STORYMIRROR

Ankita Mukherjee

Abstract Classics Thriller

4  

Ankita Mukherjee

Abstract Classics Thriller

ফেক ভ্যাম্পাইরিজম

ফেক ভ্যাম্পাইরিজম

4 mins
66

শহর জুড়ে সংক্রমক রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে। এমন বিরল রোগটা যে কোথা থেকে এসেছে বোঝা যাচ্ছে না। প্রথমে সাধারণ অ্যানিমিয়া মনে হলেও যতো দিন যাচ্ছে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। সিমেটারিতে আর জায়গা হচ্ছে না। জোহান বাড়ি ফিরে সোফায় গা এলিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরে জেনিফার এসে তার পাশে বসে। জোহান জিজ্ঞেস করে "অ্যামি ঠিক আছে তো?" জেনিফার বলে "ও অনেকটাই সুস্থবোধ করছে এখন, তাই আমি খুব রিলিফ পেয়েছি"। জোহান বলে "আমিও"।
হঠাৎ ডোর বেলটা বেজে ওঠে। ঘরের ভিতরে ওরা সতর্ক হয়ে যায়। জোহান একবার রিভলভারটা চেক করে নেয়। অস্ত্রোটা লোডেড! সাহসে ভর করে দরজাটা খুলতেই তারই বয়সী, অনূর্ধ্ব তিরিশের এক যুবক জড়িয়ে ধরে। "অ্যালভারেজ" বলে পাল্টা জড়িয়ে ধরে জোহান। তারপর জেনিফারও তাকে জড়িয়ে ধরে। আলিঙ্গনের পর্ব শেষ হলে সে অ্যামিকে দেখতে চায়। তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হলে সে দেখে বাচ্চা মেয়েটা গুটি শুটি দিয়ে কম্বলের তলায় ঘুমিয়ে আছে।
বসার ঘরে সবার প্রথমে অ্যালভারেজই মুখে খোলে। "এখানে আসার সময়ে যা সব শুনছিলাম তাতে এটুকুই বলবো, মেয়েটাকে সাবধানে রাখিস। ভ্যমপায়ারিসমের যা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। তবে কি জানিস তো, মিলিটারি থেকে ফিরে ভেবেছিলাম সবার আগে তোদের সাথে দেখা করবো কিন্তু এখানকার যা পরিস্থিতি দেখেছি, আমার আর সাহস হচ্ছে না তোদের ফেলে রেখে যেতে। তোরাও আমার সাথে আর্মেনিয়া চল। দি ক্যাপিটাল সিটি ইস স্টিল সেফেস্ট"। জোহান বলে "মফ্সল ছেড়ে পালানোটা কোনো সমাধান নয় তাছাড়া আমি একজন ডাক্তার, স্পেসিফিক পেসেন্টদের ছেড়ে চলে যাওয়া আমার এথিক্স নয়"। অ্যালভারেজ জেনিফারের দিকে তাকাতেই সে বলে ওঠে "দ্যাস্ট ইমপসিবল ডিয়ার অ্যালভারেজ, স্বার্থপরের মত ওকে ছেড়ে চলে যেতে পারবো না"। অ্যালভারেজ বলে "কারণ তোরা দুজনেই গণ্ড মূর্খ। অবস্থা যেদিকে গরাছছে, তোদের দেহ না ম্যাগডালেনা কিংবা আমাজন নদীতে ভাসে। আসার সময়ে শুনছিলাম, গোড় দেওয়ার লোকের আকাল দেখা দিয়েছে"। জেনিফার বলে "থ্যাঙ্কস বাট তোমার বন্ধু আর্মেনিয়া কেনো, এই এলাকার বাইরে যেতেই রাজি নয়"। অ্যালভারেজ বলে "আর তুই? তুই রাজি না। অন্তত অ্যামির কথাটাতো ভাব"। জোহান বলে "আমি আমার প্রিনসেসের কথাই ভাবি আর তাই তো প্রয়োজনের আগে এলাকা ছেড়ে যাবো না"। অ্যালভারেজ এই কথার মুড়ো-লেজা কিছুই বুঝতে পারেনা দেখে, জেনিফার ওর হাত ধরে খানিকটা হ্যাচকা টান দিয়ে রান্না ঘরে নিয়ে গিয়ে রেফরিজিরেটর খুলে দেয়। বিষশয় ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে অ্যালভারেজ। কালচে লাল পদার্থ গুলো প্লাস্টিক প্যাকেটে ভোরে রেফরিজিরেটরের প্রতিটা তাকে স্টোর করে রাখা। তখনই মাথায় জোর আঘাত পায় সে।
কতক্ষণ অগ্যান ছিল সে জানেনা। কিন্তু চোখ খুলতেই সে নিজেকে বন্দি আবিষ্কার করে। জোহানের উদ্দেশ্যে বলে "এই থার্ড ক্লাস ইয়র্কির মানেটা কি, খোল আমায়"। জোহান নিজের ঠোঁটের সামনে তর্জনি তুলে তাকে ইসরায় চুপ করতে বলে। জেনিফার বলে "মন শান্ত করো অ্যালভারেজ, দেখবে অনেক সুখের মৃত্যু হবে"। অ্যালভারেজ বলে "তোরা কি পাগল হয়ে গেছিস, কি ভুলভাল বোকছিস"। জোহান বলে "পাগলই হয়ে গেছিলাম ভাই। ফার্স্ট কাজিনকে বিয়ে করা নাকি ক্যাথলিক মতে মহা পাপ। ডিওসিসন বিসপও রিফিউজ করলো, বললো আমরা নাকি অন্যায় করছি। তবু জেনিকে ছাড়তে পারলাম না তাই বাড়ি ছেড়ে দিলাম। পার্ট টাইম করে খরচ চালাতাম। তারপর অ্যামি হলো কিন্তু জন্ম থেকেই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। কতো ডাক্তার দেখিয়েছি কোনো লাভ হয়নি। যেখানে আমরা দুজনে মিলে এতো কৃটিকাল পেসেন্টয়ে প্রাণ বাঁচাচছি সেখানে নিজেদের বাচ্চাটাকে একটু একটু করে শেষ হতে দি কিভাবে বলতো?" এবার জেনিফার বলে "আসলে রেয়ার ব্লাড টাইপ তো, তাই এতো অসুবিধা। জানো অ্যালভারেজ, আর.এইচ. নাল অর্থাৎ গোল্ডেন ব্লাড পাওয়া খুব মুশকিল। এতো কষ্ট করে এই জায়গায় এসেছি, দুদিকের বাড়িই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলো তাই আর পিছাইনি। অনেক রকম পেসেন্ট দেখি হাসপাতালে। প্রত্যেকের রক্তের গ্রুপ খেয়াল করা ডাক্তারের কাজ নয়, টাউ রাখি। সহজে গোল্ডেন ব্লাডের পেসেন্ট তো পাওয়া যায়না। তাছাড়া তাদের প্রাণ নিতে আমাদেরও ভালো লাগে না অ্যালভারেজ কিন্তু কি করবো, ওকে তো আর চোখের সামনে মরতে দিতে পারিনা তাই সাদ্ধের বাইরে চলে গেছি। যেদিন ও আমাদের ছেড়ে চলে যাবে সেদিন আমরাও ম্যাগডালেনার জলে ঝাঁপ দেবো"।
অ্যালভারেজ এতক্ষণ খেয়াল করেনি। চোখ পড়তেই সিউড়ে উঠলো। তার প্রায় অবস বাঁহাতে নল করে রক্ত জমা হচ্ছে স্যালাইনের বোতলে। সে চেঁচিয়ে বলে "তোদের পুলিশে দেবো, সাইকো হয়ে গেছিস তোরা"। যতোই চিৎকার করুক নড়াচাড়ার ক্ষমতা তার নেই। কাঁটাতার দিয়ে তার শরীরটা বাঁধা। বেশি নড়াচাড়া করলে কাঁটা গুলো ফুটে যাচ্ছে। জোহান বলে "বিশ্বাস কর আমি তোকে মারতে চাইনা। আমি ওদেরও মারতে চাইনি। কিন্তু মানুষ খুন না করলে, তার রক্ত স্টোর না করলে, কিকরে টেস্ট করবো, আর টেস্ট না করলে কিকরে জানবো কার কি ব্লাড গ্রুপ। শহরের সব মানুষের ব্লাড গ্রুপ আমরাই বা জানবো কিকরে। সকলকে তো আর চিনিনা তাই সুবিধা মতো কাজ সেরে ফেলি"। জেনিফার বলে "শহরের এক প্রান্তে থাকা দুটো জুনিয়র ডাক্তারের পক্ষে এই কাজ করে যে সম্ভব, এটা পুলিশের মস্তিষ্কে আসাটাই অসম্ভব।
দিন কতক পরের এক সন্ধ্যায় ম্যাগডালেনার পাড়ে ঘুরতে গিয়ে দেখে নদীতে রক্তশূন্য একটা লাশ। পুলিসে তৎক্ষণাৎ খবর দিতেই লোকাল থানা থেকে ফোর্স হাজির হয়ে যায়। লাশের পকেট হাতড়ে তার পরিচয় পত্র পাওয়া যায়। কার্ডে ব্লক লেটারে প্রিন্ট করা তার নাম ঠিকানা, অ্যালভারেজ হারনেনডিজ্ কেয়ার অফ্ আর্মেনিয়া।
যদিও কোকোরা উপত্যকায় তখন শরতের মনোরম হাওয়া বইছে। বেঁনচে দুজন কলোমবিয়ান দম্পতি বসে আছে আর তাদের সামনে বছর আড়াইয়ের একটা বাচ্চা একাই খেলছে। কখনো একটু কাসছে, কখনো বাবা-মায়ের দিকে অসুস্থতায় বসে যাওয়া চোখে তাকিয়ে হাসছে।


Rate this content
Log in

Similar bengali story from Abstract