STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Classics Crime

4  

Nityananda Banerjee

Horror Classics Crime

ভোরের সূর্য্য চৌত্রিশ পর্ব

ভোরের সূর্য্য চৌত্রিশ পর্ব

3 mins
370

পর্ব চৌত্রিশ 


এরপর মিঃ হক সেই লোকটিকে সঙ্গে নিয়ে একটা পরিত্যক্ত বাগান বাড়িতে একজনকে উদাস মনে বসে থাকতে দেখলাম ।

সঙ্গের লোকটি বলল - ওই দেখুন স্যার । যার খোঁজ করছেন সে কাজ সেরে কেমন আরামে গাছের ছায়ায় নিশ্চিন্তে বসে আছে ।

স্যার ! দেখলাম যুবকটি এক চাঁচাছোলা গাজী। চুল নেই , গোঁফ দাড়ি নেই, এমনকি ভ্রু জোড়াও নেই । দেখতে কিম্ভুতকিমাকার মনে হলেও; ভাবলাম গাজীই হবে । কারণ গাজী যে বহুরূপী! কখন কি বেশ নেয় আল্লাও জানেন না । 

পিছন থেকে আস্তে আস্তে খুব সাবধানে পা চালিয়ে চললাম । শুকনো পাতায় পা পড়লে যাতে শব্দ না হয় , সে জন্য জুতোদুটো খুলে দিয়েছিলাম ।

লোকটা একমনে কি সব ভাবছিল । হয়তো পালানোর মতলব আঁটছিল । কিছুটা যেতেই ও পিছন ফারে তাকাল । আমাকে দেখে দৌড়ানোর বদলে আমারই দিকে হেঁটে আসছিল । তিন হাতের মত ডিস্ট্যান্স পেয়েই ওকে জাপ্টে ধরে এলোপাথাড়ি কিল চড় মেরে কাবু করে ফেললাম ।

তারপর টেনে হিঁচড়ে ওকে ভ্যানে তুলে সোজা থানায় ।

ম্যারাথন জেরা করেছি স্যার । একটাও উত্তর দেয়নি । তারপর শুরু করি মারধর, নানারকমের অত্যাচার এমনকি থার্ড ডিগ্রি দিয়েও যখন কোন কাজ হল না - আদালতে তুলতেই হল । 

মিডিয়া প্রচার করে দিল একজন কুখ্যাত জঙ্গীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছছ । ফলে কোন উকিল ওর পক্ষ নিলেন না । এমনকি বিচারককে সোজাসুজি জানিয়ে দিল মৃত্যুদণ্ড দিলেও আমি কিছু বলতে চাই না ।

ওর নাকি জীবনে বৈরাগ্য এসেছে । এমন সময় শ্যামল সামন্ত বলল - স্যার ওইই যে বোমা মেরে তিনজনকে খুন করেছে তার প্রত্যক্ষদর্শী আমি। আমিও তো সেই মিটিংএ ছিলাম।

তারপর বেশ কয়েকজন সাক্ষ্য দিল । আদালত ওকে শেষবারের মত আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিলেও সে তা অগ্রাহ্য করল । ফলে বিচারক ওকে ফাঁসিতে ঝোলানোর আদেশ দিলেন ।

বিচারক বললেন - আর তারপরই আনার প্রমোশন হয়ে গেল ।

হক সাহেব বললেন - আজ্ঞে হ্যাঁ স্যার।

- আপনি কি মনে করেন আপনার তদন্ত ত্রুটিমুক্ত ছিল ?

- স্যার , এখন তো মনে হচ্ছে আমার আরও সাবধান হয়ে তদন্ত করলে ভালো হোত ।

- অর্থাৎ আপনি স্বীকার করছেন আপনি ত্রুটিমুক্ত তদন্ত করেননি । উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেননি ।উল্টে আসল ক্রিমিনালদের এড়িয়ে গেছেন ?

হক সাহেব চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করলেন । পরে বললেন - স্যার আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলাম । 

- তার চেয়েও বেশী সচেষ্ট ছিলেন নিজের প্রমোশন নিয়ে ?

আপনা তো আরও শিক্ষানবীশী প্রয়োজন । ঠিক আছে । আপনি আসতে পারেন ।

এবার দুই বিচারপতি মিলে কিছু আলোচনা সেরে নিলেন । কোর্টে তখন গুঞ্জন শুরু হয়েছে । তাঁদের এক বিচারক বললেন - এখনকার মত কোর্ট এডজোর্ণড। আমরা কিছু টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে আজ বিকেল সাড়ে চারটের মধ্যে রায় পড়ে শোনাব।

বিচারপতিরা কক্ষত্যাগ করে চলে গেলেন । সর্বেশ্বর পাণ্ডে, হকসাহেবকে সঙ্গে নিয়ে ডাক্তার বাবুর সঙ্গে বাক্য বিনিময় করতে লাগলেন ।

পাণ্ডেজী বললেন - মিঃ হক, আপনার অভিনয় কিন্তু নিখুঁত হয়েছে । যদিও আপনার প্রমোশন নিয়ে বিচারকেরা একটা প্রশ্ন চিহ্ন এঁকে দিয়েছেন; তবু বলব আপনি আমিকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন ।

হক সাহেব বললেন - এমন প্রমোশন কিন্তু সত্যি আমি চাই না স্যার । জজসাহেবরা যদি আমার প্রমোশন খারিজও করে দেন আমি কিছু মনে করব না ।

ডাক্তার বাবু, বিপাশা এবং জ্যাকলিন তিনজন একসাথে বলে উঠলেন - কি যে হবে ! ঈশ্বর জানেন।

ঘড়িতে কাঁটায় কাঁটায় চারটে বেজে ত্রিশ । বিচারকদ্বয় নিজেদের আসনে এসে বসলেন । কোর্টে তখন পিন ড্রপ সাইলেন্স । কেউ জোরে শ্বাস নিচ্ছে না ।সকলের নজর বিচারকদের দিকে ।

ওঁরা পরস্পর পরস্পরের দিকে চেয়ে হাসলেন । 

তিনশ' দশ পাতার রায় নয় ; মাত্র দশ পাতার রায় কাগজে মুদ্রিত হয়ে উঠে এল বিচারকদের হাতে ।

খসড়ায় চোখ বুলিয়ে নিলেন দু'জনেই । কোথাও কোন শব্দ বাদ পড়েনি, বানানে ভুল নেই । রায়ের কাগজে সীলমোহর দিলেন উভয়ে । তারপর একজন বিচারক বলতে শুরু করলেন - পঁচিশ বছর এই পদে কাজ করছি । অনেক মামলার রায় পড়েছি । চেষ্টা করেছি সংবিধান অনুযায়ী বিচারের প্রক্রিয়াকে সম্মান দিতে । অনেক মামলা । অনেক সত্য ঘটনার প্রতিক্রিয়া দিয়েছি । কিন্তু আজ এই অভূতপূর্ব একটি মামলার রায় দিতে পেরে আমরা নিজেদের ধন্য মনে করছি ।

( চলবে )



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror