STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

3  

Nityananda Banerjee

Horror Crime Thriller

আকাশের রঙ ফ্যাকাশে

আকাশের রঙ ফ্যাকাশে

5 mins
163


এনকাউন্টার বিশেষজ্ঞ মহম্মদ সেলিম গানম্যান হিসাবে বিখ্যাত ছিল বলে এস ডি পি ও বারাসত ওকে প্রমোশন দিয়ে এস আই পদে মসলন্দপুর ফাঁড়িতে বহাল করে দিয়েছিলেন। ক্রাইমের সঙ্গে জন্মাবধি পরিচিত সেলিম তার চাচাতো ভাই ববি আফসারের সঙ্গে থেকে অপরাধে হাত পাকিয়েছে ।

বীরেশ্বরের নেক নজরে পড়ে পুলিশের অন্দরের কথা যাতে সে বীরেশ্বরকে জানিয়ে দিতে পারে ; সেজন্য বীরেশ্বরের প্রচেষ্টায় তাকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন শাসকদলের মদতপুষ্ট কোন নেতা ।

মিঃ মুখার্জী বললেন - রায়চৌধুরী সাহেব ! আপনার ভাইয়ের কথা মত কাজ করতে গেলে এই ক্ষণে আমার একজনের কথাই মাথায় আসছে ।

বড়দা বললেন - কে সে ?

- সেলিম ! মসলন্দপুর ফাঁড়ির এস আই যে এখন জেল হাজত থেকে পালিয়েছে ।

- সে কি ? এমন তো হবার কথা নয় । তাহলে কি পুলিশের কোন অধিকারী ঐর সঙ্গে জড়িত ?

- আপনি ঠিক ধরেছেন । এর পিছনে তিন জনের হাত আছে ।

- কোন কোন তিনজন ?

- সে শুনলে আপনি অবাক তো হবেনই ; হয় তো আমাদের উপর বিশ্বাসটুকুও আপনি হারিয়ে ফেলবেন ।

- আমার কথা বাদ দিন । আমি তাঁদের এমন কাজকে সমর্থন করতে পারছি না । ওঁরাও এক ধরণের ক্রিমিনাল ।

মিঃ মুখার্জী বড়দার এই মন্তব্যে ক্ষুণ্ণ হলেন না । আশ্বস্ত করে বললেন - আমার মনে হয় বিষয়টা পুরোপুরি জেনে গেলে আপনি এমন ধারণা করা থেকে বিরত হবেন ।

- বেশ ! তবে বলুন - কে কে সেই তিন জন ?

মিঃ মুখার্জী একটু দম নিলেন । একটা সিগারেট ধরিয়ে তাতে অগ্নি সংযোগ করে সুখটান দিলেন । তারপর বললেন - এস ডি পি ও বারাসত , মিঃ পরমেশ্বর ভট্টাচার্য্য এবং মিঃ সন্তু মুখার্জী ।

বড়দা চলতে চলতে থমকে দাঁড়ালেন । মিঃ মুখার্জীকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে বললেন - তাই যদি সত্যি হয় ; তবে জানব এর মধ্যে নিশ্চয় কোন বিশেষ উদ্দেশ্য আছে ।

- অবশ্যই আছে রায়চৌধুরী সাহেব । ত্রিলোকেশ্বরের মত প্রভাবশালী এবং বর্তমানে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তিকে শেষ করতে হলে সেলিমই যোগ্য লোক । এখন সে বর্ধমানে লুকিয়ে রয়েছে, আমরাই তার নিরাপত্তার দিকটা খেয়াল রাখছি ।

বড়দা বললেন - তাকে গুরুত্ব দেবার কারণ কিন্তু বলেননি ।

- বলছি বলছি সাহেব । একটু ধীরে বলতে হবে । কারণ দেয়ালেরও কান আছে ।

একটু আড়ালে গিয়ে বললেন - আপনার ভাইয়ের দূরদর্শিতা আছে । রক্ষিতদের উনি ঠিক চিনতে পেরেছেন। আমরাও বুঝে গেছি ওনার মনের কথা । তাই মিঃ ভট্টাচার্য্যের সঙ্গে পরামর্শ করে এস ডি পি ওর সঙ্গে কথা বলে সেলিমকে শর্তসাপেক্ষে পালিয়ে যেতে সাহায্য করি । ওর নিশানা অব্যর্থ । ভীড়ের মাঝেও সঠিক শিকার করতে পারে । ওকে সব কথা বলেছি । আপনার সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ করবে । আপনারা তো বাসেই ফিরছেন ?

- হ্যাঁ,  রিজার্ভেশন করে রেখেছি।

- টিকিটটা একবার দেখান তো !

বড়দা পকেট থেকে টিকিট বের করে মিঃ মুখার্জীকে দিলেন । গাড়ির নম্বর নোট করে নিয়ে বললেন - সেলিমকে এই বাসের নম্বর দেব । সে ওই বাসে টাইম বোম্ব রাখবে ।

বড়দা আশঙ্কিত হয়ে বললেন - আমাদের মারতে চান নাকি ?

মিঃ মুখার্জী হাসলেন ।

- তাই হয় স্যার ? আমরা ত্রিলোকেশ্বর বধ চাই ।

- তাহলে আমাদের গাড়িতে বোম্ব রাখতে বলছেন কেন ? ভাই শুনলে কি হবে বলুন তো !

মিঃ মুখার্জী বললেন - সেলিম তেমন লোকই নয় । আসলে ও নিজের পরিচয়টা দিতে চায় অদ্ভুত উপায়ে । যাতে আপনার মনে বিশ্বাসযোগ্যতা আসে । কারও কোন ক্ষতি হবে না । তার বন্দোবস্ত আমরা করে রাখব । আপনি শুধু ওর কথা বলার ধরণের সঙ্গে আলিপ করবেন । আর তখনই বুঝে যাবেন লোকটা যোগ্য কি না । আসলে প্রথম থেকেই আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করছি বলে যাতে কোনরকম ভুল বোঝাবুঝি না হয় ; সেজন্যই এই অবতারণা ।

আমি তো শুনে 'থ' । সেলিমের মত কুখ্যাত গানম্যানকে এই কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে শুনে মনে মনে ভাবলাম যা খুশী করুক ; ত্রিলোকেশ্বরকে যেন বাঁচিয়ে না রাখা হয় ।

আমরা আবার বাসে উঠলাম । প্রায় দু'ঘন্টা দেরীতে বাস ছাড়ল । যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়েও বাড়ী ফিরতে উদ্গ্রীব । বড়দা এবং আমি সকলকে আশ্বস্ত করতে চেষ্টা করলাম ।

বর্ধমানে নেমে আমরা মল্লিকপুর যেতে একটা অটো নিলাম । অটোয় উঠে আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করছি । অটোচালক মন দিয়ে সব শুনে যাচ্ছে । মাঝে মাঝে মাইল স্টোনের ফলকগুলোতে নজর দিচ্ছে ।

মোড়ে এসে ওকে নির্দেশ দিলাম বাঁ দিকের লেন দিয়ে আবার বাঁ দিকে মোড় নিলেই মল্লিকপুর গ্রামের পথ । আমরা সেই গ্রামেই যাব ।

তথাপি অটোচালক কোন কথা না বলে নির্দেশমত মল্লিকপুরে নিয়ে এল ।

বড়দা বললেন - ভাড়া মিটিয়ে আয়, আমার টয়লেট পেয়েছে ।

আমি ভাড়া দিতে যাচ্ছি । অটোচালক বলল - লাগবে না ।

আমি অবাক হয়ে বললাম - পঞ্চাশের জায়গায় পুরো একশ' দিচ্ছি তো !

- না স্যার ! আমি ভাড়াটে অটো ড্রাইভার নই ।

আমি আরও অবাক হয়ে বললাম - তাহলে কে তুমি ?

অটোচালক গাড়ি থেকে নেমে এল ।

- স্যার আমাকে লালবাজার থেকে বলা হয়েছিল আপনাদের মল্লিকপুরে পৌঁছে দিতে । তাই অটো নিয়ে বাসস্ট্যাণ্ডে অপেক্ষা করছিলাম ।

আমার তো আশ্চর্য্যের শেষ নেই । লালবাজার হঠাৎ এমন কেন বলবে ! বললাম - লালবাজারের নির্দেশ! মানে তুমি- মানে আপনিই কি মহম্মদ সেলিম ?

- ঠিক ধরেছেন স্যার । বাসে বম্ব রেখে আমি আপনাদের চকমা দিতে চেয়েছিলাম ।এখন এসেছি আপনাদের সঙ্গে শলা পরামর্শ করতে ।

আমি ওকে নিয়ে ভেতরে গেলাম । রূপা সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল । সেলিমকে ঢুকতে দেখে চিনতে পেরে বলল - সেলিমদা ! আপনি ?

- হাঁ বহেনজী । আমি সেলিম।

- তবে যে শুনেছিলাম তোমার জেল হাজত হয়েছে ।

- ঠিকই শুনেছেন বহেনজী ! এই সাহেবদের দৌলতে হাজত বাস থেকে রেহাই পেয়েছি ।

- কিন্তু আপনি তো পুলিশে ছিলেন । আপনার হাজতবাস হল কেন ?

- সেও এই সাহেবদের বদান্যতায় ।

রূপার মাথা গুলিয়ে গেল । আমি ওকে ধরে ভেতর ঘরে পাঠিয়ে দিলাম । সেলিমকে বললাম ড্রয়িং রুমে বসতে ।

বড়দা টয়লেট থেকে বেরিয়ে অটোচালককে দেখলেন । তারপর ফিরে এসে আমাকে বললেন - তোর কি কোন কাণ্ডজ্ঞান থাকতে নেই না কি রে ?

আমি বললাম - কেন ? কি করলাম ?

- ওকে বাড়ীতে আনলি কেন ?

- ও কে জানেন ?

- কে ?

- মহম্মদ সেলিম । আপনাদের প্রত্যাশিত জন ।

এবার বড়দা সেলিমের সঙ্গে আলাপ করতে ড্রয়িং রুমে গেলেন ।

গোপা , রূপা এবং সুনেত্রা আমাকে ঘিরে ধরল । সেলিমের এখানে আসার উদ্দেশ্য কি ?

আমি ওদের কি বলব ভেবে পেলাম না । বললাম - আমি জানি না। যা প্রশ্ন করার বড়দাকে গিয়ে কর । আমাকে বাড়ীতে আনতে বলেছেন তাই ...

এদিকে ড্রয়িং রুমে সেলিম এবং বড়দার মধ্যে কথাবার্তা চলছে ।

( চলবে )



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror