ভোরের সূর্য্য পর্ব ছাব্বিশ
ভোরের সূর্য্য পর্ব ছাব্বিশ
পর্ব ছাব্বিশ
এস পি সাহেব সরস্বতীকে বললেন - কি যেন বলতে বললেন ওই মেয়েটিকে ?
সরস্বতী হেসে গড়িয়ে পড়ল । মেয়ে ? হা হা হা ! কি যে বলেন স্যার ? ওর পেটে কত বাচ্চা জন্ম নিয়েছে জানেন ?
এস পি সাহেব প্রসঙ্গান্তরে যেতে চাইলেন ।
- প্রগলভতা ছাড়ুন । টাকা পয়সা কোথায় রাখেন জানান ?
সরস্বতী তখনও হেসেই চলেছে । বলল - অ গুলাবী বউ! নে, এবার বাবুদেরকে বল টাকাগুলোর কি সদ্গতি করেছি ।
গুলাবী বউ কি বলে শুরু করবে ভাবছিল । সরস্বতী ডান কনুইয়ের গুঁতো মেরে বলল - বল না! এত লজ্জা কিসের ?
তারপর এস পির দিকে ফিরে বলল - স্যার, ওই টাকা দিয়ে শহরে একটা ব্যবসা ফেঁদেছি ।
হক সাহেব বললেন - কিসের ব্যবসা ? গোলদারি না স্টেশনারী , নাকি কাপড়-চোপড়ের ব্যবসা ?
সরস্বতীর মুখে হাসিটি লেগেই আছে । যেন এক বৃহৎ সৎকর্ম করছে - তেমনি ভাণ করে বলল - বেশ কিছু মেয়েদের কাজে লাগিয়ে দিয়েছি স্যার । চব্বিশ ঘন্টার ডিউটি । কি করব ! অন্য কোন উপায় নেই । তবে ভবিষ্যতে যদি আরও কোন অভাবী মেয়ে পেয়ে যাই তবে শিফ্ট ভাগ করে দেব ।
এস পি সাহেবের কেমন হেঁয়ালির মত মনে হল ।
কপট রাগ প্রকাশ করে বললেন - খোলাখুলি বল ? নইলে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হব ।
সরস্বতী বলল - খোলাখুলিই তো বলছি স্যার । আপনি যদি বুঝতে না পারেন - সে কি আমার দোষ ?
হক সাহেব বললেন - বুঝে গেছি সব । চল দেখি তোমার কর্মকাণ্ড দেখে আসি !
সরস্বতী হেসে গড়িয়ে পড়ল আবার ।
- ঘন্টাপিছু দু'শো লাগবে স্যার । রাজী আছেন তো চলুন ।
ও গুলাবী বউ ছবিগুলা দেখা না সাহেবকে !
গুলাবী বউ কয়েকটা চটুল মেয়ের ছবি হক সাহেবের হাতে তুলে দিল ।
একবার চোখ বুলিয়ে হক সাহেব সোফা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন ।
- তৌবা তৌবা ! স্যার , এরা দেহ-ব্যবসা করে ।
এস পি সাহেব বললেন - ওদের এখনই গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে ঊলুন । আর এই বাড়িটায় পাহারার বন্দোবস্ত করুন ।
গমগমে মেজাজে এস পি সাহেব গটগট করে গাড়িতে উঠলেন । হক সাহেব মেয়ে-পুলিশের হাতে ওদের দু'জনকে তুলে দিয়ে এস পি সাহেবের অনুসরণ করলেন ।
এস পি সাহেব পাটনা হেডকোয়ার্টারে জানিয়ে দিলেন সব ইতিহাস এবং এও জানিয়ে দিলেন দে হ্যাম বিন এরেস্টেড ফর ইলিগ্যালি কন্ডাক্ট অফ এ প্রস্টিটিউশন।
সম্প্রতি পতিতাবৃত্তিকে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট বৈধতা দিয়েছেন । সেই সুত্রানুসারে পতিতাবৃত্তির জন্য নয় অবৈধ পতিতালয় চালনার জন্য ওদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে ।
হক সাহেব ফোনে ডক্টর অক্টারলোনীর সঙ্গে কথাপ্রসঙ্গে সরস্বতী অর্থাৎ শশাঙ্কের বোনের কথা জানালেন । ডাক্তার বাবু শশাঙ্কের বোনের খবর পেয়ে খুশী হলেন । কিন্তু তার গর্হিত কাজের জন্য ক্ষুব্ধও হলেন । এ যে দেখছি শশাঙ্কর বোনও একজন ক্রিমিনাল ।
বিপাশা বলল - ফোনে শুনে কিছু ভেবে বসবেন না স্যার । মেয়েরা এমনি এমনি ওই বৃত্তি নেয় না ।
- তুমি জানো না বিপাশা ! শশাঙ্কর বোন অভাবে পড়ে এমন কিছু করেছে । সে রীতিমত ধনী । ওর স্বামীর রোজগারের টাকায় দেহ বিক্রির ব্যবসা শুরু করেছে। কিন্তু এটা ঠিক সে নিজে দেহোপজীবিনী নয় ।
বিপাশা কোন মন্তব্য করতে পারল না । সত্যিই তো অভাবে পড়লে বা অনন্যোপায় হলে মেয়েরা হয়তো এমন বৃত্তি নেয় ; কিন্তু স্বভাবলোভী হয়ে এমন কাজ সমর্থনযোগ্য নয় ।
বিপাশা বলল - আমাদের কেসের ব্যাপারে স্যার কিছু বললেন ?
- হ্যাঁ, আগামী মঙ্গলবার আদালতে শুনানি হবে বলে জানিয়েছে । আমরা যাব তো !
বিপাশা বলল - স্যার, আমার মনে হচ্ছে পুলিল সরস্বতীকে গ্রেপ্তার করেছে তার বিশেষ কারণ আছে।
- কি রকম ?
- মনে হয় ওর স্বামীর সামনে নিয়ে গিয়ে আসল সত্যটা জানার চেষ্টা করছে ।
ডাক্তারবাবু বললেন - শশাঙ্কর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করাবে হয়তো।
বিপাশা বলল - আমরা কবে যাচ্ছি ?
জ্যাকলিন - ডাক্তারবাবুর মেয়ে ; এসে বলল - এবার কিন্তু আমিও তোমাদের সঙ্গে যাব ।
ডাক্তার বাবু বললেন - বেশ যেও। তবে বিপাশা - এবার আমরা হকের বাড়িতে নয়; সোজাসুজি পাটনায় গিয়ে উঠব । একটা হোটেল বুকিং করে নিচ্ছি ।
তিনি হক সাহেবকে তা' জানিয়ে দিলেন ।
( চলবে )

