Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Agniswar Sarkar

Fantasy


1  

Agniswar Sarkar

Fantasy


ভাগের মা

ভাগের মা

3 mins 907 3 mins 907

ঢং ........ঢং . . . . . ঢং . . . . .

তৃতীয় পিরিয়ড শেষ হল বকুল বাগান প্রাইমারি স্কুলের । রিন্টু শেষ বেঞ্চের এক পাশে বসে আছে । আজ মনটা একদমই ভালো নেই ওর । বার বার মনে পড়ে যাচ্ছে কাল রাতের সেই পৈশাচিক ঘটনাটা । বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছে বাবার মুখটা । সঙ্গে ভেসে উঠছে ঠাম্মির করুণ মুখটা । কী এমন হল যে রিন্টুর প্রাণপ্রিয় বাবা আজ রিন্টুর মনকে এত পীড়া দিচ্ছে । সম্বিত ফিরল হেড দিদিমণির গলা শুনে ।

“ বাচ্চারা আজ তোমাদের সঙ্গে গল্প করতে এসেছে প্রসূন কাকু । তোমরা কাকুকে কেউ জ্বালাতন করোনা যেন । “ , বলেই চতুর্থ শ্রেণির কক্ষ ত্যাগ করলেন দিদিমনি ।

রিন্টু প্রসূন কাকুকে চেনে । বাবার সঙ্গে একটা অফিসে গিয়েছিল , সেখানেই দেখা হয়েছিল কাকুর সঙ্গে । ফিরে আসার সময় রিন্টুকে ডেকে একটা চকলেট দিয়েছিল কাকু ।   

কাকু আজ সকলের সঙ্গে খুব মজা করল । অনেক মজার মজার গল্প বলল । মনটা অনেকটা ভালো হয়ে গেল রিন্টুর । সকালের গুমোট ভাবটা এক ধাক্কায় অনেকটা কেটে গেছে । প্রসূন কাকু শেষে ‘ বিদ্যাসাগরের মাতৃভক্তি ‘ নিয়ে একটা গল্পও শোনালেন ।

গল্পের শেষে কাকু বলল , “ জানিস কলকাতার বাড়িগুলো যত বড় হচ্ছে মানুষের মনগুলো তত ছোট হচ্ছে । বিদ্যাসাগর তাঁর মা কে কত ভালোবাসতেন । আর আজ সেই মাকেই ভাগাভাগি করছে তার ছেলে মেয়েরা । আগে সবাই একটা বড় বাড়িতে থাকতো , সেখানে সবাই মিলেমিশে থাকতো আর আজ সবাই ছুটছে একটা ফ্ল্যাট নিয়ে আলাদা থাকার জন্য । আর জানিস সেই পুরানো বাড়িগুলোকে লোকে ‘ দেশের বাড়ি ’ বলে । বাড়িটা কি সত্যি দেশের ? ”

রিন্টুর মনে হল তাদের একটা দেশের বাড়ি আছে গয়েশপুরে । পুজোর সময় সবাই যায় । ওখানে রিন্টুদের পারিবারিক দুর্গাপুজো হয় । রিন্টুর ছোট থেকেই মনে হয় , পড়াশোনা শেষ করে সেই ওই গ্রামেই থাকবে । ভবানীপুরের ওই ফ্ল্যাটটাতে কেউ থাকতে পারে নাকি ? দুটো ঘরের মধ্যেই আবদ্ধ থাকতে হয় । গয়েশপুরের বাড়িটা কত বড় । সারা বছরই ফাঁকা পড়ে থাকে । রিন্টু যখন দাদার মতো কলেজে পড়বে তখন সে গ্রামেই থাকবে । শুধু একা রিন্টু নয় সব্বাইকে নিয়ে ওখানে থাকবে । রোজ ছাদে বসে ঠাম্মির কাছে গল্প শুনবে সে ।

হঠাৎ মনে পড়ে গেল কাল রাতের কথা । বাবা চিল্লিয়ে চিল্লিয়ে ঠাম্মিকে বলছিল , “ প্রবীরের ও তো একটা দায়িত্ব আছে । আমি আর তোমার কত অসুখের কথা শুনবো ? ওর তো উচিত তোমাকে নিয়ে গিয়ে নিজের কাছে রাখা । উনি গ্রামের বাড়ি থেকে বসে ছড়ি ঘোরাবে আর আমি এখানে আমার সব সুখ আহ্লাদ বাদ দিয়ে ডাক্তার আর ঘর করবো । আরে বাবা , অতই যখন মা এর উপর দরদ , মা কে নিয়ে নিজের কাছে রাখ না । “ রিন্টু দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেছিল ঠাম্মির করুণ মুখটা । গাল দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে ।

হুঁশ ফিরলো প্রসূন কাকুর ডাকে । “ তুমি শীর্ষেন্দু না ? পিছনে গোমড়া মুখ করে বসে আছো কেন ? কেউ বকেছে ? এসো সামনে এসো । “

“ এই রে ! কাকু কি সব বুঝে গেলেন না কী ? “ । রিন্টু ভাবতে ভাবতে সামনের বেঞ্চের দিকে এগোতে শুরু করল ।

“ কী হয়েছে তোমার ? তুমি চাইলে আমাকে বলতে পারো । কেউ যদি তোমাকে বকে থাকেন তবে আমি তাকে গিয়ে বলবো তুমি খুব ভালো ছেলে । আর কথা না শুনলে সোজা জেলে পুরে দেব । আমি কলকাতা পুলিশে কাজ করি । “ , বলে একটা হাসি হাসি মুখ করে রিন্টুর দিকে তাকালেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার প্রসূন পাল । তিনি আজ বাচ্চাদের স্কুলে পরিদর্শনে এসেছিলেন । তাঁর হঠাৎ মনে হল স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাবেন ।

রিন্টুর গলা ফেটে কান্না বেরিয়ে আসতে চাইছিল । তার বার বার মনে হচ্ছিল কাকুকে এই প্রশ্নটা করতে , “ কাকু আমি যখন বড় হব তখন মা কার কাছে থাকবে ? আমার কাছে না দাদার কাছে ? “

প্রশ্নটার উত্তর কোনও বইয়ে লেখা নেই বা কোনও স্যার তাকে শেখায় নি । বাবা বাড়িতে রোজ তাকে কোলে নিয়ে পড়াতে বসায় । আজ কী সে একবার সাহস করে প্রসূন কাকুর বলা ‘ বিদ্যাসাগরের মাতৃভক্তির ‘ গল্পটা বাবাকে শোনাবে ?  


Rate this content
Log in

More bengali story from Agniswar Sarkar

Similar bengali story from Fantasy