মাধবীলতা
মাধবীলতা
ওর কোন দোষ ছিলো না। তবু ওকে বাড়িতে রাখতে চাই নি নিলু। আসলে একদিনের ভালো লাগাটা আজ ওর কাছে ঘৃণাতে পরিনত হয়েছে। গত বছর আগে মধুবীলতা গাছটাকে ও পুরোপুরি ছেঁটে দিলো। লাল গোলাপী থোকা থোকা কি সুন্দর ফুল ভরে থাকতো গাছটাতে। হাওয়ায় মেখে থাকতো গন্ধ। গাছটা মানবের মতোই বাড়িটাকে মাতিয়ে রেখেছিলো। মানবের হাতে পোতা ঐ গাছটা। গাছটার অপরাধ ওটাই। যেহেতু ওর সাথে সম্পর্কটা ভেঙে গেছে তাই গাছটাকেও কেটে ফেলো ও।
এ বর্ষায় দেখলাম গাছটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। নীলুর চোখে পড়েছে। দেখলাম একটা দড়ি দিয়ে বেঁধে দিলো গাছটাকে যাতে গাছ ভালো ভাবে বাঁচতে পারে কিছু একটা অবলম্বন করে। আসলে নীলু বুঝতে পেয়েছে জীবন একা দাঁড়িয়ে থাকার লড়াইটা অনেক টা কঠিন। তাই হয়তো মাধবী লতাটা প্রতি ও সহানুভূতি দেখালো। নীলু ঠিক জানে না, মানবের অপরাধ টা আসলে কি ছিলো। ও কখনো অবিশ্বাসী হতে পারে না। তবু তো ওকে ও বিশ্বাস করেনি শেষ দিকটায়।
তাহলে কি মানবকে ও ক্ষমা করবে আজ? না বোধহয়। কারণ মানুষ গুলো বিশ্বাস করার চেষ্টা করতে হয়। কিন্তু গাছরা তো মানুষের মতো অবিশ্বাসী হয় না। থাক না বেঁচে তবু প্রিয় মাধুবী লতা কিছু সুখের স্মৃতির চিহ্ন হিসেবে। ক্ষত গুলোতো ও ভুলে গেছে। মাধুবী লতার নতুন সবুজ পাতা, নীলুকে অভিনন্দন জানাচ্ছে ও নতুন জীবনের জন্য।
সত্যি বাবা মারা যাওয়ার পর মানব ওর পরিবারের একটা অভিভাবক হয়ে উঠেছিলো। মানব ছিলো ওর মায়ের প্রিয় বান্ধবীর ছেলে। ওর থেকে বছর দশেকের বড়ো। মানব মনে মনে নীলুকে ভালোবাসতো। কিন্তু সে কথা সে মুখে জানায় নি। একটু বয়স হতেই নীলুর পাত্র দেখা শুরু হলো। কিন্তু ওর কোন কাছের মানুষ ওর বিয়ে সমন্ধ গুলো ভাঙছি দিতো। পরে জানা গেলো মানুষটা এদের সবচেয়ে বড় শুভাকাঙ্ক্ষী মানব। সেই দিন থেকে এ বাসায় মানবের আসা বন্ধ। নীলু একা কোন অবলম্বন ছাড়াই আজো এ শহরে বেঁচে আছে। সেই দিন থেকে। মাধুবীলতাটা হয়তো বেঁচে থাকতে পারতো। কিন্তু নীলু মাঝে মাঝে কারো কাঁধে মাথা রেখে বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করে তাই বোধহয় গাছটাকে একটা অবলম্বন দিলো ও।
,,,,,,,,,,,,,,
