Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published
Participate in 31 Days : 31 Writing Prompts Season 3 contest and win a chance to get your ebook published

Kingkini Chattopadhyay

Comedy


3  

Kingkini Chattopadhyay

Comedy


কর্মই ধর্ম!

কর্মই ধর্ম!

4 mins 375 4 mins 375

অনেকদিন পর লিখিতে বসিয়া অনেক কথা মনে পড়িতেছে| আমারই চাকুরীজীবনে ঘটিয়া যাওয়া বিশেষ কিছু মজার মুহূর্ত লিপিবদ্ধ করিলাম|

                 

অনেকদিন পর লিখিতে বসিয়া অনেক কথা মনে পড়িতেছে| আমারই চাকুরীজীবনে ঘটিয়া যাওয়া বিশেষ কিছু মজার মুহূর্ত লিপিবদ্ধ করিলাম|


বেশ কয়েকবছর আগের কথা| রীতিগত লেখাপড়া শেষ হইয়াছে সবে. কয়েকখান পাস দিয়া ঘরে বসিয়া আছি ও চাকুরীর চেষ্টা দেখিতেছি| কিছু বন্ধুবান্ধব উচ্চতর শিক্ষাপ্রাপ্তির প্রয়াস করিতেছেন| আমার অত উচ্চাকাঙ্খা নাই| আপাতত কিছু কাজ শিখিতে হইবে খাতায় কলমে|


কর্মসংস্থান একখান হইয়া গেলো| একটি ক্ষুদ্র সংস্থা, জনা দশেক অংশীদার - এঁরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের বাণিজ্যিক পরিষেবা দিয়া থাকেন| তা আমি একেবারেই শিক্ষানবিশ জাতীয় আনকোরা নতুন কর্মী হওয়ায় কাছাকাছি এক কাছারিতে পাঠাইলেন হিসাবপত্র লিখা ও তদারকির কাজে| গুটিগুটি পায়েস দুরুদুরু বক্ষে উপস্থিত হইলাম গন্তব্যে|


ভাবিয়াছিলাম ব্যস্ত কর্মমুখর এক কাছারি দেখিব, ঢুকিতেই হৃদয় কম্পিত হইবে কর্মভার কিরূপে সামলাইবো এই চিন্তায়| কিন্তু যাহা দেখিলাম জন্ম-জন্মান্তরেও ভুলিব না|


প্রবেশ করিতেই যে স্নায়বিক ধাক্কাটি খাইলাম তাহা হইলো কাছারি ফাঁকা| কর্মীদল এখনো আসিয়া উপস্থিত হইতে পারেন নাই| দেয়ালঘড়িতে ঢং ঢং করিয়া বেলা এগারোটার ঘোষণা হইয়া গিয়াছে মিনিট দশেক হইলো. কি আর করি, কামরায় ঢুকিয়া একটি চেয়ার টানিয়া লইয়া বসিয়া অপেক্ষা করিতে লাগিলাম| বিভিন্ন সংবাদপত্র নেহাত অনাদৃতের মতো টেবিল এ পড়িয়া আছে| মানুষের অভাবে বৈদ্যুতিক পাখাগুলি তাহাদেরি বাতাস করিতেছে| ক্রমে একজন -দুইজন করিয়া কর্মচারী আসিতে লাগিলেন| ঘড়ি বলিতেছে সাড়ে এগারোটা| ক্রমে আরো আসিলেন, তারপর হুড়মুড় করিয়া সবাই আসিয়া পড়িলেন| শেষমেষ এই শান্ত কক্ষে যে ভয়ানক কান্ড শুরু হইলো তাহা অবর্ণনীয়|


কর্মচারীরা আসিয়াই বারোটা বাজিতে পাঁচ মিনিটে সকলে সমস্বরে চেঁচাইতে লাগিলেন - রেজিস্টার কোথায় গেলো, লেট পড়িয়া যাইবে. বেহারা ছোকরা অন্যান্য ডিপার্টমেন্টেও সমগোত্রীয় তলব পাইয়া সেই অমূল্য খাতাখানি লইয়া অন্যত্র গিয়াছিল| সে ফিরিয়া আসিতেই এই কক্ষের সমস্ত লোকজন ক্ষুব্ধ অভুক্ত ব্যাঘ্রের ন্যায় তাহার ঘাড়ে লাফাইয়া পড়িলেন| ছোকরা কোনোমতে প্রাণ বাঁচাইয়া পলাইল| সকলে মিলিয়ে একত্রে রেজিস্টারে সহি করিতে লাগিলেন| কলম লইয়া কাড়াকাড়ি মারামারি চলিতে লাগিল এবং সেখানি সহি-পর্বের পর চিরতরে অন্তহৃত হইলো.


এই কুরুক্ষেত্র শান্ত হইবার কিছুক্ষন পর যে যার নিজ নিজ আসনে আসিয়া বসিলেন| অনেক পরিশ্রম গিয়াছে, সুতরাং সবাই চা পান করিতে ব্যাকুল হইয়া পড়িয়াছেন| সেই লইয়া ভয়ানক হাঁকাহাঁকি ডাকাডাকি চলিল| আমি কাহাকেও চিনিনা, এই ভয়ঙ্কর কোলাহলের মধ্যে পড়িয়া চুপসিয়া গেলাম| কাজের জন্য একজনকে বলাতে তিনি আমাকে এক পেয়ালা চা এবং সংবাদপত্র দিয়া পুনরায় বসাইয়া দিলেন|


এতক্ষনে সবাই এই নবাগতাকে লক্ষ্য করিয়াছেন| ইতিউতি এক -দুইজন মহিলা কর্মচারী আগাইয়া আসিয়া ভাব জমাইতে শুরু করিলেন| অচিরাৎ ঘন্টাখানেকের মধ্যেই তাঁহাদের সাকিন -গোত্র -ঠিকানা -পরিবারবর্গ, এবং সেইদিন কাহার বাড়িতে কি কে কি রান্না করিয়া আসিয়াছেন, এই সমস্ত অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ে অবগত হইলাম| কাজ দেখাইতে কেহই যে আগ্রহী নন -এই সত্যখানি তখন বেশ উপলব্ধি করিয়াছি |


এর কিছুক্ষন পর টিফিন টাইম| কামরা আবার পূর্ববৎ খালি হইয়া গেলো| সবাই মধ্যাহ্নভোজন করিতে গিয়াছেন| ঘড়িতে তিনটা বাজিল| একে একে কর্মচারীরা ফিরিয়া আসিতেছেন| অনেক কষ্টে এক আধজনের টেবিলে দলিল খাতা হিসাবপত্র বাহির হইয়া শোভা পাইতে লাগিল| ভাবিলাম এইবার বুঝি কাজকর্ম শুরু হইবে , আমিও কিছু কর্তব্যের আভাস পাইবো| কিন্তু খাতাবহি পড়িয়া রহিল -সকলে একত্রে হাই তুলিতে লাগিলেন -যেন মায়ানিদ্রানগরের জাদুর কাঠি ছোঁয়ানো পুতুলের দল| আবার চায়ের জন্য জোর তলব পড়িল ও মুহূর্তমধ্যে পঞ্চাশ কাপ চা আসিয়া উপস্থিত হইলো| এইবার শুরু হইলো অন্যরকম এক যুদ্ধ|


যে সংবাদপত্রগুলি এতক্ষন পড়িয়া পড়িয়া নিষ্ফল রোদন করিতেছিল,  তাহারা হঠাৎ অতিশয় লোভনীয় বস্তু হইয়া উঠিল , এবং কে কোন পৃষ্ঠা আগে পাঠ করিবেন - তাহাকে কেন্দ্র করিয়া হুলুস্থূল বাঁধিয়া গেলো| সংবাদপত্র সংবাদ অনুযায়ী বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হইয়া ইহার উহার হস্তে শোভা পাইতে লাগিল| বিশেষ করিয়া খেলার পাতাখানির এতোই চাহিদা যে তাহাকে লইয়া একত্রে দুই তিনজন কাড়াকাড়ি করিতে লাগিলেন| কিছুজন হাতে সম্পাদকীয়টি লইয়া নিভৃত কোণে আত্মস্থ হইয়া পড়িলেন| উঁকি মারিয়া দেখিলাম তাঁহারা সম্পাদকীয়ের গুরুতর আলোচনার গুঁতা সামলাইতে না পারিয়া ঘুমাইয়া পড়িয়াছেন| পরে বুঝিয়াছিলাম - ইঁহারা ইচ্ছা করিয়াই এই পৃষ্ঠাটি বাছিয়া লন, যাহাতে কেহ এই পাতাটি চাহিয়া তাঁহাদের সুখনিদ্রার ব্যাঘাত না ঘটায়| আমি দেখিয়াছি - অফিস কাছারি বা আমজনতার কাছে রাজনীতি, খেলা ও অন্যান্য সংবাদ অধিকতর প্রিয় ও মুখরোচক.


এইসব করিতে করিতে চারি টা বাজিল| ক্রমে সকলে ব্যাগ গুছাইতে তৎপর হইয়া উঠিলেন| সারাদিন অভাবনীয় কর্মব্যস্ততার পর সবার এবার ঘরে ফেরার পালা|


এইভাবেই দৈনন্দিন কর্মহীনতায় এই কাছারি চলিতেছে| ফাইল এর উপর ফাইল চাপিতেছে, ধূলার উপর ধূলার আস্তরণ জমা হইতেছে| কর্মীদল কখনো চা, কখনো সংবাদপত্র, কখনো শাড়ীর আলোচনায় মশগুল হইয়া আছেন| কখনো কখনো দেখিতাম কাচারিমধ্যে ফুলিয়ার হাট বসিয়াছে, কেহ শারীসম্ভার লইয়া আসিয়াছেন -মহিলামহলে শাড়ী পছন্দ ও পরস্পর গুনাগুনের চুলচেরা বিশ্লেষণ হইতেছে|


অকস্মাৎ একদিন প্রায় বিকাল সাড়ে চারিটার সময়ে বিষম এক বিপদ আসিয়া উপস্থিত হইলো| শোনা যাইলো "ওই আসিতেছে "| কিন্তু কে বা কাহারা আসিতেছেন ঠাহর করিবার পূর্বেই দেখি সমস্ত সংবাদপত্র ঝটপট টেবিল থেকে উধাও হইয়া গেলো, সবার ব্যাগ আবার খুলিয়া কলমগুলি হাতে চলিয়া আসিলো| কবেকার নোংরা ধূলিমলিন খাতাপত্র খুলিয়া সকলে হঠাৎ কাজ করিতে বসিয়া গেলেন| একজন অত্যধিক কর্মভার দেখাইবার জন্য খান চারেক খাতা একত্রে লইয়া বসিয়াছেন, অপরজন কিছুই না পাইয়া এক খানি পাইবার জন্য টানাটানি করিতেছেন| কেহ কেহ একটিমাত্র খাতার উপর হুমড়ি খাইয়া পড়িয়া চারিজন মিলিয়া একটি পৃষ্ঠা খুব মনোযোগ সহকারে জীবনে প্রথম বারের জন্য চোখে দেখিতেছেন. এই আকস্মিক কর্মযজ্ঞে থতমত খাইয়া আমি এদিক ওদিক দেখিয়া কান্ডটি বুঝিবার নিষ্ফল চেষ্টা করিতেছি| আধ ঘন্টা পর জ্ঞাত হইলো কেহই আসেন নাই - কোনো কর্মচারী গুজব রটাইয়াছেন যে বড়োবাবু আসিতেছেন| সেইহেতু এই হঠাৎ কর্মব্যস্ততা| সংবাদ টি গুজব প্রমাণিত হওয়ায় সকলেই স্বস্তির শ্বাস ফেলিলেন ও আবার আপন আপন ঝোলা লইয়া গৃহাভিমুখে রওনা দিলেন|


আমার প্রথম চাকুরীক্ষেত্রের সেই দিনগুলি এখন অতীত| সময় সম্মুখে অনেকখানি আগাইয়া গিয়াছে, আমিও তাহার অমোঘ শক্তির টান এড়াইতে না পারিয়া অনেকটা পথ চলিয়া আসিয়াছি| জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়া পাড়ি দিয়া অন্যত্র স্থানান্তরিত হইয়াছি বেশ কয়েকবছর হইল| সংবাদ পাইয়াছি - সেদিনকার সেই রঙ্গমঞ্চের কলাকুশলীরা অনেকেই এখন হয় অবসরপ্রাপ্ত, নাহয় পঞ্চত্বপ্রাপ্ত| আর কারো সাথে এখন আর যোগাযোগ নেই - কিন্তু স্মৃতির সরনী বেয়ে তাঁহারা সকলেই আমার মনে আজও অমলিন| তাঁহাদের কথা, সেই দিনগুলির কথা মনে পড়িলে আজও সশব্দে হাসিয়া উঠি||


Rate this content
Log in

More bengali story from Kingkini Chattopadhyay

Similar bengali story from Comedy