STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

3  

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

ললন্তিকা ধারাবাহিক

ললন্তিকা ধারাবাহিক

5 mins
127


এক এক করে আরণ্যকের দলের লোকেরা পুলিশের হাতে ধরা পড়ছে । কিন্তু মাথাটার টিকিও পাওয়া যাচ্ছে না । তবু তো রাণীগঞ্জ থানা ঘটনার জাল কিছুটা হলেও ছিন্ন করতে পেরেছে।

মিঃ রঞ্জিত গুপ্ত ; সরকার পরিবারটির প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা যে ভাবে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তার তুলনা হয় না । নইলে আত্মীয় হোক বা ভাই বন্ধু ; কি দরকার ছিল ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর !

সরকার পরিবারকে ঘিরে যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে ; রেঞ্জার সাহেবের বদান্যতায় তা' পূর্ণ মাত্রা পেয়েছে ।

বাড়িতে না গিয়ে মিঃ গুপ্ত পটকার স্কুলে এসে উপস্থিত হলেন ।

হেডমাস্টার পটকা মানে বৈদূর্য্য সরকার । অফিসে গিয়ে দেখা করলেন মিঃ গুপ্ত ।

- স্যার! পুলিশের পক্ষে আপনাদের একটি বিধান দেওয়া হচ্ছে যে মিঃ আরণ্যক বসুরায়কে গ্রেপ্তার না করা পর্য্যন্ত আমাদের স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলা যাবে না । উভয় পক্ষকেই এলার্ট থাকতে হবে । তা না হলে পুলিশের বদনাম তো হবেই ; সেই সঙ্গে আপনাদের জীবনও বিপন্ন হতে পারে ।

ওই দেখুন, বেচারা সজ্জন সিং কে । কি অবস্থা ! ভয়ে পালিয়ে এসেছেন প্রাণ বাঁচাতে।

তাই আমার একটা প্রোপোজাল ছিল ।

পটকা মিঃ গুপ্তকে বললেন - স্যার, আপনার প্রোপোজাল যদি কাকাবাবুকে বলতেন ; আমার মনে হয় আরও ভালো হোত ।

মিঃ গুপ্ত বললেন - তা' জানি । কিন্তু তাঁকে বলতে চাইছি না এ'জন্য যে তিনি এর বিরোধিতা করে দিলে সব গুবলেট হয়ে যাবে । আমার কাছে খবর আছে মিঃ দেবেন্দ্র ভৌমিক - আপনাদের রিলেটিভ এবং যিনি বাংলাদেশের পুলিশ কর্তা ছিলেন ; পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আমন্ত্রণে তিনি এখানে আসতে রাজী হয়ে গেছেন এবং আগামী জানুয়ারিতে তিনি আসবেন ।

পটকা বলল - সেটা আমরাও শুনেছি । মাঝেমধ্যে কথা হয় তো তাঁর সঙ্গে ।

মিঃ গুপ্ত বললেন - সেই জন্যই তো আপনাকে বলছি । জানুয়ারি আসতে তো আর দেরী নেই। তিনি এলেন বলে ! তাঁর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ আমাদের কাজে লাগবে নি:সন্দেহে । তার আগে আমরা চাই একটা প্রেক্ষাপট তৈরি করে রাখতে ।

- তা' সেটা কেমন ?

- মিঃ ভৌমিক আসার আগে আমি চাইছি অরবিন্দ ছাড়া অন্যান্য অভ্যাগতরা যে যার বাড়িতে ফিরে যান । যেমন গোপালকৃষ্ণ বাবু ও তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে যান এবং মিঃ সজ্জন সিং ও পরিবার নিয়ে নিজের জায়গায় চলে যান ।

- বেশ । কিন্তু তাতে কি হবে ?

- কেন্দ্রাতিগ আকর্ষণ প্রতিরোধ করতে হবে । এখন যেমন কেবল রাণীগঞ্জ একমাত্র লক্ষ্যবস্তু হয়ে গেছে তখন সেটা ভাগাভাগি হয়ে যাবে । আরণ্যকের যোগাযোগ করার প্রবণতা বাড়বে । ফলে কোন না কোন বিষয়ে তার উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি টের পাওয়া যাবে ।আমার দৃঢ় ধারণা এখন সে দিল্লি কলকাতা বা অন্য কোন জায়গায় নেই । আর ধারণা যদি সত্যি হয় তবে আমি বলব সে কোন পাহাড়ী প্রত্যন্ত অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।

- এটা আপনি ঠিক কথা বলেছেন । আমারও তেমনই সন্দেহ হয় । কাকাবাবুকে বলেছিও। উনি তো পাত্তাই দেন না । ঠিক আছে আমি কাকাবাবুকে বোঝাবো। মনে হয় না রাজী হবেন ।

- সে আমিও জানি । আর তাই আপনাকে জানাচ্ছি। আপনি কথা পেড়ে দেখুন ; একই কথা পরে আমি তাঁকে বলব। নিশ্চয়ই দু'য়ে দু'য়ে চার হবেই ; তা তিনি যোগ করুন বা গুণ করুন ।

মিঃ গুপ্ত স্কুল থেকে বেরিয় এলেন । টিচার ছাত্র ছাত্রীরা পুলিশ দেখে প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিল । হেডস্যারের কাঁধে হাত রেখে গুপ্ত সাহেবকে হাসি মুখে বেরিয়ে যেতে দেখে ওদের কৌতূহল নিভে গেল ।

সজ্জন সিং এর মন ভালো নেই । যদিও যত্ন আর্তির কোন ত্রুটি মিঃ সরকার হতে দেননি । তাঁর মন পড়ে রয়েছে গ্যারাজে, শো-রুমে । সব খবর রোজ নিলেও সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি পরিবারে নিজেকে বড় একটা মানিয়ে নিতে পারছেন না । এক রকম গৃহবন্দী দশা যা' তিনি গত লকডাউনের কালে দেখে এসেছেন ।

ললন্তিকাকে বলেই ফেললেন - পঁদরহ দিন বীত গয়া; কবতক রহোগে য়হাঁ ? চলো অব নিকাল পঢ়ে ।

ললন্তিকাও অস্বীকার করতে পারে না । বিশেষত সজ্জনকে দেখে মনে হয় যেন মন মরা হয়ে পড়েছেন। অরবিন্দও কেমন যেন পাল্টে গেছে। দেখাও করে না। কথা বললেও বলে না । কিন্তু মুশকিল হল কাকাবাবু পারমিশন না দেওয়া পর্য্যন্ত সে কিছুই বলতে পারছে না ।

তবু সজ্জনকে বলল - আমারও আর ভালো লাগছে না । তুম ফির সে একবার রেঞ্জারসাবসে বাত করো ।

সজ্জন একটু খুশি হয়ে বললেন - দেখতে হ্যায় ।

পটকা স্কুল থেকে ফেরার পথে সজ্জনের ডিনার নিয়ে বাড়ি এল ।

অভয়ঙ্করবাবু অরবিন্দকে বলছিলেন - এই মেয়েটি তোমার মামাতো বোন ; তার সঙ্গে তোমার ভালবাসা , প্রেম, বিয়ে হয় কি করে ?

অরবিন্দ মুখ নীচু করে বসেছিল । এর উত্তর সে জানে না। কেবলই বলল - স্যার ক্রিমিনালদের কোন বিবেক থাকে না । আমারও ছিল না ।

- এখন অনুতাপ হয় না ?

- হয়ই তো ! ওর জীবনটা নষ্ট হবার জন্য আমি কিছুটা হলেও দায়ী। বাকিটা সব ও নিজেই করেছে।

- এই যে মেয়েটি তোমার এত সামনে রয়েছে তোমার মনে হয় না পুরানো সম্পর্কটা ঝালিয়ে নিতে ?

কঠোর উত্তর দিল অরবিন্দ ।

- এক্কেবারেই না । ও এখন পরস্ত্রী । সুখে সংসার বেঁধেছে। পুরানো কাসুন্দি ঘেঁটে তাকে আর বিব্রত করতে চাই না ।

- আমি লক্ষ্য করেছি ললন্তিকা তোমাকে কিছু বলতে চায়; তুমি কোন সাড়া দাও না - এটা কি ঠিক করছ বলে তোমার মনে হয় ?

- স্যার, আমি একটা ক্রিমিনাল। ও এখনও কোন ক্রাইম করেনি । আমি চাই না ওর সুখী জীবনটা নষ্ট হয়ে যাক ।

পটকা দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। বলল - কাকাবাবু! একবারটি আমার ঘরে আসবেন প্লীজ !

অভয়ঙ্করবাবু অরবিন্দের উত্তর পেয়ে গেছেন । তাই পটকাকে বললেন - হিসেব মিলছে না , তাই তো ?

- কাকাবাবু ! একটা সিরিয়াস আলোচনা আছে । একটু নিরিবিলিতে কথা বলতে চাই ।

অভয়ঙ্করবাবু উঠে এসে বললেন - চল তবে তোর নিরিবিলি জায়গায় । কিন্তু শুশুনিয়া , বিহারীনাথ যেতে পারব না বলে দিলাম।

- উ: , বলছি আলোচনাটা সিরিয়াস! আসুন আমরা নীচের ড্রয়িং রুমে বসি ।

সেখানে মিঃ গুপ্তর সঙ্গে যেমন যেমন কথা হয়েছিল সব জানাল পটকা । কিন্তু ঘূণাক্ষরেও মিঃ গুপ্ত যে তার সঙ্গে দেখা করে এগুলো বলেছেন তা জানতে দিল না ।

সব কিছু শুনে অভয়ঙ্করবাবু বললেন - আমিও এটাই ভেবে রেখেছি , বুঝলি ? কিন্তু গুপ্তসাহেবকে বলতে পারছি না ।

- কেন ? না বলার মত কি আছে ?

- যতই হোক পুলিশ বলে কথা । বলবেন এখন যা বলছেন পরে তা বাতিল করে দিচ্ছেন - কেমন মানুষ আপনি !

পটকা বুঝিয়ে বলল । এটা আমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার । আমরা মনে করেছি রাখব - রেখেছি - খরচাপাতি তো পুলিশ দেয় না । তাহলে বলতে দোষ কি ?

অভয়ঙ্করবাবু বললেন - বুদ্ধি খুলছে তোর । এবার তোর গাধাগুলো ঘোড়া হবেই ।

পটকা বলল - মস্করা করবেন না তো ! গাধা বড়জোর খচ্চর হতে পারে, ঘোড়া কখনোই হবে না ।

অভয়ঙ্করবাবু পিঠে হাত বুলিয়ে বললেন - লক্ষ্মী ছেলে !

( ক্রমশ )


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror