Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.
Best summer trip for children is with a good book! Click & use coupon code SUMM100 for Rs.100 off on StoryMirror children books.

Manasi Ganguli

Tragedy


5.0  

Manasi Ganguli

Tragedy


লং ড্রাইভ

লং ড্রাইভ

4 mins 547 4 mins 547

 নীল আর অহনার ভালবাসা এতদিনে বেশ পরিণত। গত ৭বছর ধরে ওরা ভালবাসে একে অপরকে। প্রথম শুরু হয় যেমন ভাবে ওদেরও শুরু সেভাবেই। অহনা তখন কলেজে আর নীল নতুন কলেজে লেকচারার হয়ে ঢুকেছে। অনেক মেয়েই তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করত,কিন্তু অহনার মধ্যে সেটা ছিল না। ও মন দিয়ে ক্লাস করত,ক্লাসের অবসরে লাইব্রেরীতে গিয়ে পড়াশুনা করত। নীল বোঝে অহনা আর পাঁচটা মেয়ের মত নয়,একটু স্বতন্ত্র,আস্তে আস্তে ও অহনার প্রেমে পড়ে যায়,কিন্তু হাবেভাবে অহনাকে বুঝিয়ে উঠতে পারে না। আসলে অহনার সেদিকে কোনো ভ্রূক্ষেপ ছিল না। নীল ছটফট করে কিভাবে অহনাকে বোঝানো যায়। অবশেষে সুযোগ বুঝে একদিন অহনাকে প্রেম নিবেদন করে ফেলে ও। অহনা খুব লজ্জা পায়,নীলকে এড়িয়ে চলতে চায়। এতে নীলের অহনার প্রতি আকর্ষণ আরো বেড়ে যায়। অবশেষে অহনা সমর্পণ করে নিজেকে নীলের কাছে।

   প্রথম প্রথম অহনা দেখা করতে চাইত না নীলের সঙ্গে,পাছে কেউ দেখে ফেলে,পাছে বন্ধুরা জেনে ফেলে। কিন্তু বেশিদিন লুকানো সম্ভব হয়নি। কলেজে ফিসফাস শুরু হয়ে যায়। বন্ধুরা রসিকতা করে। পাস করে কলেজ থেকে বেরিয়ে অহনা স্বস্তি পায়। তারপর ইউনিভার্সিটি,পি এইচ ডি করে অহনাও কলেজে লেকচারার হয়ে জয়েন করেছে। দুজনের কলেজ আলাদা। অবসরে দুজনে দেখা করে,ঘোরেফেরে,সিনেমা, রেস্টুরেন্ট ভালই চলছিল।

    এবার বিয়ের কথা ওঠে অহনার বাড়ী থেকে। নীলকে অহনা ওদের বাড়ী নিয়ে যেতে চায়। নীল এড়িয়ে যায়। যাচ্ছি যাব করে কাটায়, বলে,"গেলেই হবে,তাড়া কিসের?" "বেশ,তোমার যেদিন ইচ্ছে হবে বোলো,নিয়ে যাবো তোমায় আমাদের বাড়ি"। নীল নিজেও অহনাকে তার বাড়ী নিয়ে যাবার কথা তোলে না। অহনার ভাল লাগে না ব্যাপারটা। কিন্তু বরাবরের শান্ত,ভদ্র মেয়ে অহনা এ নিয়ে কোনো জোরাজুরি করে না নীলকে। নীল আর তার এতদিনের ভালবাসা,সেখানে কোনোরকম তিক্ততা চায় না অহনা। তাই ও মেনে নেয় নীলের ইচ্ছে। ভাবে যখন চাইবে তখনই হবে। কিন্তু মনে মনে অহনা এবার সংসার করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু কি করবে?একতরফা তো হয় না।

    আগের মত সবই চলছিল ঠিকঠাক কিন্তু অহনার কেন এমন মনে হয়?খালি মনে হয় কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। নীলের মধ্যে আগের মত আর আবেগ নেই। মনে মনে ব্যথা অনুভব করে তবু নীলকে কিছু বলে না।     

    এরই মধ্যে এক ছুটির দিনে নীল অহনাকে বলে,"চল আজ বাইকে করে লংড্রাইভে যাই"। অহনার খুব ভাল লাগে। নীলের মধ্যে মাত্রাছাড়া আবেগ অহনাকে খুশিতে ভরিয়ে তোলে। মনে মনে লজ্জা পায়। ছি ছি শুধু শুধু নীলকে সে কেমন ভুল বুঝছিল। নিজেকেই দোষারোপ করে সে। ন্যাশনাল হাইওয়ে দিয়ে শাঁ শাঁ করে বাইক ছুটছে। অহনা খুব মজা পাচ্ছে।মনের অবস্থা সেই 'সপ্তপদী' সিনেমার "এই পথ যদি না শেষ হয়" সিনটার মত। নীল বাইকের গতি বাড়ায়। রাস্তা দিয়ে এঁকেবেঁকে মজা করতে করতে নীলের বাইক চলছে। পিছনে লরী,নীল বাইকের গতি আরো বাড়ায়। এমনই এক সময় কখন যে অহনা বাইকের পিছন থেকে পড়ে গেছে নীল টেরই পায়নি। সে উড়ে চলেছে। বেশ অনেকদূর যাবার পর রাস্তায় গাড়ী বেশি চলে আসায় নীল বাইকের গতি কমায়। অহনাকে কিছু বলে সাড়া না পেয়ে নীল গাড়ী সাইড করিয়ে দেখে অহনা পিছনে নেই। নীল ঘাবড়ে যায়। আবার উল্টো পথে রওনা দেয়। কি হল,কোথায় গেল অহনা? প্রায় ৩কি.মি ফেরার পরে দেখে একজায়গায় বিশাল হইচই,প্রচুর মানুষের ভিড়। নীল বাইক সাইড করে দুরুদুরু বুকে পায়ে পায়ে এগিয়ে দেখে একটা বডি ঘিরে জটলা। কাছে গিয়ে দেখে সেটা অহনা। তার দেহটা চেপ্টে রাস্তার সাথে প্রায় মিশে গেছে কিন্তু মুখটা অবিকৃত। আর এমত অবস্থায় তার প্রাণটা তখনও রয়েছে। নীলের মনে হল তাকে দেখে অহনা যেন কিছু বলতে চাইল যদিও সে অবস্থায় ছিল না অহনা। নীল দু'হাত দিয়ে তার চোখ ঢেকে ফেলল। অহনাকে তুলে নিয়ে যাবার মত অবস্থায় সে ছিল না,কেবল মৃত্যুর অপেক্ষা। ঐখানে ঐভাবে কিছুক্ষণ পরে নীলের চোখের সামনেই তার মৃত্যু হল। বস্তুত,সেখানে উপস্থিত সকলেই অহনার তাড়াতাড়ি মৃত্যু কামনা করছিল কারণ সবাই বুঝতে পারছিল কি প্রচন্ড কষ্ট অহনা পাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায় জানতে পারা যায় অহনা পড়ে গেলে,পিছনেই এক দশচাকার লরী ছিল যেটা উর্দ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছিল,সেটা গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে অহনাকে পিষে দিয়ে চলে যায়।

   অতঃপর পুলিশ,থানা,হাজতবাস সবই হল নীলের।

অহনার বাবা-মা তথ্য প্রমাণ জোগাড় করে কেস করেন নীলের বিরুদ্ধে।সে নাকি অন্য একটি মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে ও অহনার কাছ থেকে মুক্তি পেতেই তার এই ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা ঘটানো।

   আর পাঁচটা কেসের মতই এখানেও মনের মত কোনো মীমাংসা হয় না। প্রমাণ হয় এ মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত। আর বাইক জোরে চলাকালীন পিলিয়ন রাইডার বাইকের পিছন থেকে পড়ে গেলে নাকি বাইকার সেটা না বুঝতেও পারে। উকিলের কেরামতিতে নীল বেকসুর খালাস হয়ে যায়। সে এখন দুটি বাচ্চার বাবা,সুখের সংসার। অহনার বাবা-মার মনে আজও প্রশ্ন সত্যিই কি তাদের মেয়ের মৃত্যুটা ছিল দুর্ঘটনাজনিত?


Rate this content
Log in

More bengali story from Manasi Ganguli

Similar bengali story from Tragedy