াতে পারব না রে। এটাই বলার জন্য ফোন করেছিলাম।

-আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তো একদম ভুলেই গেছিলাম।

ফোনটা রেখে দিয়ে সূর্য মনে মনে ভাবতে লাগল- "প্রতিবছর রথে ও মণির সাথে মেলায় যায়। ওখানে কত রকমের পাখি দেখে, বিভিন্ন ধরনের গাছ দেখে, বিশেষ করে ফুলের গাছ ওর খুব ভালো লাগে। ওর মণি প্রতিবার একটা না একটা ফুলের গাছ কেনে রথের মেলা থেকে। তারপর সেই গাছটাকে খুব যত্ন নিয়ে বড়ো করে। কিন্তু এইবার নাকি মেলা হবে না।"

ওকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে নীলিমা প্রশ্ন

করল- কী হয়েছে সূর্য? হঠাৎ মন খারাপ হয়ে গেল কেন?

-মণি,আজ তো রথ। অথচ এইবার মেলাও হবে না।

-তাতে কী হয়েছে। মন খারাপ করিস না। চল একটা কাজ করি। আমরা আজ পযর্ন্ত তো অনেক ফুল গাছ কিনেছি। সেগুলো থেকে ফুল তুলে তোর বন্ধুর বাড়ি দিয়ে আসি। ওর রথ সাজাতে সুবিধা হবে।

-কিন্তু তুমি কী করে জানলে ও রথ সাজাচ্ছে।

-তোর বন্ধু এত জোরে জোরে ফোনে বলছিল যে আমিও শুনতে পেয়েছি। এইবার তাড়াতাড়ি চল,ফুল তুলতে হবে তো। আমি একা পারব নাকি।

-মণি, অনেক ফুল হয়েছে। এগুলো দিয়ে রথ সাজালে দারুন লাগবে।

-হ‍্যাঁ। কিন্তু তুই যাওয়ার আগে মুখে মাস্ক, হাতে গ্লাভস পড়ে নিস। আমি ফুলগুলো একটা প্লাস্টিকে ভরে দিচ্ছি।

আজ অনেক দিন পরে ও (সূর্যাভ) বাড়ির বাইরে বেরোল। সেই যবে থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে তবে থেকে তো বাইরেই বেরোয়নি। স‍্যারও অনলাইন ক্লাস নিচ্ছে তাই এখানে আসার দরকারও হয়নি। ফুলগুলো নিয়ে কৌশিকের বাড়ি গিয়ে দেখে কৌশিক নানারকম রঙিন কাগজ দিয়ে রথ সাজাচ্ছে। ওকে দেখে কৌশিক ভীষণ খুশি হয়েছে। ও ফুলের সাথে নানারকম বাহারি পাতাও নিয়ে এসেছে।

"-ওগুলো একটা জায়গায় রেখে ভালো করে হাতটা ধুয়ে নিস হ‍্যান্ডওয়াশ দিয়ে।"

সূর্য এতক্ষণ খেয়াল করেনি কখন কৌশিকের মা এসে ওর পিছনে দাঁড়িয়েছে। ও চটপট ফুলগুলো একটা জায়গায় রেখে হাত-পা ধুয়ে নিয়ে ভেতরে গেল তারপর দুই বন্ধুতে মিলে বাকী কাজটা শেষ করল। ফলমূল কেটে ঠাকুরের সামনে প্লেটে করে সাজিয়ে দিয়ে ধূপ-ধুনো দেওয়া হয়েছে। সূর্য-র এসব দেখে ভীষণ ভালো লাগছে।

সত্যিই আজ সূর্য খুব খুশি। এর আগে কখনো এরকমভাবে রথ পালন করেনি। আজকের দিনটা ও কোনোদিন ভুলবে না। ও মনে মনে ভাবতে থাকে-সত্যি কৌশিকের মা খুব ভালো। পুরো ওর মণির মতো। কী সুন্দর ওর খেয়াল রাখল। ও ঠিক করে খেয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করল। কত রকমের পাপড় ভাজা খাওয়াল। অনেক দেরি হয়ে গেছে। এবার ওকে বাড়ি যেতে হবে।

***

(৫)

-জানো মণি, ওখানে কতো মজা হল। রথ সাজালাম, পূজো দিলাম। কতো রকমের পাপড় ভাজা খেলাম। ওর মা খুব ভালো ঠিক তোমার মতো।

-তাহলে আজ তুই ভীষণ খুশি হয়েছিস?

-হ‍্যাঁ। আমি কোনোদিন ভুলব না আজকের এই সুন্দর দিনটাকে।

-দাঁড়া, তোর জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে। আয় আমার সাথে।

ও গিয়ে দেখল খাবার টেবিলে ওর সব প্রিয় খাবারগুলো রাখা। পোলাও, আলুর দম, চিলি পনীর, আমসত্ত্বের চাটনি, রসগোল্লা সব রাখা রয়েছে। আর তার থেকেও বেশি অবাক হল ওর বাপিকে দেখে। ওর বাপি খাবার টেবিলে ওর জন্য অপেক্ষা করছে। ও কতদিন বাপির জন্য অপেক্ষা করে করে একাই খেয়ে নিয়েছে। আজ ওরা সবাই একসাথে খাবে এটা ভেবেই ওর খুব আনন্দ হচ্ছে।

ওকে হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওর বাবা নীলাদ্রি বলল,

"-কী রে দাঁড়িয়ে থাকবি নাকি খেতেও বসবি। আমার কিন্তু খুব খিদে পেয়েছে তুই না এলে আমি সব খাবার খেয়ে নেব।"

ও সেটা শুনে একছুটে ওর বাপির কাছে গেল।

আর বলল-আজকে বাপি আমাকে খাইয়ে দেবে। আমি আজকে তোমার হাতে খেতে চাই।

-আচ্ছা ঠিক আছে। আমিই খাইয়ে দেব।

ওর মণি এক এক করে খাবার বেড়ে দিল। আর মনে মনে বলল-ভগবান, ছেলেটা আজ ভীষণ খুশি হয়েছে। ও যেন সব সময় এরকম হাসিখুশি থাকে। তুমি দেখো ভগবান।

আজ সূর্যও ভীষণ খুশি। অনেক দিন বাদে ও ওর বাপিকে কাছে পেয়েছে। ও তাই রাতে ঘুমাবার আগে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করল-"ভগবান, আমি যেন রোজ রোজ এরকম বাপিকে আমার কাছে পাই। আর প্রতিবছর যেন এমন সুন্দর করেই রথযাত্রা পালন করতে পারি আমার বন্ধু কৌশিকের সাথে।"

বাপিকে আর একবার "শুভ রথযাত্রা" বলে বাপিকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল।

***

আজ কৌশিকও খুব খুশি। এইবছর সম্পূর্ণ অন্য রকম রথযাত্রা পালন করে। তাই ও ভগবানকে ধন্যবাদ জানাল আর বলল-"প্রতিবছর যেন এই রকমভাবেই রথযাত্রা পালন করতে পারে। প্রতিবছরই ওর বন্ধু সূর্যাভকে যেন ওর সাথে পায়।"

তিনজনই নিজেদের মতো করে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করল। এখন তো সময়ই বলবে কার প্রার্থনা পূর্ণ হলো।

(সমাপ্ত)



Rate this content
Log in