arijit bhattacharya

Horror


2  

arijit bhattacharya

Horror


ব্যাফোমেটের পেন্টাগন

ব্যাফোমেটের পেন্টাগন

6 mins 388 6 mins 388

শীতকালের ভোররাত ।চারদিক ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। বইছে হিমেল হাওয়া। রাস্তা দিয়ে তীব্র বেগে ছুটে আসছে মারুতি গাড়ি। গাড়িতে এক হ্যান্ডসাম যুবক অজয় আর তার উদ্ভিন্নযৌবনা প্রেমিকা স্বরূপা। অজয় আর স্বরূপার একেবারে ফার্স্ট সাইট লাভ যাকে বলে। বেশিদিন হল দেখা হয় নি কিন্তু দেখা হতেই তাদের একে অপরের প্রেমে পড়তেও দেরি হয় নি। নিয়তির কোন্ অদৃশ্য খেয়ালে তাদের ক্ষণস্থায়ী পূর্বরাগ পরিণত হয়েছে অনুরাগের এক গাঢ় বন্ধনে। তারপর সেখান থেকে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভূত তীব্র শারীরিক আকর্ষণ। স্বরূপার নরম লাল ঠোঁট,ক্ষীণ কোটি আর আপেলের মতো স্তনের আকর্ষণে ডুবে যেতে দেরি হয় নি অজয়ের। স্বরূপার আঁখিতে যেন জাদু আছে। সেই জাদু যেন এক চুম্বকের মতো অমোঘ আকর্ষণে আকর্ষিত করে অজয়কে। কিন্তু, যে ব্যাপারটা অজয়কে অবাক করেছে ,সেটা হল স্বরূপার ঘাড়ের কাছে আঁকা একটা ট্যাটু। স্বরূপা সেটাকে বডিপেন্টিং বললেও অজয়ের মনে হয় পাঁচকোণা বিশিষ্ট চিহ্নটা তার বহুল পরিচিত। একটা সময় দেশবিদেশের ইতিহাস,প্রাচীন ইনকা সভ্যতা, সুমের ও মিশরীয় সভ্যতা,হরপ্পা সভ্যতা আর আমাদের বৈদিক সভ্যতার ধর্মীয় বিশ্বাস আর উপাস্য দেবদেবীদের নিয়ে প্রচণ্ড আকর্ষণ ছিল। সেখানেই কোথায় দেখেছিল এই চিহ্নটা। পাঁচকোণাওয়ালা এই চিহ্নটা তার বিশেষ পরিচিত,কিন্তু ধুর,এইসময় কার সেটাই মাথাতে আসছে না । এখন সে এই চিহ্নটা নিয়ে পুরনো পুঁথি খুলে গবেষণা করবে,না তার প্রেমিকার যৌবনের আগুনে ডুব দেবে, সেটাই মাথায় আসছে না অজয়ের। আগে কলেজ লাইফে তার সাথে অর্পিতার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল,একে অপরকে মনের কথা শেয়ারও করত। হয়তো অর্পিতাও তাকে কিছুটা ভালোবাসত, কিন্তু দুজনের ভালোবাসাময় জীবনে ঝড়ের মতো প্রবেশ স্বরূপার । কোথা থেকে যে কি হয়ে যায়, সে কিভাবে অর্পিতার থেকে দূরে সরে যায় ,অনুভবই করতে পারে না অজয়। শুধু জানে, সে এক ক্ষীণকোটি সুস্তনী নারীর জন্য তীব্র কামনাবহ্নি তে জ্বলতে শুরু করেছে।স্বরূপা কি করে,তার মা বাবা কোথায়-কিচ্ছু জানে না অজয়,শুধু হৃদয়তন্ত্রীতে একটা নামই বেজে ওঠে স্বরূপা। স্বরূপাকে একঝলক দেখলেই তার বুকে বেজে ওঠে হাজার রাগ রাগিণী।

তার আর স্বরূপার মধ্যে যৌন সম্পর্ক আগেই হয়েছে, কিন্তু অজয় অনুভব করছে স্বরূপার সাথে সম্পর্ক হবার পর থেকেই সে মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কর্মোদ্দীপনা কমে আসছে,শরীরে দুর্বলতা জন্ম নিচ্ছে, সে যেন খুব তাড়াতাড়িই বৃদ্ধ হয়ে পড়ছে,চিন্তিত হয় অজয়। না খুব তাড়াতাড়িই একটা কিছু করতে হবে।

