STORYMIRROR

Nityananda Banerjee

Horror Fantasy Thriller

3  

Nityananda Banerjee

Horror Fantasy Thriller

ললন্তিকা ধারাবাহিক

ললন্তিকা ধারাবাহিক

5 mins
195

পর্ব আঠারো


নিরাপত্তা নিয়ে কোন আপোষ হয় না । ডক্টর রাধাকৃষ্ণণ প্রায় সাথে সাথে আরণ্যক বসুরায়কে আই সি ইউ থেকে তিনতলায় ভি আই পি কেবিনে সরিয়ে দিলেন ।

তাঁর দেখাশোনা করার দায়িত্বে যে সব সিস্টার এবং ফ্লোর কর্মী ছিল তাদেরও আর ওই কেবিনে ডিউটি দিলেন না ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং রুদ্রদের যৌথ উদ্যোগে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হল । দুজন করে পুলিশ পর্য্যায়ক্রমে কেবিন পাহারার দায়িত্বে বহাল করলেন পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

ডক্টর রাধাকৃষ্ণণ তাঁর অতি পরিচিত এবং বিশ্বস্ত নার্সকে সেবার জন্য রেখে দিলেন । স্পেশ্যাল পাস ইস্যু করা হল গোপালকৃষ্ণ এবং রুদ্রর জন্য । 

গোপাল বাবু বললেন - বাড়ির অন্যেরা যদি দেখতে আসেন তখন কি হবে ?

ডক্টর রাধাকৃষ্ণণ বললেন - নিয়মানুসারে একজনই একসময়ে দেখা করতে পারবেন । আর আপনাদের বাড়ির লোকেদের ক্ষেত্রেও ওই নিয়মই থাকবে । অবশ্যই এই দুটো পাসের যে কোন একটা নিয়ে তাঁরা দেখা করতে আসতে পারবেন ।

গোপালকৃষ্ণ বাবু খুশি হলেন । রুদ্র বলল - ডাক্তারবাবু সুন্দর ব্যবস্থা নিয়েছেন ।

সাহিত্যিক আরণ্যক বসুরায়ের জন্য এই ধরণের নিরাপত্তা হাসপাতালের প্রথম এবং অনন্য পদক্ষেপ হিসাবে পরিচিত হয়ে গেল। 

অরবিন্দ সরখেল একটি নতুন খেলা শুরু করল। বনলতা দেবীর নাম্বারে ফোন করতে গিয়ে দেখে একবার কি দু'বার রিং হয়ে ফোন কেটে যাচ্ছে। তার অর্থ অরবিন্দের নাম্বারটা ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ তার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল । ললন্তিকার নাম্বারটা তো ওঁরা জানেন না; অতএব ওর ফোন থেকে কথা বললেই হয়। যেমন ভাবা তেমনই কাজ । 

অরবিন্দ ললন্তিকাকে বলল - তোমার ফোনটা একবার দেবে ?

- কেন ? তোমারও তো আছে। আবার আমার ফোন নিয়ে কি হবে ?

- আমার এক মক্কেলকে ফোন করব । ব্যাটা আমার নাম্বারটা ব্লক করে দিয়েছে।

ললন্তিকা ওর ফোন অরবিন্দকে দিতেই যাচ্ছিল । কি খেয়াল ললন্তিকার; অরবিন্দের ফোন ব্লক করল কেন! নিশ্চয় কোন ব্যাপার আছে। এখন যদি সে তার ফোন দেয় তবে নাম্বারটা তো মক্কেলের ফোনে সেভ হয়ে যাবে। আর এমন কিছু করে সে যদি পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যায় ! 

নাহ্ ফোন দেওয়া যাবে না। আরণ্যকের নিষেধ আছে । তার কথা অমান্য করে এ খাল কেটে কুমির আনতে পারবে না ।

বলল - তোমার নাম্বার ব্লক করেছে তো কি হয়েছে ! তুমি কোন পি সি ও ( পাবলিক কল অফিস ) থেকে কথা বলে নাও । আমার ফোন দেওয়া যাবে না ।

তর্ক শুরু হল দু'জনের । 

- কেন দেবে না ? অসুবিধা কি তোমার ?

ললন্তিকা অরবিন্দকে বিশ্বাস করতে পারছে না । সত্যি কথাটা বলে দিল । 

অরবিন্দ ভেবে দেখল ললন্তিকা ঠিকই বলেছে। এতে তাদের লোকেশনটাও ধরা যাবে । তাই ঠিক করল নিকটবর্তী কোন শহরে গিয়ে কথা বলবে ।

ললন্তিকা আরণ্যকের অফিসে বেরোতে যাবে অরবিন্দ বলল - কোথায় যাবে ? 

- কাজ আছে ।

- কাজ নয়; বল তোমার প্রেমিকের নিকট যাচ্ছি। আজকাল তোমার অনেক পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এখন তো এক বিছানায় শুতেও তোমার ভালো লাগে না। সত্য কথা বল তো আবার কাউকে তুমি ফাঁসিয়েছ নাকি ?

- তোমার যা খুশি বলতে পার । আমার পথ ছাড়ো । আর একটা কথা তোমার সঙ্গে শুতে আবার বয়ে গেছে। তিন তিন বার এবরশন করাতে হয়েছে। একটাও তো নিতে দিলে না । এখন তোমার কাছে আমার কোন প্রত্যাশা নেই । 

- বাব্বা: তোমার দেখছি ডানাপাখা গজিয়েছে ! ও ডানা আমি ইচ্ছে করলেই কেটে দিতে পারি ।

- তোমার ইচ্ছা অনীচ্ছায় আমার আর কিছু যায় আসে না । পথ ছাড়ো। আমার আর্জেন্সি আছে। 

- হাঁ হাঁ যাও । আমিও আর বাধা দেব না। একটা নির্লজ্জ মেয়ে ! রূপ দেখিয়ে মামাতো ভাইকে ফাঁসিয়ে ছিলে। এখন তো আমি না ঘরকা না ঘাটকা । ঠিক আছে , এই আমাদের শেষ দেখা। আমি বাড়ি ফিরে যাচ্ছি । যদি কখনও বিপদে পড় আমাকে স্মরণ করবে । বোনের প্রতি ভাইয়ের উদারতা দেখিয়ে দেব ।

ক্ষুব্ধ ললন্তিকা বলল - কোনদিন প্রয়োজন হবে না। আমি আর তোমার মুখ দেখতে চাই না । কেমন ? একটা চাকরি জোগাড় করে দিলাম; তা-ও তো রাখতে পারনি !

- তেমন চাকরিতে আমি পেচ্ছাব করি ।চাকরির লোভ দেখিও না । আগে নিজের চাকরিটা বজায় রাখো ।

ললন্তিকা গজগজ করতে করতে বেরিয়ে গেল । আর অরবিন্দ তার গমনপথের দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল ।

তারপর একসময় সেও রওনা দিল কোন পি সি ও বুথের সন্ধানে । নিকটে নয় ; চলল শাপুরজী পালনজীর দিকে। 

ললন্তিকা একটু দেরীতে অফিসে ঢুকেছে। তখনও মি: বসুরায় আসেননি। ও অপেক্ষা করতে লাগল । টয়লেটে গিয়ে নিজেকে একবার দেখে নিল । ব্যাগ থেকে নিজের আগেকার একটা ছবি বের করে মিলিয়ে দেখল । নাহ্ মুখের আদলটা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এমনিতেই সে ভীষণ সুন্দর দেখতে। প্লাস্টিক সার্জারির পর আরও যেন সুন্থরী মনে হল তার ।

হঠাৎ চোখ গেল বাথরুমের দক্ষিণ কোণে একটা ঢাকা দেওয়া মূর্তির দিকে । কৌতূহল বেড়ে গেল । ঢাকনা সরিয়ে যা দেখল তাতে নিজের চোখকেই সে বিশ্বাস করতে পারল না । একটা সেক্স-ডল । হুবহু তার মুখটা বসানো সেই ডলে । ছুঁয়ে দেখল গোটা শরীরটা । নিখুঁত এক সুন্দরী রমণী ,যৌবনবতী । অনেকটা তারই অনুকরণে নির্মিত। এমনকি গোপনাঙ্গও নিখুঁত। ঢেকে দিল ডলটা । কেন না আরণ্যক হয়তো এসে পড়েছে।

আরণ্যক সম্পর্কে তার যাবতীয় ধারণাগুলো ভুল প্রমাণিত হল । জীবন্ত মহিলাও তাঁর চাহিদা পূরণ করতে পারে না তাহলে ! 

- এঅটু দেরী হয়ে গেল মিস সেন ।

আরণ্যক ললন্তিকাকে বললেন - কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছ ?

ললন্তিকা ভাবনার জগত থেকে ফিরে উত্তর দিল - এত দেরী তো কর না তুমি ? শরীর-টরীর ঠিক আছে তো ?

- হ্যাঁরে বাবা ! আমার শরীর নিয়ে এত ভাবতে হবে না । আমার যে পৌরুষত্ব আছে তাতে একসাথে তিন চারজন সঙ্গিনীর সঙ্গে সঙ্গম করতে পারি ।

ললন্তিকার মনে হল সেইজন্যই বুঝি ঘন ঘন বাথরুমে যাওয়া হয় । এমন সুপুরুষ ললন্তিকা জীবনে প্রথম দেখেছে। তুলনায় অরদা ( অরবিন্দ) তো শিশু। অবশ্য নিজেও কিছু কম যায় না । নইলে কি তাকে তিনবার গর্ভপাত করতে হয় !

মি: আরণ্যক বসুরায় ললন্তিকার দিকে চেয়ে বললেন

- ললন্তিকা নামের অর্থ জান ?

- নামের অর্থ নিয়ে কি হবে? আমি কামের অর্থ খুব বুঝি। 

- জানা উচিত। যেমন আমার নাম আরণ্যক যার অর্থ দু'তিন রকম । আক্ষরিক অর্থে উৎপাদিত, অন্য অর্থে জন্যগ্রহন করা । আবার আর একটা অর্থ হল অরণ্য বা বন সম্পর্কিত। আবার কখনও কখনও মরুভূমির অন্তর্গত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় ।

ললন্তিকা সে অর্থ জানতে চায় না । সে শুধু দেহোপজীবিনী হয়েই থাকতে চায়। আর চায় টাকা - লক্ষ লক্ষ এমনকি কোটি কোটি। ভবিষ্যতের জন্য।

আরণ্যক বললেন - তোমার নামেরও অর্থ আছে। সোজা কথায় যার মানে হল লম্বা হার বা নাভীদেশ পর্য্যন্ত প্রলম্বিত মালা । আর তুমি তো আমার আজানুলম্বিত মণিহার । জানো ললন্তিকা ! একবার করে আমার মনে হয় বিয়েটা যদি আর এঅটু দেরীতে করতাম ; ঠিক তোমার সঙ্গে দেখা হবার পর, না জানি আমার জীবনটাই বদলে যেত ।

- তার মানে তুমি আমাকে বিয়ে করতে ?

আরণ্যক মুখ ফুটে বললেন না ঠিকই; হাবে ভাবে তা' বুঝিয়ে দিলেন।

ললন্তিকা বুঝে নিল তাঁর দাম্পত্য জীবনের অনুশোচনা ।

আরণ্যক বুঝিয়ে দিলেন তাঁর কামনা বাসনা ।

ললন্তিকার ভাবোদয় হল হয়তো তিনি তাকে মর্য্যাদা দিলেও দিতে পারেন। কিন্তু এখনই এ নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি ।

( ক্রমশ )



Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror