Buy Books worth Rs 500/- & Get 1 Book Free! Click Here!
Buy Books worth Rs 500/- & Get 1 Book Free! Click Here!

Subhashish Chakraborty

Abstract Horror


3  

Subhashish Chakraborty

Abstract Horror


মরণের পারে -২

মরণের পারে -২

20 mins 290 20 mins 290

১.

সবার আগে খোকা টের পেয়েছিলো ব্যাপারটা। 

ওহ, খোকা বলে ডাকলে আবার ওর মা খুব রেগে যায়। 

তোজো -- তোজো ওর নাম। ওর মায়ের দেওয়া। ভালো নাম ঋষভ। 

"বাবা.....বাবা....", তোজো এতো জোরে চেঁচিয়েছে ঋষি বেশ চমকেই উঠেছিল সেদিন। দাড়ি কামাতে কামাতে ফিরে তাকালো পিছন দিকে। তোজো দৌড়াতে দৌড়াতে আসছে ওর ঘরের থেকে। খুব উত্তেজিত -- "বাবা -- এই দেখো।"

ঋষি ঘুরে তাকালো ছেলের দিকে। একটা হাত কাটা সোয়েটার আর একটা জিনসের হাফ প্যান্ট। হাতে একটা মেরিনার্স কম্পাস -- "এই দেখো।"

ঋষি এটা গেলো বছর মাদ্রিদ থেকে কিনে এনেছিল। নীল রঙের প্লেটের ওপর, গিজগিজ করা অনেকগুলো দাগ। একটা চুম্বক শলাকা তারই ওপর গাঁথা। 

যেকোনো জায়গায়, যেকোনো ভাবেই ঘোরাও -- ওই চুম্বক শলাকাটি সবসময় উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর এসেই থামবে। 

এ তো যেকোনো কম্পাসই করে।

না - ঠিক তা নয়। এই কম্পাসটার ওই নীল রঙের ওপর চকলেট কালারের মাগনেটটা কেন জানি না, ঋষির খুব ভালো লেগেছিলো। বেশ ছিমছাম -- কিন্তু খুব চিত্তাকর্ষক। বেশ ভারী। একটা ছোট চেন ও আছে, ট্যাঁক-ঘড়ির মতন পান্টেও ঝোলাতে পারো।  

"দেখতে পাচ্ছ বাবা?", তোজো আবার বললো।

হ্যাঁ …..ঋষি দেখতে পেয়েছিলো। আরে....ভারী অদ্ভুত তো !

কম্পাসটা হাতে নিলো ঋষি। 

ম্যাগনেটটা উত্তর-দক্ষিণ অক্ষ রেখা বরাবর না থেমে, বনবন করে ঘরে চলেছে, পথভ্রান্ত মাতালের মতন। বেশ কিছুক্ষণ বোকার মতন যন্ত্রটার দিকে চেয়ে ছেলের হাতে ফেরত দিলো ওটা। 

"এটা কি খারাপ হয়ে গেলো বাবা?"

"জানি না", ঋষি আবার ওর দাড়ি কামানোতে মন দিলো।  

কিছুদিন পরে তোজোর মাও দেখেছিলো একটা অদ্ভুত জিনিস। 

যে জন্য এই ভিলাটা বিশাখার পছন্দ হয়েছিল -- সেটা এই ছোটো পুস্করিণীটি। দোতলার বারান্দাটা থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পুকুরটা। মনে হয় জলে গিয়ে বিলি কাটি। সবুজ রঙের শ্যাওলা ভরা জল দেখে খুব একটা কেউ না নামলেও বিশাখা রোজ দুপুরে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায় লাঞ্চের পর। শীতের ম্যারা রোদে চুল শুকাতে বেশ সময় নেয়, এই সময় সুনীল-শীর্ষেন্দু-সমরেশের সাথে, এই সময়টা একান্তই ওর একার। পড়তে পড়তে মাঝে পুকুরটার দিকে মিটিমিটি চেয়ে দেখে। 

অদ্ভুত একটা টান ওই জলটায়, তাই না? বিশাখা ভেবে পায় না -- কি এমন আছে ওই পুকুরটায়। অনেক, অনেক মাছ আছে -- ও জানে। মাঝে মাঝে ওপরে উঠে আসে ওদের দল। সেদিন বৃষ্টির পর কিছু সময়ের জন্য একটা বেশ বড়সড় জলঢোড়া ও দেখতে পেয়েছিলো। সন্ধ্যা হলেই ক্রমাগত ঝিঁঝির ক্যাকোফোনি, ওপারের বাড়িগুলোতে লন্ঠনের আলো জ্বলে ওঠা, সন্ধ্যা-আরতি ধ্বনি। 

বিশাখা নিজেও বুঝতে পারে না -- বই পড়তে পড়তে কখন চোখটা লেগে আসে। 

না, না --সেদিন একটা জিনিস দেখেছে ও। ভারী অদ্ভুত ব্যাপার। 

পুকুরের জলের ওপর দুপুরের সূর্যের আলোর আঁচ পড়েছে। বিশাখা সুনীলের 'সেই সময়' নিয়ে এসে সবে বসেছে ব্যালকনিতে। 

ঠিক তখনই চোখটা পড়লো একটা জিনিসের ওপর। 

আরে....

পুকুরের মাছগুলো। অন্তত শ'খানেক না হলেও ওরকমই কিছু একটা হবে। 

সব কটা মাছ বিশাখাদের ভিলার দিকে তাকিয়ে, ভেসে আছে জলে। থম মেরে ভেসে আছে , বিস্ফোরিত চোখে কি যেন দেখছে। না, না -- ভয়। চোখে ভয়। যেন আগতপ্রায় এক তিমিঙ্গিলকে দেখে প্রমাদ গুনছে। 

বা - ঠিক যেন মিছিলে এসেছে। শহর জোড়া প্রতিবাদ মিছিল। সবাই তাল মিলিয়ে যেন কোনো স্লোগান গাইছে।

ওর পাশে দিয়ে একটা হিমেল স্রোত বেরিয়ে গেলো।

মাছগুলো ওরকম করে চেয়ে কি দেখছে ? 

বিশাখা অনেকক্ষণ ধরে এদিক ওদিক দেখলো। একতলায় নেমে এসে, পিছনের দিকের গেট খুলে, আসতে আস্তে, পা টিপে টিপে এগুলো পুকুরটার দিকে। 

বেয়ারা আগাছার ঝাড় এড়িয়ে যখন পুকুর পাড়ে পৌঁছলো, তখন দেখে মাছগুলো নেই। সবুজ পানায় ভরা পুকুরটা উদাসীন ভাবে পড়ন্ত সূর্যের দিকে চেয়ে আছে।  

"শহরের এতো জায়গা থাকতে -- এরকম বেয়াক্কেলে একটা বাড়ি কেন কিনলে বলো তো, বৌঠান?", দেবেশ ভাতের ঢিপির ওপর একটা ছোট্ট গর্ত করে, মুসুরের ডাল ঢালতে লাগলো আনমনে। 

"এই তুই আমার বৌকে বৌঠান বলা বন্ধ করবি?", ঋষি লন্ঠনের আলোটা বাড়িয়ে দিলো। শহরের এই প্রান্তে এখনো বেশ ঘনঘন কারেন্ট যায়। গেলে আর আসতেও চায় না। 

"উফফ, চুপ করো তো তুমি", গোত্তা মারলো কনুই দিয়ে বিশাখা, ঋষিকে -- "কি বলছিলে তুমি, দেবু?"

"বলছিলাম এই যে...", ভ্যাট মাখতে শুরু করলো দেবেশ -- "তোমাদের যা বাজেট ছিল আরামসে নিউ-টাউনে একটা ট্রিপ্লেক্স হয়ে যেত। খেয়েদেয়ে কাজ নেই এরকম একটা গাম্বাট বিরাট ভবনের কি দরকার ছিল? মেইনটেনেন্স ও তো নেহাত কম হবে না।"

"আমার পুকুরটা ভালো লেগেছিলো।"

"বাসস...আর সেই জন্য এই বাড়িটা কিনে নিলে, আর সময় নষ্ট না করে -- কি, তাই তো?"

"দেখ ভাই -- দাদুর যে বাড়িটা ছিল গড়িয়াতে, সেটা উনি মারা যাবার আগেই প্রোমোটিং করতে দিয়ে দেন", উত্তরটা ঋষি দিলো -"দাদু ঠাকুমার মারা যাবার পর ওই স্মৃতি নিয়ে আর থাকতে পারছিলেন না। অগত্যা এই সিদ্ধান্ত।" 

"যতদূর মনে পড়ে সেই বছরই বিয়ে হয় তোদের, তাই না?"

"হ্যাঁ -- সেই বছর আমাদের বিয়ে হয়। বিশাখা বিয়ে করে এলো,আর অত বড়ো পুরোনো, সাবেক কালের বাড়িটা চোখের সমানে গুঁড়ো গুঁড়ো করে ভেঙে, তার জায়গায় তৈরী হলো পায়রার বাসার মতন কয়েকটা ফ্ল্যাট নিয়ে একটা ঝা-চকচকে 'আবাসন-প্রকল্প'। আজ ও সেই পুরোনো বাড়ির স্মৃতি ভুলতে পারেনি। এই ভিলাটা ধরে নে -- পুরোনো সেই বাড়িটার-ই একটা স্নেহ-প্রলেপ।"

ঝপাঝপ করে খাওয়া শেষ করলো দেবেশ ঠাকুরপো -- "একটা কথা বলো বৌঠান", উঠে মুখ ধুয়ে তোয়ালেতে হাত মুছতে মুছতে বলল -- "এই বাড়িটা কেনার আগে, এর ইতিহাস নিয়ে একটু ঘেঁটে দেখেছো তোমরা?"

বিশাখা তাকালো ঋষির দিকে -- "না মানে -- হ্যাঁ, যেমন ধরো বাড়িটার মালিক -- এখানে কখনোই থাকেননি। ওনার মা থাকতেন। ভদ্রলোক সস্ত্রীক, সপুত্রক, থাকতেন UK-তে। সাউথহ্যাম্পটন। বারবার বিলেত থেকে এসে এসে বাড়িটার দেখভাল করা আর সম্ভব হয়ে উঠছিলো না। তারই ফলশ্রুতি -- তাঁকে এই সিদ্ধান্ত মিতে হয়ে হয়েছিল। কেন? Why asking?"

"হুম, বেশ....এবার একটা মজার জিনিস দেখাই", দেবেশ একটা সিগারেট ধরালো -- "এস..."

দেবেশ ঠাকুরপো ঋষির ছেলেবেলার বন্ধু। ঋষি যেমন চিরকালই পড়াশুনো, ক্যারিয়ার, এইসব নিয়েই ছিল, দেবেশের পুরোটাই অন্যরকম। ছেলেবেলার থেকেই ঘোরাঘুরি করতে খুব .ভালোবাসে। পৃথিবীতে নাকি হেন কোনো দেশ নেই ,যাতে ওর যাওয়া নেই। দেশ বিদেশের প্রচুর গল্প, সেখানের কালচারের কথা, বিশ্বাসের কথা, ভাষা, বেশ-ভুসো -- দেবেশ একটি বইও লিখেছে এসব নিয়ে। "আগন্তুক-২"। সেই সত্যজিৎ রায়ের wanderlust দাদুকে নিয়ে লেখা মাস্টারপিস-টারই যেন পুনঃপ্রচার।   

"এবার একটা জিনিস দেখবে?", মুচকি হাসলো ঠাকুরপো।

ওরা তিনজন পুকুরটার কাছে এসে দাঁড়ালো একতলায়। নিস্তব্ধ পুকুরটাকে ঘিরে এক নাগাড়ে বেজে চলেছে ঝিঁঝির অর্কেস্ট্রা। ওপারের জন বসতিতে আলো জ্বলছে -- বাঁশ-বেড়ার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যাচ্ছে নানান রঙের আলোর ঝিলিক। সবে ক্রিস্টমাস গেছে। এখনো তার রেশ রয়ে গেছে। বেশ কিছু বাড়িতে মাইক বাজছে ধীমী লয়ে। পরশুদিন দিন ৩১শে ডিসেম্বর। টুনি বাল্বের সাঁজোয়া বাহিনীতে চোখ ঝলসে যায়। পাশাপাশি বাড়িগুলোর গায়ে দিওয়ালির অকাল বোধনের ছোঁয়া।

"কারেন্ট কখন গেছে?", দেবেশ সিগারেটে একটা লম্বা টান মেরে জিজ্ঞেস করলো। 

"অনেকক্ষণই হলো কারেন্ট নেই", বিশাখা বললো -- "আসবে একটু পরেই।"

"প্রায়ই কারেন্ট যায় দেখছি এখানে", দেবেশ পুকুরটার দিকে এগিয়ে গেলো কয়েক পা। 

"হ্যাঁ -- এখন তো তাও শীতকাল। গরমকালেও যদি এরকম রেটে কারেন্ট যায় -- তাহলেই বিপদ", বিশাখা বলল। 

"বেশ", দেবেশ আনমনেই বলল - "কিছুক্ষণ অপেক্ষা করা যাক। একটা জিনিস জানো কি?"

"কি?"

"মালিকের মা এখানে বেশ কিছু বছর একা থাকতেন। ছেলে ব্লেট থেকে আসতো দেখা করতে, মাঝে মাঝে। মায়ের একটাই সম্বল ছিল। একটা পুরোনো ফোন। একাকীত্ত্বের বোঝা কাটানোর জন্য, মা নানান আত্মীয়কে ফোন করতে থাকতেন সারাদিন। কারনে, অকারণে। দিন নেই, রাত নেই, এমনকি মাঝ-রাতে ও। আসলে কি জানো তো -- বুড়ো হয়ে গেলে, কান্ডজ্ঞানটা বোধহয় ঝিমিয়ে যায়। বুড়ো বয়েসটা যেন একটা বোঝা -- কেউই যেন আর চায় না।"

"তারপর?" 

"তারপর আর কি....মহিলা মারা যাবার পর, আরও দু বছর খালিই পড়েছিল বাড়িটা। তারপর তো তোমাদের বিক্রিই করে দিলো ছেলে এসে", সিগারেটটা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে নেভালো দেবেশ -- "আশ্চর্য কি জানো? বাড়িটা এতদিন খালি পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু টেলিফোনের বিলটা প্রতি মাসেই আসতে থাকতো। নানান মাসে, নানান অংকের। অন্তত দু বছর ধরে। বাড়িটা বিক্রি হবার অবধি।বাড়ির থেকে, নানান সময়ে, নানান নম্বরে কল গেছে। ঠিক যেমন মা করতেন --তাঁর জীবদ্দশায়।"

“বাড়িতে যদি কেউই না থাকে তাহলে কলগুলো করতো কে?", গা’টা কেমন যেন রিরি করে উঠলো বিশাখার।

হাসলো দেবেশ -- "ছেলের কাছে সেটা আজ ও এক বড় প্রশ্ন।"

ঋষি আর বিশাখা মুখ চাওয়া চাওয়ি করলো -- "তুমি এতসব জানলে কি করে?"

কাঁধ ঝাঁকালো দেবেশ -- "Homework...একটু খবর নিলে তোমরাও জানতে পারতে।..."

দপ করে পর্চের আলোটা জ্বলে উঠলো। কারেন্ট এসেছে। 

"কি যেন দেখাবে বলছিলে? মজার জিনিস?", বিশাখা জিজ্ঞেস করলো। 

"দেখো -- এই বাড়ীটায় যেই কারেন্ট এলো, পুকুরের ওপরারের বাড়ি গুলোতে কারেন্ট ও অমনি চলে গেলো।"

চমকে উঠে বিশাখা দেখলো অপরারের বাড়ির সারিগুলোতে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে এসেছে। মাইক বন্ধ হয়ে গেছে, নিভে গেছে LED লাইটের সারিবদ্ধ মালাগুলি। এক লহমায় ওপারে লাস্যভূমি যেন শ্মশানে পরিণত হয়েছে। 

"একি? এটা...এটা কেন হলো?", বিড়বিড় করে জিগ্গেস করলো বিশাখা। 

হাসলো দেবেশ -- "সব কি আর কি, কেন, কবে, কখন, কে - এসব দিয়ে বিচার করা যায় ভাই?", দেবেশ আরেকবার সিগারেটের প্যাকের দিকে হাত বাড়ালো -- "আরও কয়েকটা দিন সবুর করো, সবই বুঝতে পারবে। "

৪.

জানুয়ারিতে জাঁকিয়ে ঠান্ডাটা পড়লো। 

ঋষি প্রায় ২ সপ্তাহ পরে অফিস গেলো। অনেকদিনের লম্বা ছুটি কাটিয়ে। অফিসটা এখান থেকে বেশ দূরে। যেতে আসতে দেড় দেড়: তিন ঘন্টা। তাও যদি রাস্তা খালি পাওয়া যায় তো। আর ভিড় থাকলে তো হয়েই গেলো। রাতের দিকের কলগুলো ঋষি গাড়ির থেকেই নেয়। গাড়িতে চড়ার সময় শুরু হয়, আর বাড়ি পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় কনফারেন্স। সেই জন্যই একটু দেরি করে বেরোয় ও অফিস থেকে। বিনা ঝঞ্ঝাটে গাড়ি চালাতে চালাতে ফোনকে স্পিকারে নিয়ে বিন্দাস কথা বলতে পারে। 

সেদিনকে অন্য কিছু হয়েছিল। ঋষিকে একটু তাড়াতাড়িই বেড়োতে হয়েছিল অফিস থেকে। বাধ্য হয়েই। 

দুপুর দেড়টায় একটা ফোন এলো। বিশাখার। গলায় ভয়। প্রচন্ড ভয় পেয়েছে। 

"আরে, কি হয়েছে, বলবে তো?"

"একটু আগে..."

"হ্যাঁ কি?"

"একটা....একটা ফোন....একটা ফোন...."

"কি ফোন?", ঠান্ডায় কিরকম যেন গরম করতে লাগলো ঋষির। 

"এক মহিলা...এক মহিলা ফোন করেছিল একটু আগে...."

"হ্যাঁ... কি বলছিলো?"

"বলছিল....বলছিলো মুকেশ আছে কি না...."

"কে মুকেশ?"

"আ....আমরা যার কাছ থেকে বাড়িটা কিনেছিলাম..."

ঋষি বুঝতে পারছিলো না এতে এতো ভয় পাবার কি আছে -- "তারপর?"

"ওই মহিলা....ওই মহিলা মুকেশের মা।"

গাড়ি চালাতে চালাতে সাত পাঁচ ভাবছিলো ঋষি। মুকেশ। মুকেশ দেবরায়। কেমন যেন অদ্ভুত ধরনের লোকটা। পড়ি কি মরি করে বিক্রি করে দিয়েই হাওয়া। যেন পাওনাদারের তাড়া আছে পিছনে। বাড়িটা বিক্রি করার দিনই রাতের ফ্লাইট ধরে চলে গেলো। 

এত বড় বাড়িটা অথচ যেন জলের দামে বিক্রি করলো। কারণটা কি?

আর বেশি না সময় নষ্ট করে, ফোনের দিকে হাত বাড়ালো ঋষি। তরুণ। তরুণ সাহায্য করতে পারে। "বল?", তরুণের গলায় একটু বিরক্তি। আবার নিশ্চই কোনো বায়নাক্কা দিতেই এসেছে নিশ্চই। 

খুব শর্ট-এ ব্যাপারটা বলল ঋষি -- " কেন জানি না মনে হচ্ছে কেউ জোক করছে। প্রাকটিক্যাল আর খুবই stupid সেন্স অফ হিউমার।"

"তোর সেই বন্ধু -- দেবেশ নয় তো?", তরুণ চিবিয়ে চিবিয়ে বলল -- "I mean -- মায়ের গল্পটা কিন্তু ওনার-ই বলা। হয়তো তোদের কে এসব বলেছিল ইচ্ছা করেই। পরে যাতে ফোন করে ভয় দেখানোটা অনেক সহজ হতে পারে।"

হ্যাঁ...হ্যাঁ....হতেই পারে। দেবেশটা বরাবরই একটু অদ্ভুত ধরণের।

কে জানে....ওরকম বৌঠান বৌঠান বলে ডেকে হয়ত ভিতরে ভিতরে বিশাখার প্রতি ওর কোনো ফ্যান্টাসি রয়েই গেছে। 

"তুই একটা প্লিজ হেল্প কর ভাই", ঋষি 'মা" ফ্লাইওভারটা ধরে 4th গিয়ার ধরলো -- "প্লিস আমায় জানা -- গত এক ঘন্টার ভিতর আমাদের ল্যান্ডলাইনে কোথা কোথা থেকে কল এসেছিলো।"

 তরুণ এবার বিরক্তিটা প্রকাশ করেই ফেললো -- "শালা এখন মান্থ এন্ড -- এখন এসে করার টাইম হবে না রে। তুই পরের উইকে কল কর।"

"বাজে কথা রাখ -- কাজটা তো আর তোকে করতে হবে না। তুই কাউকে বলে দিবি -- সে বের করে তোকে এনে দেবে। Simple !"

বেশ কিছুক্ষণ মনে মনে প্রচুর গালি দিয়ে শেষে তরুণ বলল -- "ঠিক আছে। দেখছি।"

***

আধঘন্টা আরও ড্রাইভ করার পর আবার একবার বিশাখাকে কল করলো ঋষি -- "You ok?"

"Valium নিয়েছি...একটু আগে কফি খেলাম", এখন গলাটা অনেকটাই স্বাভাবিক লাগলো বিশাখার -- "তুমি কতদূর?"

"আর মিনিট পনেরো", ঋষি বললো -- "কিছু খাবে? নিয়ে আসবো?"

"না", কাশলো বিশাখা -- "শরীরটা কেন জানি না ভালো লাগছে না। Maybe stressed..."

"তোজো কোথায়?"

"ব্যালকনিতে। বই পড়ছে।"

"আজ বাইরে যাই চলো ডিনারে", ঋষি একটা ভারী চেহারার ট্রাককে ডজ করলো -- "অনেকদিন বাইরে খাইনি।"

"আজকে ছেড়ে দাও -- কালকে শনিবার। কালকে যাবো।"

"বেশ, আমি কিছু আনবো --", কল ওয়েটিং-এ তরুণ -- "এক মিনিট দাঁড়াও...একটা কল আসছে", ঋষি তরুণের কলটা নিলো -- "বল ভাই?"

"তোর বাড়ির নম্বর-এ গত চব্বিশ ঘন্টায় দুটো কল এসেছে। একটা মোবাইল থেকে।"

"নম্বর বল?"

তরুণ নাম্বারটা বলল। 

"এটা আমার নম্বর। আজ সকালে করেছিলাম, অফিস পৌঁছে", ঋষি বলল। 

"হুম -- আরেকটা এসেছে। একটু আগে।"

গাড়িটা বালিগঞ্জ-প্লেস-এর এক কোণে থামালো। ঋষির মনে হলো, মাথা ঠান্ডা করে শোনা উচিত।  

"কলটা এসেছে ১২:২৩-এ", তরুণ বলল। 

হ্যাঁ, ঠিক। কারণ তারপরেই বিশাখা কল করেছিল ঋষিকে। প্রচন্ড ভয় পেয়ে। 

"নম্বর বল", ঋষি থাকা পেন, খাতা বের করলো, ড্রয়ার থেকে। 

"২৪৩০-৭৯৪৫...", খালি গলায় বলল তরুণ। 

"এটা....এটা তো.....", যেন মনে হচ্ছিলো চোরাবালিতে পা ডেবে যাচ্ছে ঋষির।

"হ্যাঁ -- এটা তোর এই বাড়িরই landline নম্বর", তরুণ যোগ করলো -- "ফোনের কানেকশনটা কিন্তু এখনো মুকেশ দেবরায়-এর নামেই দেখাচ্ছে। পাল্টাস নি কেন?"

৫.

এর পর বেশ কিছুদিন তেমন কিছু হয়নি। কোনো ফোন আসেনি। কোনো মাছেদের মিটিং-মিছিল দেখা যায়নি। কোনো কম্পাসের কাঁটাও ঘোরেনি দিকভ্রান্তের মতন। 

শুধু ওপারের বাড়িগুলির আলো এই বাড়িতে আসলে চলে যায়। আর ওখানে কারেন্ট এলে, এখানে আলো নিভে যায়। আসতে আসতে ব্যাপারটা যেন মজ্জাগত হতে শুরু করলো ঋষি আর বিশাখার। স্বাভাবিক ছন্দে যেন সবকিছু ফিরতে শুরু করলো। 

কে জানে -- নতুন কোথাও এলে বোধহয় এমনটাই হয়।

শীতের ছুটি শেষ হয়ে শুরু হলো তোজোর স্কুল। নুতুন স্কুল। নুতন বন্ধু। তোজোর স্কুলের বন্ধু বান্ধবদের মায়েদের সাথে স্কুল -শেষে গল্প গাছা, তোজোকে মাঝে মাঝে স্কুলে ছেড়ে দিয়ে, সামনের মলে গিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটানো।  

আরো কিছু মাস কাটলো। বর্ষা শেষ করে শরতের আগমনী শিশির হয়ে বিশাখাদের বাড়ির নিচের মাঠের ঘাসে দেখা দিতে শুরু করলো। আর দু মাস গেলেই ওদের এ বাড়িতে আসার এক বছর হবে। মনে মনে ইচ্ছা আছে একটা গেট-টুগেদার করলে কেমন হয়? বনিরা অনেকদিন ধরেই বলছিলো আসবে বলে। শিলা-কাকিমারা ও অনেকবার বলেছে। অনেকেই ওদের নতুন বাড়ি দেখা নিয়ে বলেছে। ঋষির ও ইচ্ছে আছে। 

পুজোর ছুটির আজ শেষ দিন। কাল থেকে স্কুল শুরু আবার।

ঋষি যথারীতি অফিসের জন্য রেডি। ফোনের আউটলুকে একটা চোখ, আরেকটা চোখে বিশাখার কথা শুনছে, কেলোগসের বাটিতে চামচে গুলতে গুলতে। তোজোর মুখ গোমড়া -- কাল থেকে স্কুল শুরু -- বায়না ধরেছে আজ রাতে খেতে নিয়ে যাবার জন্য। 

জানলার কাঁচে একটা অদ্ভুত আওয়াজ। 

কে যেন ঢিল মারলো। 

ঋষি ফিরে তাকালো। কিছু দেখা গেলো না ঠিকই, কিন্তু কাঁচে যেন সামান্য একটা চির লেগেছে।   

 ঋষি উঠে কাছে গেলো -- জানলাটার কাঁচের ওপর চিরটার ওপর আঙ্গুল ছোঁয়ালো -- "কি হলো? কি হলো এটা?", বিশাখা এগিয়ে এলো। 

"আরে কিছু না -- আমি দেখছি --", আবার কিছু একটা এসে পড়লো কাঁচে। আবার। আবার। আবার।

যেন গুলি ছুটছে। ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি। 

ঋষি ছিটকে পিছিয়ে এলো -- "তোজো -", ঋষি চেঁচালো, বিশাখাকে পিছনে টেনে। 

জানলার কাঁচটা রক্তে লাল হয়ে গেছে। 

পাখি...অজস্র পাখি উড়ে উড়ে আছড়ে পড়ছে, বাড়িটার সর্বত্র। এক ঝলকে ঋষি বাড়িটার নিচের তলায় তাকিয়েই দেখতে পেলো। মরা পাখির মৃতদেহের স্তূপে ঢেকে গেছে বাগান, গাড়ি বারান্ধা, পুকুর পাড়ের ঘাট-গেট। এক মুহূর্তে বাড়িটার সবকটা জানলায় ঠুকরে ঠুকরে শয়ে শয়ে পাখি এসে ধাক্কা খাচ্ছে। এক দুর্নিবার টানে যেন বিহঙ্গ-বাহিনী এসে আত্মাহুতি দিচ্ছে, জীবনের প্রতি সমস্ত টান মুছে ফেলে। ঋষি স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো বহুক্ষণ। কান ফেটে যাচ্ছে ওদের চিৎকারে। কি....কি যেন বলে চলেছে ওরা। সবাই মিলে -- যেন মৃত্যুপথযাত্রীর শেষের কবিতা কোনো। 

তোজো। 

পরক্ষণে সম্বিৎ ফেরত পেয়েই প্রথম যেটা ওর মাথায় এলো তা হলো -- তোজো কোথায়?ঋষি দৌড়ে এলো বারান্দায় - তোজোর চোখে মুখে ভয়। ঠক-ঠক করে কাঁপছে। নিয়ে ভিতরে ঢুকে এলো ঋষি, দরজা বন্ধ করে দিলো।   

জানলা গুলো পর্দা দিয়ে ঢাকতে হবে -- ঋষি এক তলায় এসে জানলাগুলো বন্ধ করতে শুরু করলো। 

ওপরের দোতলার ঘর থেকে প্রচন্ড জোড়ে চেঁচিয়ে উঠলো বিশাখা। 

ওর গলায় ভয়। 

খানিকক্ষণ স্থাণুবৎ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর টের পেলো ঋষি। 

মাটিটা কাঁপছে। ভয়ানক জোড়ে।   

তোজোকে নিউ আলিপুরে ওর মামার বাড়িতে রেখে এসে, উর্দ্ধশ্বাসে গাড়ি চালালো ঋষি এয়ারপোর্টের দিকে। সকালের শহরে তখনও ছড়িয়ে আছে কিছুদিনের আগের উৎসবের নানান সিগনেচার। এখনো কিছু কিছু জায়গায় প্যান্ডেল সরানো হয়নি। দুর্গার স্মৃতিস্বাক্ষর -- নদী-পুকুরে ভাসছে দেবীর গাত্র-আভূষণ, চালচিত্র, ভাঙা হাত-পা-দেহ। 

এ যেন এক অন্য শ্মশান।

বিশাখা তখন ও কাঁপছে। মাঝে মাঝে কাঁদছে। ঋষির চোখের সামনে সবকিছু যেন কেমন ঝাপসা হয়ে আসছে। কি হলো, কি হচ্ছে -- সবকিছু যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। কোনো ভুল করেছিলাম কি? ভুল করেছিলাম কি কোনো বাড়িটা কিনে? লোকটা -- ওই যে লোকটা -- কি যেন নাম -- মুকেশ...মুকেশ দেবরায় -- কি লুকিয়েছে? কি বলেনি আমাদের? ও ফোন বের করলো? Whatsapp -- একটা হোয়াটস্যাপ করলে কেমন হয়? এখন প্রায় ন'টা বাজে। ওখানে? ওখানে কত বাজে? সাড়ে চার ঘন্টা পিছিয়ে -- মানে সাড়ে চারটে, ভোর। উঠেছে কি ঘুম থেকে? নিকুচি করেছে -- সময় নষ্ট না করে হোয়াটস্যাপ কল করলো ঋষি। ফোনটা অনেকক্ষণ ধরে ফোনটা বেজে কেটে গেলো। Damn....Goddammit....এমনটাই হবে। জানতাম...বাড়ি বিক্রি করার পর আর কোনো সম্পর্ক থাকে? গাড়ি চালাতে চালাতেই একটা মেসেজ করে রাখলো – Need to talk, plz call back urgent.

গাড়ি চালিয়ে দেবেশের বাড়ি পৌঁছাতে লাগলো আরও পাক্কা ২৫ মিনিট। তেঘরিয়ার মোড়ে একটু জ্যাম হলেও, সেটা কেটে যেতে বেশি সময় লাগেনি। আর তারপর দেবেশের বাড়ি খুঁজতেও বেশ কিছুক্ষণ লাগলো। বাড়ি নয় --ফ্ল্যাট। লাস্ট এখানে ঋষি প্রায় বছর পাঁচেক আগে এসেছিলো। অনেককিছুই পাল্টে গেছে -- মানচিত্র, চালচিত্র, বৈচিত্র।

দেবেশ। দেবেশ তরফদার। 

নামটা গথিক স্টাইলে বেশ কায়দা করে লিখেছে -- ৬ তলায় সিঁড়ি ভেঙে উঠে বেশ হাঁপাচ্ছিলো ঋষি আর বিশাখা। অদ্ভুত লোকজন। এতো বড় একটা ফ্ল্যাট কমপ্লেক্স আর লিফ্ট নেই? ঋষি বেলটা টিপতে যাবে -- আর দরজাটা খুলে দাঁড়ালো দেবেশ -- "আয় -- ওপর থেকে দেখলাম তোরা আসছিস। একটা ফোন তো করবি? যদি না থাকতাম?"

ঠিক। যদি ও না থাকতো? আজ তো কিছুই চলছে না হিসেব মতন -- দেবেশকে বাড়ি পাওয়াটাও খুব ভাগ্য ছাড়া আর কি বলা যাবে। আড়-চোখে চেয়ে দেখলো বিশাখা বোধকরি এখন একটু সুস্থই আছে। 

দেবেশ ভিতরে নিয়ে গিয়ে বসালো। কোথায় যেন একটা কি গান বাজছে -- না, না -- চেনা কোনো ভাষা নয়। অনেক ছবি দেয়াল জুড়ে। মানুষের,জন্তু-জানোয়ারদের, বা তাদের দেহাংশের। ঋষি ঘুরে ঘুরে দেখছিলো। এতো বছর বাদে, বাল্যকালের বন্ধুর বাড়ি -- অন্যসময় হলে হয়তো খারাপ লাগতো না। বিশাখা বসতে না বসতেই চেঁচাতে শুরু করলো -- "দেবেশ....দেবেশ ঠাকুরপো -- খুব বড় বিপদে পড়েই তবে তোমার কাছে এসেছি....বিশ্বাস কর...."

"আরে বসো বসো আগে -- এতো ঘাবড়ে গেলে চলবে?"

"খুব....খুব বিপদে পড়েছি ভাই.....", দেবেশ একরকম ওকে জোর করেই সোফায় বসালো। 

ঋষি দেবেশের দিকে তাকিয়ে আছে। মনে প্রশ্ন -- কিন্তু কোনটা দিয়ে শুরু করবে ঠিক বুঝতে পারছে না। 

"তারপর?", দেবেশ সিগারেট ধরালো -- "কি এমন হলো যে বাড়িটা এতো অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ালো? ঘোস্ট কলস? না পাখিদের আত্মহত্যা? না মাছেদের মিছিল?"

ঋষির বেশ রাগই হলো -- "তার মানে তুই বাড়িটার সবই জানতিস? ওটার অতীত -- ডার্ক সাইড, লুকিয়ে রাখা কথা -- সব?"

মাথা নেড়ে হ্যাঁ জানালো দেবেশ। 

"Then why the hell didn't you tell us about it?"

হাসলো দেবেশ -- "সেদিন কি জিজ্ঞেস করেছিলাম মনে আছে? বাড়িটা কেনার আগে হোমওয়ার্ক করেছিলি কিনা?"

"Cut the crap", বেশ চেঁচিয়েই বললো ঋষি -- "তুই কেন বলিসনি? আমরা যখন বাড়িটা কিনছিলাম -- তুই এসে তোর 'হোমওয়ার্ক'-এর কথা আমাদের বলতে পারিসনি? At least সেদিন এসে বাড়িটা দেখে পুরো জিনিসটাই বুঝতে পেরে গেছিলি, তাই না?"

সিগারেট টানতে টানতে ঋষির দিকে কিছুক্ষন অন্যমনস্কের মতন রইলো দেবেশ। 

"আমার প্রশ্নের উত্তর দে", বেশ জোড়েই চেঁচিয়ে উঠলো ঋষি -- "একটা অসুস্থ, ভূতের বাড়ি কিনেছি -- পদে পদে কালো কোনো অশরীরীর অতৃপ্ত উপস্তিতি টের পাচ্ছি। কখনো কম্পাসের নিডিল ঘুরিয়ে, কখনো মরা ফোনে ফোন করিয়ে, কখনো আলো নিভিয়ে-জ্বালিয়ে, কখনো পাখি মেরে -- সে তার নিজের উপস্তিতি জানান দেয়। এতো গুলো টাকা জলে গেলো....", ঋষি হাতে মুখ গুঁজলো।

"Easy ….easy", দেবেশ একটা কাঠের চেয়ারে বসলো – “একটা কথা বল", সিগারেটের ছাই ফেললো অ্যাশ-ট্রে-তে -- "ধরেই নে না -- ওই বাড়িতে ভূত আছে। কিন্তু কোনো ক্ষতি করেছে কি?"

ঋষি চোখ চেয়ে দেখলো। লাল হয়ে গেছে হঠাৎ ওর চোখ দুটো। 

"এই যে বৌদি ভাই -- সত্যি করে বলো তো, তুমি কি কখনো খুব ভয় পেয়েছো ওই বাড়িটায় থাকতে? এমন কখনো কোনো ঘটনা ঘটেছিলো যাতে তোমার খুব ভয় লেগেছে?"

"সেদিন ওই ফোনটা --"

"আরে দূর রাখো তো....", সিগারেটটা নিবিয়ে ফেললো দেবেশ -- "তোমার সবেতেই বাড়াবাড়ি। খুব কি কখনো এমন ভয় কখনো পেয়েছো যে মনে হয় প্রাণপাখি-ই উড়ে যাবে?"

ঋষি আর বিশাখা মুখ চাওয়া-চাওয়ি করলো আবার। 

"একটা কথা বলি তাহলে", দেবেশ উঠলো -- "তোদের এই বাড়িটা একটা ফ্যান্টাস্টিক example -- example for hope...."

"Hope? কিসের হোপ?"

দেবেশ হাসলো -- "জীবনের সবচেয়ে বড় প্রহেলিকার উত্তর।"

"প্রহেলিকা -- কি প্রহেলিকা?"

"জীবন-মৃত্যু।"

"ঠিক বুঝলাম না", ঋষি সোফার থেকে উঠে দাঁড়ালো। 

"মৃত্যু। মৃত্যুই কি সবকিছুর শেষ? আর যদি শেষ না হয় -- তাহলে তার পর কি আছে? কেমন সেই জগৎ? পৃথিবীর মতনই কি আলো, বাতাস, সূর্য, জ্যেৎস্না, পাহাড়, নদী, ঝর্ণা নিয়ে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য সেই বিদেশ? নাকি আরও সুন্দর এবং আশাতীত কিছু: চির-জ্যেৎস্না, মধু মাস? নাকি সবটাই ঘুমপাড়ানিয়া লালাবাই? হয়ত অন্ধকারকে সবচেয়ে ভয় করে বলেই এসব ফ্যাব্রিকেটেড হয়েছে? হয়তো সবকিছুই এখানেই শুরু, এখানেই শেষ। হয়তো না। এই প্রশ্ন নিয়ে নানান বচসা। অনেক প্রশ্ন। কিছুর উত্তর পাওয়া যায়, কিছুর না। তোদের এই বাড়িটা যেন সেই প্রশ্নের এক জলজ্যান্ত মীমাংসা….."

"দয়া করে একটু ভালো করে বল...."

"বাকিটা আমি বলবো না", দেবেশ এগিয়ে গেলো বেসিনের কাছে। একটা ঘর -- দরজাটা আধ-খোলা -- "অন্য কেউ দেবে। তবে তার জন্য -- এখানে না, তোর বাড়ি গিয়েই পাওয়া যেতে পারে বাকি প্রশ্নের উত্তর।"

বিশাখা ফ্যাকাসে মুখে আসতে আসতে রঙ ফিরছে। 

"এসো -- আলাপ করিয়ে দি", দরজাটা ঠেলে খুললো দেবেশ -- "আমার স্ত্রী। Lolita।"

ঘরটায় গানটা চলছিলো -- বন্ধ হয়ে গেলো। “El promoporo…”। ঋষি আর বিশাখা দেখলো একটা খাটে একজন আধশোওয়া অবস্থায় বসে আছে, একটা কিমোনো পড়া -- পা থেকে চাদরে ঢাকা। 

"Lolita -- dejame presentarte", দেবেশ ওদের দিকে দেখিয়ে বললো -- "ঋষি । আর ওর esposa বিশাখা।"

দেবেশ কিছুক্ষন চেয়ে রইলো মেয়েটির দিকে। বয়েসে বিশাখার মতনই হবে। সুন্দরী, এবং ভয়ানক বুদ্ধিদীপ্ত চোখ। মুখে সামান্য মঙ্গোলিয়ান বক্রতা, মাথার চুলটা কিন্তু বেশ কালো। গায়ের রঙটাও ভারতীয়দের মতনই। "লোলিটা লিমার মেয়ে", দেবেশ বলে চললো -- "ওখানেই আমার সাথে ওর আলাপ। ছেলেবেলায়ই পা দুটো ভেঙে গেছিলো। হাঁটা-চলায় বেজায় প্রব্লেম…কাঠের পায়েই হাঁটে।"

"তুই....তুই বিয়ে করেছিস?", বেশ তোতলাতে তোতলাতেই জিগ্গেস করলো ঋষি। 

"হ্যাঁ -- তবে কাউকেই বলিনি। গান্ধর্ব মতে বিয়ে তো", চোখ মারলো দেবেশ -- "দু বছর হলো বিয়ে হয়েছে। ও বাংলা বুঝতে পারে -- বলতে পারে না।"

দেবেশ লোলিটার কপালে চুমু খেলো -- "ও clairvoyant -- ও অনেক কিছুই শুনতে পায়, যা সাধারণ কানে আসে না। ও-ই আমায় বলেছিলো তোর ওই বাড়ির আড়ালে না বলা কথাটা।"

মেয়েটি হঠাৎ দেবেশকে জিজ্ঞেস করলো -- "¿se trata de esa anciana?"

"Si", দেবেশ হেসে উত্তর দিলো। 

আর তারপর ঋষির দিকে তাকিয়ে বললো -- "বাকি কথাটা এখানে নয় -- তোর ওই বাড়ি গিয়েই হবে।"

বাড়িটার সামনে কিছুক্ষণ গাড়িটা নিয়ে দাঁড়ালো ঋষি। 

কিছু লোক দাঁড়িয়ে আছে, দুতিন বার হর্ন দিতেই সরে গেলো তারা। পাখিগুলো ইতস্তত হয়ে পড়ে আছে। সারি সারি -- বিভীষিকাময় সেই দৃশ্য দেখে বিশাখা চোখ বুঝলো। মৃতদেহের স্তুপে, আর ভাঙা ডালপালার মাঝে গাড়ি নিয়ে এগোনো সম্ভব নয়। আগে এই জিনিস সরবে, তবেই গাড়ি নিয়ে ঢোকা যাবে। 

ঋষিরা নামলো। 

লোলিটা বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে খুব জোরে নিঃস্বাস নিলো। মুখে এক অদ্ভুত হাসি। 

তৃপ্তির।


“কখনো কি টের পেয়েছিস তোর বাড়ির ভিতর টেলিফোন সিগনালের খুব প্রবলেম হয়?"

সে আর বলতে???!!!

কতবার কথা বলতে বলতে ফোন কেটে যায়। কতবার "কল ফেল্ড' দেখায়। কতবার ফোন করে করে পাওয়াই যায় না। ফোনের এককোণে Towerটা কিরকম যেন যবুথবু মেরে পড়ে আছে। কিন্তু বাড়ির বাইরে পা রাখলেই চাঙ্গা টাওয়ার -- তখন কিন্তু দিব্যি ফোন আসছে, যাচ্ছে। 

যা কিছু সমস্যা বাড়িটার ভিতরেই।  

ঋষি ওদের দোতলার বসার ঘরে নিয়ে এলো। লোলিটা কিন্তু কোনো কথা বলছে না। চুপচাপ যেন কি দেখছে, নির্বাক শ্রোতা হয়ে। 

আচ্ছা ওর নাম 'লোলিটা'? অনেক বাঙালিদের তথা ভারতীয়দেরও নাম ললিতা হয়। 

"এছাড়াও আশা করি টিভি নিয়েও বেশ ভুগতে হয়? টিভি'র অর্ধেক চ্যানেল নিশ্চয়ই ধরা যায় না। টিভি চলতে চলতে আগেকারদিনের সেই DC পাওয়ার-এ চলা টিভিগুলির মতন স্ক্রিন জুড়ে ঝিকির ঝিকির ছাপ?"

কাঁধ ঝাঁকালো ঋষি। এ তো বলাই বাহুল্য।  

"কখনো ভেবে দেখেছিস -- এসব কি ইন্ডিকেট করে?"

ঋষি জানে না। বিশাখাকে দেখলো ও অপাঙ্গে। ওর মুখ আবার ফ্যাকাসে হতে শুরু করেছে। 

"বেশ -- শোনো তবে। যদি হঠাৎ কোনো কারণে তোমার বাড়ির চারপাশে ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক ডিস্টার্বেন্স খুব বেশি হতে থাকে, তবে এই ধরণের ঘটনা ঘটে। তোদের বাড়িতে কারেন্ট এলে - পুকুরের ওপারে চলে যায়। আর ওখানে এলে, এখানে যায়। পদার্থ-বিদ্যার কথায়: Shifting magnetic field...."

"হঠাৎ কথা নেই, বার্তা নেই -- এরকম ম্যাগনেটিক ডিস্টার্বেন্স বাড়লোই বা কেন?"

"না রে -- হঠাৎ নয়। অনেদিন ধরেই এরকম হচ্ছে। তোদের শুধু বিক্রি করার সময় এগুলো বলেননি মুকেশ-বাবু", আবার সিগারেট ধরাতে যাচ্ছিলো দেবেশ, লোলিটা খুব কড়া ভাবে তাকানোয়,প্যাকেটটা রেখে দিলো -- "To be precise, মুকেশের মায়ের পঞ্চত্ব-প্রাপ্তির পরই এমনটা হওয়া শুরু হয়েছে। তোদের মনে আছে, বলেছিলাম -- যে মুকেশের মা মারা যাবার পর ও, অদ্ভুত ভাবে ফোন-বিল আসতো। তাও বেশ ভারী রকমের বিল।"

"কেউ নেই, বাড়িতে কেউ থাকে না -- বিল কি করে আসে? কে ব্যবহার করে ফোন?", খেঁকিয়ে উঠে জিজ্ঞেস করলো ঋষি। 

"Exactly", দেবেশ উঠে দাঁড়ালো -- "তাহলে কি মহিলা মরে যাবার পর ও ফোন করতেন?"

বিশাখা জলের বোতলতার দিকে হাত বাড়ালো -- লোলিটা, ওর কাঁধে হাত রেখে জিগ্গেশ করলো -- "You ok?"

"মৃত্যু। Death। Demise। সম্ভবতঃ মৃত্যু নিয়ে এতো বেশি চর্চা হয়েছে পৃথিবীতে -- বোধহয় ঈশ্বরকে নিয়েও এতো কেউ ভাবেনি। মৃত্যুর পর কি হয়, কেমন লাগে, মৃতের মর্তে প্রত্যাবর্তন -- এসব নিয়ে পূর্ব-পাশ্চাত্যে যে কত কিছু লেখা হয়েছে, তা বোধহয় এক জীবনে শেষ করা যাবে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে -- এতো কিছু হবার পর ও, মৃত্যুকে নিয়ে আমাদের জ্ঞান ঠিক ততটাই দূরে, যতটা আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে ছিল। শুন্য, অব্যক্ত, oblivious...."

দেবেশ টেবিলের ওপর রাখা ল্যান্ডফোনটাকে উঠিয়ে নিয়ে এসে সেন্টার টেবিলটায় রাখলো। 

"মৃত্যুর সাথে কিছু বছর আছি", লোলিটার কাঁধে সস্নেহে হাত রাখলো দেবেশ -- "আমার স্ত্রী এক অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্না মানুষ। ওর সাথে থেকেই আমার পরলোকের সম্বন্ধে প্রগাঢ় জ্ঞান হয়েছে। আজ আমিও অনেককিছুই জানতে, বুঝতে, দেখতে পারি।"

ঋষি আর ধৈর্য্য রাখতে পারছিলো না। এই বাড়িতে ছাপ পড়ে আছে মুকেশের মায়ের। মৃত্যুর পর ও সংসারের মায়া ত্যাগ করতে পারেননি। ছাড়তে পারেননি পুরোনো অভ্যাস। আজ ও তিনি ফোন করেন। যেন কিছু একটা খুঁজছেন। 

"মুকেশের মা-এর শেষ কিছু বছর খুব কষ্ট গিয়েছিলো", ফোনটার দিকে তাকিয়ে দেবেশ বললো -- "ছেলেকে খুব ভালোবাসতেন। ছেলে নিজের কর্ম সুবাদে দেশে আর ফিরে আসতে পারলেন না। মুকেশের মা ছেলের সাথে থাকতে চেয়েছিলেন। অন্তত শেষ সময়ে ছেলে আর নাতির সাথে যদি থাকতে যেত। চেয়ে রইলেন চাতক পাখির মতন চেয়ে পথ পানে। ছেলের মাথার বালিশে মুখ গুঁজে কত কেঁদেছেন। কম বয়েসী ছেলে দেখলে, গায়ে পড়ে কথা বলতেন। পাছে যদি ছেলের সান্নিধ্যা পাওয়া যায়। ফোন করতেন লোকের বাড়িতে বাড়িতে -- যদি ছেলের সন্ধান পাওয়া যায়। কত লোকে  কথা বলত। উনি তাই শুনতে ভালোবাসতেন। অন্তত কথা বলার লোক তো পাওয়া গেলো...."

ঋষির চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ -- ও...ও তো এমনটাই করেছিল ওর বাবার সাথে। সেই যে -- প্রায় সাড়ে ন'বছর ক্যালিফোর্নিয়াতে ছিল। ওর বাবা ও তো ওকে বলে বলে দেশে আনতে পারেননি। আর একদিন ভোর বেলায়....পুরো কথা শেষ না করেই চলে গেছিলেন। 

আসলে বুড়ো বয়সটা প্রতীকী। দরকার শেষ হয়ে যাবার প্রতীক। আর চাই না -- যা দরকার ছিল নিয়ে নিয়েছি...যে আতরের গন্ধ নেই, সেই আতর আর রেখে লাভ কি?

দেবেশ ফোনটা এগিয়ে দিলো বিশাখার দিকে -- "মুকেশের মা চলে যাবার পর ও -- এক কন্ঠস্বর হয়েই রয়ে গেছেন। আজ ও সান্নিধ্য খোঁজেন। এই বাড়ির চৌহদ্ধিতে ম্যাগনেটিক disorientation -- ওনারই পদচিহ্ন। বিদেহী আত্মার সবচেয়ে বড় প্রমান।"

ফোন ওঠালো বিশাখা -- "কোন নম্বরে ফোন করব?"

"নিজের বাড়ির নম্বরেই করো", হাসলো দেবেশ --"Be warm...ঠিক সেই ভাবেই কথা বলো, যেমনভাবে তোজোর সাথে কথা বলো। বয়েস হলে বুড়োরা বাচ্ছাদের মতনই হয়ে যায়।"

***

"হ্যালো?”

"হ্যালো….”

 “হ্যাঁ....কে বলছো?"

বিশাখা একটু আড়ষ্ট হয়েও হাসলো -- "আপনার বন্ধু।"

"বন্ধু?"

"হ্যাঁ...এই যে সেদিন কথা হলো....মনে নেই?"

কিছুক্ষণ নীরবতা। যেন ওপারের কন্ঠস্বর আকাশ-পাতাল ভাবলো... মনে করার চেষ্টা করলো স্মৃতির গাদায় ছুঁচ -- "কে বলো তো?"

"ওই যে -- বিশাখা। সেদিন কল করেছিলাম, মনে পড়ছে?"

"ও....হ্যাঁ। কেমন আছো বন্ধু?"

"ভালো তো আছি --", বিশাখা তাকালো দেবেশ আর ঋষির দিকে -- "তবে জানতে চাই আপনার কথা।"

হাসি। বিশাখা শুনতে পেল একটু হাসির আওয়াজ -- "আমিও ভালো। এই যে শুতে যাবো। অনেক রাত হলো।"

রাত? বিশাখা তাকালো দেবেশের দিকে -- "এখন রাত তো না -- এখন তো দুপুর।"

"দূর -- এখন রাত ১১টা বন্ধু।"

দেবেশ হাসলো। ঋষির দিকে চেয়ে। প্রকৃতির বিরাট চক্র-বুহ্যে এক ক্ষুদ্রাদপিক্ষুদ্র এই সংসার। এই ধরিত্রী। প্রকৃতিরই এক উদ্ভট নিয়মে সময় ধরিত্রীতে একটি পূর্ব-নির্ধারিত লয়ে: কাল-আজ-কাল। 

কিন্তু তার মানে এই নয়, অন্যত্র ও একই লয়ে সময় চলে। 

হয়তো কোথাও কালকের পর আজ আসেই নি। হয়তো বা কাল আর আজকের মাঝে কয়েক হাজার বছর নিস্পৃহ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। 

বা হয়তো আজকের পর গত কাল এসেছে। 

হয়ত মৃত্যুর পর বিদেহী আত্মা তার অসংখ্য অগুনতি উপলব্ধির ভিতর থেকে এমনই কোনো একটাকে খুঁজে নেয়। সেখানের সময় আর আমার জানা সময়ের নিয়মই আলাদা। এ এক অন্য জগৎ। আত্মার একান্তই নিজস্ব সজ্ঞা। ঠিক যেমনটি সে দেখতে চায়। 

Perception causes reality....

ঋষি ও উঠলো। দেবেশদের এগিয়ে দিতে। তোজোকে ও নিয়ে আসতে হবে যে। 

আর তাছাড়া -- এদের দুজনকে একটু একা কথা বলতে দেওয়াই ভালো। 

ঋষি তাকিয়ে দেখলো বিশাখাকে। অনেক কথা বলছে ফোনে -- কখনো হাসছে, কখনো কাঁদছে...কখনও বা উত্তেজিত।   

অনিমার সাথে বেশ ভালোই বন্ধুত্ব হয়ে গেছে এখন বিশাখার। 

কে জানে -- লোকে বলবে হয়তো adaptation, বিশাখা জানে না এটাকে কি বলা যায়। 

অনেক কথাই হয় ওনার সাথে। যখনই ইচ্ছে হয় তখনই ফোন করে বিশাখা। নিজের কথা, ঋষির কথা, তোজোর কথা। 

শুধু একটা সমস্যা। 

সময়। 

প্রত্যেকবার ফোন করে অনিমাকে নিজের পরিচয় দিতে হয়। 

অনিমার সময় উল্টো গতিতে চলে যে -- কালকের পর আজ এসেছে, আর আজকের পর গত কাল আসবে। আজ আলাপ হলপ হলে, আগামী কাল গিয়ে আমায় আবার তোমাকে মনে করিয়ে দিতে হবে -- কারণ তোমার কাছে আগামী কাল আসেনি -- তোমার কাছে গত কাল এসেছে। যখন তোমার সাথে আমার আলাপই হয়নি।

তবে....অনিমার এই জগতে একটা ভারী সুন্দর জিনিস আছে।

শেষটা খুব সুন্দর।

বয়স-কালে কষ্ট -জনীত মৃত্যু নয়।

এখানে জীবন মাতৃ-জঠরে গিয়ে অন্ড-আর-শুক্রের মিলনে গিয়ে শেষ হয়।

অন্তত কাউকে হারিয়ে কারোর জন্য কাউকে কাঁদতে হবে না।

   

    

   


Rate this content
Log in

More bengali story from Subhashish Chakraborty

Similar bengali story from Abstract