ভোরের সূর্য্য পর্ব ঊনচল্লিশ
ভোরের সূর্য্য পর্ব ঊনচল্লিশ
হক সাহেব জেলারের বাড়িতে মিঃ পাণ্ডেকে দেখে অবাক হলেন ।
ডাক্তার বাবুও অবাক । কিন্তু বিপাশা এবং জ্যাকলিন দু'জনের কোন ভাবান্তর হল না । যেন এটাই স্বাভাবিক ভেবে দু'জনে একটা সোফায় গিয়ে বসল ।
পাণ্ডেজী হক সাহেবকে আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা নিবেদন করলেন ।
হক সাহেব একবার জ্যাকলিন ও ডাক্তার বাবুর দিকে ; একবার পাণ্ডেজীর মুখের দিকে চাইলেন।
বললেন - এ যে বড় কঠিন কাজ দিলেন স্যার । আমি গিয়ে দুম করে এই কথাগুলো কি করে বলি? আমাকে অন্তত দু'টো দিন সময় দিতে হবে । এখন আমরা ফাঁসির মঞ্চ সাজাতে ব্যস্ত আছি ।
তারপর পাণ্ডেজীকে খোলাখুলি সব কথা বলে দিলেন। পাণ্ডেজী বললেন - কি করেছেন মশাই ! এ যে কল্পনারও অতীত । দুর্দান্ত আইডিয়া। আমিও চাই ওরা সুখে থাক ।
হক সাহেব বললেন - এই ব্যাপারটা ভালোয় ভালোয় মিটে গেলে আপনার কাজে হাত দেব ।
- উঁহু ! আমারটাও কম আর্জেন্ট নয় ! কোন ওজর আপত্তি চলবে না । একসঙ্গে দু'টো কাজই করতে হবে ।
কথা চলছিল আড়ালে ; ঠিক জেলার হাহেবের রান্নাঘরের পিছনে । সঞ্জনা কুমার সব শুনেছেন । জানালার কপাট আর একটু বেশী ফাঁক করে মুখ বাড়িয়ে বললেন - উকিল সাব! আপলোগ ইয়াহা কৌনসি বাতো মে অটক গয়া ?
লজ্জিত হলেন পাণ্ডেজী । বললেন - ম্যা'ম , পতা নেহি থা ইয়ে আপকা কিচেন হ্যায় । আই অ্যাম সরি । প্লীজ ডোন্ট মাইন্ড।
হক সাহেবও লজ্জায় পড়েছেন দেখে মিসেস কুমার পিছনের দরজা খুলে তাঁদের সামনে এসে দাঁড়ালেন।
- বোলিয়ে কন মুশকিল মে আপ ফাঁস গয়া ?
তখন সর্বেশ্বর পাণ্ডেজী সব বলতে বাধ্য হলেন । শুনে মিসেস কুমার বললেন - ঠিক হ্যায়, ম্যায় কোশিশ করুঙ্গা। হক সাহেব যেন বেঁচে ফিরলেন ।
জেলার সাহেব এতক্ষণ ডাক্তার বাবুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। জ্যাকলিনকে দেখিয়ে বললেন - আপনার মেয়ে ?
ডাক্তার বাবু বললেন - হ্যাঁ। পড়াশোনা করছে ।
- দেখে তো মনে হচ্ছে বিবাহ যোগ্যা হয়ে গেছে ।
ডাক্তার বাবু হাসলেন । বিয়ের কথা আমিও ভাবছি । কোন ভালো পাত্র পেলে ...
- বেশ । খোঁজ করুন । আমার ও সব ঝামেলা নেই ।
- মানে ?
জেলার সাহেব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন - কপালে নেই । আমার মিসেসের ওভারি কেটে বাদ দিতে হয়েছে। নইলে ওকে বাঁচানো যেত না ।
- ভেরি স্যাড । কাউকে এডপ্ট করতে পারতেন ।
- চেষ্টা করেছিলাম, ও রাজী হয়নি । জানেন এ'জন্য আমাকে কত বড় একটা কথা বলেছিল !
ডাক্তার বাবু উদ্গ্রীব হয়ে চেয়ে রইলেন ।
জেলার সাহেব বললেন - জানেন ওর কত দু:সাহস । আমাকে বললেন ' ছেলেপুলে চাও তো আবার বিয়ে কর; আমি বাধা তো দেবই না উপরন্তু কোলেপিঠে করে বড় করে তুলব ' ।
সঞ্জনাকে আসতে দেখে চুপ করে গেলেন । সঞ্জনা বিপাশি এবং জ্যাকলিনকে বললেন - তোমরা এস আমার রুমে । এখানে ওঁদের পাশে চুপচিপ না থেকে ওখানে গিয়ে টিভি দেখ ।
ওরা চলে গেল । মিসেস কুমার কোন ভূমিকা ছাড়াই ডাক্তার বাবুকে বললেন - মেয়ে তো আপনার খুব মিন্টি । তা' বিয়ে থা দেবার ইচ্ছে আছে না কি !
- ম্যা'ম বিয়ে তো দিতেই হবে । কিন্তু যোগ্য পাত্র না পেলে ...
- আমার হাতে আছে । যদি মনে করেন কথাবার্তা চালিয়ে দেখতে পারেন ।
জেলার সাহেব হতবাক । তাঁর স্ত্রী যে এমনই স্পষ্ট বক্তা ।
বললেন - মিঃ হক আর মিঃ পাণ্ডে কোথায় গেলেন ?
পাণ্ডেজী বললেন - এই যে স্যার । এসে গেছি ।
হক এবং পাণ্ডে বসলেন । মিসেস সঞ্জনা কুমার পাণ্ডেজীকে দেখিয়ে বললেন - উকিলবাবুর সঙ্গে কথা বলুন স্যার । উনি অনেক জটিল কেস সমাধান করেছেন আর আপনার এই ছোট্ট কেসটা সামলাতে পারবেন না ? আমি এখনই আসছি । আপনারা ততক্ষণে কথা বলে নিন।
ডাক্তার বাবু কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চেয়ে রইলেন পাণ্ডেজীর মুখে দিকে । পাণ্ডেজী নিজের প্রয়োজনে কথা শুরু করলেন ।
- বলুন ডক্টরসাব ! আপকা কেয়া কেস হ্যায় ।
ডাক্তারবাবু কিছু বলতে পারছেন না দেখে জেলার সাহেব বললেন - আপনি ঘটকালিও করেন নাকি মশাই, মিঃ পাণ্ডে ।
মিসেস কুমার যে সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় এবং সঠিক লোকটির মনে বাজনা বাজিয়েছেন ; পাণ্ডেজী তা বিলক্ষণ অনুধাবন করলেন ।
( চলবে )

