ভোরের সূর্য্য
ভোরের সূর্য্য
পর্ব একুশ
মিলিটারি গোয়েন্দা সংস্থা ' র ' । রিসার্চ এণ্ড অ্যানালিসিস উইং ভারতের প্রতিরক্ষা দপ্তরের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা । তাদের কাজের ধরণই সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেই ' র ' এর এসিস্ট্যান্ট কমাণ্ডার শ্যামলের দুটো কান ধরে টানতেই চিটানো মুখোশ চড়চড় করে ছিঁড়ে চলে এল।
মুখের চামড়ায় আঠা দিয়ে চিটানো ছিল । সাথে শ্যামলের মুখের চামড়াও ছিঁড়ে বেরিয়ে এল। শ্যামল যন্ত্রণায় কুঁকড়ে গেল। কম্যাণ্ডার দেখলেন এ তো অন্য মুখ ।
প্রশ্ন করলেন - তোর নাম কি ?
- ফকরুদ্দিন...
কম্যাণ্ডার টিউব থেকে ডাইল্যুটেড হাইড্রোক্লোরিক এসিড ওর মুখের ছিঁড়ে যাওয়া স্থানে স্প্রে করলেন । জ্বালায় শ্যামলের অবস্থা তখন দেখবার মত ।
বলল - স্যার আমি শ্যামল । শ্যামল সামন্ত ।
- ও ভাবে গাজীর মুখোশ পরে ছিলি কেন ?
- গাজীকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে স্যার । যাতে পুলিশের ধারণা হয় গাজী ধরা পড়েছে ।
- তুই যে শ্যামল সামন্ত বুঝব কি করে ?
- স্যার আমার আধার কার্ড ডাউনলোড করে দেখুন।
কম্যাণ্ডার বললেন - তোর পরিচিত কোন লোকের নাম বল ।
শ্যামল অনেকগুলো নামধাম দিয়েছিল । সেই সঙ্গে শশাঙ্কর নামও বলেছিল ।
বলল - স্যার শশাঙ্ক আমার স্ত্রীর দাদা । ও এখন মজ:ফরপুর সেন্ট্রাল জেলে আছে। ওকে নিয়ে আসুন । ও ঠিক বলে দেবে ।
- ও তোর আরও সাগরেদ আছে তা হলে ? এবার বল তোদের কি উদ্দেশ্য ছিল ?
- উদ্দেশ্য বিধেয় কিছু জানি না স্যার । তবে টাকা রোজগারের লোভে গাজীর জলে ভিড়েছিলাম । কিন্তু যখন শুনলাম গাজী তার বিশেষ ফোন নিয়ে পাকিস্তান না আফগানিস্তানে কার সঙ্গে কথা বলছে ; আমার সন্দেহ হল লোকটা এ দেশীয় নয় । তাই ওর আইফোনটা চুরি করে নিয়েছিলাম ।
- তখনই ওটা পুলিশকে দিস নি কেন ?
- ভেবেছিলাম ওই ফোন দিয়ে কোন খেলা খেলব আর প্রচুর - প্রচুর টাকা রোজগার করব ।
- তুই কি জানিস ওরা ':রিপাবলিক ডে 'তে লালকেল্লায় বিস্ফোরণের আয়োজন করছে।
- সত্যি বলছি স্যার এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না । ধরা না পড়লে কোনদিন হয়তো জানতেও পারতাম না ।

