Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra
Participate in the 3rd Season of STORYMIRROR SCHOOLS WRITING COMPETITION - the BIGGEST Writing Competition in India for School Students & Teachers and win a 2N/3D holiday trip from Club Mahindra

NISHA KAMILA

Horror Children


4.5  

NISHA KAMILA

Horror Children


ভৌতিক মেস বাড়ি

ভৌতিক মেস বাড়ি

3 mins 307 3 mins 307

আমি একজন কলেজ এর প্রিন্সিপাল । এই কাজের সাথে সাথে আমি বক্তৃতাও দিতে পছন্দ করি এবং কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তাই আমি যোগদান করি ।

আগে বীরভূম জেলার একটা ছোট্ট গ্রামের বাসিন্দা ছিলাম কিন্তু বর্তমানে কাজের জন্যে কলকাতার একটা মেস বাড়ি ভাড়া করে থাকি। মেস বাড়িটা শহরের এক প্রান্তে অবস্থিত তাই এখানে শুধু আমি আর একজন বৃদ্ধ পরিচারক ছাড়া আর কেউই থাকে না । জায়গাটাও খুব নিস্তব্ধ চারিদিকে প্রচুর গাছ-গাছালি। তাই রাতে চারিদিকে একটা শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ আর একটা গা ছমছমে ভাব বিরাজ করে। 

একদিন কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠান উপলক্ষে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বাড়ি ফিরতে দেরি হয়ে গেলো। প্রথমটায় ভেবেছিলাম অনুষ্ঠান তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলে বাড়ি ফিরে বই পড়ব। কিন্তু দেরি হয়ে যাওয়ায় শহরের রাস্তা খুব নিঝুম আর নিস্তব্ধ লাগছিলো, আমি যখনকার কথা বলছি তখনকার কলকাতা শহর আর এখানকার কলকাতা শহরের মধ্যে অনেক পার্থক্য কারণ তখন কলকাতায় যান-বাহন এত উন্নত ছিলো না আর চারিদিকে ছিলো সবুজের সমারোহ।কলেজ থেকে পায়ে হেঁটে রোজ মেস বাড়ি যাওয়া ছিলো আমার দৈনন্দিন অভ্যাস । আর তাছাড়া শহরে আমি নতুন ছিলাম তাই তখনও ঠিক করে সব জায়গা চিনে উঠতে পারিনি আর ঘুরে দেখার অবসর ও পাইনি। সুতরাং আমার রোজকার গন্তব্য ছিলো শুধু মেস বাড়ি আর কলেজ। 

কিন্তু মেস বাড়ি ফিরতেই কেমন যেনো একটা খটকা লাগলো কারণ রোজকার অভ্যাস মতো কলেজে যাওয়ার সময় আমি দরজা বন্ধ করেই গিয়েছিলাম কিন্তু এসে দেখি দরজা পুরোটাই খোলা। বাইরে খুব একটা জোরে হাওয়া দিচ্ছিলো না যে তাতে দরজাটা খুলে যাবে যাই হোক মনে একটা খটকা নিয়েই হাত পা ধুয়ে রাতের খাবার খেয়ে বই নিয়ে বসলাম। আজ যেনো ঘুম আসতেই চাইছে না। তাই বেশ কিছুক্ষণ বই পড়ব ভাবলাম,তারপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছি ঠিক জানি না। ঘুম ভাঙল অনেক রাতে কোনো একটা অজানা শব্দে বা হয়তো ঘুমের মধ্যে ঠিক করে বুঝতে পারিনি। যদিও উঠতে ইচ্ছে করছিলো না তবু কৌতুহলবশত উঠেও গেলাম। শব্দ অনুসরণ করতে করতে একটা ছোট্ট ঘরে গিয়ে পৌঁছালাম। দেখলাম দেওয়ালের গায়ে একটা বাচ্চার ছায়ামূর্তি কয়েকটা খেলনা আশেপাশে ছড়িয়ে আছে আর তারই মধ্যে একটা খেলনা রেল-গাড়ির শব্দেই আমার ঘুমটা ভেঙে গিয়েছিলো বলে মনে হলো। যাই হোক বেশিক্ষণ দেখতে পারলাম না সেই দৃশ্য তাই তাড়াতাড়ি চলে এলাম। তবে সকালে উঠে সব স্বাভাবিক দেখে মনে হলো কাল যা দেখেছি তা হয়তো সবটাই ছিল মনের ভুল ।

কিন্তু সেইদিন কলেজে কোনো কাজেই ঠিক করে মন বসছিল না তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এলাম। আর তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়লাম কিন্তু একটু রাত হতেই আবার ঘুম ভেঙ্গে গেলো বিড়ালের আওয়াজে। উঠে দেখলাম দরজার কাছে একটা কালো বিড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে আমি উঠে যেতেই বিড়াল টা এগোতে শুরু করলো মনে হলো আমাকে যেতে বলছে তার সাথে, অগত্যা তাকে অনুসরণ করলাম এবং এবারেও একটা ঘরের সামনে এসে পৌঁছালাম । ঘরের ভিতরে ঢুকতেই একটা পচা গন্ধ নাকে ভেসে আসলো খাটের ওপর তাকাতেই মনে হলো একটা ছায়া মূর্তি তবে ধনুকের মতোন বেঁকে আছে এবং সে ছটফট করছে মুক্তির আশায়। কিছুক্ষন পর সব থেমে গেল মনে হলো সামনে একটা মৃতদেহ পড়ে আছে এবং চারিদিকে রক্ত ছড়িয়ে পড়েছে। সেই দেখে আমি জোরে চিৎকার করতে গেলাম কিন্তু আওয়াজ বেরোলো না… তারপর আমার কিছু মনে নেই সকালে নিজেকে নিজের খাটেই দেখলাম আর দেখলাম সেই বৃদ্ধ মাথার কাছে বসে হাওয়া করছে। তার কাছে শুনলাম সে সকালে কাজ করতে এসে আমাকে অন্য একটা ঘরে অজ্ঞান অবস্থায় দেখে এবং এখানে নিয়ে আসেন। কিন্তু তারপর আমি আর সেখানে থাকিনি। অন্য একটা মেস বাড়ি ভাড়া করে সেখানেই থাকতে লাগলাম কিন্তু সেই মেস বাড়ির বিভীষিকা এখনও মন থেকে মুছে ফেলতে পারিনি। 


Rate this content
Log in

More bengali story from NISHA KAMILA

Similar bengali story from Horror