এখন সে শহরের কর্মব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে স্বরূপার সাথে লিভ টুগেদার করতে যাচ্ছে প্রতাপগড়ের কাছে পাহাড়ের গায়ে স্বরূপার বাংলোতে। এর কথা সে স্বরূপার কাছ থেকেই শুনেছে। একটা কথা পরিষ্কার, পোশাক আশাকই হোক,আর দামী সুগন্ধিই হোক আর চালচলন,স্বরূপা যে যথেষ্ট ধনী । বুঝতে অসুবিধা হয় না অজয়ের।

যাই হোক, অবশেষে তারা বাংলোর সামনে এসে উপস্থিত হয়। বাংলোটা ঠিক দুর্গের মতো,কিন্তু এখানে কি কোনো লোক থাকে না, আর যদি লোক নাই বা থাকে , তাহলে বাঙলোটাকে এতো সাজালোই বা কারা! আর সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপার বাংলোয় প্রবেশ করার ফটকের ঠিক গায়ে সেই হুবহু একরকম পাঁচকোণা চিহ্ন । চিহ্নটাকে খুব চেনা লাগে অজয়ের,কার যেন প্রতীক এই চিহ্নটা। সে দেবতাও হতে পারে,আবার অপদেবতা। কিন্তু সে টা কে,সেটাও মাথায় আসে না অজয়ের । নিজেকে কেমন যেন এক ঘোরের মধ্যে আছে বলে মনে হয়!

বাঙলোর ভেতরে এক নীলাভ আলো। ঘুরঘুর করে কিছু ছায়া। ভয় পায় অজয়। কিন্তু স্বরূপার যৌবন তাকে চুম্বকের মতো হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বহ্নিবিভিক্ষু পতঙ্গের মতো সেই বহ্নিশিখায় ঝাঁপ দেয় অজয়।

রাতের বেলা। স্বল্পবসনা স্বরূপাকে অপূর্ব লাগছে ।খাওয়া দাওয়ার পর বিয়ার খেতে খেতে অজয়ের মনে হয় আজকের রাতটা স্বরূপার সাথে ভালোই উপভোগ করতে পারবে। অজয় তাকাতেই দুষ্টু এক হাসি খেলে যায় স্বরূপার চোখমুখে।

ঘন অন্ধকার রাত। আজ পূর্ণিমা।অলৌকিক এক অপার্থিব জ্যোৎস্নায় ভাসছে বিশ্বচরাচর ,ভাসছে পাহাড় জঙ্গল। কুয়াশার সাদা আস্তরণের ওপর সেই চাঁদের রূপোলী আলো পড়ে এক অদ্ভূত সুন্দর প্রতিপ্রভার সৃষ্টি করেছে। বইছে মৃদুমন্দ হাওয়া। বাংলোর পেছন দিকে এক পাহাড়ি নদী। সেই নদীর স্বচ্ছ জলে চাঁদের রূপোলী গোল থালার মতো প্রতিবিম্ব দৃশ্যমান। "By silver reeds in a silver stream." দামী কালো জ্যাকেট আর জিন্স পরে বাংলোর ব্যালকনিতে দাঁড়িতে কবির কথাই ধ্বনিত হয় অজয়ের ঠোঁটে। পেছন থেকে তাকে নিজের উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরে স্বরূপা। দুজনেই মেতে ওঠে প্রেমের খেলায়। এই প্রেমের সাক্ষী থাকে পাহাড় জঙ্গল,পাহাড়ি নদী, ফুরফুরে ঠাণ্ডা হাওয়া আর আকাশে হেসে ওঠা ঐ একলা চাঁদ। চাঁদ যেন আজ মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে। সারা বিশ্বচরাচর আশ্চর্য রকম নিঝুম। এই নিস্তব্ধতা যেন ভয়াল ভয়ঙ্কর কোনো ঘটনার পূর্বাভাস।


