We welcome you to write a short hostel story and win prizes of up to Rs 41,000. Click here!
We welcome you to write a short hostel story and win prizes of up to Rs 41,000. Click here!

Amit Ghosal

Comedy Drama


4.5  

Amit Ghosal

Comedy Drama


নেশার জাত, জাতের নেশা

নেশার জাত, জাতের নেশা

4 mins 363 4 mins 363


কেমন আছেন সবাই ?


করোনার ইনফেকশন আর চীনের দাদাগিরি নিয়ে খুব চাপ? হেব্বি টেনশন ??


সুশান্ত সিংএর দুঃখে চোখের জলে বুক ভেসে যাচ্ছে? তাহলে শুনুন কর্তারা দুটো কথা বলি -


প্রথম কথাটা হলো অযথা চাপ নেবেননা | কারণ আপনি কিছুই করতে পারবেননা |


আর দ্বিতীয় কথাটা হলো - আপনি মধ্য বিত্ত ছাপোষা বঙ্গ সন্তান ; ছোট বেলা থেকেই শিখে এসেছেন - 'ঝামেলায় জড়াবেননা' | সুতরাং, আপনি পারলেও কিছু করবেননা |


অতএব চাপ না নিয়ে রিলাক্স করেন এবং উইক এন্ড এ মদের চার্ট হিসেবে কি খাবেন তাই ঠিক করেন |


তা মদ খাবার কথাই যখন উঠলো, তখন আমার কিছু বক্তব্য আছে |

আমার হিসেবে মদ টা ঠিক জাতের নেশা নয় | তাই তো মাতাল কথা টা এখনো গালাগাল হিসেবেই ব্যবহার হয় |


হক কথা কি না? আমরা প্রশংসা করে বলি - 'দেখেছো ছেলেটা কি স্মার্ট!! আমার মেয়ের জন্য এইরকম ছেলেই পছন্দ !!' "


বলেনা; কক্ষণো বলেনা | কারণ ওই যে বললাম - মদ টা মোটেই জাতের নেশা নয় |


তা জাতের নেশাটা তাহলে কি রকম|


আহা ! শনিবারের সন্ধ্যে বেলায় কি প্রশ্ন টাই না করলেন কর্তারা !! দাঁড়ান তাহলে, বেশ জমিয়ে বসে বলছি | কারুর কোনো তাড়া নেই তো?


কি জানি বলে ইঞ্জিরি তে !! কমুনিকেশন স্কিল !!! ওটা আবার আমার খুব পুওর| তাই গুছিয়ে বলতে একটু সময় লাগে! কর্তারা নিজ গুনে ক্ষমা ঘেন্না করে দেবেন !!



নেশার জাত বিচার করছি বলে, বুদ্ধিজীবী রা আমাকে আবার কম্যুনাল বলে দেগে দেবেননা !! আমি আদ্যন্ত ছেকুলার| এবং আমার বিচার বুদ্ধি তে বলে - পৃথিবীর একমাত্র ছেকুলার জিনিস হলো নেশা | নেশা গ্রস্ত মানুষ কক্ষণো জাতের বিচার করেনা |


যাই হোক - কাজের কথায় ফিরে আসি | নেশা উঁচু জাতের না কি নিচু জাতের অথবা উঁচু মানের না কি নিচু মানের তা আমি মাপি আঙ্গুল দিয়ে I


কি কর্তারা? বুঝলেন না তো ? ব্যাপার টি ঠিক খোলসা হলোনা তাইনা? দাঁড়ান তাহলে জলবৎ তরলং করে বুঝিয়ে দিচ্ছি|


তা যেমন ধরুন তামাক দিয়ে দাঁত মাজার নেশা |


আমাদের ছোট বেলায় অনেকের বাবা মা, দাদু ঠাকুমা, কাকিমা জেঠিমা রা এবং কখনো কখনো ছোঁড়া ছুঁড়ি রাও এই নেশায় অভ্যস্ত ছিলেন / ছিল | লাল কাল রঙের টিনের কৌটো তে ভরা আকবরী করা গুড়াখু এই সেদিনও মফস্সল আর গ্রামীণ বঙ্গ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ ছিল |


এটির নাম আকবর বাদশার নামে কেন হলো সেই উত্তর আজো পাইনি | উনি তামুক দিয়ে দন্ত মঞ্জনের পক্ষ পাতি ছিলেন কিনা এমন কোনো ঐতিহাসিক তথ্যও এই অধমের কাছে নেই | তবে যাই হোক, এই নেশাটি যদি উনি করেও থাকতেন, এটি অত্যন্ত নিম্ন মানের এক আঙুলের নেশা |


সাধারণত যেভাবে নাকের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে গুণী জনের অবসর সময়ে বসে বসে নাসিকা স্তিথ শুষ্ক বর্জ্য বহিস্কৰণ করে থাকেন, দাঁত মাজার তামাকও খানিকটা সেভাবেই তর্জনী বা মধ্যমা টিনের কৌটো মধ্যে ঢুকিয়ে তেড়ে বের করে আন্তে হয় এবং একটি মাত্র আঙ্গুল দিয়ে দাঁতের উপেরের পাটি তে লাগিয়ে আস্তে আস্তে ডলতে থাকলেই অনির্বচনীয় সুখ এবং প্রশান্তি শিরা উপশিরা বেয়ে শরীরে এবং মনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে |


অবিশ্যি তার সাথে লালা রস মিশ্রিত তরল তামাকও ঠোঁটের কষ বেয়ে বেরিয়ে আসে এবং বিন্দু বিন্দু নিচে বা জামায় বা শাড়ি তে পড়ার উপক্রম হয়; তা সেটাকে গায়ে না মাখলেও চলবে| যদিও সামনের মানুষ টি, যিনি তামাক মজছেননা, কিন্তু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অন্য কে মাজতে দেখছেন, তার পক্ষে দৃশ্য তা খুব একটা নয়ন মনোহর নাও হতে পারে|


যাই হোক সেই রামো নেই, সে অযোধ্যাও নেই | থুড়ি, সেই আকবরও নেই, আর সেই আকবরী কড়া গুড়াখু ও আর নেই | যদি কেউ কোথাও কোচিত এক আধ কৌটো পেয়ে যান, তাহলে জানাবেন |


এর পরে আসি, আর একটি নিকৃষ্ট তরো নেশায় - এটি করার জন্য পুরো দুটো আঙ্গুলও লাগেনা, দেড় আঙ্গুল দিয়েই কাজ হয় | মূলত বয়োজ্যেষ্ঠ রা করে থাকেন | থুড়ি ভুল বললাম - থাকতেন | এই গ্লোবালাইজড মানুষ্য সমাজে, এখন আর এটি খুব একটা জন প্রিয় নয় | এটি হলো নস্যি | তর্জনী এবং বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দ্বারা এক টিপ্ নাকে গুঁজে দিয়ে সজোরে শ্বাস নিলেই কেল্লা ফতে | এরপর শুরু হয় হাঁচি |


করোনা কালে এই নেশা টি করার পর রুমাল এর ব্যবহার বাঞ্ছনীয় | তা যা বলছিলাম - ইটি দেড় আঙুলের নিম্ন মানের নেশা| দুটি আঙ্গুল পুরো ব্যবহার না করেই এই নেশাটি করা যায় |


দু আঙুলের নেশাটি ঠিক কি, তা আন্দাজ করার জন্য ঘটে খুব বেশি বুদ্ধি না থাকলেও চলবে | আমার মতো বোকারাও বলতে পারে - দুই আঙুলের নেশা হলো ধূমপান| তবে ধূমপানের সাথে বঙ্গসন্তানদের সম্পক্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ|


সেই কবে স্বয়ং উত্তম কুমার তার তর্জনী আর মধ্যমার মধ্য ভাগে সিগেরেট রেখে হাসি হাসি মুখে ড্যাবা ড্যাবা চোখ করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে ফুঁকেছিলেন| আহা ! সেই নয়নাভিরাম দৃশ্য কি আর ভোলা যায়! কত বাঙালির ছেলে যে ঠিক ওই ভাবে সিগেরেট ধরতে গিয়ে আঙ্গুল বেঁকিয়ে ফেললো আর টেরিলিনের শার্টে ফুটো করে ফেললো তার হিসেবে নেই |


তবে যাই হোক, নেশাটি খুব একটা ইজ্জতদার নয়| অনেকে যদিও সিগেরেট বা বিড়ি তিন আঙুলে ধরে টানে ন, তবু, নেশাটি বেসিক্যালি দু আঙুলের |


ক্রমশ. . .


Rate this content
Log in

More bengali story from Amit Ghosal

Similar bengali story from Comedy