STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

3  

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

গোয়েন্দা (ধারাবাহিক)

গোয়েন্দা (ধারাবাহিক)

3 mins
133

পর্ব একত্রিশ 


মি. পবন কুমার ঢাঙ অনুপ্রভা দেবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে থানায় মি. সেনশর্মার সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন । উদ্দেশ্র ডি এন এ রিপোর্টের ফলাফল জেনে নেওয়া । মি. সেনশর্মা মোটামুটি পবন কুমারকে চিনতেন মানে জানতেন তিনি বিশ্বময়ী দেবীর পূর্বেকার ট্রাস্টিবোর্ডের সদস্য । 

তিনি এও জেনেছেন তিনি পঞ্চানন তথা আসামী বিরিঞ্চির বাবা । পবন কুমার কিন্তু জানতেন না যে তাঁর ছেলে তাঁর সম্পর্কে সব কথা জবানবন্দী হিসাবে রেকর্ড করিয়ে দিয়েছে ।

মি. সেনশর্মা তাঁকে বললেন - ওয়েলকাম মি. ঢাঙ । আপনাকেও আমার খুবই প্রয়োজন ছিল । ভালো হল আপনি নিজেই এসেছেন ।

- আমাকে প্রয়োজন কেন ? আমারই তো আপনাকে প্রয়োজন । এখন ডি এন এর ফলাফলটা বলুন তো মি. সেনশর্মা !

- সেটাতো অত্যন্ত গোপনীয়। তাছাড়া আমি নিজেই জানি না। ফলাফলের রিপোর্ট তো ডক্টর বসুর হেপাজতে রয়েছে । আগামীকাল তিনি আদালতে তা পেশ করবেন ।

- আপনি জানেন মি. সেনশর্মা । ওকে, তাহলে ডক্টর বসুর কাছে যাই। আমাকে জানতেই হবে ফলাফলটা। প্রিম্যাচিউর্ড বেবীর সঙ্গে কার ডি এন এ মিলে গেছে - এটা জানা ভীষণ জরুরী ।

- বুঝলাম । কিন্তু এসেই যখন পড়েথেন তখন আমার কয়েকটা জিজ্ঞাস্য উন্মুক্ত করে যান ।

- বলুন ।

- আসামি পঞ্চানন ওরফে বিরিঞ্চিবাবাকে আপনি জানেন ?

- কোন বাবাকেই আমি জানি না।

- দেখুন মি. ঢাঙ ! আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি জানেন । অস্বীকার করলে কিন্তু ঝামেলায় পড়বেন ।

- বলছি তো জানি না। আপনি অন্য প্রশ্ন করুন ।

- আচ্ছা, মি. ঢাঙ, বছর ত্রিশেক আগের কোন ঘটনার কথা আপনার মনে পড়ে ?

- ওরে বাবা । আমার ভাগ্য ভালো যে আপনি পূর্ব জন্মের কথা বলতে বলেননি ।

- আপনি আবারও এড়িয়ে যাচ্ছেন, মি. ঢাঙ । আপনিই তার নায়ক আর বলতে চাইছেন কিছু জানেন না ? 

এরপর তিনি থানা হাজতের দিকে তাঁকে একবার তাকিয়ে দেখতে বললেন । 

- দেখুন তো ওই লোকটাকে চিনতে পারছেন কি না ।

পবন কুমার দেখলেন ছেলেটি পিছন ফিরে শুয়ে আছে।

বললেন - ঠিক বুঝতে পারছি না । 

- ওকে । চলুন দেখিয়ে নিয়ে আসি ।

ওঁরা গেলেন হাজতের সামনে । মি. সেনশর্মা পঞ্চাননকে বললেন - এই যে বিরিঞ্চিবাবা ! এই দেখ কে এসেথে তোর সঙ্গে দেখা করতে ?

নিতান্ত অনীহা প্রকাশ করে পঞ্চানন পাশ ফিরে শুয়ে শুয়ে দেখল পবন কুমারকে ।

হাল্কা সুরে বলল - ও বাবা ।

মি. সেনশর্মা পবন কুমারের দিকে ঘুরে দাঁড়ালেন। 

- কি ! মি. ঢাঙ! ও কি বলল ?

পবন কুমার মুখ নীচু করলেন । 

সেনশর্মা বললেন - চলুন অফিসে। অনেক কথা আছে।

পবন কুমার বললেন - কত টাকা চাই আপনার ? ঐক লাখ, দশ লাখ, পঞ্চাশ লাখ ?

- অত টাকা নিয়ে রাখব কোথায়? আমার তো সুইশ ব্যাঙ্কে কোন একাউন্ট নেই ।

- খুলে দেব । সুইশ ব্যাঙ্ক কেন ফরেনের যে কোন ব্যাঙ্কে খুলে দেব । শুধু আপনি আমার এই দান গ্রহন করুন এবং আমাকে অব্যাহতি দেন । জানেন তো শহরে আমার খুব সুনাম আছে। ব্যারিস্টার হিসাবে যথেষ্ট খ্যাতি আছে।

- সবই তো বুঝলাম মি. ঢাঙ । কিন্তু কোটি কোটি টাকা দিলেও সত্যকে চাপা রাখা যাবে না । তার চেয়ে যা বলছি স্বীকার করে নিন এবং এই কাগজে তা লিখে সই করুন ।

- আমি সস্তার মাল নই মি. অফিসার । 

- তাহলে আপনাকে গ্রেপ্তার করলাম । এই কে আছিস এই ভদ্রলোককে একটু বেশিই খাতিরদারি কর তো !

- মি. অফিসার ! আপনি ঠিক কাজ করছেন না । এই নিন আগাম আগাম জামিনের আদেশ ।

অফিসার দেখলেন । তখনকার মত তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হলেন ।

মি. ঢাঙ বিজয়ীর হাসি হেসে বললেন - এসেছিলাম একটা মুখরোচক কাহিনী শোনাতে। রাজী হলেন না । সুতরাং যা বলার আদালতেই বলব।

বলে গটগট করে চলে গেলেন ।

মি. সেনশর্মা ফ্যালফ্যালে চোখ মেলে তার গমনপথের দিকে চেয়ে রইলেন । 

এমন সযয় তপনকিরণ আবার থানায় ঢুকলেন । তাঁর স্ত্রীকে কে বা কারা অটু অশ্লীল কথা শুনিয়ে ভয় দেখিয়ে গেছে। সেই থেকে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে রয়েছেন । 

মি. সেনশর্মা তা লিখিত আকারে জমা দিতে বললেন । 

হসপিটালে ভর্তি করে দিতে উপদেশ দিলেন এবং জ্ঞান ফিরলে তাঁকে খবর দিতে বললেন ।

তপনকিরণ বললেন - ডক্টর সৃঞ্জয় বসুর অধীনে তাঁকে অলরেডি হসপিটালাইজড করে দেওয়া হয়েছে ।

- খুব ভালো করেছেন । এবার আসুন । আমিও ওখানেই যাব ডক্টর সৃঞ্জয় বসুর কাছে । 

তপনকিরণ নমস্কার জানিয়ে বিদায় নিলেন এবং হাসপাতালে গেলেন ।


( চলবে )


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror