গোয়েন্দা (ধারাবাহিক)
গোয়েন্দা (ধারাবাহিক)
পর্ব একত্রিশ
মি. পবন কুমার ঢাঙ অনুপ্রভা দেবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে থানায় মি. সেনশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন । উদ্দেশ্র ডি এন এ রিপোর্টের ফলাফল জেনে নেওয়া । মি. সেনশর্মা মোটামুটি পবন কুমারকে চিনতেন মানে জানতেন তিনি বিশ্বময়ী দেবীর পূর্বেকার ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য ।
তিনি এও জেনেছেন তিনি পঞ্চানন তথা আসামী বিরিঞ্চির বাবা । পবন কুমার কিন্তু জানতেন না যে তাঁর ছেলে তাঁর সম্পর্কে সব কথা জবানবন্দী হিসাবে রেকর্ড করিয়ে দিয়েছে ।
মি. সেনশর্মা তাঁকে বললেন - ওয়েলকাম মি. ঢাঙ । আপনাকেও আমার খুবই প্রয়োজন ছিল । ভালো হল আপনি নিজেই এসেছেন ।
- আমাকে প্রয়োজন কেন ? আমারই তো আপনাকে প্রয়োজন । এখন ডি এন এর ফলাফলটা বলুন তো মি. সেনশর্মা !
- সেটাতো অত্যন্ত গোপনীয়। তাছাড়া আমি নিজেই জানি না। ফলাফলের রিপোর্ট তো ডক্টর বসুর হেপাজতে রয়েছে । আগামীকাল তিনি আদালতে তা পেশ করবেন ।
- আপনি জানেন মি. সেনশর্মা । ওকে, তাহলে ডক্টর বসুর কাছে যাই। আমাকে জানতেই হবে ফলাফলটা। প্রিম্যাচিউর্ড বেবীর সঙ্গে কার ডি এন এ মিলে গেছে - এটা জানা ভীষণ জরুরী ।
- বুঝলাম । কিন্তু এসেই যখন পড়েথেন তখন আমার কয়েকটা জিজ্ঞাস্য উন্মুক্ত করে যান ।
- বলুন ।
- আসামি পঞ্চানন ওরফে বিরিঞ্চিবাবাকে আপনি জানেন ?
- কোন বাবাকেই আমি জানি না।
- দেখুন মি. ঢাঙ ! আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি জানেন । অস্বীকার করলে কিন্তু ঝামেলায় পড়বেন ।
- বলছি তো জানি না। আপনি অন্য প্রশ্ন করুন ।
- আচ্ছা, মি. ঢাঙ, বছর ত্রিশেক আগের কোন ঘটনার কথা আপনার মনে পড়ে ?
- ওরে বাবা । আমার ভাগ্য ভালো যে আপনি পূর্ব জন্মের কথা বলতে বলেননি ।
- আপনি আবারও এড়িয়ে যাচ্ছেন, মি. ঢাঙ । আপনিই তার নায়ক আর বলতে চাইছেন কিছু জানেন না ?
এরপর তিনি থানা হাজতের দিকে তাঁকে একবার তাকিয়ে দেখতে বললেন ।
- দেখুন তো ওই লোকটাকে চিনতে পারছেন কি না ।
পবন কুমার দেখলেন ছেলেটি পিছন ফিরে শুয়ে আছে।
বললেন - ঠিক বুঝতে পারছি না ।
- ওকে । চলুন দেখিয়ে নিয়ে আসি ।
ওঁরা গেলেন হাজতের সামনে । মি. সেনশর্মা পঞ্চাননকে বললেন - এই যে বিরিঞ্চিবাবা ! এই দেখ কে এসেথে তোর সঙ্গে দেখা করতে ?
নিতান্ত অনীহা প্রকাশ করে পঞ্চানন পাশ ফিরে শুয়ে শুয়ে দেখল পবন কুমারকে ।
হাল্কা সুরে বলল - ও বাবা ।
মি. সেনশর্মা পবন কুমারের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন।
- কি ! মি. ঢাঙ! ও কি বলল ?
পবন কুমার মুখ নীচু করলেন ।
সেনশর্মা বললেন - চলুন অফিসে। অনেক কথা আছে।
পবন কুমার বললেন - কত টাকা চাই আপনার ? ঐক লাখ, দশ লাখ, পঞ্চাশ লাখ ?
- অত টাকা নিয়ে রাখব কোথায়? আমার তো সুইশ ব্যাঙ্কে কোন একাউন্ট নেই ।
- খুলে দেব । সুইশ ব্যাঙ্ক কেন ফরেনের যে কোন ব্যাঙ্কে খুলে দেব । শুধু আপনি আমার এই দান গ্রহন করুন এবং আমাকে অব্যাহতি দেন । জানেন তো শহরে আমার খুব সুনাম আছে। ব্যারিস্টার হিসাবে যথেষ্ট খ্যাতি আছে।
- সবই তো বুঝলাম মি. ঢাঙ । কিন্তু কোটি কোটি টাকা দিলেও সত্যকে চাপা রাখা যাবে না । তার চেয়ে যা বলছি স্বীকার করে নিন এবং এই কাগজে তা লিখে সই করুন ।
- আমি সস্তার মাল নই মি. অফিসার ।
- তাহলে আপনাকে গ্রেপ্তার করলাম । এই কে আছিস এই ভদ্রলোককে একটু বেশিই খাতিরদারি কর তো !
- মি. অফিসার ! আপনি ঠিক কাজ করছেন না । এই নিন আগাম আগাম জামিনের আদেশ ।
অফিসার দেখলেন । তখনকার মত তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন ।
মি. ঢাঙ বিজয়ীর হাসি হেসে বললেন - এসেছিলাম একটা মুখরোচক কাহিনী শোনাতে। রাজী হলেন না । সুতরাং যা বলার আদালতেই বলব।
বলে গটগট করে চলে গেলেন ।
মি. সেনশর্মা ফ্যালফ্যালে চোখ মেলে তার গমনপথের দিকে চেয়ে রইলেন ।
এমন সযয় তপনকিরণ আবার থানায় ঢুকলেন । তাঁর স্ত্রীকে কে বা কারা অটু অশ্লীল কথা শুনিয়ে ভয় দেখিয়ে গেছে। সেই থেকে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে রয়েছেন ।
মি. সেনশর্মা তা লিখিত আকারে জমা দিতে বললেন ।
হসপিটালে ভর্তি করে দিতে উপদেশ দিলেন এবং জ্ঞান ফিরলে তাঁকে খবর দিতে বললেন ।
তপনকিরণ বললেন - ডক্টর সৃঞ্জয় বসুর অধীনে তাঁকে অলরেডি হসপিটালাইজড করে দেওয়া হয়েছে ।
- খুব ভালো করেছেন । এবার আসুন । আমিও ওখানেই যাব ডক্টর সৃঞ্জয় বসুর কাছে ।
তপনকিরণ নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিলেন এবং হাসপাতালে গেলেন ।
( চলবে )