বাংলোর ওপর আকাশে জমা হওয়া কালো মেঘ আর ঝোড়ো হাওয়া প্রবল অপার্থিব অশুভ কোনো কিছু ঘটার পূর্বাভাস দিতে চলেছে। বাঙলোর শোয়ার ঘরে অজয়ের সামনে চোখে হাজার রহস্য নিয়ে দাঁড়ায় স্বরূপা। অজয়ের ঠোঁটে খেলে যায় দুষ্টু হাসি। স্বরূপা প্রথম বারের জন্য অবাক হয় । কিন্তু, সে নিজের প্রয়াসের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে , তাহলেই তার প্রভুর রক্ততৃষ্ণা নিবারণ হবে,আবার পৃথিবীর বুকে শুরু হবে তার প্রভুর রাজত্ব । লুপ্ত হবে ঈশ্বরের নাম,তার পরিবর্তে রাজত্ব করবে তার প্রভু । শয়তান।


অজয়ের সামনে নিজেকে নিরাবরণ করে স্বরূপা। এখন অজয়ের কামুক চোখের সামনে স্বরূপার ক্ষীণ কোটি আর আপেলের মতো উদ্ধত স্তন। স্বরূপাকে নিজের বক্ষলগ্না করে অজয়। তারপর শুরু হয় দুই নগ্ন শরীরের তীব্র শরীরী মিলন। কিন্তু হঠাৎই সম্মোহনের জাল ছিঁড়ে যায়। জানলা থেকে আসা ঝোড়ো হাওয়ায় উড়তে থাকা স্বরূপার সোনালী চুল,নীলপ্রভ চক্ষুযুগল আর রক্তিম ঠোঁট থেকে বেরিয়ে আসা শুভ্রধবল শ্বদন্ত দেখে অজয়ের মনে একটা কথাই ভেসে ওঠে -"succubus".

প্রাচীনকালে মেসোপটেমিয়ার সুমের সভ্যতায় এদের কথা মেলে। বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টেও এদের উল্লেখ রয়েছে। সেইসমস্ত অভিশপ্ত পিশাচিনী যারা সুদর্শন যুবকদের সাথে যৌন সঙ্গম করে তাদের প্রাণহরণ করে। এভাবেই এরা পায় অনন্ত যৌবনের আশীর্বাদ। কখনো এরা পুরুষের কাছে আসে বাদুড়মানবী রূপে, কখনো বা সুন্দরী মৎস্যকন্যা আর কখনো বা অনুপমা এক উদ্ভিন্নযৌবনা অপরূপা তরুণীর বেশে, যেমন এসেছে অজয়ের কাছে সুদর্শনা স্বরূপার রূপে।হ্যাঁ, মানুষ যেমন উপাসনা করে ঈশ্বরকে, তেমন এদেরও আছে এক উপাস্য দেবতা। বা অপদেবতা বলাই ভালো । সেই প্রভুর মুখ ছাগলের মতো, শরীর মানুষের মতো হলেও হাতে পায়ে চিরাচরিত আঙুলের জায়গায় ছাগলের মতো ক্ষুর। সেই প্রভুর আরাধনার চিহ্নই ঐ পাঁচকোণা চিহ্নটা,যেটা স্বরূপার ঘাড়ে বা বাংলোর ফটকের গায়ে দেখেছিল অজয়।


এক পৈশাচিক স্বরে খিলখিল করে হেসে ওঠে নগ্নিকা।এই হাসি যেন ইহলোকের নয়,উঠে আসছে নরকের কোন্ অতল থেকে।অজয়ের ঘর্মাক্ত শরীর কাঁপতে থাকে। কোনোওক্রমে বলে ওঠে অজয়,"তুমি কোনো মানুষ হতে পার না, কখনোই হতে পার না। কে তুমি! উত্তর দাও।" খিলখিল করে হাসতে হাসতে নগ্নিকা বলে উঠল,"আমি Agrat Bat Matlat, প্রভু ব্যাফোমেটের উপাসিকা। " বিদ্যুৎঝলকের মতো মনে পড়ে গেল অজয়ের," এই Agrat Bat Matlat শয়তানের পত্নী, এই অভিশপ্ত নারী এবং এর দুইজন সঙ্গিনী সাকাবাস। তারা শয়তান ব্যাফোমেটের উপাসনা করে,আজ হয়তো হতভাগ্য অজয়কেই মরতে হবে। অজয়ের রক্তে তুষ্ট হয়ে জেগে উঠবেন শয়তান। অচৈতন্যের অতলে ঢলে পড়ল অজয়।

যখন সে চোখ মেলল, তখন সে দেখল সে অদ্ভূত এক জগতে রয়েছে।এটা কি বাংলোর কোনো ঘর,না অন্য কিছু! তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে এক পিলারের সাথে।চারিদিকে দাউদাউ লেলিহান বহ্নিশিখা, কিন্তু সেই বহ্নিশিখা বরফের মতো শীতল। এটাই কি নরক,প্রশ্ন জাগল অজয়ের মনে!


কিছু দূরেই সিংহাসনে বসা এক নিষ্প্রাণ প্রস্তরমূর্তি। মূর্তিটাকে চিনতে পারল অজয় এক লহমায়,শয়তান ব্যাফোমেট। মূর্তিটা নিষ্প্রাণ,কিন্তু চোখদুটি যেন অতি জীবন্ত। বুঝতে পারল অজয়,মূর্তিটায় প্রাণসঞ্চার হতে বেশি দেরী নেই। তার রক্তে তুষ্ট হলেই প্রভু জেগে উঠবে।

এদিকে আপাদমস্তক কালো আলখাল্লার মতো পোষাক পরিহিত তিনজন রমণী। মুখকেও কালো ঘোমটার আড়ালে আবৃত করে রেখেছে তারা। অজয় চিনতে পারল,এরা তিনজনেই সাকাবাস। তিনজনে দুর্বোধ্য মন্ত্র বিড় বিড় করে পাঠ করছে।তিনজনের হাতেই নীলাভ আলোয় ঝলসে উঠছে তীক্ষ্ণ ছুরিকা। আকাশে উড়ছে অজস্র শকুন। জীবনের অন্তিম অমোঘ পরিণতি খুব নিকটেই ,অনুভব করল অজয়।


হঠাৎই এক অদ্ভূত রহস্যময় হাসি খেলে গেল অজয়ের ঠোঁটে। এরা চেষ্টা করছে তার আত্মাকে শয়তানের দাস বানাবার। কিন্তু তা কি আদৌ সম্ভব। অনেক আগে থেকেই সে শয়তানের ক্রীতদাস।ব্যাফোমেটের পেন্টাগন সে আগেই চিনেছে প্রথম দর্শনেই , শুধু না চিনতে পারার নাটক করছিল মাত্র। সবচেয়ে বড়ো কথা, তার প্রভুর আশীর্বাদবলে অদৃশ্য ক্ষমতায় সে নিজের প্রকৃত স্বরূপ স্বরূপাকে জানতে দেয় নি,এটাও হয়তো মহামহিম প্রভুর অলৌকিক আশীর্বাদ,লীলা মাহাত্ম্য!

সেও তো একজন incubus। শয়তান তো তারও প্রভু আর সে তো তাঁরই।অনন্ত যৌবনের আশীর্বাদ তার ওপর আগেই আছে। তার ওপর প্রভুর কৃপাদৃষ্টি সবসময়ই আছে। আজ মনে পড়ে গেল অর্পিতার সাথে মিলনের সময় যখন অর্পিতা তার সাদা তীক্ষ্ণ শ্বদন্তওয়ালা পৈশাচিক মুখ দেখে চমকে গেছিল। সেদিনই অর্পিতার শরীর থেকে প্রত্যেক রক্তবিন্দু সে শুষে নিয়েছিল।

যদি আজ তার কিছুটা রক্তে প্রভুর রক্ততৃষ্ণা কিছুটা মেটে,তাহলে তো ভালোই। সেও তো এটাই চায়,ঈশ্বরের পরিবর্তে তাদের প্রভু আধিপত্য বিস্তার করুক এই দুনিয়াতে। হয়তো প্রভুর কাছ থেকেই স্বরূপা জানতে পারবে তার সত্যতা। মনে মনে বলে ওঠে অজয়,"স্বরূপা,আই লাভ ইউ!"


Rate this content
Log in