শেষ হাসিটা
শেষ হাসিটা
কলেজ লাইফে চুটিয়ে লিটলম্যাগ করতাম। ফলে সাহিত্য হবার নেশাটা অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও ছাড়তে পারি নি। প্রবাসী জীবনের কর্ম ব্যস্ততায় ফাঁকে একটু আধটু লেখা লেখি চালিয়ে যাচ্ছিলাম। মুলত বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল আর ওয়েব পত্রিকা লিখতাম। মোবাইল ফোন দৌলতে সারা পৃথিবী আজ হাতের মুঠোয় আমাদের। দূরত্ব তাই কোন বাধা হয় না কোন সম্পর্ক তৈরিতে।
সুজয় আমার থেকে বয়সে অনেকটা ছোট । উত্তর বঙ্গের ছেলে। ও ওর বান্ধবী শ্রী কে নিয়ে একটা ওয়েব পত্রিকা প্রকাশিত করে নিয়মিত। ওখানে আর পাঁচ জন লেখক মতো আমি লেখা দিয়ে থাকি। তবে সেরা পাঁচ জন লেখক মধ্যে আমি থাকায় ও আমাকে সম্মান করতো। কোন মানুষ জীবনে সবচেয়ে বেশি চায় বোধহয় সন্মান। ও একটা সোস্যাল মিডিয়ার গ্রুপের এডমিন করেছিলো আমাকে। মানে সমস্ত লেখক পাঠকদের সাথে সুসম্পর্ক এবং সুসংগঠিত করার দায়িত্ব দিয়েছিলো আমার উপর। এভাবেই দৃঢ় হয় আমাদের বন্ধুত্ব।
আমরা খুব ভালো বন্ধু হয়ে গিয়েছিলাম।ওর সাথে আমার অনেক ব্যক্তিগত কথা নিয়ে আলোচনা হতো। কারণ ওর বয়স কম হলেও সিদ্ধান্ত নিতে পারতো ভালো। তাই আমি কোন সমস্যায় পরলে ওকে বলতাম। ও আমাকে সমাধান করে দিতো। একটা ম্যাজিকের মতো ওর প্রতি একটা ঝোঁক তৈরি হয়েছিল কিন্তু একটা ধাক্কা খেলাম একদিন এই সম্পর্কে। যেদিন সুজয় আমাকে সরাসরি ফোন করে কথা বললো।
সুজয় আমাকে ফোন করে বলল " দাদা আপনি শ্রী কাছে ক্যাসে খাইয়ে দিলেন। ও আমার ভালো বন্ধু শুধু আর কিছু নয়।"
সত্যি অনেক লজ্জায় পড়ে গেলাম আমি। কারণ সুজয় ভেবে আমি যার সাথে কথা বলতাম সে আসলে শ্রী ।শ্রী আসলে দুইটো নম্বর। সুজয় ভাষায় সেই দিন বলতে পারেন আমি কর্মাস খেয়ে গেলাম। শ্রী জন্য আমি বেশ মনে মনে দূর্বল ছিলাম। ও ওর ছবি কোনদিন পোস্ট করে না। কিন্তু আমি একটা গ্রুপ ফোট থেকে অনুমান করে নিয়েছিলাম শ্রী কে।
সেই দিন কথায় সুজয় রূপী শ্রী আমাকে বলল " আপনি একা থাকতে কষ্ট পান যখন। এবার একটা বিয়ে করে নেন। "
উত্তর আমি বললাম " তোমার বান্ধবী শ্রী মতো মিষ্টি মেয়ে যদি আসে অবশ্যই বিয়ে করে নেবো।"
ও বললো " মিষ্টি ওই কথা বার্তাতে এমনিতে লেজ কাটা বাঁদর..."
আমি বললাম "জানি তবু একটা ভালো লাগা আছে ওর সব কিছুতে।"
ও বললো " আপনি ওকে চেন নাকি। ওতো কোন দিন ওর ছবি পোস্ট করে না কোথাও। ওকে কিভাবে চিনলেন আপনি।"
আমি বললাম" আমি ওর লেখা পড়েছি ওর ভাষা শৈলী আলাদা। তাই আমি জানি। অনন্যা আশরাফ নামের একটি প্রোফাইল থেকে ও নিজের ভালোলাগা মুহুর্ত আর কথাগুলো শেয়ার করে সোস্যাল মিডিয়া তে।"
ও বললো" শ্রী ওপর তো পুরোপুরি গবেষণা করে বসে আছেন আপনি।"
আমি বললাম" তোমার বান্ধবী না হলে শ্রীকে হাইজেক করে নিয়ে আসতাম কোলকাতায়।"
ঐ দিন ওখানেই কথা শেষ। ঘন্টা দুই পর জানতে পারলাম ওটা শ্রী। পর পর দুই দিন কথা বন্ধ। তবে শ্রী নিয়মিত অভ্যাস মতো good morning good night ম্যাসেজ পাঠিয়েছে। কোন reply না পেয়ে। ওনি মেসেজ করলন। কেন কথা বন্ধ করেছি তার জবাব চাইলেন। উত্তর দিতে পারলাম না। শুধু সীন করে রেখে দিলাম। একটা রাগান্বিত ইমেজ পাঠিয়ে উনি লিখে উনি বললেন, "সব বীরত্ব ঘুচে গেছে নাকি । এই আমাকে হাইজ্যাক করে নিয়ে যাবেন বলেছিলেন।"
অনেক দ্বিধায় উত্তর দিলাম " হুঁ" যাইহোক উনি বুদ্ধিমতি মহিলা। একটা দুটো কথা বলতে বলতে সব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে নিলেন। তারপর আবার আমাদের কথা বার্তা লেনদেন স্বাভাবিক হয়ে গেল। আপনি সম্পর্ক আটক থাকলেও। দুই জনে দুই জনকে ভালোবাসে ফেলেছিলাম সেটা দুইজনে উপলব্ধি করতাম। এমনকি উনি ভাই, ভাইয়ের বৌ, বাবা মায়ের সাথেও কথা বলতে শুরু করল।
তবে উনি ভালোবাসেন কিনা জানতে ওনাকে বিয়ে প্রস্তাব দিয়েলাম একটু বুদ্ধিমত্তা সাথে। একদিন উনি বললেন " আচ্ছা আমাকে আপনি তুমি বলবেন কবে থেকে???"
সুযোগ বুঝে আমি বললাম " যেদিন আপনি আমাকে বিবাহ করে। আমার বাড়িতে আসবেন তবে থেকে।"
খুব একটা স্মার্ট উওর দিলেন উনিও। "তাহলে আমি কি তুমি বলা অভ্যাস করতে পারি। আসলে আপনাদের বাড়িতে বৌরা নাকি কর্তৃত্ব ফলায়। আপনি বলে কতৃত্ব ফলানোতো সম্ভব নয়।"
বেশ হাসি মজায় দিন কাটলো আমাদের। এরপর এলো আমার দেশ ফেরার দিন। আমি দিল্লী থেকে বিমান উঠার সময় উনার সাথে কথা বলে অনুমান করেছিলাম যে উনি আমাকে যে সারপ্রাইজ দিতে চাইছে সেটা হলো উনি আমাকে রিসিভ করতে আসছেন কোলকাতা বিমান বন্দরে। কিন্তু কোলকাতায় এসে হতাশ হলাম ফোন করে দেখলাম ফোন সুইচ অফ।
বাড়িতে ফিরে শারিরীক ক্লান্তি একটা টানা ঘুম। ২৪ ঘন্টা কেটে গেলো চোখের নিমিষে। ছিন্নপত্র গ্রুপ জরো হয়েছে অনেক মেসেজ। কিন্তু আমার আগ্রহ শুধু শ্রী । শ্রী কোন বার্তা নেই। কিন্তু শ্রীকে অনেক আলোচনা আছে। সেই আলোচনা দেখে আমি নির্বাক হয়ে গেলাম। সমন্বিত যখন ফিরলো তখন ওর বন্ধু তিয়াসাকে ফোন করলাম।
ও আমার ফোন পেয়েই অঝোরে কেঁদে উঠলো
বললো" তোমার সারপ্রাইজ দিতে নিজে ওর দাদার বুলেট চালিয়ে যেতে চাচ্ছিল কোলকাতায়। বলছিলো ওখানে থেকে সিধে ও তোমার সাথে তোমার বাড়িতে গিয়ে তোমার মা বাবা ভাই কে চোমকে দেবে। ওর মা বাবা নেই জেনে, তোমার বাবা মা ওকে বলেছিলো তুই চলে আয় আমাদের বাড়ি বৌ নয় মেয়ে হিসেবে থাকবি। তাই ও খুব উৎসাহী ছিল। কিন্তু পথ দূর্ঘটনায় পরলো। এদিকে ওর ঐ অবস্থায় দেখে সুজয় অবস্থা পাগলের মতো। তোমার আর শ্রী সম্পর্কের কথা তো কেউ জানে না কিন্তু সবাই জানে সুজয় শ্রীকে ভালোবাসায় পাগল। পাগল না হলে মৃত শ্রী মাথায় সিঁদুর তুলে দেয়। সিঁদুর মুখে ওকে খুব সুন্দর লাগছিল। কিন্তু কেউ জানতে পারলো না ওর ঠোঁটে লেগে থাকা শেষ হাসিটা ছিলো তোমার জন্য।"
