আমায় নগ্ন করেছে করা ?
আমায় নগ্ন করেছে করা ?
গত শনিবার শোভবাজার পতিতা পল্লীর ভারাকোরা একটি বাড়ি থেকে তিনটি মেয়েকে অর্ধ নগ্ন অবস্থাতে তুলে আনেন পুলিশ । তারমধ্যে দুইজনের বেল হয়ে গেলেও কোমলকলি দাসের বেল হয়নি , কারণ সেজে জেলে রয়েছে সেই খবরটা হয়তো এখনো তার বাড়িতে পৌঁছায়নি । পৌঁছালেও তেমন কোনো লাভ হতো বলে মনেও হয়না , কারণ কোমলকোলি দাসের হাজবেন্ড মহামারী চলাকালীন কর্ম হীন হয়ে পড়েন । সেই সময়টা তারা গচ্ছিত অর্থ খরচ করে যাহোক করে সংসারটা চালিয়ে হয়েছিলেন । ভেবেছিলেন মহামারী কাটলে একটা চাকরি ঠিক জুটিয়ে নেবেন । বাড়িতে আরো দুজন সদস্য রয়েছে । একজনের বয়স সাত বছর , আর একজনের বয়স নয় । মহামারী কাটলো সবকিছুই প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠলো শুধু জুটলনা একটা চাকরি , অবশেষে চারটে পেটকে বাঁচাতে কোমলকলির হাজবেন্ড দিন মজুরির কাজ নিলেন । খুব খারাপ চলছিলনা , মাস তিনেক এভাবেই কাটে। একজন প্রোমোটারের আন্ডারে কন্ট্রাকে কাজ করছিলো সে । সেদিন সকালে কাজে যাবার ইচ্ছে ছিলোনা তার কিন্তু প্রোমোটারের বার বার ফোন অবশেষে ইচ্ছা না থাকতেও যেতে হয়েছিল তাকে । চারতলা ফ্ল্যাটের উপর কাজ চলছিলো সেদিন । ছাদের কার্নিশে থেকে পরেগিয়ে প্রায় মৃত্যুর জোগাড় । সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু হয় তার । তিন মাস সে সেখানে ছিলো সেই তিনমাস অবশ্য প্রোমোটার তার সংসারটা চালিয়ে দিয়েছিলেন তবে কোমলকলিকে কম নোংরা ইঙ্গিত তিনি দিতে ছাড়েন নি। তারপর কমলিকার হাসবেন্ড বারিফিরলেন কিন্তু চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়ে । তার কোমরের হার এতো খারাপ ভাবে ভেঙেছিল যে ডাক্তারদের হাতে সেটা সরিয়ে তোলার কোন উপায় ছিলোনা । প্রোমোটার কিছু টাকা দেবেন বলেছিলেন , কমলিকা ভেবেছিলো সেই টাকা দিয়ে ছোটখাটো একটা ব্যবসা শুরু করবে । পরিবারের জন্য কষ্ট করতে রাজি সে কিন্তু সেদিন সাফ জানিয়ে দিলেন ওর চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে তিনি আর কোন টাকা দিতে পারবেন না ।
ফলে কমলিকাকে জামিন করাতে কেউ আসবে না । আজ কমলিকাকে তোলাহবে কোর্টে। তার অপরাধ পতিতা পল্লীর বাইরের একটা বাড়িতে সে যৌণ কর্মী হিসাবে কাজ করছিলেন , এতে সমাজের ক্ষতি হতে পারে তাই প্রশাসন তাকে আইনের দোরগোড়ায় দারকরিয়েছে। কোর্টে বেশকিছু লোককে দেখা যাচ্ছে তাদের হয়তো এই কেসটার সঙ্গে কোন সম্পর্ক নেই হয়তো অন্য কোন কেসে এসেছিলেন তারা । কমলিকার বিরুদ্ধে একজন সরকারি উকিল দেওয়া হয়েছে , কমলিকার পক্ষে কোনো উকিল নেই । কোর্টের তিন নম্বর রুমে কেসটা তোলা হয়েছে । সব কিছু তখন প্রস্তুত শুধু অপেক্ষা বিচার পতির । কয়েক মিনিট পর বিচারপতি উপস্থিত হয়ে কেস শুরু করবার অনুমতি দেন । কমলিকার বিপক্ষে থাকা উকিল উঠে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দেন । কমলিকার পক্ষে কোন উকিলকে না দেখতে পেয়ে তিনি জানতে চান আপনার পক্ষে কে আছেন ? কমলিকা একটু হেঁসে বলে হুজুর দেহবেচে চারটে পেট চলাই সেখানে টাকা দিয়ে উকিল কেনার সাধ্য আমার নেই হুজুর , তাই আপনারা যা জানতে চাইবেন আমি আপনাদের তার উত্তর দেবো , তারপর আপনার বিচার যা সিদ্ধান্ত জানাবে সেটাকেই মেনে নেবো , এছাড়া আর কোনো পথ আমার কাছে খোলানেই হুজুর। বিচারপতি নিজের আসনে বসে বলেন কেসটার ভিত্তি কি । বিরোধী উকিল বলেন সাধারণ মানুষের বসবাস করি অঞ্চলে দেহ ব্যবসা করতে গিয়ে ধরা পড়ে । হুজুর ওই অঞ্চলটি বুদ্ধিজীবীদের বাসস্থান , তাদের পরিবার পরিজন রয়েছে ছোট ছোট বাচ্চা রয়েছে তাদের উপর একটা খারাপ প্রভাব পড়বে সমাজের অবক্ষয় হবে হুজুর । কমলিকা এবার নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে প্রথমে অট্টহাসি হাসতে হাসতে কান্নায় ভেঙে পড়ে । বিরোধী পক্ষের উকিল বলে হুজুর ওই পতিতা আদালতের অপমান করছে , কমলিকা এবার উঠে দাঁড়িয়ে বলেন কোন অপমানের কথা বলছেন আপনি ? জার মান আছে তার অপমান করা যায় কিন্তু জার মানোই নেই তার আবার অপমান । উকিল বলেন হুজুর আপনি দেখছেন উনি কমন ঔদ্ধত্যের মোতো কথা বার্তা বলছেন । কমলিকা আবার বিচার পতির উদ্দেশ্যে বলেন মহামান্য বিচার পতি আমি যেটা সত্যি সেটুকুই বলেছি দয়া করে ওনার কি জানবার আছে ওনাকে সেটা জিজ্ঞাসা করতে বলুন আমি যতক্ষণ না বাড়িতে ফিরবো ততক্ষন আমার ঘরের তিন তিনটে প্রাণী অভুক্ত থাকবে । মহামান্য বিচারপতি এবার নিজেই জানতে চাইলেন , আপনি না ফেরা পর্যন্ত আপনার পরিবারে সদস্যরা অভুক্ত থাকবে কেনো ? কমলিকা বলে হয়তো একটা দিন ওরা না খেয়েই রয়েছে ঘয়ে কিছু শুকনো খাবার রয়েছে তিন জনে খেলে এবেলা পর্যন্ত চলে যাবে তারপর জল ছাড়া কিছুই জুটবেনা ওদের । আবার বিচারপতি বলেন কারণটা বলুন । কমলিকা বলে স্বামীর কোমর ভেঙে গিয়েছে তিনি চিকিৎসাধীন , দুটি বাচ্চা যারা এখনো নিজের হতে ঠিকমতো খাবার খেতে পারেনা, সারাদিন ওদের গুছিয়ে গছিয়ে দিয়ে তবেই আমি বারহোই। এবার সরকারি উকিল বলেন মিথ্যা বলছে স্যার, অগুলো ওদের নাটক । কমলিকা উত্তেজিত হয়ে বলে সারাটা জীবন তো আপনারা নাটক করেই কাটিয়ে দেন , এখন আপনার একটা রূপ , কোর্টের বাইরে আপনাদের আর একটা রূপ , সন্ধ্যার পর আপনাদের আর একটা রূপ কিন্তু আমাদের একটাই পরিচয় । হয়তো আমরা দেহ বেঁচে সংসার চালায় । প্রতি রাতে আপনাদের মোতো প্রভাবশালী, বুদ্ধিজীবীদের যৌণ খুদার শিকার হই, রাত বদলাতেই আপনাদের চেহারাও বদলে যায় , আপনারা হয়ে যান ধোয়া তুলসিপাতা আর লোকে আমাদের বলে বেশ্যা । এবার সরকারি উকিল একটু উত্তেজিত হয়ে বলেন আপনি কিন্তু আমাকে অপমান করছেন । কমলিকা একটু হেঁসে বলেন অপমান , যাদের মান থাকে তাদের না অপমান করাযায় , আপনি নিজের বুকে হাত রেখে বলুনতো ওই বস্তুটা আপনার আছে কিনা ? আপনি হয়তো আমাকে ঠিক চিনতে পারেন নি কিন্তু আমরা সহজে আমাদের গ্রাহক দের ভুলিনা , আর সেই গ্রাহক যদি জীবনের প্রথম শরীর গ্রাহক হয় ।
এবার সরকারি আইনবিদ একটু ঘাবরে গিয়েই বলেন কি বলতে চাইছেন আপনি । কমলিকা বলে , বলবো বলেইতো এখানে এসেছি । শনিবার অফিসার আমাকে যেখানথেকে তুলে এনেছেন আমি চাইলেই সেখান থেকে পালাতেই পারতাম কিন্তু পালাইনি কারণ আমার মনে হয়েছিল আর কতদিন পালাবো এভাবে? কথাতো একটা শেষ রয়েছে এই খালার । এমনিতেই তো প্রাণ কটা ছাড়া হারাবার কিছুই নেই , যদি আমার জন্য অন্য মেয়েদের জীবনটা বাঁচে, বাঁচে তাদের পরিবার ।
হুজুর আপনি জানতে চান আজ আমি এখানে কানো ? আমাকে প্রতি রাতে নগ্ন করেছে করা ? হুজুর আপনার লিস্ট এতটাই বড় যে আপনার কাগজ কম পরে যাবে , আজ আমার মোতো এই বাংলার অসংখ্য অসহায় মেয়েরা এই সমাজ , এই সিস্টেমের শিকার হচ্ছে অথচ প্রতিবাদ করবার কোন জায়গা নেই । উপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকলেই একে অপরের পরিপূরক । আমার স্বামী যে প্রোমোটারের কাছে কাজ করছিলেন তিনি হলেন রাজনৈতিক মহলের দালাল । ওনার ওখানে কাজ করতে গিয়েই আমার স্বামীর এক্সিডেন্ট হয় । ওনাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পড় একটা ভালোমানুষের মুখোশ পড়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন উনি । হাসপাতালের খরচ, সংসার খরচ সবটাই চালাতে শুরু করেন , আমি ওনাকে ভগবান মোন করে বসি । এভাবে তিনমাস কেটে যায় । আমার স্বামী বাড়ি ফেরেন কিন্তু সারা জীবনের মোতো চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সে । উনি কিছু টাকা দেবেন বলেছিলেন আমাকে , আমি ভেবেছিলাম ওই টাকা দিয়ে একটা ছোটখাটো ব্যাবসা শুরু করবো , একদিন ওনার কাছে গেলাম বললাম দাদা আপনিতো বলেছিলেন কিছু টাকা দেবেন , যদি টাকাটা দেন তাহলে কিছু একটা করতে পারি । লোকটি আমাকে বলেছিলেন সন্ধ্যার সময় তার অফিসে যেতে উনি একটা ব্যাবস্থা করে দেবেন , আমি ওনার কথা মোতো সন্ধ্যার সময় ওনার অফিসে যাই । তখন সেখানে মদ আর মাংসের আসর বসেছে , আমি না বুঝেই বাইরের কনিং বেলটা বাজাই, একটা বীভৎস চেহারার লোক বেরিয়ে এসে বলে কাকে চাই ? আমি ওনার নাম বলতে লোকটি বলে একমিনিট দাঁড়ান। আমি ওনার মুখে মদের গন্ধ পেতেই বলি না থাক আমি ওনার সাথে পড়ে দেখা করে নেবো । লোকটি বলে দাদা বলেছেন আপনি আসবেন তাই ভয় পাবার কিছু নেই , আপনি একটু দাঁড়ান । এবার লোকটা ভিতরে চলে যায় , কয়েক মুহূর্ত পড়ে ফিরে এসে আমাকে ভিতরে নিয়ে যায় । তিনটে দরজা অতিক্রম করে ভিতরে যেতে সেখানে জনা পাঁচেক লোককে চেয়ারে গোল করে বসে মদ খেতে দেখে আমি চলে যেতে চাই , কিন্তু ততক্ষণে ওখানথেকে বেরোবার সকল রাস্তাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । সারা রাত ধরে আমার উপর অকথ্য অত্যাচার করে ওই পিশাচের দল , আর সেই দলের একজন আপনাদের এই সরকারি আইনের রক্ষক । সকাল বেলায় কিছু টাকা আমার হাতে গুঁজে দিয়ে যথারীতি আমাকে শাসিয়ে বাড়ি পাঠানো হয় । আমাকে বলে যদি আমি মুখ খুলি তাহলে আমার পরিবারের লোকদের শেষ করে দেবে ওরা । এরপরে আমি ওদের চালানো রিমোর্টের পুতুল হয়ে চলতে থাকি , কিছু পুলিশ কর্মী , কিছু সমাজ সেবক , কিছু বুদ্ধি জীবীদের রাতের বিছানার খালনা বানিয়ে দেয় আমাকে , সবাইজে খারাপ তা আমি বলতে পারবোনা , যদি তেমনটা হত তাহলে হয়তো এখানে পৌঁছাবার ক্ষমতা আমার হত না , এর জন্য অফিসার চ্যাটার্জিকে আমার তরফ থেকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা এবং ধন্যবাদ , আজ ওনার জন্যই আমি আপনানার সামনে দাঁড়িয়ে এতগুলো কথা জানাতে পারলাম ।
অফিসার চ্যাটার্জীর কাছে সমাজ সেবকের মুখস ধারি সমাজ বিরোধীদের অপরাধের প্রমাণ আমি জমা দিয়েছি হুজুর , আশাকরছি সকল প্রমাণ দেখার পর আপনি একটা সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন । আমার আমাদের দেশের সংবিধান এবং আইন ব্যবস্থার প্রতি যথেষ্ট ভরসা রয়েছে , আমি আশাবাদী যে মহামান্য বিচারপতি এই কেসের সঠিক বিচার করবেন । এতে হয়তো দেশের সকল দেশদ্রোহীর সাজা হবেনা তবে আমি আসাকরব আদালতের ন্যায় বিচারে দেশের সকল প্রান্তের সমাজবিরোধীরা বুঝতে পারবে আমাদের দেশের আইন ব্যাবস্থা আজও বিকিয়ে যায়নি । তারা দেশের নারীদের নগ্ন করবার আগে নিজেদের পরিণতির কথা একবার হলেও ভাবতে বাধ্য হবে ।
সবকিছু সোনার পর বিচারপতি মহাশয় অফিসার চ্যাটার্জীর নিকট থেকে সকল তথ্য সংগ্রহ করেন এবং অফিসার চ্যাটার্জী কে বলেন আগামী পরশু এই কেসের সোনানি হবে , ততক্ষন কমলিকার দায়িত্ব আপনার , আপনি ওকে পর্যাপ্ত গার্ড দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান , আগামী পরশু সঠিক সময় ওকে আদালতে উপস্থিত করবেন । আর এই সরকারি উকিলকে আপাতত পুলিশি নজরদারিতে রাখার অনুমতি দেওয়া হলো , যাতে উনি শহর ছেড়ে বাইরে যেতে না পারেন ।
দুদিন পর আবার কোর্ট বসে , সরকারি , উকিল সহ সকল আসামিকে উপস্থিত করাহয় কোর্টে। বিচারপতি এজলাসে উপস্থিত হন কিন্তু আসন গ্রহণ করেন না । তিনি চেয়ারের সামনে দাঁড়িয়েই বিচারের রায় শোনালেন । তিনি অভিযুক্তদের যাবতজীবন জেল হেফাজতের আদেশ দিলেন আর সাথে জরিমানা বাবদ একলক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করলেন এবং বললেন ওই জরিমানার সকল অর্থ কমলিকার হাতে তুলে দেওয়া হবে , যাতে সে তার স্বামীর চিকিৎসা করাতে পারে , নিজের একটা ব্যবসা শুরু করতে পারে আর ছেলে - মেয়েকে যেন মানুষের মোতো মানুষ করে তুলতে পারে । আসামিদের নিয়ে যাওয়ার ব্যাবস্থা হলো , এবার বিচারপতি অফিসার চ্যাটার্জী কে বললেন , অফিসার আপনি একটু শুনবেন , অফিসার এগিয়ে আসেন , বিচারপতি নিজের দেহের কোর্টটা দেহথেকে নামিয়ে চেয়ারের উপর রাখলেন , তারপর হাতদুটো বাড়িয়ে দিয়ে বললেন , অফিসার এই চেয়ারের যোগ্য আমি নই,কমলিকা আমার চোখ খুলে দিয়েছে , আমিও ওদের মতোই সোমান অপরাধে অপরাধী । ওদের মোতো সমাজ বিরোধীরা দিনের পর দিন অপরাধ করেছে আর আমি দিনের পড় দিন ওদের পক্ষ নিয়ে মিথ্যা রায় দিয়ে গিয়েছি। আজ যদি আমার শাস্তি না হয় তাহলে এই বিচারটাও অসম্পূর্ণ রয়েই যাবে ।
সমাপ্ত
