STORYMIRROR

Piyali Mukherjee

Horror Fantasy

3  

Piyali Mukherjee

Horror Fantasy

আয়না 🪞🪞

আয়না 🪞🪞

8 mins
177

  • আয়নাটার দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সুরূপা। চমৎকার ডিম্বাকৃতি আয়না চারপাশের লাল আর কালোর অদ্ভুত নকশা করা বর্ডার, কিন্তু সবচেয়ে সুন্দর হচ্ছে আয়নার উপরে বসানো ময়ূর দুটি । আর দুই পাশে ঝুলে রয়েছে ময়ূরের লেজ। চোখগুলিতে পাথর বসানো। লাল রঙের চোখগুলো আলো পড়ে ঝিকমিক করছে। প্রথম দৃষ্টিতেই আয়নার প্রেমে পড়ে গেল সুরূপা। এরপর পুরো ঘুরে একটা চক্কর দিয়ে আবার সেই আয়নার সামনেই এসে দাঁড়িয়েছে সে। মনের কল্পনায় দেখছে আয়নাটিকে তার রুমের ওয়ার্ডরোবের পাশের দেওয়ালে কি চমৎকারই না দেখাবে! আয়নার দাম যে তার নাগালের বাইরে হবে সেই নিয়ে ওর মনে কোনো সন্দেহ নেই। তবু দেখতেই থাকলো।

সুরূপা পড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে। সে এসেছে তার মায়ের সাথে উত্তর কলকাতার বাগবাজারের কাছাকাছি গলির মাঝে তিনতলা একটা বাড়িতে। বাড়িটির সামনে একটা বড়ো বাগান , মাঝখান দিয়ে মোরাম বিছানো রাস্তা। বাড়িটা এতই পুরানো যে মনে হয়, যে কোনো সময়েই ঝুরঝুর করে ভেঙ্গে পড়তে পারে । সেই কোন্ আমলের জমিদারবাড়ি, বলছে বয়স প্রায় ১৫০ বছরের থেকে আর একটু বেশি । অনেক বছর বন্ধ থাকার পর কে বা কারা যেন পেপারে বিজ্ঞাপন দিয়েছে যে, অ্যান্টিক পুরানো আসবাবপত্র বিক্রি হবে। তার মায়ের আবার শখ অ্যান্টিক জিনিসের প্রতি একটু বেশি। তাই শনিবার সকালের আরাম ছেড়ে তারা এখন এই পুরনো বাড়ির বৈঠকখানায় দাঁড়িয়ে।

তার মায়ের ইতিমধ্যে একটি পানের বাটা , আরেকটি ফুলদানি খুবই পছন্দ হয়েছে। এখন তিনি দরদাম করতে ব্যস্ত বাড়ীর কেয়ারটেকারের সাথে। সেই এখন এই বাড়িটির দেখাশোনা করে। বাড়িটির বর্তমান মালিক আমেরিকায়, সে এখন আর এদেশে আসে।  না । সে চায় সব কিছু বিক্রি করে দেশের সাথে সম্পর্ক একেবারেই মিটিয়ে ফেলতে।

এক ফাঁকে সুরুপা বাড়ির উপর তলায় ঘুরে এসেছে । তিনতলায় কেউ ওঠেনা এখন আর। নিচতলার ঘরগুলো এখনো কিছুটা আস্ত আছে বটে , কিন্তু ভ্যাপসা গন্ধ আর প্রচন্ড ধূলো। এক কালের রঙ্গিন কাঁচগুলো আজ অবহেলিত ও ধূলি-ধূসরিত। ঘুরতে ঘুরতে একটা বন্ধ দরজার সামনে এসে পড়ে সুরূপা। বিশাল এক কাঠের দরজা, অতীতে হয়তো চমৎকার কাঠের কাজ করা ছিল। কিন্তু এখন তার উপরে কয়েক পর্বের ধূলোর আস্তরণ। টানাটানি করতেই ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ করে দরজাটি খুলে গেল। ঘরটা বেশি বড়ো নয় , মাঝারি আকৃতির।

ভিতরে ঢুকে ও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো চারপাশে ।বিশাল বিশাল সব আলমারি, আর তাতে না হলেও হাজার দশেক বই হবে। এটি বাড়ির লাইব্রেরী বোধ হয়। মাকড়সার জাল সরিয়ে সরিয়ে ঢুকতে হয়, অবস্থা এতটাই করুণ। মাঝে মাঝে ঝটপট শব্দ শোনা যাচ্ছে, তার মানে ইঁদুরের সাম্রাজ্য আছে, সাথে চামচিকে। ইচ্ছে থাকলেও হাত দিতে যেন কেমন লাগে। একটা আলমারি টানাটানি করে খুলতে ব্যর্থ হয় সে। সব মনে হয় তালা দেওয়া । ঘরের এককোনে একটা টেবিল আর চেয়ারের ভগ্ন দশা। কি করে এগুলি এখানে দাঁড়িয়ে আছে তা এক বিস্ময়ও বটে! টেবিলের উপরে এখনো কিছু বই এলোমেলো হয়ে পড়ে রয়েছে। কে জানে কবে থেকে!

আগে হয়তো এই টেবিলে বসেই কেউ লিখতো, বইগুলি পড়তো – ভাবতেই ওর গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠলো। সবকিছুর উপরেই ধূলো। সুরূপা ভাবলো তার মা এই ঘরে এলেই সর্বনাশ। মার প্রবল ডাস্ট এলার্জি। বাড়ীর সব ধূলা ঝাড়াঝাড়ি ওকে আর বাবাকেই করতে হয়। আনমনে টেবিলের রাখা বইগুলোর উপর থেকে হাত দিয়েই ধূলা সরাতে থাকে সুরূপা।

কালো মলাটের একটি মোটা বই, প্রথম পাতা খুলতেই ঝুর ঝুর করে সব খসে পড়লো। পাতা নেই বললেই চলে, যা আছে সব ইঁদুর আর পিঁপড়া মিলে খেয়ে নিয়েছে। কিসের বই বোঝার কোনো উপায় নেই। বইটির পাশে ছোট একটি ডায়েরী। ও অবাক হয়ে দেখলো সবকিছুর ধূলার সাম্রাজ্যে ঢাকা হলেও ডায়েরিটা কিন্তু যথেষ্টই পরিষ্কার। কেউ যেন নিয়মিত এর ধূলা ঝাড়ে। পাশেই কালির দোয়াত, তার মাঝে পাখির পালকের কলম। ধূলায় রঙ অস্পষ্ট। সুরূপা ডায়েরিটা তুলে নিল।

"এখানে কি চাই?” – হঠাৎই গম্ভীর রাগী গলায় কেউ একজন প্রশ্ন করলো। সুরুপা ভয়ে চেঁচিয়ে উঠে হাত থেকে ডায়েরী ফেলে দিলো। আতঙ্কে তার গলা রুদ্ধ হয়ে গেলো, কোনমতে পিছনে ফিরে দেখলো বুড়ো চৌকিদার কোন ফাঁকে চলে এসেছে। এত তন্ময় হয়ে ও সব দেখছিলো যে সে বুঝতেই পারেনি অন্য কেউ ঘরে প্রবেশ করেছে।

কোনো রকমে বললো, “এই তো, এমনি। এমনি আমি সব ঘুরে দেখছিলাম”। বুড়ো চৌকিদারের চোখ রাগে ধক ধক করে জ্বলে উঠলো। চিবিয়ে চিবিয়ে বললো, “কখনো এমন কোথাও যেতে হয় না যেখানে তুমি অবাঞ্ছিত। এমন কোনো কিছু স্পর্শ করতে হয় না যা তোমার নয়। তোমার কৌতুহল তোমাকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারনা নেই”।

সুরুপা এমন কথা শুনে থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো। আজকাল সে অনেক সাইকো থ্রীলারের ছবি দেখে তার বন্ধু চৈতীর পাল্লায় পড়ে। এই লোকটির আচরণ তারও যেন কেমন লাগলো, “আমি…… আমি দুঃখিত। বুঝতে পারিনি”। কাঁপা কন্ঠে কথাগুলো বলেই লোকটির পাশ দিয়ে দৌড় দিলো সুরুপা ।

বাইরে বৈঠকখানায় এসে দেখলো তার মা চার-পাঁচটি প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়ে। যেতেই মায়ের কাছে ধমক খেলো। “অ্যাই পাজি মেয়ে, কোথায় ছিলি তুই? জানিস আমি কতক্ষন ধরে খুঁজছি। বাড়িতে যেতে হবে না? রান্না কি ভূতে করে দিয়ে যাবে?” সুরূপা কথার উত্তর না দিয়ে দৌড়ে দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো। রাস্তায় লোকজনের মাঝে না গেলে তার কাঁপুনি কমবে না। অদ্ভুত কিছু একটা আছে এই বাড়ীতে। এক মূহুর্ত সে এখানে থাকবে না।

বুড়ো চৌকিদার ততক্ষণে ফিরে এসেছে। মা তার দিকে তাকিয়ে লজ্জিত ভাবে বললেন, “মেয়েটা আমার বড় পাগলী হয়েছে। তাহলে আজ আসি। ”

---“জী । তবে কি আমি চায়ের সেটটি আপনার জন্য রাখবো? একেবারে খাঁটি পুরনো জিনিস কিন্তু, ১২০ বছরের কম বয়স না”। ----সুরূপার মা দুঃখের সাথে মাথা নাড়লেন, “যে দাম বলছেন, তাতে কোনো ভাবেই সম্ভব নয় ”।

----“আরেকটু না হয় কমালাম, আপনি এত জিনিস নিলেন”।

-----মা কিছুক্ষন ভেবে বললেন, “আপনি দিন ১৫ যদি রাখতে পারেন তবে ভালো হয়, এর পর আমি এসে নিয়ে যাবো”।

-----“ভালো খদ্দের না পেলে রাখবো। আপনি খবর নিয়েন”।

ওই বাড়ি থেকে আসার পর প্রথম দুই তিন দিন সুরুপার রাতে একা ঘুমাতে একটু ভয় ভয় করছিলো , তবে সে যে লাইট জ্বালিয়ে ঘুমাচ্ছে, তা কাউকে জানতে দিলো না। দিন তিনেক পরেই সব আগের মত। অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার ধাক্কায় জীবন চলতে লাগলো আগের ধারায়।

২৪শে জুলাই সুরূপার জন্মদিন। আগের দিন রাতে সে খুবই আনন্দ নিয়ে জেগে থাকে। প্রতিবারই জন্মদিনে রাত ১২টার পর সে বেশ কিছু উপহার পায়। তার মাঝে কিছু উপহার গৎবাঁধা। তার মধ্যে বিশেষ করে বাবার একটা খামে শুভ জন্মদিন লিখে টাকা দেওয়া, যেটা দিয়ে সে বন্ধুদের খাওয়ায়, এটা তার সব থেকে প্রিয়। তবে তার মায়ের দেওয়া উপহার সবসময়েই ব্যতিক্রম।

কোনোবারের সাথে কোনো-বারের-টার মিল থাকে না। এই তো দুই বছর আগে সে পেয়েছিলো রবীন্দ্র রচনাবলীর সেট, গত বছর মা তার জন্য কিনে এনেছিল মুক্তোর চমৎকার একটা সেট। পার্টিতে সে প্রায়ই সেটা পড়ে। এবছর কি পাবে তা নিয়ে সে মনে মনে খুবই উত্তেজিত। শুয়ে শুয়ে সে ঘুমের ভান করতে লাগলো। ১২টা বাজার সাথে সাথে সবাই 'হ্যাপী বার্থডে টু সুরুপা' বলতে বলতে ঘরে ঢুকে পড়লো। ও ভান করলো যেন সে একেবারে আকাশ থেকে পড়েছে। ডাইনিং রুমের টেবিলের উপরে নীনা আন্টির কেক রাখা। চারপাশে মোমবাতি সাজানো। মোবাইলে টানা ভাইব্রেশন হচ্ছে, মেসেজ আসার জন্য।

আনন্দে সুরূপার চোখে জল এলো। কেক কাটা পর্ব শেষ করেই সবাই ঘুমানোর জন্য দে ছুট। ও ওর ঘরে চলে এলো। 

কিছু পরেই মা এসে ওর কপালে চুমু দিয়ে ওর উপহারটা বিছানায় রেখে গেলো। সবাই চলে গেলে পর একটু পরেই উপহারগুলো খুলতে বসলো। মায়ের উপহার খুলে ও খানিকক্ষন হতভম্ব হয়ে বসে রইলো। এরপর আবার নতুন করে চোখে জল আসা শুরু হলো। যে আয়নাটি দেখে সে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলো ওই পোড়ো বাড়িতে, আয়নাটা মা ওর জন্য নিয়ে এসেছে। মা-দের চোখে কি কিছুই এড়ায় না? এবার উঠে তার ওয়ার্ডরোবের পাশের দেয়াল থেকে ক্যালেন্ডারটি সরিয়ে আয়নাটা লাগায়। কিছুক্ষন তাকিয়ে থেকে সে আবার মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে। চারপাশের বর্ডারে কি সূক্ষ্ম কারুকাজ। কাঠের মাঝে লাল আর কালো রঙ করা।উপরের ময়ূরের লেজ দুইটি কি দিয়ে বানানো যে এতো বছর পরেও এতটুকু রঙ নষ্ট হয়নি? আর চোখগুলি কি রুবী?

সুরূপার চেহারা তার নিজের কাছেও বিশেষ সুবিধার কখনোই মনে হয় না। কিন্তু এখন সে নিজেকে দেখে মুগ্ধ হয়ে গেলো। আয়নায় কি সুন্দরই না তাকে লাগছে!অদ্ভুত ! এতো সুন্দর তো সে নয় ! তাহলে ! আয়নায় নিজেকে দেখে সুরূপা নিজেই চিনতে পারে না আজ।একটা লাল টিপ এনে কপালে পড়লো। রূপকথার রাজকন্যা যেন। আনন্দে সুরুপা ঘুমাতে গেলো। কিন্তু ঘুম কেন যেন খুব ছাড়া ছাড়া হলো। শেষ রাতের দিকে তার ঘুমের মাঝেই মনে হতে লাগলো কেউ যেন তার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

পরের দিন বাড়িতে বিকেলে হৈ হৈ করতে করতে চৈতী, সুমন আর তুলি আসলো। সুরূপার মা মানুষকে খাওয়াতে পারলেই খুশী। আয়না দেখে সবাই তো অবাক। চৈতী তো পারলে নিয়েই যায়। কয়েকশ বছরের পুরনো জিনিস, কে এটা বানিয়েছে, কেই বা ব্যবহার করতো-- এসব নিয়ে চললো ব্যাপক আড্ডাবাজী। সুমন বরাবরই কল্পনার রঙ ছড়াতে ভালোবাসে। তার ধারণা, আয়নাটা অভিশপ্ত।

রাত তিনটার দিকে সুরূপার হঠাৎই ঘুম ভেঙে গেলো। সারা ঘরে কেমন যেন ঠাণ্ডা একটা ভাব। বৈশাখ মাসের এই বিশ্রী গরমে এরকম ঠান্ডা ভাব কি করে হলো?! ঘরে তো এ.সি. চলছে না! বৃষ্টি নাকি বাইরে? পরদা সরালো । নাহ, বাইরে সব শুকনো, বাতাস পর্যন্ত নেই। গাছের পাতাগুলিও চুপ চাপ, সবাই ঘুমে বিভোর। হঠাৎ মনে হলো কেউ যেন বিছানার মাথার কাছ দিয়ে সরে গেলো। ঝট করে ঘাড় ঘোরালো সুরুপা। শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের একটা ঠান্ডা স্রোত নামলো। নাক কুঁচকে গেলো তার।

কেমন যেন একটা গন্ধ, বিশ্রী পচা গন্ধ। বিন্দু বিন্দু ঘাম জমলো কপালে। এসব কি হচ্ছে? তার জানা অনুযায়ী বাড়িতে কোনো ইঁদুর নেই, আরশোলা অবশ্য আছে। আরশোলা মরলেও এরকম গন্ধ তো কখনো হয় না! বিছানা থেকে লাফিয়ে নামলো । উদ্দেশ্য আয়নার পাশের সুইচবোর্ডে টিউব লাইটের সুইচ অন করবে। আয়নার কাছাকাছি গিয়ে সে কেমন যেন আওয়াজ শুনতে পেলো। কেউ যেন গুন গুন করে কোনো গান গাইছে, বা কবিতা পড়ছে। ধীর লয়ে নীচু সুরেই কেউ গুন গুন করছে। একটু গোঙ্গাচ্ছেও যেন। আয়নার দিকে তাকাবে না তাকাবে না করেও সুরূপা তাকিয়ে ফেললো।

আরে ! আয়নায় তো তাকেই দেখা যাচ্ছে ! ওই তো সেই, ফুল আঁকা টি-শার্ট পরা। সবুজ ডিম আলোতে নিজেকে দেখতে একটু অন্যরকম লাগছে, কিন্তু এটা তো তারই প্রতিবিম্ব ! নাঃ, কোনো ভুল নেই।

স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে হাত বাড়ালো সুইচের দিকে। তারপর আয়নার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেলো সুরুপা। আয়নার মেয়েটি যেন তার দিকেই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, হাত দুটো পাশে ছড়িয়ে দিয়েছে । চিৎকার করে সে পিছনে সরে এলো। আয়নার "সু" এখনো তার দিকেই তাকিয়ে আছে। হঠাৎ আয়নার "সু" হাত বাড়িয়ে দিল, তাকে ছুঁতে চাইলো। তারপরেই দুই হাতে মুখ ঢেকে আকাশচূর্ণ করা চিৎকার করে উঠলো। সুরূপা আতংকে থর থর করে কাঁপছে। ভয়ে মুখ দিয়ে একটা বীভৎস চিৎকার বেরিয়ে এলো।

বাইরে তার মা-বাবা দরজা ধাক্কাচ্ছে। । কোনো রকমে মুখ থেকে হাত সরিয়ে দেখলো আয়নায় এখনো তাকে দেখা যাচ্ছে। সে হাত নাড়ালেও আয়নার হাত কিন্তু স্থির। কোনমতে আলো জ্বালিয়ে দরজা খুলতেই মা ঝাঁপিয়ে পড়লো সুরূপার দিকে !

 অবাক সুরে বলে উঠলো, " কি? কি হয়েছে রে মা ? সর্বনাশ, এত ঘেমে গেছিস কেন?!"  “জানি না মা”। বলে কোনো রকমে গুটিয়ে , ভয়ে ফ্যাকাসে মুখে শুয়ে পড়লো তার মার কোলে। 

পরের দিন দুপুরে খাবার টেবিলে রাত্রের কাহিনী নিয়ে আলোচনা করলো সবাই। আসলে ঘটনাটা কি? কিন্তু এবারে সুরূপা দুঃস্বপ্ন বলে এড়িয়ে গেলো। সে নিজেই জানে না এতো কিছু! তবে সে নিজেই চিন্তিত, আসলে কি এসব দুঃস্বপ্ন ছিলো? সবকিছু এত বাস্তব মনে হচ্ছিল—নাহ, সে আর এটা নিয়ে ভাবতে চায় না। এমন অনেক কিছুই আছে যার কোনো ব্যাখ্যা হয়তো হয় না। তাই এটা দুঃস্বপ্ন বলেই এড়িয়ে গেলো । 

মনে মনে ভাবলো, আজ রাতে আবার দেখা যাক, এই দুঃসহ গরমে শীত শীত করে কিনা বা ওই বিচ্ছিরি পচা গন্ধটা ...... নাঃ, আজ আর এসব নিয়ে ভাবতেই চায় না সে।...... সবটাতেই আজ বড়ো অস্থির লাগছে। কালকের রাতের ঘটনাটা ও এখনও ঠিক হজম করতে পারছে না।

 বিকালে তুলি আর  সুমনের সাথে সুমনের গুরুর গিটার বাজানো শুনতে যাওয়ার কথা, সে শুধু সেটা নিয়েই ভাববে, ঠিক করলো । হঠাৎই যেন আচমকা এক ঝলক ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে গেল ঘরের মধ্যে দিয়ে .... ....  একটু অবাক হলো সু ! কিন্তু বেরিয়ে গেল সবার সঙ্গে হৈ হৈ করতে করতে....

(ধারাবাহিক..

(কলমে -পিয়ালী মুখোপাধ্যায়)




Rate this content
Log in

Similar bengali story from Horror