Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

Sharmistha Mukherjee

Tragedy Crime Inspirational


3  

Sharmistha Mukherjee

Tragedy Crime Inspirational


নিষিদ্ধ স্পর্শ 🌵 অন্তিম পর্ব

নিষিদ্ধ স্পর্শ 🌵 অন্তিম পর্ব

3 mins 171 3 mins 171


বরুনের ঘরে ঢুকেই প্রতিবেশীদের চোখে পড়লো বরুনের ঝুলন্ত দেহ । হাতের মুঠোয় একটা ছোট্ট কাগজের টুকরো । মিসেস ডিসুজা পুলিশকে ও তরুনকে খবর দিয়ে দিলো । অবশ্য তরুনকে বিস্তারিত কিছুই জানানো হয় নি । তরুণ ফ্ল্যাটের সামনে আসতেই দ্যাখে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে । ফ্ল্যাটের গেটের বাইরে থেকে নিজের ফ্ল্যাটের দরজা পর্যন্ত লোকের ভিড় উপচে পড়ছে । ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকেই দ্যাখে মেঝের উপর সাদা চাদরে মোড়ানো দুটো দেহ । একটি দেহ বড়ো আর একটি মেয়ে রুনির । পাশেই মিসেস ডিসুজার কোলে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে অরুনিমা । চোখের সামনে সব কেমন অন্ধকার হয়ে গেল তরুনের । মেয়ের দেহ আকড়ে ধরে এমন এক মর্মভেদী আর্তনাদ করলো যে ফ্ল্যাট যেন কেঁপে উঠলো । বরুনের মৃতদেহের উপরেই আছড়ে পড়লো সব রাগ - ঘৃণা । মৃত বরুনকে অনবরত চড় - থাপ্পড় মারতে লাগলো । বরুনের হাতে যে সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছিল তরুণ পুলিশকে তা পড়ার অনুরোধ করলে পুলিশ বাধ্য হয়ে তা পড়ে শোনায় । তাতে লেখা ছিল , " বৌদি তুমি আমার দাদা এবং বাবা - মায়ের কাছে আমাকে অনেক ছোটো করে দিয়েছো । ঘরের মধ্যে ক্যামেরা লাগানোর কি খুব দরকার ছিল ? আর আমি কি এমন করেছিলাম ? শুধু তোমার একটু বেশি কাছে যেতে চেয়েছিলাম এই তো ? তা তোমার কোনো ক্ষতি করেছিলাম কি ? তাহলে তুমি দাদাকে কেনো সব জানালে । আর দাদা তুইও বৌদির কথামতো আমাকে মারধর করলি তারওপর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বললি । তোরা খুব ভুল করেছিলি, আমাকে অপমান করে । আমি আমার অপমানের বদলা নিয়ে নিলাম । পুলিশের হাতে ধরা পড়লে হয় জেল নয়তো ফাঁসি তো হোতোই । তাই সে শাস্তি আমি নিজেই নিজেকে দিয়ে দিলাম । জানিস তো আমি এমনটা করতে চাই নি কিন্তু, কিন্তু রাগে মাথার ভিতরে কেমন যেন সব তালগোল পাকিয়ে গেল । তাই এই রকম চরম আর নৃশংস ভুল করে ফেললাম । লজ্জায় - ঘৃণায় নিজেই নিজেকে শেষ করে দিলাম । তোরা সত্যিই দুধকলা দিয়ে এক বিষাক্ত কালসাপ পুষেছিলি , যেই সাপ নিজের রক্তের সম্পর্কের আদরের ভাইঝির উপরেই বসালো মারণ ছোবল ।"


লেখাগুলো শুনতে শুনতে রাগে ক্ষোভে বরুণ নামক ঘৃণ্য নরখাদকটার মৃতদেহের উপর ক্রমাগত হাত চলতে থাকে তরুণ ও অরুর । 


পুলিশ অনেক কষ্টে ওদের দুজনের হাত থেকে বরুনের মৃতদেহ উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলে । সাথে সাথে ছোট্ট রুনির শরীরটাও তোলা হয় । তরুণ ও অরুর বুকফাটা কান্নার শব্দে তখন প্রায় প্রত্যেকের চোখেই বহমান জলের ধারা । নানারকম লোকের নানা ধরনের আলোচনায় ওরা দুজন আরও বেশি রকম ভেঙে পড়েছিল । 

মিসেস ডিসুজা বলেন , " কন্যাসন্তান হোক বা পুত্র সন্তান, এখন যা যুগ পড়েছে কাউকেই বিশ্বাস করা উচিত নয় । আর কন্যাসন্তান, সে সদ্যোজাতই হোক না কেন কারো হাতে ছাড়া উচিত নয় । বলা যায় না কার ভিতরে নরখাদক রাক্ষস লুকিয়ে

 আছে । "  


এসমস্ত ঘটনার মাস দুয়েক পার হয়ে যাওয়ার পরেও সেই ফ্ল্যাটে আর থাকতে পারছিল না তরুণ ও অরুনিমা । পরে তারা মুম্বাই ছেড়ে কলকাতার বাড়িতে ফিরে আসে । ওদের জীবনটা যেন এক লহমায় আমূল বদলে যায় । 


( পাঠকবৃন্দের কাছে একান্ত অনুরোধ নিজের এবং পারিপার্শ্বিক চেনা - পরিজন এবং অবশ্যই অচেনা মানুষের হাত থেকে নিজেদের সন্তানকে যতোটা সম্ভব আগলে রাখুন । আপনাদের সচেতনতায় কলিরা পরিস্ফুট হোক্ সুগন্ধি ফুলে ।) 



Rate this content
Log in

More bengali story from Sharmistha Mukherjee

Similar bengali story from Tragedy