STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

3  

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

গোয়েন্দা ( ধারাবাহিক)

গোয়েন্দা ( ধারাবাহিক)

3 mins
121

পর্ব দশ

আজ কলকাতায় ভীষণ উত্তেজনা ছড়িয়েছে । সৌজন্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অবশ্য খবরের কাগজও কিছু কম যায় না । বেশ তারিয়ে তারিয়ে ঘটনাগুলো উপভোগ্য করে তুলেছে । ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ডক্টর বৈশ্বানরের কেস আর কলকাতা হাইকোর্টে হাই-প্রোফাইল তপনকিরণের কেস । সকাল থেকেই দুই আদালত চত্বরে রায় শোনার জন্য বিশাল জন সমাবেশ হয়েছে । পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে ভীড় আটকানোর চেষ্টা করছে।

ব্যাঙ্কশাল কোর্টে অভিযুক্ত বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায়কে আনা হয়েছে। ঈশিকা সামন্ত এবং তার পরিবার পরিজন এসেছেন । ডক্টর সৃঞ্জয় বসুও এসেছেন । দশটা বেজে গেছে। আজ বিচারক সঠিক সময়ে ডায়াসে উপবিষ্ট হয়েছেন । তদন্তকারী অফিসার মি. সেনশর্মা ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায়কে কাঠগড়া পর্য্যন্ত পৌঁছে দিয়ে পজিশন নিলেন । 

ভক্টর সৃঞ্জয় বসু ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায়ের উকিলকে ব্লু-ফিল্মের রীলটি পেশ করতে উপদেশ দিলেন ।বিচারক , বাদি এবং বিবাদী পক্ষের উকিলদের নিয়ে তা দেখবার জন্য পাশের রুমে উঠে গেলেন । ফিল্মটি দেখার পর বিচারক সেটি নষ্ট করারাদেশ দিলেন। ডক্টর সৃঞ্জয় বসু বললেন - স্যার, এখনই নষ্ট করবেন না। আমার নিকট গতকালের তোলা একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও রয়েছে ; অনুগ্রহ করে সেটি একবার সর্বসমক্ষে দেখে নিতে অনুরোধ করি ।

তখন বিচারক সেই আবেদন গ্রহন করে তাও দেখলেন এবং উপস্থিত সকলকেই দেখালেন ।

বিচারক ঈশিকা সামন্তকে ডেকে পাঠালেন। প্রশ্ন করলেন - তোমার কিছু বলার আছে ?

ঈশিকা করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে বলল - স্যার, আমার মনে হয় আমার তথাকথিত প্রেমিকটি কোন আধিভৌতিক ক্ষমতার অধিকারী । আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছি, যতদিন আমি আদালতে এসেছি ততদিন ওই প্রণম্য ডাক্তারবাবুকেই আমার সেই প্রেমিক মনে হয়েছে। আপনারা সকলেই সার সত্যটা দেখেছেন, কিন্তু আমার নেশাগ্রস্ত চোখ দুটো শুধু সূর্য্যকেই দেখেছে। এমনকি ডাক্তারবাবুর গলার স্বরও আমার কানে সূর্য্যের স্বরের মত অনুভূত হয়েছে ।

এই সময় ঈশিকার কথার সুত্র ধরে ডক্টর সৃঞ্জয় বসু কিছু বলতে যাচ্ছিলেন । বিচারক বাধা দিয়ে বললেন - আপনার কথাও শুনব। বাধা দেবেন না । ওকে বলতে দিন ।

তারপর তিনি ঈশিকাকে বললেন - তোমার সাথে যে ছবিগুলো দেখেছি - ন্যাক্কারজনক নি:সন্দেহে। তবু বলব তুমি কি নিশ্চিত যে এখন যিনি ওখানে রয়েছেন তিনিই ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায় ছাড়া অন্য কেউ নন ?

- আমি পুরোপুরি নিশ্চিত স্যার । ওনার উপরে আমার কোন অভিযোগ নেই। আসলে আমার অভিযোগ ওই সূর্য্যকিরণ চৌধুরীর প্রতি যে আমাকে একরকম জোর করে কালীঘাটে বিয়ে করে এবং ঐদিনই হানিমুন মানাতে গোয়া যাবার ছল করে অন্য স্থানে নিয়ে যায় এবং ওই ছবি তোলে ।

 বিচারক ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায়কে বেকসুর খালাস করে দেন । আর তখনই আদালত কক্ষে ঈশিকা সামন্ত চিৎকার করে বলে ওঠে - স্যার , ওই দেখুন সূর্য্যকিরণ চৌধুরী এখানে এসেছে। ওঁকে ছেড়ে দেবেন না স্যার । উনি ডাক্তারবাবু নন, - সূর্য্যকিরণ চৌধুরী। 

বিচারক নিজের কপালে সজোরে করাঘাত করে বললেন - মাই গড ।

ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায় বললেন - ভ্যাম্পায়ার স্যার । হি ইজ নো ডাউট এ ভ্যাম্পায়ার । ডক্টর সৃঞ্জয় বসুর অধীনে ওই মেয়েটিকে চিকিৎসার ভার দিন স্যার । এখন ওই ভ্যাম্পায়ার ঈশিকার শরীরে স্থান নিয়েছে। পুলিশ এসে ঈশিকাকে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেল । ঈশিকা পশুর মত আচরণ শুরু করল। একে কামড়ে দেয়, ওকে চুলকে দেয় - এ রূপ ।

সব অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায় আদালত ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন । ডক্টর সৃঞ্জয় বসু তাঁর হাতে হাত রেখে বলেন - প্রাণভরে শ্বাস নিন স্যার । অহেতুক মানবিকতা দেখাতে যাবেন না। অনেক সময় হিতে বিপরীত হয় - যেমন হয়েছিল আপনার ।

ডক্টর বৈশ্বানর বললেন - আই অ্যাম সো গ্রেটফুল টু ইউ ফর ইয়োর ডেডিকেশন । হোপ ইউ উইল বি এবল টু ডিটেক্ট এণ্ড রিকভার দ্য আনফরচুনেট গার্ল ফ্রম হার হ্যাজার্ডস ।

- স্যার , আপনার হাত আমার মাথায় থাকলে অবশ্যই পারব ।

ডক্টর বৈশ্বানর মুখোপাধ্যায় বললেন - তাহলে ডক্টর আজ থেকে আমি কি রোগী পরীক্ষা করতে পারি? 

- কেন নয় স্যার ! আপনার তো কিছুই হয়নি । নিতান্ত আদালতের অনুমতি ছিল না তাই ---

- এখন তো আমি স্বাধীন নাকি ?

- অবশ্যই স্যার । আপনার উকিল তো বলেই দিলেন বিচারক বলেছেন আপনার প্র্যাক্টিসের উপর আর কোন বিধিনিষেধ নেই ।

ডক্টর গাড়ির কাঁচ খুলে প্রাণভরে মুক্ত বায়ু সেবন করলেন ।


( চলবে )


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror