susmIta Saha

Abstract


3  

susmIta Saha

Abstract


রিপোর্ট পজিটিভ

রিপোর্ট পজিটিভ

8 mins 439 8 mins 439

(4th February World Cancer Day) আজকাল বছরের প্রত্যেকটি দিনই বিশেষ কোনো একটি কারণের জন্য চিহ্নিত করা হয়ে থাকে । বেশির ভাগই আনন্দের দিন ...এই যেমন শিক্ষক দিবস , ভালোবাসার দিন , চকোলেট ডে এইসব । কিন্তু আজকের দিনটি যে কারণে চিহ্নিত সেই শব্দটি কোনো পরিবারে অথবা কোনো মানুষের জীবনে উচ্চারিত হলে জীবন সেখানেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়ায় । সকলের সুস্থতা ও মঙ্গল কামনা করে আজকের গল্প। গল্পটা বেশ বড়,জানি অনেকেরই পুরোটা পড়তে ইচ্ছে করবে না। যাদের কথা ভাবতে ভাবতে(কাঁদতে কাঁদতে)লিখেছি ,তারা যদি পড়েন এবং একদিনের জন্যও মনে জোর পান...তবেই আমার লেখা সার্থক। লেখার মধ্যে দিয়েও তো হাত ধরা যায় ...পাশে থাকা যায় আর একটি কথা আবার বলি-জীবন নামক নৌকাটিতে আমরা সবাই সহযাত্রী ...)


মাথার কাছে রাখা সেলফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখলো শুভম। রাত সাড়ে তিনটে বাজে । কিছুতেই ঘুম আসছে না ওর । শরীর আর মন জুড়ে অদ্ভুত একটা ছটফটানি । বিছানায় শুতে এসেছিলো রাত প্রায় বারোটায়। তারপর থেকে শুধুই এপাশ আর ওপাশ। মাথার মধ্যে ভেসে আসছে কত যে কথা...কত চিন্তা... নাঃ, আর চেষ্টা করে লাভ নেই। ঘুম আজ আর আসবেনা। বিছানা ছেড়ে উঠে পরলো শুভম। বাথরুম সেরে বেডরুমের লাগোয়া ব্যালকনিতেই বরং একটু দাঁড়ানো যাক্ দরজা খুলে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতেই মুখে লাগলো হালকা শীতের আদর। শুভমের জীবনে আজ বোধহয় প্রথমবার এইসময়ে পৃথিবীকে দেখা। ছাত্রজীবনেও ওর যত পড়াশোনা,যত কাজ ছিলো মধ্যরাত পর্যন্ত জেগে থেকে।তারপরে ভোরবেলা ঘুম থেকে ওঠা? ওসব কখনও নয়। গতকাল সন্ধ্যে থেকেই শুভমের জীবনটা কেমন বদলে গেলো... রেলিংঘেরা বারান্দাটা বাড়ির পূবদিকে। আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে সারা শরীরে বিদ্যুৎ খেলে গেলো শুভমের।এ কি অপূর্ব অলৌকিক রং এর খেলা আকাশ জুড়ে । সাতাশ বছরের শুভম দুচোখ ভরে দেখতে লাগলো...একটা মুহূর্তকেও হারিয়ে যেতে দেবেনা ও । আগে কখনো এমনভাবে পৃথিবীকে,মহাকাশকে চেয়ে দেখা হয়নি।প্রকৃতিকে সময়ই দেওয়া হয়নি কখনো ... মুগ্ধনয়নে শুভম দেখতে থাকলো আকাশের রং বদল।মনে পড়ে গেলো অনেক ছেলেবেলায় দিদিমার মুখে শোনা কথা -"এই সেই ব্রাহ্মমুহূর্ত...যখন দেবতারা নেমে আসেন পৃথিবীর বুকে।"চরাচর জুড়ে নৈঃশব্দ । আলোআঁধার মাখানো পৃথিবীর বুকে কান পেতে শুভম শুনতে পেলো রাত-চরা পাখিদের দুখজাগানিয়া গান...তার সাথে মিশে আছে বহু রাত জাগা মানুষের দীর্ঘশ্বাস। এ যেন এক অপার্থিব,অলৌকিক অনুভূতি... শুভমের মনের গহীন কোণে ভেসে এলো দূরের গীর্জার ঘন্টাধ্বনি , আজানের সুর ...সে টের পেলো এক সমবেত প্রার্থনা সঙ্গীত ... কে যেন কানে কানে বললো শুভমকে "চেয়ে দেখো শুভম,আকাশের এই আলোর রং এর নাম আশা...জীবনের আশা...বেঁচে থাকার আশা। এই রং যেন এক যাত্রা...এই যাত্রা অন্ধকার থেকে আলোর দিকে...এসো শুভম,আমাদের হাতে যতটুকু সময় আছে ,এসো...আমরা বাঁচার মত বাঁচি,প্রতিটি মুহূর্তের রং,রস,আনন্দ শুষে নিয়ে,বিলিয়ে দিয়ে হাতে হাত ধরে বাঁচি।" শুভম একটু নড়েচড়ে উঠলো। নাঃ,অনেক কাজ বাকি। আর দেরি নয়...সব কাজ সেরে ফেলতে হবে । ঘরে ফিরে এসেই সেলফোনটা নিয়ে বসলো শুভম। আই স্পেশালিস্ট এর নম্বরটা সেভ করাই আছে। মাস দুয়েক আগেই বাবা একবার চোখের অসুবিধার কথা বলেছিলেন।এর মধ্যে শুভম আর সময় করে উঠতে পারেনি।নিজেকে নিয়েই বড্ড মুশকিল চলছিল ওর। বাবাও অবশ্য আর মনে করাননি। ব্যস্ততার মধ্যে কখনো সখনো শুভম দেখেছে-বাবা খবরের কাগজটা একবার চোখের খুব সামনে,একবার দূরে ধরে পড়ার চেষ্টা করছেন। ব্যস্ততার চোটে শুভমের মনে হয়েছে-আরে খবর টবরগুলো তো টিভিতেই শুনে নেওয়া যায়,বাড়িতে একটা রেডিও তো আছেই এখনো...অতএব। কিন্তু না , আর দেরি নয়...আজই চোখের ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে বাবার চোখটা দেখিয়ে দেবে শুভম । মা গত কয়েকদিন ধরেই একটু শুক্তো রান্না করার কথা বলছিলো। শুভম গা করেনি। আজ বুঝতে পারছে অনলাইনে আনানো বেলপেপার,ব্রকোলি,কর্ণ এর সাথে মা বাবাদের খাওয়া দাওয়ার অভ্যাসটা ঠিক মেলেনা। মুখে কিছু না বললেও মা দের বেশ কষ্ট হয়,ঠিকমত খেতে পারে না।মা র বোধহয় পেটটাও কদিন ধরে ঠিক থাকছে না।বড্ড মায়া হলো শুভমের মায়ের জন্য। এতদিন ও গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখেনি।কিন্তু এবার আর নয়। আজই ও মায়ের কাছ থেকে জেনে নিয়ে পেঁপে,লাউ,কাঁচকলা টলা সব আনিয়ে দেবে । জীবন কেটে যায়,সময়মত ভালোবাসার কথা বলা হয়ে ওঠেনা। সময়মত ক্ষমা চাওয়া হয়না কতজনের কাছে। কত সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।আজ শুভমের ইচ্ছে করছে গোটা পৃথিবীকে ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে। জীবনের যত পাপ,অন্যায় অপরাধের জন্য জ্ঞানে অজ্ঞানে কারুকে দুঃখ দেওয়ার জন্য নতজানু হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করে নিজের উচ্চতাকে ছাড়িয়ে যেতে।সব ক্ষুদ্রতাকে দূরে সরিয়ে শুভমের আজ বড্ড মহান হতে ইচ্ছে করছে। এই তো গত সপ্তাহে বাড়ির কাজের আরতি মাসি সকাল আটটার সময় শুভমের ঘরটা ঝেড়েমুছে দেবে বলে বন্ধ দরজা ধাক্কা দিলো।কারণ আরতি মাসিকে খুব তাড়াতাড়ি কাজ সেরে স্বামীকে নিয়ে যেতে হবে হাসপাতালে।কাঁচা ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য মাথা গরম হয়ে গিয়েছিলো শুভমের,বড্ড খারাপ ব্যবহার করেছিলো সেদিন মাসির সাথে। আচ্ছা ,আজ একটা ক্যাডবেরি কিনে মাসিকে উপহার দিয়ে 'সরি' বললে কেমন হয় ?না ,না থাক্...সেটা বোধহয় একটু ছেলেমানুষী হয়ে যাবে।তার বদলে গরীব মানুষটাকে কিছু টাকা উপহার দিলে কেমন হয় ?হঠাৎ টাকা পেয়ে মাসি হয়তো বেশ চমকেই যাবে...তা যাক্ না।মাসির জীবনে একটা দিন হোক্ না একটু ম্যাজিক।শুভমেরও তো কখনো কারুর জীবনে সান্তাক্লস হয়ে ওঠার সুযোগ ঘটেনি দিদি জামাইবাবুর সাথে দেখা হয়না কতদিন। জামাইবাবু একটু হামবড়াই ধরণের মানুষ। বেশ বড় পোস্টে কাজ করেন তো। দিদিটাও বিয়ের পরে কেমন যেন পাল্টে গিয়েছে,সবসময় বড় বড় কথা। তার ওপরে দাদাবৌদির সাথেও মা বাবার যেন কিসব মনোমালিন্য চলছে। কেউই কারুর সাথে কথাবার্তা বলেনা। গত কয়েকমাস ধরে বাবা মা শুভমের এই ছোট দু-কামরা ফ্ল্যাটে এসে রয়েছে।আজ শুভম বুঝতে পারছে- মা বাবা মনেমনে খুব কষ্ট পায় ,কবে যে সব ঝামেলা মিটবে। নাঃ,এবার সব দায়িত্ব শুভমই নেবে,সকলের সাথে মিলনের দায়িত্ব। আর একটুও দেরি নয়...সময় বয়ে যায় । আজই শুভম দাদাকে আর দিদিকে ফোন করবে।আগামী রবিবার সকলকে বাড়িতে ডেকে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করবে ও নিজে। মা বাবাকেও আগে থেকে কিছু জানতে দেবে না।খাবার দাবার সব বাইরে থেকে আনিয়ে নেবে । হোক্ না একটা দিন ভালোভাবে বাঁচার দিন,আনন্দের দিন,মিলনের দিন... গতকাল সন্ধ্যে থেকেই শুভমের জীবনটা কেমন বদলে গেলো।আর আজ ভোররাতের আকাশের ওই রং ...সে বদলে দিলো শুভমের জীবন দর্শন ... দেখতে দেখতে আটটা বাজতে চললো।শুভম আজ অফিস যাবে না,ঠিক করে ফেলেছে । আজ ও শুধু ভাববে...অনেক অনেক কথা ভাববে । আজ ও গান শুনবে,কবিতা পড়বে...আজ ও ভালবাসবে ... ভাবতে ভাবতে শুভমের মনে ভেসে এলো একটা নাম।সেই কোন্ ছোটবেলার স্কুলের বন্ধুর নাম - তপোব্রত। তপুর সাথে শুভমের যেমন ছিলো গলায় গলায় বন্ধুত্ব তেমনি প্রতিযোগিতা। কোনো একবার পরীক্ষায় শুভম ইংরেজীতে সবাইকে তাক্ লাগিয়ে দিলো তো পরেরবার তপু বিজ্ঞানে সবাইকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেলো।এইরকমই চলতো। বারোক্লাস পর্যন্ত একই স্কুলে একসাথে পড়াশোনা করেছিলো ওরা। প্রতিযোগিতা ব্যাপারটা এমনিতে সুস্থ কিন্তু যখনই সেটা রেষারেষিতে পর্যবসিত হয় বন্ধুত্বর ছবিটাও তখন থেকে কেমন যেন পাল্টে যায়।স্কুলের শেষের বছরগুলোতে শুভম-তপোব্রতর জীবনেও ঠিক সেরকমই হয়েছিলো। এখন দুজনই ভালো চাকরী করে ,দুজনেই নিজেদের জীবনে ব্যস্ত।অন্য বন্ধুদের থেকে একে অপরের খবর ওরা পায় ঠিকই কিন্তু কখন যেন বন্ধুত্বের সৌরভটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে।ফেসবুক,ওয়াটসঅ্যাপ এর দৌলতে পুরনো প্রায় সব বন্ধুদের সাথে নূতন করে যোগাযোগ হলেও শুভম বা তপু কেউ কখনো একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেনি।ওয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কারণে সেলফোন নম্বর কিন্তু দুজনেরই জানা... গতকাল সন্ধ্যায় শুভমের জীবনটা হঠাৎ বদলে গেলো। আর ভোররাতের সেই মায়াবী রং এর আকাশটা...কখন যেন সেই ভালোবাসার রংএ রাঙ্গানো আকাশটা শুভমের মনের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে ... সেলফোনটা হাতে নিয়ে শুভম কন্ট্যাক্ট লিষ্ট এর 'টি' তে পৌঁছে গেলো। আজই ,এখনই তপুর সাথে কথা বলবে ও ... টেলিফোনের আড্ডা আর শেষ হয় না। এতোগুলো বছরের জমে থাকা গল্প,ভালোবাসা আর অভিমান। কিন্তু তপোব্রতকে তো আফিস যেতে হবে,শুভম না হয় ছুটি নিচ্ছে। অতএব উইকএন্ড এ দেখা করার প্ল্যানসহ আড্ডা আপাতত শেষ হলো । কান থেকে ফোন টা সরাতেই শুভমের চোখ গেলো দরজার পাশে রাখা প্রাণের থেকেও প্রিয় ক্রিকেট ব্যাটটার দিকে। গত মাসেই মায়ের এক দূরসম্পর্কের বোন লিপিকা মাসি আর তার নাতি এসেছিলো শুভমদের বাড়িতে। ওদের অবস্থা খুব স্বচ্ছল নয়। শুভমের চোখে পড়ে ছিল বাচ্চা ছেলেটা বেশ কয়েকবার ওর ক্রিকেটব্যাটটা হাতে নিয়ে শ্যাডো প্র্যাক্টিস করছে । খুব বিরক্ত হয়েছিলো শুভম। প্রিয় ব্যাট ও কারুকে ছুঁতে পর্যন্ত দেয় না। মাসিরা চলে যাওয়ার পরে ও রেগে চোটপাট করে মা কে বলেছিলো-"কেন তুমি এইসব বাচ্চাদের আমার ঘরে ঢুকতে দিয়েছো ?আমার জিনিষপত্রে কেউ যেন কখনো হাত না দেয় " শুভম ঠিক করে ফেললো ,আজই মা কে বলবে ,লিপিকামাসি আর একদিন এসে যেন ওই ব্যাট টা তার নাতির জন্য নিয়ে যান । সেইসাথে আলমারি খুলে শুভম বের করলো ওর প্রিয় অটোগ্রাফ বুক। ভারতীয় ক্রিকেট দলের বহু খেলোয়ারের অটোগ্রাফ যোগাড় করেছিলো ও। এই খাতাটাও বাচ্চা ছেলেটাকেই দিয়ে দেবে... আজ শুভমের সব কিছু বড় ভালো লাগছে। এই পৃথিবী,এই আলো,এই প্রকৃতি ...সব ...সব কিছু।এতদিন কোনো দিকে চেয়ে দেখা হয়নি।কত মূল্যবান সময় বৃথা খরচ হয়ে গিয়েছে। বই এর আলমারি থেকে প্রিয় কবির কবিতার বই খুলে বসলো শুভম। বই এর পাতায় ভেসে উঠলো একটি মুখের ছবি...নয়নিকা। ক্লাস ইলেভেনের কোচিং ক্লাস এর বান্ধবী।দিন কয়েক আগে ফেসবুক থেকে শুভম জানতে পেরেছে-আগামী শীতে নয়নিকার বিয়ে। খবরটা জেনে বুকের ভেতরটা ব্যাথায় চিন্ চিন্ করে উঠেছিল। সময় বয়ে যায...ঠিক সময়মত ভালোবাসার কথা বলা হয়ে ওঠেনা। শুভমও বলেনি ... কিন্তু আজ এই মুহূর্তে শুভমের মনে হলো -না ,আর দেরি নয়...ভালোবাসার সঙ্গে,বন্ধুত্বের সঙ্গে বিয়ের কি সম্পর্ক ?নয়নিকা ওর বন্ধু,ওকে শুভম মন হৃদয় দিয়ে ভালোবেসেছিলো ,আজও ভালোবাসে...অতএব আজই,এখনই নয়নিকাকে ও পাঠিয়ে দেবে একরাশ শুভেচ্ছা আর ভালোবাসা ... আজ শুভমের সব কিছুই বড় সদর্থক লাগছে।"জীবন"শব্দটার মানে আজ ওর কাছে একেবারে অন্যরকম। গতকাল সন্ধ্যেটা সব কিছু বদলে দিলো... প্রথমে শুভম বিশ্বাস করেনি ,বিশ্বাস করতে চায়নি ।মনে হচ্ছিলো ও যেন ভুল শুনছে...এসব তো অন্যদের হয়। তারপর ডাক্তার যখন ধীরে ধীরে একটু একটু করে বুঝিয়ে বলতে লাগলেন ... শুভমের প্রচন্ড ভয় করছিল, ভীষণ চিৎকার করে কেঁদে উঠতে চাইছিলো ওর ভেতরটা। শুভমের খুব রাগ হচ্ছিলো...রিপোর্ট টা অস্বীকার করতে ইচ্ছে করছিলো ...না না ,কোথাও একটা ভুল হচ্ছে ,এটা ওর রিপোর্ট নয়...হতে পারে না ... বায়োপসি রিপোর্টটা পজিটিভ এসেছে শুভমের।বাড়ি ফিরে কারুকে কিছু বলেনি ও।সারা রাত ঘুম আসেনি।বিছানায় শুধু এপাশ ওপাশ ... তারপর ভোররাতে সেই ব্রাহ্মমুহূর্তে শুভম বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছিলো। চরাচর জুড়ে তখন অলৌকিক আলো...দেবতারা হয়তো বা সত্যিই তখন নেমে এসেছিলেন পৃথিবীর বুকে ... কে যেন শুভমের কানে কানে বলে গেলো-"ভয় পেও না শুভম ,আয়ুষ্কালের দৈর্ঘ্যটাই খুব বড় কথা নয় ,আমাদের সকলেরই হাতে যতটুকু সময় আছে ...এসো আমরা বাঁচার মত বাঁচি ।সেটাই আসল জীবন । কত মানুষই তো সুযোগ পায় দীর্ঘ পথ চলার। কিন্তু যদি দিন শেষে দেখা যায় শুধু ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই কেটে গিয়েছে তার দিন...সে কখনো জেগেই ওঠেনি,জেগে ওঠেনি তার বিবেক ,তার চেতন ...জেগে ওঠেনি তার ভালোবাসা .... তবে সে বাঁচা কেমন বাঁচা ? তার চেয়ে এসো ,হাতে যে কটা দিন সময় আমরা সবাই পাই সেই দিনগুলো মনের সব মলিনতা ,দীনতা ঘুচিয়ে দিয়ে ভালোবাসায় বাঁচি ,প্রেমে বাঁচি ,বিশ্বাসে বাঁচি ...আনন্দে বাঁচি । রিপোর্ট পজিটিভ হোক্ বা না হোক্ জীবনটা যেন সদর্থক হয়।বায়োপসি রিপোর্ট টা তো একটা কাগজের টুকরো মাত্র ...একটা নোটিশ শুধু।বিনা নোটিশেও তো কত অমূল্য প্রাণ এক নিমেষে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায় । মৃত্যুচিন্তা ,মৃত্যুভয় অর্থহীন।মৃত্য নিছকই এক মুহূর্তের একটা খেলা মাত্র ...একটা রসিকতা । তার আগের প্রতিটা মুহূর্ত আনন্দে বাঁচার নাম ই জীবন।এসো সকলে আনন্দে থাকি ,সকলকে আনন্দে রাখি।"


Rate this content
Log in

More bengali story from susmIta Saha

Similar bengali story from Abstract