ভোরের সূর্য্য সর্ব আঠাশ
ভোরের সূর্য্য সর্ব আঠাশ
পর্ব আটাশ
তিহার জেলে গিয়ে পৌঁছালেন প্রখ্যাত ব্যারিস্টার মিঃ সর্বেশ্বর পাণ্ডে এবং ওসি মিঃ হক । কোর্টের আদেশনামা দেখিয়ে জেল সুপারের সঙ্গে দেখা করলেন ।
জেল সুপার মিঃ কুণাল জাজোদিয়া যথাসম্ভব সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন । আদালতের আদেশ - কিছু বলার নেই ।
বললেন - প্রথমে কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ?
এখানে হক সাহেব আগ বাড়িয়ে কথা বললেন না । পাণ্ডেজী বললেন - লেট মি আস্ক শ্যামল সামন্ত ফার্স্ট ।
মিঃ জাজোদিয়া শ্যামলের সেলের দিকে ওঁদের নিয়ে চললেন ।
সরু গলিপথ পেরিয়ে ওঁরা বিশাল পাঁচিল ঘেরা স্পেশ্যাল সেলের ভেতরে ঢুকলেন । প্রথমেই গাজী মোল্লার সেল । সে তখন তন্দ্রাচ্ছন্ন । হক সাহেবকে দেখে চোখ দু'টো কচলে দৃষ্টি দিল । হক সাহেবকে সে খুব ভালো করে চেনে । বহুবার টাকা খাইয়েছে ওঁকে। বহুবার ছাড়াও পেয়ে গেছে । ইচ্ছে করল তাঁকে ডাকে । হক সাহেবও চিনতে পারলেন গাজীকে; যদিও তার মুখের ভূগোলটা পাল্টে দিয়েছে ' র ' এবং এন আই এ । পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন।
গাজী ডাকল - সাব ! ও সাব ! ও হক সাব !
হক সাহেব পিছন ফিরে হাত নেড়ে চলে গেলেন । মিঃ সর্বেশ্বর পাণ্ডে শ্যামলের সেলে ঢুকে শ্যামলকে বললেন - তুম শ্যামল সামন্ত হো ?
শ্যামল দেখল ফর্সা ধবধবে চেহারার স্যুট-বুট পরা সাহেব এসেছেন । আবার জেরা, আবার মারধর, অত্যাচার। শ্যামল সোজাসুজি পাণ্ডেজীর পা জড়িয়ে কান্নাকাটি শুরু করল ।
- আর নিতে পারছি না স্যার । প্লীজ আর মারবেন না । যা যা জিজ্ঞেস করবেন তিন সত্যি করে বলছি সব ঠিক ঠিক জবাব দেব ।
পাণ্ডেজী বললেন - তুম শ্যামল সামন্ত হো ?
- আজ্ঞে স্যার । আমিই শ্যামল সামন্ত ।
- তুমি শশাঙ্কর ভগ্নিপতি ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ । ওর বোন সরস্বতীর সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছে।
- শশাঙ্কর খবর জানো ?
- জানি স্যার । ওর ফাঁসির হুকুম হয়েছে । এখন মজ:ফরপুর সেন্ট্রাল জেলে আছে ।
- ওর ফাঁসির হুকুম হল কেন ?
- আজ্ঞে সেজন্য আমিই দায়ী । সেদিন আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছিলাম ।
- তুমিই তো ওকে ধরিয়ে দিয়েছিলে সামওয়ান গাজীর বেশ ধারণ করে ।
- দিয়েছিলাম স্যার । আমিই ধরিয়ে দিয়েছিলাম । ভেবেছিলাম নিজেকে বাঁচাতে পারব ।
- তোমার স্ত্রী এখন কি করেন ?
- জানি না স্যার । সত্যি বলছি আমি আর ওর কোন খবর পাইনি ।
হক সাহেব বললেন - তোমার স্ত্রীর নাম তো সরস্বতী ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার ।
- তবে শোনো, তোমার রোজগারের টাকায় সে এখন খাসা আছে । মজ:ফরপুরে একটা গণিকালয় খুলে বসেছে ।
- সে কি স্যার ! ছিঃ ছিঃ।
- এখন ছিছিক্কার করলে হবে । তখন তো ভাবনি। নির্ধনের ধন হলে দিনে দেখে তারা । ও এখন পুলিশ হেফাজতে আছে। আসবে, তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে ।
পাণ্ডেজী বললেন - তাহলে তুমি স্বীকার করছ তুমি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছ ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার । আমি মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছি গাজী আদালতে ভয় দেখিয়েছিল বলে ।
- আর জনতার উপর তুমিই বম্ব ছুঁড়েছিলে ?
- হাঁ স্যার । গাজীর নির্দেশে আমিই বোমা ছুঁড়েছি ।
- আর তাতেই তিনজন অন দ্য স্পট মারা গেছল ?
- একদমই স্যার ।
- আদালতে তুমি এই সব কথা বলতে পারবে ?
- পারব স্যার । আমাকে আদালতে নিয়ে চলুন ; আমি সব সত্য ঘটনা বলে দেব ।
- সে দেখা যাবে ।
বলে ওঁরা সেল থেকে বেরিয়ে গাজীর সেলে ঢুকলেন ।
হক সাহেবকে দেখে গাজী লাফিয়ে উঠে হককে জড়িয়ে ধরল।
- বচাইয়ে স্যারজী । মুঝে ইসবার কে লিয়ে বচাইয়ে । ম্যায় বচন দেতা হুঁ ফির কভি এ্যায়সা কাম নেহি করেগা।
জেল সুপার এক লাথি মেরে ওকে সরিয়ে দিলেন । পাণ্ডেজী বললেন - তুম ইয়ে বতাও শ্যামল সামন্তকো বোমা মারনে কে লিয়ে তুমহি বোলা থা ?
- জী সাব ।
- কিতনে পৈসে দিয়ে থে ?
- দো লাখ সে জ্যাদা ।
- গুড । শশাঙ্ককো তুম পহচানতে ?
- জী সাব । অব তো উনকা ফাঁসি হো যায়েগা ।
- ভেরী গুড । তুম উসে ছুপাকে রখা কিউ ?
- শালে বদমাশ লড়কা । এক লড়কিকি সাথ মিলকে মেরা বেওসা চৌপট করনে কা মতলবমে থে । ইস লিয়ে উসকো ছুপা দিয়া ; লেকিন মারা নেহি ।
- জরুরত হি নেহি থা । কিউকি তুম জানতে থে পকড়ে জানে কা বাদ ও এ্যায়সেহি মরেগা । আচ্ছা ইয়ে বতাও, শশাঙ্ক কো ছোড়কে তুম বোম মারণে কে লিয়ে শ্যামল কো কিউ চুনা ?
- কিউকি সাব উসকা ওয়াইফসে মেরা মোহব্বত হো গয়া থা ।
- ও ক্যায়সে ?
- সাব , শ্যামলকো দিনরাত কাম মে লগা দিয়া থা । ইস ফুরসত মে ম্যায় ও লড়কিকো ....
- আদালত তুমহারা বয়ান মাঙ্গেঙ্গে । সবকুছ সচসচ বতাও গে তো ?
- জী বিলকুল সাব । এ্যায়সে মে মেরা তো বাহার জানা হি মুশকিল হো গয়া ।
- মুশকিল হি নেহি; নামুমকিন হো গয়া । কিউকি তুমহারা ভি ফাঁসি তয় হ্যায় ।
ওঁরা জেল সুপারকে ধন্যবাদ দিয়ে এবং ভিডিও/অডিও রেকর্ডিং নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন পাটনার উদ্দেশ্যে ।
( চলবে )

