Sanghamitra Roychowdhury

Abstract Tragedy Thriller


3  

Sanghamitra Roychowdhury

Abstract Tragedy Thriller


লৌকিক অলৌকিক

লৌকিক অলৌকিক

7 mins 16 7 mins 16

অনুপ্রেরণার বিষয়: শ্রাবণের সন্ধ্যার অবিরাম বৃষ্টি ধারায় গৃহবন্দী জীবন কোভিড১৯ এমার্জেন্সির সৌজন্যে, এবং অবসরযাপনের সঙ্গী পুরোনো দিনের গান "এমনি বরষা ছিলো সেদিন..." শুনতে শুনতে এক অলৌকিক বোধের কল্পনা।


ভুট কম্বলের মতো কালো মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে। বিকেল চারটেতেই ঝুঁঝকো আঁধার নেমে এসেছে যেন। সকালের দিকেও বেশ একপশলা ভারী বৃষ্টি হয়ে গেছে। সারাদিনে আজ সূর্যের দেখা মেলেনি। তারপর অকালসন্ধ্যা নেমেছে। সাথে করে এনেছে বড় বড় ফোঁটায় অঝোর ধারায় বর্ষণ। শুভেন্দু দোতলার বড় শোবার ঘরের দক্ষিণের জানালার পাশে বসে আছে। বৃষ্টির মাদক রূপ দেখছে। বৃষ্টি মৃন্ময়ীরও ভারী প্রিয়। মৃন্ময়ী... শুভেন্দু অবশ্য সোহাগ করে বৌকে মিনু বলেই ডাকে। দু'জনের পছন্দে অপছন্দেও বড় মিল। দু'জনেরই এমন দিক ভোলানো উদ্ভ্রান্ত বর্ষায় বড় প্রিয়... কদম, কেতকী, কামিনীর মিশ্র গন্ধ, গরম ধোঁয়া ওড়া কফি আর পেঁয়াজি, খিচুড়ি আর ইলিশ ভাজা, গরম জিলিপি আর তেজপাতা দেওয়া মিছরির পায়েস আর গান... একটার পর একটা অবিশ্রান্ত। বিশেষতঃ ফিরোজা বেগম, জগন্ময় মিত্র, শচীন দেব বর্মণ, মান্না দের গলায়... কোনো বাছবিচার নেই যেকোনো ধরনের বা আঙ্গিকের গান।



খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে আজকাল খানিকটা বিধিনিষেধ মানতেই হয়। ছেলে শুভময় আর তার বৌ মালবিকা দু'জনেই ডাক্তার যে। তবে আপাতত কোভিড১৯-এর মোকাবেলায় তারা ফ্রন্টলাইনার। বাড়িতে আসছে না। হাসপাতালেই থাকছে... সবাই যেমন আছে আরকি। বাড়িতে বয়স্ক ও শিশু সদস্যদের জন্য সবাই বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে। যদিও শুভ মালবিকার বাড়িতে এখনো শিশু সদস্য নেই, তবে বয়স্ক রিটায়ার্ড সদস্য তো আছে। সকালে ছ'টা নাগাদ চন্দন আসে... বাজার দোকান করে, বাগান পরিচর্যা করে দিয়ে চলে যায়। সকালে সাড়ে সাতটায় অমিতা আসে। সকালের জলখাবার তৈরি থেকে শুরু করে ডিউটি। দুপুরের খাবারের পরেই রাতের খাবারটাও করে দিয়ে আড়াইটে নাগাদ চলে যায়। চাও করে রাখে কয়েক কাপ... থার্মোফ্লাস্ক ভর্তি করে। চা তেষ্টা পেলে কাপে ঢেলে খাওয়া শুধু। আর রাতের খাবার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করে নেওয়া। অবশ্য কফি খাওয়ার ইচ্ছে হলে করে খেতে হয়। আসলে বয়স্ক মানে এতোটাও অথর্ব নয় যে এটুকুও করতে পারবে না। বাসনপত্র সব ডাঁই করে জমিয়ে রাখা থাকে সিঙ্কে। সকাল ন'টায় চুমকি আসে। সারাদিন-রাতের সমস্ত বাসনপত্র মাজা ধোওয়া, জামাকাপড় কাচা ধোওয়া মেলা, ওপরে নীচে ঘরদোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মোছামুছি সবই চুমকির দায়িত্ব। ঘন্টা তিনেক সময় নিয়ে সবটা টানা একদমে সাপটে গুছিয়ে করে দিয়ে বেরিয়ে যায়। আড়াইটেতে বাড়ি যাবার আগে অমিতা অবশ্য শুকনো সব জামাকাপড় ছাদ থেকে তুলে এনে গুছিয়ে রেখে যায়। ভিজে কিছু থাকলে সেসব দোতলার পশ্চিমের ফাঁকা ঘরটায় দড়ি খাটিয়ে মেলে দিয়ে যায়। পরিপাটি ব্যবস্থা একেবারে। শুভময় ও মালবিকা কোথাও কোনো ফাঁক রাখেনি। অসুবিধে হওয়ার সামান্যতম অবকাশও নেই। রাতে ওরা কেউ না কেউ থাকতে পারে বাড়িতে এমনভাবেই ডিউটি নেয়। তবে এখন কোভিড এমার্জেন্সিতে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাতে করে খুব কিছু অসুবিধেও হচ্ছে না বাড়িতে। মসৃণভাবেই চলে যাচ্ছে।



আজকাল সবই তো স্মার্টফোনেই হয়। তবুও শুভেন্দু আদ্যিকালের ডিভিডি প্লেয়ারটাতেই গান চালায়। অত ডিভিডি রয়েছে... ফেলে তো দেওয়া যায় না! এমনকি চাকরির প্রথমেই কেনা ক্যাসেট রেকর্ডার কাম প্লেয়ারটাও আছে... দিব্যি সচল। ক্যাসেটও আছে। শুভেন্দু ও মৃন্ময়ীর গলা বন্দীও আছে তাতে। ঠোঁটের কোণে গড়িয়ে এলো ছটাক হাসি। কতদিনের কথা সেসব। এমনই এক ঘনঘোর বর্ষার নিঝুম সন্ধ্যায় শুভেন্দু মৃন্ময়ী একসুরে গলা মিলিয়েছিলো। অবশ্য তার আগে ক'দিন ফিরোজা বেগমের গাওয়া গানের ক্যাসেটটি বহুবার বাজিয়েছে নিখুঁত করে গলায় তোলার জন্য। মৃন্ময়ীর গলাটাও ভারী সুরেলা মিষ্টি ছিলো। ফিরোজা বেগমের মতোই। শুভেন্দু ক্যাসেট প্লেয়ারটা বার করে ক্যাসেটটা চাপিয়ে দিয়ে ডাকলো, "কই গো, মিনু... আর কত দেরি করবে? গানটা চালিয়ে দিয়েছি কিন্তু... এসো তাড়াতাড়ি।"

চোখ বন্ধ করে শুভেন্দু গান শুনতে শুনতে ডুবে গেছে... আসলে সেই ফেলে আসা সময়টাতে ডুবে গেছে। শুভেন্দু আর মৃন্ময়ীর গানের সুরের সাথে মিশেছে প্রকৃতির ছন্দোবদ্ধ সুর... আহা, কী অপরূপ বৃষ্টির রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম... ব্যাকগ্রাউণ্ড মিউজিক যেন। আজও একই রকম সুরেলা বৃষ্টি। জানালার ঠিক বাইরেই... বাগানজোড়া গাছে, পাতায়, ভেজা ঘাসে, মাটিতে... অবিরাম রিমঝিম রিমঝিম রিমঝিম! শুভেন্দু চেয়ারের হাতলে আলগোছে রাখা হাতের বাহুতে স্পর্শ পেলো... মৃন্ময়ীর স্পর্শ। পাশ থেকে। বড় চেনা, বড় আপন, বড় মনভোলানো এই স্পর্শ। কতদিনকার পরিচয়, কতদিনকার সম্পর্ক! একমুহূর্ত বিচ্ছেদও অসহ্য! মৃন্ময়ীর হাতের ওপরে হাত রাখে শুভেন্দু। আলতো চাপে বুঝিয়ে দেয় অনেক ভালোবাসা আর ভরসা। মৃন্ময়ী মৃদু শব্দ করে খিলখিল করে হাসে। ঠিক যেন বাইরের অঝোরে ঝরে পড়া বৃষ্টির গান... রিমঝিম, রিমঝিম, রিমঝিম। গানটা চলছে মদিরতা ছড়িয়ে...


"এমনি বরষা ছিলো সেদিন

শিয়রে প্রদীপ ছিলো মলিন

তব হাতে ছিলো অলস বীণ

মনে কি পড়ে প্রিয়?


আমি শুধানু তোমায়, বলো দেখি

কোনোদিন মোরে ভুলিবে কি?

আঁখিপাতে বারি দুলিবে কি

আমার তরে প্রিয়?


এমনি বরষা ছিলো সেদিন

শিয়রে প্রদীপ ছিলো মলিন

তব হাতে ছিলো অলস বীণ

মনে কি পড়ে প্রিয়?


মোর হাতখানি ধরে কহিলে হায়

মন দিয়ে মন ভোলা কি যায়?

কাঁদিবে আকাশ মোর ব্যথায়

বাদল ঝরে প্রিয়!


হায়, তুমি নাই বলে মোর সাথে

তাই কি বিরহ বরষাতে

তুমি নাই বলে মোর সাথে

তাই কি বিরহ বরষাতে

এত বারি ধারা আজি রাতে

অঝোরে ঝরে প্রিয়?


এমনি বরষা ছিলো সেদিন

শিয়রে প্রদীপ ছিলো মলিন

তব হাতে ছিলো অলস বীণ

মনে কি পড়ে প্রিয়?"


একসময় মৃন্ময়ী ও শুভেন্দুর মধ্যে বিস্তর কথা কাটাকাটি হয়েছে এই গানটির কথাকার ও সুরকার বিভ্রান্তি নিয়ে... অবশেষে নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জেনেছিলো... কথাকার - প্রণব রায় এবং সুরকার - কমল দাশগুপ্ত। এটি নজরুলগীতি নয়। এখনকার দিন হলে অবশ্য ঝগড়াঝাটি করতে হতো না। এখন ঐ সবজান্তা গুগল ইন্টারনেট আছে না? শুভেন্দু নিজের আঙুলে মৃন্ময়ীর আঙুলগুলো জড়িয়ে নিলো। নীরব নিরুচ্চারিত নির্বাক সান্নিধ্য... তাও কতই না বাঙ্ময়! গান থেমেছে। বাগান থেকে বৃষ্টির সোঁদা গন্ধে মিশে ভেজা শীতল বাতাস বয়ে আনছে ওদের প্রিয় ফুলগুলির মিশ্র সুগন্ধ। বৃষ্টি থামেনি এখনো। না থামুক। মৃন্ময়ী পাশে থাকলে শুভেন্দু যুগ যুগ ধরে এমনি করে কাটিয়ে দিতে পারে। কাউকে চায় না, কিচ্ছু চায় না। শুধু মৃন্ময়ী, মৃন্ময়ী, আর মৃন্ময়ী... শুভেন্দুর সমস্ত অনুভূতি কেন্দ্রীভূত মৃন্ময়ীতে!



******



শুভেন্দুর পারলৌকিক ক্রিয়াকলাপ সম্পন্ন করে শুভময় ও মালবিকা ফিরে যাচ্ছে হাসপাতালে। চন্দন, অমিতা, চুমকির কাজের দায়িত্ব আপাতত তেমন কিছু নেই। মাঝেমধ্যে এসে বাগান ও বাড়ির দেখভাল, ঝাড়পোঁছ করলেই চলবে। ডুপ্লিকেট চাবি তিনজনকেই দেওয়া রইলো। ওদের আত্মীয় স্বজন তেমন কেউ নেই এই শহরে। তিনজন কাজের লোক ওদের অনেক পুরোনো দিনের, বিশ্বস্ত, নির্ভরযোগ্য।

গ্যারেজ থেকে গাড়ি বার করে শুভ দাঁড়িয়েছিলো। দরকারি জিনিসপত্র কাজের লোকেরাই ডিকিতে তুলছিলো। শুভময় ওদেরকে টাকা পয়সা দেবার সময় নাক উঁচিয়ে দীর্ঘ শ্বাস টানলো। বাগান থেকে কামিনী, কেতকী, কদম ফুলের গন্ধ ভেসে আসছে। শুভময় দু-এক সেকেণ্ড কী যেন ভেবে বাড়ির পেছন দিককার বাগানে যাবার জন্য পা বাড়ালো। শুভময়ের বাবা মায়ের হাতে লাগানো গাছপালা সব। মালবিকা এবং চন্দন, অমিতা, চুমকিও অনুসরণ করলো।



বাড়ির একেবারে পেছনে লম্বা ঝাঁকড়া কদম গাছটা দোতলায় শুভময়ের বাবা মায়ের ঘরের দক্ষিণের জানালা প্রায় ছুঁই ছুঁই। পাশেই ফুলে ফুলে সাদা হয়ে পাতা ঢেকে ফেলেছে প্রায় কামিনী আর কেতকী ঝোপেরা। গন্ধে ম-ম করছে। কেমন একটা নেশা ধরানো গন্ধ। শুভময় আরো কয়েকপা এগোলো, কী একটা কালো চকচকে ফিতের মতো জিনিস পড়ে আছে কদম গাছের গোড়ার পাশটাতে দেখে। নীচু হয়ে কুড়িয়ে নিলো জিনিসটা। ক্যাসেটের ছেঁড়াখোঁড়া ফিতে... মানে টেপ। এতো শুভময়ের বাবার প্রাণেরও প্রাণ। এটা এখানে কেন? এভাবে অবহেলায় পড়ে? শুভময়ের মা রিটায়ারমেন্টের দিনেই স্কুল থেকে ফেরার পথে রোড অ্যাক্সিডেন্টে চলে যাবার পর থেকে এই ক্যাসেট নিয়েইতো এতোদিন বেঁচে ছিলো শুভময়ের বাবা। ঐ ক্যাসেটে শুভময়ের মা মৃন্ময়ীর গলা বন্দী হয়ে ছিলো যে। কোনো কোনো গান মৃন্ময়ীর একার গাওয়া। আবার কোনো কোনোটা শুভেন্দুর সাথে গলা মিলিয়ে গাওয়া। শুভময়ের গাল বেয়ে দু'ফোঁটা জল বেরিয়ে এলো। ক্যাসেটের ছেঁড়া ফিতেটা শার্টের পকেটে ঢোকাতে গিয়ে বাগানের ভেজা মাটিতে চোখ আটকালো... কয়েকদিন বাবার কাজের ব্যস্ততায় অন্য কোনোদিকে ওদের নজর যায়নি কোনো। বাগানের পরিচর্যা হয়নি। অবশ্য ছিটেফোঁটা হলেও বৃষ্টি হয়েছে বলে গাছপালা জল পেয়েছে নিয়মিত। বাগানের মাটি ভিজে। তেমন ভারী বৃষ্টি হয়নি ক'দিন, যাতে সব ধুয়েমুছে যায়। আর তাই বোধহয় রয়ে গেছে কদমগাছের গোড়ার ঠিক পাশের ভিজে মাটিতে দু'জোড়া পায়ের ছাপ... লক্ষ্য করে দেখা গেলো গোটা বাগান জুড়েই প্রায় ছড়িয়ে পায়ের দু'জোড়া ছাপ। একজোড়া দশ নম্বর চপ্পলের ছাপ। এতোবড় পায়ের মাপ এবাড়িতে শুভেন্দুরই ছিলো। আরেকজোড়া স্পেশাল জুতোর ছাপ... বাঁ দিকেরটি বেশ ছোট, আর ডান দিকেরটি বড়... মানে স্বাভাবিক। মৃন্ময়ীর বাঁ পাটি পোলিও আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই ছোট ছিলো... শিশুকাল থেকেই।



যুক্তি বুদ্ধি তর্কের ঊর্দ্ধে আজ ডাক্তার শুভময় বসু ও তার স্ত্রী ডাক্তার মালবিকা বসু। সত্যিই কি এর কোনো ব্যাখ্যা হয়? প্রবল বৃষ্টিপাতের দিনে অমিতা দুপুরে সব কাজ গুছিয়ে যাবার সময়ে দেখে গেছে শুভেন্দু দক্ষিণের জানালার ধারের চেয়ারে বসে বসে অ্যালবামের পাতা উল্টে উল্টে ছবি দেখছে। শুভময়ের ছোটবেলার, নানান জায়গায় ঘোরা বেড়ানোর, পুজোর, বাড়ির, বাগানের, শুভময়ের বিয়ের... সব ছবি দেখছিলো আপনমনে। কোনো অস্বাভাবিকতা তো ছিলো না। রোজকার মতো উঠে এসে নীচের দরজা গেট বন্ধ করে দিয়েছে। অমিতাকে তাড়াতাড়ি যেতে বলেছে রিক্সা নিয়ে, বৃষ্টি আসছে বলে। তার পরদিন সকালে চন্দন এসে দরজা গেট বন্ধ দেখে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে শুভময়কে ফোন করে জানিয়েছে। শুভময় আসার পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে শুভেন্দুর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে সিভিয়ার কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মৃত্যু... মানে হার্টফেল। যার ছেলে ও ছেলের বৌ দু'জনেই ডাক্তার... তার কী মর্মান্তিক পরিণতি! শুভেন্দু ও মৃন্ময়ী দু'জনেই কাউকে সামান্যতম সুযোগও দেয়নি। চলে গেছে আকস্মিকভাবে... কাউকে কিছু বলে পর্যন্ত যেতে পারেনি। তবে এতোদিনে বোধহয়... বোধহয় নয়, সত্যি সত্যিই এতোদিনে দু'জনে আবার দু'জনকে ফিরে পেয়েছে। ওঁদের চিরশান্তি হোক। শুভময় বাবার মৃতদেহের কপালে সিঁদুরের টাটকা তিলক দেখেই বুঝেছিলো কিছু... বাড়ির বাকিরাও হয়তো বুঝেছিলো কিছু না কিছু। তবে কেউই মুখে উচ্চারণ করে কিছু বলেনি। আসলে শুভময় তো ছোট্ট থেকেই দেখেছে যে ওর বাবা শুভেন্দু যখনই কোথাও যাবার জন্য যাত্রা করতো, তখনই মা মৃন্ময়ী নিজের সিঁথি থেকে সিঁদুর নিয়ে বাবার কপালে তিলক করে দিতো, যাতে করে বাবার যাত্রা শুভ হয়। শুভেন্দুর শেষ যাত্রাতেও এই নিয়মের ব্যতিক্রম বা অন্যথা মৃন্ময়ী হতে দেয়নি। নিজেদের হাসপাতাল কম্পাউণ্ডে ঢোকার সময়েই তুমুল বৃষ্টি নামলো... ক'দিন পর। আর শুভময়ের গাড়ির এফএমেও তখনই বাজতে শুরু করলো গান...

"এমনি বরষা ছিলো সেদিন

শিয়রে প্রদীপ ছিলো মলিন

তব হাতে ছিলো অলস বীণ

মনে কি পড়ে প্রিয়?..."






Rate this content
Log in