STORYMIRROR

Apurba Kr Chakrabarty

Abstract Horror Romance

3  

Apurba Kr Chakrabarty

Abstract Horror Romance

অজানা পথে (পর্ব ৩৮)

অজানা পথে (পর্ব ৩৮)

3 mins
165

ময়না কোন উত্তর দিল না।কেমন থমথমে মুখ চোখ দুটো জলে ছলছল করছে শুধুমাত্র বিনয়ের দিকে যেন এক ভাবে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে বোঝাতে চাইছিল সে খুব ভয়ার্ত্ত।

বিনয়ের খুব রহস্য লাগছিল। শরীরের দুর্বলতায় সে কী একা একা শুয়ে থাকতে ভয় পাচ্ছে!বিনয়ের খুব মায়া লাগল। ময়নার দুর্বল অসুস্থ নিরীহ মুখ অনেক কিছুই সে যেন বলতে চায় অশ্রু ভেজা চাহনি বলতে সাহস করছে না। বিনয় দরদী মনে বলল,


" তুমি নির্ভয়ে ঘুমাও।" তারপর ময়নাকে কাছে টেনে নিয়ে তার গায়ের উপর তার হাত চাপিয়ে জড়িয়ে ধরে একটু সাহস ভরসা দিল।

 

ময়না অভির বুকের কাছে মুখ লুকিয়ে একটু যেন ভয় মুক্ত হল। একটু পর আবার ঘুমিয়ে গেছিল। রাতে এক সময়ের বিনয়ও ঘুমিয়ে গেছিল।

পরদিন সকালে বিনয়ের ঘুম থেকে উঠতে দেরী হল।তখন প্রায় সকাল সাতটা।বিনয় দেখল ময়না ঘরে নেই।পাশে গোপাল তখনও ঘুমাচ্ছে।

অভি তাড়াতাড়ি গোপালের শয়ন স্থান হাত দিয়ে দেখল যাক ভিজিয়ে ফেলেনি। ময়না ঘরে ঢুকে যেন বিনয়কে চিন্তা মুক্ত করল।ময়না মনে হল বেশ সুস্থ।বলল, 


"দাদা আমি গোপালকে হিসি করিয়ে এনেছি।"


বিনয় বলল "তুমি সুস্থ বোধ করছ।"


"হ্যাঁ দাদা আমি পাঁচটার উঠেছি।"


"আমাকে তুললে না!"


"ভাবলাম আপনার গতকাল কত কষ্ট হল কত রাত অবধি ঘুমান নেই।একটু ঘুমান শরীরটা বিশ্রাম পাবে।"


"এখন আর শরীর খারাপ বা ভয় যাইহোক নেই তো!"


"না দাদা গতরাতে কী আমার মরন দশা কেমন মনের মধ্যে ভয় হচ্ছিল আর নেই।আপনার চা আনি দাদা।"

বিনয়ের আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়েছিল। আটটার সময় ময়নার মেডিক্যাল টেস্ট রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তার বনশ্রী ম্যাডামকে দেখানো কথা। অভি বেড টি পান করে ব্রাশ করে বাথরুম টয়লেট কাজ সেড়ে,আর টিফিন করার ধৈর্য ধরল না।


ময়না বলল "একটু দেরী হোক দাদা আমি ডিম টোস্ট করে দি।"


বিনয় বলল,"এসে খাব,ম্যাডাম আবার আটটার পর যদি নার্সিংহোমের চলে যান সমস্যা হবে।"


ময়না আর কিছু বলতে সাহস হল না।ময়না ভীষণ ভীতু নরম স্বভাব নার্ভাস গতকাল রাতে বিনয়ের রাগ দেখেছে।আগে দেখেনি।এজন্য একটু ভয় ভয় করছিল

 

বিনয় তাকে স্নেহ করে,সেটা তার করুনা,এর মানে সে যে তার যোগ্য তা নয়। তার বিনয়দার উপর অধিকার কিছুই নেই, শুধুমাত্র গোপাল মায়ের মত যদি বিশ্বাস ভরসা করে, আর বিনয়দার মনমত চলি তবেই এ গৃহে থাকা নিশ্চিত।


ময়না জীবনে হাজার ভাবে প্রতারিত মা বাবা মামা সৎমা থেকে পাতানো মামা সবাই তাকে প্রতারিত করেছে।আর মাসী শামসুর শ্বেতাঙ্গ সাহেব আর বাকী তার খদ্দের তার শরীরটা শুষে খেয়েছে।কেউ অর্থ উপার্জন করেছে, কেউ তার দেহটা নিয়ে টাকার বিনিময়ে যেমন পারে উপভোগ করেছে।তার শরীর খারাপ, কষ্ট ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মুল্য কেউ দেয় নি।


যত সব বয়স্ক থেকে মাতাল তাকে সব সহ্য করতে হয়েছে।আর ওলাউটো শামসুর তার মাধ্যমেই উপার্জন করেছে আবার এত নির্যাতন এত কষ্ট আর কেউ দেয়নি।


ময়নার বেশ্যাবৃত্তির নরক জীবনে একটা রাত ছিল একটু আলাদা বিনয়দা তো তার চোখে ঈশ্বর! তার কথা নয়,একটা কলেজ ছাত্র বর্ধমানের কোন এক কলেজে পড়ত। বয়স তার আঠারো উনিশ বেশী নয়। মেস বাড়ি বা হোস্টেল থাকত।মা বাবা জানে না, ছেলে আমার পড়াশোনা করতে গিয়ে বেশ্যার সাথে রাত কটাবে!

শহরের জি টি রোডে ধারে বাসে যাতায়াত পথে তিনকোনিয়া পাশে বিকালে অনেক মেয়ে সাঝ গোজ করে খদ্দের ধরতে দাঁড়িয়ে থাকে।পয়সার বিনিময়ে একটা রাত অজানা অচেনা পুরুষের সঙ্গী হয়। তাকে পরিতৃপ্ত করে।

এত কম বয়সের ময়না ওরফে রূপসীর মোহে একদিন ঐ ছাত্র ভয়ে ভয়ে ময়নার কাছে জানতে চায় "তুমি কী পয়সা পেলে একরাত আমার সঙ্গে থাকবে!"

ময়নার এটাই পেশা বেশ অবাক হল তার নিজের টাকা ছাড়া, নিরাপদে রাতটা কাটাতে হোটেলে থাকার জন্য ঘর ভাড়া ,আরও রাতের খাবার এই সব নানান আনুষঙ্গিক সব খরচ নিয়ে কত টাকা লাগবে জানিয়ে আরো বলল, 

"আমি হোটেল ছাড়া অন্য কোথাও আপনার সাথে যেতে পারব না।" 

ছেলেটি ভীষণ নার্ভাস আর কৌতূহলী সবেতেই রাজী, তবে কেউ যেন না জানতে পারে তোমার সাথে হোটেলে একঘরে ছিলাম, এই আবেদন করল। ময়না তাকে আশ্বস্ত করল। 

         ।।  ক্রমশ  ।।



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract